[ক]
.
একটা পরিসংখ্যান দিয়ে শুরু করা যাক, বিশ্লেষণ সংক্রান্ত সংগঠন ‘বাজফিড’ এর মতে, পশ্চিমা বিশ্বে ১৫ বছরের কম বয়সী যুবকদের মধ্যে প্রায় ৯৯.৫% পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত।এর মধ্যে ৩০% হচ্ছে নারী। এই আসক্তি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং এরপর তাদের চাহিদা পূরণের মনোভাব তৈরী হয়। এরপর সাধারণত ১৭ বছর বয়সে একজন যুবক এবং ১৮ বছর বয়সে একজন নারী প্রথমবার যৌন কর্মে লিপ্ত হয়।
.
মূল কথা হচ্ছে,তুমি একটা দানব বা আগুন নিয়ে খেলা করছো, যে আগুন নেভানোর শক্তি তোমার নেই। হারাম যৌনতা ইসলাম ধর্মে কতবড় পাপের বিষয় তার ব্যাপারে তোমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।
.
পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি, পতিতাবৃত্তি পুরো পৃথিবী ব্যাপী অনেক বড় প্রতিষ্ঠান এবং চক্র। এই বিশাল সম্রাজ্য বন্ধ করার সাধ্য তোমার আমার নেই, এমনকি কারোর নেই। আমাদের শুধুমাত্র ধৈর্যধারণ করতে হবে।
.
তাই বলে যে শুধুমাত্র ধৈর্য ধারণ করতেই থাকবে, এটা কখনোই সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে পরিবারের অনেক বড় একটা ভূমিকা বিদ্যমান। অভিভাবকদের তার সন্তানের যৌন চাহিদার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণের সাথে সাথে তাকে একটা নির্দিষ্ট সময় বেধে দিতে হবে। যেমন: তোমার পড়াশুনা শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করো, কিংবা তোমার নির্দিষ্ট বয়স হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করো, এমনটি বলা বেশী উত্তম।তাহলে তারা তাদের নির্দিষ্ট সময় অনুসারে নিজেকে এবং নিজের চাহিদাকে পাপের সমুদ্রে ডুবিয়ে দেয়া থেকে বাচিয়ে রাখতে চেষ্টা করবে। তাদেরকে সময়ের এই গন্ডি অবশ্যই দিয়ে দিতে হবে, নতুবা তাদের পক্ষে এই যৌনতা আর নোংরামির সমাজে অনির্দিষ্ট সময়কাল নিজের চাহিদা শুধুমাত্র ধৈর্যধারণ করেই আটকে রাখা সম্ভব নয়।
.
পুরোনো দিনের মতো এই সময়ে একজন সুদর্শন রাজকুমার বা সুন্দরী রাজকন্যার আশা করাটা বোকামী। যার ধন সম্পদ আর সুন্দর চেহারার জন্য ছেলে, মেয়েসহ তাদের পুরো পরিবার অপেক্ষা করতে থাকে। প্রথমত,সেই ছেলে বা মেয়ে মূলত সফল বা প্রকৃত সুন্দরী কেউ নয়। আর দ্বিতীয়ত, সেই মানুষটা হয়তো কখনো আসবেই না, সেটা শুধু তোমার স্বপ্ন হয়েই থাকবে। নতুবা যদি এমন কেউ আসেও, তবে তার তোমার জীবনে আসতে হয়তো অনেক দেরী হয়ে যাবে। আর ততক্ষণে একটা ছেলে বা মেয়েদের সাথে যতকিছু হওয়া উচিৎ নয়, তার সবটাই ঘটে যাবে। তারপর একটা পর্যায়ে তারা নষ্ট হয়ে নিজের কাছে কিংবা সমাজের কাছে ব্যবহারকৃত নিকৃষ্ট পণ্যের ন্যায় মূল্যহীন হয়ে পড়বে। এর ফলে বিয়ে এবং অন্য কোনো সম্পর্ক বা সঙ্গীর আর প্রয়োজন মনে হবে নাহ। কেননা তাদের চাহিদার যতটা প্রয়োজন ছিলো বিয়ের পর যা তাদের পাওয়ার কথা ছিলো তার সবটাই তাদের বিয়ের পূর্বেজ পূরণ হয়ে গেছে।
.
যখন তারা হারাম পন্থায় তাদের সকল সুখ ভোগ করা শুরু করবে তখন তারা মূলত তাদের ধর্ম তাদের দ্বীন থেকে সরে যাবে। যৌন আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে একটা মানুষের শারীরিক গঠনের দিক থেকে সবচাইতে বড় আক্রমনাত্তক অনুভূতি। তবুও যতক্ষণ তোমার পূর্ণাঙ্গ বয়স হয়নি ততক্ষণ পর্যন্ত যতটা তোমার প্রাপ্য নয় ততটা এখন আশা করো না। সতর্ক থাকো।
.
.
[খ]
.
একই সময়ে আমাদের জেনারেশনের অনেক রকম চাহিদা দেখা যায়। ১৬ বছরের একজন যুবক,যে কিনা এখনো নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো সক্ষমতা অর্জন করতেই পারেনি,যে এখনো বাহ্যিক পৃথিবীর কষ্টের সম্মুখীন হয়নি এবং এই অবস্থায় কেউ যদি হারাম সম্পর্ক নিয়ে তার বাবা মায়ের কাছে গিয়ে বলে, আমরা একটা সম্পর্কে আছি এবং আমরা বিয়ে করতে চাই, এটা মূলত একটা অযৌক্তিক প্রস্তাব। কেননা সে এখনো তার বিবাহের পরের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রস্তুত নয়।
.
বিবাহের পরে অনেক দায়িত্ব থাকে যার জন্য তার এখনো প্রস্তুতি গ্রহণ করা বাকী। সে শুধুই একটা অনুভূতির মাধ্যমে ভালোবাসা নামক সম্পর্কে আবদ্ধ। আর এই ভালোবাসা সত্যিই অনেক শক্তিশালী অনুভূতি। এই অনুভূতি যাতে কাউকে ভুল কোনো কাজের দিকে ধাবিত না করে,সেজন্যেই ইসলামে রয়েছে ‘ওলী বা অভিভাবক’ পন্থা। একজন সন্তানের বাবা মা তার পরবর্তী পদক্ষেপের ফলফল যতটা আঁচ করতে পারবে, সেটা কারো পক্ষে নিজ থেকে বোঝা সম্ভব নয়।
.
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, “এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে, যাতে তোমরা তাদের সাথে শান্তিতে বাস করতে পার এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।” -সূরা-রূম,আয়াত:২১
.
ইসলামে ভালোবাসা কিন্তু কোনো অবজ্ঞার বিষয় নয়। ইসলাম তোমার সঙ্গীকে ভালোবাসতে বারণ করে নি বরং আল্লাহ তায়ালা মানুষকে এমন ভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, আমাদের একা থাকা বা সঙ্গীহীন চলা সম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে সরল পন্থা এবং সঠিক মাধ্যম অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। আর এই সরল আর উত্তম পন্থা হচ্ছে ‘বিয়ে’।
.
যুবকদের অবশ্যই বুঝতে হবে,তুমি বিয়ের আগেই কোনো সম্পর্কে জড়াতে পারো না। কেননা আশে পাশে তাকালেই বুঝতে পারবে হারাম সম্পর্ক দিনশেষে তোমাকে কষ্ট দিবেই। বাস্তবতায় ভালোবাসা সত্য তবে সে ভালোবাসায় যদি আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধে হয়, সেখানে আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ থাকেনা। এজন্যেই মূলত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্কগুলো ব্যর্থ হয়। আর শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তায়ালা কিন্তু তোমার থেকে পৃথিবীতে তোমার সম্মান কেড়ে নিবেন। হারাম পন্থা অবলম্বন করার সর্বপ্রথম শাস্তি আর সম্মানহানী তোমার দুনিয়া থেকেই শুরু হবে।
.
হ্যালেন ফিসার নামের একজন মহিলা রয়েছে। যিনি মূলত ভালোবাসা বা প্রেম নিয়ে কাজ করে থাকেন। তিনি প্রেমিক প্রেমিকাদের এম.আর.আই স্কান করেন এটা জানার জন্য যে, প্রেমের অনুভূতির ফলে মানুষের শরীর এবং ব্রেণে কি কি পরিবর্তন হয়। এরপর তিনি একটা অস্বাভাবিক জিনিস আবিষ্কার করেন। তিনি দেখলেন যে, যারা প্রেমের সম্পর্কে রয়েছে তাদের এই অনুভূতি বিদ্যমান থাকাকালীন ব্রেণের যে অংশ সচল হয়, একই অংশ একজন অধিক মাদকাসক্ত মানুষেরও সচল হয়। আর নেশার পরবর্তী যে হরমোনগুলো যেমন ডোপামিন, অক্সিটোসিন নিঃস্বরণ হয়, একই হরমোন প্রেমের সম্পর্কে থাকার ফলেও নিঃস্বরণ হয়। সুতরাং সেই ব্যক্তিকে আমি প্রেমিক বলতে চাইনা। সে মূলত একজন নেশাগ্রস্থ ব্যক্তির মতই প্রেম নামক বিষের ঘোরে আসক্ত।
.
এখন ১৬-১৭ বছরের কেউ যদি এসে বলে যে, আমি কাউকে ভালোবাসি। তার বক্তব্য এবং অনুভূতিকে সত্য বলতে আমার কিছুটা অসুবিধা হবে। এজন্যেই আমাদের অভিভাবক রয়েছে,আর তাদের কথা অবশ্যই আমাদের মান্য করা উচিৎ। অনেক সময় আমাদের সিদ্ধান্ত গুলো ভুল হতে পারে এটা বোঝার সাধ্য আমাদের থাকেনা, কিন্তু আমাদের অভিভাবকগণ এক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক করে দিতে পারেন।
.
আর অভিভাবদেরও অবশ্যই বোঝা উচিৎ যে, এই শক্তিশালী অনুভূতি যদি ভুল দিকে অগ্রসর হতে থাকে,একটা পর্যায়ে সে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
.
তুমি যদি বাইরের পরিবেশে তাকাও, তুমি দেখতে পারবে একজন হিরোয়িন কোকেন আসক্ত মানুষকে তা থেকে ফেরানোর জন্য কতশত রিহেবিলিটেশন সেন্টার রয়েছে এবং অনেকে এরপরেও তাদের আসক্তি কমাতে সক্ষম হয়না। কেউ কেউ ফিরে গিয়ে পূর্বের ন্যায় নেশা গ্রহণ করতে থাকে।
.
হ্যালেনফিসার এর মতে, হিরোয়িন কোকেন শরীরে প্রবেশ করার পর তা যেভাবে বিক্রিয়া করে একইভাবে প্রেমের সম্পর্কে থাকাকালীন মস্তিষ্কের মূল অংশ ‘রেপটেলিয়ান কোর’ সচল হয়। তাই এটা থেকে নিজেকে মুক্ত করা অনেক বেশী কষ্টসাধ্য।
.
একজন যুবকের বিয়ের ক্ষেত্রে উপযুক্ত বিচারবুদ্ধি করার ক্ষমতা জন্মানো অত্যাবশ্যক। তোমাকে তোমার পারিপার্শ্বিক অবস্থানুযায়ী উপযুক্ত বিচার করার যোগ্যতা তৈরী হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।আর এর সাথে তোমার ভালোবাসার অনুভূতির ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে।
.
যদি তোমার ভালোবাসা কোনোভাবে ব্যর্থ হয়,তুমি আবেগের বশবর্তী হয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। তোমার আবেগ তোমার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে বাধা হয়ে দাঁড়াবে এবং এটাই ধীরে ধীরে শিরকের দিকে ধাবিত করে।
.
যেমন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, “এবং মানবমন্ডলীর মধ্যে এরূপ আছে – যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে প্রিয় মনে করে, আল্লাহকে ভালবাসার মতই তারা তাদেরকে ভালবাসে। এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে আল্লাহর প্রতি – তাদের প্রেম দৃঢ়তর। যারা অত্যাচার করেছে তারা যদি পূর্ববর্তীদের শাস্তিগুলো অবলোকন করত তাহলে দেখত, সমুদয় শক্তিই আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর।” -সূরা বাকারা,আয়াত:৬৫
.
তোমার প্রেম ধীরে ধীরে তোমাকে আল্লাহর থেকে বেশী অন্যকাউকে গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিক ভালোবাসার হকদার বানিয়ে ফেলে।আর আল্লাহর থেকে অন্যকাউকে অধিক ভালোবাসা’ই শিরকের অন্তর্গত। কেননা ভালোবাসার সর্বোচ্চ এবং প্রথম হকদার হচ্ছে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। এবং এরপরে আল্লাহর রাসূল (সা)। কিন্তু বর্তমানে ভালোবাসার সম্পর্কে প্রেমিক প্রেমিকা একে অপরকে রবের অধিক প্রিয় বানিয়ে দেয়। এমনকি একজন যদি কোনো আবদার করে এবং সেটা যদি ইসলামের নিয়মের বাইরেও চলে যায়,অপরজন তা পুরণ করতে সামান্য দ্বিধা করে না। আর এভাবেই মূলত বিয়ের আগেই যৌন কর্মকান্ড সংঘটিত হয়।
.
তুমি মুলত একজনকে ভালোবেসে তাকে আল্লাহ তায়ালার বিরুদ্ধে গিয়েও মান্য করছো। কীভাবে? বিয়ের পূর্বে ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়াটা আল্লাহর নিয়মের বাইরে যাওয়া, আর যখন তুমি আল্লাহর চাইতে বেশী কাউকে ভালোবাসার অধিকার দিবে, তুমি তখন মুশরিকের অন্তর্ভুক্ত হতে থাকবে।
.
হাদিস বলছে, “সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতায়, মানুষের তার রবের উপর আনুগত্য গ্রহণযোগ্য নয়।” – সহীহ বুখারী,৪৩৪০
.
সুতরাং মানুষ যখনই আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুকে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করবে, তখন তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে।
.
.
[গ]
.
আমাদের এসবের জন্য সচেতনা গড়ে তুলতে হবে। কেননা এই শক্তিশালী প্রেমাসক্তি মানুষকে এমন ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যাবে যে ধ্বংস একজন নেশাগ্রস্ত মানুষের হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসাকে অবশ্যই অনুমতি দিয়েছেন। তবে সে ভালোবাসা বিবাহের পরবর্তী সময়ের জন্য। ভালোবাসার অনুভূতি মূলত কোনো পাপের বিষয় নয়। শুধু জানতে হবে এই অনুভূতিগুলোকে কিভাবে সঠিক পন্থায় ব্যবহার করা যায়, তাদের জানতে হবে কিভাবে তারা যৌনাকাঙ্ক্ষা গুলোকে সামলে রাখবে বা হালালভাবে সেগুলোকে পুরণ করবে। নতুবা এই অনুভূতি গুলোই তাদের জাহান্নামে যাবার কারণ হবে।
.
কিন্তু বাস্তবতায় আমরা মানুষেরা মূলত যৌনতা প্রবণ,ভালোবাসা প্রবণ, স্বপ্ন প্রবন। আর এইসবের ভারসাম্য রক্ষার জন্যেই আল্লাহ তায়ালা বিবাহকে বৈধ করে দিয়েছেন।
.
বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক সিগমুন্ড ফ্রয়েড একটা কথা বলেছিলেন, যেটা হাদিসের সাথেও কিছুটা মিল রয়েছে। তিনি বলেছেন, “তোমার অনুভূতিগুলোকে তুমি এমন ভাবে সামলে রাখো যেনো তুমি দ্রুতগামী ঘোড়ার পিঠে বসে ঘোড়া চালাচ্ছ।” ঘোড়াটাই মূলত তোমার আকাঙ্ক্ষা। ঘোড়া যেনো তোমাকে ফেলে না দেয় বা ভুল দিকে যা যায়, এজন্যে তুমি যেভাবে তাকে নির্দেশনা দিবে, তোমার অনুভূতি যেনো তোমাকে তোমার রব থেকে দূরে না সরিয়ে দেয় সে দিকেও তোমার যথেষ্ট সতর্ক থাকা উচিৎ।
.
পুরুষের থেকে নারীদের যৌন চাহিদা অধিক হয়। পৃথিবীর সব বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে একই মত পোষণ করেছে। এজন্যেই পুরুষের থেকে নারীদের জন্য অভিভাবকের অধিক প্রয়োজন। নারীরা না চাইলে একটা পুরুষ কখনোই তাকে ভোগ করার ব্যাপারে সামনে অগ্রসর হতে পারে না। এক্ষেত্রে নারীদের যৌনতার ব্যাপারে ধর্মীয় জ্ঞান লাভ করা এবং বিধিবিধান অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক।
.
দেখেন, আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা) কিন্তু বলেননি ধৈর্য ধারণ করে বসে থাকো অপেক্ষা করো। বরং তিনি বলেছেন, “হে যুবকেরা ! তোমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা বিবাহ দৃষ্টি ও লজ্জাস্থানের সুরক্ষা দেয়। আর যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সিয়াম পালন করে। কারণ এটা তার রক্ষাকবচ।”
-বুখারি ও মুসলিম
.
যেহেতু এই সমাজের সবকিছু আমাদের একার পক্ষে পরিবর্তন সম্ভব নয় তাই নিজের জীবনের ক্ষেত্রে এবং অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে সবদিকেই ভারসাম্য রক্ষার্থে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যেতে হবে।সমুদ্রে ডুব দিলে যেমন পানিতে পুরো শরীর ভিজে যায়, তেমনি এই নোংড়া যৌনতার সম্রাজ্যে গা ভাসিয়ে দিলে দুর্গন্ধময় কাঁদা শরীরে লেগে যাবে। আর এর ফলাফলস্বরূপ দুনিয়া এবং আখিরাতে ধ্বংস অনিবার্য। সুতরাং নিজের যৌনাকাঙ্ক্ষা ও প্রেমাসক্তির ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকাই উত্তম।
.
মূল লেকচার- মুহাম্মদ হিজাব
অনুবাদ- Bayazid Bostami
শেয়ার করুনঃ