অশ্লীলতা নিয়ে আল্লাহ্’র পক্ষ থেকে হুশিয়ারি আছে অনেক, আমরা তো অনেকে অশ্লীলতার সংজ্ঞাও জানি না, আসলে সেই সবচেয়ে বড় অশ্লীল যে নিজের নিকট নিজের একাকিত্বের সঙ্গী হিসেবে নিজের জামিল ওয়াক্তগুলোতে অশ্লীল, সে বিকৃত মস্তিষ্কের, সুস্থতার ভান করা কোন অসুস্থ লোক, আর অসুস্থ তার চাহনিও। আর অসুস্থ বানানোর চর্চায় বর্তমানে বা এই জিনিষের পিছনে সবচেয়ে বেশী দায়ী যেই জিনিষটা সেটা হচ্ছে ব্লু ফিল্ম উইদিন ডার্ক ওয়ার্ল্ড, এ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তা হবে বিশাল থেকে বিশালতর, সাইকোলজিক্যাল টার্মই ৪৭ হাত বিশিষ্ট, সেদিকে আপাতত না যাওয়াই হয়তো মঙ্গল।
.
নিঃসঙ্গ অপরাধ বা নিরিবিলি পাপ কি? আর পরিণতি কি? আমি শুধু সেই জিনিষটা বুঝাতে চাচ্ছি।
.
সবচেয়ে সহজ ভাষায় যদি আমি বলতে চাই তাহলে এই জিনিষটা এমন কিছু, যে আপনি নিজের জিনিষ নিজে চুরি করলেন অথবা নিজের গলা নিজে চেপে ধরলেন, আপনি নিজেকে মেরে ফেলেন না, তবে নিজের কাছে মরে যান প্রতিনিয়ত, ধ্বংসলীলার পরবর্তী অনুশোচনাই আপনাকে ভাসিয়ে দেয়, ব্যস এতোটুকো কমন৷ তবে ক্ষতি কি এতোটুকোই হয়? অজান্তেই আল্লাহর আজাব যে আসে এটা ক’জন বুঝে?
.
শারিরীক মানসিক এবং আধ্যাত্মিক আলাপ টানতেও যদি যাই তবে কিতাব লিখা লাগবে বা পার্ট ভিত্তিক লেকচার দেওয়া লাগবে অথবা সেমিনার… যেগুলো সম্ভব না, কেবল আপনার পদন্নোতি টা দেখুন৷
নীরবে অশ্লীলতায় যারা ডুবে যায় এরা প্রথম যেই শাস্তিটা পায় সেটা হচ্ছে এদের শান্তি চলে যায়, শুরুয়াতের ধাপ, এডিকশনে রূপ নিয়ে ফেললে, তারা দ্বীনের আর তেমন পরোয়া করে না এসব ব্যাপারে, নিষেধ কে তরক করে, এদিকটা তাদের জন্য হাল্কা হয়ে যায়, অশ্লীল জিনিষ না দেখলে ঘুম আসে না, মানে তার শেষ কর্ম হয়ে যায় ঘুমের আগে অশ্লীলতার দর্শন, এটা শেষ আমল হিসেবে রেকর্ড হলো, আর ঘুম থেকে চোখ খোলা হলো না৷ কিসসা খতম৷
.
সুন্নত একদম শেষ হয়ে যায়, মুখ যিকরের বিপক্ষে থাকে, যেই চোখ মুখ নিয়মিত অশ্লীলতার সাক্ষ্মী দিচ্ছে সেখানে পবিত্র জিনিষের স্থান হবে না, স্বাভাবিক৷
.
আপনি ভাবতে পারেন, আমি সালাত তো আদায় করতে পারছিই, এই সালাতও কিন্তু পাঁচ প্রকার, অশ্লীলতায় জর্জরিতদের সালাত টা কেবল তাদের ঈমানের একটা সাক্ষী হিসেবেই থেকে যায়, সে মুসলিম যাষ্ট এই জিনিষের সাক্ষী, তাও কতশতবার ফজর কাযা হওয়ার পর, তার সালাতের অবনতি যে হয় সে এটা জানে, নোংরামির এক প্রান্তে এসে ফজরের সময় সেটা থেকে পবিত্র হওয়া সম্ভব হয় না, তখন ঘুমিয়ে বা ঘুমের ভানে ইচ্ছাকৃতভাবে একটা ফরজকে কুরবানি করতে হয়। আর সালাত যা হয়ও তার ধরনও হয় ‘মুআকাব’ – এটা এমন সালাত যার জন্য সওয়াবের পরিবর্তে উলটা গুনাহ কামাই হয়, কঠিন শাস্তি পেতে হয়। আফসোস মুকারবাব তো নয়ই মুকাফফারা আনহু পর্যন্তও যায় না তাদের সালাতের কোয়ালিটি আর কখনই।
.
ভিজুয়ালাইজড হয় নানান সীন মনোসাউন্ড ইনভিসিবল রিফ্লেকশন ক্রিয়েট করে মনোযোগ নষ্ট করার জন্য, সালাতে কোনভাবে মনোযোগ টিকে না৷ ‘কত দ্রুত শেষ হবে এই জিনিষ?’ এমন ভাবনায় মন উতলা হয়ে যায়৷ দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে তাড়াহুড়োর কারনে মুখ থেকে সূরা বের হয় ভুল, লাহানে জলিতে ভরপুর যদিও সে একসময়ের ক্বারি সাহেবও হয়ে থাকে৷ অশ্লীলতা এমনই এক ভয়াবহ অভিশাপ৷
.
সবচেয়ে মেজর পার্ট মানুষ আর তওবাহ করতে পারে না, প্রথম দিকে লজ্জিত হয়, ফিরে আসে, ওয়াদা করে আর করবে না, আবার ফিরে যায় পুরোনো পাপে আবার তওবা করে, ২ বার ৩ বার এরপর তওবাহ করাই ছেড়ে দেয়, ভাবে যে আমি আর এর থেকে বের হতেই পারবো না, বারবার কেন আল্লাহর সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করবো, অথবা আমি এতোবার ওয়াদা ভাঙ্গি আল্লাহ আর মাফ করবেন না৷ আমি কোন মুখে তওবাহ করবো আও আমার তওবাহ করে কি লাভ বের তো হতে পারি না৷
.
প্রতিটা কথা শয়তানের সুক্ষ্ম ফাঁদ, সে মানুষকে হতাশ অবস্থায় পায় আর তার ভিতর এসব শব্দের বীজ বুনে, পাপাচারে লিপ্ত হতে থাকে এদিকে ব্যক্তি, ভুলে যায় আল্লাহর ক্ষমা অসীম, আল্লাহর এই ক্ষমতাকে ছোট করে দেখে ফেলে শয়তানের প্ররোচনায়, যেই তওবাহ তার জন্য পরীক্ষা হতে পারতো সে বারবার গুনাহ করে অনুশোচনা করলে আল্লাহ্ পরীক্ষা নিয়ে বিশেষ অনুগ্রহে হয়ত তার মন থেকে গান্দেগী সাফ করে নিজের এক নিকট বান্দা বানিয়ে নিত, সেদিকে সে তওবাহ কে প্রত্যাখ্যান করে নিজেই অভিশপ্ত হয়ে ওঠে। খেয়াল থেকে উড়ে যায় যে, তওবাহ না করা দাম্ভিকতা এবং অহংকার করা। এভাবেই যেকোন ছোট পাপ হয়ে যায় বড় পাপ তা কতসময় নিয়ে যায় কুফরেও৷
.
সুবহানআল্লাহ্ শুধু ধারনা থেকে না, এমন অর্ধশত কেস আমি নিজে দেখেছি, কাউন্সেলিং করেছি, দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে নানান যায়গায় মিটিং করার সময় অনেকে প্রশ্ন লিখে পাঠাতো এর মাঝে এই অভিশপ্ত শব্দগুলোর অবস্থান থাকতো উপরদিকেই। এই পোষ্টের ছবির গল্পের মূল চরিত্র এখনো বেঁচে আছে, তওবার সুযোগ তার আছে, অথচ কতজন তো আছে, যারা ঈমানই হারায়৷
.
ফ্লোরিডায় একবার আমার কাছে এক ছেলে আসে কৃষ্ণাঙ্গ যার বড় ভাই ছিল তাদের বাড়ির প্রথম রিভার্ট সে নিজে সবাইকে দাওয়াহ দেয় ধীরে ধীরে পুরো পরিবার মুসলিম হয়, ছেলেটাও (বড় ভাইটা) ইলমের প্রতি আগ্রহী হয়, কিন্তু একসময় সে অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ে, প্রচুর ব্লুফিল্ম এডিকশন থেকে পরে চলে যায় ফিজিক্যাল রিলেশনের দিকে, সে নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারেনি, এক মেয়ের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে৷ মেয়ে তাকে বলে যে সে খ্রিষ্টান হলেই তার সাথে রিলেশন করবে, সবই তার ছোট ভাই জানতো বুঝাতে চাইতো, তার বড় ভাই বলতো তোমাদের সবাইকে আমি দাওয়াহ দিয়েছি, আমাকে বুঝাতে এসো না৷ সে মেয়ের শর্ত মেনে নিয়ে রিলেশনে জড়িয়ে পড়লো, মাত্রাতিরিক্ত কোকেন সেবনের কারনে সেদিন তার মৃত্যু হলো৷
.
তার ভাই বললো আমরা যখন তার লাশ আনতে গেলাম, তার চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছিলো না, উফফ!! কি বীভৎস ছিল, তার হাতে একটা ক্রসের পেন্ডেন্ট ছিল, হায়রে তার চেহারা থেকে একসময় নুর বের হতো, সে আমাদের সবাইকে দাওয়াহ দিয়ে মুসলিম বানিয়েছিলো, আজ সে নিজেই কাফের হয়ে মারা গেল৷ হায় আফসোস সে একটা পাপকে ছোট ভেবেছিলো৷ এ বলে সে কাঁদতে লাগলো৷
.
বারসিসার কাহিনীও তো জানেন সকলে, কি বলবেন আপনি আর? কোন পাপ ছোট? এই অশ্লীলতায় জড়িয়ে আছে এক বিশাল সমাজ, তারা জীবন ধ্বংস করছে না শুধু খেলছে ঈমান নিয়েও, এমন এক জিনিষ এটা যে বুঝানো, বলা, জানতে চাওয়াও মুশকিল৷ নিজেদের শেষ করে দেওয়ার এ কেমন বিষয় এখন দেখা যাচ্ছে?
.
আপনারা যারা এতো দূর এসেছেন সবাইকে বলবো, আপনি যদি কোনরকম অশ্লীলতাজনিত পাপে জড়িত হন, মাফ চান তওবাহ করতেই থাকুন, যতবার হয় ততোবার চাইবেন, ইচ্ছাকৃত করতে চেষ্টা না করবেন৷ খুব কান্নাকাটি করে মাফ চান, আল্লাহ্ আপনাকে সাহায্য করবেন ইনশাআল্লাহ, দাম্ভিক হবেন না, হতাশ হবেন না৷ আপনার সামনে জ্বলন্ত অঙ্গার আপনি নিজের গায়ে কেরোসিন ঢালছেন এখনি বন্ধ করুন নাহলে জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাবেন৷
.
কোন মানসিক ক্ষতি হবে বা শারীরিক ক্ষতি হবে এসব আমি কিচ্ছু বলবো না, কারন সবাই এসব বিষয়ে জানে, চোখ বা স্মরণ শক্তি কমার ব্যাপারও সবাই জানে, যারা জানে না তারা বই পড়ুক আর্টিকেল পড়ুন, বর্তমানে অনেক আছে বাজারে, বাংলা ভাষায়ও ভালো কিছু কাজ হয়েছে, আমি শুধু বলবো যে আপনি আল্লাহর জন্য ফিরে আসুন, ঈমান বাঁচানোর জন্য অশ্লীলতা দেখা বন্ধ করুন, আগুন থেকে বাঁচার জন্য অশ্লীল কিছু নীরবে করা থেকে বিরত থাকুন৷ ওয়াল্লাহি আপনার পক্ষে পসিবল না, টিকে থাকে সেই আগুনের আঁচে পর্যন্ত, এমন তাপও আপনি সইতে পারবেন না সেই আগুনের, যা কেবল একটি পশম পোড়াবে আপনার শরীরের৷ আল্লাহর কসম আপনি পারবেন না৷
.
আর যাদের বয়স ২১-২৫ এর ভিতর অন্তত নিজের আর ওয়াইফের খরচ চালাতে পারবেন, ঠেলেঠুলে হলেও সম্ভব৷ বিয়ে করুন যত দ্রুত সম্ভব বিয়ে করুন, ২০২১ চলছে ২০২২ এর মধ্যে টার্গেট করুন বিয়ের যদি সম্ভব হয়, কোন বাবা বা কোন মা এটা পড়লে বুঝার ট্রাই করুন, আপনিও সময় পার করে এসেছেন ছেলেমেয়েদের তাড়না বুঝুন৷ আপনি নিজের অংশকেই আগুনে জ্বালিয়ে দিচ্ছেন, যাদের একদমই সম্ভব না, সিয়াম পালন করুন৷ দুআ করুন৷ ভালো এক্টিভিটিজ এর মধ্যে থাকুন৷
.
ওভার ফ্যান্টাসাইজড হবেন না, বিয়ে করবো না ইবনে তাইমিয়্যা হবো এসব আজগুবি ফ্যান্টাসি থেকে দূরে থাকুন, আপনি নিজেও জানেন আপনি ইবনে তাইমিয়্যা হতে পারবেন না৷ আমি তো বলি ইবনে তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহও যদি এই টাইমে আসতেন তিনি বিবাহ করে নিতেন অবশ্যই ইনশাআল্লাহ্৷
.
বিয়ে করবো না বলনেওয়ালা লোকেরা হয় বিমার, নাহয় মিথ্যুক অথবা লাচার৷ যে নর্দমায় দাঁড়িয়ে নদীর সুমিষ্ট পানির উদাহরণ দেয়৷ সময় আছে এখনো বুঝুন৷
.
আরেকটা কথা বলে রাখি, ম্যাক্সিমাম টাইমই এসব জিনিষ নফসের ধোঁকায় হয়, তবে এটাও সত্য যে এগুলো জ্বীনদের দ্বারা পজেসড হয়েও হয়, যেটা মানুষ বুঝে না, অনুমানও করতে পারে না। আবার ঠিকও থাকতে পারে না, যারা খুব বেশী মাত্রায় জড়িয়ে গেছেন, আমল বাড়ান, সেল্ফ রুকইয়্যাহ শুরু করুন, কিছু অনুভব করলে ভালো রাক্বির কাছে যান, হেল্প নিন। এই ভয়াবহতা কুফর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে কিন্তু, দুষ্ট জ্বিন শয়তানরাও দুশমন মানুষের ঈমানের। এই কথাগুলো বেশী প্রচার হওয়া উচিৎ, কারন জ্বীনেরা এখন বসবাস করে মানুষের মাঝেই।
আর অশ্লীলতা কিন্তু কেবল এসব নোংরা ছবিই না, বরং নাটক, ওয়েব সিরিজ, ড্রামা সিরিজ বা মিউজিক ভিডিও গুলোও কোন অংশে কম না, আপনাকে মুক্ত হতে হলে গোড়া কেটে ফেলেই হতে হবে, চেপে ধরতে হবে নিজেকে।
.
এবং, নিজেকে অশ্লীলতার দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া নিজেকে হত্যা করার চেয়েও ভয়াবহ, আত্মহত্যায় একবার মৃত্যু ঘটে, অশ্লীলতায় ঘটে প্রত্যেকবার, এ শুধু এক জিনিষের মৃত্যু না বরং হায়া, প্রশান্তি, ইজ্জত, মস্তিষ্কের ব্যালেন্স, ঈমান ও আমলেরও মৃত্যু৷
লেখকঃ Taemin Muqassam
শেয়ার করুনঃ