জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে এসেছে, “আমেরিকায় প্রতি ৩ জনের ১ জন নারী জীবনে একবার হলেও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। আর ১৯.৩% নারী জীবনে একবার হলেও ধর্ষিতা হয়।”
“আমেরিকায় প্রতি ৭৩ সেকেন্ডে একজন নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়। আর প্রতি ৯ মিনিটে একজন শিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়। আর যৌন হয়রানিকারী প্রতি হাজারে গ্রেপ্তার হয় মাত্র ৫ জন।”
“প্রতি ৫ জনের ১ জন আমেরিকান নারী জীবনে একবার হলেও ধর্ষিত হয়।”
“শীর্ষ ধর্ষক দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডার মত নারীবাদের প্রচারকারী দেশগুলো।”
২০১৩ সালে প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক রিপোর্টে বলা হয়, “আমেরিকার ৪৮% নারীর প্রথম সন্তান হয় জারজ তথা হারামজাদা।”
.
যেই দেশগুলোতে সহশিক্ষা ও যৌন শিক্ষা স্বাভাবিক বিষয়। যেই দেশগুলোর অনুসরণে তোমরা এই উদ্ভট ইসলাম বিরোধী জিনিস এদেশে আমদানি করছো তারা কি এথেকে কোনো সুফল পেয়েছে? নাকি এগুলোই হয়েছে তাদের ধ্বংসের কারণ! তৈরি হয়েছে মানবতা বিবর্জিত পশু সভ্যতা।
.
অবৈধ প্রেম-ভালোবাসা, ফ্রি মিক্সিং, লিভ-টুগেদার, বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড কালচার, ১৮-এর আগে বিয়ে হারাম, নারীবাদ এগুলো যখন ছিল না তখন আমাদের সমাজও পবিত্রই ছিল। আর এখন অবস্থা দেখুন।.. মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হয়েও ব্যভিচার ও ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে।
.
অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হল যে সকল কারণে ধর্ষণের হার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে ত্বগুত ও শায়ত্বনি মিডিয়া সেসকল কারণকেই ধর্ষণ প্রতিকারের উপায় হিসেবে প্রচার করছে।
.
শিক্ষকের দ্বারা ছাত্রী ধর্ষণ, বয়ফ্রেন্ড এর দ্বারা গার্লফ্রেন্ড ধর্ষণ, বন্ধুর দ্বারা বান্ধবী ধর্ষণ যেখানে নিত্তনৈমিত্তিক বিষয়। “২০১৭-১৮ সালে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের করা এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের ৭৭ শতাংশ পর্নোগ্রাফি দেখে থাকে। আরেকটি গবেষণায় দেখেছিলাম, অনেক ক্ষেত্রে সাড়ে ১৬ বছর বয়সেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রথম যৌনমিলনের অভিজ্ঞতা হয়।”
.
সামাজিক নজরদারির দুর্বলতা ধর্ষক তৈরি করছে আর এই পরিস্থিতিতে কিশোর-কিশোরীদেরকে একসাথে একই কক্ষে বসিয়ে নারী পুরুষের গোপন বিষয়াদি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা কি খুব ইতিবাচক ফলাফল দেবে? (পাশাপাশি, নারী-পুরুষ পরস্পরের সম্মতিতে যৌন মিলন করলে তা দোষের কিছু নয়, গর্ভপাতের প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতি সহ ইত্যাদি দ্বীন বিরোধী প্রচারণা তো আছেই)। হয় এগুলো পাশ্চাত্যের পশু সমাজের মত এদেশকেও হারামজাদায় (জারজে) পরিপূর্ণ করে ফেলবে।
“কুকুরের মুখ থেকে মানব শিশুর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার”
অথবা এই ধরনের নিউজ এর সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
.
এসব শেখালে নাকি ধর্ষণ ও বিকৃত যৌনাচার কমবে। এই শায়ত্বনগুলো পরিকল্পিত ভাবেই এসব আজগুবি কথা বলছে। তারা চায় মুসলিম সন্তানদের যৌনতার সাগরে ভাসিয়ে দিতে। মূলত আধুনিক সময়ে যৌনতা পুঁজিবাদীদের প্রধান একটি হাতিয়ার। এর মাধ্যমে তারা যেমন কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেয়। তেমনিভাবে একটি জাতির মূল স্প্রিডকে যৌনতার জালে আটকে ফেলে। তখন সেই জাতি মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে। তারা তখন পুঁজিবাদীদের অন্যায় ও জুলুমগুলোকে অনুধাবন করতে পারে না। হারিয়ে ফেলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার চিন্তাশক্তি।
.
তারা কি আসলেই আমাদের ভালো চায়? নাকি এই জাতিকে নির্লজ্জ-বেহায়া তে রুপান্তর করতে চায়! যেমনঃ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্র বলেছে, “আমার অন্যান্য স্কুলের যেসব বন্ধু আছে তারা এইসব শব্দ শুনলে অনেক লজ্জা পায়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে আর এসব হয় না।”
.
অষ্টম শ্রেণীর একজন ছাত্রী বলেছে, “প্রথম প্রথম আমি নিজেও এইসব ব্যাপারে অনেক সংকীর্ণ ছিলাম। যেসব বিষয় আমি আমার মা কিংবা বন্ধুদেরকে বলতে পারতাম না, পরামর্শ চাইতে পারতাম না, এখন অবলীলায় তা পারি।”
‘জেমস ক্লাস করবার পর আমরা অনেক বেশী ফ্রি হয়ে গেছি’, বলেছে সপ্তম শ্রেণীর আরেক ছাত্রী।
.
আরেক ছাত্রী বলেছে, “ছেলেদের দেখে লজ্জা পেতাম। কিন্তু সিক্সে যখন এই জেমস ক্লাসটা শুরু করিছি তখন আমরা এগুলোর বিষয়ে অনেক কিছু জেনেছি আর আমাদের জড়তাটা কেটে গিয়েছে।”
.
এক কলেজ ছাত্রী বলেছে, “যদি আর ২-৩ বছর আগে জিজ্ঞেস করা হতো আমি হয়তোবা আস্তে করে সরে যেতাম। কারণ এটা আমার কাছে খুবই লজ্জার বা লুকানোর জিনিস। বাট এখন আমি কলেজে পড়ছি, জানছি অনেক কিছু”
.
অথচ নাবী (ﷺ) বলেছেন, পূর্ববর্তী নাবীগণের যে কথাটি মানুষের নিকট পৌঁছেছে তা হলোঃ ‘‘তোমার লজ্জা-শরম না থাকলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারো। (যখন তুমি নির্লজ্জ হবে তখন যাচ্ছে তাই করতে পারবে।)’’ [সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৪৮৩
সুনান আবূ দাউদ, হাদিস নং ৪৭৯৭]
অর্থাৎ নির্লজ্জতা বা লজ্জাহীনতা অন্যায় ও অশ্লীলতার দরজা খুলে দেয়।
.
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ। আর ঈমানের অবস্থান হল জান্নাতে। আর নির্লজ্জতা, অশ্লীলতা হল অত্যাচার (জুলুম), আর অত্যাচার থাকবে জাহান্নামে। [জামি’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২০০৯
সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪১৮৪ | সহিহ]
.
বর্তমানে মানুষ শায়ত্বন আর জীন শায়ত্বনের সবচেয়ে বড় মিশন/কাজ হলো মানুষের মধ্যে থেকে লজ্জাকে উঠিয়ে নেওয়া। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে থেকে। কারণ একটি জাতির নারীদের থেকে তাদের হায়া (লজ্জা) কেড়ে নাও, সেই জাতি অটোমেটিক ধ্বংস হয়ে যাবে।
.
আমরা বলছি না কিশোর-তরুণদের যৌন শিক্ষার প্রয়োজন নেই। অবশ্যই দরকার। সন্তানদের বয়স অনুপাতে যতটুকু দরকার ততটুকু শিক্ষা দিতে হবে। কিন্তু সেই শিক্ষা প্রদানেরও তো অবশ্যই কিছু নিয়ম থাকবে। যেসব বিষয় পারিবারিক পরিমণ্ডলে অভিভাবকদের কাছ থেকে শেখার কথা সেগুলো নারী-পুরুষ একসঙ্গে বসে শিখবে কেন! সন্তানদেরকে কিভাবে যৌন শিক্ষা দিতে হবে এই নিয়ে অভিভাবকদের জন্য বিশেষায়িত কোর্সের আয়োজন করা যায়। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিখলেও এটি আলাদা আলাদা ক্লাসে নারী শিক্ষকরা ছাত্রীদেরকে এবং পুরুষ শিক্ষকরা ছাত্রদেরকে শেখাতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো মুসলিম শিক্ষার্থীদের দ্বীন বিরোধী কোন হারাম শিক্ষা দেওয়া যাবে না। আর সহশিক্ষা যে ইসলামবিরোধী, এটির ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে আমাদের সম্মানিত আলিমরা বরাবরই বলে আসছেন। যেকোনো তাকওয়াবান আলিমের থেকেই এটি জানতে পারবেন।
.
Ⓒ Al-Muflihun
শেয়ার করুনঃ