এরপর আসেন, বলিউডের অন্যতম বর্ষিয়ান অভিনেতা অনুপম খের। এই লোকটা বিশাল একটা হিপোক্রিট আর ধুরন্ধর! পুরোনো তবে ছোট্ট ঘটনা বলি।
.
রিতা কয়রাল কলকাতা ড্রামা জগতের পরিচিত মুখ। এই অনুপম খেরের স্ত্রী (কিরণ খের) কলকাতার একটি মুভিতে কাজ করে। তার স্ত্রীর ডাবিং করে দেয় এই রিতা কয়রাল। কিন্তু, এই কথা রিতাকে লুকিয়ে রাখতে বলা হয়। ফলশ্রুতিতে, ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডে ডাবিং এ নাম চলে আসে কিরণ খেরে’র। পরিচালকও অনুপম খেরে’র ভয়ে সত্য বলেনি। কারণ সে ছিল ওই মুভির প্রযোজক। যাইহোক, রিতা কয়রাল মিস করল ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড!
.
তো একদিন অনুপম খের রিতাকে ফোন দিল। রিতা ভাবল তাকে তার অ্যাওয়ার্ডটা দেওয়ার জন্যই বুঝি সে ফোন করেছে। অনুপম খের জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি ডাবিং এর টাকা-টা পুরো পেয়েছ?” রিতা বলল, “হ্যা, পেয়েছি।“
.
সে বলল, “আমি তোমাকে আরো বেশি টাকা দিতে চাই। তবে শর্ত একটাই, তুমাকে বলতে হবে যে, এই মুভির ডাবিং তুমি করনি“। কিন্তু যখন রিতা এটা বলতে অস্বীকার করল, তখন এই অনুপম খের-ই বলে উঠল, “তুমি মোম্বাইয়ে কখনো ঢুকতে পারবে না এবং কলকাতা ইন্ডাস্ট্রিতে তুমি কীভাবে কাজ কর সেটাও আমি দেখে নিব!“ রীতিমত ওই মহিলাকে ধমকে দিল। তবে আইরনি হল, এই অনুপম খের-ই সুশান্ত এর মৃত্যু নিয়ে শোক পালন করেছে, ভিডিও বার্তা দিয়েছে অথচ সে-ই একজনের জীবন শেষ করার হুমকি দিয়েছে!
.
এছাড়া, মুসলিমদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিজেপি সরকার NRC এবং CAA নামে যে আইন চালু করেছে , তার বিরোধিতা করায় শাহিনবাগের ছাত্রদের সে সন্ত্রাসী বলেছে। সহিংস বলেছে!
.
এই হচ্ছে এদের হিপোক্রিসি! এই হচ্ছে এদের বাকস্বাধীনতা আর নারী উন্নয়নের এক নিকৃষ্ট নমুনা! এরা সারাজীবন বাকস্বাধীনতা আর লিবারেলিজমের (উদারনীতির) জিগির তুলে, হিউম্যানিজমের ফেনা তুলে মুখে। কিন্তু, বাস্তব জীবনে তারা এর ঠিক বিপরীত! হাজারো নীতি-দর্শনের বুলি কপচানো এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডরা দিনশেষে নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছুই দেখে না। বাকস্বাধীনতার নামে নিজের স্বার্থ ঠিকই হাসিল করবে, ইসলামকে আক্রমণ করার মাধ্যমে ঠিকই খ্যাতি অর্জন করবে, জাতে উঠবে, ফলোয়ার বাড়াবে কিন্তু অন্যের বেলায় কচু দেখাবে, তাদেরকে কনফ্রন্ট করবে!
.
তবে সবচে’ মজার বিষয় হল, বাহ্যিকভাবে মনে হয় এরা অনেক খুশি এদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে! কিন্তু বাস্তবতা কী তা-ই?
.
হৃত্তিক রোশন তার স্ত্রীকে যখন ডিভোর্স দিতে চায় তখন তার স্ত্রী ডিভোর্স এলিমুনি হিসেবে ৪০০ কোটি রুপি চেয়ে বসে! পরবর্তীতে এই সওদা হয় ২৫০ কোটি রুপিতে!

সালমান খানের বড় ভাই, আরবাজ খান ডিভোর্স এলিমুনি হিসেবে তার স্ত্রীকে দেয় ১৫ কোটি রুপি এবং তাদের বিয়ের বয়স তখন ছিল ১৭ বছর!

আমির খানও তার স্ত্রীর সাথে সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেনি এবং ডিভোর্সের সময় ৫০ কোটি রুপি পে করতে হয় তার স্ত্রীকে।

একইভাবে ‘বলিউডের নবাব’-খ্যত সাইফ আলী খানকে ডিভোর্স এলিমুনি হিসেবে গুণতে হয় ৫ কোটি রুপি!

করিশমা কাপুর তার স্বামীর সাথে ১১ বছর কাটানোর পর ডিভোর্স দেয় এবং ১৪ কোটি রুপির বন্ড হাতিয়ে নেয় তার এক্স স্বামীর কাছ থেকে!

ভারতের ‘গ্রেইট পয়েট(!)’ জাভেদ খানের অভিনেতা ছেলে ফারহান খানও পারেনি ১৬ বছরের বৈবাহিক জীবন টিকিয়ে রাখতে! তাকে তার স্ত্রীকে ‘জুহু’তে ৭০ কোটি রপির একটি বাংলো দিয়ে দিতে হয়!

বলিউডের সাকসেসফুল ডিরেক্টর আদিত্য চোপড়াকে তার ফরমার ওয়াইফকে দিতে হয় ৫০ কোটি রুপি ডিভোর্সের কারণে!

সঞ্জয় দত্ত বলিউডে ২ টা জিনিসের জন্য বিখ্যাত। এক. তার ড্রাগ এডিকশন। দুই. তার বিয়ের সংখ্যা।

বলা হয়ে থাকে সে নাকি বিয়ে করতে কখনো টায়ার্ড হয়না! তবে তার অসংখ্য স্ত্রীর মধ্যে থেকে তার তৃতীয় স্ত্রী তাকে কাঁদিয়ে ছাড়ে ডিভোর্সের সময়। তার এই স্ত্রীকে দিয়ে দিতে হয় তার নিজস্ব বাংলো এবং দামী দামী ৩টি গাড়ি!
.
এভাবে অসংখ্য বিখ্যাত বলি-সেলেবদের কেইস উল্লেখ করা যাবে যারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংসার করলেও নিজেদের সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেনি! কারণ? টাকা পয়সা? না, অবশ্যই না।
.
দেখুন তাদের কী অবস্থা! আমি জানি এই যে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে এগুলো তাদের কাছে কিছুই না এবং এদের ব্যপারে কেউ বলতে পারে যে, এগুলো কেবল তাদের কন্ট্রভার্সি। কিন্তু, চিন্তা করে দেখুন, টাকার বিনিময়ে এরা নারী ভোগকে কী পরিমাণ শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে! টাকা আছে বলে একটার পর একটা বিয়ে করছে। একজনকে টাকা দিচ্ছে আরেকজনকে বিয়ে করছে! ক্ষমতাবলে নারীদের শোষন করছে, কাজ দেওয়ার নাম করে তাদের ইজ্জতহানী করছে। এটা কী নারীকে অবজেক্টিফাই করেনা? নারীর মর্যাদাহানী করেনা? এটাই কী তবে নারীবাদ? অথচ এরাই নাকি বলে আমরা মুসলিমরা নারীদেরকে সেক্স অবজেক্ট হিসেবে বিবেচনা করি! আমরা নাকি সন্ত্রাসী! বেকডেইট! ছিহ! আমরা এদের থেকে সভ্যতা শিক্ষা করার দাবি করি! আমরা এদেরকে অনুসরণ করি।
.
এই যে ফ্যাক্ট আপনাদের সামনে তুলে ধরা হল, এর চাইতে কয়েক হাজার গুণ নেগেটিভ জিনিস লুকায়িত থেকে যায়, আমাদের সামনে আসে না। এই ইন্ডাস্ট্রিতে ট্যালেন্টের কদর নেই, আছে বাবা-মায়ের ফেইমের কদর। এই ডিপ্রেশনে পড়েই কত আউটসাইডার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সুইসাইডের পথ বেঁছে নেয়। তাই, বলাই যায় এই অসুস্থ মস্তিষ্কের লোকগুলো আসলে নিজেদের জীবনে সুখী নয়। অথচ আমরা এদের থেকে সুখ-শান্তির ফর্মুলা গ্রহণ করি! সংস্কৃতি আর বিনোদনের উপায় ধার করি! আমাদের ঘরের মা-বোনেরা এদের সিরিয়াল দেখে, আমাদের যুবক-যুবতীরা এদের মুভি দেখে! দেখে ইনফ্লয়েন্সড হয়, পরিবার ও সমাজে অশান্তি বয়ে নিয়ে আসে!
.
এগুলো আসলে এদের মিথ্যা ছলনা। এদের প্রতিটা বিষয় অভিনয়। আর এদের অভিনয়ের উপর আমরা কাঁদি, হাসি! অথচ এরা সুখী হওয়ার ভান করে । কিন্তু, দিনশেষে আত্মহত্যা করে মারা যায়!
.
তাই বলিউড থেকে বেরিয়ে আসুন। বলিউডকে বয়কট করুন। তাদের অভিনেতা-অভিনেত্রী, গায়ক-গায়িকা সবাইকে। এটাই হচ্ছে সময় নিজেকে সামলে নেওয়ার, নিজেকে, নিজের পরিবার ও সমাজকে। নিজের চিন্তা-চেতনা, আদর্শ আর সংস্কৃতিকে বলিউড, হলিউডের গোলামির জিঞ্জির থেকে মুক্ত করে নিন, ধ্বংস করে দিন তাদের চক্রান্তকে। হস্তমৈথুন, পর্নোগ্রাফি থেকে বেরিয়ে আসতে অবশ্যই আপনাকে বলিউড থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, কারণ এগুলো আপনাকে সুড়সুড়ি প্রদান করবে। এগুলোর আইটেম সং-এর নগ্ন নায়িকা আর ইন্টিমেইট সিন আপনাকে ঘায়েল করে ফেলবে। তাই হিফাযাত করুন নিজের যৌবনকে, নিজের ঈমানকে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।
.

(শেষ)
.
পড়ুন আগের পর্বগুলো:

প্রথম পর্ব- https://www.lostmodesty.com/darkbolly1/
দ্বিতীয় পর্ব- https://www.lostmodesty.com/darkbolly2/
.
লেখক: Mashud Ur Rahman
.
পোস্ট লিংক- https://tinyurl.com/ylbnwdvh

#SaveFoundation_প্রবন্ধলিখন_প্রতিযোগিতা_২০২০

শেয়ার করুনঃ