আমরা স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি তে ছেলেমেয়েদের একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পড়াশোনা করাবো, সম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে কথা। আমরা তাদেরকে শারীরিক শিক্ষা বই এর মাধ্যমে শিখিয়ে দেবো কিভাবে বয়ঃসন্ধির প্রভাবে ছেলেমেয়েদের মাঝে শারীরিক মানসিক চাহিদা তৈরি হয়। এই শূন্যতা, চাহিদা সঠিক উপায়ে পূরণ করার পদ্ধতি কি বা নিয়ন্ত্রণের উপায় কি তা আমরা কখনো তাদেরকে শেখাবো না, সেই সব বিষয় সহজলভ্য করবো না। বরং আমরা এও শিখিয়ে দেবো চারপাশের বিবাহের উদাহরণ দেখিয়ে যে, লাখ টাকার চাকরি ছাড়া আর বয়স ৩০ পেরিয়ে মাথা টাক হবার আগ পর্যন্ত সমাজে বিয়ের কথা বলা জঘন্য পাপ, হারাম।
.
আমরা তাদেরকে প্রথমালু, একাত্তর সহ সকল টিভি মিডিয়া পত্রিকা দিয়ে শেখাবো বাল্যবিবাহ অনেক বড় পাপ, আর শরীরের প্রেম অনেক মহৎ একটি গুণ সেটা যেই বয়সেই হোক না কেনো, ক্লোজ আপ এর অনেক বড় বড় নারী পুরুষের কাছে আসা ব্যানার টানিয়ে শেখাবো কিভাবে কাছে আসার গুণ অর্জন করতে হয়, লিটনের ফ্ল্যাটে যেতে হয়। আমরা তাদেরকে সমাজের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, লেখক ঔপন্যাসিকদের মন ভুলানো প্রেমের গল্প দিয়ে শিখিয়ে দেবো একটু আধটু বিয়ের বাইরে প্রেম ছাড়া জীবন টা অর্থহীন, পানসা, বিবাহের পর পরকিয়ার টেস্ট না নিলে কি আর জীবন এ টুইস্ট থাকে! আমরা তাদের হাতে কম বয়সে মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ তুলে দিয়ে অবাধে ইন্টারনেট দিয়ে শেখাবো কিভাবে পর্ণ মুভিতে আসক্ত হতে হয়, জীবনটাকে শুধু এঞ্জয় করতে নারী পুরুষের সম্পর্কটা শুধু যৌনতা দিয়ে চিন্তা করতে হয় (ফ্রয়েড বাবুদের ফিলোসফি তো রেডি ই রেখেছি ইন্টালেকচুয়াল আর্গুমেন্ট হিসেবে)।
.
আমরা তাদেরকে সারাজীবন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নামক অন্ধের কারখানায় শিখাবো কিভাবে বেশি টাকা আয় করে সমাজে সফল হতে হয়, একটা চকচকে চামড়ার ফার্মের মুরগি নামক ঘিলুবিহীন মাংসপিন্ড বা ভুড়িওয়ালা টাকার মেশিন বিয়ে করে সমাজে ইর্শ্বনীয় হতে হয়, সুখ পেতে হয়। আমরা তাদেরকে নীতি নৈতিকতার স্ট্যান্ডার্ড শিখাবো যুগের সাথে বয়ে চলা ট্রেন্ড থেকে। যেখানে ছেলে ধর্ষণ করলে বাবা বলবে, “এই বয়সে ছেলেপেলে একটু আধটু করেই, আমিও আকাম করি, আমার কি যৌবন নাই?” জাফর ইকবালদের কলাম দিয়ে শেখাবো স্টুডেন্ট লাইফে প্রেম করতে হয়, তাছাড়া পড়াশোনায় মন বসানো কঠিন। নাটক, মুভি, গান দিয়ে শেখাবো সময় কাটানোর সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতেই পারে না। নায়ক নায়িকা সেলিব্রেটিদের লাইফ দেখিয়ে শেখাবো কেনো আমাদের জীবন টা অপূর্ণ তাদের মত হতে না পেরে।
.
আমরা তাদের শেখাবো কিভাবে টকশোর বিজ্ঞানীরা এতো জ্ঞানী হলো, আর মডেলদের দেহ বিক্রি করা পেশাকে ফ্যান্টাসি আইডল হিসেবে কেনো প্রতিষ্ঠা করবো। তাদেরকে খুব সূক্ষ্মভাবে শেখাবো তোমার শরীরের অনেক চাহিদা আছে, জীবনে চাহিদা পূরণ না করতে পারা লুজারদের বৈশিষ্ট্য, যেহেতু বৈধ পথে এইসব চাহিদা মেটানো কঠিন তাই তোমরা অবৈধ পথ কে লিগালাইয করা শেখো মনে মনে। বিচার ব্যবস্থা দেখিয়ে শেখাবো সমাজে দাপট, টাকা, আর রাজনৈতিক ব্যানার থাকলে তুমি যা খুশি তাই করতে পারো। এবার তুমি খুন করো, ধর্ষণ করো, ঘুষ খাও, সুদ খাও, যা খুশি তাই করো তোমাকে কেউ কিছু বলবে না, কোন শাস্তি নেই তোমার। আমরা তাদেরকে ধর্ম শিখতে দেবো না, পরকাল বিশ্বাস মজবুত করতে দেবো না, স্রষ্টা, ধর্ম, নিয়ম কানুন সব কেবল হুজুরদের মধ্যযুগীয় স্মৃতিরক্ষার রীতি হিসেবে শিখিয়ে আসবো। দিন শেষে তাদেরকে এমন এক আজব পশুরুপী মানুষ হতে শেখাবো যেখানে জীবনের কোন উদ্দেশ্য নেই, কোন চিরন্তন গন্তব্য নেই, নেই কোন নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড বা আদর্শ যে অনুযায়ী সে চলবে। আমরা তাদেরকে শেখাবো, আরে এই যুগে এটা মানা যায় নাকি, ওটা ছাড়া যায় নাকি এমন অজুহাতে সকল পূণ্য কে এড়িয়ে চলতে আর পাপ কে আপন করে নিতে।
.
এতোসব কিছু শেখানোর পর যখন সে টিকতে না পেরে প্রেমের ফসল হিসেবে এবরশন এর অভিজ্ঞতা নিয়ে হাজির হয় তখন আমরা চোখ বন্ধ করে এড়িয়ে যাবো, যখন ধর্ষণ করবে তখন “পুরুষ তুমি মানুষ হও” দিয়ে কলাম ছাপাবো, নারী তুমি বন্ধুর পার্টিতে যেতেই পারো, একটু মাখামাখি করতেই পারো, তাই বলে অমতে ***! তবে তোমার ইচ্ছায় হলে সেটাকে আমরা নারী স্বাধীনতা বলতাম, প্রেমের বহিঃপ্রকাশ বলতাম! যখন সে খুন করবে, সুদ, মদ, ঘুষ খাবে সেগুলোকে আমরা ব্যক্তিস্বাধীনতা বলবো, একটু আকটু হয় বলে সমাজের সকলকে এই ক্যাটাগরীতে দেখিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলবো। সামান্য পাওয়া না পাওয়া নিয়ে সুইসাইড করলে, জীবনের অর্থ না পেয়ে হতাশ হয়ে গেলে সুখন ভাইদের দিয়ে মোটিভেশনাল স্পিচ দেয়াবো, “কিভাবে এই দুনিয়ায় সফল হতে হয়?” তবে পরকালের ব্যাপারটা সব সময় পাশ কাটিয়ে, ঘৃণা দেখিয়ে চলে যাবো। তোমাদের নীতি নৈতিকতা বলতে যখন কিছুই থাকবে না তখন টিভি পত্রিকায় টকশো কলামে বড় বড় আর্টিকেল ছেপে দেখাবো, ডিবেট করে প্রমাণ করবো এর পিছনে মনোবিজ্ঞানের অমুক জীন দায়ী। তবুও আমরা কখনো আমাদের দ্বীমুখী নীতি স্বীকার করবো না, নিজেদের ভণ্ডামি ছাড়তে চাইবো না আমরা যে কতটা অন্ধ গোঁড়া তা মানতে চাইবো না। যত যাই হোক, চূড়ান্ত সমাধান যে আসলে একটাই- “ইসলাম” সেটা কখনই প্রয়োগ ঘটাতে চাইবো না, তা নাহলে আমাদের মুখোশ যে খুলে যাবে। হ্যা আমরা এমনই, আমরাই তোমাদের সমাজ…
.
Post Courtesy: Mahfuj Alamin

শেয়ার করুনঃ