একটা সময় বিজ্ঞান এর ১০/২০ টা শাখার জ্ঞান একজন পন্ডিতের কাছেই পাওয়া যেত। আর এখন এক একটা শাখাই ১০/২০ টা প্রশাখায় বিভক্ত। তার উপর প্রতিটা প্রশাখাই ফুলে ফেঁপে কলেবরে এতো বৃদ্ধি পেয়েছে যে, একটা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতেই শিক্ষা জীবনের দীর্ঘ সময় চলে যায়।
এমনই একটা শাখা মেডিকেল সাইন্স। এর ব্রাঞ্চ, সাব-ব্রাঞ্চ আর সাব স্পেশালিটির যেন শেষ নেই। এতে অনেক সুবিধার সাথে একটা কমন অসুবিধা হলো; কোন সমস্যায় কার কাছে যাবো তা নিয়ে দ্বিধা তৈরী হয়। বিশেষত যারা বিভিন্ন যৌন সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য এটা একটা কঠিন সমস্যা। এই লেখায় এসব নিয়েই দিক নির্দেশনা দেয়ার চেষ্টা থাকবে, ইনশা আল্লাহ।

১. যৌনবাহিত রোগ। অর্থাৎ, যেসব রোগ হারাম, নিষিদ্ধ, অনিরাপদ ও অসুস্থ যৌনতার ফলে তৈরি হয়, যেমন- সিফিলিস, গনোরিয়া, হার্পেস, জেনিটাল আলসার, ওয়ার্ট, স্ক্যাবিস ইত্যাদি। এসবের লক্ষণ হলো – প্রসাবের রাস্তা দিয়ে পুজ পড়া। যৌনাঙ্গে ঘা, চুলকানি, ফুসকুরি, তল পেটে ব্যাথা ইত্যাদি। এসব সমস্যার জন্য “যৌন ও চর্ম” বিশেষজ্ঞ দেখাবেন।

২. যৌনাঙ্গের জন্মগত সমস্যা। জন্মের পর ছেলে বাচ্চাদের অন্ডকোষ একটি বা দুইটিই অন্ডথলিতে না থাকা, প্রসাবের নালির মুখ সঠিক জায়গায় না থেকে ভিন্ন জায়গায় থাকা। প্রসাবের সময় লিঙ্গের মাথা বেলুনের মত ফুলে যাওয়া, অন্ডথলিতে পানি জমে থাকা, যৌনাঙ্গের অস্বাভাবিক আকার আকৃতি ইত্যাদি হলে “পেডিয়াট্রিক সার্জারী” এর ডাক্তার দেখাবেন।

৩. বড়দের অ্যানাটমিকেল বা স্ট্রাকচারাল কোন সমস্যা থাকলে, যেমন- হার্নিয়া, অন্ডথলিতে তরল জমা বা হাইড্রোসিল, অন্ডকোষে গুটলি বা সিস্ট, টিউমার, ভ্যারিকোসিল, অন্ডকোষে ব্যথা/প্রদাহ/ টরশন, ব্যথাযুক্ত লিঙ্গোত্থান বা প্রায়াপিজম, যে কোন দৃশ্যমান অ্যাবনরমালিটি ইত্যাদি থাকলে “সার্জারী” ডাক্তার দেখাবেন বা “সার্জনের” স্বরনাপন্ন হবেন।

৪. যাদের লিঙ্গোত্থানে সমস্যা, সাথে মেটাবলিক ডিজিজ আছে, যেমন -ডায়াবেটিস, হাইপারলিপিডেমিয়া (রক্তে অতিরিক্ত চর্বি), হাইপোথাইরয়েড (থাইরয়েড নামক হরমোন কম), হাইপোগোনাডিজম/ হাইপোপিটুইটারিজম (পিটুইটারি নামক মস্তিষ্কের গ্রন্থির সমস্যা) ইত্যাদি থাকলে “এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট” বা হরমোনের ডাক্তার দেখাবেন।

৫. সবকিছু ঠিক! শুধু মানসিক দুশ্চিন্তার কারনে যারা উত্তেজিত হতে না পারা এবং দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যায় ভুগছেন, যাদের যৌন দুর্বলতার সাথে সাথে হতাশা/অসংলগ্ন চিন্তা/ আত্মহত্যার ইচ্ছা/ নিজেকে খুব ছোট বা খুব বড় কিছু মনে হওয়া, সারাক্ষণ ব্যর্থতা নিয়ে ভাবা, নিদ্রাহীনতা ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত তারা “সাইকিয়াট্রিস্ট” দেখাবেন।

৬. যাদের সমস্যা “জাস্ট নার্ভাসনেস” অর্থাত, খেলার আগে ভয়েই ঘাম ঝরে যায়! একটু মোটিভেশান দিলে বা দু/একটি সেশন নিলেই ঠিক হয়ে যাবে, তারা “সাইকোলজিস্ট” দেখাবেন।

৭.সত্যিকারের ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা প্রি-ম্যাচিওর ইজাকুলেশন যাদের আছে। যাদের উপরোক্ত সার্জিকেল, মেটাবলিক বা জন্মগত কোন সমস্যা নেই, তারা “ইউরোলজিস্ট” দেখাবেন।

৮. মহিলাদের সব ধরনের মেয়েলি সমস্যার জন্য “গাইনি এন্ড অবস্” এর ডাক্তার দেখাবেন।

৯. প্রাথমিকভাবে যারা নিজের সমস্যার ধরন ও কারন সম্পর্কেই অনিশ্চিত। যাদের অন্য কোন রোগ সাথে আছে (উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট কিডনি লিভার ইত্যাদির অসুখ), যাদের কাছাকাছি কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই, তারা “মেডিসিন বিশেষজ্ঞ” ডাক্তার দেখাবেন।

১০. এসবের বাইরে যে কেউ নিজ ইচ্ছা ও বিশ্বাস অনুযায়ী ‘নিজ দায়িত্বে’ রুকইয়া, ইউনানি বা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহন করতে পারেন।

শেষ কথার আগের কথা –
রাজা বাদশাহদের জীবন যেমন আরাম আয়েসে পূর্ণ, তেমনি বেকায়দায় পড়লে তাদের পরিনতিটাও হয় মর্মান্তিক। যারা নানান যৌন অসুখে ভুগে বা স্বাভাবিক পারফরমেন্সে সন্তুষ্ট না হয়ে “নগদ ফলাফলের” আশায় একের পর এক উত্তেজক ঔষধ খেয়ে “কিং” হয়ে যান, তাদের একটা সময় পর মর্মান্তিক পরিনতির জন্য প্রস্তুত থাকা উচিৎ!

শেষ কথা –
জীবন আপনার। সমস্যার ধরন, তার সমাধানের জন্য প্রচেষ্টার পরিমান ও ধৈর্য্যের মাত্রাও প্রতিটা মানুষের আলাদা। তাই আপনিই সিদ্ধান্ত নেবেন যে কি করবেন। তবে যদি কেউ আগ্রহী হোন; তার জন্য আমাদের পরামর্শ থাকবে-
সবার আগে সব ধরনের আজেবাজে অভ্যাস চিরতরে বাদ দিতে হবে। তারপর মুক্ত বাতাসের খোঁজে গ্রুপে দেয়া বিভিন্ন পরামর্শ মত ৩-৬ মাস চলতে হবে। সব কিছুর পরও যাদের সমাধান হবেনা তারা সমস্যার ধরন অনুযায়ী উপরোক্ত চিকিৎসক দেখাবেন।
আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন।

লেখকঃ ডাঃ খালেদ সাইফুল্লাহ

শেয়ার করুনঃ