আমার বোনেরা বাঁচতে শেখো, বাঁচার নামে মরো না…

আমার বোনেরা বাঁচতে শেখো, বাঁচার নামে মরো না…

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হিসেবে বিগত দেড় দুই বছর ধরে এখানকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নারী মুক্তির ফিরিস্তি দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত। নারীদের এই করতে হবে, সেই করতে হবে, নারী নির্যাতন, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর এগিয়ে চলা, নারীর জয়গান শব্দগুলো অনেক বেশী জনপ্রিয়। খবরের কাগজগুলোতে এই শব্দগুলো ব্যবহার করে আলাদা ফিচারও থাকে নিয়মিত। আমাদের মায়েরা, আমাদের স্ত্রীরা, আমাদের বোনেরা সেভাবেই বাঁচতে শিখে, সেভাবেই নিজেদের গড়তে চায়, সেভাবেই জীবন সাজাতে চায়, সেভাবেই জীবনে সাফল্যের অর্থ খুঁজে! অর্থহীন জীবনের স্বপ্ন দেখার আগে, বাঁচার নামে সব হারানোর আগে, বন্দীত্ব থেকে মুক্তির নামে স্বাধীনতা নামের মরীচিকার শিকল পরার আগে dear muslim sisters, আমি আপনাদের এক মুসলিম ভাই, আপনাদের প্রতি আমার কিছু কথা আছে …
.
হেফাজতের ১৩ দফার একটি দফা ছিল আধুনিকতা আর ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে নারী পুরুষ অবাধ মেলামেশা বন্ধ করতে হবে! সুবাহানাল্লাহ! সে দাবীর পর সুশীল সমাজের মাথা আউলা হয়ে গেল। নারীকে ঘরে বন্দী করে রাখার পায়তারা, নারীকে পিছিয়ে দেওয়ার পায়তারা, ইসলাম নারীকে ঘরের কোণে আটকে রেখেছে, ইসলাম মধ্যযুগীয় হাজারটা অভিযোগে সরগরম পত্রিকার কলাম, টিভি টকশো আর মুখে খই ফুটেছে শাহরিয়ার কবির, রোকেয়া প্রাচী, জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুলদের মত সেক্যুলার সুশীলদের! আর তাঁদের সেক্যুলার কথনের আস্ফালন দেখে দুইপাতা পড়া আমাদের শিক্ষিত নারীসমাজ মাঠে নেমে এল। সুবাহানাল্লাহ! আমি এমন এমন বোনদেরকে এসব নর্দমার কিটদের সাথে তাল মিলাতে দেখেছি যে খুব হতাশ লেগেছিল। চুপ করেই ছিলাম। কিন্তু তার পরের বিষয়গুলো দিন দিন সহ্যসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। time to make you realized who you are …
.
সম্মান বিষয়টা আপেক্ষিক। কিন্তু আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা বিষয়গুলো আপেক্ষিক নয়। এগুলো মানুষের ভেতর by born থাকে। মানুষ যখন সম্মানের বিষয়গুলো আপেক্ষিকতার কাছে ছেড়ে দিয়ে সেক্যুলার সমাজের নষ্ট মানুষগুলোর দেখিয়ে দেওয়া সম্মানের সংজ্ঞায় সম্মান খুঁজে তখন মানুষের সেই by born আত্মসম্মান আর আত্মমর্যাদার ব্যপারগুলতেও আপেক্ষিকতা চলে আসে। আপেক্ষিকতা চলে আসে বলেই একই রক্ত মাংসের একজন নারীর কাছে তার হিজাব তার আত্মসম্মান, ইজ্জতের রক্ষক, আবার অন্য একজন নারীর কাছে সেই হিজাব বন্দীত্বের প্রতীক। আপেক্ষিক বলেই একজন নারীর কাছে পরপুরুষের সামনে না যাওয়া, কথা না বলা, বয়ফ্রেন্ড maintain না করা, বন্ধু আড্ডা গানে হারিয়ে না যাওয়া এসব যখন একটা আদর্শ অন্য একজন নারীর কাছে সেগুলোই গোঁড়ামি, আনস্মার্টনেস! তার কাছে এগুলো করাটাই আদর্শ, এগুলো করাটাই আধুনিকতা, এগুলো করাটাই জীবন! By born থাকা আত্মসম্মানও তখন আপেক্ষিক হয়ে যায়। একজনের কাছে for the sake of ALLAH , অন্যজনের কাছে for the sake of shaitan …
.
একজন মুসলিমাহ হিজাবকে দেখে নিজের সম্মানের রক্ষক হিসেবে, যৌবনের তাড়নায় নারীর শরীর থেকে শরীরে চোখের বিচরণ করে বেড়ানো পরপুরুষের দৃষ্টির ঢাল হিসেবে। একজন মুসলিমার কাছে হিজাব জাফর ইকবালের ভাষায় বন্দীত্ব নয়, রোকেয়া প্রাচীর মত ইসলামের লিঙ্গ বৈষম্য নয়, বর্বরতা নয়।
.
কেন নয় সেটা যুক্তির চেয়ে অনেক বেশী আবেগের প্রশ্ন। অনেক বেশী উপলব্ধির প্রশ্ন। আপনি কি আমাকে বলতে পারবেন সঠিকভাবে হিজাব করা, মাহরাম নন মাহরাম maintain করা, ইসলাম নারীর যে বাধ্যবাধকতা দিয়েছে সেসব মেনে চলা কয়টা মেয়েকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে? কয়টা ক্ষ্যাত মেয়েকে রাস্তায় টিজ করা হয়েছে? কয়টা? হিজাব ছেড়ে শিলা মুন্নি চাম্মাক চালো, ধূতি কাটিং কপচানো মেয়েগুলোই রাস্তায় বাজে মন্তব্যের শিকার হয়, বন্ধু আড্ডা গান আর ভাবালুতায় মিশে যাওয়া আধুনিকা মেয়েগুলোই ধর্ষিত হয়। ইসলাম নারীকে যে সম্মানে সম্মানিত করেছে সেটাকে প্রত্যাখ্যান করে সেক্যুলার কিটদের শিখিয়ে দেওয়া আধুনিকতার শিল্পকলার মধ্যেই বোন তোর অস্মমান।
.
এই আধুনিকতাই তোকে লজ্জিত করেছে, এই আধুনিকতাই তোর শরীর নিয়ে খেলছে, তোকে পণ্য বানিয়েছে! শেষ পর্যন্ত তোকে তাঁদের মত নর্দমার কিট বানিয়ে তবেই ক্ষান্ত দেবে।
.
নারীবাদী সুশীল নর্দমার কিটগুলো সুযোগ পেলেই বলতে ভুল করে না ইসলাম নারীকে ঘরের কোণে আটকে রেখেছে। কিন্তু নারীকে তারা ঘরের বাইরে এনে কি সম্মান উদ্ধার করেছে বলবেন কি?? কর্পোরেট জীবনের স্বপ্ন, জীবনে বড় হওয়া, পুরুষ এটা করলে আমরা কেন এটা করব না এই তো?? মিডিয়া ক্যারিয়ার, নাটক, সিনেমা, মডেলিং এই তো সাফল্য?? এই সাফল্যের পেছনে তোকে ছুটতে বাধ্য করে নর্দমার কিটগুলো তোর আব্রু কেড়ে নিয়েছে, তোর মূল্যবোধ নৈতিকতা কেড়ে নিয়েছে। তোকে শিখিয়েছে এই সাফল্যের পেছনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আত্মসম্মান সর্বস্ব তোর শরীরটা তুলে দিতে হবে সমাজের হায়েনাদের কাছে। বিনিময়ে পাবি ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়ার সুযোগ, পত্রিকায় একটা সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ, মানুষের ঘরে ঘরে টিভি স্ক্রিনে শরীর দেখানোর সুযোগ। ভাবতে অবাক লাগে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের পোশাক বিকিনি আর প্যানটি! বলতে খুবই অস্বস্তি লাগছে বিষয়টা এমন যে আপাদমস্তক শরীরের প্রতিটা লোমকূপ উন্মুক্ত করার মাঝেই নারীর সৌন্দর্য? সামনে বসে থাকা বিচারকদের কামনার প্রবৃত্তি তৈরি করার মাঝেই প্রতিভার বিস্ফোরণ।? আর এখান থেকেই যথার্থ স্বীকৃতি??
.
শরীর ঢাকার হিজাব যদি বন্দিত্বের প্রতীক হয়ে নগ্ন হওয়াটাই মর্যাদার মাপকাটি হয় তাহলে বনের পশুগুলোই তো সবচেয়ে মর্যাদাবান, সবচেয়ে সভ্য! তুই আশরাফুল মাখলুখাত বোন, অনেক মর্যাদার! কেন নিজেকে এত সস্তা বানাস? কেন?
.
তোর সম্মান লাগবে?? কতো সম্মান লাগবে তোর? রাসুল (সঃ) পুরুষের আকর্ষণীয় শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলেছেন কাকে?? দামি গাড়ি, বাড়ী, কোহিনূর হীরা? না রে বোন! তার একটিও নয়। তিনি পুরুষের আকর্ষণীয় শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলেছেন নেক স্ত্রীকে! রাসুল (সঃ) বলেছেন কারো যদি একটি বা দুটি মেয়ে থাকে সে যদি তাঁদের সুন্দরভাবে বড় করে তাঁদের সুপাত্রস্থ করে তাহলে সেটা তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। সুবাহানাল্লাহ নারীর প্রতি দায়িত্বপালনও পিতামাতার জান্নাতের দরোজা। মসুলিম নারীর ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলে আল্লাহ্‌ তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ। একজন মুসলিমাহ কারো শহীদ হয়ে জান্নাতে যাওয়ারও দরোজা। একজন সন্তানের জন্য তার মা হয় তার জান্নাতে যাওয়ার দরোজা!
.
ইসলামী খিলাফতের স্বর্ণযুগে গভীর রাতেও একজন তরুণী একাকি রাস্তায় হেঁটে গেলেও তার মনে আল্লাহ্‌র ভয় আর পশুপাখির ভয় ছাড়া অন্য কোন আশঙ্কা ছিল না। আর কতো সম্মান চাই তোর? আর কতো নিরাপত্তা চাই তোর? আর কতো? ইসলাম নারীকে অধিকার দিয়েছে সে শিক্ষা অর্জন করবে, সম্পদ উপার্জন করবে, সম্পদের মালিক হবে, বেচা কেনা করবে, উত্তরাধিকার হবে, বিবাহের প্রস্তাব দানকারী পুরুষকে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। কিন্তু এসব করতে গিয়ে নারী আত্মসম্মান বিসর্জন দেবে না, শরীর সওদা করে বেড়াবে না। এসব করতে গিয়ে নারীকে এঞ্জলিনা জলি, ক্যাটরিনা কাইফ হতে হবেনা। রুবাবা দউলা মতিন, কানিজ আলমাজ খান হতে হবেনা। এসব করার জন্য হট, সেক্সি, সেক্সসিম্বল হতে হবেনা। সবার আগে একজন নারী হতে হবে বোন। একজন মুসলিমাহ হতে হবে। নিজের সম্মান নিজেকে বুঝতে শিখতে হবে। আল্লাহ্‌কে ভয় করতে জানতে হবে। এতটুকুই তো …
.
কাশমিরের এক মহিলা ব্যান্ড আছে ‘প্রাগাস’ (pragaash) নামে। যার মেম্বাররা ডিজিটাল হিজাবি মুসলিমাহ। কাশমিরের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এইধরনের ব্যান্ডকে নিষিদ্ধ ফতওয়া দেওয়ার পর নারীবাদীরা আন্দোলনের ঢেউ তোলে। তবে সেক্যুলার আদর্শের কাছে আমার বোনদের মানসিক পরাজয়ের সাম্প্রতিক উদাহরণটা আরব আমিররাতের মহিলা ব্যান্ড দলের কমপ্লিট হিজাবি মেয়েদের সাম্যতা খোঁজার চেষ্টা!! সেক্যুলার সমাজের নারী পুরুষ সমান থিউরি আর ইসলামের থিউরি ভিন্ন।
.
ইসলাম অধিকারের সাম্যতার কথা বলে, আত্মার প্রশান্তির সাম্যতার কথা বলে, নারী পুরুষ নিজ নিজ অবস্থানে নিজেদের দায়িত্বের কথা বলে। “ছেলেরা রাস্তা ঘাটে বাথরুম সারতে পারলে মেয়েরা কেন পারবে না” এধরনের অসুস্থ এবং কুৎসিত সমঅধিকারের কথা ইসলাম বলেনা। এটা একজন মানুষের নৈতিক সমর্থনও নয়। কিন্তু সেক্যুলার সমাজ আমাদের নারীদের আজ সেই শিক্ষাই দিচ্ছে যেখানে আত্মিক সাম্যতার চেয়ে ফিজিক্যাল সাম্যতার নষ্টামি খোঁজা হয়। আর এই সাম্যতার খোঁজে আমাদের বোনেরা মাথায় ত্যানা পেঁচিয়ে ফুটবল মাঠে দৌড়াদৌড়ি করে। হিজাব করে গিটার ড্রামস বাজিয়ে ব্যান্ড তৈরি করে নারী পুরুষের সাম্যতা খুঁজে। অধিকারের সাম্যতা রক্ষায় সমকামি বিয়ের বৈধতা খুঁজে। “ফেসবুকে ছেলেরা নিজেদের ছবি দিতে পারলে আমরা কেন সাজুগুজু ছবি দিতে পারব না’ এমন কথাও শুনেছি আমাদের ডিজিটাল দীনি বোনদের কাছে। সেক্যুলার আদর্শের কাছে কি সুন্দর আমাদের মুসলিম বোনদের পরাজয়! কি অদ্ভুত মুসলিম বোনদের জীবনের অর্থ, উদ্দেশ্য আর জীবনবোধ!
.
আমরা কল্পনাও করতে পারবোনা আমাদের জীবনটা কত ক্ষুদ্র। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে জীবনের অনেক পট পরিবর্তন হয়ে যায়। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও আমি ভাবিনি একদিন আমি এরকম একটা লেখা লিখব। আদর্শ অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল একটা ব্যাপার। আর আদর্শের বাছাইয়ে যে মানুষ হেরেছে সে তার জীবনটাই হারিয়েছে। আমার বোনদের তাই নিজের সততার কাছে একবার প্রশ্ন ছুড়া উচিত আপনি আসলে কি করতে যাচ্ছেন! আপনার আসলে কি করা উচিত? কাকে দেখে আপনি জীবনের অর্থ খুঁজছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা খুবই জরুরী পৃথিবীর বুকে শেষ নিশ্বাস থাকার আগে।
.
ইয়া বড় লাল টিপ কপালে গেঁথে, লাল নীল শাড়ি, খোপায় ফুল গোঁজে টিএসসি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সুখ সুখ ভাবের জীবন খোঁজা ঐ যে মেয়েটি, সে মনে করে এটাই জীবন! অন্ধকার রাতের সাজগোজ করে কিছু অর্থের বিনিময় মুল্যে অমুল্য সম্ব্রম সওদা করে বেড়ানো প্রমোদ বালিকাটিও মনে করে এটাই জীবন। ক্যামেরার আলোকোজ্জ্বল শাটারে দেহ সাজিয়ে, একটা ছবি, দুইটা নাটকে অভিনয়ে সাফল্যের(!!) তিলক মাথায় এঁকে রঙ্গিন পর্দার আড়ালে জীবন খোঁজা আধুনিকা ললনার কাছেও এটাই জীবন। সন্তানকে রহিমা বুয়ার হাতে তুলে দিয়ে নয়টা থেকে পাঁচটা একটা সফল ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটে চলা আমাদের ব্যস্ত মায়েদের কাছে এতটুকুই জীবনের অর্থ! একটা বয়ফ্রেন্ড, একটা দামি মোবাইলের হেডফোন কানে, চুইঙ্গাম চিবোতে চিবোতে বন্ধু আড্ডা গানে ঘরে ফেরা স্কুল ড্রেস পরিহিতা মেয়েটির কাছে এতটুকুই জীবনের অর্থ!
.
আমি আপনাকে, হ্যা, আপনাকে, আপনি আমার মুসলিম বোন, আপনাকে আমি আজ জীবনের খুব সহজ একটা অর্থ শিখিয়ে দিতে চাই। অনন্ত জান্নাতের সবকটা দরোজার চাবি আপনাকে দিয়ে দিতে চাই।
.
আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুল (সঃ) বলেছেন, “মুসলিম নারী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রামাদানের সাওম পালন করে, নিজের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, এবং স্বামীর আনুগত্য করে তবে তাকে বলা হবে জান্নাতের যে কোন দরোজা দিয়ে ইচ্ছে তুমি ভিতরে প্রবেশ কর”। [মুসনাদে আহমদ, ইবন হিব্বান]
.
এতটুকুই তো! খুব বেশী কিছু নয়। খুব জটিল কিছু নয়। আখিরাতে তোর জীবনটা সহজ করা এই দুনিয়াতেই অনেক সহজরে বোন। তুই নিজেই জীবনটা কঠিন করছিস দিনের পর দিন। সমাজ থেকে জীবনের পাঠ নিচ্ছিস। সেক্যুলার কিটদের জীবনের আদর্শ বানাচ্ছিস। ইসলামে সবচেয়ে সম্মানিত চার নারীর কথা বলে আমার কথা শেষ করব। সেই চারজন নারী হলেন-

১। হযরত খাদিজা (রাঃ) ২।হযরত ফাতিমা (রাঃ) ৩। হযরত আছিয়া ৪।হযরত মারিয়াম ।
.
আসুন খুব ভালোভাবে এদের খেয়াল করি। হযরত খাদিজা (রাঃ) এই মহিলা সারাজীবন রাসুল (সঃ) এর পাশে ছিলেন তার সঙ্গিনী হিসেবে। তার সবকিছু দ্বীনের জন্য কুরবান করেছিলেন স্বামীর হাতে দিয়ে। আমাদের এই মা রাসুল (সঃ) এর এততাই প্রিয় ছিলেন তার মৃত্যুতে তিনি খুবই ভেঙ্গে পড়েন। এমনকি মাঝে মাঝে রাতে তিনি স্ত্রীর কবরের কাছে গিয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদতেন। সুবাহানাল্লাহ, হযরত খাদিজা (রাঃ) ছিলেন একজন অসাধারণ স্ত্রী এবং মা। একইভাবে হযরত ফাতিমা (রাঃ) ছিলেন হযরত আলী (রাঃ) এর প্রিয়তমা স্ত্রী এবং হাসান হোসেন (রাঃ) এর সুযোগ্য মা। হযরত মারিয়াম ছিলেন একজন সতী নারী এবং হযরত ঈসা (আঃ) এর মা। আর হযরত আছিয়া ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ তাগুত কাফের ফেরাউনের স্ত্রী যিনি জগন্য এক স্বামীর স্ত্রী হয়েও আল্লাহ্‌র পথে ছিলেন এবং হযরত মুসা (আঃ) কে লালল পালন করেন। এই চার মহিলাকে ইসলামে সবচেয়ে সম্মানিত করা হয়েছে কিসের মানদণ্ডে? এরা সবাই ছিলেন একেক জন ভালো মা, ভালো স্ত্রী।
.
আল্লাহ্‌ সুনাহানু ওয়ালা তায়ালা একজন নারীর সম্মান নির্ধারণ করেছেন এই দুইটি জায়গায়___ মাতৃত্বে আর স্ত্রীত্বে! আমার বোনেরা এখানেই সম্মান খুঁজে নিন, এখানেই জীবনের অর্থ খুঁজে নিন, এখানেই বাঁচতে শিখুন। আল্লাহ্‌র কসম করে বলছি আল্লাহ্‌ সুবাহানু ওয়া তায়ালা ইসলামের মাধ্যমে নারীর যে সম্মান নির্ধারণ করেছেন এর বাইরে গিয়ে কেউ কোনদিন সম্মান পেতে পারেনা, শান্তি পেতে পারেনা। এর বাইরে লজ্জা, অসম্মান আর জীবনবোধের ক্ষয় ছাড়া আর কিছুই নেই।
.
আর তাই ইসলাম নিয়ে বাঁচতে শিখুন, কোনদিন মরবেন না। অন্য কোথাও বাঁচার ভান করতে পারেন, কিন্তু আস্তাকুঁড়ে হারিয়ে যাবেন সেই সেক্যুলার নর্দমার কিটগুলোর মত!
.
(৭ বছর আগে এক ভাইয়ের লিখা।)

শেয়ার করুনঃ
তারকা বিভ্রম আর দ্বৈতচারিতা

তারকা বিভ্রম আর দ্বৈতচারিতা

আজকাল চারদিকে তারকার ছড়াছড়ি। এখন চাইলেই খুব সহজে যে কেউ তারকা বনে যেতে পারে। রূপালী পর্দার তারকা, ক্রীড়াতারকা, রিয়েলিটি শো তারকা, সঙ্গীত তারকা। কেননা মানুষের স্বেচ্ছাচারিতা, গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো, হুজুগ আর অন্ধ অনুকরন আজ ব্যবসার আসল মূলধন। আর এসব নিপতিত বৈশিষ্ঠ্য কেবল এটাই জানান দেয় , মানুষের চিন্তা-চেতনা আর বিবেকবোধ লোপ পেয়েছে আর তারা তাদের চিন্তাশীলতা আর মননকে বন্ধক দিয়েছে মিডিয়ার কাছে।
.
ছোট্ট একটা উদাহরন দেই, যা আমি প্রায় সময়ই দেই। সমকামিতা: আজ থেকে এক দশক আগেও পশ্চিমা কিছু কুকুর ব্যতীত অধিকাংশ মানুষের কাছেই তা ছিলো ঘৃন্য এক কাজ। অথচ মিডিয়ার জঘন্য মিথ্যাচারিতা আর প্রতারনার ধারাবাহিক ফলস্বরূপ আজ অধিকাংশ মানুষই এই ধরনের আচরন যা পশুদের মধ্যে নেই তাকে মানবাধিকার বলে শোরগোল ফেলে দিচ্ছে। অর্থ্যাৎ পশুবৃত্তিকেও ছাড়িয়ে গেছে মানবাধিকারের সংজ্ঞা।
.
আরো সহজ করে দেই। টারজান এক জনপ্রিয় টিভি চরিত্র। যে জঙ্গলের মাঝখানে বসবাস করে অথচ তার মুখমন্ডল অসম্ভব রকমের মসৃণ। এবার ভাবুন কোথায় বন্ধক রেখেছেন আপনার চিন্তাশক্তিকে? অবসাদগ্রস্থতা বলে একটা ব্যাপার আছে; আপনাকে এটা গ্রাস করেনি তো? জেগে জেগে ঘুমানো ব্যক্তিকে জাগানো কি যায়!
.
আরো বলি, শুনুন। মুসলিম সেই ব্যক্তি যে ইসলাম পালন করে। অর্থ্যাৎ যে ব্যক্তি নিজের স্বাধীন ইচ্ছাকে আত্মসমর্পন আর সঁপে দিয়েছে বিশ্বপ্রতিপালকের কাছে নিষ্ঠা আর বাধ্যবাধকতায়; শান্তি অর্জনের নিমিত্তে। এর বিপরীতার্থক কোন শব্দ হলো সন্ত্রাসবাদ। অথচ এই বিপরীত বৈশিষ্ট্যমন্ডিত দুইটি বিষয়কে সমার্থক বানানোর মতো অসম্ভব কাজটুকুও মিডিয়া করে ফেললো; বন্ধকী মস্তিষ্কের কল্যানে। এটাকে ইংরেজীতে বলে Oxymoron; অর্থ্যাৎ বিপরীতার্থক বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ধাঁধাঁ। যেমন-স্হল বৈমানিক [Ground Pilot ]। সত্যিই হাস্যকর।
.
আজ তরুণরা “Assassin’s Creed” গেমসে মত্ত থাকলে ও জানে না “Islamic Creed” সম্পর্কে। তারা “Call of Duty” খেললেও সাড়া দেয় না “Call of Duty”- সলাতে। তারা ট্রয়ের কাল্পনিক ক্ষয়িঞ্চু চরিত্র একিলিস [Achilles] কে চিনলেও চিনে না সত্যিকারের তারকা মাসজিদে আল-আকসা বিজয়ী সালাহদীন আইয়ুবীকে। তারা টোয়াইলাইট [Twilight] দ্বারা মোহগ্রস্থ থাকলে ও Towards Light তাদের পদযুগল এগোয় না। তারা আভ্যাটারে [Avatar] এ মন্ত্রমুগ্ধ; পরকালে বিশ্বাস তাদের কাছে সেকেলে। প্রবৃত্তির ডাকে আর টানে তারা সাড়া দেয় Nike এর স্লোগান এর মতো “Just do it” অথচ ফজরের সলাতে তারাই “Never did it”। খুব বেশী pacy life, খুব বেশী rush, খুব বেশী events আর happening তাদের জীবন। অথচ বড় বেশী অন্তঃশূণ্য তাদের অন্তরাত্মা; ঢুকরে কাঁদে সঙ্গোপনে। তারপরও তারা pretend করে iron-man হওয়ার; তাদের thyroid ইনজেকশানে বাড়ানো মাংসপেশীর প্রদর্শনীতে, Hardy’s এর নতুন cool t-shirt এ, Levi’s এর ছেড়া জিন্সে। আত্ম-প্রতারণা আর আত্ম-বিদ্রুপ কার সাথে হচ্ছে?
.
আর ক্রীড়াসক্তির কথা কি বলবো? লা লিগা মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথতো দ্বীনদার ভাইদেরও ছেড়ে কথা বলে না। টেনিসে ফেদেরার-নাদাল, ক্রিকেটে শচীন-লারা, ফর্মুলা ওয়ানে শুমাখার পেরিয়ে নতুন কেউ, স্প্রিন্টে বোল্ট, NBA তে জর্ডান কিংবা গলফে উডসদের নিয়ে বড় বেশী মত্ত। বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দল নিয়ে বাড়াবাড়ি তো আর কম হয় না। এসকল তারকাদের অধিকাংশেরই চারিত্রিক দোষে দুষ্ট আর তাদের হামবড়া ভাবের কথা নাই বললাম। কেবল বিনোদিত হওয়ার জন্যই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের খরচ করা হচ্ছে। অথচ কেবল আফ্রিকার দিকে তাকাইলে আমাদের আমুদে ভাব কেটে যাওয়ার কথা। এ সকল খেলোয়াড়রা যতটা না তাদের ক্রীড়াশৈলীর জন্য তার চেয়ে বেশী এনডোর্সমেন্ট, বিপনন, পন্যের দূত কিংবা নারীঘটিত কারনে সংবাদশিরোনাম হন। আর তা গিলার জন্য রয়েছে; একপাল উৎসুক ভেঁড়ার পালসদৃশ তরুণগোষ্ঠী।
.
সঙ্গীত-তারকাদের দুর্দশার কথা না বলে কেবল যদি তাদের মধ্যে আত্মহত্যাকারীদের তালিকা করা হয় তা অনেক দীর্ঘ হবে। এটা কেবল সঙ্গীততারকা নয় রূপালীপর্দার তথাকথিত তারকারাও এই মিছিলে পিছিয়ে নেই। সঙ্গীতের নামে কপটতা, অপরের দুঃখের ফিরিস্তি, আত্ম-গরিমা আর হতাশার বিকিকিনি কেবল সাময়িক মোহ তৈরী করে; যা জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ভুলিয়ে রাখে। আমরা এমন এক Big Brother Society তে বসবাস করি যেখানে অন্যের জীবনের দুর্দশা আনন্দ হিসেবে বিকানো হয়; রিয়েলটি শো নামক ধোঁকায়।
.
এসব তারকাদেরকে আর তাদের গুরুদের আপাতঃ দৃষ্টিতে দেখলে মনে হয় তাদের জীবনের সবকিছুই তারা নিয়ন্ত্রণ করছে [as though they are dictating their terms of life]। তারা তাকদীরের উপর প্রবল হওয়ার প্রচেষ্টা করে। বস্তুতঃ তাদেরকে দেয়া হয়েছে অবকাশ আর তাদের সীমালঙ্গনকে তাদের কাছে করা হয়েছে সুশোভিত। আর তাদের সংকীর্ণ জীবনাচরণের কথা নাই বললাম। তাই তাদেরকে দেখে ধোঁকায় নিমজ্জিত হওয়া বোকামি আর মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়।
.
আর হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা যাকে ভালবাসবে কিয়ামাহ্’র দিন তাদের সাথে উত্থিত হবে। তাই আমি কাকে ভালবাসছি তা দেখতে হবে। মুসলিম তরুণদের এই ভালবাসার সবচেয়ে বেশী হকদার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবীগণ। অথচ আজ তরুণসমাজ আদর্শ শূণ্যতায় ভুগছে।
.
আর এই অনর্থক মোহগ্রস্থতাকে যারা জীবনের উপজীব্য ভাবে তাদের জন্য এই সতর্কবাণী:

“তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? [সুরা মুমিনুন:১১৫]”
.

Post Courtesy : Sayyid Mahmud Gaznabi
.
লিখাটি সম্ভবত লেখক ৮ বছর আগে লিখেছেন… উপকারী মনে হওয়ায় রি-পোস্ট করা হলো।

শেয়ার করুনঃ
ROBI 10 Minute School এবং অন্যান্য

ROBI 10 Minute School এবং অন্যান্য

2019 এর শেষদিকে একটা অনুসন্ধান চালিয়েছিলাম বাংলাদেশে LGBT বিস্তারের প্রজেক্টসমুহের উপর। এক ভয়ানক বাস্তবতার মুখোমুখী হয়েছিলাম। মানবতার অতন্দ্র প্রহরী জাতিসংঘ নিজস্ব অর্থায়নে সদস্যদেশগুলোয় বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে LGBT প্রচার-প্রসার ও সমাজে এর গ্রহনযোগ্যতা তৈরি এবং একে নরমালাইজ করার জন্য বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট পরিচালনা করে আসছে 2006 থেকে। UNESCO, SAVE THE CHILDREN, ROYAL AMBASSY OF NETHERLAND, BRITSH AMBASSY, CANADIAN AMBASSY, RCC, ICDDR-b, BRAC ……-এর অধীনে খাতা-কলমেই চলছে এসব প্রজেক্ট। প্রজেক্টগুলো সমাজের মূলধারায় প্রয়োগের জন্য থাকে আরো সহযোগী কিছু সংগঠন, যারা টেকনিক্যাল পার্টনার নামে পরিচিত। আর এদের মধ্যে রয়েছে BRACK EDUCATION PROGRAMME, RHSTEP, BONDHU, BAPSA, BYLC, 10 MINUTE SCHOOL-সহ আরো অনেক সংস্থা। আবার এদের কাজর পদ্ধতি ও বিভিন্ন, কেউ কাজ করে প্রকাশ্যে…আবার কেউ থাকে পরিবেশ নরমাল করার দায়িত্বে। এসব প্রজেক্টের কাহিনীর প্যাচাল পাড়া আমার পোস্টের উদ্দেশ্য নয়।
.
তো এখন ফুলদমে চলছে নরমালাইজেশন, যার যুত প্রমাণ হলো এই নারী-দিবস উপলক্ষে দেশের সব কোম্পানীর বিজ্ঞাপন, পত্রপত্রিকা আর দূর্গতিশীল (প্রগতিশীল)-দের গালভরা বয়ানগুলো……একজন মুসলিম এগুলোর কোনো একটা বিষয়ের সাথে সহমত হওয়ার সাথে-সাথেই ইমানের সীমানা পেড়িয়ে কাফির হয়ে যাবে [ইমান ভংগের কারণ দ্রষ্টব্য]।
.
তো 10 MINUTE SCHOOL এর আলোচনা এখানে কেন আনলাম!!! এরাই এদেশের শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপকভাবে চালিয়েছে এই নরমালাইজেশনের কাজ, আর হয়েছে ও সফল……এই সাকিব বিন রশিদ হলো ব্রাকের সেই এজেন্ট যার মাধ্যমে এদেশের শিক্ষিত যুবসমাজ সেক্স এডুকেশনের নামে ফ্রি-মিক্সিং শিখছে…ব্যাপকভাবে পর্ণোগ্রাফি ব্রাউজিংকে যৌন শিক্ষার মাধ্যম বানিয়েছে আর এর ফলাফল দারিয়েছে LGBTQ এর প্রতি যুবসমাজের গ্রহণযোগ্য মনোভাব।
.
অনেকেই এসব ঘটনাগুলোকে শুধুমাত্র ফেমিনিযম এর প্রচার পর্যন্তই মনে করে। কিন্তু যাদের ফেমিনিযমের দৌড় সম্পর্কে জানা আছে তারা খুব সহজেই ঘটনাগুলোকে রিলেইট করতে পারবে।
.
তো বলছিলাম 10 MINUTE SCHOOL এর কথা। এরা তাদের সফল ক্যারিয়ারের মূলা ঝুলিয়ে পপুলারিটি ব্যবহার করে এই নরমালাইজেশন ফেরি করে বেড়াচ্ছে…… যুবসমাজের উপড় সফলভাবে মনস্তাত্ত্বিক আগ্রাসন চালিয়ে ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছে 10 MINUTE SCHOOL। কিভাবে বুঝবেন??? যদি আপনি এসব সেলিব্রেটিদের টাইমলাইনে ঘুরে আসেন দেখবেন লাখ-লাখ তরুণ-তরুণী কিভাবে তাদের ইমান-টাই খুইয়ে বসে আছে…[ইমান ভঙ্গের কারণ দ্রষ্টব্য]
.
আসলে সেকুলারদের এসব প্রজেক্টের আসল উদ্দেশ্য হলো সমাজ হতে ইসলামী মূল্যবোধ উঠিয়ে নেয়া…[ আসলে ইসলামকেই ধ্বংস করা], যার উপায় হলো পারিবারিক সিস্টেমকে নষ্ট করে ফেলা। আর পবিত্র ইসলামি পারিবারীক ব্যবস্থা-কে ধ্বংস করার জন্য-ই মূলত তাদের এত প্রয়াস-এত প্রজেক্ট…সেক্স এডুকেশন-ফ্রি-মিক্সিং-পর্ণোগ্রাফি-ফেমিনিযম-LGBTQ
.
তো যারা সফল ক্যারিয়ার নামক মূলার পিছনে দৌড়াচ্ছেন তাদের জন্য এই পোস্ট নয়।যারা বর্তমান পৃথিবীর হাল-হাকিকত সম্পর্কে যতকিঞ্চিত ধারনা রাখেন এবং ক্যারিয়ারের পেছনে পাগলের মত ধেয়ে চলা মরিচিকা হতে বের হতে চান তাদের জন্য সামান্য চিন্তাভাবনাই যথেষ্ঠ।
.
আর একদল আছে নিজেকে মুমিন ও মনে করে আবার এসব শয়তান-কেও ভালোবাসে-অনুসরণ করে, এরা না ঘারকা-না ঘাটকা, এরা হারিয়ে যাওয়ার জন্যই…এরা হারিয়ে যাবেই…তো যারা এই মরিচিকায় হারিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদেরকে এক বদনা নারীদিবসের শুভেচ্ছা..
.
May be an image of text that says 'Sakib Bin Rashid tollow Sakib to get his public posts เn your Ne 94,197 Followers Intro Curriculum and Material Development Specialist at Brac Youth Platform Chief Instructor at Robi 10 Minute School Former Deputy Manager at Brac Education Program Former Project Officer at The Fred Hollows Foundation'
May be an image of text that says '4 years Alliance partners Strategic partners: BracIED, Bandhu and Nairipokkho. Dutch partner: Rutgers.'
May be an image of text that says '1. Increased use of contraceptives also among young people: 2. Increased use and quality of mother- and childcare services: 3. Improved quality and range of sexuality education, in and out of school: 4. Reduce (sexual) violence against women; 5. Increased acceptance of different sexual orientations'
.
Post Courtesy: Faysal Hossain
শেয়ার করুনঃ
বদ্যিবাড়ি এই দিকে !

বদ্যিবাড়ি এই দিকে !

একটা সময় বিজ্ঞান এর ১০/২০ টা শাখার জ্ঞান একজন পন্ডিতের কাছেই পাওয়া যেত। আর এখন এক একটা শাখাই ১০/২০ টা প্রশাখায় বিভক্ত। তার উপর প্রতিটা প্রশাখাই ফুলে ফেঁপে কলেবরে এতো বৃদ্ধি পেয়েছে যে, একটা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতেই শিক্ষা জীবনের দীর্ঘ সময় চলে যায়।
এমনই একটা শাখা মেডিকেল সাইন্স। এর ব্রাঞ্চ, সাব-ব্রাঞ্চ আর সাব স্পেশালিটির যেন শেষ নেই। এতে অনেক সুবিধার সাথে একটা কমন অসুবিধা হলো; কোন সমস্যায় কার কাছে যাবো তা নিয়ে দ্বিধা তৈরী হয়। বিশেষত যারা বিভিন্ন যৌন সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য এটা একটা কঠিন সমস্যা। এই লেখায় এসব নিয়েই দিক নির্দেশনা দেয়ার চেষ্টা থাকবে, ইনশা আল্লাহ।

১. যৌনবাহিত রোগ। অর্থাৎ, যেসব রোগ হারাম, নিষিদ্ধ, অনিরাপদ ও অসুস্থ যৌনতার ফলে তৈরি হয়, যেমন- সিফিলিস, গনোরিয়া, হার্পেস, জেনিটাল আলসার, ওয়ার্ট, স্ক্যাবিস ইত্যাদি। এসবের লক্ষণ হলো – প্রসাবের রাস্তা দিয়ে পুজ পড়া। যৌনাঙ্গে ঘা, চুলকানি, ফুসকুরি, তল পেটে ব্যাথা ইত্যাদি। এসব সমস্যার জন্য “যৌন ও চর্ম” বিশেষজ্ঞ দেখাবেন।

২. যৌনাঙ্গের জন্মগত সমস্যা। জন্মের পর ছেলে বাচ্চাদের অন্ডকোষ একটি বা দুইটিই অন্ডথলিতে না থাকা, প্রসাবের নালির মুখ সঠিক জায়গায় না থেকে ভিন্ন জায়গায় থাকা। প্রসাবের সময় লিঙ্গের মাথা বেলুনের মত ফুলে যাওয়া, অন্ডথলিতে পানি জমে থাকা, যৌনাঙ্গের অস্বাভাবিক আকার আকৃতি ইত্যাদি হলে “পেডিয়াট্রিক সার্জারী” এর ডাক্তার দেখাবেন।

৩. বড়দের অ্যানাটমিকেল বা স্ট্রাকচারাল কোন সমস্যা থাকলে, যেমন- হার্নিয়া, অন্ডথলিতে তরল জমা বা হাইড্রোসিল, অন্ডকোষে গুটলি বা সিস্ট, টিউমার, ভ্যারিকোসিল, অন্ডকোষে ব্যথা/প্রদাহ/ টরশন, ব্যথাযুক্ত লিঙ্গোত্থান বা প্রায়াপিজম, যে কোন দৃশ্যমান অ্যাবনরমালিটি ইত্যাদি থাকলে “সার্জারী” ডাক্তার দেখাবেন বা “সার্জনের” স্বরনাপন্ন হবেন।

৪. যাদের লিঙ্গোত্থানে সমস্যা, সাথে মেটাবলিক ডিজিজ আছে, যেমন -ডায়াবেটিস, হাইপারলিপিডেমিয়া (রক্তে অতিরিক্ত চর্বি), হাইপোথাইরয়েড (থাইরয়েড নামক হরমোন কম), হাইপোগোনাডিজম/ হাইপোপিটুইটারিজম (পিটুইটারি নামক মস্তিষ্কের গ্রন্থির সমস্যা) ইত্যাদি থাকলে “এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট” বা হরমোনের ডাক্তার দেখাবেন।

৫. সবকিছু ঠিক! শুধু মানসিক দুশ্চিন্তার কারনে যারা উত্তেজিত হতে না পারা এবং দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যায় ভুগছেন, যাদের যৌন দুর্বলতার সাথে সাথে হতাশা/অসংলগ্ন চিন্তা/ আত্মহত্যার ইচ্ছা/ নিজেকে খুব ছোট বা খুব বড় কিছু মনে হওয়া, সারাক্ষণ ব্যর্থতা নিয়ে ভাবা, নিদ্রাহীনতা ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত তারা “সাইকিয়াট্রিস্ট” দেখাবেন।

৬. যাদের সমস্যা “জাস্ট নার্ভাসনেস” অর্থাত, খেলার আগে ভয়েই ঘাম ঝরে যায়! একটু মোটিভেশান দিলে বা দু/একটি সেশন নিলেই ঠিক হয়ে যাবে, তারা “সাইকোলজিস্ট” দেখাবেন।

৭.সত্যিকারের ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা প্রি-ম্যাচিওর ইজাকুলেশন যাদের আছে। যাদের উপরোক্ত সার্জিকেল, মেটাবলিক বা জন্মগত কোন সমস্যা নেই, তারা “ইউরোলজিস্ট” দেখাবেন।

৮. মহিলাদের সব ধরনের মেয়েলি সমস্যার জন্য “গাইনি এন্ড অবস্” এর ডাক্তার দেখাবেন।

৯. প্রাথমিকভাবে যারা নিজের সমস্যার ধরন ও কারন সম্পর্কেই অনিশ্চিত। যাদের অন্য কোন রোগ সাথে আছে (উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট কিডনি লিভার ইত্যাদির অসুখ), যাদের কাছাকাছি কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই, তারা “মেডিসিন বিশেষজ্ঞ” ডাক্তার দেখাবেন।

১০. এসবের বাইরে যে কেউ নিজ ইচ্ছা ও বিশ্বাস অনুযায়ী ‘নিজ দায়িত্বে’ রুকইয়া, ইউনানি বা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহন করতে পারেন।

শেষ কথার আগের কথা –
রাজা বাদশাহদের জীবন যেমন আরাম আয়েসে পূর্ণ, তেমনি বেকায়দায় পড়লে তাদের পরিনতিটাও হয় মর্মান্তিক। যারা নানান যৌন অসুখে ভুগে বা স্বাভাবিক পারফরমেন্সে সন্তুষ্ট না হয়ে “নগদ ফলাফলের” আশায় একের পর এক উত্তেজক ঔষধ খেয়ে “কিং” হয়ে যান, তাদের একটা সময় পর মর্মান্তিক পরিনতির জন্য প্রস্তুত থাকা উচিৎ!

শেষ কথা –
জীবন আপনার। সমস্যার ধরন, তার সমাধানের জন্য প্রচেষ্টার পরিমান ও ধৈর্য্যের মাত্রাও প্রতিটা মানুষের আলাদা। তাই আপনিই সিদ্ধান্ত নেবেন যে কি করবেন। তবে যদি কেউ আগ্রহী হোন; তার জন্য আমাদের পরামর্শ থাকবে-
সবার আগে সব ধরনের আজেবাজে অভ্যাস চিরতরে বাদ দিতে হবে। তারপর মুক্ত বাতাসের খোঁজে গ্রুপে দেয়া বিভিন্ন পরামর্শ মত ৩-৬ মাস চলতে হবে। সব কিছুর পরও যাদের সমাধান হবেনা তারা সমস্যার ধরন অনুযায়ী উপরোক্ত চিকিৎসক দেখাবেন।
আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন।

লেখকঃ ডাঃ খালেদ সাইফুল্লাহ

শেয়ার করুনঃ
সহশিক্ষা ও যৌনশিক্ষা : আগুন নেভাতে কেরোসিন ব্যবহার

সহশিক্ষা ও যৌনশিক্ষা : আগুন নেভাতে কেরোসিন ব্যবহার

জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে এসেছে, “আমেরিকায় প্রতি ৩ জনের ১ জন নারী জীবনে একবার হলেও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। আর ১৯.৩% নারী জীবনে একবার হলেও ধর্ষিতা হয়।”
“আমেরিকায় প্রতি ৭৩ সেকেন্ডে একজন নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়। আর প্রতি ৯ মিনিটে একজন শিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়। আর যৌন হয়রানিকারী প্রতি হাজারে গ্রেপ্তার হয় মাত্র ৫ জন।”
“প্রতি ৫ জনের ১ জন আমেরিকান নারী জীবনে একবার হলেও ধর্ষিত হয়।”
“শীর্ষ ধর্ষক দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডার মত নারীবাদের প্রচারকারী দেশগুলো।”
২০১৩ সালে প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক রিপোর্টে বলা হয়, “আমেরিকার ৪৮% নারীর প্রথম সন্তান হয় জারজ তথা হারামজাদা।”
.
যেই দেশগুলোতে সহশিক্ষা ও যৌন শিক্ষা স্বাভাবিক বিষয়। যেই দেশগুলোর অনুসরণে তোমরা এই উদ্ভট ইসলাম বিরোধী জিনিস এদেশে আমদানি করছো তারা কি এথেকে কোনো সুফল পেয়েছে? নাকি এগুলোই হয়েছে তাদের ধ্বংসের কারণ! তৈরি হয়েছে মানবতা বিবর্জিত পশু সভ্যতা।
.
অবৈধ প্রেম-ভালোবাসা, ফ্রি মিক্সিং, লিভ-টুগেদার, বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড কালচার, ১৮-এর আগে বিয়ে হারাম, নারীবাদ এগুলো যখন ছিল না তখন আমাদের সমাজও পবিত্রই ছিল। আর এখন অবস্থা দেখুন।.. মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হয়েও ব্যভিচার ও ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে।
.
অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হল যে সকল কারণে ধর্ষণের হার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে ত্বগুত ও শায়ত্বনি মিডিয়া সেসকল কারণকেই ধর্ষণ প্রতিকারের উপায় হিসেবে প্রচার করছে।
.
শিক্ষকের দ্বারা ছাত্রী ধর্ষণ, বয়ফ্রেন্ড এর দ্বারা গার্লফ্রেন্ড ধর্ষণ, বন্ধুর দ্বারা বান্ধবী ধর্ষণ যেখানে নিত্তনৈমিত্তিক বিষয়। “২০১৭-১৮ সালে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের করা এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের ৭৭ শতাংশ পর্নোগ্রাফি দেখে থাকে। আরেকটি গবেষণায় দেখেছিলাম, অনেক ক্ষেত্রে সাড়ে ১৬ বছর বয়সেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রথম যৌনমিলনের অভিজ্ঞতা হয়।”
.
সামাজিক নজরদারির দুর্বলতা ধর্ষক তৈরি করছে আর এই পরিস্থিতিতে কিশোর-কিশোরীদেরকে একসাথে একই কক্ষে বসিয়ে নারী পুরুষের গোপন বিষয়াদি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা কি খুব ইতিবাচক ফলাফল দেবে? (পাশাপাশি, নারী-পুরুষ পরস্পরের সম্মতিতে যৌন মিলন করলে তা দোষের কিছু নয়, গর্ভপাতের প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতি সহ ইত্যাদি দ্বীন বিরোধী প্রচারণা তো আছেই)। হয় এগুলো পাশ্চাত্যের পশু সমাজের মত এদেশকেও হারামজাদায় (জারজে) পরিপূর্ণ করে ফেলবে।
“কুকুরের মুখ থেকে মানব শিশুর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার”
অথবা এই ধরনের নিউজ এর সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
.
এসব শেখালে নাকি ধর্ষণ ও বিকৃত যৌনাচার কমবে। এই শায়ত্বনগুলো পরিকল্পিত ভাবেই এসব আজগুবি কথা বলছে। তারা চায় মুসলিম সন্তানদের যৌনতার সাগরে ভাসিয়ে দিতে। মূলত আধুনিক সময়ে যৌনতা পুঁজিবাদীদের প্রধান একটি হাতিয়ার। এর মাধ্যমে তারা যেমন কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেয়। তেমনিভাবে একটি জাতির মূল স্প্রিডকে যৌনতার জালে আটকে ফেলে। তখন সেই জাতি মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে। তারা তখন পুঁজিবাদীদের অন্যায় ও জুলুমগুলোকে অনুধাবন করতে পারে না। হারিয়ে ফেলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার চিন্তাশক্তি।
.
তারা কি আসলেই আমাদের ভালো চায়? নাকি এই জাতিকে নির্লজ্জ-বেহায়া তে রুপান্তর করতে চায়! যেমনঃ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্র বলেছে, “আমার অন্যান্য স্কুলের যেসব বন্ধু আছে তারা এইসব শব্দ শুনলে অনেক লজ্জা পায়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে আর এসব হয় না।”
.
অষ্টম শ্রেণীর একজন ছাত্রী বলেছে, “প্রথম প্রথম আমি নিজেও এইসব ব্যাপারে অনেক সংকীর্ণ ছিলাম। যেসব বিষয় আমি আমার মা কিংবা বন্ধুদেরকে বলতে পারতাম না, পরামর্শ চাইতে পারতাম না, এখন অবলীলায় তা পারি।”
‘জেমস ক্লাস করবার পর আমরা অনেক বেশী ফ্রি হয়ে গেছি’, বলেছে সপ্তম শ্রেণীর আরেক ছাত্রী।
.
আরেক ছাত্রী বলেছে, “ছেলেদের দেখে লজ্জা পেতাম। কিন্তু সিক্সে যখন এই জেমস ক্লাসটা শুরু করিছি তখন আমরা এগুলোর বিষয়ে অনেক কিছু জেনেছি আর আমাদের জড়তাটা কেটে গিয়েছে।”
.
এক কলেজ ছাত্রী বলেছে, “যদি আর ২-৩ বছর আগে জিজ্ঞেস করা হতো আমি হয়তোবা আস্তে করে সরে যেতাম। কারণ এটা আমার কাছে খুবই লজ্জার বা লুকানোর জিনিস। বাট এখন আমি কলেজে পড়ছি, জানছি অনেক কিছু”
.
অথচ নাবী (ﷺ) বলেছেন, পূর্ববর্তী নাবীগণের যে কথাটি মানুষের নিকট পৌঁছেছে তা হলোঃ ‘‘তোমার লজ্জা-শরম না থাকলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারো। (যখন তুমি নির্লজ্জ হবে তখন যাচ্ছে তাই করতে পারবে।)’’ [সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৪৮৩
সুনান আবূ দাউদ, হাদিস নং ৪৭৯৭]
অর্থাৎ নির্লজ্জতা বা লজ্জাহীনতা অন্যায় ও অশ্লীলতার দরজা খুলে দেয়।
.
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ। আর ঈমানের অবস্থান হল জান্নাতে। আর নির্লজ্জতা, অশ্লীলতা হল অত্যাচার (জুলুম), আর অত্যাচার থাকবে জাহান্নামে। [জামি’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২০০৯
সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪১৮৪ | সহিহ]
.
বর্তমানে মানুষ শায়ত্বন আর জীন শায়ত্বনের সবচেয়ে বড় মিশন/কাজ হলো মানুষের মধ্যে থেকে লজ্জাকে উঠিয়ে নেওয়া। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে থেকে। কারণ একটি জাতির নারীদের থেকে তাদের হায়া (লজ্জা) কেড়ে নাও, সেই জাতি অটোমেটিক ধ্বংস হয়ে যাবে।
.
আমরা বলছি না কিশোর-তরুণদের যৌন শিক্ষার প্রয়োজন নেই। অবশ্যই দরকার। সন্তানদের বয়স অনুপাতে যতটুকু দরকার ততটুকু শিক্ষা দিতে হবে। কিন্তু সেই শিক্ষা প্রদানেরও তো অবশ্যই কিছু নিয়ম থাকবে। যেসব বিষয় পারিবারিক পরিমণ্ডলে অভিভাবকদের কাছ থেকে শেখার কথা সেগুলো নারী-পুরুষ একসঙ্গে বসে শিখবে কেন! সন্তানদেরকে কিভাবে যৌন শিক্ষা দিতে হবে এই নিয়ে অভিভাবকদের জন্য বিশেষায়িত কোর্সের আয়োজন করা যায়। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিখলেও এটি আলাদা আলাদা ক্লাসে নারী শিক্ষকরা ছাত্রীদেরকে এবং পুরুষ শিক্ষকরা ছাত্রদেরকে শেখাতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো মুসলিম শিক্ষার্থীদের দ্বীন বিরোধী কোন হারাম শিক্ষা দেওয়া যাবে না। আর সহশিক্ষা যে ইসলামবিরোধী, এটির ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে আমাদের সম্মানিত আলিমরা বরাবরই বলে আসছেন। যেকোনো তাকওয়াবান আলিমের থেকেই এটি জানতে পারবেন।
.
Ⓒ Al-Muflihun
শেয়ার করুনঃ