পাঠকের চোখে মুক্ত বাতাসের খোঁজে

এ রিভিউগুলো অধিকাংশই বই প্রকাশ হবার ৬ মাসের ভেতর লিখা। আমরা এ পর্যন্ত পেয়েছি হাজারো ভাই-বোনদের দুয়া। ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বইটি ২০১৮ সালে রকমারি বেস্ট সেলার মোটিভেশনাল বই এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় ৭ম স্থান এবং Wafi Life ২০১৮ সালের অসাধারণ কিছু বই এর তালিকায় স্থান করে নেয় আলহামদুলিল্লাহ।

যতটুকুই চেষ্টা করছি আমরা তা আল্লাহ্‌ সুবহানওয়াতা’আলা কবুল করে নিক এটাই আমাদের চাওয়া।

(রিভিউ বিস্তারিত পড়তে পাঠকদের নামের ওপরে ক্লিক করুন)

১. ‘পর্নোগ্রাফি ও বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের বর্তমান প্রজন্ম যে গহীন খাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছে- সেসব জরিপ ও গবেষণায় তার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে গভীর সহমর্মিতার সাথে। আমরা মনে করি, সম্মানিত উলামা, খুতাবা এবং মা-বাবা অভিভাবক যারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য তাদের সেগুলো পড়া উচিত’।
বিস্তারিত- https://www.alkawsar.com/bn/article/2358/

গবেষণামূলক উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারকাযুদ্ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা-এর মুখপত্র মাসিক আলকাউসার – The Monthly Al Kawsa

২. ‘আগে প্রচুর হতাশ হতাম,এখন আর হতাশাবোধ করি না।আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে কাঁদি।রাহমানুর রাহীম আল্লাহ আমাকে হেদায়াত নসীব করেছেন।প্রায় তিনমাস যাবত আমি হস্তমৈথুন আর পর্নোগ্রাফি থেকে দুরে আছি।আমি শিউর আল্লাহ আমার এই গুনাহ রহমতে ভরপুর করে দিবেন।যাদের জন্য এটি সম্ভব হয়েছে তারা হলেন ঐ বড় ভাই যিনি গ্রুপে পোস্ট দিয়েছিলেন আর মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটি যারা লিখেছেন।আমি ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করতে পারব না।আমার অন্তর এমন কি আমার হাড়ে ও দোআ দিবে এর জন্য।যারা মানুষকে পাপ কাজ থেকে বাঁচাতে এরকম একটি বই লিখেছেন।নিশ্চই কিয়ামাতের দিন এর উত্তম প্রতিদান পাবেন।ইনশাআল্লাহ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

৩. “মুক্ত বাতাসের খোঁজে” ; একটা বই, এ প্রজন্মের অক্সিজেন। শুধু একটা কথাই বলবো-পড়ুন,পড়ুন
‎এবং পড়ুন…

মিনারুল ইসলাম‎

৪. এই বইটি লিখা যে এই প্রজন্মের জন্য কতটা অনিবার্য প্রয়োজন ছিল, তা পাঠকমাত্রই উপলব্ধি করতে পারবেন৷ লেখক কত গভীরভাবে আমাদের এ নৈতিক অবক্ষয়টাকে উপলব্ধি করেছেন৷
যে অবক্ষয়ের উপলব্ধি অনুধাবনের আগেই প্রতিদিন শত শত তরুণ তরুণী হারিয়ে যাচ্ছে এক নীল অন্ধকারের বলয়ে ৷
সেই সব অবুঝ তরুণ-তরুণী দিকভ্রষ্ট সব মানুষের প্রতি লেখকের
কত ব্যাথা নিয়ে কত দরদমাখা আকুল আবেদন- “দুঃখিনী বাংলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা, নীল অন্ধকারে আটকে পড়াদের ভাইয়েরা আমার ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেয়ো না………

কানিতা রহমান

৫. যদি সামর্থ্য থাকতো বাংলাদেশ প্রতিটি যুবক কে এক কপি করে হাদিয়া দিতাম।

আবদুল্লাহ সিয়াম

৬. এ কোথায় বাস করছি আমরা? আমার কাছে এ পৃথিবীটা নরকের মত লাগছে। আশপাশ অসুস্থতায় ভরা।

 Sazzad S Parvez

৭. শুধু এতটুকু বলছি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক হিসেবে সবার বইটা পড়া উচিৎ। আমি কি করেছি ,আপনি কি করেছেন সেটা আমার আপনার চেয়ে কেউ ভাল বলতে পারবেনা?

Ariful Islam

৮. যদি সম্ভব হত তাহলে আমার আশেপাশের সকল কে এই বই উপহার দিতাম।

Syed AR Saif

৯. ঘুণেধরা সমাজের বিষাক্ত বাতাসে তরুণদের ফুসফুস যখন ক্ষত-বিক্ষত “মুক্ত বাতাসের খোঁজে””” নিয়ে এলো মুক্তির বাতাস

Sharafat Hossan Tanvir

১০. পর্ন ও মাস্টারবেশন খুবই পরিচিত দুটি শব্দ; বিশেষ করে যুব সমাজের নিকট। যুব সমাজের মনোজগত গ্রাস করে নিয়েছে এই হীন দুটি কর্ম। এ যেন নেশায় পরিণত হয়েছে। ঘরে,বাহিরে,আড্ডায় এমন কি ক্লাস রুমেও থেমে নেই এই হীন কর্ম দুটি। কিন্তু এর এর ক্ষতিকর দিক বা এর থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে বৈজ্ঞানিক এবং ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি আলোকে বাংলায় ভাল বই আছে কি না আমার জানা নেই।

AH Mustafiz

১১. “মুক্ত বাতাসের খোঁজে” । একটা ভিন্ন দুনিয়া।

বিশেষত্ব?
এই বইয়ের কথাগুলো বাস্তবতাই এর বিশেষত্ব।

Abdur Rahman Iqbal

১২. এই বইটা পড়ার পর যে কেউ এই নিন্দনীয় কাজ করার পূর্বে কয়েকবার ভাববে।
কারন একদিকে আল্লাহভীতি অন্যদিকে ব্যক্তিক কুফল!

মাইন উদ্দিন

১৩. অন্তরবিধ্বংসী পর্নোগ্রাফীর করাল গ্রাস থেকে বাচঁতে মুক্ত বাতাসে নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে লস্ট মডেস্টি টিমের এক অনবদ্য প্রয়াস মুক্ত বাতাসের খোজেঁ।

Kamrul Hasan

১৪. বর্তমানে জেনারেল শিক্ষিত কিছু ভাই এমনসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ অাঞ্জাম দিচ্ছেন যেগুলো মূলত দেশের উলামা-ই কিরাম গুরুত্ব সহকারে অাদায় করার কথা ছিলো

Ali Ahmed

১৫. চেনা জানা কাছের। অনেক পরিচিত একজন।
চোখের পানি ফেলে ফেলে #মুক্ত-বাতাসের পাতা ভিজিয়ে ভিজিয়ে কি যেন বলছে।

Rifatur Rahman Khan

১৬. পড়েছি মাত্র ৫৪ পৃষ্ঠা। তাতেই মনে হচ্ছে, লাইফের সেরা বই এটি।মনে হচ্ছে,কেনো পাইনি বইটি আরো ৩-৪ বছর আগে।মনে হচ্ছে,লক্ষ লক্ষ কপি ক্রয় করে বিলিয়ে দেই আমারই মত তরুণ-তরুণীদের মাঝে।

Fahad Hossain

১৭. আপনার ছেলেমেয়ে,ছোট ভাইবোন,পাড়া প্রতিবেশীকে বাঁচান।

Saeed Bashar

১৮. আপনার পরিচিত কোন চেহারার পিছনে হয়ত লুকিয়ে আছে কুরুচিপুর্ন এক মানুষ। এই নীল ছবি তাকে পরিনত করছে কোন হিংস্র পশুতে। ফল শ্রুতিতে বাড়ছে ধর্ষন,যৌন হয়রানি।
“মুক্ত বাতাসের খোঁজে ” বইটি এই আসক্তির একটি এন্টিডট। স্লো এক্টিং নয় বরং ফাস্ট এক্টিং এন্টিডট।

Rubayet Islam

১৯. চোখের সামনেই এই মহামারীতে আক্রন্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নিজের সন্তান,ভাই, বোন, স্বামী,স্ত্রী,নিকটআত্নীয়,কাছের প্রিয় বন্ধু কিংবা নিজেই নিজেকে ধ্বংস করছি প্রতিনিয়ত।অনেক চেষ্টা করেছি সমাধানের পথ এখনও বের করতে পারিনি।
বইটি তাদের অন্তরের অন্তঃস্থলে প্রবেশ করে অন্তরের সকল দূষিত পদার্থ দূর করে সত্যিকার গাইডলাইন হিসাবে কাজ করবে আমার দৃড় বিশ্বাস।

Mominul Ehsan

২০. আমি এটাকে সাধারণ বই বলবো নাহ! এটা একটা মাস্টারপিস বই। এটা একটা অক্সিজেন!!
কিন্তু বইটা তেমন কোন প্রচার বা আলোচনা দেখলাম নাহ!

Iqbal Hossain

২১. সকল খারাপ কিছু বর্জন করে আপনাকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে সমর্পন করতে এই বই আপনাকে যথেষ্ট গাইডলাইন দিতে সহায়ক হবে।

Alamgir Hossain Manik

২২. এক‌টি মাস্টার‌পিস বই। প্র‌ত্যে‌কের পড়া উ‌চিত। বইটি অ‌ক্সি‌জে‌নের ম‌তো.. বর্তমা‌নে যারা onlineএ জন‌প্রিয় তা‌দের কা‌ছে আ‌বেদন থাক‌বে বই‌টি প্রচা‌রে এ‌গি‌য়ে আসুন।

মোঃ সাইফুল ইসলাম

২৩. কাদের জন্য বইটি!

এটা আমার জন্য অসাধ্য। অর্থাৎ এই বইটির পাঠকদের ক্যাটাগরিওয়াইজ সাজানোটা অসম্ভব। ১০ বছর থেকে শুরু করে ৯০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলকেই এই বইটি পড়তে হবে।

Omarfaruq Abdullah

২৪. এই বইটা ছেলেরা কেনো পড়বে? কারণ তারাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। টিভি, মিডিয়া, পত্রিকা, বিলবোর্ড, সহশিক্ষা, চটি, পর্নগ্রাফি তাদের প্রাণশক্তি নিঃশেষ করে দিচ্ছে, যৌনতাকে উষ্কে দিয়ে নিবৃত্ত হবার কোন উপায় দিচ্ছেনা, ফলে তারা হয়ে পড়ছে এইসবে আসক্ত, তাদের এইসব অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসতে টনিকের মত কাজ করবে আশা করি।

.এই বইটা মেয়েরা কেনো পড়বেন? কারণ মেয়েরা সবচেয়ে বেশি ভায়োলেন্স এর শিকার হয় এই রোগে আক্রান্ত পুরুষের দ্বারা! কেনো পুরুষেরা আর ভালোবাসতে জানেনা, মেয়েদেরকে আর মেয়ে হিসেবে সম্মান করতে জানেনা, একদলা মাংস্পিন্ড, সেক্স অবজেক্ট হিসেবেই কেবল কেনো তাদেরকে বিবেচণা করার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে, কেনো তাদেরকে মন, রক্ত, মাংস, হৃদয় সম্বলিত, ভালোবাসা, আবেগ, অনুভূতি সম্পন্ন মানুষ ভাবতে ভুলে যাচ্ছে পুরুষেরা তার মূল কারণ আবিষ্কার করতে পারবে। তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে তারা খুব ই কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারবেন। হয়তো মা, বোন বা স্ত্রী হিসেবে (নট জি এফ, জাস্ট ফ্রেন্ড!)

.কেনো অভিভাবকেরা পড়বেন এড়িয়ে না গিয়ে? কারণ আপনি যতই নিষ্পাপ শিশু ভেবে আপনার সন্তান কে ট্যাব মোবাইল তুলে দিচ্ছেন না কেনো কম বয়সে, সে যে আপনার অবহেলার কারণে এই ছোট্ট বয়সে পর্নগ্রাফির জগতের বাসিন্দা হয়ে বসে আছে তা টের পাবার জন্য, আপনি যে সন্তান কে সামনে নিয়ে আইটেম সং দেখছেন, সেক্স আপিল তৈরি করে এমন অনুষ্ঠান তাকে সাথে নিয়ে উপভোগ করছেন তার কচিমনে কিভাবে তা পর্ন এর দিকে ঝোকার জন্য, নারীকে সেক্স অবজেক্ট হিসেবে মনজগতে ধারণ করার জন্য মূল উৎস তা উপলব্ধি করার জন্য এবং নিজের, নিজেদের সন্তানের ভালোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ কেমন নেয়া উচিত তা জানতে পড়বেন।

মাহফুয আলআমিন

২৫. হ্যা এ বইয়ের গল্প গুল আমার জীবনের গল্প….I repeat আমার জীবনের গল্প। হয়ত আপনার বা আপনার শ্রদ্ধেয় uncle, বড় ভাই কিংবা ঠোটের উপর সবেমাত্র কালো রেখা গজান আপনার প্রিয় পবিত্র ভাই, ভাতিজা, ছেলের গল্প।…..

আপনি হয়ত চিন্তাও করতে পারবেন না কিভাবে এই অবক্ষয়ের অক্টোপাস আমাদের কে অষ্টেপৃষ্টে জরিয়ে ধ্বংস করছে।……

বইটিতে এর ভয়াভয়তার চিত্র আর উত্তরনের উপায় বলা হয়েছে…

হে পিতা, ভাই, বোন, আঙ্কেল, ফুপু…

আর দেরি নয় এক্ষনি এই বইটি আপনি নিজে পড়ুন..আপনার ছোট বড় সবার হাতে বইটি বিদ্যুৎ বেগে ছড়িয়ে দিন। অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে… ক্ষতি হচ্ছে….

MD Eyasin Arafat

২৬. আমি পাঠক সমাজকে সাবধান করে দিচ্ছি, অনেক লিখাই হজম করতে কষ্ট হবে, দুনিয়ার কদর্য রূপ সম্পর্কে খুব কমই সচেতন, খুব কমই সতর্ক আমরা এটা নতুন করে উপলব্ধি করবেন এই বইয়ে। বইটা পড়া শুরু করে মাঝপথে এসে দম বন্ধ হয়ে আসছে বলে মনে হলেও প্লিজ চলে যাবেন না। আপনি মুখ লুকালেও সত্য কখনো বদলাবে না, সব সমস্যা আপনাআপনি ঠিক হয়ে যাবে না।

Nabil Zawad‎

২৭. এই বিষয়ে বাংলাদেশে হয়তোবা এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ কাজ। আল্লাহু আলাম।কখনো কী কোন সেক্যুলারকে এ ধরণের বই বের করতে দেখেছেন ? বা এই রিলেটেড কোন পূর্ণাঙ্গ কাজ করতে দেখেছেন ? না, তারা পারবে কেবল নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান দেখিয়ে ‘নারীবাদী’ হয়ে নারী অধিকার নিয়ে তাদের বস্তাপঁচা বুলি কপচানো । অথচ , তারাই আমাদের মা-বোনদের ঘর থেকে বের করেছে ,নারী অধিকারের নামে । তারাই শিখিয়ে কীভাবে পুরুষের কাধে কাধ মিলিয়ে পুরুষের শারিরীক ক্ষুধা মেটানো যায় , গড়ে তুলেছে এক ভোগবাদী সমাজ । নারীকে দাঁড় করিয়েছে পুরুষের প্রতিপক্ষরূপে।

Mashud Ur Rahman

২৮. যারা বইটি কিনেছেন তাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ রইলো যদি পারেন বইটি আপনার পরিচিত বন্ধু বান্ধব অথবা ছোট ভাইকে গিফট করতে পারেন।

আর যদি না পারেন অন্ততপক্ষে আপনার কেনা বইটি মিনিমাম ১৫-২০ জন কে পড়াতে পারেন।

SI Mithu

২৯. অসম্ভব সুন্দর রচনাশৈলীর এই বইটির পরতে পরতে ধাক্কা খাওয়ার মতো সব তথ্য আর উপাত্ত দিয়ে ভরপুর। “পর্ন দেখলে কোন ক্ষতি হয়না”, “মাস্টারবেশন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী” এরকম ধারনা গুলে খেয়ে বালিতে মুখ গুঁজে থাকা আপনাকে টেনে হিঁচড়ে বাস্তবতার দিকে নিয়ে যাবে।

Mamunur Rahman

৩০. আসলে এই বই পড়ার পর যে কোন তরুণ/তরুণী এই ব্যাধিটি নিয়ে ২য় বার চিন্তা করবে।
প্রকৃতপক্ষে তারা এসব কাজ থেকে ফিরে আসতে পারবে।
তাই, রিকুয়েস্ট থাকবে তরুণ/তরুণী বিশেষ করে তরুণরা মাস্ট এই বইটি পড়বেন।
এককথায় অসাধারণ একটি যুগোপযোগী বই👌👌

ধন্যবাদ #Ilmhouse প্রকাশনকে এইরকম সাহসী বিষয়ে বই পাবলিশে সহায়তা করার জন্য।💜

মাইন উদ্দিন

৩১. সালাউদ্দীন আইয়ুবি বলেছিলেন, যুদ্ধ ছাড়া কোন জাতীকে ধংস্ব করার একটি উপায় হলো ব্যভিচার বা নগ্নতাকে তরুন প্রজন্মের কাছে সহজলভ্য করে তোলা!!!! আজ আমরা ধংস্বের পথে হাটছি!! তাই যুবক ভাই দের প্রতি আহবান এই বিষয় ও এর ক্ষতি জানতে বইটি পড়ুন!!!! আল্লাহ আপনাদের দুনিয়া ও আখিরাত এর জীবনকে সুন্দর করুক

Naim Imtiaz Niloy

৩২. বাংলা ভাষায় এইরকম বই আর আছে কিনা আমার জানা নেই।আমার ইচ্ছে হয় প্রতিটি মানুষকে এই বইটি উপহার দিতে,বইটির উপর সেমিনার করতে।খুব-ই গুরুত্বপূর্ণ একটা বই।সংক্ষিপ্তসারে বইটা নিয়ে রিভিউ লিখা আমার কাছে দুর্ভেদ্য মনে হচ্ছে।বইটা না পড়লে অনেক বড় কিছু মিস করবেন।

Riad R Hossen

৩৩. অনলাইনে বইটি নিয়ে প্রচুর আলোচনা শুনেছি। তবে সম্প্রতি বইটি পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে। আমার মনে হয়েছে প্রত্যেকটা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের এই বইটি পড়া উচিত। সে ধার্মিক কিংবা অধার্মিক হোক, হোক বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত, ছেলে কিংবা মেয়ে। আমরা সবাই-ই কম-বেশি এই ফিতনার সমুদ্রে বাস করছি। কীভাবে গা বাঁচিয়ে চলতে হবে তা জানাটা খুব জরুরী। বইতে উল্লেখ করা কিছু পরিসংখ্যান দেখে আঁতকে উঠেছি

শিহাব আহমেদ তুহিন

৩৪. আমারা যারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছি, ফ্রি মিক্সিং/নীল ভাইরাস যা আমাদের কাছে অতি সাধারণ ব্যাপার তাদের মনোভাব সম্পর্কে আপনি আমার বোনেরা জানতে পারবেন। রাস্তায় হাটা ছেলেটার চোখে আপনি ক্রাসিত বস্তু নাও হতে পাতেন। কি হবেন তা বইতে লিখা আছে। আক্রান্ত রোগিরা আপনাকে নিয়ে কি চিন্তা করে কল্পনা করে বুঝতে পারবেন, আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড নামের ছেলেটা কি মনে করে জানতে পারবেন, জাস্ট ফ্রেন্ড কেমন তা হইতো বুঝতে পারবেন যদি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মনোভাব প্রকাশ না করে চিন্তা করতে পারেন। আল্লাহ্‌ র ভয়ে পর্দা হয়তো করেন না কারণ আপনি এখনো আল্লাহ কে চিনতে পারেন নি। তবে এই সমাজের নীলে আক্রান্ত রোগীরা কি চিন্তা করে তা ইন-শা-আল্লাহ বুঝতে পারবেন জানতে পারবেন। আর হয়তো নিজে থেকেই পর্দা করতে শুরু করবেন যদি সত্য মেনে নেয়ার ক্ষমতা থাকে আপনার।
শেষ কথা, আমাদের আধুনিক সমাজ আমাদের শেখায় প্রশ্ন করতে,প্রমান চাইতে, কিন্তু শেখায় না প্রমাণিত সত্য মেনে নিতে(অবশ্যই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মনোভাব ছেড়ে)।

আবিরুজ্জামান মোল্লা 

৩৫. হতাশা, বিষন্নতা কাটিয়ে উঠেছি সেই কবে ,  পড়াশোনায় উৎসাহ ফিরে পেয়েছি । জীবনটাকে এখন অনেক অনেক বেশি  ভালবাসতে ইচ্ছে করে । এই গ্রীষ্মের মত জীবনটাকে এত মধুর মনে হয়নি আগে কখনো ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

৩৬. এছাড়াও পড়তে গিয়ে আরো অনেক জায়গায়ই কাঁদবেন,যদি সত্যিই বোধশক্তি নষ্ট না হয়ে গিয়ে থাকে। নিজের অজান্তেই বছরের পর বছর ধরে নিজের শরীর আর মনের কত বড় ক্ষতি করে গেছেন এই ভেবে কাঁদবেন। কীভাবে আল্লাহর সাথে বেয়াদবি করেছেন,কীভাবে তাঁর কথা অমান্য করে হয়েছেন সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। কীভাবে মনের অজান্তেই জাহান্নাম এর দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন তা ভেবে চোখ ভিজে উঠবে।

নির্জন পথিক

৩৭. আলোচ্য বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু উপদেশ নয় বরং জরুরী তথ্য প্রমাণের মাধ্যমে মনে এমন ভয় ঢুকিয়ে দেবে যে গায় লাগতে বাধ্য। পড়ার পর নিজের শরীর সাস্থ্য মননকে হালকা বিনোদনের মাধ্যমে ধংস করতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হবে।

আল্লাহ সহজ করুক।

S.M. Nahid Hasan

৩৮. বইটা আসলেই ভাল মানের, কিছু জিনিস যা আমরা কখনো ওভাবে ভাবি না, স্কিপ করে যাই সবসময়, এই বইটা আপনাকে সেসব ভাবনাকে জাগ্রত করবে, স্কিপ করা জিনিস গুলোকে নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে সাহায্য করবে, এবং অবশ্যই আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে কোনটা আপনার/ আপনার ফ্যামিলি/ ফ্রেন্ডসদের জন্য ভালো বা খারাপ যা এতদিন ছিল উপেক্ষিত।

Safa Jahan Ruhani

৩৯. আমি তো খুব লজ্জা করে বসে থাকি ভালো ছেলে হয়ে। কিন্তু দুনিয়া কি বসে আছে? আল্লাহর শত্রুরা একের পর এক কৌশল করে যাচ্ছে আমাদেরকে পথহারা করার জন্য। শয়তানের দোসররা ওঁৎ পেতে আছে আমাদের ঈমান কেড়ে নেবার জন্য। কাফিররা পরিশ্রম করে যাচ্ছে মুসলিম তরুণদেরকে দুনিয়ার সস্তা প্রলোভন দেখিয়ে আখিরাতের স্মরণ থেকে দূরে সরানোর জন্য। তাই আমার লজ্জা করে থাকার সুযোগ নেই। আমার ছোট ছোট নিষ্পাপ ভাইবোনের সর্বনাশ করার জন্য হাজারটা মাধ্যম প্রস্তুত হয়ে থাকবে, আর আমি চুপ করে বসে থাকবো?

Towhidi Tias

৪০. ঢাকার প্রতিটি স্কুল কলেজের লাইব্রেরিতে বইটি রাখা উচিত বলে মনে করি।

Mohammad Bin Hossen

৪১. তথ্যবহুল গবেষনাধর্মী যুবসমাজের টনক নাড়ানোর মত অসাধারণ একটি বই। বইটিতে আছে আতংক সৃষ্টিকারি কিছু সমস্যারর কথা, আছে সুন্দর সমাধান। যেই সমস্যার সমাধান গুলার জন্য মানুষ চাতক পাখির ন্যায় হয়ে যায়। এমনকি যারা নিজেরাও জানে না যে তাদের সমস্যা আছে এবং সেটার সমাধানও দরকার, তাদের জন্যও রয়েছে দিক নির্দেশনা।

ভোরের শিশির

৪২. বইটি পড়ার পরে প্রথম যে অনুভূতি হয়েছিল- “হায়… আমার যদি সামর্থ্য থাকতো, অনেকগুলো কপি কিনে যুবকদের মাঝে ফ্রি বিতরণ করতাম”।

Harun Ar Roshid

৪৩. কারো সাথে আপনার সমস্যা শেয়ার করতে লজ্জা পাচ্ছেন।আপনার প্রিয় বাবা-মা তাদের সাথে মনের লুকিয়ে থাকা কথা বলতে লজ্জা পাচ্ছেন,আপনার প্রিয় শৈশবের বন্ধুমহল তাদের সাথে পারছেন না আপনার ভেতরের ইবলিশের সাথে আপনার প্রতিদিন যেসব আতাত চলছে তা তুলে ধরতে।পারছেন না স্বাভাবিকভাবে সমাজে চলাফেরা করতে, হারিয়ে ফেলছেন আপনার বিগত সুন্দর জীবনের দিনগুলোর সামাজিকতা।

ভেঙ্গে পড়বেন না।আপনার এই সমস্যা নিরসনে এই বই ইনশাআল্লাহ আপনাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিবে।আপনার সকল খারাপ কিছু বর্জন করে আপনাকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে সমর্পন করতে এই বই আপনাকে যথেষ্ট গাইডলাইন দিতে সহায়ক হবে।

Alamgir Hossain Manik

 

চিরকুটনামা

চিরকুটনামা

লিফলেট বিতরণ করার কথা মাথাতে আসলে প্রথমেই যে ছবিটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেটা হচ্ছে, একজন, মানুষের ভীড়ে জোর করে হাতে হাতে লিফলেট গুঁজে দিচ্ছে, আর আম জনতা একবার চোখ বুলিয়ে মাটিতে ফেলে দিচ্ছে। অনেক সময় চোখ বুলানোও হয়ে ওঠেনা । লিফলেট হাতে পাবার পর সরাসরি মাটিতে স্থান পায়। আমরা এই জিনিসটা নিয়েই ভয় পাচ্ছি। টাকা খরচ করে লিফলেট বানিয়ে, কষ্ট করে আম জনতার নিকট পৌঁছানোর পর সেটার পরিণতি যেন এমন না হয়। অনেকের সাথে কথা বলে, চিন্তা করে আমরা বোঝার চেষ্টা করেছি কীভাবে লিফলেট বিতরণ করলে কম পরিশ্রমে,কম খরচে ম্যাক্সিম্যাম টার্গেটে পাবলিকের কাছে পৌঁছানো যায়। এখানে আমরা সেগুলো নিয়ে কিছুটা আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ্‌। আপনারা আপনাদের মতামত জানাতে পারেন। এবং সে অনুসারে মাঠে কাজ করতে পারেন।

.

১) প্রিন্ট করাবেন কীভাবেঃ

লিফলেটের সফটকপি ডাউনলোড করে নিজে প্রিন্ট করতে পারেন। ডাউনলোড লিঙ্ক- https://tinyurl.com/LMleaflet। এখানে শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের (১৫+) ও অভিভাবকদের মধ্যে বিতরণযোগ্য লিফলেটের সফটকপি দেওয়া আছে। ১০+ বছর বয়সীদের মধ্যে বিতরণযোগ্য লিফলেটের ডিজাইন আমরা খুব শীঘ্রই নিয়ে আসতে পারব ইনশা আল্লাহ্‌। লিঙ্কে গেলে দেখবেন PDF, EPS দুই ধরনের ফরম্যাট আছে। দোকানে প্রিন্ট করতে নিয়ে গেলে সাধারণত EPS ফরম্যাট চায়। আপনি দুটোই নিয়ে যাবেন। ওরা যেটা চায় দিতে পারবেন। ফটোকপি অথবা প্রেস থেকে যদি অনেক কপি করাতে চান (৫০০+) তাহলে প্রেস থেকে করালে ভালো । ফটোকপির দোকানগুলো থেকেও করাতে পারেন। প্রেস এবং ফটোকপি মেশিন আছে এমন ভাইদের সহযোগিতা এখানে একান্তভাবে কাম্য। আপনারা আল্লাহর ওয়াস্তে এগিয়ে আসুন। দ্বীনের কাজে সাধ্যমতো এগিয়ে আসুন। আপনার সামান্য সহযোগিতা হয়তো অসংখ্য তরুণ যুবকের জীবন রক্ষা করবে।

২) লিফলেট কিনতে চাইলেঃ

আমাদের জন্য, অশ্লীলতার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল লিফলেট সহজলভ্য করা। অনেকেই ক্যাম্পেইন করতে চাচ্ছিলেন কিন্তু হাতের কাছে লিফলেট পাচ্ছিলেন না। আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে বেশ কিছু ভাই এগিয়ে এসেছেন এ সমস্যা দূর করতে। এখন থেকে ইনশা আল্লাহ নিচের পেইজগুলোতে লিফলেট কিনতে পাওয়া যাবে। সারাদেশে ইনশা আল্লাহ কুরিয়ারের মাধ্যমে লিফলেট পাওয়া যাবে। কাগজের কোয়ালিটির ওপর ভিত্তি করে লিফলেটের দাম পড়বে ১.৫ টাকা থেকে ২ টাকা পার পিস।

১) ঢাকাঃ Lost Modesty Supporting Team Notre Dame College

২) গাজীপুরঃ Lost Modesty Team Support Gazipur

৩) চট্টগ্রামঃ At Taubah – আত তাওবা

.

অবশ্যই পড়ে নিন এই লিখাটি- http://lostmodesty.com/alormichil/

ছাত্রছাত্রীদের (১৫+) মধ্যে বিতরণযোগ্য লিফলেটের ছবি ১

ছাত্রছাত্রীদের (১৫+) মধ্যে বিতরণযোগ্য লিফলেটের ছবি ২

.

৩) কীভাবে বিতরণ করবেনঃ

রাস্তাঘাটে দাঁড়িয়ে, সাধারণ পথচারীদের, মসজিদের বাহিরে দাঁড়িয়ে বা বাজারে সবার হাতে হাতে লিফলেট ধরিয়ে দেওয়াকে আমরা তীব্রভাবে নিরুৎসাহিত করছি। এভাবে লিফলেট দিলে বেশিরভাগ মানুষই সেটা না পড়ে ফেলে দেয়। তাহলে কীভাবে বিতরণ করবেন?
.
আপনার নিজের স্কুল বা কলেজে যান। প্রিয় স্যারের সঙ্গে কথা বলুন। তাঁকে পরিস্থিতি বোঝান। তিনি বুঝবেন ইনশা আল্লাহ্‌। তারপর ক্লাসরুমে গিয়ে ছোটভাইদের হাতে হাতে লিফলেট দিন। চাইলে দু’এক কথায় পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতা বোঝান। এটা খুবই ইফেক্টিভ হবে ইনশা আল্লাহ্‌। আমার স্কুলে এভাবে একজন ভাই এসেছিলেন। এবং আমি তাঁকে দেখে খুব প্রভাবিত হয়েছিলাম।
.
এভাবে না পারলে, সুযোগ না থাকলে, স্কুল/কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে দিতে পারেন। খুব বেশি তাড়াহুড়া না করে অল্প অল্প করে দিলেন। দেওয়ার সময় অনুরোধ করলেন যে যেন সে এটা পড়ে, ফেলে না দেয়। শয়ে শয়ে কপি বিতরণ করাটা আপনার উদ্দেশ্য নয়, বরং আপনার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষজন যেন এটা পড়ে উপকৃত হয়।
.
স্কুল,কলেজ, ভার্সিটি পড়ুয়া ছোটভাইয়ের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলতে পারেন যে সে যেন তার বন্ধুদের মাঝে এগুলো বিতরণ করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিতরণ করতে চাইলে আমরা বলব সেই প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিতে। চাইলে কোচিং সেন্টারেও যেতে পারেন। বিকেল বেলার খেলার মাঠ আরেকটা ভালো জায়গা।
.
ভার্সিটির হলে বা হোস্টেলে থাকলে রুমে রুমে গিয়ে এক কপি করে দিতে পারেন। নিজে যেতে না পারলে সকালবেলা রুমে রুমে যিনি পত্রিকা দেন, তাঁকে ধরুন। দরকার হলে উনার মোবাইলে ফ্লেক্সি দেওয়ার দশবিশ টাকা দিন। উনি পত্রিকার সাথে সাথে সবার রুমে লিফলেটের একটা কপি পৌঁছিয়ে দিবেন।
.
দূরপাল্লার ট্রেনগুলো লিফলেট বিতরণের আরেকটি আদর্শ জায়গা। মানুষজনের করার কিছু থাকেনা। বসে বসে ঘুমায়, মোবাইল টিপে, গল্প করে। উনাদের হাতে লিফলেট ধরিয়ে দিন। দেখবেন উনারা আপনার লিফলেট পড়ে ভাজি ভাজি করে ফেলেছেন ।
.
বাজারের প্রত্যেক দোকানীকে এক কপি করে দিন। ব্যবসার ফাঁকে ফাঁকে পড়বেন। চায়ের স্টলে অলস আড্ডা দেওয়া মানুষগুলোর হাতে লিফলেট ধরিয়ে দিন। ফুসকা, ঝালমুড়ির দোকানে, ফাস্টফুড আর রেস্টুরেন্টগুলোতে, জীমে,বইয়ের দোকানগুলোতে, স্টেশনারির দোকানগুলোতে, ফটোকপি, ফ্লেক্সিলোডের দোকান, দর্জির দোকানগুলোতে বেশ কয়েককপি লিফলেট দিয়ে রাখুন। এই জায়গাগুলোতে তরুন,যুবকদের অনেক আনাগোণা। সহজেই ওদের হাতে পৌঁছে যাবে লিফলেট।
.
লিফলেট বিতরণ করার সময় অবশ্যই ছবি তুলবেন, ভিডিও করবেন, ফেসবুক লাইভে যাবেন । এর ফলে পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন আরো গতিশীল হবে ইনশা আল্লাহ। এই কাজগুলো দেখে অসংখ্য ভাই অনুপ্রাণিত হবেন আল্লাহ চাইলে। নীল এই দানবের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধে তা হবে এক বিশাল সাফল্য ইনশা আল্লাহ্‌।
.
এই হলো লিফলেট বিতরণ প্রসঙ্গে আমাদের টিপস। আপনারা মাঠে নামলেই বুঝতে পারবেন কীভাবে আরো ভালো মতো কাজ করা যায়। আপনাদের যে কোনো পরামর্শ হাইলি এপ্রিসিয়েটেড।

অভিভাবকদের মাঝে বিতরণযোগ্য লিফলেটের ছবি ১

অভিভাবকদের মাঝে বিতরণযোগ্য লিফলেটের ছবি ২

আলোর মিছিল

আলোর মিছিল

(যেসব ভাইয়েরা পর্নোগ্রাফি-মাস্টারবেশন এর কুফল নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে চান, কিন্তু বুঝতে পারছেন না কিভাবে শুরু করবেন, কি নিয়ে কথা বলবেন, কোথায় যাবেন – এই নোট, আলোর মিছিলে নাম লিখাতে চাওয়া সেই ভাইদের জন্য। এই আলোয় কেটে যাক গুমোট অন্ধকার আর হতাশা, পুড়ে ছাই হয়ে যাক অশ্লীলতা আর আসক্তি)
.

পর্নোগ্রাফি-মাস্টারবেশনের নেশায় বুদ হওয়া এই মাতাল সমাজ শিশুনির্যাতন, ধর্ষণ, অজাচার, হত্যা, মানবপাচার, মাদক, এইডস, সমকামিতা, হতাশা, আত্মহত্যা, বিবাহবিচ্ছেদ, হত্যা… প্রতিদিনই একের পর এক উপহার (!) দিয়েই চলছে এই নির্দয় পৃথিবীতে। বিস্তারিত জানার জন্যে পড়তে পারেন ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বইটি। কিন্তু এই ব্যাপারে সমাজ একদম মুখে তালা দিয়ে রেখেছে। কোনো কথায় বলছেনা। যেই সমাজ একটি ফুলকে বাঁচানোর জন্য একসময় অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল, পঞ্চাশ বছর ধরে সেই একই বীরত্বের গীত গেয়ে যাচ্ছে সেই সমাজ কাপুরুষের মতো নীরবে ঝরে যেতে দিচ্ছে একের পর এক ফুল বাগান। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ছাড়া এটা আর কী হতে পারে! আমরা এই সুশীল সমাজের মত ভণ্ড হতে চাই না। চাই না সচেতনতার অভাবে বা অজ্ঞতার কারনে হারিয়ে যাক আমাদের ভাই-বোন। তাই আমরা আহ্বান করছি সেসব সৈনিক ভাইদের যারা পর্নোগ্রাফি-মাস্টারবেশনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান। উঠে পড়ুন। পড়াশুনা হল, লিখালিখিও হল, এখন মশাল হাতে মাঠে নামার পালা। সমাজকে বদলাতে হবে, তাদের চোখে পড়া ছানি কেটে ফেলতে হবে, চিরতরে অন্ধকার জেঁকে বসার আগেই। কিভাবে আগাবেন? একটু পরে বলছি, তার আগে জেনে নিন-

.

কি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেনঃ

.
‘মুক্ত বাতাসের খোজে’ বইটা আগে নিজে পড়ুন। এরপর বইয়ের আর্টিকেল এর ক্রমানুসারে আলোচনা করতে পারেন।
.
১. পর্ন কেন দেখা যাবে না? মাস্টারবেট কেন করা যাবে না? কী এমন ক্ষতি? আমি তো শুধু পর্ন দেখি কারও ক্ষতি তো করছি না? (keywords: মাদকের চেয়েও ক্ষতিকর, ধর্ষণ, খুন, অজাচার, বিবাহ-বিচ্ছেদ, পশুদের মত যৌন প্রবৃত্তি, শারীরিক ক্ষতি- যৌন ক্ষমতা লোপ, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ইত্যাদি)
.
২. আচ্ছা মানলাম এগুলা অনেক ক্ষতি করে, শুধু নিজের না অন্যেরও ক্ষতি করে। কিন্তু আমি নিরুপায়, আসক্ত। এ থেকে বের হতে পারছি না। কী করবো?
.
৩. অনেকদিন এগুলা থেকে দূরে ছিলাম হঠাৎ অমুক ছবি/ভিডিও/ভাবনা আমাকে বাধ্য করলো পর্ন-মাস্টারবেশনে। এখন? আমি বোধহয় এই নেশা থেকে বের হতে পারবোনা?
.
৪. আচ্ছা আমি সব ছেড়ে দিলে কি শারীরিক মানসিক ক্ষতি রিকভার করা সম্ভব? কতদিন লাগবে? কি কি খাবো? আল্লাহ কি আমাকে মাফ করবেন?
(keywords: বইয়ের ‘বৃত্তের বাইরে’ অধ্যায়টা)
.
এই প্রশ্নগুলার উত্তর নিয়ে গুছিয়ে আলোচনা করতে পারেন। যার/যাদের সাথে আলোচনা করবেন উনাদের বলতে পারেন ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বইটা পড়ার জন্য। আপনি নিজে বই উপহার দিতে পারেন বা মোবাইলে বইয়ের পিডিএফ দিয়ে দিতে পারেন ইনশা আল্লাহ।

.

কোথায় এবং কিভাবে দাওয়াহ এর কাজ করবেন?

.
এই বিষয়ে নিচে কিছু সাজেশন দেয়া হল আপনারা মনোযোগ দিয়ে পড়বেন ইনশাআল্লাহ।
.
১) স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট তথা সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে পর্ন, হস্তমৈথুন, চটিগল্প, আইটেম সং এর ক্ষতিকর দিক নিয়ে লিফলেট বিতরণ/ সেমিনার আয়োজন করা।
.
লিফলেট ক্রয় ও বিতরণ সংক্রান্ত আলোচনা ও সফটকপি ডাউনলোড লিঙ্ক- http://lostmodesty.com/lmleaflet/ । অবশ্যই পড়ে নিবেন।
.
সেমিনারের আয়োজন কয়েকজন বন্ধু মিলে স্কুল,কলেজে গেলেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ক্লাসরুমে গিয়ে ছাত্রদের পর্ন হস্তমৈথুনের ভয়াবহতার ওপর কিছু কথা বললেন। ( ফ্রি মিক্সিং যেন না হয়, সতর্ক থাকতে হবে। ছেলেরা ছেলেদের নসীহত করবেন, মেয়েরা মেয়েদের) আসক্তি থেকে বের হয়ে আসার কিছু টিপস দিয়ে দিলেন। ব্যস, এতেই হবে ইনশা আল্লাহ। ভিডিও দেখানো যেতে পারে। কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। পুরষ্কার হিসেবে যদি চকোলেটও দেন তাহলেও ছাত্রছাত্রীরা আনন্দ পাবে। এগুলো করার জন্য খুব বেশি লজিস্টিক সাপোর্ট এর দরকার পড়েনা। এক্সপার্ট হবারো দরকার নেই। কিছু সাধারণ জ্ঞান থাকলেই চলে। মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা পড়া থাকলে তো পোয়াবারো। আপনি তাদের মনোজগতে ছোট্ট একটা নাড়া দিয়ে আসলেন। অন্ধকার কানাগলিতে আলো হাতড়ে বেড়ানো মানুষদের পথের চিহ্ন বলে দিলেন। বাকী পথটুকু তারা নিজেরাই হেঁটে যাবে ইনশা আল্লাহ।
.
২) পর্ন, হস্তমৈথুন, চটিগল্প তথা সামগ্রিক নৈতিক অবক্ষয়ের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির কাজে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটির সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ। ছাত্ররা কাদামাটির মতো, আপনারা চাইলে তাদেরকে যেভাবে খুশি সেভাবে গড়ে নিতে পারেন। ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, সপ্তাহের পাঁচ/ছয়দিন তাদের, আপনাদের সামনে বসে থাকতে হয়। আপনাদের ক্লাস লেকচার শুনতে হয়। আপনারা তাদের দ্বিতীয় বাবা-মা। আপনারা কি চান এভাবে আপনাদের সন্তানেরা নষ্ট হয়ে যাক?
.
আপনারা এগিয়ে আসুন। আপনাদের সন্তানদের ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনুন। ছাত্ররা আপনাদের নিকট আমানত। আমানতের খিয়ানত করবেন না। আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ভলান্টিয়ার ভাইয়েরা আপনারা আপনাদের স্কুল কলেজের প্রিয় স্যারগুলোর কাছে যান। তাঁদেরকে মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা পড়তে দিন। আমাদের সাইটের লিখাগুলো পড়তে দিন। দু’আ নিয়ে আসুন।
.
৩) অভিভাবকদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা জরুরী। মুক্ত বাতাসের খোঁজে বই পড়াতে পারলে খুবই ভালো হয়। বেশিরভাগ অভিভাবকই এ বিষয়ে একদম সচেতন নন। ভেবে বসে থাকেন যে তাঁদের সন্তান কখনোই এই কাজে জড়াতে পারেননা। অভিভাবকদের ব্যাপকমাত্রায় সচেতন করতে হবে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। স্কুল বা কলেজগুলোর অথোরিটি মাঝে মাঝে অভিভাবকদের নিয়ে মিটিং ডাকেন। এই মিটিংগুলোতে পর্ন,হস্তমৈথুন আসক্তির ভয়াবহতা, সন্তানদের এই ফিতনাহগুলো থেকে রক্ষার উপায় নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। সম্মানিত শিক্ষকরা এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
.
অভিভাবকদের মধ্যে বিতরণযোগ্য লিফলেটের সফটকপি- https://tinyurl.com/y4g8s4zn
.
৪) ইমাম সাহেবদের এ ব্যাপারগুলোতে সচেতন করা জরুরী। পর্ন,হস্তমৈথুনের ভয়াবহতা সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করতে হবে। দুই-তিনদিন জুমআর খুতবায় এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য অনুরোধ করতে হবে। একান্তই সম্ভব না হলে কমপক্ষে এক জুমআ। তাঁদের কাছ থেকে লিফলেট বিতরণ সংক্রান্ত সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। খুবই ভালো হয় যদি ইমাম সাহেবদের হাতে এক কপি করে মুক্ত বাতাসের খোঁজে বই তুলে দেওয়া যায়। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ভাইয়েরা এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে পারেন। লস্টমডেস্টি টিমের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের সামর্থ্য খুবই সীমিত তারপরেও আল্লাহর রহমতে এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক বই আলিমদের উপহার দেওয়া হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।
.
৫) চিকিৎসক, মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমরা সাধারণ আম জনতা। আমরা এক ঘন্টা বকবক করে মানুষকে পর্ন,হস্তমৈথুনের ব্যাপারে যতোটুকু সচেতন করতে পারবো, আপনারা হয়তো পাঁচমিনিট বা আরো কম কথা বলে এর চাইতে বেশি সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারবেনআমরা হাজার যুক্তি, রেফারেন্স দিয়ে বোঝালেও আমাদের কথা হেসে উড়িয়ে দেবার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু আপনাদের কথা গুরুত্বসহকারে নিবে। এ সমাজ, এ ভূমি আমার, আপনার সকলের। আসুন অসহায়দের পাশে এসে দাঁড়ান। ব্যস্ত সময়সূচী থেকে কিছুটা সময় বের করুন। স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিগুলোতে সেমিনার, ওয়ার্কশপ করুন। সমাজটাকে বাঁচাতে হবে ।ভাইয়েরা, আপনার নিকটস্থ চিকিৎসক বা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কাছে যান। তাঁদেরকে মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটা পড়তে দিন। আমাদের ওয়েবসাইটের লিখাগুলো পড়তে দিন। সচেতন করুন।
.
৬) বন্ধুদের মধ্যে এ ব্যাপারগুলো নিয়ে অবস্থা এবং সময় বুঝে আলোচনা করা দরকার। বই কিনে উপহার দিন। পিডিএফ পড়তে দিন। যাদেরকে পড়তে দেওয়া হচ্ছে, তারা আসলেই বইটা পড়ছে সেটি নিশ্চিত করা দরকার । প্রয়োজনে ট্রিটের লোভ দেখিয়ে পড়ানো যেতে পারে। আপনাকে নিয়ে তারা হাসি ঠাট্টা করবেই। এইটা ধরে নিয়েই কাজে নামতে হবে।
.
৭) ফটোকপি বা কম্পিউটারের দোকানদারদের বোঝানোএটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অনেকেই পর্ন বিক্রি করে। মেমোরি কার্ডে পর্ন লোড করে দেয়। তাদের গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে সুন্দর করে এর ভয়াবহতা বোঝানো জরুরী। কথা না শুনলে প্রয়োজনে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। প্রাসঙ্গিক- – https://tinyurl.com/ycv96kkv ডেস্টিনি- https://bit.ly/2MqWqLv আমি তারায় তারায় রটিয়ে দিব- https://bit.ly/2wTkWQm .
.
৮)
.
ক. যারা ইন্টারনেট প্রোভাইডার তাদের মাধ্যমে বাসায় বাসায় লিফলেট পোঁছানো যেতে পারে। তাদের সাহায্য নিয়ে রাউটারের মাধ্যমে পর্ণ সাইটগুলো ব্লক করে নেওয়া জরুরী।
.
খ. ক্যাবল টিভির অপারেটরদেরও এই ব্যাপারে দাওয়াত দেওয়া উচিত। তাদের মাধ্যমে ভারতীয় এবং দেশীয় অশ্লীল চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ করতে হবেসমাজের নেতৃত্বস্থানীয় মুরুব্বীদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার অনুরোধ করা হচ্ছে
.
গ. দৈনিক পত্রিকা বিতরণ অফিসগুলোর মাধ্যমে ঘরে ঘরে পত্রিকার সাথে আমাদের লিফলেটগুলো পৌঁছানর ব্যবস্থা করুনএটা এক ঢিলে দুই পাখির মত, অভিভাবকরাও জানবেন, তরুণরাও সচেতন হবেন।
.
৯) আপনারা যারা ফটো এডিটিং করতে পারেন তারা ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বইয়ের লিখাগুলো দিয়ে স্টিকার বা পোস্টার বানাতে পারেন। (অথবা আমাদের ‘চলচিত্র’ অ্যালবাম http://lostmodesty.com/চলচিত্র/ থেকেও ছবি নিতে পারেন)। স্কুল-কলেজ-ভার্সিটির বাথরুমে, দেয়ালে বা পাব্লিক প্লেসে, বাসে যেখানে যেখানে আজেবাজে লিখা বা ছবি আছে সেগুলার উপর লাগিয়ে দিতে পারেন।

.

কিভাবে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না?

এর একটাই কারন, আপনারা সহজ কাজকে কঠিন ভাবে চিন্তা করছেন। প্রথমেই ভাবছেন মাত্র কয়েকজন কিভাবে পুরো এলাকা বা জেলায় কাজ করবো ! এত এত টাকা কোথা থেকে আসবে ! ইত্যাদি। ভাই আমার, এত কঠিনভাবে কেন ভাবছেন?
.
  • আপনার কেউ নাই! একা। তাহলে কিভাবে আগাবেন? পাশের বাড়ির বন্ধু বা ছোট ভাইকে দিয়েই শুরু করুন না! আপনার আন্তরিকতায় অন্তত একজন ফিরে আসতে পারলে এটাই তো আপনার সফলতা। চেষ্টা করাটাই তো আসল, বাকিটা আল্লাহর ফয়সালা।
  • ২-৩ জন জোগাড় হয়েছে, নাহ এত অল্প মানুষ দিয়ে কি পুরো গ্রাম/এলাকা চষে বেড়ানো সম্ভব। ধুর বাদ দেই প্ল্যান। – এই যে হতাশ ভাই, শয়তান তো শুরুতেই আপনাকে হারায় দিচ্ছে! ২-৩ জন নিয়ে পুরো এলাকা দাপাতে কে বলেছে? একটা স্কুল/ মহল্লার ভাইদের/ মসজিদে শুরু করে দিন না দাওয়াহর কাজ। পুরো এলাকা যেতে হবে কেন? আপনি ছোট ছোট পোস্টার ছাপিয়ে পত্রিকা অফিসে দিয়ে দিন যত জনের বাসায় পত্রিকা যাবে সবার কাছে তো ম্যাসেজ পৌঁছে যাচ্ছে!
  • আমার লোকবল আছে, আর্থিক সামর্থ্য আছে, বড় বড় নেতা/ জনপ্রতিনিধি/ শিক্ষক/ ইমাম/ ডাক্তারদের সাথে লিংক আছে। – ভাই আপনাকেই তো খুঁজছে বাংলাদেশ! এই সুযোগটা কাজে লাগান। পর্ন মাস্টারবেশন নিয়ে বড় আকারে সেমিনার দরকার, মুভমেন্ট দরকার, সামাজিকভাবে সচেতনতা জোরদার করা দরকার। আপনারা বসে থাকবেন না ভাই।
.
ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া খুব কাজের জিনিস, সহজেই লোকবল খুজে পাওয়া যায়, একে অপরের সাথে কমিউনিকেট করা যায়, ম্যাসেজ পৌঁছানো যায় দূরদূরান্তে। এই প্লাটফর্মকে কাজে লাগান। আপনারা কাজ শুরু করার সময় একটা পেজ বা গ্রুপ খুলে নিন।  আপনারা কি কাজ করতে চান, কবে শুরু করবেন, কোথায় করবেন- এসব আপডেট দিতে থাকুন। ছবি দিন। ভিডিও শেয়ার করুন। অনলাইনেও প্রচার করুন আপনাদের কাজ। মানুষ চিনবে, জানবে, উৎসাহ দিবে, ফান্ডও দিবে অনেক ডোনার ভাই ইনশাআল্লাহ। এই প্রচারণাই আপনাদের সাপোর্ট দিবে পরবর্তী ইভেন্ট করার।
.
একটা কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি। নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে এ ধরণের কাজে বেশি প্ল্যান করলে মাঠে আর নামা হয় না। এমনো দেখা গেছে, এক দুই সপ্তাহ ধরে প্ল্যান করে করে খাতা কলমে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছি, কিন্তু বাস্তবে একটা প্ল্যানও এক্সিকিউট করতে পারিনি। তাই আমাদের সাজেশন থাকবে বেশি প্ল্যান না করে কাজে নেমে পড়া। কাজ করতে করতে প্ল্যান করা। বেশি প্ল্যান করলে দেখবেন শেষমেষ কিছুই করা হয়ে ওঠেনি। আল্লাহ্র ওপর ভরসা করে মাঠে নামুন। আল্লাহ বারাকাহ ঢেলে দিবেন ইনশা আল্লাহ। বিশ্বাস করেন, বুঝতেই পারবেন না কীভাবে কীভাবে কতো সহজে কাজ হয়ে গেল। ভরসা রাখুন আল্লাহর ওপর। নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে।
.

প্রয়োজনীয় কিছু লিংক-

লিফলেটের সফটকপি ডাউনলোড লিংক- https://tinyurl.com/LMleaflet
‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বই কিনতে/ পিডিএফ পড়তে- http://lostmodesty.com/muktobataserkhoje/
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত লস্টমডেস্টির সকল লিখার লিংক- http://lostmodesty.com/all/
Lost Modesty Official:
যৌনশিক্ষা: যে কথা যায় না বলা

যৌনশিক্ষা: যে কথা যায় না বলা

যৌনতা নিজেই একটা ট্যাবু (যে কথা যায় না বলা)। ব্যাপারটা এমন না যে, শুধু পাক-ভারত-বাংলাতেই ট্যাবু, বা মুসলিমপ্রধান এলাকাগুলোতেই ট্যাবু। বেসিকালি চিরকাল ট্যাবুই ছিল একেশ্বরবাদী সমাজগুলোতে। রক্ষণশীল ইহুদী সমাজে ও ক্যাথলিক সমাজে যৌনবিষয়ক খোলামেলা আলোচনা হত, এমন খবর চোখে পড়ে না। মূর্তিপূজারী এবং প্যাগানসমাজে যৌনতা খানিকটা খোলামেলা থাকায় আলোচনাও ট্যাবু ছিল না, কখনোসখনো সেক্স ছিল পূজারই অংশ। এজন্য বাৎসায়নের কামসূত্র, খাজুরাহোর মন্দির, শিবলিঙ্গপূজায় এর আঁচ করা যায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ মুসলিম শাসনের প্রভাবে যৌনবিষয়ক আলোচনা ব্যাপকতা হারায় এতদাঞ্চলে। গ্রেকো-রোমান সমাজে সমকামের ব্যাপক প্র্যাকটিস প্রমাণ করে যে স্বাভাবিক যৌনতাও কতটা খোলামেলা ছিল।
.
পুঁজিবাদের উত্থানে যখন সামাজিক-পারিবারিক-ধর্মীয় মূল্যবোধগুলো বাধা হয়ে দাঁড়াতে থাকল, তখন ট্যাবুগুলোকে ভেঙে ব্যবসাবান্ধব করার প্রয়োজন দেখা দিল। বিংশ শতকের শেষভাগে এসে এমন এমন সব থিওরির দেখা মিলল, যা যৌনতার সংজ্ঞাকেই বদলে দিল। খুব ভালো করে দেখেন, যৌনতার সংজ্ঞা বদলে দিতে পারলে সামাজিক-পারিবারিক-ধর্মীয় মূল্যবোধগুলো সব ভেঙে দেয়া যায় কারো মনে জেতা-ঘোড়ার উপর বাজি ধরতে পারলে, মানে বিজ্ঞানের মিশেলে যদি যৌনতার এইসব বিকৃত সংজ্ঞা বসিয়ে দিতে পারেন; তাহলে ধর্ম ও পরিবার থেকে তাকে বের করে আনা যায়। এখন সে পুঁজিবাদের সকল দোকানের সহজ শিকার, বান্ধা কাস্টমার। সেক্সুয়াল ফ্লুইডিটি, ট্রান্স-জেন্ডার, লাইফস্টাইলের নামে পশুকাম-সমকাম, ‘লিঙ্গ নাকি দৈহিক বিষয় না, সমাজ কর্তৃক আরোপিত’-ইত্যাদি কনসেপ্টের নামে সেই আয়োজনই করছে পুঁজিপতিরা। গে-জিনের আবিষ্কর্তা নিজে সমকামী, ‘জেন্ডার’ কনসেপ্টের পুরোধা জন মানি নিজে উভকামী। এগুলো না ধরতে পারলে আসেন মুড়ি খাই।
.
আমার স্বল্প পড়াশুনায় মনে হয়েছে, ইসলাম যৌনতাকে ঠিক সেভাবেই দেখে যেভাবে দেখা প্রয়োজন। এটা একই সাথে ট্যাবু (আলোচনা নিষেধ) এবং আলোচনা জরুরি। এর অবাধ আলোচনা যেমন নির্লজ্জতা, এর আলোচনা না থাকাটাও ঝুঁকিপূর্ণ। ঠিক ততটুকুই আলোচনা হওয়া চাই, যতটুকু ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ ঠিক রাখতে দরকার। প্রয়োজনের সীমা ছাড়িয়ে ইয়ার্কি-ফ্যান্টাসির সীমায় গিয়ে পড়লে এটা অবশ্যই ট্যাবু। ‘সত্য বলতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল লজ্জা পান না’ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই কথাতেই বুঝা যাচ্ছে, যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু যৌন-আলোচনা বা যৌন শিক্ষা দীনেরই অংশ, যেহেতু যৌনজীবন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এজন্য ইসলামে রজঃচক্র, স্বামী-স্ত্রী সহবাস, জানাবাত, বালেগ হওয়া প্রভৃতি সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা এবং আরও বিস্তারিত আলোচনার সূত্র দেয়া হয়েছে। কুরআন-হাদিস-ফিকহের কিতাবাদিতে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয়তা ও প্রায়োগিকতার মাঝে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে, যা দীনী ইলমেরই অংশ।
.
অথচ আজ মুসলিম সমাজেও যৌনশিক্ষা ট্যাবু কেন? যখন থেকে ব্রিটিশরা শিখিয়েছে ‘ইসলাম হল ধর্ম, জাস্ট ধর্ম’; সেদিন থেকে আমাদের ধ্বংস শুরু। নামাজ-রোযা-হজ্জের বাইরে আর কোথাও ইসলাম নেই। বাজার-অর্থব্যবস্থা-বিচার-আইন-লাইফস্টাইল সবখানে ইসলাম অপাংক্তেয় হয়ে গেছে সেদিন থেকে। ইসলাম মানে আর ‘আত্মসমর্পণ’ থাকেনি, ইসলাম মানে হয়ে গেছে ‘শান্তি’। স্বামী-স্ত্রীর মাঝখানেও যে ইসলাম আছে, আমার আর আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাঝেও যে ইসলাম দাঁড়িয়ে আছে— তা আজ স্বীকারই করে না, এমন মুসলিমও আছে। এজন্যই শোনা যায়— ‘সবকিছুর মধ্যে শুধু ধর্ম টেনে আনিস কেন?’। টেনে আনব কেন, ইসলাম তো আছেই সবকিছুর মধ্যে সবকিছুতে নিজের ইচ্ছাকে দমিয়ে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণকেই তো বলে ইসলাম।
.
ভূমিকা অনেক বড় হয়ে গেল, স্যরি। আপনি যদি সঠিক সময়ে সঠিক শিক্ষাটা তাকে না দেন, তবে বেঠিক সময়ে বেঠিক লোকে তাকে বেঠিক শিক্ষাটা দেবে। হয় সে বখে যাওয়া কোন বন্ধুর থেকে শিখবে, না হয় ইন্টারনেট তার শিক্ষক হবে, নয়তো কোন পর্নোম্যাগাজিন বা কলিকাতা হার্বালের পোস্টার থেকে সে যৌনতা সম্পর্কে একটা ভুল এবং অপ্রায়োগিক জ্ঞান পাবে, যার সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই।
  • কোন ‘ইঁচড়ে-পচা’ বন্ধু তাকে শেখাবে ‘ডানহাতি স্ক্রু নিয়ম’। (সায়েন্সের পোলাপান বুঝবে)
  • ইন্টারনেট তার কাছে বমির-যোগ্য কিছু প্র্যাকটিসকে পবিত্র ও উপভোগ্য করে তুলবে।
  • ফুলবডি মেকাপ ও সিলিকন জেল ঢুকানো পর্নোস্টারগুলো স্বাভাবিক নারীদেহ সম্পর্কে তার মনে ভুল প্রত্যাশা গড়ে তুলবে।
  • সার্জারি করে বানানো অতিকায় পুরুষাঙ্গ তার মনে ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স তৈরি করবে।
  • ভায়াগ্রা খেয়ে ৭ দিন ধরে শুটিং করা ১০ মিনিটের ভিডিও বিয়ে নিয়ে তার মনে অমূলক অহেতুক আশঙ্কা তৈরি করবে।
  • আর বড় বড় করে ‘যৌন’ লেখা কলিকাতা হার্বালের পোস্টার তাকে বুঝাবে— তোমার শরীর থেকে কী না কী ইম্পর্টেন্ট জিনিস বের হয়ে যাচ্ছে, তু তো গ্যায়া।
.
আমি তো মনে করি প্রতিদিন যাদের বিয়ে হচ্ছে, ১% এরও সঠিক যৌনশিক্ষা নেই। সেদিনও এক রুগী পেলাম, ১০ মাস বিয়ে হয়েছে। দ্রুত বীর্যপাত হয়, দ্রুত নরম হয়ে যায়। ১০ মাস ধরেই এমন। স্ত্রী এখন ফোনে তার আরেক বন্ধুর সাথে বেশি বেশি সময় দিচ্ছে। অথচ সামান্য একটু যৌনশিক্ষা হয়ত জীবনটা সুখময় করতে পারত, যদিও সবই তকদীর, আমাদের সচেতন চেষ্টার কথাই বলছি।
.
পিরিয়ড শুরু হয়ে গেলে আমাদের মেয়েরা বেসিক যৌনশিক্ষাটা মায়ের কাছ থেকে পেয়ে ফেলে। নারী-পুরুষ বায়োলজির কারণ, ক্রিয়া, পিরিয়ডের কারণ ইত্যাদি সম্পর্কে মেয়েরা জেনে নেয় মায়ের কাছে থেকে। এজন্য মেয়েদের জানাটা সেফ ও সঠিক হয়। যতটুকু আলোচনা মা-মেয়েতে হয়, দীনী সীমারেখাগুলো আলোচনা করা থাকলে তা যথেষ্ট। আমরা একটা ডেমো দেখব একটু পরে। আর বিয়ের আগে ভাবী/বড়বোন/ সমবয়েসী খালা-ফুপুদের কেউ সহবাস রিলেটেড আলোচনাগুলো করে দিলেই হয়ে গেল। তবে সমস্যা হল, সবাই এগুলো নিয়ে জোকস করে, কেউ সিরিয়াসলি কিছু আলোচনা করে দেয়া দরকার। অবশ্য যাঁরা আলোচনা করবেন, তাঁদের ক’জনারই স্পষ্ট ধারণা আছে।
.
সমস্যা হল ছেলেদের, ব্যাপক সমস্যা। মেয়েরা মায়েরও ক্লোজ থাকে, বাবারও আদর পায়, পারতপক্ষে বাবারা মেয়েদের বকুনি/পিটুনি দেয় না বললেই চলে, মেয়েদের অত শাসন লাগেও না। কিন্তু ছেলেরা মায়ের আহ্লাদ পায়, কিন্তু এসব বিষয়ে ফ্রী হওয়া সম্ভব না। আবার বাপের সাথে কিছুটা মার-পিটের সম্পর্ক থাকে বলে বাবার সাথে বেশ দূরত্ব নিয়েই বড় হই আমরা। বাপে-তাড়ানো মায়ে-খেদানো। একারণে মেয়েরা যতখানি সঠিক যৌনশিক্ষা নিয়ে বড় হয়, ছেলেদের মনে ততটাই বেঠিক শিক্ষা গেড়ে বসে। তবে ফাইনাল কথা হল, ছেলেরা যৌনশিক্ষা বাপের থেকেই পেতে হবে। কেননা বাপ ছাড়া আর যত সোর্স সে এই বয়সে পায়, সবাই তাকে ভুল শিক্ষাটাই দিবে। বাপ হয়ে কীভাবে সম্ভব? কেন, মা হয়ে মেয়েকে শেখাতে পারলে বাপ হয়ে কেন পারবেন না? এসব ন্যাকামো বাদ দেন, বিষয়টা কতখানি জরুরি এটা ফীল করি আসেন। ছেলে পর্নো-আসক্ত বা সমকামী হয়ে গেলে তখন তো হায় হায় করবেন। কিছু পয়েন্ট মনে রাখতে হবে—
.
– বিষয়টা বার বার আলোচনা করার মত না। বার বার আলোচনা করলে সন্তান আর ভয় পাবে না আপনাকে, ওয়েট লস হবে। এজন্য আলোচনা হবে একদিনই, মাইন্ড ইট।
– আলোচনাটা হবে ইয়ার-দোস্ত স্টাইলে না, শিক্ষক-ছাত্র স্টাইলে। শিক্ষক-ছাত্র আজকের কনটেক্সটে বুঝা যাবে না। ওস্তাদ-শাগরেদ স্টাইলে।
– বাপ-ছেলে বা রাজা-প্রজা স্টাইলে হলে সে আপনার কথাটা নিতে পারবে না, হুকুম টাইপ কিছু মনে করবে। এজন্য হয়ে পারে বাপ-বেটা কোথায় বেড়াতে গেলেন, সাথে নিয়ে মার্কেটে গিয়ে একসাথে কিছু কিনলেন, একসাথে মাকে ছাড়া কোন রেস্টুরেন্টে খেলেন। মূল কথা পাড়ার আগে এমন কিছু একটা করতে হবে। যাতে পরের আলোচনাটা ‘হুকুম’ আকারে না হয়ে ‘ট্রেনিং সেশন’ আকারে হয়।
.
– শুরুটা এমন হতে পারে:
বাবা শোনো, তোমার সাথে খুব জরুরি একটা বিষয়ে আলোচনা করব। তুমি আজকের এই আলোচনাটা জীবনে কোনোদিন ভুলবে না। এমনকি আমি যেভাবে তোমাকে বলছি, সেভাবে তুমিও তোমার ছেলের সাথে এভাবে আলোচনা করবে। তুমি এখন এখন বড় হচ্ছো। ভেবে দেখ, একসময় তুমি খেলনা গাড়ি কত পছন্দ করতে। এখন তুমি ক্রিকেট সেট, ফুটবল এসব পছন্দ কর। বড় হবার সাথে সাথে তোমার মনের কিন্তু পরিবর্তন হয়েছে, দেখেছো? একইভাবে তোমার দেহেও পরিবর্তন এসেছে/আসছে/আসবে। লম্বায় বড় হবার সাথে সাথে তোমার গলার স্বর মোটা হবে, যেমন আমার। তোমার শরীরের গাঁথুনি শক্তপোক্ত হবে… এরই অংশ হিসেবে প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে প্রস্রাবের বদলে আঠালো এক ধরনের তরল আসতে পারে। তুমি ভয় পাবে না, এটাই স্বাভাবিক, সবার হয়, তোমার মত বয়সে আমারও হয়েছে। কখনও দেখবে ঘুমের ভিতরে বেরিয়েছে, ভয়ের কিছু নেই, এটা কোন অসুখ না…
.
– স্বপ্নদোষ বেশি হওয়াও কোন অসুখ না, এটা বুঝাবেন। একটা গ্লাসে দেড় গ্লাস পানি রাখলে বাকিটুকু উপচে পড়ে। তেমনি একটা বিষয় স্বপ্নদোষ। উৎপাদন তো চলছেই, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত হয়ে গেলে বেরিয়ে আসে। এখন তোমার করণীয়, বেশি বেশি ভাল ভাল খাবার খাওয়া। ফলমূল খাওয়া। ডিম-মাছ-মাংস খাওয়া। মন থেকে টেনশন দূর করে দেবেন।
.
– নারী-পুরুষ কেমিস্ট্রিটা খুব সংক্ষেপে বলে দেবেন:
দেখ, দুনিয়ায় দুই ধরনের মানুষ আছে। পুরুষ আর মহিলা। তোমার কি প্রশ্ন জাগে, কেন মানুষ এক ধরনের হল না? এটা হচ্ছে সিস্টেম। তোমার শরীরে যে আঠালো পদার্থ তৈরি হচ্ছে, সেটা হল বীজ। আর তুমি যে মেয়েকে বিয়ে করবে তার শরীরে এই বীজ পৌঁছালে, তোমাদের সন্তান জন্ম নেবে। এভাবে মানুষের জন্মের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন আল্লাহ। এভাবে নতুন শিশু জন্ম নেয়।
.
– আবার আল্লাহর হুকুম জানিয়ে দিতে হবে:
তোমার দুষ্টু বন্ধুরা তোমাকে বিভিন্ন আজেবাজে বুদ্ধি দেবে। তুমি আমার কথা মনে রাখবে। সন্তানের জন্য বাবার চেয়ে ভালো আর কেউ চায় না। এই বীজ এমনিতেই উপচে বেরিয়ে গেলে সমস্যা নেই। কিন্তু তুমি স্বেচ্ছায় বের করলে আল্লাহ ভয়ংকর রাগ হবেন। তোমার শরীর ভেঙে পড়বে, তোমার বিবাহিত জীবনেও নানা অসুখবিসুখে অশান্তিতে আক্রান্ত হবে। এই বীজ কেবল তোমার স্ত্রীর জন্য, বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে নিজেকে শেষ করে দেবেনা। মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হবে, ভালো লাগবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাকে সেটা নিষেধ করেছেন, তোমার দৃষ্টিও কেবল তোমার স্ত্রীর জন্য। কোন খারাপ ছবি-সিনেমা থেকে সবসময় দূরে থাকবে, এগুলো যে বন্ধুরা দেখে বা দেয়, তাদের থেকেও দূরে থাকবে। নাহলে তোমার ভবিষ্যত কিন্তু অন্ধকার হয়ে যাবে, বাবা। সাবধান… বাবা হিসেবে তোমার কাছে আমার অনুরোধ। আর এ বিষয়ে যেকোন সমস্যা বা প্রশ্ন তুমি বন্ধুদের করবে না, আমাকে করবে, ঠিক আছে বাবা?
.
রাফলি এমন। এখন, কোন সময়ে আপনি তাকে এই সেশনটা নেবেন? কখন? ১১-১২ বছরে ছেলেরা বালেগ হয়। তবে এখন পর্নোর যুগে ৯-১০ বছরের বাচ্চারাই সব বোঝে। যদি সন্দেহ উদ্রেককারী লক্ষণ না পান তবে ১১-১২ বছরেই আলোচনাটা হবে। আর সন্দেহের কিছু পেলে, তখনই। আর মায়েরা মেয়েদের সাথে যথেষ্ট আলোচনা তো করেনই। বাকি আরেকটু জিনিস স্পষ্ট করে দেবেন:
.
– নারী-পুরুষ কেমিস্ট্রিটা:
মেয়েদের প্রতিমাসে একটা ডিম আসে, ডিম্বাণু বলে তাকে। একটাই পরিপক্ব হয়। ওটার প্রভাবে জরায়ুর (যেখানে বাচ্চা থাকে) জমিনটা উর্বর হয়, বীজ নেবার মত উপযুক্ত হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে বীজ পেলে তো বাচ্চা তৈরি হবে। আর যদি না পায়, তবে পুরো জমিনটা চাকা চাকা রক্তের আকারে বেরিয়ে আসে। এটা স্বাভাবিক, তুমি যেহেতু এখন বড় হয়েছো। এই বীজটা কোথায় আছে? বীজ আছে তোমার স্বামীর দেহে…
.
– আর আল্লাহর হুকুমগুলো:
আর এখন তুমি বড় হচ্ছ। মেয়েদের শরীরে যে সৌন্দর্য সেটা তোমার মাঝে এখন আসছে। ছেলেরা তোমার দিকে তাকাবে, তোমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইবে। তুমি কারো দিকে তাকাবে না। কোন ছেলের সাথে কথা বলবে না… তোমার স্বামীর সাথে বিয়ে হবার আগ পর্যন্ত নিজেকে হেফাজত করে চলতে হবে…খারাপ বান্ধবী যারা ছেলেদের সাথে সম্পর্ক করে, আজেবাজে গল্প করে তাদের এড়িয়ে চলবে।
.
এখন কিশোর-কিশোরীদের নাকি আবার যৌনশিক্ষা দেয়া হচ্ছে সরকারি-বেসরকারিভাবে। সেখানে যৌন-তারল্য (তুমি যা ভাবো তাই তোমার যৌনতা, লিঙ্গের উপর না) শেখানো হয়। পারস্পরিক সম্মতিতে যৌন অনুভূতি প্রকাশ নাকি দোষণীয় না। সমকামিতাকে ইনিয়েবিনিয়ে স্বাভাবিক করে তোলা হয়। এরকম জঘন্য পরিস্থিতিতে আপনি যদি তাকে সঠিক শিক্ষা দিতে লজ্জা করেন, তাহলে আল্লাহ মাফ করুন অনাকাংক্ষিত কোন ঘটনায় কাকে দোষ দেবেন। আরেকটা বিষয়, তাকে ছোট করে না রেখে, এ বয়সেই তাকে আদর্শ স্ত্রী বা স্বামী হবার মানসিক শিক্ষা দেয়া শুরু করুন। মানসিক শিক্ষাগুলো বার বার দেয়া যাবে, সমস্যা নেই। পুঁজিবাদ যদি এ বয়সে তাকে সেক্সের জন্য ফিট মনে করে যৌনশিক্ষার জন্য উপযুক্ত মনে করে, তাহলে আপনি কেন তাকে সংসারশিক্ষার জন্য উপযুক্ত মনে করছেন না? বড় হয়ে ওঠা বয়সের দ্বারা নির্ধারণ হয় না, শিক্ষার দ্বারা হয়, মানসিক পরিপক্বতার দ্বারা হয়। আগের যুগে দেখেন ১৭-২৫ বছরেই তাদের কত কত অ্যাচিভমেন্ট, এখন কেন হচ্ছেনা। মনের বয়সকে আমরা আটকে দিয়েছি বলে। খেলাধুলা-কার্টুনের মাঝে তার সত্তাকে সীমাবদ্ধ ভাববেন না। এগুলোর বাইরে আরেকটা জগত তার মনে গড়ে উঠা শুরু হয়ে গেছে— যৌনমনোজগত। শুরুতেই সেই জগতে একটা টীকা (ভ্যাক্সিন) দিয়ে দেয়া আপনারই কাজ, যাতে পরে কোন রোগজীবাণু ঢুকতে না পারে। সঠিক ধারণাটা দিয়ে দিলে, ভুল ধারণাগুলো জায়গা পাবে না।
.
আরও কোন কিছু বাদ গেল কি না, জানাবেন। ‘কুররাতু আইয়ুন-২’ তে অ্যাড করে দিব ইনশাআল্লাহ। বিবাহিতদের যৌনশিক্ষার একটা আইডিয়া আমার কাছে আছে। ইনবক্সে অনেকেই পেয়েছেন, তারা অন্য বিবাহিতদের সাথে শেয়ার করবেন। আর অবিবাহিতদের জন্য একটা লিখছি, আল্লাহর ইচ্ছায়। পর্নো-হস্তমৈথুন সবকিছু মিলিয়ে তো, একটু সময় লাগছে।
.
আল্লাহ আমাদেরকে সন্তানের জন্য বেইজ্জতি হবার হাত থেকে হিফাজত করুন। আমীন।
(লিখেছেন- Shamsul Arefin Shakti)
ফাঁদ (ষষ্ঠ পর্ব)

ফাঁদ (ষষ্ঠ পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

কোনো ভাই-ই যখন আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের যাত্রা শুরু করেন উনারা অনেক সমস্যার মুখোমুখি হোন। এই সমস্যাগুলো আমাদের ভাইদের ভীতি, হতাশা আর দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়। প্রকৃতপক্ষে বেশিরভাগ সময় ই সেগুলো আসলে আশংকার কোনো কারনই না। বিষয়টা আরেকটু ক্লিয়ার করে বলি।
.
আমাদের ভাইয়েরা অনেকেই প্রশ্ন করেন… “বদঅভ্যাস ছাড়ার পর ঘনঘন স্বপ্নদোষ হচ্ছে” কেউ আবার বলেন “স্বপ্নদোষ হয় না”।  (এগুলো আসলে কোনো সমস্যাই নয়- পড়ুন- ভুলে ভরা স্বপ্ন )অনেকে আবার প্রশ্ন করেন “লিঙ্গের ..এরকম দেখা যাচ্ছে”… এরকম অনেক অনেক প্রশ্ন।
.
দেখুন। শয়তান হল মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। শয়তানের মিশন আপনাকে আমাকে তার সাথে জাহান্নামের আগুনে নিয়ে যাবে। তাহলে শয়তানের কি করার? শয়তান কি বাজারের মাঝখানে একটা স্টল বসাবে, যেখানে একটা পোস্টার থাকবে তাতে লেখা থাকবে, “আল্লাহর অবাধ্য করুন। কুফুরী করুন। আমার সাথে জাহান্নামের টিকিট কিনুন”
.
শয়তান কি এটা করবে? না। কারন এটা কখনই মুমিন বান্দার উপর কার্যকর হবে না।

তাই শয়তানের টেকনিক হল আসতে আসতে আল্লাহর বান্দাদেরকে তার দিকে নিয়ে যাওয়া। দেখুন, শয়তান যদি বারসিসার কাছে গিয়ে সরাসরি বলত, “হে বারসিসা, তুমি আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে আমাকে সিজদা কর”, বারসিসা কখনই করত না। তাই শয়তান তাকে ছলে বলে, আসতে আসতে একটু একটু করে কুফুরী এবং শিরকের দিকে নিয়ে গিয়েছে। আর তার প্রথম স্টেপগুলি ছিল খুবই ইনোসেন্ট (আপাত দৃষ্টিতে)। প্রথম স্টেপগুলি দেখে মনে হয়, আমি তো আল্লারই সন্তুষ্টি কামাই করছি।

একই ভাবে, শয়তান আদম আলাইহিসসালামকে ভুলিয়ে সেই গাছের ফলটি খাওয়ার ব্যবস্থাও করেছে। প্রথমেই গিয়ে বলেনি যে, “হে আদম, তুমি এই নিষিদ্ধ ফলটি গ্রহন কর”। মূলত এই ধীরে ধীরে আগানো শয়তানের একটি কৌশল।
.
এখন আমরা আমাদের কথায় ফিরে আসি। যে ভাইটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পর্ন, মাস্টারবেশন এর মত চরম গুনাহর কাজ থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করছে, শয়তান কি তাদের এত সহজে ছেড়ে দিবে। শয়তান তার মধ্যে ওয়াসওয়াসা দিতে থাকে। ভাইটির মাঝে চিন্তা হয়, “আচ্ছা, আমি পুরুষত্ব হারাইনি তো”। তো চেক করার জন্য শয়তান বুদ্ধি দেয়, “এক কাজ কর, একটু পর্ন দেখে দেখ সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা। না না… কোনো উপভোগ করার জন্য না। শুধু চেক করেই ফিরে আসবা।”

এভাবেই অনেকদিন বন্ধ থাকার পর দেখা হয় যায় ১-২ মিনিটের জন্য। পরেরদিন সুযোগ করে বলবে। “গতকাল দেখেই যখন ফেলেছ আজকে আরেকটু দেখ।”। এভাবে বেশ কিছুদিন পর বলবে, “শালা, ভন্ডামি বাদ দে, দেখতে থাক”।

একই ভাবে, মাস্টারবেশনের ক্ষেত্রেও শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়। প্রথমে বলে, “দেখ ভাই, তোমারতো অনেকদিন ধরে স্বপ্নদোষ হয় না, আজকে একটু মাস্টবেট করে দেখতো সব ঠিকঠাক আছে নাকি”। একদিন দুইদিন করে আসতে আসতে আবার আপনাকে পর্ন, মাস্টারবেশনের এই জালে আপনাকে আবার আটকে ফেলবে। ব্যস!! শয়তার তার মিশনে সার্থক। আর আপনি অনন্তকালের জন্য ডুবতে থাকবেন এই অন্ধকার জগতে।

সুতরাং, ভাইয়েরা আমার। মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন এসব চিন্তা। এগুলো নিয়ে বেশি মাথা ঘামাবেন না। নিজেকে বার বার মনে করিয়ে দিন এসব চিন্তা শয়তানের ফাঁদ। সে চায় আপনাকে এই নীল জগতের চিরবাসিন্দা করতে। তাই এসব দুশ্চিন্তা করবেন না। পুরুষত্ব আছে কি না গেছে এসব না চিন্তা করে পুরুষত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য যে সাস্থ্যকর জীবন যাপন করা উচিৎ সেদিকে ফোকাস করুন। নিজের জীবনে ইসলামকে প্রয়োগ করুন। ইলম অন্বেষণ করুন। আমল করুন। এক্সারসাইজ করুন। সাস্থ্যকর খাবার খান। পরিমিত ঘুমান। পরিবারকে সময় দিন। দরকার হলে রান্নাতেও হাত লাগাতে পারেন। নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলুন। আর যদি অবসর সময় পান, আল্লাহর দ্বীনের মেহনত করুন। কিছুই যদি করতে না পারেন, তাহলে আপনার বাসার সামনে এই রাস্তাটা যে আছে, সেখানে যেই ইটটা পড়েছিল, ঐযে আপনি যে হোচোট খেয়েছিলেন। ওটা সরিয়ে আসুন। সদকার সাওয়াবও অর্জন করবেন।

যদি দেখেন যে আপনি যেই সমস্যায় আছেন সেটা আসলেই গুরুত্বর। ইগনর করা যায় না। ফিজিকাল সমস্যাও অনুভব করেন। তাহলে চিকিৎসকের কাছে যান।

আর সর্ব অবস্থায় আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার আর দু আ করতে থাকুন। আল্লাহ্‌ই আমাদের রব। তিনিই সব সমস্যার সমাধান করেন।

চলবে ইনশা আল্লাহ…

( একটা সময় ছিল যখন আমাদের টিমের লিখালিখির কাজটা দুই একজন ভাইই দেখতেন। আলহামদুলিল্লাহ! নতুন নতুন লেখক আমাদের টিমে যোগদান করছেন। আজকের এই লিখাটি লিখেছেন আমাদের টিমের সর্বকনিষ্ঠ মেম্বার। আদরের ছোটভাইটির জন্য আপনারা সবাই দিলখুলে দু’আ করবেন ইনশা আল্লাহ।)

পড়ুন- আগের পর্বগুলো