আঁধার-আলো

আঁধার-আলো

যারা ভালোবাসা দিবসের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছ কিংবা বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড নেই বলে বিষণ্ণতায় ভুগছ, তারা এই গল্পটা একবার পড়।
.
[১]
পেটের মধ্যে হঠাৎ একটা গুঁতো খেয়ে চমকে উঠলাম, কদিন ধরেই দেখছি পেটের মধ্যে লাগে কী যেন মোচড়ামুচড়ি করছে। ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। বড়ো কোনো অসুখ হলো না তো! কিছু একটা হলেই আমার প্রথমে মরার চিন্তা মাথায় আসে। ছোটবেলা থেকেই আমি একটু ভীতু প্রকৃতির। একবার জ্বর হলো ছোটবেলায়, সাথে দুইবার হড়হড় করে বমি করলাম, বমির সাথে রক্ত দেখে আমি ভয়ে শেষ! মনে মনে ভাবলাম ব্লাড ক্যান্সার, আমি বুঝি মারা যাচ্ছি। চোখ ঠেলে পানি বেরিয়ে এলো, যতোটা না অসুখের প্রকোপে, তারচেয়ে অনেক বেশি আশু মৃত্যুচিন্তায়। এই পৃথিবী থেকে এতো ছোট বয়সেই চলে যাবো? সে যাত্রা অবশ্য বেঁচে গেছিলাম… কিন্তু এবার কী হলো?
.
চিন্তায় ক্লিষ্ট হয়ে বসে আছি, এদিকে মিতু ফোন দিলো। মিতু আমার সাথেই পড়ে, এক নম্বরের বদ মেয়ে। দুনিয়ার সব ছেলেকে এক হাতে কিনে আরেক হাতে বেঁচতে পারবে। ছেলে পটাতেও সেরা, ছেলে নাচাতেও সেরা। ওর সামনে দুনিয়ার সকল প্লেবয় শিশু। তবে প্রেমিকা হিসেবে যেমনই হোক, বন্ধু হিসেবে অসাধারণ। এমন কোনো বিপদ-আপদ নাই যখন ওকে পাশে পাওয়া যায় না। একটা ডাক দিলে দিন নাই রাত নাই হাজির হবে। বাসা থেকেও প্রচুর স্বাধীনতা পায়। ধনীর ঘরের আদরের দুলালি, আমাদের মতো এতো রেস্ট্রিকশন নাই তাই বাপ-মায়ের সাথে অতো লুকোছাপা করতে হয় না।
.
– হ্যালো, হ্যাঁ বল।
– কীরে এতোক্ষণ লাগে ফোন ধরতে?
– একটু টেনশনে ছিলাম….
– ক্যান কী অইসে?
– মনে হয় বড়ো কোনো অসুখ। ফট কইরা মরে যাবো..
– ঢং করস? কী হইসে ঠিক করে বল
– পেটের মধ্যে কয়দিন ধরে কেমন জানি করতেসে,
– হাগু পাইসে ডারলিং? হি হি হি…
– আমি সিরিয়াস দোস্ত। একটু আগেই হঠাৎ মনে হইলো একটা শিং মাছ গুঁতা মারলো, এই যে এইমাত্র আবার!! খুবই টেনশনে আছি মিতু, অসুখ-টসুখ কী যে হইলো…
– ওহ নো! তুই এতো টেনশন করিস না, তোর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা আছে তো? না করে থাকলে টেস্ট করে আমাকে একটা কল দে।
আমার বুকের মধ্যে ছ্যাৎ করে উঠলো! মিতুর মুখে কিচ্ছু আটকায় না। প্রেগনেন্সি টেস্ট ওর জন্য ছেলেখেলা। আমার তো কথাটা মাথাতেই আসে নাই।
আচ্ছা রাখি এখন, বলে কোনোমতে ফোনটা রেখেই দৌড় দিলাম। ড্রয়ারের মধ্যে কাপড়চোপড়ের তলে রাখা স্ট্রিপগুলো থেকে একটা স্ট্রিপ টেনে বের করে হাতে নিলাম। মাথা দপদপ করছে। সত্যিই যদি এমন কিছু হয়! কী করবো, কোথায় যাবো! সুমন! সুমনকে একটা ফোন দিতে হবে এক্ষুণি!
ফোনটা তুলে নিজের অজান্তেই আবার মিতুকেই লাগালাম।
– করেছিস?
– সাহস পাচ্ছি না। যদি সত্যি প্রেগন্যান্ট হই? আমি কাঁদো কাঁদো হয়ে বললাম।
– তুই এখনও দাঁড়ায় আছিস স্টুপিড!! যা তুই, আগে হোক তারপর বাকি চিন্তা। আমি ফোন ধরেই আছি, তুই এক্ষুণি করে আয়।
– ওকে!
.
একটা দাগ একটু একটু করে ভেসে উঠছে। একটা মানে নেগেটিভ… মাথা কাজ করছে না। রাথরুমে বসেই মনে মনে আল্লাহকে ডাকছি! “হে আল্লাহ, নেগেটিভ দাও, নেগেটিভ দাও…” একটা রেখা এখন পুরোটা ভেসে উঠেছে। আরেকটা রেখা না ভাসলেই হলো। “ওহ আল্লাহ! আমি ভালো হয়ে যাবো, নামাজ পড়বো পাঁচ ওয়াক্ত, আরেকটা দাগ যেন না উঠে… প্লীজ প্লীজ প্লীজ…” একি! আরেকটা দাগ.. আস্তে আস্তে দ্বিতীয় দাগটাও স্পষ্ট হয়ে উঠলো। না, এ হতে পারে না। আমি আর সুমন সব সময় প্রোটেকশন ব্যবহার করেছি। তাহলে, কীভাবে!
.
[২]
ঠোঁট-মুখ শুকিয়ে গেছে। আরেকবার টেস্ট করতে হবে। এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। অন্য কোনো কারণে কি পজিটিভ রেজাল্ট দেখাতে পারে? দেরি করা যাবে না, কালই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
– হ্যালো, মিতু।
– বল
– আই থিঙ্ক আই অ্যাম প্রেগন্যান্ট। তুই কালই আমার সাথে ডাক্তারের কাছে যেতে পারবি?
– ওকে নো প্রবলেম! বাট ডোন্ট প্যানিক মাই লাভ, ওকে?
– ওকে
.
ফোনটা ছেড়ে সোফাতেই গা এলিয়ে দিলাম। খুব ক্লান্ত লাগছে। হাতটা অটমেটিক চলে গেলো পেটের ওপর। আমার পেটে সত্যিই কি সুমনের বাচ্চা? প্রথম বাচ্চা পেটে আসার অনুভূতিটা কেমন হওয়ার কথা? ভয়, আতঙ্ক, উদ্বেগ ছাড়া আমার মধ্যে আর কোনো অনুভূতিই কাজ করছে না।
.
মিতুর সাথে অদ্ভুত একটা হাসপাতালে গেলাম পরদিন। আমি জানি, ও এসব জায়গা ভালো চেনে। ওর অভিজ্ঞতা আছে। হাসপাতালে পরীক্ষা করেও একই রিপোর্ট পেলাম। ডাক্তার লোকটা দুলেদুলে হেসে বললো, ডোন্ট ওয়ারি, আমাদের সব ব্যবস্থা আছে। শুধু একটা স্ক্যান করে জেনে নিন প্রেগনেন্সি কতদিনের হলো তিন-চার মাসের হলে সহজেই ব্যবস্থা করা যাবে। খুবই পরিষ্কার ইঙ্গিত। অবশ্য আমি মোটামুটি মানসিক প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়ে এসেছি, বিয়ের আগে এই মুহূর্তে বাচ্চা পেটে আসলে অ্যাবরশন করাবো। এছাড়া আর কীই বা উপায়? সুমনের এখনও পড়াশোনাই শেষ হয় নি। বিয়ে করার মতো কোনো সামর্থ্য ওর এখনও নেই। আর আমার বাবা-মায়ের কাছেও সুমনের কথা তোলার প্রশ্নই আসে না! একটা বেকার সমবয়সী ছাত্রের কাছে মেয়ে বিয়ে দেবে — এতোটা পাগল তারা এখনও হন নি। হাসপাতাল থেকে বের হয়েই প্রথমে সুমনকে ফোন দিলাম।
.
– দেখা করতে পারবে? খুবই আর্জেন্ট।
সুমন আধ ঘণ্টার মাঝেই চলে এলো। আমি ডাকলে সব ছেড়ে হলেও ও ঠিকই আসবে। আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে সুমন। ওর সাথে কথা না বলে একা একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না আমি।
মিতু সাথেই ছিল। সুমনের কাছে ব্যাপারটা ও-ই খুলে বললো। দেখতে পেলাম সঙ্গে সঙ্গেই ওর মুখের রঙ বদলে গেলো। কিন্তু দ্রুত নিজেকে সামলে নিলো সুমন। আমি একপাশে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছি। সুমন ডেকে আমাকে কাছে নিলো। খুবই আদর করে বললো, চিন্তা কোরো না। সব ঠিক হয়ে যাবে।
আমার মুখ দিয়ে স্বগতোক্তির মতো একটা কথা বেরিয়ে এলো, “আমরা এখন কী করবো?”
– দেখো জান, বিয়ে করা এখন আমাদের জন্য ‘ওয়াইজ’ হবে না। তুমি তো জানো আমি এখনও স্টুডেন্ট, আর আংকেল-আন্টিও এখন তোমাকে বিয়ে দিবে না। তাছাড়া এখন বিয়ে করলে তোমার পড়াশোনা, ক্যারিয়ারের কী হবে! সো, আসো আমরা অ্যাবরশন করে ফেলি। বিয়ে হলে আমরা দুইজন রেডি হয়ে আমাদের বেবি নিবো, কেমন?
.
আমি সুমনের বুকে মুখ গুঁজে কাঁদতে লাগলাম। আমাদের বাচ্চা অ্যাবোর্ট করার কথা ভেবে হঠাৎ খুব খারাপ লাগতে শুরু করলো। যদিও বুঝতে পারছি এমন দুঃখ পাওয়ার কোনো কারণই নেই। সুমন একদম প্র্যাকটিকাল কথাটাই বলেছে। আমাদের পক্ষে এখন বিয়ে করাটা অসম্ভব ব্যাপার! আর এই সমাজে এমন বাচ্চা জন্ম দেওয়ার কথা ভাবাই যায় না.. কেউ মেনে নেবে না।
আমি রাজি হলাম। মানুষের হাতে সব ইচ্ছা পূরণের ক্ষমতা সবসময় থাকে না, একটা না একটা দিকে ছাড় দিতেই হয়।
.
[৩]
তিনদিন পরে স্ক্যান করার জন্য হাসপাতালে এসেছি। এবার সাথে সুমনও আছে। রিপোর্ট ঠিকঠাক থাকলে আজই অ্যাবোর্ট করে ফেলবো। কিন্তু হাসপাতালে আমার জন্য এতো বড়ো চমক অপেক্ষা করছিলো কে জানতো।
আমার রিপোর্টে দেখাচ্ছে আমি প্রায় ছ মাসের গর্ভবতী! সুমনকে সাথে দেখে নার্স ধরেই নিয়েছে যে আমরা বিবাহিত। হেসে হেসে বললো, আপনি ছয় মাসের প্রেগন্যান্ট আর আপনি জানেনও না? খুব লাকি আপু আপনে, আমার বাচ্চা পেটে আসার সাথে সাথে এমুন বমি আরম্ভ হইছিলো…
.
আর কিছু শুনতে পাচ্ছিলাম না আমি। মাথাটা ভো-ভো করছে। সুমনের দিকে তাকালাম, দেখি ওর চোখেমুখেও থমথমে ভাব। ডাক্তারের চেম্বারে গেলাম আবারও। আজকে তাকে বেশ গম্ভীর দেখাচ্ছে। আমাদেরকে বুঝিয়ে বললো, প্রেগনেন্সি এন্ড করা এখন আর সম্ভব না, বেশি দেরি হয়ে গেছে। এখন অ্যাবোরশন করলে আমি মারাও যেতে পারি।
এরপর আর কোনো কথা চলে না, তবুও সুমন যতোভাবে পারলো ডাক্তারের কাছে অনুনয়-বিনয় করে অনুরোধ করতে লাগলো। খালি পা দুইটা ধরা বাকি ছিল। কিন্তু ডাক্তার কোনোভাবেই অ্যাবরশন করতে রাজি হলো না। এইসব ধরা পড়লে পুলিশ কেইস নিয়ে টানাটানি।
.
বাসায় ফিরে আমি পুরো ইন্টারনেট তন্ন-তন্ন করে ফেললাম। পড়ে যা বুঝলাম, এখন আর ওষুধ খেয়ে গর্ভপাতের সময় নেই। টাকাপয়সা দিয়ে যদি কোথাও সার্জারি করা ম্যানেজ করতেও পারি, তাহলে আমার মারা যাওয়ার সম্ভাবনাই সর্বোচ্চ। যদিও আত্মহত্যার কথা অনেকেই ভাবে, কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যু যখন এভাবে চোখের সামনে অপশন আকারে হাজির হয়, তখন সেটা সহজে বরণ করে নেওয়া যায় না। আমার সামনে বিশাল ভবিষ্যৎ পড়ে আছে! এতোদিন কষ্ট করে এই পর্যন্ত এসেছি, কতো স্বপ্ন, কতো প্রত্যাশা! বাচ্চা এখন নিবো না দেখে মারা যাবো – এই পরিণতিটা ঠিক মেনে নেওয়ার মতো না।
.
কিন্তু আশঙ্কা আর ভয়ে আমি অস্থির হয়ে আছি! মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যাই করে ফেলি! মিতুকে ডাকলাম, ও আমার মাথা থেকে আত্মহত্যার কথা একেবারে ঝেড়ে ফেললো। “জোর করে অ্যাবোরশন করতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়ে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। সুমনও এই পরিস্থিতির জন্য ইকুয়ালি দায়ী। তুই এতো স্যাক্রিফাইস কেন করবি? তোর লাইফটা কেন নষ্ট করবি?”
আমি অসহায়ের মতো মিতুর মুখের দিকে চেয়ে থাকলাম। ও বললো, “এখন বিয়েই একমাত্র পথ।”
.
[৪]
সুমনকে বিয়ের কথা বলতেই ও বিগড়ে গেলো। কোনোদিন ও আমার সাথে রাগ করে কথা বলে নি, কিন্তু দুইদিন বিয়ের কথা বলতেই ওর নম্রতার মুখোশ কোথায় চলে গেলো! জানু, বেইবি, সুইটহার্ট ছাড়া আগে কথাই বলতে পারতো না, আর এখন বেশ্যা, স্লাট, মাগী, কুত্তার বাচ্চা বলতেও বাঁধে না।
প্রথমে আমি নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, এও কি সম্ভব! আমি হয়তো নিজেকেও অবিশ্বাস করতে পারি, কিন্তু সুমন যে এভাবে বদলে যাবে কোনোদিন ভাবতেও পারিনি। মিতুই ঠিক বলেছিলো, ছেলেদেরকে কোনো বিশ্বাস নেই। কিন্তু আমি সুমনের ভালোবাসায় বিশ্বাস করেছি। ওকে বিশ্বাস করে নিজের সমস্ত ওর কাছে সঁপে দিয়েছি। কখনও মনে হয় নি আমি ভুল কিছু করছি। তাহলে কি সত্যিকার ভালোবাসা বলে কিছুই নেই? আমি কি ভালোবেসে, বিশ্বাস করে ভুল করলাম?
.
সুমন ইদানিং আমার ফোনও এভয়েড করছে। কয়েক দিন আগে ওর সাথে দেখা হয়েছিল। ও খুব ঠাণ্ডা মাথায় বলেছে, ঠিক আছে, বাচ্চা অ্যাবোর্ট করতে না পারো, জন্ম দাও, এরপর মেরে ফেলো। লাগলে বইলো, আমি কোথাও ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো….
সুমনের কথা শুনতে ঘৃণায় গা রি-রি করছে। অপমানে চোখ জ্বলছে। তবুও কাঁদতে কাঁদতে মানানোর অনেক চেষ্টা করলাম।
আমার দায়িত্ব নেয়ার কথা বলতেই ওর সমস্ত ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটলো।
একই কথা নিয়ে বারবার প্যানপ্যান করবা না। আমার ডিসিশন জানায় দিছি, এখন আমার পক্ষে বিয়ে করা পসিবল না। ইফ ইউ ওয়ান্ট উই ক্যান বি লাইক বিফোর: বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড। দ্যাটস ইট!
.
কতো সহজেই এসব কথা বলে দিতে পারে একটা ছেলে! অথচ একটা মেয়ে– কতো বড়ো দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যায় সেটা কি কল্পনাও করতে পারে? আমি বুঝে ফেলেছি, এই পরীক্ষা আমার একার। সেদিন রাতটা মনে হচ্ছিলো দুঃস্বপ্নের মতো দীর্ঘ। কাঁদতে কাঁদতে চোখমুখ ফুলিয়ে ফেলেছি, শরীর-মন একদম অবসন্ন হয়ে গেছে। কিন্তু এখন নিজের জন্য হলেও বাচ্চাকে জন্ম দিতে হবে। এরপর বাকি চিন্তা। মিতুর সহযোগিতায় বনানির একটা ফ্ল্যাটে সাবলেটে ভাড়া নিলাম। ওর পরিচিত কয়েকজন সিনিয়র আপু আর জুনিয়র ছাত্রী একসাথে থাকে। বাবা-মা‘কে বানিয়ে বললাম, ছাত্রী হোস্টেলে থাকতে হবে পরীক্ষার জন্য, অনেক পড়াশোনা – বাসায় বসে একা একা ম্যানেজ করতে পারছি না।
.
এর পরের কয়েকটা মাস গেলো বিভীষিকার মতো। জামাকাপড় ঢোলা করে বানিয়ে নিলাম, যেন পেট বোঝা না যায়। ছয় মাসের পর থেকে পেটটা আস্তে আস্তে বড়ো হচ্ছিল। আমি নিদেনপক্ষে বাইরে বেরোতাম না, পরিচিত কারো নজরে পড়তে চাই না। একান্তই বের হওয়া লাগলে গায়ের ওপর শীতে পড়ার একটা বড়ো খদ্দরের চাদর জড়িয়ে নিই। বাসার আপুদেরকে মিতু আগে থেকেই সব বলে রেখেছিল। মৌমিতা আপু, রোকসানা আপা আর রাহেলা। ওরা সবাই অনেক কেয়ারিং, অনেক ফ্রেন্ডলি! আমার পাশে ওরা যেভাবে ছিল, কোনোদিনও সেই ঋণ আমি শোধ করতে পারবো না!
.
এদের মধ্যে মৌমিতা আপু আর রাহেলাই বেশি করেছে, বিশেষ করে রাহেলা। এই মেয়েটা এতো লক্ষ্মী আর হৃদয়বান! রোকসানা আপুও যখন যা পারতো করতো। কিন্তু চাকরি নিয়ে ব্যস্ততার কারণে বেশি সময় দিতে পারতো না। রাহেলা মেয়েটা বাসার বাকিদের চেয়ে আলাদা, বয়সেও আমাদের মধ্যে সবচেয়ে জুনিয়র। প্রচণ্ড গরমেও দেখি কালো একটা বোরকা, নিকাব, হাতমোজা, পা মোজা ছাড়া বাইরে বেরোয় না। কে বলবে বাসার মধ্যে এই মেয়েটাই সবচেয়ে উচ্ছল! ওকে না চিনলে এরকম একটা বোরকাওয়ালি মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব করার কথা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবতাম না! এতো তফাত আমাদের মধ্যে!
.
একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম, তোমার গরম লাগে না?
– খুব লাগে!
তাহলে এতোকিছু পরে জোকার সাজো কেন?
রাহেলা হাসতে হাসতে জবাব দিলো, আল্লাহকে ভালোবাসি আপা, তাই আল্লাহর জন্য কষ্ট করতেও ভালো লাগে।
ওর উত্তরটা শুনে একটু থতমত খেয়ে গেলাম। হায় ভালোবাসা! এই ভালোবাসার জন্য আমিও কতো কী করেছি! কিন্তু রাহেলার কথায় যুক্তি আছে, ভালোবাসলে সবই করা সম্ভব। মানুষ শরীর-মন সব বিকিয়ে দেয়, আর একটা কাপড় পরা আর এমন কী। আসলেই আগে ব্যাপারটা এভাবে ভেবে দেখি নি..
.
প্রায় রাতেই মাঝরাত পর্যন্ত আড্ডা বসতো, সেদিনও আড্ডা বসেছে। রোকসানা আপু বললেন, আমি বাবা-মায়ের কথা ছাড়া এক পাও এদিক-সেদিক করবো না। পড়াশোনা কম্প্লিট, চাকরি পেয়েছি ব্যাস। আমার ইচ্ছা সমাপ্ত। এখন আব্বা-আম্মা যেই পাত্রের সন্ধান আনবেন, সেখানেই কবুল।
.
মৌমিতা আপা সবচেয়ে মডার্ন। বলে উঠলেন, সুপাত্রই যে আনবেন তার নিশ্চয়তা কী? তুমি বড্ড বেশি আইডিয়াল চাইল্ড রোকসু… আমি তো হাসানকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ের কথা ভাবতেই পারি না! আর যাকে ভালোবাসি না, তার সাথে সংসার! ইম্পসিবল! হাসান হচ্ছেন মৌমিতা আপার ফার্স্ট লাভ – পাঁচ বছরের প্রেম, এখন পর্যন্ত ভালোয় ভালোয় চলছে সবকিছু। কিন্তু আমার এখন আর এইসব ফার্স্ট লাভ, দীর্ঘদিনের প্রেম-ভালোবাসায় বিশ্বাস নেই। সুমনও আমার ফার্স্ট লাভ ছিল, আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যাও ছিল না। তবুও …
চিন্তার সুতো কেটে দিয়ে রাহেলা বলে উঠলো, আপুরা আমার চিন্তাভাবনার সাথে তোমার মিল হবে না জানি। কিন্তু আমি বিয়ের পরের ভালোবাসাতেই বিশ্বাসী। যে ছেলেটা বিয়ের আগেই একটা মেয়ের সুন্দর চেহারা আর শরীর দেখে ফেলেছে, সে আসলে ঠিক কোন কারণে মেয়েটাকে ভালোবাসলো কোনো চিন্তা করতে পারো, সৌন্দর্য্য নাকি মেয়েটার মানসিকতা? তাছাড়া আমার সাথে প্রেম করার অর্থ অন্য কোনো মেয়ের সাথেও সে রিলেশন করতে পারতো, আমি বিয়ের পর তাকে কীভাবে বিশ্বাস করবো?
তাহলে তুমি বিয়েটা করবা কীভাবে? এটা তো রোকসানার মতোই হলো, অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। বাপ-মা ধরে বেঁধে একটা গাধা এনে দিলেও মালা পরিয়ে দিবে??
মৌমিতা আপুর খোঁচাটা গায়েই মাখলো না রাহেলা। উল্টো প্রশ্ন করলো, যে ছেলেটা প্রেমিক হিসেবে অসাধারণ, সে যে স্বামী হিসেবেও দায়িত্ববান হবে – এটা কীভাবে বোঝা যায় আপু? দুনিয়ার প্রত্যেকটা ছেলের সাথে এক এক করে প্রেম করে দেখা তো সম্ভব না যে কে বেশি ভালো, কাকে হাজবেন্ড হিসেবে চুজ করা উচিত। পাত্রের ব্যাপারে আল্লাহর গাইডলাইনস ফলো করবো, আমার বাবা-মা অনেক ভালো হলেও উনারা আমার মতো করে সবকিছু দেখেন না, আমি বড়োলোক কোনো ছেলেকে বিয়ে করলেই সবাই খুশি। কিন্তু আমি চাই পরহেজগার কাউকে বিয়ে করতে। তাই এখন থেকেই মসজিদের ইমাম, পরিচিত বড়ো ভাই আর বোনদেরকে বলে রেখেছি যেন এমন কোনো পাত্রের খোঁজ পেলে আমাকে জানায়। আপু, ইসলামে ডেটিং বলে কিছু নেই, কিন্তু বিয়ের আগে জানাশোনার কথা বলা আছে। ডেটিং-এ তো আদর-আহ্লাদ ছাড়া কোনো কাজের কথা হয় না। বিয়ের জন্য যেসব প্রশ্ন জানা জরুরি, সেগুলো জানতে দুজন মিলে একাকী বদ্ধ-কেবিনে হাত ধরাধরি না করলেও হয়। আমি আমার বাবার সামনে বসেও সেই প্রশ্নগুলো জেনে নিতে পারি, যেগুলোর উত্তর শুনে আমি আমার ফিউচার হাজবেন্ড বাছাই করবো।
.
রাহেলার কথাগুলো মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলাম আমি। প্রতিটা কথাই সঠিক। প্রতিটা কথাই যুক্তিসঙ্গত। অন্তরের গহীনে এসে কোথায় যেন কড়া নাড়ে।
.
[৫]
রাহেলা আমার ওপর বেশ প্রভাব ফেলছিল। একদিন বাইরে যাওয়ার সময় ওর থেকে চেয়ে একটা বোরকা নিলাম। মিতু, আমার বান্ধবী, মাঝে একদিন এসেছিল। আমার বোরকা ধরার কাহিনি শুনে চোখ কপালে তুলে বললো, কীরে হুজুর হয়ে গেলি নাকি? আমি খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে লজ্জা পেয়ে বললাম, না, না, পেটটা বড়ো হয়ে যাচ্ছিলো। আসলে পেট বড়ো হয়ে যাওয়াটাই একমাত্র কারণ ছিল না, কিন্তু কেন যে মুখ ফসকে মিথ্যে কথাটা বের হয়ে আসলো! বাসার বাকি সদস্যরা ধরেই নিলো পেট ঢাকার জন্যই বোরকা পরে বেরোচ্ছি। অবশ্য ওদের এই ভুল দ্রুতই ভাঙতে যাচ্ছিল…
দেখতে দেখতে ডেলিভারির দিন ঘনিয়ে আসলো। আমার মাথার মধ্যে দুঃস্বপ্নও চেপে বসতে লাগলো। কী করবো এই বাচ্চাকে নিয়ে? কোথাও ফেলে দিবো? নাকি মেরে ফেলবো? ভালোবাসার এই চিহ্ন এখন আমার জন্য অভিশাপের চিহ্নে পরিণত হয়েছে। একে কোথাও পুঁতে ফেলতে পারলে আমার শান্তি লাগতো। কিন্তু মাঝেই মাঝেই বেয়াড়া মা-বোধটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। রাহেলার দেখাদেখি আমিও নামাজ ধরেছি। ফজর বাদে বাকি চার ওয়াক্ত-ই নিয়ম মতো পড়ছি। ফজরে রাহেলা ঠেলেঠুলে উঠিয়ে দেয়, ও না ডাকলে উঠতে পারিনা। গত আড়াই মাস বাসায় যাই নি, এই দুর্দিনে মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে। যদিও আমি মায়ের সাথে তেমন ক্লোজ না, তবু তো মা! আজকাল মায়ের জন্য মনটা খুব আনচান করে।
.
এমন বিপদের মধ্যে হঠাৎ একদিন সুমনের ফোন এলো। বেশ সাধারণ ভাবে কথা বলছিল ও। আমিও এতোদিনে নিজেকে সামলে নিয়েছি। আগের মতো কান্নাকাটি আর করলাম না, নিজেকে আর কতোই বা নিচু করবো। শীতল স্বরে শুধু বললাম, বলো কী বলবে। আমার গলার আওয়াজেই বোধ হয়, ও বেশি কিছু বলার সাহস করতে পারলো না। শুধু বললো, যদি কোনো দরকার হয় ডেকো। আমার পরিচিত এতিমখানার লোক আছে, সে ব্যবস্থা করতে পারবে। যদিও আমাদের জন্য এই বাচ্চার কোনো সাইন না রাখাটাই বেস্ট।
.
আমার মাথায় ধাই করে রক্ত চড়ে গেলো। কতো বড়ো দুঃসাহস যে আমাদের কথা বলতে এসেছে। দায়িত্ব নেবে না, আবার দেখাতে এসেছে সে আমাদের ব্যাপারে কতোই না চিন্তিত! কী পেয়েছে এই পশুটা? আমার বাচ্চার কোনো দায়িত্ব তো নেয়ই নি, এখন এসেছে আমার বাচ্চাকে খুন করতে! তোমার থেকে আমি কোনো অ্যাডভাইস চাই নি, বলে মুখের ওপর ফোনটা খট করে কেটে দিলাম।
.
এতোদিন মনের মধ্যে যা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল এখন সেটাও দূর হয়ে গেলো। এই বাচ্চা আমার বাচ্চা। ওকে আমি মেরে ফেলতে পারি না, না-না-না। আমার মন কিছুতেই সায় দিচ্ছে না। এই শিশুকে মেরে ফেলা হবে ঘোরতর পাপ। এক গুনাহর ভার এখনও বইছি, সন্তান-হত্যা করে আরেকটা জঘন্যতম অপরাধের ভাগীদার আমি হতে চাই না।
.
কিন্তু কোথায় যাবো এই শিশু নিয়ে, কী করবো? বাবা-মায়ের সামনে কী জবাব দেবো? মিতু, রাহেলা, রোকসানা আপু, কেউই সন্তোষজনক কোনো সমাধান দিতে পারলো না। জীবনের এক একটা পর্যায় এতো জটিল, যার সমাধান কোনো মানুষের কাছেই থাকে না। রাহেলা শুধু বললো, আপা, দুয়া করেন। আপনি আল্লাহর দিকে পা বাড়াইসেন, আল্লাহ আপনাকে কখনও ফেলে দিবে না।
.
আমি শুধু দুয়াই করলাম। ফজরের নামাজ এখন নিয়মিত পড়ি। রাতের বেলা ঘুমও আসতে চায় না এখন আর, তীব্র ব্যাকপেইন আর মাথাব্যথা নিয়ে জেগেই থাকা হয়। ভোর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকে, আমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদি আর আল্লাহর দরবারে দুয়া চাই। বাচ্চাটাকে মারতে চাই না ইয়া আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য উত্তম ব্যবস্থা করে দাও। ঘুরেফিরে এই একই দুয়া পাগলের মতো চাইতে থাকি…
.
[৬]
আমার পরিবর্তন দেখে ধীরে ধীরে সবাই বুঝে যাচ্ছিলো যে আমি সাময়িক বোরকা ধরি নি, আসলেই বদলে গেছি। আরও পরিষ্কার হলো যখন দেখলো আমি কিছুতেই পুরুষ ডাক্তারের কাছে অপারেশন করাতে রাজি নই! মিতু তার চিরাচরিত স্বভাবমত একটা লম্বা ঝাড়ি দিয়ে বললো, মরতে চাস নাকি? বয়ফ্রেন্ডের সাথে রাত কাটাতে খারাপ লাগলো না, ডাক্তারের কাছে অপারেশন করাতে যতো লজ্জা।
.
মিতুটার মুখে কিছুই বাধে না। আমি দাঁতমুখ চেপে বললাম, দ্যাখ, সবকিছু মিলাস না। আগে এতো মেনে চলতাম না। পুরুষ ডাক্তারের কাছেও অপারেশন করবো যদি আর কোনো অপশন না থাকে। কিন্তু মহিলা ডাক্তারের খোঁজ করতে তো আর সমস্যা নেই। তুই পারলে আমাকে হেল্প কর–এতো ক্যানক্যান করিস না।
.
মিতু ঠোঁটকাটা হলেও অবিবেচক না। আমাকে আর বেশি ঘাটালো না।
বললো, চল ঘুরতে যাই। উদ্দেশ্য শপিং! বাচ্চা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে এখন মনটা বেশ ভারমুক্ত লাগে। শখও হয় অনেক রকমের। কিন্তু ভারি শরীর নিয়ে বেরোনো হয় না। মিতুই আমাকে টেনে বের করলো ঘর থেকে। ছোট্ট সোনার জন্য ফিডার, জামা, জুতো, একটা ছোট্ট বালিশ, কয়েক প্যাকেট ডাইপার, আর রেডিমেড কাঁথা কিনে আনলাম। সেই দিনটা কী যে ভালো লাগছিলো! মা হওয়ার ব্যাপারটা যে এতো আনন্দদায়ক এতোদিন উপভোগই করতে পারি নি। শুধু দুশ্চিন্তা আর দুর্ভাবনা আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিলো। কিন্তু এখন চিন্তা হলেই মনে মনে বলি, “হাসবি আল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকীল” আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, এরচেয়ে মন ভালো করা কথা আর আছে কোথাও?
.
ডিউ ডেইটের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই আমার ব্যথা শুরু হয়ে গেলো। অস্বাভাবিক ব্যথা! আমাকে দৌড়ে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেলো রাহেলা আর রোকসানা আপু। মিতুও এলো কিছুক্ষণের মধ্যে। মাঝের পুরো তিন ঘণ্টা আমার কোনো হুঁশ ছিল না।
হুঁশ ফিরে শুনলাম, আমার ডেলিভারি হয়ে গেছে। জ্ঞান ছিল না, তাই সিজার করে বাচ্চা বের করা লেগেছে। আর সবচেয়ে আকস্মিক, সবচেয়ে ভয়ংকর, সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক খবরটা আমাকে ঠিক তখনই দেওয়া হলো। আমার বাচ্চাটা মারা গেছে। ব্রেইন হ্যামারেজের কারণে ডেলিভারির সময়ই ও মারা যায়।
.
আমি জমে গেলাম। অপ্রত্যাশিত হলেও বাচ্চাটাকে নিয়ে শেষপর্যন্ত অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। সব প্রতিকূলতার মধ্যে ওকে জন্ম দিয়েছি, পুরো পৃথিবীর সাথে যুদ্ধ করে হলেও ওকে ভালোমত বড়ো করতে চেয়েছি। আমার মনের কুঠিরে জায়গা করে নিয়েছিল পাখিটা। চলে গেলো এভাবে? আমাকে একা ফেলে রেখে? খুব কষ্ট হলো, এই কষ্ট ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। তীক্ষ্ণ একটা বেদনা আমাকে চিরে ফেললো।
.
অথচ অদ্ভুত পৃথিবী, এই ভয়ঙ্কর দুঃসময়ে কয়েকটা অবিবাহিত মেয়ে ছাড়া আমার পাশে আর কেউই নেই। এরা কী বুঝবে আমার কষ্ট! ছাদের দিকে চোখ চলে গেলো। আল্লাহকে ডেকে বললাম, হে আল্লাহ তুমিই সবচেয়ে উত্তম অভিভাবক। আমার বাচ্চাটাকে তুমি দেখে রেখো।
.
[৭]
রাস্তার ধারের কোনো ডাস্টবিনে না, নর্দমার বর্জ্যতে না, টয়লেটে ফ্লাশ করেও না–আমার সন্তানকে আমি সবচেয়ে সুন্দরভাবে বিদায় জানালাম। হুজুর ডেকে ওর দাফন সম্পন্ন হলো, আমি বাদে বাকিরা সবাই নামাজ পড়লো। যে শিশুর মৃত্যু লেখা আছে, সে মারা যাবেই। বাবা-মা হয়ে নিজের হাতে সন্তানকে খুন করা তো জানোয়ারও পারে না। আর মানুষ শরীরের ক্ষুধা, প্রেমের তৃষ্ণা মেটাতে গিয়ে শেষমেশ সেটাই করে…
.
এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর আমি বাসায় ফিরে গেলাম। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার কারণে রিকাভার করতে অনেক সময় লাগছিল। বাসা থেকে মিতু বুদ্ধি করে আগেই বাচ্চার জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলেছে। যেন আমার চোখে পড়লে আমি দুঃখ না পাই, অবশ্য এতোকিছুর দরকার ছিল না। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি আর আল্লাহকে মেনে চলি। এখন আমার সাথে যেটাই হোক, আমি আর ভয় পাই না। ভেঙেও পড়ি না। রোকসানা আপু বদলি হয়ে গেছেন শুনলাম, আমারও এই বাসা থেকে বেরোনোর সময় হয়ে গেছে। নিজের বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে হবে এবার…
.
মনে হলো যেন একটা যুদ্ধ শেষ হলো। কিন্তু ফিরতে হলো খালি হাতে। আসলে খালি হাতে না, হাতে ইসলামের আলো নিয়ে ফিরছি – এটাই তো সবচেয়ে বড়ো পাওয়া!
বাসায় বাবা-মা আমাকে প্রায় তিন মাস পর দেখছেন। আমার পরিবর্তনে খুব হতবাক সবাই। যেন আমাকে চিনতে পারছে না কেউ।
এর প্রায় দুই মাস পরে হঠাৎ একদিন সুমন ফোন দিয়েছিল। গলা শুনে মনে হলো যেন খুব কান্নাকাটি করেছে। ভেক ভেক করে হেঁচকি তুলে আমাকে বললো, সে ‘মেইক আপ’ করতে চায়! যতো সব ভণ্ডামি। পুরো প্রেগন্যান্সির সময় আমাকে মাঝ সমুদ্রে ফেলে দিয়ে এখন এসেছে আবার আমার শরীর এনজয় করতে! মানুষই পারে এতোটা নির্লজ্জ হতে।
.
আজ ভাবছিলাম, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। পৃথিবীর প্রতিটা ঘটনার পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে। এক একটা পরিস্থিতি তৈরি করে তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর কাছে আসার সুযোগ করে দেন। কেউ সেই সুযোগটা কাজে লাগায়, আর কেউ ছুঁড়ে ফেলে। প্রথমে বাচ্চা রাখার কোনো ইচ্ছাই ছিল না, অথচ বাচ্চা জন্ম দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ও ছিল না। এরপর আল্লাহর ভয়ে বাচ্চাটা রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম। তখন আল্লাহ অন্য ইচ্ছা করলেন। আর একদিক থেকে ভাবলে এভাবেই আল্লাহ আমাকে বেইজ্জত হওয়া থেকে রক্ষা করলেন। মাঝখান দিয়ে সুমন আর সুমনের মতো সব ছেলের চেহারা স্পষ্ট করে দিলেন। বিয়ের আগে প্রেমগুলো কতো সস্তা, কতো ঠুনকো, কতো মেকি! অথচ ছেলেমেয়েরা অন্ধের মতো এর পিছেই ছুটতে থাকে…
.
মিতু এখনও আগের মতোই আছে। কিছু মানুষ কখনোই শিক্ষা নেয় না। আমার এতো বড়ো ঘটনার পরেও ও ঠিক আগের মতো রয়ে গেলো। ছেলে ঘুরিয়ে মজা নিচ্ছে। খোলামেলা ঘুরে বেড়াচ্ছে। যখন যার সাথে ইচ্ছা শুয়ে পড়ছে। ওর সাথে আগের মতো আর মিশতে পারিনা, বন্ধুত্ব আছে কিন্তু অশ্লীল রসিকতা নেই। ছেলেদের সাথে বসে আড্ডা দেই না দেখে দেখাসাক্ষাতও কম হয়। রোকসানা আপুর খবর অনেকদিন জানিনা। তবে মৌমিতা আপুর কথা মিতুর মুখেই শুনেছি, পাঁচ বছরের সেই ফার্স্ট লাভকে ছেড়ে তিনি কানাডার আরও উচ্চশিক্ষিত এক পাত্রকে বিয়ে করে এখন কানাডায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হায়রে ফার্স্ট লাভ! হায়রে মরার প্রেম!
.
রাহেলার সাথে বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়েছে। যদিও ও আমার ছোটবোনের মতো। সামনের মাসে ওর বিয়ে। ছেলে ছাত্র, একই সাথে ব্যবসাও করছে। কম বয়সেই বিয়ে করতে চায়, রাহেলার দ্বীনদারিতা দেখে ওকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। রাহেলা বলে, একবার বিয়েটা করি, এরপর বরের সাথে মিলে তোর ঘটকালি করবো… হি হি।
.
আমি অনেক বদলে গেছি। অ-নে-ক। এখন রাহেলার মতোই হাত মোজা-পা মোজা পরি। দূর থেকে দেখে একদিন মিতু বলেছিল, তোকে দেখে ভেবেছি রাহেলা কী করে এইখানে! সো কনফিউজিং!
আমি মনে মনে হাসি। আল্লাহ আমাকে অনেক দিলেন। এক জীবনে আল্লাহকে খুঁজে পেলে আর কী চাওয়ার থাকতে পারে…
.
“আঁধার-আলো”
লিখেছেন: বোন আনিকা তুবা
আর রিজালু বির রিজাল…

আর রিজালু বির রিজাল…

.
সমকামিতা। হালের আলোচিত টপিক। কারো কাছে মানবিক, স্বাভাবিক। কারো কাছে পাশবিক, বিকৃতি। কারো কাছে ‘ঘেন্নার’, তবে ‘এটাও একটা ধরন’, ওদেরও আছে সমাজে বসবাসের অধিকার, ইত্যাদি। নিজের পছন্দমত যৌনচর্চার অধিকার। কেউ তো আবার আগ বাড়িয়ে জিনগত-জন্মগত- প্রাকৃতিক প্রমাণ করেও ছেড়েছে। আজিব হ্যায় ইয়ে দুনিয়া। যা ইচ্ছে প্রমাণ করে ফেলা যায়। সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য করে ফেলা যায়। নিজের চাহিদাকে বৈধতা দেয়া কেন ব্যাপারই না। প্রতারণার যুগ, এইজ অব দাজ্জাল (দাজ্জাল অর্থ চরম প্রতারক)। সব সম্ভবের যুগ।
.
ডাক্তার হওয়ার জন্য ম্যালা বইপত্র পড়তে হয়েছে। ১১ টা সাবজেক্টে প্রতিটার ২ টা মেইন বই, একটা গাইড ধরলে ৩৩ টা কেতাব খতম দিয়ে লাইসেন্স মিলেছে রোগীর গায়ে হাত দেয়ার। তাই, একটা দুটো বই পড়ে আপনি যেমন খুব সহজে ‘গে জিন’ এর অস্তিত্ব বিশ্বাস করে সমকামিতা-কে ‘হাতের স্পর্শ ছাড়াই প্রাকৃতিক’ বলে বিশ্বাস করে ফেলতে পারেন। আমি পারি না। জেনেটিক্সে ‘সমকামিতা’ প্রাকৃতিকভাবে প্রোগ্রামড কি না, তা নিয়ে পক্ষ বিপক্ষ তৈরি হলেও, মেডিকেল সায়েন্সে সমকামিতার ‘অপ্রাকৃতিকতা’ নিয়ে কোনই সন্দেহ নেই।
সমকামিতা যদি প্রাকৃতিকই হয়, স্বাভাবিকই হয়; তাহলে আমাদের শরীরের গঠন তা সাপোর্ট করার কথা। আমাদের এনাটমি ও শারীরতত্ত্ব তো সমকামবান্ধব হবার কথা। সমকামের জন্য যা যা প্রয়োজন, আমাদের গঠনও তেমনটাই হবার কথা। যেহেতু এটা প্রাকৃতিক দাবি করা হচ্ছে। সমকামের সাথে যায়- এমন বৈশিষ্ট্য পায়ু-লিঙ্গে পাওয়া গেলেই তো দাবিটা সঠিক হয় যে, সমকাম সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ও সুস্থ স্বাভাবিক যৌনক্রিয়া, তাই না? যেমন ধরেন যোনির গঠনটাই এমন যে পুরো জায়গাটা—

- ঘর্ষণ উপযোগী
- প্রচুর পিচ্ছিলকারী তরল তৈরির ব্যবস্থা
- এসিডিক পরিবেশ, ফলে বহিরাগত জীবাণু প্রতিরোধী
- প্রসারণশীল
- আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টিকারী স্নায়ুসমৃদ্ধ
.
এসব বৈশিষ্ট্যই প্রমাণ করে যে, যোনিপথে মিলন একটা প্রাকৃতিক ব্যাপার। অপরপক্ষে নাকের ছিদ্র বা কানের ছিদ্রে এই বৈশিষ্ট্যগুলো নেই। যা প্রমাণ করে নাকের ছিদ্রে বা কানের ছিদ্রে মিলন, চাই সেটা যত আগে থেকেই প্র্যাকটিস করা হোক না কেন, কোনভাবেই প্রাকৃতিক নয়। এমন কোন জায়গায় মৈথুন আর যা-ই হোক প্রাকৃতিক হতে পারে না। অনুপযুক্ত স্থানে অনুপযুক্ত চর্চা অবশ্যই প্রকৃতিবিরুদ্ধ এবং ‘গে-জিন’ এর রূপকথা বানিয়ে দিলেই পায়ু মৈথুনের উপযুক্ত হয়ে যাবে না। মনে রাখবেন, কোন জিনেই লেখা থাকে না যে এটা ‘গে-জিন’। বরং এগুলো ধারণা করা হয় যে, হতে পারে এই জিন এই কাজের জন্য দায়ী। কিছু ভাইয়াকে এইসব ধারণাগত বিষয়কে এত বেশি বিশ্বাস করতে দেখা যায়, যদিও তারা দাবি করে তারা না দেখে কিছু বিশ্বাস করে না। যেহেতু গে-জিন আমার আলোচ্য বিষয় না, তাই আজ এখানে তা আলোচনা করছি না। চলুন দেখি, মানবদেহের গঠন আমাদের কী বলে।
.

ভূমিকাঃ

আগে কিছু কথা শিখে নিই যাতে পরের কথাবার্তা বুঝা যায়। আমাদের শরীর বহু কোষের সমন্বয়ে গঠিত। একই ধরনের একাধিক কোষ ভ্রূণদশায় যদি একই উৎস থেকে তৈরি হয়, আর যদি একই ধরনের কাজ করে সেই কোষের গ্রুপকে কলা/টিস্যু (Tissue) বলে। যেমন ধরেন নার্ভটিস্যু বা স্নায়ু কলা। ভ্রূণ অবস্থায় সবচেয়ে বাইরের লেয়ার থেকে এরা উৎপন্ন হয়ে সারা দেহে বিস্তার লাভ করে এবং নার্ভ তৈরি করে। সেন্স আনা-নেয়ার কাজটাই করে। আবার ধরেন, পেশীকলা। ভ্রূণের মধ্যস্তর থেকে তৈরি হয়, সারা শরীরে ছড়ায়, মাসল তৈরি করে, ওজন নেয়ার ও হাড্ডিকে বাঁকিয়ে নানান নড়াচড়ার কাজটা করে। অনেকগুলো কলা মিলেঝিলে যখন একটা কাজ করে তাকে বলে ‘অঙ্গ’। যেমন ধরেন, হার্ট । এর মধ্যে পেশীকলা-স্নায়ু কলা-যোজক কলা- আবরণী কলা সব মিলে রক্ত পাম্পের কাজটা করে।
.
কলাগুলোর মধ্যে আবরণী কলাটা (Epithelium) ডিটেইলস জানা দরকার। দেহের বাইরের ও ভিতরের আবরণ তৈরী করে যে কোষরা তাদেরকে আবরণী কলা বলে। চামড়ায় আছে, মুখের ভিতরের আবরণে এরা, রক্তনালীর ভিতরের আবরণে এরা, শ্বাসনালীর ভিতরের লেয়ারটায় এরা, ফুসফুস-ব্লাডার-পেশাবের নালী, সব সব। সব ধরনের আবরণ এরা সারি সারি কোষ বসে বসে তৈরি করে। এদেরকে সাংগঠনিকভাবে একসাথে কাজের ভিত্তিতে আবরণী কলা বলে।

ফুসফুসে আঁইশাকার কোষ

এরা আবার কয়েক ধরনের। যেখানে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অণুর আদানপ্রদান দরকার, সেখানে আছে চ্যাপ্টা চ্যাপ্টা মাছের আঁইশের মত কোষওয়ালা আবরণী কলা। যেমন ফুসফুসের শেষ মাথায় (Alveolus) যেখানে অক্সিজেন-কার্বনডাইঅক্সাইড আদানপ্রদান হবে সেখানে অন্যগুলো থাকলে হবে না, সেখানে আছে এই আঁইশাকার আবরণী কলা, যাতে লেনদেন সম্ভব হয়। আবার এগুলো আছে রক্তনালীর ভিতরের লেয়ারে, কারণ সেখানে (বিশেষত কৈশিকজালিকায়) গ্লুকোজ, এমিনো এসিড, স্নেহ পদার্থ সরবরাহ করতে হবে, আবার বর্জ্য নিতে হবে রক্তে, আদানপ্রদানের জন্য সেখানেও একস্তর আঁইশাকার কোষ (Simple Squamous Epithelium)। কেন আইশাকার? যাতে অণুগুলোকে কম দৈর্ঘ্য অতিক্রম করতে হয়। কোষের বেধ কম, আঁইশের মত।

.
আবার যে আবরণকে ঘর্ষণ সহ্য করতে হবে বেশি সেখানে বহুস্তর আঁইশাকার আবরণী কলা (Stratified Squamous Epithelium)। যাতে অল্প পুরুত্বে কয়েকস্তর কোষ দেয়া যায়। উপরের লেয়ার ঘষায় উঠে গেলেও (Desquamation) তলায় আরও কয়েক লেয়ার থাকে যা জীবাণু প্রতিরোধ করবে। যেমন ধরেন মুখগহ্বরের ভিতরের লেয়ারটা। গোশত-হাড্ডি চাবায়ে, লাকড়ির মত টোস্ট কুড়মুড় করে খাচ্ছেন, এই কোষগুলো আছে বলে। অন্যকোষ থাকলে সারাবছর ঘা হয়ে থাকত। আবার অন্ননালী জুড়েও এই কোষ, কারণ আমরা একদম তরল করে গিলি না, কিছুটা চিবিয়েই গিলে ফেলি, শক্ত শক্ত ।
.
আবার কিছু জায়গা আছে যেখানে রস উৎপন্ন করাটাই কাজ। যেমন বিভিন্ন গ্ল্যান্ড। এখানে রস বানানোর কাঁচামাল জমানো লাগবে, রস বানানোর মেশিনপত্র রাখা লাগবে, আবার বানানো রস রাখারও জায়গা লাগবে। তাই এখানে আঁইশের মত চ্যাপ্টা হলে কাজ হচ্ছে না। এসমস্ত রসের কারখানার জন্য আছে ছক্কার গুটির মত (Cube) একস্তর কোষের আবরণী কলা। কিছুটা স্পেস যাতে পাওয়া যায়। যেমন ধরেন: লালাগ্রন্থি, থাইরয়েডগ্রন্থি।

পরিপাক আবরণী কোষ (একস্তর স্তম্ভাকার)

.
আর যেখানে রস উৎপাদনের চেয়ে রস শোষণ মুখ্য উদ্দেশ্য। সেখানে কন্টিনিউয়াস শোষণ হতে হবে। এজন্য আরও স্পেস বেশি লাগবে। এজন্য সেখানে একস্তরবিশিষ্ট স্তম্ভাকার কোষের আবরণ (Simple Columnar Epithelium)। থামের মত লম্বা লম্বা। পুরো পরিপাক নালী জুড়ে এরা। এখানে পদে পদে উৎপাদন আর শোষণ। রস উৎপাদন করে হজম, খাবারকে সরল তরল করা আর শোষণ। এজন্য এই ধরনের কোষকে পরিপাক আবরণী কলাও (Digestive/ Gastrointestinal Epithelium)বলে। পাকস্থলী-ক্ষুদ্রান্ত্র-কোলন-মলাশয়।
.
যেখানে যেটা দরকার সেখানে সেটা, কোন ব্যত্যয় নেই। অবশ্য একশ্রেণীর মানুষ একে দুর্ঘটনা মনে করে। এমনি এমনিই এমন ছন্দের মত, নিখুঁত নকশা তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করে। এনারা রোবটের কাজকাম নিখুঁত হলে এঞ্জিনিয়ারের প্রশংসা করে, কিন্তু এতো অতি-আণুবীক্ষণিক লেভেলের পারফেকশন নাকি লক্ষ লক্ষ ঠাডা পড়ে নিখুঁত হয়েছে বলে তিনারা বিশ্বাস করেন।
.
আচ্ছা, অন্য প্রসঙ্গে না গেলাম। যে ধরনের আবরণী কলার যেটা সহ্য করার ক্ষমতা নেই, সেখানে সেটা হলে (Stress) একটা সমস্যা হয়। যেমন ধরেন, পাকস্থলীর ভিতরের আবরণে আছে স্তম্ভাকার কোষ। এরা সেখানে এসিড, শ্লেষ্মা ও অন্যান্য রসটস তৈরি করে। এখন, অন্ননালীর আবরণ আবার আঁইশাকার।
.

মেটাপ্লাসিয়া (দেখেন স্তম্ভ কোষ কীভাবে আঁইশ হচ্ছে)

.
যদি কারও দীর্ঘদিন পেটের খাবার উপরে উঠে আসার সমস্যা থাকে (Reflux), তাহলে ঐ আঁইশাকার কোষগুলো এসিডের ছ্যাঁকায় ছ্যাঁকায় পরিবর্তন হয়ে স্তম্ভাকার হয়ে যায়, এই প্রক্রিয়াকে বলে মেটাপ্লাসিয়া (Metaplasia)। এটা ভালো জিনিস না, ক্যান্সারপূর্ব লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত। এই অসুখকে বলে ‘ব্যারেটস ইসোফ্যাগাস’। আবার পিত্তথলিতে পানি শোষণ ও পিত্তরস সংগ্রহ হয়, এখানে আবরণী কলা ‘স্তম্ভাকার’। যদি দীর্ঘদিন কোন পাথর থাকে, তাহলে পাথরের ঘষায় ঘষায় এখানেও মেটাপ্লাসিয়া হতে পারে। কেননা ঘষার উপযোগী তো আঁইশকার কোষ। একই কাহিনী হতে পারে পেশাবের ব্লাডারেও। আবার শ্বাসনালীতে থাকে স্তম্ভাকার কোষ যাদের কাজ শ্লেষ্মা উৎপাদন। শেষপ্রান্তে গ্যাস অণু বিনিময়ের জন্য থাকে আঁইশাকার। ধূমপানের কারণে যে ক্যান্সার হয় তা মূলত নিকোটিনের কারণে না, তামাকের অন্যান্য উপাদানের কারণে, যেমন টার, বেনজিন। এসব কেমিক্যাল সহ্য করা স্তম্ভাকার কোষেরও কাজ নয়, একস্তর আঁইশেরও কাজ নয়।
.

বামে শ্বাসনালীর মূল স্তম্ভ কোষ, ডানে আঁইশাকার ক্যান্সার কোষ

কেমিক্যাল সহ্য করতে চাই ত্বকের মত বহুস্তর আঁইশাকার কোষ, তাও আবার উপরে থাকতে হবে জড় কেরাটিন স্তর। ফলে এখানেও হবে মেটাপ্লাসিয়া। এবং ক্যান্সারে রূপ নেবে যদি কেমিক্যাল টর্চার চলতেই থাকে। স্তম্ভগুলো আঁইশে রূপান্তরিত হয়ে যে ক্যান্সার হবে তাকে বলে ‘আঁইশাকার কোষ ক্যান্সার’ (Sqamous Cell Carcinoma, SCC)। আর আঁইশগুলো ঘনকাকার হয়ে যে ক্যান্সার হবে তার নাম ‘ঘনকাকার কোষ ক্যান্সার’(Small Cell Carcinoma)। আশা করি এতটুকু ক্লিয়ার।
.

যোনির ভিতরের আবরণ (মাল্টিলেয়ার আঁইশ কোষ)

বহিঃসারভিক্স ও যোনির আবরণ মাল্টিলেয়ার আঁশ কোষ ঘর্ষণ উপযোগী

এবার মূল আলোচনা শুরু। পয়লা আমরা যোনিপথের (Vagina) গঠন দেখব। এটা একটা নালী বা টিউবের মত অঙ্গ। স্বাভাবিক অবস্থায় এর দৈর্ঘ্য থাকে ২.৭৫ ইঞ্চি থেকে ৩.২৫ ইঞ্চি। আর নারীর উত্তেজিত অবস্থায় বেড়ে দাঁড়ায় ৪.২৫-৪.৭৫ ইঞ্চি। [1] পুরো যোনিপথ তো বটেই, সেই সাথে পুরুষাঙ্গ যেখানে গিয়ে ধাক্কা দিতে পারে, মানে সারভিক্সের যে অংশ যোনিপথের দিকে বেরিয়ে থাকে (Ectocervix), সে অংশও মাল্টিলেয়ার আঁইশ কোষে আবৃত (ঘর্ষণ উপযোগী)। যদিও মূল সারভিক্সের (Endocervix) আবরণ একস্তর স্তম্ভ কোষের [2]। বামের ছবিতে দেখুন যোনিপথ ও বহিঃসারভিক্সের মাল্টিলেয়ার আঁইশ কোষ দেখা যাচ্ছে।
আর ডানের ছবিতে দেখুন জরায়ুর একটা অংশ যোনিপথের দিকে বেরিয়ে আছে। ঐ অংশটাও (বহিঃসারভিক্স) যোনিপথের মত একই ঘর্ষণযোগ্য মাল্টিলেয়ার আঁইশ কোষ আবরণ দিয়ে আবৃত।

 

পায়ুপথ ও মলদ্বার

এবার, পায়ুর গঠনটা দেখি চলেন। ছবিটা দেখতে হবে খুব ভালো করে। পায়ু একটা নালী (Tube)। মাঝখান থেকে লম্বালম্বি চিরে ফেললে এমন দেখাবে। ছোট ছোট ঢেউয়ের মত কাল দাগ দেয়া আছে দেখেছেন? ঐ বর্ডার থেকে লোমওয়ালা বর্ডার পর্যন্ত এলাকাটা হল ‘পায়ুপথ’ (Anal canal), মাত্র ৪ সে.মি. (৩-৫ সেমি) [3]। এই এলাকাটুকু মার্ক করে ‘Anoderm’ লেখা আছে, মানে হল এখানে আবরণ আমাদের চামড়ার মতই, কেবল লোম-ঘামগ্রন্থি এসব নেই। এর উপর থেকে রেক্টাম বা মলাশয় শুরু। মানে হল কালো ঢেউ ঢেউ দাগের নিচের টুকু জড় কেরাটিন যুক্ত মাল্টিলেয়ার আঁইশাকার কোষের আবরণ (ত্বকের মত), আর উপরের অংশ রেক্টামে একস্তর স্তম্ভটাইপ কোষের আবরণ (পৌষ্টিকনালীর বাকি অংশের মত) [4]

মলদ্বার ও পায়ুপথের আবরণী হঠাৎ পরিবর্তন

.

ডানের  ছবিতে তীর চিহ্নিত অংশে লক্ষ্য করুন, আবরণ হঠাৎ বদলে গেছে। বাম পাশে গোল গোল শ্লেষ্মাগ্রন্থি বিশিষ্ট পরিপাক আবরণী (digestive epithelium), আর ডানে মাল্টিলেয়ার আঁইশ টাইপ কোষ। বামে রেক্টাম, আর ডানে পায়ুপথ। আগের ছবিতে দেখেন সুপরিসর রেক্টাম থেকে বেশ চিকন পায়ুপথে মল আসার সময় বেশ ঘর্ষণের ঘটনা ঘটে, তাই মাল্টিলেয়ার আঁইশ দেয়া হয়েছে। এখন আমার কথা হলঃ

১.
এখানে আমরা দেখলাম, পায়ুপথের মাত্র ৪-৫ সেমি জায়গা ঘর্ষণ উপযোগী। পরের এলাকাগুলো মোটেও ঘর্ষণ উপযোগী নয়। পুরুষের গড় উত্থিত লিঙ্গের দৈর্ঘ্য ৫ ইঞ্চি, আমরা এক ইঞ্চি কমিয়ে ধরলাম। ৪ ইঞ্চি মানে ১০ সেমি। মানে লিঙ্গের বাকি ৫ সেমি গিয়ে আঘাত করবে রেক্টামের স্তম্ভাকার কোষের আবরণে, যা ঘর্ষণের জন্য অনুপযোগী। আর আমরা আগেই দেখেছি যে কাজের জন্য যা উপযোগী না, সেখানে সে কাজ হলে মেটাপ্লাসিয়া ঘটে। কোষের ধরন বদলে যায়, যা উপযুক্ত পরিবেশে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। সমকামীদের মলদ্বারের ক্যান্সারের ঘটনা সাধারণ মানুষের চেয়ে ২০ গুণ বেশি। [5] আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি জানাচ্ছে, পায়ুমিলন পায়ুক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায়। আরও বেশি সম্ভাবনা বাড়ে সমকামী পায়ুমিলনে।[6]
.
২.
যেহেতু এমন জায়গায় গিয়ে আঘাত হচ্ছে যা একস্তরী স্তম্ভ কোষ, মাল্টিলেয়ার না। ফলে প্রতিবার সেক্সে ইনজুরি হবেই। আবরণী ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। ফলে এইডস ভাইরাস, প্যাপিলোমা ভাইরাস ইনফেকশন ছড়ায় দ্রুত। এইডস তো এইডস-ই, আর প্যাপিলোমা ভাইরাস-ই মূলত ৮০-৯০% মলদ্বারের ক্যান্সারের জন্য দায়ী [7]
.
৩.
টিউমার-এর খারাপ জাতটাকেই (malignant) বলে ক্যান্সার। টিউমার বড় হতে সাহায্য করে আমাদের দেহে উৎপন্ন প্রোস্টাগ্লান্ডিন (PG) নামক কেমিক্যাল গ্রুপের PGE2 ও PGF2. আর টিউমার তৈরি শুরু হতে সাহায্য করে PGE2, PGF2, ও PGE1. এবং এই ৩ ধরনের PG-ই অত্যধিক পরিমাণে আছে বীর্যে। দেহস্থ অন্য যেকোন রস বা টিস্যুর চেয়ে বেশি। [8] মানে বীর্য সহ্য করার ক্ষেমতাও পায়ুর নেই, যা জরায়ুর আছে।
.
৪.
এবার একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মতামত তুলে ধরব। ডাক্তার Stephen E. Goldstone, MD সাহেব Mount Sinai School of Medicine, New York এ assistant clinical professor হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এবং তিনি gayhealth.com এর মেডিকেল ডিরেক্টর। তিনি ২০০০ সালের American Society of Colon and Rectal Surgeons এর বার্ষিক সম্মেলনে বলেন, ১৯৯৭ সালের আগে আমি আমার পুরো ক্যারিয়ারে একটা পায়ু ক্যান্সারের রোগী পেয়েছি। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত আমি আমার চেম্বারে রেফার হয়ে আসা ২০০ পুরুষ রোগীর ডাটা সংগ্রহ করি। এদের সবাই নন-ক্যান্সার সমস্যা নিয়ে এসেছিল। এদের ৬৬% ছিল এইচআইভি পজেটিভ। বায়োপসি করে পেলাম, এদের ৬০% এর হাইগ্রেড আঁইশ কোষের টিউমার ক্যান্সার যা এখনও ছড়িয়ে পড়েনি (high-grade squamous intraepithelial lesions (HSIL) আর ৩% এর পেলাম ছড়িয়ে পড়া (invasive) ক্যান্সার। যদিও এদের কারোরই ক্যান্সারের লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। [9] ফাইনালি তিনি সিদ্ধান্ত দেন, সমকামী পুরুষেরা পায়ুপথের যেকোন সমস্যা নিয়ে এলেই তাদের গভীর পরীক্ষা (aggressive screening) করা দরকার। হতে পারে ভিতরে ক্যান্সার-পূর্ব আরও মারাত্মক কোন সমস্যা লুকিয়ে আছে।
.
৫.
পায়ুপথের অধিকাংশ ক্যান্সার Adenocarcinoma টাইপ, মানে গ্ল্যান্ড টাইপ। আঁইশকোষ ক্যান্সার (Sqamous Cell Carcinoma, SCC) খুব বিরল। কিন্তু অধুনা এই আঁইশকোষ ক্যান্সার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান University of California-র professor of clinical pathology জনাবা Teresa M. Darragh, MD ও associate director for gynecologic pathology জনাবা Barbara Winkler, MD.[10]
এই ক্যান্সার হচ্ছে ঠিক যে জায়গায় স্তম্ভাকার-টু-আঁইশাকার চেঞ্জটা হয়েছে তার সংলগ্ন উপরের অংশে যেখানে পুরোটাই স্তম্ভকোষ (squamo-columnar junction with the rectal columnar mucosa)। তাঁরা বলেন, পায়ুমৈথুনে (receptive anal intercourse) আঘাত-ইনজুরি-মেরামত চলতে থাকে, যা মেটাপ্লাসিয়া প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। (In this area of transition, there is active changeover of columnar epithelium to squamous epithelium through the process of squamous metaplasia. This process is accelerated by trauma, healing, and repair such as might be expected to occur with receptive anal intercourse.)
.
‘পায়ুপথ ও মলদ্বার’ ছবিটা আবার দেখুন। কালো জিগজ্যাগ দাগটা হল সেই জাংশন। এর উপরে শার্পলি স্তম্ভকোষ শুরু, নিচে শার্পলি মাল্টিলেয়ার আঁইশ কোষ শুরু। দাগের ঠিক উপরের জায়গাটাতেই মেটাপ্লাসিয়া বেশি হয় আমরা জানলাম, সমকামীদের ক্ষেত্রে। দেখেন এই জায়গাটা বাকি রেক্টামের চেয়ে উঁচু, লম্বা লম্বা ভার্টিকাল ভাঁজ আছে । মানে ঘষা এখানে লাগে বেশি, বাকি রেক্টামের চেয়ে। যা ঘষা লাগার জন্য তৈরি হয়নি, তাতে ঘষা লাগতে লাগতে একসময় তাই ঘটে যা আমরা আগে বলেছি—মেটাপ্লাসিয়া। এই মেটাপ্লাসিয়া থেকে হচ্ছে এই ক্রমবর্ধমান হারে আঁইশ কোষ ক্যান্সার।
.

৬.

এবার বামের ছবির নীল রঙের জায়গাটা লক্ষ্য করুন। নীল যেগুলো দেখছেন, এগুলো শিরা, উচু জায়গাটাকে বলে ‘কুশন’ (coushion)। এখানে যে বিখ্যাত অসুখটা হয়, তার নাম আপনারা সবাই জানেন— পাইলস (haemorrhoid)। দেখুন, ঐ নীল অংশটাই বেড়ে গোটার মত হয়েছে।
.

দুটো ভিন্ন রক্ত পরিবহন সিস্টেমের মিলনস্থল (Porto-systemic anastomosis)

পায়ুর এই জায়গাটা অতিমাত্রায় রক্তনালীসমৃদ্ধ। দুটো ভিন্ন রক্ত পরিবহন সিস্টেমের মিলনস্থল এটা (Porto-systemic anastomosis)। আবরণীর নিচেই রয়েছে প্রচুর রক্তজালক (venous plexus)। আঘাত/ঘর্ষণের জন্য এ জায়গাটা মোটেই নিরাপদ না। আসলে এই শিরাজালিকা চওড়া হয়ে ও মোটা হয়ে ঝুলে পড়ে হয় পাইলস।
.
পাইলসের কারণগুলো যদি আমরা দেখিঃ [11]
.
- শিরা থেকে কম রক্ত ব্যাক করাঃ দীর্ঘসময় টয়লেটে বসে থাকা, গর্ভাবস্থা, পায়ুপেশীর অধিক সংকোচন
- কোষ্ঠকাঠিন্য 
- পেটে অধিক চাপ দেয়া
- গর্ভাবস্থা- পারিবারিক ইতিহাস
- Lack of erect posture
- Familial tendency
- Higher socioeconomic status
- Chronic diarrhea
- Colon malignancy
- Hepatic disease
- Obesity
- Elevated anal resting pressure
- Spinal cord injury
- Loss of rectal muscle tone
- Rectal surgery
- Episiotomy
- Anal intercourse *****
- Inflammatory bowel disease, including ulcerative colitis, and Crohn disease  
তাহলে দেখা গেল পাইলসের একটা কারণ হল পায়ুসঙ্গম। পায়ুসঙ্গম নিজেই অনেকগুলো রোগের কারণ। এটা ন্যাচারাল বিহেভিয়ার হলে তা এতো অসুখবিসুখের কারণ হবে কেন? ন্যাচার সাপোর্ট করে না বলেই তো এত সমেস্যা। ন্যাচারের বিরুদ্ধে যায় বলেই তো ন্যাচার বিদ্রোহ করে।
.
৭.
রয়টার্সের রিপোর্ট। ৬১৫০ জন নরনারীর ডাটা বিশ্লেষণ করলেন গবেষকগণ। এদের ৩৭% মহিলা একবার হলেও পায়ুসঙ্গম করেছেন। আর ৫% পুরুষ পাওয়া গেল যারা একবার হলেও পায়ুসঙ্গম করেছেন। প্রধান গবেষক Dr. Alayne Markland, University of Alabama জানান, পায়ুসঙ্গমের সাথে ‘পায়খানা ধরে রাখতে না পারা’র (fecal incontinence) সম্পর্ক আছে। এবং সেটা মেয়েদের চেয়ে পুরুষের ক্ষেত্রে বেশি। এই ৩৭% মহিলার ৫০% এরই মাসে একবার হলেও fecal incontinence হয়, মানে কাপড় নষ্ট হয় আর কি। আর পুরুষের ৩ গুণ বেশি হয় এই দুর্ঘটনা, প্যান্ট ভরায়ে ফেলে। [12]
.
৮.
পিরোনীজ ডিজিজ (Peyronie’s Disease) নামে একটা অসুখ আছে। গবেষকগণ মনে করেন, লিঙ্গে ইনজুরি হয়ে লিঙ্গের অভ্যন্তরে রক্তপাত হতে পারে। অনেকসময় ইনজুরি লক্ষ্য করার মত না-ও হতে পারে, তবে ভিতরে রক্তপাত হয়ে থাকে [13]। কারণ লিঙ্গ কোন মাংসপেশী নয়। এটা বিশেষ একধরনের স্পঞ্জের মত টিস্যু যার ভিতরে রক্ত প্রবেশ করে তা শক্ত হয়। আবার রক্ত বেরিয়ে গেলে নরম হয়ে পড়ে। নিচের ছবি দুটো দেখুন। CC-CS লেখা জায়গাগুলো স্পঞ্জের মত রক্ত ধরে রাখে, ফলে শক্ত হয়।

লিঙ্গের প্রস্থচ্ছেদ

লিঙ্গের প্রস্থচ্ছেদ

অত্যধিক পরিমাণে রক্তনালী থাকার কারণে সামান্য ইনজুরি হলেও রক্তক্ষরণ হতেই পারে, আপনার অজ্ঞাতেই। ফলে সেখানে তৈরি হয় স্কার (বাংলায় ‘চল্টা’ বলা যেতে পারে), এদের বলা হয় ‘প্লাক’। ফলে লিঙ্গ বেঁকে যেতে পারে বা এবড়োখেবড়ো হয়ে যেতে পারে। কারো কারও প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে, এমনকি লিঙ্গ উত্থিত হবার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলতে পারে। জানাচ্ছে American Urological Association.[14] Southern Illinois University-র urologist Tobias Köhler, M.D. সাহেব জানাচ্ছেন ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকাকে, বেশি চাপ দিয়ে হস্তমৈথুন করলে হতে পারে এই অসুখটা [15]। তার মানে সামান্য এই ‘হাতের চাপেই’ রক্তক্ষরণ হয়ে যেতে পারে লিঙ্গের ভিতরে, কেউ তো আর কিল-ঘুষি দিয়ে মাস্টারবেশান করে না। বিছানা বা বালিশে ঘষাঘষি তো আরও মারাত্মক ব্যাপার। নিচের টেবিলটা খেয়াল করুনঃ
(ছবির ১ নং রেফারেন্স [16] ছবির ২ নং রেফারেন্স [17] ছবির ৩ নং রেফারেন্স [18])
.
167 mm Hg মানে 22264.8 প্যাসকেল চাপ। অর্থাৎ ৩.২২ পাউন্ড ওজন এক বর্গইঞ্চিতে যে পরিমাণ চাপ দেয়। মানে ১.৪৬ অর্থাৎ প্রায় দেড় কেজি একটা বাটখারা লিঙ্গে বেঁধে দিলে যে চাপ অনুভব হবে অতখানি চাপ দেয় মলদ্বার সংকোচন (লিঙ্গের গোড়ার ক্ষেত্রফল এক বর্গইঞ্চি ধরেছি)। অনেক প্রেসার। লিঙ্গের মত সেন্সিটিভ অঙ্গের জন্য এটা অনেক প্রেসার। লিঙ্গ প্রবেশনের জন্য মলদ্বার খুবই রিস্কি জায়গা। মলদ্বারের চাপ নেবার মত ক্ষমতা নেই পুরুষাঙ্গের। আর স্কুইজ ছাড়া সারাক্ষণ প্রেসার থাকে ৭৭০ গ্রাম ওজন ঝুলিয়ে দিলে যেমন লাগবে, তেমন। হস্তমৈথুনেও এত চাপ দেয়া হয় না। নিঃসন্দেহে পেনিসে ইনজুরি হতেই হবে। পেনিস আর মলদ্বারে ইনজুরি না করে সমকাম করা অসম্ভব।
.
আমরা পায়ুপথে আঙুল দিয়ে একটা পরীক্ষা করি (Digital Rectal Exam, DRE)। তখন টের পাওয়া যায়, কত শক্তভাবে মলদ্বার চাপ দেয়। এছাড়া একটা স্বয়ংক্রিয় সংকোচন আছে মলদ্বারের যাকে বলে Anal Reflex/Anal wink. অর্থাৎ পায়ুর আশেপাশের ত্বকে কোন খোঁচা/ চিমটি দিলে পায়ু সংকোচন হয়। [19] পায়ুমৈথুনে এই চাপ অতিক্রম করে চাপের বিরুদ্ধে লিঙ্গ প্রবেশ ও চালনা করাতে হয়। আবার ভিতরেও রেস্টিং প্রেসারের বিপরীতে লিঙ্গচালনা করতে হয়। সেখানে প্রচুর শিরাজালকের উপস্থিতিও আমরা দেখলাম। মোদ্দাকথা লিঙ্গ ও পায়ুর দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্যমান ইনজুরি না করে পায়ুমৈথুনের কোন সুযোগই নেই।
.
এজন্যই পায়ুমৈথুনে ২০ গুণ বেশি এইডসের সম্ভাবনা । আর এই রিস্ক আরও বাড়ে যদি আগে থেকেই রেক্টামে কোন ইনফেকশন থাকে [20]। আর আমরা দেখলাম, ইনজুরি ছাড়া পায়ুমৈথুন অসম্ভব। এক তো আবরণ ঘর্ষোণোপযোগী না, সিঙ্গেল লেয়ার, তার উপর আবার প্রেসার বেশি, ইনপুট প্রেসারও দিতে হবে বেশি, আবার রক্তজালিকা বেশি। তার উপর এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জীবাণু প্রজাতি E. coli যারা রক্তে এন্ট্রি পেলেই ইনফেকশন করে।
.
৯.
যোনিপথের Skene’s ও Bartholin’s গ্রন্থি থেকে প্রচুর পিচ্ছিল তরল নির্গত হয়। একজন মহিলার কোন উত্তেজনা ছাড়াই প্রতিদিন ১.৫ গ্রাম তরল বের হয়। আর উত্তেজিত হলে তা বহুগুণে বেড়ে যায় (arousal fluid)। আর অর্গাজমের সময় তা আরও বৃদ্ধি পায় [21]
.
যোনিপথের মত পায়ুতে যথেষ্ট পিচ্ছিলকারকের উৎপাদনও নেই, ফলে প্রচুর লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করতে হয়। অনেক বিজ্ঞ সমকামী ভাইয়া বলতে পারেন, জেলী ব্যবহার করলেই তো আর আঘাত-ঘর্ষণের ফলে ইনজুরি আর হলো না। আচ্ছা, ২০১০ সালে International Conference on Microbicides এ ২ টা গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। ৪৭ টি দেশের সহস্রাধিক মাইক্রোবায়োলজিস্ট অংশ নেন। এই দুটি রিপোর্টের সারমর্ম হল, পায়ুকামে জেলী (lubricants) ব্যবহারে এইডসের রিস্ক আরও বাড়ে [22]। একটিতে বাল্টিমোর ও লস এঞ্জেলসের ৯০০ পুরুষ ও মহিলার ডেটা নেয়া হয়। গবেষকগণ দেখেন, যারা জেলী ব্যবহার করে তারা ৩ গুণ বেশি যৌনবাহিত রোগের (rectal sexually transmitted infections) ঝুঁকিতে আছে। আরেকটা স্টাডি বলছে, জনপ্রিয় জেলীগুলোকে ল্যাবে নিয়ে দেখা গেছে, সেগুলোর অনেকগুলো রেক্টাল কোষের জন্য মরণঘাতী (toxic)। যার ফলে এগুলো ব্যবহারে এইডসের ভাইরাসের প্রবেশ হয় আরও সহজ। এমনকি পুরুষ না কি নারী, এইডস আছে না কি নেই, কোন শহরে থাকে, কনডম ইউজ করে কি না, গত মাসে কতজন যৌনসঙ্গীর সাথে মিলিত হয়েছে— এই সবগুলো ফ্যাক্টরকে সমান সমান নিয়েও দেখা গেছে, পায়ুমৈথুনের (receptive rectal intercourse) আগে জেলী (lubricant) ব্যবহার করার সাথে পায়ুর যৌনবাহিত রোগের সম্পর্ক জোরালোই রয়ে গেছে। (Even after controlling for gender, HIV status, city, condom use, and number of sex partners in the past month, the association between use lubricant before receptive rectal intercourse and rectal STIs remained strong) জানাচ্ছেন গবেষকদলের প্রধান Dr Pamina Gorbach যিনি School of Public Health এবং University of California, Los Angeles-এর David Geffen School of Medicine-এর একজন চিকিৎসক।
.
University of Pittsburgh ও Magee-Womens Research Institute এর Charlene Dezzutti, Ph.D এর নেতৃত্বে পরিচালিত আরেকটা গবেষণার রিপোর্টে বহুল প্রচলিত ৬ টা জেলী নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে,

– এতে অনেক বেশি পরিমাণে লবণ ও শুগার থাকে যা কোষের পানি টেনে নেয়। ডিহাইড্রেশান হয়ে মারা যায় আবরণী কোষ। ইনফেকশনের জায়গা করে দেয়।
– আবার কোনটা পায়ুর ভালো ব্যাকটেরিয়ার পুরো বসতিই জ্বালিয়ে দেয়। ফলে খারাপ ব্যাকটেরিয়া আসার সুযোগ পায়।
.
মোটকথা, যোনিতে যেখানে প্রচুর লুব্রিক্যান্ট ক্ষরণের ব্যবস্থা আছে, সে তুলনায় পায়ুতে প্রায় জিরো। লুব্রিক্যান্ট নিয়েও শেষরক্ষা নেই, ইনফেকশান হবেই। কেননা আগেই দেখেছি, কেমিক্যাল সহ্য করার জন্য চাই মাল্টিলেয়ার আঁইশ কোষের আবরণ। রেক্টামের একস্তর স্তম্ভকোষ মারা যাবে অহেতুক কেমিক্যাল টর্চারে।

.

সামারিঃ

মেয়েদের সমকামিতায় প্রবেশন (penetration) নেই বলে একে প্রকৃত মিলন বলা হয় না, তাই আজকের আলোচনায় জায়গা পায়নি। আর পুং সমকামিতা ছাড়াও নারীর সাথে পায়ুমৈথুনও আমাদের আলোচনার আওতায় এসেছে। মোদ্দাকথা, মানবদেহের প্রাকৃতিক গঠন সমকামিতার বা পায়ুমিলনের সাথে যায় না, এটা স্বাভাবিক প্র্যাকটিস না। কোনভাবেই প্রাকৃতিক তো নয়ই, বরং প্রকৃতিবিরুদ্ধ, যার বহিঃপ্রকাশ প্রাণঘাতী রোগ উৎপাদন (disease process).
.
আমরা ফরেনসিক মেডিসিন বইয়ে ‘প্রকৃতিবিরুদ্ধ যৌন অপরাধ’ (Unnatural Sexual Offence) অধ্যায়ে সমকামিতা, পশুকামিতা এসব পড়েছি, ইন্ডিয়ান রাইটারের লেখা বই। আজ ইন্ডিয়া সমকামিতার মত ‘প্রকৃতিবিরুদ্ধ যৌন অপরাধ’-কে অপরাধের লিস্ট থেকে উঠিয়ে দিলেই এর প্রকৃতিবিরুদ্ধতা চলে যাবে, প্রকৃতিবান্ধব হয়ে যাবে, তা না। যা টের পাবে প্রতিটি সমকামী তাদের জীবনের কোন এক পর্যায়ে। ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহর গুণবে আর স্মরণ করবে সেই সব অগ্নিঝরা দিনগুলোর কথা, আর অপেক্ষা করবে সামনের অগ্নিঝরা ভবিষ্যতের।
.
আর তিনারাই তো বিশ্বাস করেন— সারভাইভাল ফর দ্য ফিটেস্ট। পায়ুমিলনে তো ফিটেস্ট কোন প্র্যাকটিস না, প্রজাতির ধারা রক্ষায় এর কোন ভূমিকা নেই। সমকামীরা সামাজিক ও নৃতাত্ত্বিকভাবে আনফিট। মানবসমাজ ও মানবপ্রজাতি রক্ষায় তাদের কোন ভূমিকা নেই। এখন এই আনফিট অংশ মানবপ্রজাতির জন্য অপচয়, ওয়েস্টেজ। আগে হলে হিটলার ও স্ট্যালিন ‘সোশ্যাল ডারউইনিজম’ (আনফিট জনসংখ্যাকে সমাজ থেকে ঝেড়ে ফেলা) এপ্লাই করত। ভবিষ্যতে এরাও একা একাই বিলুপ্ত হয়ে যাবে, তবে সমাজে যেন এদের প্রভাব না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। সমকামিদের প্রতি ইসলামের বিধান এজন্যই দেয়া হয়েছে, যাতে এই ভয়ংকর আনন্যাচারাল রোগ সমাজে ছড়াতে না পারে। টপ ও বটম দুজনকেই হত্যা করার বিধান দেয়া হয়েছে, কেননা একজন বেঁচে থাকলেই সে আরেকজনকে প্ররোচিত করবে। ইসলামী শাসনব্যবস্থা না থাকায় এই ভয়াবহ অপরাধীদের থাবা থেকে সমাজ আজ নিরাপদ নয়। প্রতিকার সম্ভব নয় বলে আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে এই ঘাতক ব্যাধি। আমার আপনার সন্তান যেন এই অপরাধের শিকার না হয়, এই ব্যাধিতে আক্রান্ত না হয়। নোট বেশি বড় হয়ে যাচ্ছে বলে আলোচনা এখানেই শেষ করছি। সমকামিতা প্রতিরোধ, কারণ, করণীয় সম্পর্কে একজন যুগসচেতন আলিমের লেখা আশা করছি। এ বিষয়ে আমার মনের কথাগুলো আমি চাই একজন আলিম বলুক। কিছু বিষয়ে কথা বললে নিজের গায়েই থুথু এসে পড়ে। আত্মসমালোচনার দিক দিয়ে উলামাদের লেখনী এ বিষয়ে আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ।
.

শেষকথাঃ

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিখ্যাত হাদিসটা মনে আছে না তাবারানী শরীফের সূত্রেঃ হে ইবনে মাসঊদ, কিয়ামাতের আলামত ও শর্তগুলো হল— এরপর আল্লাহর রাসূল একের পর এক কিয়ামাতের আলামাতসমূহ উল্লেখ করতে থাকেনঃ
.
- শিশুরা হয়ে যাবে ক্ষিপ্ত, দুর্ব্যবহারকারী
- বৃষ্টি হবে জ্বালাময় (এসিড রেইন)
- মানুষ যোগাযোগ করবে থালার সাহায্যে (ডিশ এন্টেনা)
- এজন্য আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হবে
- বাদ্যযন্ত্র থাকবে মানুষের মাথার উপর (হেডফোন)
- তাদের হৃদয়ে ফিতনা প্রদর্শন করা হবে ‘ম্যাট’ এর মত (টিভি) 
- নেতৃত্ব থাকবে সমাজের নিকৃষ্ট লোকদের হাতে
- চোরকে সাধু ও সাধুকে চোর মনে করা হবে
- মুমিনকে ছাগলের চেয়েও বেইজ্জত করা হবে
- তাদের চুল থাকবে ‘বুখতি উট’ এর মত (Bactrian Camel)
- আধুনিক ঘোড়া কাট
ভাবার্থ বললাম, এরকম আরও কিছু লক্ষণ উল্লেখ করেন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তার মধ্যে একটা ছিল— আর রিজালু বির রিজাল, ওয়ান নিসাউ বিন নিসা। পুরুষ পুরুষের সাথে মিলিত হবে, আর নারী নারীর সাথে।
.
১৪০০ বছর আগেই নবীজীকে জানানো হয়েছিল, কওমে লুত (আঃ) যেমন অফিসিয়ালি সমকাম প্র্যাকটিস করত, ১৪০০ বছর পরে তেমনি অফিসিয়ালি আবার ফিরে আসবে সেই ঘৃণ্য পাপাচার। কী? টেনশন? টেনশন লেনেকা নেহি, স্রেফ দেনে কা হ্যায়। বিজয় ঈমানওয়ালাদেরই হবে নিশ্চিত। সে বিজয়ে আমার কী অবদান রইল, সেটাই টেনশনের বিষয়।
সুবহানাল্লাহ।
সাদাকা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আলহামদুলিল্লাহি আলা দীনিল ইসলাম।
.

রেফারেন্সঃ

[1] https://www.webmd.com/women/features/vagina-size#1
[2] Junqueira’s Basic Histology – Text and Atlas (13th Ed), Page 1031, 1034
[3] https://emedicine.medscape.com/article/1990236-overview
[4] Junqueira’s Basic Histology – Text and Atlas (13th Ed), Page 709-710
[5] Daling, J., Weiss, N., Hislop, T., Maden, C., Coates, R., Sherman, K., et al. (1987). Sexual practices, sexually transmitted diseases, and the incidence of anal cancer. The New England Journal of Medicine, 317(16): 973–7.অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব এইডস অর্গানাইজেশান এর সাইট (https://www.afao.org.au/article/gay-men-anal-cancer/#n17)
[6] https://www.cancer.org/cancer/anal-cancer/causes-risks-prevention/risk-factors.html
[7] ঐ আর্টিকেলেই আছে। বরাতঃ International Journal of Cancer এর দুইটি রিসার্চ পেপার। (1) De Vuyst, H., Clifford G., Nascimento, M., Madeleine, M., Franceschi, S. (2009). Prevalence and type distribution of human papillomavirus in carcinoma and intraepithelial neoplasia of the vulva, vagina and anus: a meta-analysis. International Journal of Cancer, 124(7), 1626–36.(2) Hoots, B., Palefsky, J., Pimenta, J., Smith, J. (2009). Human papillomavirus type distribution in anal cancer and anal intraepithelial lesions. International Journal of Cancer, 124(10), 2375–83.
[8] Journal of American Medical Association (JAMA) এর
[9] http://www.cancernetwork.com/gastrointestinal-cancer/anal-cancer-incidence-rising-homosexual-men
[10] http://www.captodayonline.com/Archives/pap_ngc/NGC_analrectalcyto.html
[11] https://emedicine.medscape.com/article/775407-overview#a6
[12] American Journal of Gastroenterology, published online January 12, 2016 এর বরাতে রয়টার্স https://www.reuters.com/article/us-health-analsex-incontinence-idUSKCN0VD2RH
[13] https://www.webmd.com/men/peyronies-disease#1
[14] https://www.urologyhealth.org/urologic-conditions/peyronies-disease
[15] https://nypost.com/2016/02/01/if-this-happens-to-you-youre-masturbating-too-much/
[16] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3968922/
[17] https://obgyn.onlinelibrary.wiley.com/doi/abs/10.1034/j.1600-0412.2001.801003.x
[18] https://www.researchgate.net/figure/Recordings-of-vaginal-squeeze-pressure-measured-by-fiberoptic-microtup-transducer_fig1_286686766
[19] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/books/NBK424/
[20] https://www.sciencedaily.com/releases/2010/05/100525094900.htm
[21] Lentz, Gretchen M. (2012). Comprehensive Gynecology (6th ed.). Philadelphia, PA: Elsevier. pp. 532–533.
[22] https://www.sciencedaily.com/releases/2010/05/100525094900.htm

সত্য বলতে লজ্জা নেই

সত্য বলতে লজ্জা নেই

পুরুষ যেন নারীর প্রতি আকর্ষিত হয়, এভাবেই নারীকে সৃজন করা হয়েছে। নারীদেহের গড়নের প্রতি পুরুষের দুর্বলতা আছে। পুরুষের গড়নের প্রতিও নারীর দুর্বলতা আছে, এটা সিস্টেম। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক যে আপনাকে একটা মেয়ে আঁকতে দিলে আপনি শরীরের বাকি অংশের চেয়ে কোমর সরু করে আঁকবেন। বয়ঃসন্ধিকালে নারীর ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোন বেরিয়ে পুরো দেহে নানান জায়গায় প্রভাব ফেলা শুরু করে। ফলে কন্ঠস্বর চিকন হয়, ত্বকের নিচে চর্বিস্তর জমে শরীর নরম-মোলায়েম হয়, ত্বক মসৃণ হয়, স্তন-নিতম্ব-উরুতে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়ে ‘নারীসুলভ’ আকার (Feminine Contour) চলে আসে। এবং এই উঁচুনিচু জিওগ্রাফি পুরুষকে আকর্ষণ করে, তাদের কাছে ভালো লাগে।গবেষকরা বলেছেন, চেহারার সৌন্দর্যের চেয়ে পুরুষ বেশি গুরুত্ব দেয় ফিগারকে। বিশেষ করে ‘বালুঘড়ি’র মত গড়ন (hourglass figures)। এবং এই অনুভূতি হতে পুরুষের মগজ সময় নেয় সেকেন্ডেরও কম সময়। মানে সেকেন্ডের কম সময়ে [ড] একজন পুরুষ একটা মেয়ের ফিগার দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, মেয়েটি আকর্ষণীয় কি না। তাদের মতে, মেয়েদের নিতম্ব ও কোমরের অনুপাত (waist-to-hip ratio) ০.৭ হলে সেটা হল সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিগার। এবং এই অনুপাত নারীর সুস্থতা ও উর্বরতার জন্যও ভাল। বিভিন্ন কালচারে এই অনুপাত ০.৬-০.৮ এর মধ্যে [1]

 

                                                                                    বালুঘড়ি
New Zealand-এর Victoria University of Wellington –এর অধীন School of Biological Sciences এর নৃতাত্ত্বিক Dr Barnaby Dixson এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয় Archives of Sexual Behaviour -এর 2011তে ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় (শিরোনাম: Eye-tracking of men’s preferences for waist-to-hip ratio and breast size of women.) [2]। একই নারীর ছবিতে বুক, কোমর ও নিতম্বের মাপকে বাড়িয়ে কমিয়ে ভলান্টিয়ারদের দেখানো হয়। ইনফ্রারেড ক্যামেরার দ্বারা তাদের চোখ কোথায় কতবার আটকাচ্ছে দেখা হয় (numbers of visual fixations), কতক্ষণ কোথায় আটকে আছে তা দেখা হয় (dwell times), প্রথমবারেই কোথায় আটকাচ্ছে (initial fixations) তাও দেখা হয়। তারা পেলেন, সব পুরুষের চোখ প্রথমেই নারীর যে অঙ্গে আটকায় তা হল বুক আর কোমর। সবচেয়ে বেশি সময় আটকে থাকেও এই দুই জায়গায়। তবে বার বার তাকিয়েছে এবং বেশিক্ষণ ধরে তাকিয়েছে বুকের দিকে, কোমর-হিপের মাপ যাই হোক। আর মার্কিং করার সময় বেশি আকর্ষণীয় হিসেবে মার্ক দিয়েছে চিকন কোমর ও ‘বালুঘড়ি’ শেপের ফিগারকে, স্তনের মাপ যাই হোক। ডেইলিমেইল [3] ও টেলিগ্রাফ পত্রিকায়ও এসেছে গবেষণাটি [4]। তাহলে বুঝা গেল, পুরুষের সব আকর্ষণের কেন্দ্র তিনটা জায়গা [ঢ]। বয়সন্ধিকালে ইস্ট্রোজেন হরমোনের কারণে যে নারীসুলভ প্যাটার্নে চর্বি জমে (Female distribution of fat) তার ফলেই তৈরি হয় এই নারীসুলভ গড়ন। কেউ যদি অধিকাংশ পুরুষের দৃষ্টির উদ্দীপক হতে না চায়, অলক্ষ্যে থাকতে চায় তাহলে এমন পোশাক পরিধান করতে হবে যাতে এই টিপিক্যাল ‘বালিঘড়ি’ শেপ অস্পষ্ট হয়ে যায়, নারীদেহের উঁচুনিচু যেন বুঝা না যায়। এবার ৭ জন মেয়েকে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। তাদের ওজন না কমিয়ে কেবল কোমরের চর্বি কেটে নিতম্বে লাগিয়ে দেয়া হয়, সুন্দর শেপ দেয়ার জন্য। এবার এই মেয়েগুলোর সার্জারির আগের ছবি আর সার্জারির পরের ছবি দেখানো হয় বছর পঁচিশেক বয়েসের ১৪ টা ছেলেকে। তাদের ব্রেইন স্ক্যান করে পাওয়া গেল কী জানেন? আমাদের ব্রেইনে ‘Reward Center’ নামে একটা কেন্দ্র আছে। দেখে নেন, ১ নং জায়গাটার নাম VTA (Ventral Tegmental Area), ২ নং জায়গাটার নাম (nucleus accumbens) , আর ৩ নং জায়গাটা হল ফ্রন্টাল কর্টেক্স যা আমাদের ব্যক্তিত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। এই তীর চিহ্নিত রাস্তার নাম ‘Dopamin Pathway’। এই জায়গাগুলোতে যে নার্ভকোষ থাকে তারা ‘ডোপামিন’ নামক নিউরোহরমোন ক্ষরণ করে ৩ নং জায়গায় উত্তেজনা তৈরি করে।

 

                                                                           রিওয়ার্ড সেন্টার
আর ২ নং জায়গাটা আসক্তি সৃষ্টির জায়গা (highly sensitive to rewards and is the seat of addictive behavior)। আমাদের মগজ সব ধরনের আনন্দের অনুভূতি এভাবে তৈরি করে, সেটা বেতন-বোনাস-লটারী জেতাই হোক, যৌনমিলন হোক, কিংবা হোক নান্নার কাচ্চি, অথবা নেশাদ্রব্য [5]। তবে ড্রাগ এ এলাকায় ডোপামিনের বন্যা বইয়ে দেয়, ফলে এত আনন্দ হয় যেটা আসক্ত লোক আবার পেতে চায়। এভাবে নেশা বা আসক্তি হয় [6]। এই ১৪ টা ছেলের ব্রেইন স্ক্যান করে পাওয়া গেল, সার্জারি করার পরের ছবি দেখে (এবং কোমর নিতম্বের অনুপাত ০.৭ এর কাছাকাছি) ওদের এই এলাকাগুলো উত্তেজিত হচ্ছে। [ণ] সুতরাং, পর্নোগ্রাফি একটা নেশা। (প্রমাণিত) আমেরিকার Georgia রাজ্যে Gwinnett College-এর Neuroscientist Steven M. Platek সাহেবের এই গবেষণা প্রকাশিত হয় PLoS One জার্নালে 5 ফেব্রুয়ারি, 2010 সংখ্যায় Optimal waist-to-hip ratios in women activate neural reward centers in men শিরোনামে [7]। তিনি Livescience ম্যাগাজিনকে বলেন, পর্নোআসক্তি এবং আসক্ত লোকের পর্নো ছাড়া যে erectile dysfunction (উত্থানরহিত) হয় তার একটা ক্লু হতে পারে এই গবেষণাটি [8]। আমরা দেখলাম, নারীর ফিগার দেখাটা নেশার মত, স্রেফ দেখাটাই [ড+ণ]। সেক্স উত্তেজিত করবে Reward Center-কে এটা তো খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু স্রেফ দেখাটাও একজন পুরুষে ড্রাগের মত অনুভূতি তৈরি করছে, বিষয়টা একটূ লোমহর্ষক না? এবং কারো ফিগার মূল্যায়ন হয়ে এই অনুভূতি তৈরি হতে সময় নিচ্ছে সেকেন্ডেরও কম সময়, এমন না যে একটানা তাকিয়ে দেখার পর এমন হচ্ছে। এবার এর সাথে আপনি মিলিয়ে নিন [ট] University of Arizona-র প্রফেসর Mary P. Koss- এর কথাটা, ধর্ষণ ব্যাপারটা অনেকটা মাত্রা-নির্ভর (Dose). [9] তাহলে আমাদের এই ফিটিং ফ্যাশন, স্বচ্ছ ওড়না, ফিতাওয়ালা বোরকা, উরুর অবয়ব প্রকাশ করে দেয়া লেগিংস কী এক ফোঁটাও দায়ী নয়? একটুও দায়ী নয়? এখন আপনিই হিসেব করুন, আপনি কতজনের কত নম্বর ডোজ হয়েছেন? আপনি কতজনের নেশাদ্রব্য হয়েছেন এ যাবত? আপনার Optimal waist-to-hip ratio কত অগণিত পুরুষের neural reward center-কে ডোপামিনে ভাসিয়েছে? ভিকটিমের পোশাক হয়ত সরাসরি দায়ী নয়, তবে আর যে হাজার হাজার নারী ধর্ষকটার সামনে দিয়ে হেঁটেছে বেসামালভাবে, তাদের ফিটিং স্বচ্ছ পোশাকের দায়, প্রকাশমান দেহাবয়বের দায় তো এড়ানো যাবে না। গবেষণাগুলোর ইঙ্গিত তো তাই বলছে, না কি?

নয়নের আলো

আমরা এই পর্যায়ে একটু জেনে নেব, আমরা কীভাবে দেখি। যেমন ধরেন, একটা লাল আপেল। ঘরটা অন্ধকার, আপেলের উপর কোন আলো পড়ছে না, তাই অন্ধকার ঘরে আপনি আপেলটা দেখতে পাচ্ছেন না। এবার লাইট জ্বালালেন। ঝলমল করে উঠল ঘর। আলোর কিছুটা আপেলের উপরও পড়ল। আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন, সাদা আলো আসলে সাদা না, ৭ রঙা আলোর মিশেল।

 

                                                                                  সাত রঙ
বেনীআসহকলা- বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। এই ৭ রঙ মিলেমিশে হয় সাদা রঙের আলো। এই লাল আপেলে যখন আলোটা পড়ল, আপেলটা সবগুলো রঙকে শুষে নিল, শুধু লাল আলোটাকে ফিরিয়ে দিল, প্রতিফলন করে দিল। এই ফিরিয়ে দেয়া লাল আলোটুকু আপনার চোখের মণির ভিতর দিয়ে চলে গেল চোখের পিছনে। সেখানে কিছু স্পেশাল কোষ আছে যারা আলো পড়লে বিদ্যুত তৈরি করে। লাল আলো গিয়ে ওদেরকে উত্তেজিত করল, তারা বিদ্যুত তৈরি করে মাথার পিছনে পাঠাল। আর আপনার আপেলাকারের লাল কিছু একটা দেখার অনুভূতি হল। বিঃদ্রঃ কালো কিন্তু কোন আলো না, কোন রঙের আলো না থাকলে কালো দেখা যায়। কালো জিনিস সব রঙকে শুষে নেয়। তাই কালো দেখায়।

                                                                   লাল কীভাবে দেখি
চোখের পিছনে যে জায়গায় আলো গিয়ে পড়ে, সেখানে একটা বিন্দু আছে যেখানে স্পেশাল কোষগুলো ঘনভাবে থাকে। জায়গাটার নাম ‘ফোভিয়া সেন্ট্রালিস’। যখন কোন বস্তুর আলো গিয়ে এখানে পড়ে তখন সেটা স্পষ্ট দেখা যায়। মানে বস্তুটা ফোকাস হয়।

 

                                                                         ফোভিয়া সেন্ট্রালিস
আপনি আপেলটা দেখছেন, আপেলের পাশে জগ-গ্লাস-অন্যান্য জিনিসও আপনি দেখছেন, কিন্তু আপেলটাকে বাকিগুলোর চেয়ে একটু বেশি দেখছেন। মানে আপেলের আলোগুলো গিয়ে জায়গামত পড়েছে, ঐ বিন্দুতে। ব্যাপারটা এমন—

 

                                                                      ফোকাস ননফোকাস
আর সামনে তাকালে আপনি পাশের অনেককিছুও দেখেন কিন্তু। ফোকাস ছাড়া বাকি যতদূর মাথা স্থির রেখে আপনার নজরে আসে, পুরোটাকে বলে দৃষ্টিক্ষেত্র বা Visual Field. এই ফিল্ডে যা থাকবে, সব আপনার নজরে আছে, ফিল্ডের বাইরে আমরা দেখি না।

                                                                                ভিজুয়াল ফিল্ড
সাধারণত কোন একটা জিনিস ফোকাস করলে আমরা আরেকটা ফোকাসে যাই যখন আমাদের ভিজুয়াল ফিল্ডে কোন কিছু আমাদের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে। যেমন ফিল্ডের মধ্যে কোনকিছু নড়ে উঠল [ত] বা উজ্জ্বল হয়ে উঠল [থ], তখন আমরা আগের ফোকাস চেঞ্জ করে ঐ আন্দোলিত বা উজ্জ্বল বস্তুকে ফোকাস করি। নিজে নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন।

উদ্দীপকের সমাধান ১:

রাস্তায় যে হাজারো পুরুষ ঘুরে বেড়ায়, তাদের প্রত্যেকের ইউনিক মনোজগতকে জানা এমনকি অনুমান করাও অসম্ভব। আলোচনার আগে আমি আপনাদের স্মরণ করার অনুরোধ করছি ‘সিম্বোলিজম’ অধ্যায়টা। কত কিছু আমাদের যৌন-উদ্দীপনার কেন্দ্র হতে পারে। প্রয়োজনে আরেকবার পড়ে নেয়া যেতে পারে। একটা মেয়ের শরীরের প্রতিটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আলাদাভাবে ও সামষ্টিকভাবে সিম্বলিক হতে পারে। আপনার কলিগ বা সহপাঠীদের মাঝে এমন কেউ আছে কি না যে আপনার হাতের সৌন্দর্য নিয়ে ফ্যান্টাসিতে আছে, তা আপনি আসলেই জানেন না। কেউ চুল নিয়ে, কেউ চোখ নিয়ে, বা কেউ পুরো আপনাকেই নিয়েই অন্ধকুঠূরিতে কোন পর্যায়ে আছে, তা জানার কোন উপায়ই নেই। তাই আপনি যদি যেকোন মানসিকতার পুরুষের কাছে উদ্দীপক না হতে চান তাহলে সর্বপ্রথম [ঢ] পুরুষের আকর্ষণের কেন্দ্রীয় তিন অংশ আপনাকে ঢেকে ফেলতে হবে, ‘বালিঘড়ি’ শেপকে ও waist-to-hip ratio-কে অস্পষ্ট করে দিতে হবে। এমন একটা পোষাক গায়ে চড়াতে হবে যাতে কোন উঁচুনিচু বুঝা না যায়। কুরআন আমাদের তা-ই জানাচ্ছে:
হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সূরা আল আহযাব: ৫৯)
বিশ্বাসী নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি কে নত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যা সাধারণতঃ প্রকাশ তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের মাথার কাপড় দ্বারা বক্ষস্থল আবৃত রাখে। এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগন, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা আন নূরঃ ৩১)
এখন আপনি কেমন আবরণ দ্বারা নিজেকে আবৃত করবেন। আচ্ছাদন কেমন হলে তা আপনাকে উদ্দীপকের ভূমিকা নেয়া থেকে সুরক্ষা দেবে। এখন আমরা যে আলোচনায় যাচ্ছি, এর সাথে ফিকহের কোন সম্পর্ক নেই। এই আলোচনা গ্রহণ বা বর্জন আপনার নিজের ইচ্ছে। ইসলাম আমাদের নিচের সিদ্ধান্তের অনেক কিছুরই অনুমোদন দেয়, নিষেধ করে না। আমরা আমাদের এতক্ষণের বৈজ্ঞানিক আলোচনার রেশ ধরে যে ফলাফলে পৌঁছবো সেগুলোর সবই অননুমোদিত তা কিন্তু নয়। আমরা আমাদের আলোচনা যেখানে আমাদের নিয়ে যায় সেখানে চলে যাব।
১. বোরকা অনুজ্জ্বল রঙের হবে। কালো বেস্ট। কারণ কালো রঙ আলোর পুরোটুকু শুষে নেয়। তাই কালো বস্তু থেকে দর্শকের চোখে আলো আসে না। নজর কাড়ে না। কালো না হলেও কালো জাতীয় (নেভী ব্লু, ধূসর)। মোটকথা ম্যাদামারা রঙের হওয়া চাই। উজ্জ্বল রঙ হলুদ-লাল-নীল-গোলাপী রঙ ভিজুয়াল ফিল্ডে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। এমন রঙের বোরকা ‘বোরকার উদ্দেশ্য’ পূরণ করে না। [ত]
২. প্রচলিত বোরকার কাপড় একটা আছে সিল্কের মত চকচকে। কালো হলেও চকচকে জিনিস আলো প্রতিফলন করে। তাই, ভিজুয়াল ফিল্ডে যেকোন চকচকে বস্তু নজর কাড়ে। এমন কাপড়ের বোরকায়ও উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। [ত]
৩. একটা কাপড়ের নাম বিএমডব্লিউ, হালে বেশ জনপ্রিয়। এই কাপড়ের সমস্যা হল বেশি আন্দোলিত হয়। ভিজুয়াল ফিল্ডে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি নড়াচড়ার দিকে দৃষ্টি চলে যায়। ফলে উদ্দীপকতা কমাতে বা নিজেকে দৃষ্টির অলক্ষ্যে রাখতে এজাতীয় বোরকাও অনুপযোগী। [থ]
৪. বোরকার উদ্দেশ্য হল, আপনার নিচের সুন্দর পোশাক, যেটা আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণে- সেটা ঢাকা। যাতে আপনি কারো দৃষ্টি আকর্ষক না হন। যেহেতু কে আপনাকে দেখে কি ভাবছে, কী ডোজ নিচ্ছে, কী কল্পনা করছে আপনি জানেন না। ডিজাইনওয়ালা আর নানান ফ্যাশনেবল বোরকা তো সেই সৌন্দর্য্যবর্ধকই হয়ে গেল। তাহলে শুধু শুধু ডবল পোশাক পরে কী লাভ হল? কেউ যদি আপনাকে বলে- বাহ এই বোরকায় তো তোমাকে দারুণ মানিয়েছে। বা, চমৎকার লাগছে তোমাকে। তাহলে সেই বোরকা পরা অনর্থক। কারণ আপনি তো সুন্দর লাগার জন্য বোরকা পরছেন না, বরং সৌন্দর্য্য ঢাকার জন্যই সেটা পরার কথা।
৫. অর্ধসচ্ছ শিফন/জর্জেট জাতীয় কাপড়ের বোরকা পরার চেয়ে না পরাই তো ভাল। শুধু শুধু গরমে দুই স্তর সিনথেটিক কাপড় পরার কী দরকার। পর্দার উদ্দেশ্যও পুরা হল না, আবার গরমে কষ্টও হল। আর মানুষের স্বভাব হল কৌতূহল। যা স্পষ্ট দেখা যায়, তার চেয়ে যা আবছা দেখা যায়, তার প্রতি কৌতূহল বেশি কাজ করে। ফলে অর্ধস্বচ্ছ বোরকা আপনাকে আরও বেশি নজর আহ্বানকারী করে তুলবে।
৬. বোরকার কোমরের কাছে ফিতা যদি বেঁধে নেন, তবে বোরকা পরার উদ্দেশ্য ব্যাহত হল। বোরকার উদ্দেশ্য ছিল আপনার দেহকাঠামোকে অস্পষ্ট করে দেয়া। ফিতা বেঁধে কোমরের মাপকে প্রকাশ করে সেই গড়নকে আপনি স্পষ্ট করে দিলেন।
৭. হাল আমলের বোরকার ফ্যাশন হল ঘের অনেক বেশি রাখে গাউনের মত। সেদিন এক ফেসবুক পেইজ যারা দাবি করে যে তারা শারঈ বোরকা বিক্রি করেন। দেখলাম লিখেছে, “ঘের অনেক বেশি…You will feel like a princess”। মানে হল, রাজকন্যারা যেমন গাউন পরে সেরকম। বেশ, নিজেকে নিজে রাজকন্যা মনে হলে তো সমস্যা নেই। কিন্তু রাস্তার লোকে রাজকন্যা মনে করে চেয়ে থাকলে তো সমস্যা। পর্দার উদ্দেশ্য পুরা হল না। আর অতিরিক্ত কাপড় থাকলে তা হাঁটার সময় আন্দোলিত হবে বেশি [থ], ফলে ফোকাস টানবে বেশি।
৮. আর একটা ফেব্রিক সম্পর্কে বলে আমাদের এই আলোচনা শেষ করব, যেটা এখন ব্যাপক জনপ্রিয়। লন কাপড় পরতে আরামদায়ক হলেও শরীরের সাথে লেপ্টে থাকে বেশি। ফলে বাইরে থেকে শরীরের অবয়ব স্পষ্ট ফুটে ওঠে। যদিও আপনার পোশাকটা ফিটিং না, বা স্বচ্ছ না। আপনি ভাবছেন সব তো ঢাকাই, আসলে কাপড় লেপ্টে থেকে সব অবয়ব বুঝিয়ে দিচ্ছে।
আবু ইয়াযীদ মুযানী রাহ. বলেন, হযরত ওমর রা. মহিলাদেরকে কাবাতী (মিসরে প্রস্ত্ততকৃত এক ধরনের সাদা কাপড়) পরতে নিষেধ করতেন। লোকেরা বলল, এই কাপড়ে তো ত্বক দেখা যায় না। তিনি বললেন, ত্বক দেখা না গেলেও দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুটে ওঠে।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৫২৮৮
তাহলে কেমন বোরকা পরলে উদ্দীপক হিসেবে আমার ভূমিকা মিনিমাম হবে?
১. নিকাবসহ কালো বা কালো জাতীয় রঙের
২. সুতি ধরনের কাপড় যা অতিরিক্ত দুলবে না, লেপ্টে থাকবে না। বরং কিছুটা ফুলে থাকবে, বডি শেপকে অস্পষ্ট করে দেবে। কাপড় সুতি হলে সিনথেটিক এসব কাপড়ের চেয়ে আরামও পাবেন বেশি। আরেকটা ব্যাপার আছে। সুতি কাপড় ইস্ত্রি নষ্ট হয়ে পরিপাটিভাব থাকে না, ফলে আপনার দিকে কেউ লক্ষ্যই করবে না, চোখ পড়লেও অনীহাভরে সরিয়ে নেবে। বোরকা পরার মূল উদ্দেশ্য সবচেয়ে সুন্দরভাবে পূরণ হবে।

রেফারেন্স

[1] চীনে ও তানজানিয়ায় ০.৬, ইন্ডিয়ান ও ককেশীয় আমেরিকানদের ০.৭ ও ক্যামেরুনে ০.৮ পাওয়া গেছে। Dixson, A.F. (2012) Primate Sexuality: Comparative Studies of the Prosimians, Monkeys, Apes and Human Beings (Second Edition). Oxford: Oxford University Press. এর বরাতে https://www.psychologytoday.com/us/blog/how-we-do-it/201507/waists-hips-and-the-sexy-hourglass-shape
[5] Harvard Mental Health Letter, How addiction hijacks the brain https://www.health.harvard.edu/newsletter_article/how-addiction-hijacks-the-brain
[6] The Brain on Drugs: From Reward to Addiction, Nora D.Volkow ও Marisela Morales, National Institute on Drug Abuse, National Institutes of Health, Bethesda, MD 20892, USA প্রকাশিত হয় জার্নাল Cell (Volume 162, Issue 4, 13 August 2015, Pages 712-725) https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0092867415009629
[7] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/20140088 https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC2918777/ (Curvaceous female bodies activate neural reward centers in men)
অন্ধকার থেকে আলোর পথে

অন্ধকার থেকে আলোর পথে

(আমাদের গ্রুপ মেম্বার খাদিমুল হাক্ব ভাই সংক্ষেপে পর্নোগ্রাফি-মাস্টারবেশন নিয়ে ‘অন্ধকার থেকে আলোর পথে’ শিরোনামে এই লিখাটি লিখেছেন মাশাআল্লাহ। আল্লাহ উনার পরিশ্রমকে কবুল করে নিক। আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে এটা মনোযোগ দিয়ে পড়বেন ও দিকনির্দেশনাগুলো ফলো করবেন ইনশাআল্লাহ।)
আসসালামু আলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে শেষ করতে পারলাম। প্রয়োজনীয় কাজের ফাঁকে ফাঁকে দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস ধরে এই পোস্টটি লিখলাম। আমার জন্য দোআ করবেন। আল্লাহ তাআ’লা যেনো আমার নেক আশাগুলো কবুল করেন। আর পোস্টটি লিখতে যাদের সাহায্য নিয়েছি, আল্লাহ তাআ’লা যেনো তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম বিনিময় দান করেন। আল্লাহ তাআ’লা এই লিখাটি যেন সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করেন। আমিন।
*** বিশেষভাবে বলছি, এখনই পড়ুন। পরে পড়বেন বলে রেখা দিবেন না। শয়তান ধোঁকা দিতে পারে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيم
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
অর্থঃ পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
এই লিখাটিকে মোট ৫ টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১/ কোরআন এবং হাদিস থেকে সংগৃহীত আয়াত ও হাদিস
২/ পর্ণগ্রাফির ক্ষতিকর দিকসমূহ
৩/ রিকভারির জন্য দিকনির্দেশনাসমূহ
৪/ কিভাবে মোবাইল /পিসিতে পর্ণগ্রাফি ব্লক করা যায়
৫/ App/ গ্রন্থ/ বইসমূহ
.
*** ইসলামে হস্তমৈথুন হারাম। http://bit.ly/2rml5bZ
এই হারাম কাজ থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে যা যা করতে হবেঃ (কোরআন ও হাদিসের আলোকে)
০১. (শরীয়তে বর্ণিত কারণগুলো ব্যাতিরেকে) নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত সালাত জামা’আতের সাথে পড়তেই হবে।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, তোমরা নামায কায়িম কর, যাকাত দাও এবং রুকূ‘কারীদের সঙ্গে রুকূ‘ কর।(সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৪৩)
.
সালাত/নামায মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, তোমার প্রতি যা ওয়াহী করা হয়েছে কিতাব থেকে তা পাঠ কর আর নামায প্রতিষ্ঠা কর; নামায অশ্লীল ও মন্দ কাজ হতে বিরত রাখে। নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ (বিষয়)। তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন। (সূরা আল-আনকাবূত, আয়াত ৪৫)
.
সালাত/নামায কায়েম করলে আপনি পাবেন, মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মান জনক রিযিক।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, সে সমস্ত লোক যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। তারাই হল সত্যিকার ঈমানদার! তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রুযী। (সূরা আল-আনফাল, আয়াত ৩-৪ )
৫ ওয়াক্ত সালাত/নামায পড়লে আল্লাহ তাআ’লা আপনার গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেবেন।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন, “বলতো যদি তোমাদের কারো বাড়ির সামনে একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রত্যহ পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তাঁর দেহে কোন ময়লা থাকবে? তারা বললেন, তাঁর দেহে কোনরূপ ময়লা বাকী থাকবে না। আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাআলা বান্দার গুনাহসমুহ মিটিয়ে দেন।” (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫২৮)
*** আপনাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, আর যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে যত্নবান। তারাই হল উত্তরাধিকারী। তারা ফিরদাউসের উত্তরাধিকার লাভ করবে, যাতে তারা চিরস্থায়ী হবে। (সূরা আল-মু’মিনুন, আয়াত ৯ -১১)
.
ফজরের সালাত/নামাযের গুরুত্ব অনেক অনেক বেশি। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, সূর্য হেলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম কর এবং ফজরের কুরআন*। নিশ্চয় ফজরের কুরআন (ফেরেশতাদের) উপস্থিতির সময়।*‘ফজরের কুরআন’ দ্বারা উদ্দেশ্য ফজরের সালাত।(সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত ৭৮)
.
যে ব্যক্তি ফজরের সালাত/নামাজ পড়বে, সে আল্লাহর জিম্মায়/দায়িত্বে থাকবে।
আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি ফজরের নামায (জামাআতে) পড়ে, সে ব্যক্তি (সন্ধ্যা পর্যন্ত) আল্লাহর দায়িত্বে থাকে।” হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ৬৯২ (ত্বাবারানী ১৩০৩২, সহীহুল জামে’ ৬৩৪৩নং)
আর দেখা গেছে ফজরের সালাত/নামায না পড়লেই শয়তান পর্নগ্রাফি দেখতে এবং হস্তমৈথুন করতে উৎসাহ দেয়।
.
ফজরের সময় উঠতে না পারলে Alarm দিবেন। এর জন্য আপনি Alarmy নামের অসাধারণ এই App টি ব্যবহার করতে পারেন। এটি প্লেস্টোর এ পাবেন। http://bit.ly/2RBfGcx
.
যদি কখনো কোন সালাতের/নামাযের সময় ঘুমিয়ে থাকেন কিংবা স্বলাত/নামায পড়তে ভুলে যান, তাহলে জাগা/স্মরণ হওয়া মাত্র তা পড়ে নিবেন।
আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, সহাবীগন তাদের ঘুমে বাড়াবাড়ির কথা আলোচনা করলেন। কেউ বলেন, লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে, এমনকি সূর্য উঠে যায়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ঘুমে কোন বাড়াবাড়ি নেই, বাড়াবাড়ি হয় জাগ্রত অবস্থায়। সুতরাং তোমাদের কেউ সলাতের কথা ভুলে গেলে বা তা না পড়ে ঘুমিয়ে গেলে সে যেন তা স্মরণে আসার সাথে সাথে পড়ে নেয় অথবা পরদিন স্ব স্ব ওয়াক্তে পড়ে নেয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৬৯৮, সূরা ত্বাহা ১৪, বুখারী ৫৯৫, ৭৪৭১; মুসলিম ৬৮১, তিরমিযী ১৭৭, নাসায়ী ৬১৫-১৭, ৪৪৬; আবূ দাঊদ ৪৩৭, ৪৪১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৯৪, সহীহ আবূ দাউদ ৪৬৪)
*** যেকোনো মূল্যে জীবন বাজি রেখে নামাজ পড়তেই হবে। আজ থেকে শপথ করুন, জীবন চলে যায় যাক তবু ১ ওয়াক্ত নামায মিস দিবেন না।
.
০২. নিয়মিত সামর্থ্য অনুযায়ী দান করাঃ কারণ সাদাকা (যাকাত বা দান-খায়রাত) গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়, যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।
কা’ব ইবনু উজারা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ হে কা’ব ইবনু উজরা! আমার পরে যেসব নেতার উদয় হবে আমি তাদের (খারাবী) থেকে তোমার জন্য আল্লাহ তা’আলার সহায়তা প্রার্থনা করি। যে ব্যক্তি তাদের দ্বারস্থ হলো (সান্নিধ্য লাভ করলো), তাদের মিথ্যাকে সত্য বললো এবং তাদের স্বৈরাচার ও যুলুম-নির্যাতনে সহায়তা করলো, আমার সাথে ঐ ব্যক্তির কোন সম্পর্ক নেই এবং এ ব্যক্তির সাথে আমারো কোন সংস্রব নেই। ঐ ব্যক্তি ‘কাওসার’ নামক হাউজের ধারে আমার নিকট আসতে পারবে না। অপরদিকে যে ব্যক্তি তাদের দ্বারস্থ হলো (তাদের কোন পদ গ্রহণ করলো) কিন্তু তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে মানল না এবং তাদের স্বৈরাচার ও যুলুম-নির্যাতনে সহায়তা করলো না, আমার সাথে এ ব্যক্তির সম্পর্ক রয়েছে এবং এ ব্যক্তির সাথে আমারও সম্পর্ক রয়েছে। শীঘ্রই সে ‘কাওসার’ নামক হাউজের কাছে আমার সাথে দেখা করবে। হে কা’ব ইবনু উজরা! নামায হল (মুক্তির) সনদ, রোজা হল মজবুত ঢাল (জাহান্নামের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক) এবং সাদাকা (যাকাত বা দান-খায়রাত) গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়, যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়। হে কা’ব ইবনু উজরা! হারাম (পন্থায় উপার্জিত সম্পদ) দ্বারা সৃষ্ট ও পরিপুষ্ট গোশত (দেহ) -এর জন্য (জাহান্নামের) আগুনই উপযুক্ত। (জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৬১৪ -সহীহ। তালীকুর রাগীব- (৩/১৫, ১৫০)
.
যাকাত বা দানের কারনে কখনো সম্পদের কমতি হয় না।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যাকাত বা দানের কারনে কখনো সম্পদের কমতি হয় না। অবশ্যই ক্ষমা ও উদারতার দ্বারা আল্লাহ্‌ তা‘আলা মান-সম্মান বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ্‌ তা‘আলার সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে যে লোক বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করে আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাকে অতি মর্যাদা সম্পন্ন করেন। (জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২০২৯) সহীহ, ইরওয়া (২২০০) , সহীহাহ (২৩২৮) , মুসলিম।
.
দান আপনার সম্পদকে বৃদ্ধি করবে।
“যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে তাদের উপমা যেমন একটি শস্যবীজ, তা হতে উৎপন্ন হল সাতটি শীষ, প্রত্যেক শীষে (উৎপন্ন হল) এক শত শস্য, এবং আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন বর্ধিত করে দেন; বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন অতি দানশীল, সর্বজ্ঞ।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৬১)
.
দানকারীর জন্য ফেরেশতারা তার দানের উত্তম প্রতিদান চেয়ে আল্লাহর কাছে দো’আ করে।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৪৪২)
.
যে লোক দুনিয়াতে অন্য কারো অভাব দূর করে দেয়, তার দুনিয়া ও আখিরাতের অসুবিধাগুলোকে আল্লাহ্‌ তা‘আলা সহজ করে দিবেন।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক কোন মুসলমান লোকের দুনিয়াবী বিপদাপদের মধ্যে একটি বিপদও দূর করে দেয়, আল্লাহ্‌ তা‘আলা তার পরকালের বিপদাপদের কোন একটি বিপদ দূর করে নিবেন। যে লোক দুনিয়াতে অন্য কারো অভাব দূর করে দেয়, তার দুনিয়া ও আখিরাতের অসুবিধাগুলোকে আল্লাহ্‌ তা‘আলা সহজ করে দিবেন। যে লোক দুনিয়ায় কোন মুসলমানের দোষ-ক্রটিকে গোপন রাখে, আল্লাহ্‌ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ক্রটি গোপন রাখবেন। যে পর্যন্ত বান্দাহ তার ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকে, সে পর্যন্ত আল্লাহ্‌ তা‘আলাও তাঁর সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকেন। (জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৯৩০) সহীহ্‌, ইবনু মা-জাহ (১২২৫) , মুসলিম।
০৩. যে দোআ গুলো মুখস্ত করা জরুরিঃ
যদি কখনো শয়তান পর্ণগ্রাফি দেখতে ও হস্তমৈথুন করতে ওসওসা দেয়া শুরু করে তাহলে সাথে সাথে তা (মোবাইল /ল্যাপটপ/ডেক্সটপ ) বন্ধ করে সাথে সাথে পড়ুন↓
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجيمِ
আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম
অর্থঃ বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহ্‌র আশ্রয় নিচ্ছি।
আবূ দাউদ ১/২০৩, ইবন মাজাহ্‌ ১/২৬৫, নং ৮০৭। আর পূর্বে ৩১ নং হাদীসে এর তাখরীজ চলে গেছে। আরও দেখুন, সূরা আল-মুমিনূন এর ৯৭-৯৮
এরপর দ্রুত অযু করে, দু’রাকআত সালাত আদায় করে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। (ইনশাআল্লাহ) আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। আবূ দাউদ ২/৮৬, ১৫২১; তিরমিযী ২/২৫৭, নং ৪০৬; আর শাইখ আলবানী (রহঃ) সহীহ আবি দাউদে ১/২৮৩ একে সহীহ বলে মত প্রকাশ করেছেন।
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ৪৫ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয়↓
رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ
রব্বি আ‘ঊযুবিকা মিন্ হামাযা -তিশ্ শাইয়া-ত্বীন্।
অর্থঃ হে আমার রব, আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার কাছে পানাহ চাই।
وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
অ আ‘ঊ যুবিকা রব্বি আইঁ ইয়াহ্দ্বুরূন্।
অর্থঃ আর হে আমার রব, আমার কাছে তাদের উপস্থিতি হতে আপনার কাছে পানাহ চাই।
সূরা আল মু’মিনূন – ২৩:৯৭-৯৮
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ১৮২ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
চক্ষু শীতলকারী স্ত্রী ও সন্তান লাভ করার দোয়া↓
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
রব্বানা-হাব্লানা-মিন্ আয্ওয়া-জ্বিনা-অ র্যুরিয়্যা-তিনা-কুররাতা আ’ইয়ুনিঁও অজ্বআল্না-লিল্মুত্তাকীনা ইমা-মা-। সূরা আল-ফুরকান – ২৫:৭৪
অর্থঃ হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ১৮৬ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যান চাওয়া।
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
রব্বানায় আ-তিনা-ফিদ্ দুন্ইয়া-হাসানাতাওঁ অফিল্ আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ অক্বিনা-‘আযা-বান্না-র। সূরা আল বাকারাহ – ২:২০১
অর্থঃ হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন।
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ২৭.২ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
শয়তান থেকে হেফাজত থাকতে প্রতিদিন সকালে এ দোয়াটি পড়বেন↓
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে লোক একশ’বার এ দু’আ’টি পড়বেঃ
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ،
লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মূলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।
অর্থঃ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
তাহলে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তানের নিকট হতে মাহফুজ (হেফাজতে) থাকবে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩২৯৩)
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ২৭.১৯ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
প্রতিদিন ঘুমানোর সময় আগে অযু করুন। তারপর এই দো’আ টি পড়ুন। ঐ রাতে আপনি মারা গেলে ফিতরাত তথা দীন ইসলামের উপর মারা যাবেন, ইনশাআল্লাহ। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তুমি বিছানা গ্রহণ করবে, তখন নামাযের মত ওযু করবে, তারপর তোমার ডান পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়বে। তারপর বল,
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ
আল্লা-হুম্মা আস্‌লামতু নাফ্‌সী ইলাইকা, ওয়া ফাউওয়াদ্বতু আমরী ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ্জাহ্‌তু ওয়াজহিয়া ইলাইকা, ওয়াআলজা’তু যাহ্‌রী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা। লা মালজা’আ ওয়ালা মান্‌জা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা
.
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকেই ফিরালাম, আর আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম; আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনার নিকট ছাড়া আপনার (পাকড়াও) থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো মুক্তির উপায় নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর।”
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে এই দো’আটি শিক্ষা দিলেন, তাকে বলেন: “যদি তুমি ঐ রাতে মারা যাও তবে ‘ফিতরাত’ তথা দীন ইসলামের উপর মারা গেলে। (“বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩১৩; মুসলিম ৪/২০৮১, নং ২৭১০)
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ২৮.১৩ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
আয়াতুল কুরসি প্রত্যেক ফরজ স্বলাত/নামাযের পর, শোয়ার আগে এবং সকালে ও বিকালে পড়বেন↓
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ –
সূরা আল-বাকারাহ্‌ ২৫৫
.
অর্থঃ আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।
এ দোআটি পড়লে সারা রাত্র আপনি শয়তান থেকে হেফাজতে থাকবেন। বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ), ৪/৪৮৭, নং ২৩১১।
আর যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ স্বলাত/নামাযের পর পড়লে তার মৃত্যু ব্যতীত জান্নাতে যাওয়ার পথে আর কোন বাধা থাকবে না। নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলাহ, নং ১০০; ইবনুস সুন্নী, নং ১২১। আর শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহুল জামে‘ ৫/৩৩৯ তে এবং সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহা ২/৬৯৭, নং ৯৭২ তে সহীহ বলেছেন। আর আয়াতটি দেখুন, সূরা আল-বাকারাহ্‌-২৫৫।
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ২৫.৬ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
যে ব্যক্তি সকালে তা (আয়াতুল কুরসী) বলবে সে বিকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে, আর যে ব্যক্তি বিকালে তা বলবে সে সকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে।
তবে শুরুতে আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম বলে নিবেন।
.
হাদীসটি হাকিম সংকলন করেছেন, ১/৫৬২। আর শাইখ আলবানী একে সহীহুত তারগীব ওয়াত-তারহীবে সহীহ বলেছেন ১/২৭৩। আর তিনি একে নাসাঈ, তাবারানীর দিকে সম্পর্কযুক্ত করেছেন এবং বলেছেন, তাবারানীর সনদ ‘জাইয়্যেদ’ বা ভালো।
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ২৭.২ নং দোয়াটি দেখুন ]
.
০৪. তওবা/ইস্তেগফার করাঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “যে ব্যক্তি বলবে,
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظيمَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيهِ
আস্তাগফিরুল্লা-হাল ‘আযীমল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কায়্যূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি।
অর্থঃ আমি মহামহিম আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তিনি চিরস্থায়ী, সর্বসত্তার ধারক। আর আমি তাঁরই নিকট তওবা করছি।’
.
আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন, যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়।
আবূ দাউদ ২/৮৫, নং ১৫১৭; তিরমিযী ৫/৫৬৯, নং ৩৫৭৭; আল-হাকিম এবং সহীহ বলেছেন, তার সাথে ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন, ১/৫১১, আর শাইখুল আলবানীও সহীহ বলেছেন। দেখুন, সহীহুত তিরমিযী ৩/১৮২, জামেউল উসূল লি আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৪/৩৮৯-৩৯০, আরনাঊত এর সম্পাদনাসহ।
রাসূল ﷺ দৈনিক একশত বার তাওবা করতেন। মুসলিম, ৪/২০৭৬, নং ২৭০২।
.
রাসুল ﷺ বলেন, একজন বান্দা তার রবের সবচেয়ে কাছে তখনই থাকে, যখন সে সেজদায় যায়, সুতরাং তোমরা তখন বেশি বেশি করে দোয়া কর। মুসলিম, ১/৩৫০; নং ৪৮২।
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ১২৯ নং দোয়াটি দেখুন ]
উপরে বর্নিত সবগুলো দোআ ও যিকির (হিসনুল মুসলিম) অ্যাপটি পেতে লিংকঃ https://goo.gl/hmWsrH এটি প্লে স্টোর এ পাবেন।
.
০৫. নিয়মিত তাহাজ্জুদ সালাত/নামায পড়ার চেষ্টা করবেন। কারণ ফরয সালাতের পর রাতের নামাজ/সলাতই (তাহাজ্জুদ) সর্বোত্তম।আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রমাযান মাসের পর আল্লাহর মাস মুহররম-এর সওম হচ্ছে সর্বোত্তম এবং ফরয সালাতের পর রাতের সলাতই সর্বোত্তম। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪২৯)
আবদুল্লাহ্‌ বিন সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন , রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় পদার্পণ করলে লোকেরা তাঁকে দেখার জন্যে ভীড় জমায় এবং বলাবলি হয় যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসেছেন। আমিও লোকেদের সাথে তাঁকে দেখতে গেলাম। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম যে, এ চেহারা কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। তখন তিনি সর্বপ্রথম যে কথা বললেন তা হলো : হে লোকসকল! তোমারা পরস্পর সালাম বিনিময় করো, অভুক্তকে আহার করাও এবং রাতের বেলা মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত পড়ো। তাহলে তোমারা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৩৩৪)
তিরমিযী ২৪৮৫, দারিমী ১৪৬০, ইবনু মাজাহ ৩২৫১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৩৯, সহীহ তারগীব ৬১২, সহীহাহ ৫৬৯।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাদের রব্ব প্রত্যেক রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকী থাকে তখন পৃথিবীর আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন, আমার কাছে যে দু’য়া করবে, আমি তার দু’য়া কবুল করব। আমার কাছে যে চাইবে, আমি তাকে দেব। আমার কাছে যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাকে আমি ক্ষমা করে দেব।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৬) সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭৪৯৪
.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : সারা রাতের মধ্যে এমন একটি বিশেষ সময় আছে যে সময়ে কোন মুসলিম আল্লাহর কাছে দুন্ইয়া ও আখিরাতের কোন কল্যাণ প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন। আর ঐ বিশেষ সময়টি প্রত্যেক রাতেই থাকে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৬৫৫ (ই.ফা. ১৬৪০, ই.সে. ১৬৪৭) হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ৮০০
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১১৮৬
.
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “নিশ্চয় এবাদতের জন্যে রাত্রিতে উঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল।” (সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত ৬)
.
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে এবাদত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না; বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।” (সূরা আয-যুমার, আয়াত ৯)
.
আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘তারা (খোদাভীরুরা) রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত।’ (সূরা আজ-জারিয়াত, আয়াত-১৭-১৮)
০৫. প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করবেনঃ অন্ততপক্ষে সূরা বাকারাহ্ পাঠ করবেন। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা নিজেদের ঘর-বাড়িগুলোকে কবরে পরিণত করো না । কেননা, যে বাড়িতে সূরা বাকারাহ পাঠ করা হয়, সে বাড়ি থেকে শয়তান পলায়ন করে ।” (মুসলিম) রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১০২৫
(মুসলিম ৭৮০, তিরমিযী ২৮৭৭, আবূ দাঊদ ২০৪২, আহমাদ ৭৭৬২, ৮২৩৮, ৮৫৮৬, ৮৬৯৮, ৮৮০৯)
০৬. রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নত অনুসরণ করুন। দাড়ি রেখে দিন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবেঃ দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে।
.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) যখন হাজ্জ বা ‘উমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশী থাকত, তা কেটে ফেলতেন।সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৮৯২
[৫৮৯৩; মুসলিম ২/১৬, হাঃ ২৫৯, আহমাদ ৪৬৫৪] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬০)
* এর ফলাফল হিসেবে মেয়েরা আপনাকে দেখে পর্দা করবে। *মুখে দাড়ি রেখে মেয়েদের দিকে তাকাতে আপনার লজ্জা করবে। সুতরাং এর ফলে আপনার চোখ নিচু রাখতে সাহায্য করবে।
* যদি আপনি রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করেন তাহলে স্বয়ং আল্লাহ আপনাকে ভালবাসবেন।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসকল ক্ষমা করবেন, বস্তুতঃ আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৩১)
*** আর আল্লাহ যাকে ভালবাসেন তার হেফাজতের দায়িত্বও তিনি নেন, ইনশাআল্লাহ।
০৭. সাদা পোশাক পরিধান করুন। রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাদা পোশাককে সর্বোত্তম পোশাক বলেছেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো এবং তা দিয়ে তোমাদের মৃতদের কাফন পরাও; কেননা তা তোমাদের উত্তম পোশাক। আর তোমাদের জন্য উত্তম সুরমা হলো ‘ইসমিদ’ সুরমা; কারণ তা দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং চোখের পাতার চুল গজায়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৭৮)
অনেকে মনে করে থাকেন, দাড়ি রাখলে চাকরি পাবেন না, বউ পাবেন না, হুজুরদের মত হলে কেও চাকরি দিবে না ইত্যাদি!
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বেশী অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৬৮)
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব।” (সূরা আন-নাহল, আয়াত ৯৭)
০৮. কবর জিয়ারত করাঃ কারণ কবর জিয়ারত আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা, তা তোমাদেরকে আখেরাত স্মরণ করিয়ে দেয়। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৫৬৯
মুসলিম ৯৭৬ ;নাসায়ী ২০৩৪; আবূ দাউদ ৩২৩৪; আহমাদ ৯৩৯৫ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
* মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
আবূ হুরায়রা (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার মায়ের কবর যিয়ারত করেন। তিনি কান্নাকাটি করেন এবং তার সাথের লোকদেরও কাঁদান। অতঃপর তিনি বলেন, আমি আমার রবের নিকট তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। আমি আমার রবের নিকট তার কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দেন। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা তা তোমাদের মৃত্যু স্মরণ করিয়ে দেয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ – ১৫৭২)
মুসলিম ৯৭৬ ;নাসায়ী ২০৩৪; আবূ দাউদ ৩২৩৪; আহমাদ ৯৩৯৫ ইরওয়াহ ৭৭২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
* প্রতিদিন না পারলে সাপ্তাহে অন্তত ১ দিন (ভোর সকালে বা বিকালে) কবর জিয়ারত করবেন।
০৯. বিয়ে করাঃ আপনার যদি বিয়ের খরচ বহন ও শারীরিক সামর্থ্য থাকে তাহলে বিয়ে করে ফেলুন। কেননা, তা আপনার দৃষ্টি নিম্নগামী রাখতে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করায় সহায়ক হবে। আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর সঙ্গে আমরা কতক যুবক ছিলাম; আর আমাদের কোন কিছু ছিল না। এই হালতে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন। হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সাওম পালন করে। কেননা, সাওম তার যৌনতাকে দমন করবে। (সহীহ বুখারী হাদিস নং ৫০৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯৬)
১০. রোযা রাখাঃ যদি বিয়ে করতে না পারেন তাহলে রোযা রাখুন। কারণ রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ তা যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী।” (সহীহ বুখারী ৫০৬৬)
* সপ্তাহে ২ দিন (সোম ও বৃহস্পতিবার) রোযা রাখবেন। এদিন রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোযা রাখতেন।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “(মানুষের) আমলসমূহ সোম ও বৃহস্পতিবারে (আল্লাহর দরবারে) পেশ করা হয়। তাই আমি ভালবাসি যে, আমার আমল এমন অবস্থায় পেশ করা হোক, যখন আমি সিয়ামের (রোযা) অবস্থায় থাকি।” (হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১০৯০) (তিরমিযী ৭৪৭, সহীহ তারগীব ১০২৭)
* তবে মনে রাখা প্রয়োজন, আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় সিয়াম/রোযা হল দাঊদ (‘আঃ)-এর সিয়াম/রোযা।
আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আমর ইব্‌নুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বলেছেনঃ আল্লাহ্‌র নিকট সর্বাধিক প্রিয় সালাত হল দাঊদ (‘আঃ)-এর সালাত। আর আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় সিয়াম হল দাঊদ (‘আঃ)-এর সিয়াম। তিনি [দাঊদ (‘আঃ)] অর্ধরাত পর্যন্ত ঘুমাতেন, এক তৃতীয়াংশ তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতেন এবং রাতের এক ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। তিনি একদিন সিয়াম পালন করতেন, একদিন সাওমবিহীন অবস্থায় থাকতেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১১৩১)
সুতরাং সম্ভব হলে অবশ্যই একদিন বাদে একদিন রোযা রাখবেন।
১১. হাসপাতালে রোগী দেখতে যাওয়াঃ বন্ধুদের সাথে নিয়ে অবসর সময়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এর ফলে সত্তর হাজার ফেরেশতা আপনার জন্য দোয়া করতে থাকবে।
সুওয়াইর (রহঃ) হতে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমার হাত ধরে আলী (রাঃ) বললেন, আমার সাথে চল, অসুস্থ হুসাইনকে দেখে আসি। আমরা তার নিকটে গিয়ে মূসা (রাঃ)-কে হাযির পেলাম। আলী (রাঃ) বললেন, হে আবূ মূসা! আপনি কি রোগী দেখতে এসেছেন না এমনি বেড়াতে এসেছেন? তিনি বললেন, না, রোগী দেখতে এসেছি। আলী (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলমান যদি অন্যকোন মুসলিম রোগীকে সকাল বেলা দেখতে যায় তাহলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দু’আ করতে থাকে। সে যদি সন্ধ্যায় তাকে দেখতে যায় তবে সত্তর হাজার ফেরেশতা ভোর পর্যন্ত তার জন্য দু’আ করতে থাকে এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ফলের বাগান তৈরী হয়।
-সহীহ, তবে হাদীসে বর্ণিত যায়িরাণ শব্দের পরিবর্তে শামিতান শব্দ আছে। জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৯৬৯ -সহীহাহ (১৩৬৭), আর-রা ওয (১১৫৫)।
১২. জানাজায় অংশ গ্রহণ করাঃ যথাসম্ভব জানাযার নামায আদায় করার চেষ্টা করবেন। কারণ শুধু জানাযার নামায আদায় করলে আপনি পাবেন, একটি বড় পাহাড়ের সমান নেকি। আর দাফন পর্যন্ত থাকলে পাবেন দুইটি বড় পাহাড়ের সমান নেকি। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি জানাযার সলাত পড়ল, তার জন্য এক কীরাত সওয়াব। আর যে ব্যক্তি দাফনকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল, তার জন্য দু’ কীরাত সওয়াব। লোকেরা বলল, দু’ কীরাত? তিনি বলেন, দুটি পাহাড়ের সমান।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৫৩৯) সহীহুল বুখারী ৪৭ মুসলিম ৯৪৫, তিরমিযী ১০৪০, আবূ দাউদ ৩১৬৮, আহমাদ ৮০৬৬, ৯২৬৬, ৯৭২৯, ১০০১৮, ১০০৯০, ১০৪৯৪ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ
১৩. এতিমখানা বা কোন বৃদ্ধাশ্রমে ঘুরে আসা এবং সামর্থ অনুযায়ী সাহায্য করাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বিধবা ও মিসকীনদের অভাব দূর করার জন্য সচেষ্ট ব্যক্তি আল্লাহ্‌র পথে জিহাদকারীর ন্যায়। [ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন] আমার ধারণা যে কা’নবী (বুখারীর উস্তাদ ‘আবদুল্লাহ) সন্দেহ প্রকাশ করেছেনঃ সে রাতভর দাঁড়ানো ব্যক্তির মত যে (‘ইবাদাতে) ক্লান্ত হয় না এবং এমন সিয়াম পালনকারীর মত, যে সিয়াম ভঙ্গ করে না।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬০০৭) (আঃপ্রঃ- ৫৫৭৩, ইঃফা- ৫৪৬৯)
১৪. বিবাহপূর্বক অবৈধ প্রেম থেকে বিরত থাকুনঃ কারণ, আল্লাহ তাআ’লা প্রকাশ্যে ব্যভিচার এবং গোপনে প্রণয়/প্রেম করতে নিষেধ করেছেন।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হল। আহলে কিতাবদের খাদ্য তোমাদের জন্যে হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল। তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর তাদেরকে স্ত্রী করার জন্যে, কামবাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কিংবা গুপ্ত প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্যে নয়। যে ব্যক্তি বিশ্বাসের বিষয় অবিশ্বাস করে, তার শ্রম বিফলে যাবে এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৫)
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, আর যিনা-ব্যভিচারের কাছেও যেও না, তা হচ্ছে অশ্লীল কাজ আর অতি জঘন্য পথ। (সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত ৩২)
*** বিবাহপূর্বক প্রেম আপনাকে যিনা/ব্যভিচারের দিকে ধাবিত করবে। কারণ↓
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মহান আল্লাহ তা’আলা আদাম সন্তানের জন্য তার ব্যভিচারের অংশ লিখে রেখেছেন, সে তা নিশ্চয়ই করবে। চোখের ব্যভিচার হল দেখা, জিহবার ব্যভিচার কথা বলা (যৌন উদ্দীপ্ত কথা বলা)। আর মন চায় ও আকাঙ্ক্ষা করে এবং গুপ্তাঙ্গ তাকে সত্য বা মিথ্যায় প্রতিপন্ন করে। [১]
কিন্তু সহীহ মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছে, আদাম সস্তানের জন্য তাকদীরে যিনার অংশ যতটুকু নির্ধারণ করা হয়েছে, সে ততটুকু অবশ্যই পাবে। দুই চোখের যিনা তাকানো, কানের যিনা যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের যিনা আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের যিনা (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করা আর পায়ের যিনা ব্যভিচারের উদ্দেশে অগ্রসর হওয়া এবং মনের যিনা হল চাওয়া ও প্রত্যাশা করা। আর গুপ্তাঙ্গ তা সত্য বা মিথ্যায় প্রতিপন্ন করে। [2] ফুটনোট
[১] সহীহ : বুখারী ৬২৪৩, মুসলিম ২৬৫৭, আবূ দাঊদ ২১৫২, আহমাদ ৭৭১৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৪২০, ইরওয়া ১৭৮৭, সহীহ আল জামি‘ ১৭৯৭।
[2] সহীহ : মুসলিম ২৬৫৭। মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৮৬
*** যিনার ভয়াবহ শাস্তি ***
সামুরাহ বিন জুনদুব(রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামায পড়ানোর পর আমাদের অভিমূখী হয়ে বললেন, আজ রাত আমি স্বপ্ন যোগে দেখলাম, আমার নিকট দু’জন ব্যক্তি আসল এবং আমাকে এক পবিত্র ভূমির দিকে নিয়ে গেল। আমরা তন্দুরের ন্যায় একটি গর্তের নিকট গিয়ে পৌঁছলাম, যার উপরের অংশ ছিল সঙ্কীর্ণ এবং নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল এবং সে আগুনে কিছু পুরুষ ও মহিলা উলঙ্গাবস্থায় অবস্থান করছিল। যখন আগুনের শিখা বৃদ্ধি পায় তখন তারা উপরের দিকে চলে যায়, আর যখন আগুনের শিখা হ্রাস পায়, তখন শিখার সাথে সাথে তারাও নিচের দিকে নেমে আসে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? সে দু’জন ব্যক্তি বলল, এরা হল যিনাকারী নর-নারী। (বুখারী হাদীস নং-১৩৮৬)
১৫. সপ্নদোষ নিয়ে কিছু কথাঃ চিকিৎসকদের মতে সপ্নদোষ ক্ষতিকর নয়। https://goo.gl/ot2EGL
সপ্নদোষ একটি প্রাকৃতিক ব্যাপার। আল্লাহ তা’আলা এটিকে হারাম বলেননি। তিনি এটাকে সাবালকত্বের নিদর্শন বলেছেন। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “আর তোমাদের সন্তানেরা বয়ঃপ্রাপ্ত হলে (সপ্নদোষের মাধ্যমে)….” (সূরা নুর, আয়াত ৫৯)। প্রথমবার সপ্নদোষ হবার পর থেকেই একজন বালককে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং তার উপর শরীয়াহ কার্যকর হবে। https://goo.gl/d94TQs
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছেঃ ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, নাবালেগ, যতক্ষণ না সে বালেগ হয় এবং পাগল, যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায় বা সুস্থ হয়। -হাকিম সহীহ্‌ বলেছেন, ইবনু হিব্বানও বর্ণনা করেছেন। বুলুগুল মারাম, হাদিস নং ১০৮৫, আর দাউদ ৪৩৯৮, নাসায়ী ৩৪৩২, ইবনু মাজাহ ২০৪১, আহমাদ ২৪১৭৩,২৪১৮২, দারেমী ২২৯৬।
সুতরাং কোন ব্যক্তির ঘুমন্ত অবস্থায় সপ্নদোষ হলেও, তা আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয় না।https://goo.gl/VBZhcE
***আল্লাহ যেহেতু এটিকে হারাম বলেননি সুতরাং এতে ক্ষতিকর কিছু নেই।
*** সপ্নদোষ কতদিন পরপর হয়?
আসলে এটি নিদিষ্ট করে বলা যায় না। কারও ১ সপ্তাহ পর পর, কারও বা ৩/৪ সপ্তাহ পরপর হয়।
আর কারও যদি দীর্ঘদিন ধরে সপ্নদোষ না হয় তবে ধৈর্য্য ধরুন।
সাধারণত শরীরে টেস্টোস্টোরনের (এক ধরনের হরমোন) পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে পুরনো বীর্য সপ্নদোষের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। এবং নতুন বীর্য তৈরি হয়। সম্ভাব্য কারণ, দীর্ঘসময় ধরে যৌন নিষ্ক্রিয়তার ফলে টেস্টোস্টোরন হরমোনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যার কারণে সপ্নদোষ হয়। https://goo.gl/GkWHLM (আল্লাহ ভাল জানেন)
সুতরাং আবারো বলছি ধৈর্য ধরুন।
হস্তমৈথুন করা ও পর্ণগ্রাফি দেখার ভয়াবহ ক্ষতিসমূহঃ
০১. লিঙ্গউথানজনিত সমস্যাঃ
পর্নআসক্তি এবং হস্তমৈথুনের প্রভাবে আপনি লিঙ্গউথানজনিত সমস্যায় পড়তে পারেন।
এই সমস্যার ফলে যৌনমিলনের সময় আপনার লিঙ্গ যতটুকু শক্ত থাকা দরকার ততটুকু শক্ত হবে না এবং যতসময় ধরে শক্ত থাকা প্রয়োজন তত সময় ধরে থাকবে না। ফলে আপনি হারাবেন স্বাভাবিক যৌনমিলনের সক্ষমতা। Ibid
এ সমস্যার ভুক্তভোগী একভাইয়ের বাস্তব ঘটনা দেখুন→ তথ্যসূত্রঃ লিংক→ http://bit.ly/2AGwGHc
০২. আপনি যৌনমিলনের ক্ষমতা হারাবেনঃ
ঘনঘন হস্তমৈথুনের সাথে সাথে পর্ণগ্রাফি দেখতে থাকলে একসময় আপনি যৌনমিলনের ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলবেন। http://bit.ly/2DjTM6V
০৩. প্রস্টেট (মুত্রথলির) ক্যান্সারের ঝুঁকিঃ
যারা সপ্তাহে ২-৭ বার হস্তমৈথুন করে তাদের ৬০ বছর বয়সে প্রস্টেট ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭৯% বেশি। আবার ২০-৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে যারা হস্তমৈথুন থেকে দূরে থাকে তাদের প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭০% কম। http://bit.ly/2Q7TolX
০৪. মস্তিষ্কের ক্ষতিঃ একজন মানুষ যত বেশি পর্ণ দেখে তার মস্তিষ্কে তত বেশি ক্ষতি হতে থাকে। Angres, D. H. and Bettinardi-Angres, K. (2008). The Disease of Addiction: Origins, Treatment, and Recovery. Disease-a-Month 54: 696–721
*** পর্ণ-আসক্ত এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা গিয়েছে, তাদের মস্তিষ্কের গঠন হুবুহু এক। http://bit.ly/2KSuAc4
০৫. টেস্টোস্টোরোনের পরিমাণ কমে যাবেঃ
হস্তমৈথুনের ফলে টেস্টোস্টোরোনের ( মানব দেহের এক ধরনের হরমোন) পরিমাণ কমে যেতে পারে। এর ফলে আপনি যে যে ভয়াবহ সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন↓
১/ হস্তমৈথুনের ফলে আপনার স্মৃতিশক্তি দূর্বল হয়ে পড়বে।
২/ আপনার দেহে ক্লান্তি ভাব চলে আসবে।
৩/ বিষন্নতা আপনাকে গ্রাস করবে।
৪/ মনযোগ কমে যাবে।
৫/ অতিরিক্ত অস্থিরতা প্রকাশ পাবে।
৬/ শারিরীক সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।
৭/ আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যাবে।
৮/ পুরুষালি আচরণ কমতে ধাকবে।
৯/ আচরণে মিনমিনে ভাব চলে আসবে।
১০/ স্বাভাবিক যৌনক্রিয়াতে আগ্রহ হারাবেন।
১১/ দ্রুত বীর্যপাত হবে।
১২/ দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে।
১৩/ মেরুদন্ডে ব্যথা হবে।
১৪/ পেশি সুগঠিত হবে না।
১৫/ শরীরে চর্বি জমে যাবে।
১৬/ হাড় ক্ষয়ে যাবে।
২৭/ হস্তমৈথুনের ফলে আপনার চুল পড়ে যাবে।
০৬. মেয়েদের যে সমস্যাগুলো হতে পারেঃ
*** হস্তমৈথুন নারীদের স্তন ক্যান্সার এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
Le MG, Bachelot A, Hill C.
Characteristics of reproductive life and risk of breast cancer in a case-control study of young nulliparous women. Journal of Clinical Epidemiology 1989; 42:1227–33
*** অ্যানাল সেক্স (পায়ুপথে সঙ্গম) এর ফলে কিশোরীদের মলাশয়ের টিস্যু ছিঁড়ে যাচ্ছে। ফলে তারা প্রস্রাব ও মলত্যাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। এর ফলে তাদের কলোস্টমি ব্যাগ [ক] ব্যবহার করতে হচ্ছে।
*** ওরাল সেক্স (মুখে সঙ্গম) এর ফলে আক্রান্ত হচ্ছে HPV ভাইরাসে। আর এর ফলে গলায় ক্যান্সার হবার কারণে অনেককেই সার্জারীর আশ্রয় নিতে হচ্ছে। https:/cNoo.gl/14p2cN
*** মুখ ও গলার ক্যান্সারের অন্যতম কারণ ওরাল সেক্স। http://bit.ly/2V2jA0a
[ক] কলোস্টমি ব্যাগঃ মলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হলে, অপারেশন করে ফেলে দেয়া হয়। পেট ফুটো করে নাড়ির মুখ খুলে দেয়া হয়। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় কলোস্টমি। নাড়ির সাথে একটি ব্যাগ লাগানো থাকে। মল এসে সেই ব্যাগে জমা হয়। একটু পর পর ব্যাগ পরিস্কার করতে হয়। সাধারণত মলাশয়ে ক্যান্সারের রোগিদের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কিন্তু অ্যানাল সেক্সের কারণে মলাশয়ের ক্ষতির ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও এমন অবস্থা হতে পারে।
Recovery এর জন্য যা যা করবেনঃ
০১. *** নিয়মিত কালো জিরা খাবেন। কারণ হাদিসে কালোজিরাকে মৃত্যু ছাড়া সব রোগের ঔষধ বলা হয়েছে।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছেনঃ কালো জিরা ‘সাম’ ছাড়া যাবতীয় রোগের ঔষধ।
ইবনু শিহাব বলেছেনঃ আর ‘সাম’ অর্থ হল মৃত্যু এবং কালো জিরাকে ‘শুনীয’ও বলা হয়। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬৮৮) (আঃপ্রঃ ৫২৭৭, ইঃফাঃ ৫১৭৩)
খালিদ ইবনু সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা (যুদ্ধের অভিযানে) বের হলাম। আমাদের সঙ্গে ছিলেন গালিব ইবনু আবজার। তিনি পথে অসুস্থ হয়ে গেলেন। এরপর আমরা মদীনায় ফিরলাম তখনও তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে দেখাশুনা করতে আসেন ইবনু আবূ ‘আতীক। তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা এ কালো জিরা সাথে রেখ। এত্থেকে পাঁচটি কিংবা সাতটি দানা নিয়ে পিষে ফেলবে, তারপর তন্মধ্যে যাইতুনের কয়েক ফোঁটা তৈল ঢেলে দিয়ে তার নাকের এ দিক-ওদিকের ছিদ্র দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে প্রবিষ্ট করাবে। কেননা, ‘আয়িশাহ (রাঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছেনঃ এই কালো জিরা ‘সাম’ ছাড়া সব রোগের ঔষধ। আমি বললামঃ ‘সাম’ কী? তিনি বললেনঃ মৃত্যু। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬৮৭ (আঃপ্রঃ ৫২৭৬, ইঃফাঃ ৫১৭২)
০২. *** যাইতুন এর তেলের ব্যবহারঃ
যাইতুন এর তেল কে ইংরেজিতে Olive oil (অলিভ ওয়েল) এবং বাংলাতে জলপাই এর তেল বলে।
উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যায়তুন তেল দিয়ে রুটি খাও ও তা দেহে মাখো। কারন তা বরকতপূর্ণ গাছ থেকে নির্গত হয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৩১৯
তিরমিযী ১৮৫১, সহীহাহ ৩৭৯, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১২০, মুখতাসারুশ শামাইল ১৩৩, ১৩৪)
০৩. *** ত্বীন (ডুমুর) ফল ও যাইতুন (জলপাই) ফল খাবেনঃ
*** বৈজ্ঞানিকদের মতে এ দুটি ফল বৃদ্ধ পর্যন্ত আপনার যৌবনকে ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
*** খাওয়ার নিয়মঃ বিজ্ঞানীদের মতে ১টি ত্বীন (ডুমুর) ফল ও ৭টি যাইতুন (জলপাই) ফল খেলে মিথালনিক্স (যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য কারী হরমোন) হরমোন তৈরি হবে, যেটা যৌন শক্তিকে সচল করে।
http://bit.ly/2zsfOUY (ভিডিও) http://bit.ly/2KFZXX5 (পর্ব ১) http://bit.ly/2KDL1J8 (পর্ব ২) http://bit.ly/2As4QhL (পর্ব ৩)
***আশ্চর্য বিষয় পবিত্র কোরআন এও আল্লাহ ডুমুর ফলের কথা শুধু ১ বার বলেছেন। আর জাইতুন ফলের কথা বলেছেন ৭ বার, সুবহানআল্লাহ। (পবিত্র কোরআন )
***পবিত্র কোরআনে এ দুটি ফল সম্পর্কে একটি সূরা নাযিল হয়েছে। (সূরা আত-ত্বীন, সূরা নং ৯৫)
০৪. *** মধু খাবেনঃ
কারণ মধুতে মানুষের জন্য আরোগ্য রয়েছে।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, তোমার প্রতিপালক মৌমাছির প্রতি এলহাম করেছেন যে, পাহাড়ে, বৃক্ষে আর উঁচু চালে বাসা তৈরি কর।
এর পর প্রত্যেক ফল হতে কিছু কিছু আহার কর, অতঃপর তোমার রবের সহজ পথ অনুসরণ কর। ওর উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিষেধক। অবশ্যই এতে রয়েছে নিদর্শন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য। (সূরা নাহল, আয়াত ৬৮-৬৯)
*** নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় দ্রব্য ছিল মিষ্টিদ্রব্য ও মধু। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬১৪ (আঃপ্র- ৫২০৩, ইঃফাঃ- ৫০৯৯)
*** ইবনু আব্বাস (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ
তিন জিনিসে রোগমুক্তি নিহিতঃ মধুপানে, রক্তমোক্ষণে /শিংগা লাগানো /হিজামা করা
এবং তপ্ত লোহার দাগ গ্রহণে। তবে আমার উম্মাতকে আমি তপ্ত লোহার দাগ গ্রহণ করতে বারণ করেছি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হাদীসটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৪৯১
*** যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে মধুঃ
দৈহিক ও যৌনশক্তি বৃদ্ধির জন্য মধু গরম দুধের সাথে পান করলে খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়।
***প্রতিদিন কালোজিরা মধু দিয়ে চিবিয়ে খেলে বা দৈনিক দুই চামচ আদার রস মধু দিয়ে খেলে প্রচুর পরিমাণে যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে। http://bit.ly/2P93D44
০৫. *** খেজুর খেতে পারেনঃ
*** আমির ইবনু সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রহঃ) হতে নিজের পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যহ সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোন ধরনের বিষ ও যাদু তাকে ক্ষতি করবে না। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৭৬
০৬. চিকিৎসকের পরামর্শঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, এক মিনিট যৌনমিলনে খরচ হয়ঃ ছেলেদের 4.2 এবং মেয়েদের 3.1 ক্যালরি।
***প্রত্যেক বীর্যপাতের পর (সেটা সহবাস হোক কিংবা হস্তমৈথুন) ১ কাপ দই এবং প্রচুর পরিমাণ পানি পান করবেন।
*** যারা দীর্ঘদিন দিন ধরে হস্তমৈথুন থেকে বিরত আছেন, কিংবা চেষ্টা করছেন বিরত থাকার জন্য, তারা Recovery এর জন্য যা যা খাবেন↓
১) ১ টা ডিম
২) ২ চা চামচ মধু
৩) ১ কাপ দুধ
সকালে ও রাতে তিন মাস খাবেন। আশা করি এতে আপনার ক্ষতি পূরণ হবে এবং যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, ইনশাআল্লাহ।
*** পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে।
*** বিঃদ্রঃ অবিবাহিতদের রাতে ডিম/দুধ না খাওয়ার জন্য বলছি। কারণ এটা হয়ত আপনার যৌন উত্তেজনাকে বৃদ্ধি করতে পারে।
.
চিকিৎসকের পরামর্শঃ (২)
কালোজিরা এবং মধু একসাথে যেভাবে খাবেনঃ। প্রতিদিন সকালবেলা ও রাতে ভাত খাওয়ার পর, ১ চা চামচ মধুর সাথে ৪ বা ৫ টা কালোজিরা বা কালোজিরার তেল খাবেন।
*** তবে সব রোগ থেকে সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন খেতে পারেন, ইনশাআল্লাহ। তথ্যসূত্রঃ → ডাঃ Md.Faijul Huq http://bit.ly/2BHThVp
০৭. চোখের জ্যোতি বৃদ্ধিতে যা করবেনঃ
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ। তিনি বলেন, নবী (সঃ) বলেছেন, তোমরা ইছমিদ সুরমা ব্যবহার করো। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে ও পরিষ্কার রাখে এবং অধিক ভ্রু উৎপন্ন করে (ভ্র উদগত হয়)। ইবনে আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, নবী (সঃ) এর একটি সুরমাদানী ছিল। প্রত্যেক রাত্রে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন। [৪২]
ব্যাখ্যা : সুরমা ব্যবহারের হুকুম ও পদ্ধতি :
নারী-পুরুষ সকলের জন্য চোখে সুরমা লাগানো ভালো। তবে সওয়াবের নিয়তে সুরমা লাগানো উচিত, যাতে চোখের উপকারের সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ (সঃ) র এর সুন্নতের অনুসরণের সওয়াবও লাভ হয়। অত্র হাদীসে সুরমা ব্যবহারের তিনটি উপকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান বিজ্ঞানে হুবহু প্রমাণিত। এছাড়াও গবেষণায় আরো উপকারিতা পাওয়া গেছে সেগুলো হলো :
১. সর্বধরনের ছোয়াচে রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে।
২. চোখের প্রবেশকৃত ধূলাবালী নিঃসরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে প্রভৃতি।
৩. অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক।
৪. চোখে জ্বালাপোড়া খুব কম হয়। ফুটনোটঃ [৪২] সুনানুল কুবর লিল ইমাম বাইহাকী, হা/৮৫১৬। (শামায়েলে তিরমিযি, হাদিস নং ৪১)
০৮. *** চুল গজাতে যা করবেনঃ
অ্যালোভেরা ও পেঁয়াজের রসের ব্যবহার (পদ্ধতি ১)
পিয়াজ গ্লাসে নিয়ে ভাল করে থেতলে হালকা পানি দিয়ে মাথায় দিবেন। এমন ভাবে দিবেন যাতে মাথার চামড়ায় লাগে। ১ ঘন্টা পর শ্যামপু করে ফেলবেন। সে দিন এ্যালোভেরা দিবেন না। পরবর্তী দিন এ্যালোভেরার উপরের ছাল তুলে লিকুইড অংশ মাথায় ঘসবেন। পুরো মাথায়। তারপর ১ ঘন্টা রেখে শ্যামপু করে ফেলবেন।
তথ্যসূত্রঃ এই পোস্ট এর ২য় কমেন্টে পাবেন। লিংক→http://bit.ly/2KW068U
***অ্যালোভেরা ও পেঁয়াজের রস (পদ্ধতি ২)
উপকরণঃ পেঁয়াজের রস ১ কাপ, অ্যালোভেরা জেল ১ চামচ।
পেঁয়াজের রসের সাথে জাস্ট অ্যালোভেরা জেলটা মিশিয়ে নিন। এবার মাথার স্ক্যাল্পে ভালো করে লাগিয়ে নিন।একঘণ্টা মতো রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ দিন করে করুন। একমাসে চুল হয়ে উঠবে ঘন কালো, ইনশাআল্লাহ। এই প্যাকে থাকা পেঁয়াজের রস আপনার চুল পড়া কমাবে এবং চুল নতুন করে গজাতেও সাহায্য করবে, ইনশাআল্লাহ। সংগৃহীত
হিজামাহ করাতে পারেন। খুব ইফেক্টিভ।
০৯. স্মরণশক্তি এবং জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য যা যা করবেন↓
এই দোআটি পড়বেন, সেজদায় কিংবা মোনাজাতে।
رَّبِّ زِدْنِى عِلْمًا
রব্বি যিদ্নী ‘ইল্মা-
অর্থঃ হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। সূরা ত্বাহা – ২০:১১৪
***মুখস্তশক্তি/স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য গুনাহ পরিত্যাগ করুন↓
.ইয়াইয়া বিন ইয়াহইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক লোক মালেক বিন আনাস (রহঃ) কে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! মুখস্তশক্তি বাড়ানোর কোন কিছু আছে কি? তিনি বলেন: যদি কোন কিছু থাকে তাহলে সেটা হল: গুনাহ পরিত্যাগ করা।
যখন কোন মানুষ গুনাহ করে তখন এ গুনাহটি তাকে ঘিরে রাখে এবং গুনাহর ফলে তাকে দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা পেয়ে বসে। সে গুনাহর কারণে তার চিন্তাধারা মশগুল হয়ে থাকে। এভাবে এ দুশ্চিন্তা তার অনুভূতির উপর আধিপত্য বিস্তার করে থাকে এবং তাকে অনেক কল্যাণকর কাজ থেকে দূরে রাখে। এর মধ্যে মুখস্থশক্তি অন্যতম। গ্রন্থঃ খতীব আল-জামে (২/৩৮৭)
*** ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন: তুমি মধু খাবে; কারণ এটি স্মৃতিশক্তির জন্য ভাল।
তিনি আরও বলেন: যে হাদিস মুখস্ত করতে চায় সে যেন কিসমিস খায়। গ্রন্থঃ (খতীব আল-বাগদাদীর ‘আল-জামে’ ২/৩৯৪)
*** অধিক হারে আল্লাহর যিকির করা। যেমন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি পড়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: “যখন ভুলে যান তখন আল্লাহর যিকির করুন” [সূরা কাহাফ, আয়াত: ২৪]
*** মুখস্থশক্তি বৃদ্ধি ও ভুলে যাওয়ার সমস্যা প্রতিরোধে আরও যে জিনিসটি সাহায্য করে সেটি হচ্ছে- মাথায় শিংগা লাগানো /হিজামা করা।
এটি পরীক্ষিত। (আরও বিস্তারিত জানতে ইবনুল কাইয়্যেম এর ‘আততিব্ব আন-নাবাবি’ পড়ুন)। [Source: Islamqa . Info → http://bit.ly/2CoDSKe ]
১০. জাহিলিয়াত থেকে মুক্তি পেতে করণীয়
أَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ
আ‘ঊযুবিল্লা-হি আন্ আকূনা মিনাল্ জ্বা-হিলীন্
অর্থঃ আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।
(সূরা আল বাকারাহ, আয়াত ৬৭)
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ১৩৪ নং দোয়াটি দেখুন ]
১১. মোটা/ স্বাস্থ্যবান/স্বাস্থ্যবতী হতে করণীয়
‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল আমাকে স্বাস্থ্যবতী বানিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পাঠাবেন। এজন্য তিনি অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, কিন্তু কোন ফল হয়নি। শেষে তিনি আমাকে পাকা খেজুরের সাথে শসা বা খিরা খাওয়াতে থাকলে আমি তাতে উত্তমরূপে স্বাস্থ্যের অধিকারী হই। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৯০৩
১২. শরীরে কোনো ব্যথা অনুভব করলে যা করবেন ও বলবেন
আপনার দেহের যে স্থানে আপনি ব্যথা অনুভব করছেন, সেখানে আপনার হাত রেখে তিনবার বলুন,
بِسْمِ اللَّهِ
বিসমিল্লাহ
অর্থঃ আল্লাহর নামে।
আর সাতবার বলুন,
أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
আ‘ঊযু বিল্লা-হি ওয়া ক্বুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহা-যিরু
অর্থঃ এই যে ব্যথা আমি অনুভব করছি এবং যার আমি আশঙ্কা করছি, তা থেকে আমি আল্লাহ্‌র এবং তাঁর কুদরতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। মুসলিম ৪/১৭২৮, নং ২২০২।
[উপরোক্ত দোআটি অডিও সহকারে শুনতে এবং মুখস্ত করতে হিসনুল মুসলিম এপটির “সব দোয়া অধ্যায় এর ১২৪ নং দোয়াটি দেখুন ]
নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন ব্যথা অনুভব করলে তিনি নিজেই ‘মুআব্বিজাত’ সূরাহগুলো (অর্থাৎ সূরাহ নাস ও ফালাক) পড়ে ফুঁ দিতেন। ব্যথা বৃদ্ধি পেলে আমি তা পড়ে তাঁর হাতে ফুঁ দিয়ে তা তাঁর ব্যথায় স্থানে বুলিয়ে দিতাম বরকত লাভের আশায়।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৯০২
১৩. রক্তমোক্ষণ /শিংগা লাগানো /হিজামা করা
আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা যেসব চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকো তার মধ্যে রক্তমোক্ষণ হলো সর্বোত্তম চিকিৎসা। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৫৭
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খাদেম সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, কেউ মাথাব্যথার অভিযোগ নিয়ে (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট এলে তিনি তাকে বলতেনঃ রক্তমোক্ষণ করাও। আর পায়ের ব্যথার অভিযোগের ক্ষেত্রে বলতেন : মেহেদী পাতার রস লাগাও। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৫৮
আবূ কাবশাহ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সিঁথিতে এবং দু’ কাঁধের মধ্যখানে রক্তমোক্ষণ করাতেন। তিনি বলতেনঃ যে ব্যক্তি এই অঙ্গ হতে রক্তমোক্ষণ করাবে, সে কোন রোগের কোন ঔষধ ব্যবহার না করলেও তার অসুবিধা নেই। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৫৯
১৪. টেস্টোস্টোরোনের পরিমাণ বাড়াতে যা করবেন।
হস্তমৈথুন থেকে বিরত থাকার ১ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত টেস্টোস্টোরোনের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। ৬ষ্ঠ আর ৭ম দিনে এই বৃদ্ধির হার হয়ে যায় ১৪৭%! এবং ৭ দিন পরে, টেস্টোস্টোরোনের পরিমাণ স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌছে যায়। http://bit.ly/2AigBa4
যেভাবে আপনার মোবাইল/পিসিতে পর্ণ সাইটব্লক করবেন↓
০১/ Spin browser play store থেকে ডাওনলোড করে নিন। http://bit.ly/2QnbGiF । এর সুবিধাঃ
***আপনি কোন পর্ণ সাইট ব্রাউজ করতে পারবেন না।
*** অনাকাঙ্খিত Add পাবেন না।
*** Youtube এ যত চেষ্টা করুন না কেন পর্ণ দেখতে পারবেন না। কারণ আপনি Restriction মোড off করে দিলেও, Automatic on হয়ে যাবে।
*** তবে শর্ত হল আপনার মোবাইল এর অন্য সব Browser Uninstall করে দিতে হবে।
[উল্লেখ্য এখন পর্যন্ত আর কোন Apps পাইনি যা দিয়ে Youtube porn বাধ্যগতভাবে Block করা যায়]
০২/ মোবাইল এর default browser কে diseable করে দিন। এবং Applock দিয়ে lock করে রাখুন।
অথবা মোবাইল root করে চিরদিনের জন্য uninstall করে দিন। যেকোন Android device root করতে দেখুন এই ভিডিওটি। http://bit.ly/2P7YLMO
***তবে অবশ্যই root সম্পর্কে আগে জেনে নিবেন।
০৩/ Spin browser দিয়ে Youtube থেকে অথবা youtube এর বাইরে থেকে কোন video download করতে চাইলে নিচের দুটি website ব্যবহার করুন।
****যে ভিডিওটি download করতে চান তার download লিংক কপি করে উপরের website গুলোর নিদিষ্ট স্থানে paste করলে video download শুরু হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
বিঃদ্রঃ বিশেষভাবে বলছি, আপনার মোবাইলে tubemate/ vidmate রাখবেন না। হয়ত এটা আপনার পর্ণআসক্তির কারণ হতে পারে।
*** App lock ডাওনলোড করতে। http://bit.ly/2QkPaH8
যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত add block করতে install করুন appBrain ad detector। http://bit.ly/2r9n17B
***Add free (এড ছাড়া) Shareit ডাওনলোড করুন।
*** আপনার Android phone থেকে চিরতরে যেকোনো Add block করুন AdAway App দিয়ে (তবে সেট অবশ্যই রুট করা লাগবে)
০৪/ যতটুকু তথ্য পেয়েছি, এখন পর্যন্ত সরাসরি কম্পিউটারের জন্য Spin browser তৈরি হয়নি। তবে Bluestacks সফটওয়্যার দিয়ে আপনি কম্পিউটারেও Spin Browser ব্যবহার করতে পারেন। ভিডিও লিংক→ http://bit.ly/2LquRTE
*** আপনার PC তে Ram কম হলে এই Vysor Extention এর মাধ্যমে আপনি কম্পিউটারে Spin Browser ব্যবহার করতে পারেন। ভিডিও লিংক→ http://bit.ly/2S7GVvv
*** যারা কম্পিউটারে ফেসবুক Use করেন তারা add block করার জন্য Social Network add blocker এই Extension টি ব্যবহার করতে পারেন। লিংক→ http://bit.ly/2T2ShkS
০৫/ যারা ফেসবুক ব্যবহার করেন অনুরোধ থাকবে, কোন গায়রে মাহরামদের (যাদের বিয়ে করা যায়) আপনার Friend list এ এড
করবেন না।
*** এমন কোন খারাপ Friend রাখবেন না, যারা অশ্লীল ছবি আপলোড করে।
আর যাদের ফ্রেন্ড লিস্টে এখনও ছেলে অথবা মেয়ে ফ্রেন্ড আছে, তারা আনফ্রেন্ড করতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন↓
ছেলেদের জন্যঃ
আপনার ফ্রেন্ড লিস্টের মেয়েদেরকে আনফ্রেন্ড করতে চাইলে→
উপরের লিংক কাজ না হলে বিকল্প লিংক→ https://m.facebook.com/search/females/me/friends/intersect
মেয়েদের জন্যঃ
আপনার ফ্রেন্ড লিস্টের ছেলেদেরকে আনফ্রেন্ড করতে চাইলে→ https://www.facebook.com/search/males/me/friends/intersect
উপরের লিংক কাজ না হলে বিকল্প লিংক
যে App/ বই/গ্রন্থ/গুলো পড়া খুব জরুরীঃ
০১/ কুরআন মাজীদ App। প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ১ টি আয়াতের তরজমা ও তাফসীর পড়ুন। লিংক→ ( http://bit.ly/2EzhKOD )
০২/ আল হাদিস App। প্রতিদিন কমপক্ষে ১টি হাদিস পড়ুন। ( http://bit.ly/2PQA3kg )
০৩/ হিসনুল মুসলিম App ( https://goo.gl/hmWsrH )
সপ্তাহে অন্ততপক্ষে ১ টি দোআ মুখস্ত করার চেস্টা করুন। (তবে এই পোস্টে বর্ণিত দোআগুলো আগে মুখস্ত করবেন)
০৪/ মুক্ত বাতাসের খোঁজে বই। (এখানে আপনি পর্ণগ্রাফি এবং হস্তমৈথুন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন) দাম ২৩০ টাকা এবং যেখানে পাওয়া যাবে→http://bit.ly/2EK91tB
বইটির পিডিএফ লিংক →https://bit.ly/2SnGUDE
০৫/ https://islamqa.info/bn (আন্তর্জাতিক ফতোয়ার সাইট)
ফতোয়ার জন্য ভিজিট করতে পারেন। (পরিচালক শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ)
০৬/ সহস্রাধিক ইসলামীক PDF বই থেকে আপনার পছন্দের বই বাছাই করুন। চাইলে PDF থেকে বই এর ধারণা নিয়ে হার্ডকপি কিনতে পারেন → http://bit.ly/2L6fZdf
আল্লাহ তাআ’লা সবাইকে আমল করার তৌফিক দিন এবং পর্ণগ্রাফি এবং হস্তমৈথুনসহ যাবতীয় পাপাচার থেকে বিরত রাখুন। #আমিন
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন লোককে সৎ কাজের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্যও সে পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে, অথচ তাদের সাওয়াবের কোন অংশ একটুও কমবে না। অনুরূপ যে ব্যক্তি কাউকে গোমরাহীর দিকে আহ্বান করে তারও সে পরিমাণ গুনাহ হবে, যতটুকু গুনাহ তার অনুসারীদের জন্য হবে। অথচ এটা অনুসারীদের গুনাহ্‌কে একটুও কমাবে না। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১৫৮, সহীহ : মুসলিম ২৬৭৪)
খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (দ্বিতীয় পর্ব)

খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (দ্বিতীয় পর্ব)

আসসালামু আলাইকুম। ভাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ আমার এই লেখাটা ছাপাবেন। এটা আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সত্যি একটা ঘটনা। এতে যদি উম্মাহর কোনো তরুণ বা তরুণী উপকৃত হয় তবেই আমার লেখা সার্থক।

আমার হস্তমৈথুনের অভ্যাসটা শুরু হয়েছিল ক্লাস সেভেন থেকে। তখন বয়স ১২ কি ১৩ বছর। একদিন বাথ্রুমে গিয়ে গোসল করতে করতে অনেকটা নিজের অজান্তেই এই পদ্ধতিটা আবিষ্কার করে ফেলি। মনে আছে খুব ভয় পেয়েছিলাম সেদিন। তখন পর্যন্ত পর্ণ জগতের সাথে আমার জানাশোনা ছিলো না। পরিচয়টা ঘটে এর কিছুদিন পরেই। এখন যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ বা ইন্টারনেটে এগুলো ডাল্ভাত হয়ে গেছে তখন এমন ছিলো না। যখনকার কথা বলছি তখন বাংলাদেশে এই সর্বনাশা ভাইরাসটা একটু একটু করে পাখা মেলতে শুরু করেছে। মানুষের হাতে তখন সস্তা চায়না ফোন গুলো আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন মোবাইলের দোকান থেকে মেমরী কার্ডে পর্ণ লোড করে নেয়া যেত। মানুষ এগুলো থেকে ব্যবসা করতো।

তো যাই হোক, একদিন এক কাজিন ডিভিডিতে করে কিছু পর্ণ নিয়ে আসলো। মনে আছে প্রথমবার ওগুলো দেখার পর ভীষণ খারাপ একটা অনুভূতি কাজ করছিলো। বমি আসতে চাইছিলো যেনো। ভেবেছিলাম আর দেখবো না। কিন্তু কিছুদিন পর ওই কাজিনের পাল্লায় পরে আবার দেখে ফেললাম। প্রথমবারের তুলনায় এবার আর অতটা খারাপ লাগলো না। বরং কিছুটা ভালোই লাগলো। সেই থেকে শুরু। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১১ টি বছর। এই ১১ টি বছরে খুব কম দিনই আমার জীবনে এসেছে যেদিন আমি হস্তমৈথুন করিনি অথবা পর্ণ দেখিনি। এসএসসি পরীক্ষার পর আমাকে বাসা থেকে একটা কম্পিউটার কিনে দেয়া হয়। সেই কম্পিউটার পেয়ে আমি মহা খুশি। চুটিয়ে পর্ণ দেখা শুরু করলাম। কিন্তু একদিন ধরা পড়ে যাই। আমার আব্বা আম্মা খুব কষ্ট পেয়েছিলো সেদিন। আমার আম্মা আমার সাথে অনেকদিন কথা বলেননি।

এই সময় একটা ঘটনা ঘটে। একদিন তরকারি কাটতে গিয়ে আমার আম্মা হাত অনেকখানি কেটে ফেলেন। দরদর করে হাত থেকে রক্ত ঝরছিলো। আমি দৌড়ে গেলাম মাকে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু আমার মা আমাকে তাকে স্পর্শ করতে দিলেন না। তার কথাটা আমাকে এখনো মনে আছে। তিনি সেদিন বলেছিলেন, “তুই আমাকে ছুবি না”। আমার অসম্ভব খারাপ লাগলো। নিজেকে পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট মনে হলো। ইচ্ছে হলো মরে যাই। অনেক কষ্টে নিজেকে শান্ত রাখলাম। আমার ছোট ভাই সেদিন মায়ের সেবা করেছিলো। তার হাতে সেলাই করতে হয়েছিলো। অথচ তিনি কোনো ব্যাপারে আমার সামান্যতম কোনো সাহায্যও নেননি।

ইন্টারে ঢাকায় একটা নামকরা কলেজে ভর্তি হলাম। এই ২ টা বছর আমি তেমন পর্ণ দেখিনি। বলা চলে সুযোগ পাই নি। কারন আমার কাছে ১ টা ফোন ছিলো যা দিয়ে ইন্টারনেট চালানো যেতো না। তবে হস্তমৈথুন বলতে গেলে নিয়মিতই চলতো। অনেকবার চেষ্টা করেছি ছেড়ে দেয়ার। একবার ১১ দিন না করে ছিলাম। কিন্তু তারপর আর পারি না। এভাবে আমি আমার জীবনের আরও কয়েক বসন্ত পার করে দিলাম। .

ভার্সিটিতে উঠে ল্যাপ্টপ, মোবাইল, ইন্টারনেট সবকিছু সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় পর্ণ দেখার মাত্রা আগের চেয়ে বেড়ে গেলো। একসময় আবিষ্কার করলাম আমার আর সফটকোর টাইপের কোনো পর্ণ আর ভালো লাগে না। দিন দিন আরও বেশি এগ্রেসিভ পর্ণ এর প্রতি আসক্তি বাড়তে থাকলো। একটা সময় দিনে ৩ বা ৪ বার হস্তমৈথুন করা অভ্যাস হয়ে গেলো। শরীর দূর্বল হয়ে গেলো। কোনো কিছুতে উৎসাহ পেতাম না। এই রকম একটা অবস্থায় চলে গেলে আরো তিনটি বছর।

একটা মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো। প্রথম প্রথম জাস্ট ফ্রেন্ড টাইপ সম্পর্ক থেকে একটা সময় গিয়ে প্রেমের সম্পর্কে এটা রূপ নেয়। আর এই সময় আমি আমার জীবনের সবচেয়ে মারাত্নক ভুলটা করে বসি। আমি মেয়েটার সাথে যিনায় লিপ্ত হই। একবার না। বেশ কয়েকবার তার সাথে আমি এই জঘন্য পাপাচার করেছি। আমি আবিষ্কার করলাম একটা মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে যে পরিমাণ আনন্দ পাওয়ার কথা আমি আসলে তা পাচ্ছি না। পর্ণ দেখতে দেখতে নিজের ওপর এমন অত্যাচার করেছিলাম যে আমি ধরেই নিয়েছিলাম পুরুষ মানুষ হচ্ছে মেশিনের মতো। সে যতো বেশি সময় নিজেকে ধরে রাখতে পারবে ততই তার কৃতিত্ব। এই জঘন্য অপরাধ করতে করতে একসময় আমার ভেতর থেকে পাপবোধ চলে গেলো।

আগে শুক্রবার অন্তত জুমা পড়তে যেতাম। আস্তে আস্তে তাও ছেড়ে দিলাম। পাপ পঙ্কিলতায় ডুবে থাকার কারণে আমার অন্তরের শান্তি নষ্ট হয়ে গেলো। আমি রাতে ঘুমাতে পারতাম না। অল্পতেই অতিরিক্ত টেনশন করতাম। আমি প্রচুর টাকা খরচ করতাম। সিগারেট খেতাম। মাঝে মাঝে মদ গাঁজাও খেতাম। আস্তে আস্তে একটা আস্ত নরপশুতে পরিণত হলাম আমি। এভাবেই চলছিলো। এরপরই খুব দ্রুত কিছু ঘটনা ঘটে গেলো আর আমার অগোছালো নোংরা জীবনটা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দিকে মোড় নিলো।

একদিন কোনো এক আল্লাহর বান্দার হাত থেকে আমার হাতে “মুক্ত বাতাসের খোঁজে” বইটি এলো। পড়তে শুরু করলাম। সম্পূর্ণ বইটি পড়ার পর মনে হলো বইটি মনে হয় আমার জন্যই লেখা হয়েছে। বিশ্বাস করুন একটুও বাড়িয়ে বলছি না, আমি এর আগে অনেক বই পড়েছি কিন্তু এই বইটি প্রথমবারের মতো আমার ভেতরটাকে নাড়া দিয়ে গেলো। আলহামদুলিল্লাহ, এই বইটি পড়া শেষ করার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমি কোনো পর্ণ দেখিনি বা হস্তমৈথুনও করি নি। এই অবস্থায় আমার জন্য রিলেশনটা একটা বড় ফিতনা হিসেবে সামনে দাড়ালো। আমি তখন একটু আধটু নামাজ পড়া শুরু করেছি। যিনার শাস্তি সম্পর্কে ইসলামের বিধান কি তা যখন জানলাম তখন অঝোরে কাঁদলাম। আর-রহমানের দরবারে হাত তুলে ক্ষমা চাইলাম। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম আর এ পথে পা পাড়াব না।

.কিন্তু হায়! বিধি বাম সাধলো এবারো। আমার গার্লফ্রেন্ড ক্রমাগত চাপ দিয়ে যাচ্ছিলো আমাকে তার সাথে দেখা করার জন্য। সে আমার পরিবর্তনটা আঁচ করতে পেরেছিলো। কিন্তু আমি দেখা করতে রাজি হচ্ছিলাম না। ফোন দিয়ে প্রচুর কান্নাকাটি করলো। একসময় আমি তাকে বললাম যে দেখো আমি এখন থেকে চেঞ্জ হয়ে যাবো। নামাজ পড়বো, দাড়ি রাখবো। হারাম রিলেশন রাখবো না। সে আমার কথা শুনে খুবই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করলো। এতদিন আমি কি কি করে এসেছি সেই ফিরিস্তি আমাকে শোনাতে লাগলো। সন্দেহ নেই যে কথাগুলো সত্যি। আমি শুধু বললাম, আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল। চল তুমি আমি দুইজনই তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজেদের পরিবর্তন করে ফেলি। আমি তাকে বিয়ে করে ফেলার প্রস্তাব দিলাম শুধু এই শর্তে তাকে পুরোপুরি পর্দা করতে হবে এবং ইসলামি বিধান মেনে চলতে হবে। সে রাজি হলো। শুধু বললো সে একবার শুধু দেখা করতে চায়। আমি রাজি হলাম এবং এইখানেই শয়তানের পাতা ফাঁদে পা দিলাম। আমার ঈমান তখনো অনেক দুর্বল। তাই সহজেই শয়তানের ধোকায় পড়ে গেলাম। আরে একবারই তো দেখা করবি। আর বিয়ে তো করেই ফেলবি সুতরাং চিন্তা কি? ফলে যা হওয়ার তাই হলো। আমি আবারো যিনায় লিপ্ত হলাম।

এইবার আমার অনুশোচনা হলো। প্রচন্ড অনুশোচনা। হায়! আমি এ কি করলাম? আল্লাহ আমাকে হিদায়াত দেয়ার পরও কি করে এই কাজ আমি করতে পারলাম? অনুশোচনায় ভিতরে ভিতরে দগ্ধ হতে থাকলাম। আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কাঁদলাম, “হে আল্লাহ, আমি আমার নিজের নফসের ওপর জুলুম করেছি। আমি গোনাহগার, আমই পাপী, আমি নিকৃষ্ট এক বান্দা। তবু আমি তো তোমারই বান্দা। শুধু নেক বান্দারাই যদি তোমার রহমত প্রাপ্ত হয় তবে আমরা গোনাহগাররা কই যাব হে মাবুদ? তোমার কাছ থেকে হিদায়াত পাওয়ার পরেও আমি তার মূল্যায়ন করতে পারি নাই। হে আমার রব্ব, আমি লজ্জিত, আমি অনুতপ্ত অতএব আমাকে ক্ষমা করে দাও। নিশচয়ই তুমি ক্ষমশীল, পরম দয়ালু।“

আমি তাহাজ্জুদ পড়া শুরু করলাম। রাত দেড়টা দুইটার দিকে ঘুম থেকে উঠে বাকি রাত নামাজে দাঁড়িয়ে থাকতাম। সিজদায় লুটিয়ে পড়ে অঝোরে কাঁদতাম। ডুকরে ডুকরে কেঁদে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকলাম। এরই মধ্যে রমাদান মাস চলে এলো। এতদিন এই মাসটাকে অবহেলা করে এসেছি। কিন্তু এবার জানলাম এই মাস এমন এক মাস যেই মাসে মহান আল্লাহ তা’আলা জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেন আর জাহান্নামের দরজা গুলো বন্ধ করে দেন। শয়তানকে শিকল পড়িয়ে বেঁধে রাখা হয়। বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় এই মাসে। আল্লাহ তার ক্ষমার হাত বাড়িয়ে দেন এই মাসে। ভাবলাম এই সুযোগ, এই মাস পুরোপুরি কাজে লাগাবো। মনপ্রাণ দিয়ে ইবাদত করবো। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবো। এরই মধ্যে একদিন খবর পেলাম আমার গার্লফ্রেন্ড প্রেগ্ন্যান্ট।

মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। হায়! এখন কি করবো? আমাকে সে চাপ দিলো বাচ্চা নষ্ট করে ফেলতে চায় তাই তার সাথে দেখা করতে বললো। আমি কিছুতেই রাজি হলাম না। আমি তাকে বিয়ে করতে বললাম আর বলে দিলাম পুরোপুরিভাবে দ্বীন ইসলামে সে যেনো প্রবেশ করে। সে সময় চাইলো। আমি তাকে সময় দিলাম। আর ওদিকে আমি ক্ষমা চাইতে থাকলাম আল্লাহর কাছে। উঠতে বসতে সারাক্ষণ আমি তওবা করতাম। আমি সারাদিন রোজা রাখতাম। ইসলাম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতাম আর রাতে খুব অল্প সময় ঘুমিয়ে বাকি রাত ইবাদতে কাটিয়ে দিতাম। দীর্ঘ সময় সিজদায় পড়ে পড়ে আল্লাহ তা’আলার করুণা ভিক্ষা করতাম। “হে আল্লাহ, আমি অপরাধ করেছি। আমি তোমার আদেশ অমান্য করেছি। আমি বড় বিপদে পড়েছি। আমার কারণে একটা নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে গেছে। ও আল্লাহ, ক্ষমা করে দাও আমায়। আমাকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করো। আমার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তুমি ছাড়া আমাকে বাঁচানোর কেউ নেই। সাহায্য করো হে আমার রব্ব। সাহায্য করো।“

ফজরের পর সবাই যখন ঘুমাতে চলে যেতো আমি তখন মসজিদের পাশের একটা মাঠে চলে যেতাম। দু হাত তুলে রবের দরবারে ক্ষমা ভিক্ষা চাইতাম। চোখ থেকে অঝোর ধারায় অশ্রু নেমে আসতো। সে অশ্রুতে প্লাবিত হতো, দু গাল, সদ্য রাখতে শুরু করা শ্মশ্রু। “হে আল্লাহ আমি তোমার রহমত থেকে নিরাশ হই নি। আমার যাওয়ার কোনো জায়গা নাই। আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। মেহেরবানী করে আমাকে ক্ষমা করে দাও।“ কাঁদতে কাঁদতে কখনো কখনো মাটিতে লুটিয়ে পড়তাম। ভোরবেলার ঝিরঝিরে পবিত্র বাতাস আমার শরীরের ওপর দিয়ে আল্লাহর রহমতের পরশ বুলিয়ে দিত। যেনো বলতে চাইত, “দুঃখ কোরোনা। নিশ্চই তোমার রব্ব পরম দয়ালু।“ ۞ نَبِّئْ عِبَادِىٓ أَنِّىٓ أَنَا ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ﴿٤٩﴾ “আমার বান্দাদের জানিয়ে দাও যে, আমি নিশ্চয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (সূরা আল-হিজর, আয়াত ৪৯)

এরই মধ্যে ক্বদরের রাত চলে এলো। এই দশ রাতের প্রতিটি রাত সারারাত সলাত আর কুরআন তিলওয়াতে কাটলো। সেই দশ রাতের অভিজ্ঞতা আমার পক্ষে বর্ণনা করা সম্ভব না। হায়! সেই দশ রাত যদি আবার ফিরে পেতাম! ঈদের দিন এলো। খুশির দিন। কিন্তু আমার মনে অপরাধবোধ। আল্লাহ কি আমায় ক্ষমা করে দিয়েছেন? নাকি আমি ক্ষমা করিয়ে নিতে পারি নি?

ঈদের সলাত আদায় করতে গেলাম। ইমাম সাহেব বললেন যে এই দিনে সলাত আদায়ের পর যারা সারা রমাদান মাস সিয়াম পালন করেছে তাদের এমনভাবে ক্ষমা করে দেয়া হয় যেনো সদ্য জন্মানো শিশু। সলাত শেষ হলো। ইমাম সাহেব হাত উঠালেন। দুআ শুরু করলেন। সবাই কাঁদতে শুরু করলো। আমিও চোখের পানির বাঁধ ছেড়ে দিলাম। কাদঁতে কাদঁতে দাড়ি ভিজে গেলো। একটা সময় দুআ শেষ হলো। কিন্তু আমি উঠতে পারছিনা। আমি তখনো কেঁদেই যাচ্ছি কেঁদেই যাচ্ছি। কান্না থামাতে পারছি না। “হে আমার রব্ব, আমি সত্যিই অনুতপ্ত। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন।” এক সময় মানুষ উঠে কোলাকুলি শুরু করলো। আমি তখনো কেঁদে যাচ্ছি। আমার বাবা আমার পাশে এসে দাড়ালেন। পরম মমতা নিয়ে তিনি আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম। বাবা আমাকে ক্ষমা করে দাও। .

আমার দুআ আল্লাহ ত’আলা শুনেছেন। তিনি আমাকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। সে অন্য গল্প। আমার জীবনে আমি এখন অনেক সুখী। সব ধরনের আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। যারা আমার মতো আছেন তাদের প্রতি আমার একটাই কথা, ভাই/বোন কখনো হতাশ হবেন না। আপনি যত বড় গুনাহই করেন না কেনো আপনি ক্ষমা চাইলে আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেনই। দরকার শুধু আপনার একটু চেষ্টা আর আন্তরিকতা। তাই নিজের হতাশাকে একেবারে ঝেড়ে ফেলুন। উঠুন, দেখুন কত সুন্দর এই পৃথিবী। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত করুন। দেখবেন জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে সিরাতল মুস্তাকিমের পথে চলার তৌফিক দিন, আমিন।

চলবে ইনশা আল্লাহ…

পড়ুন-

খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার (প্রথব পর্ব)

আরো পড়ুনঃ

নীড়ে ফেরার গল্প

নীড়ে ফেরার গল্প (দ্বিতীয় কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (তৃতীয় কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (চতুর্থ কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (পঞ্চম কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (ষষ্ঠ কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (সপ্তম কিস্তি)

মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ের লিংক-