মুক্ত বাতাসের খোঁজে পিডিএফ …

পিডিএফ তো পড়বেন অবশ্যই, কিন্তু যারা লস্টমডেস্টির কাজ সাপোর্ট করেন তারা বই কেনার মাধ্যমেও আমাদের পথচলা সহজ করতে পারবেন, যাতে করে আমরা এ কাজটা চালিয়ে যেতে পারি। ইনশা আল্লাহ।
.
আমাদের জন্য প্রচুর দু’আ করবেন। আমরা যেন রিয়া মুক্ত থেকে সকল মিথ্যে মাবুদের গোলামি ছেড়ে এক আল্লাহর দ্বীনের খেদমত করে যেতে পারি আজীবন। অনুরোধ থাকবে পিডিএফটি বেশি বেশি শেয়ার করার। আপনি যদি আপনার দশজন বন্ধুকেও এই পিডিএফের ব্যাপারে জানান তাহলে ইনশা আল্লাহ বাংলার প্রত্যেক পর্ন মাস্টারবেশনে আসক্তদের হাতে একদিন এই বই পৌঁছে যাবে।
ইনশা আল্লাহ ।

বইটি কী নিয়ে লেখা জানতে- http://bit.ly/2H2DG3i

বই সম্পর্কে পাঠকদের মতামত (review)- http://lostmodesty.com/lmbook1review/

.

পিডিএফ ডাউনলোড লিংক

‘ঝড়ের পরে’

‘ঝড়ের পরে’

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

মোমবাতির হলুদ শিখা শরতের রাতের মৃদু বাতাসে কাঁপছে ক্ষণে ক্ষণে। ঘরের এককোণে আলো আঁধারি ছায়া আর দুঃখের যে মিলনমেলা বসেছে সে সম্পর্কে ঘরের অন্য অধিবাসীর কোনো মাথাব্যাথা নেই। মাথা সচল থাকলে না ব্যাথা করবে। চাঁদু’র নাক সজোরে ডাক ছাড়ছে। ঘুমে বেহুঁশ। চারজার ফ্যানের একটানা ঘর ঘর শব্দ, ছন্দবদ্ধ নাক ডাকার আওয়াজ,আমার খাতা কলমের খসখসানি আর পাশের ঘরের দূরালাপনের প্রেমের ফিসফিসানি ছাড়া গোটা দুনিয়া যেন মরে গেছে। কবরের নিস্তব্ধতা।

একটু আগে সে জঘন্য পাপটা আবার করলাম। ৩৮ দিন পর। গুনে গুনে ৩৮ দিন পর। দিনের শুরুতে বুঝতেই পারিনি যে আজ রাতে এরকম কিছু ঘটতে যাচ্ছে। অবশ্য এটা পুরোপুরি সত্য নয়। কয়েকদিন থেকেই ঘুরে ফিরে পর্ন দেখতে ইচ্ছে করছিল। পর্ণে দেখা দৃশ্যগুলো মাথায় ঘুরছিল। স্মৃতি বড় প্রতারক, বড় নিষ্ঠুর। কতো চেষ্টা করেছি একদময়কার দেখা পর্ণের দৃশ্যগুলোর কথা ভুলে যেতে। কতো সাধনা করেছি। কিন্তু প্রতারক স্মৃতি বারবার তা মনে করিয়ে দিয়েছে। বারেবারে নীল কারাগারের হুলিয়া জারি করেছে। বহু কষ্টে এই ৩৮ টা দিন নিজেকে সামলিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু আজকে হেরে গেলাম।

আবার  হেরে গেলাম।

শরীর ভেঙ্গে যায়। মনে তৈরি হয় বিশাল ক্ষত। প্রশ্নের ঝড় বয়ে যায় মনোজগতে- এরকম টুকরো টুকরো মৃত্যুর চেয়ে কী একেবারেই মরণ ভালো ছিলনা?
চোখে প্লাবণ নামে। তবে সেই অনূভুতির কাছে এগুলো নেহায়েত তুচ্ছ। শরীর,মন নষ্ট হয়ে যাওয়ার কষ্টের চেয়েও তীব্র কষ্টটা হলো – আল্লাহর চোখের সামনে জঘন্য কাজটাতে লিপ্ত হওয়া। যখন ঘরের অন্ধকারে,নির্জনে নির্লজ্জ হয়েছিলাম, যখন মেতে উঠেছিলাম উন্মত্ত নীল মত্ততায় তখনো তো আমাকে আল্লাহ দেখেছেন! হায়! কী করে এতো নিকৃষ্ট হলাম? কেন আল্লাহকে লজ্জা করলাম না?
.
নিজের কষ্টগুলো কাছিমের মতো গুটিয়ে নিয়ে আবার হাসিমুখে নামতে হয় পৃথিবীর পথে । এই খেলা আর কতোকাল চলবে?

 

রাতে শোবার সময় ভাবলাম আজ একটু দেরি করে ঘুমাই। আগামীকাল তেমনকোন কাজ নেই। ঘরেই বসে থাকতে হবে অলস। ভাতঘুম দিয়ে রাতের ঘুমের অভাব পুষিয়ে নিবনি। মোবাইল গুঁতোতে গুঁতোতে শেষমেশ নিজেকে আবিষ্কার করলাম পর্নসাইটে। তখনো ভেতরটা ঘুমিয়ে পড়েনি। বাঁধা আসলো। দেখিসনা। জলদি বের হয়ে যা!

নিজেকে বোঝালাম, শুধু দেখব, কিন্তু হস্তমৈথুন করবনা। আর এভাবেই শয়তানের পাতা প্রথম ফাঁদে পা দিলাম। তারপর একসময় হস্তমৈথুন করলাম। আসক্তির প্রথম পর্যায়ে সাধারণত এইসময়গুলোতে হতাশা আর আলসেমিপনায় গা ভাসিয়ে দিতাম। ঘন্টার পর ঘন্টা ঝিম ধরে কাটিয়ে দিতাম। কোনকোন সময় দুই তিন দিন। আজ চটজলদি গোসল সেরে ফেললাম। বাকী রাতটা জেগেই কাটাবো। ফজর,তাহাজ্জুদ কিছুই বাদ দেওয়া যাবেনা আজ। পাপ করেছি এবার কিছু পূন্য করা যাক। পাপে পূণ্যে কাটাকাটি।

 

‘…ভ্যাঁপসা গরম। কারেন্ট কখন আসবে বিন্দুমাত্র কোন ধারণা নেই। গম্ভীর ডাক ছেড়ে একটা প্যাঁচা এক গাছ থেকে অন্য গাছের উদ্দেশ্যে উড়াল দিল । মোমবাতি দ্রুত গলে যাচ্ছে। জমাটবাঁধা দুঃখগুলোও যদি এভাবে দ্রুত গলে যেত। অশ্রু হয়ে ঝরে পড়তো আমার দু’গাল বেয়ে। কাঁদতে পারিনা আমি আর। অথচ প্রথম প্রথম এই জঘন্য পাপগুলো করার পর কতো কাঁদতাম। ফুপিয়ে ফুপিয়ে, ডুকরে ডুকরে কাঁদতাম। ১০ -১২ হাজার বার করে ইস্তেগফার করতাম। আল্লাহ্‌ আমাকে এভাবেই শাস্তি দিচ্ছেন।
.
মোমবাতি গলে যাচ্ছে দ্রুত। মোমবাতি পুড়ছে। নিজেকে পুড়িয়ে আমাকে আলো দিচ্ছে। আমিও না হয় আজ নিজেকে পুড়িয়ে কিছুটা আলো দেবার চেষ্টা করি। অন্ধকারে আছি বলেই হয়তো খুব ভালোভাবে আলোকে আলাদা করতে পারি। বুঝতে পারি আলোর মহিমা!’

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, অনেকদিন বিরতি দিয়ে পর্ন দেখা বা হস্তমৈথুন করার ঠিক পরের কিছুটা সময় বা কয়েকটা দিন খুব সাবধানে থাকতে হয়। একটু অসতর্ক হলেই, একটু গা ছাড়া দিলেই শয়তান এসে ক্যাঁক করে ধরে। পরপর বেশ কয়েকবার পর্ন দেখা বা মাস্টারবেট করা হয়ে যেতে পারে। কেন এমন হয়?

 

প্রথমত, অনেক দিন নিজের সাথে যুদ্ধ করে পর্ন দেখা বা হস্তমৈথুন করা থেকে নিজেকে বাঁচানোর পর হঠাৎ বাঁধ খুলে দিলে জোয়ার নামা খুব স্বাভাবিক। অল্প একটু পর্ন দেখে বা মাত্র একবার মাস্টারবেট করে নিজেকে তৃপ্ত করা যায়না (পর্ন দেখে বা মাস্টারবেট করে অবশ্য কক্ষনোই নিজেকে তৃপ্ত করা যায়না। সাময়িক তৃপ্তির কথা বলছিলাম আরকি) তাই বেশ কয়েকবার মাস্টারবেট করতে মন চায়।

দ্বিতীয়ত, অনেকদিন পর্ন দেখা থেকে নিজেকে বিরত রাখলে কিছুটা হলেও স্মৃতি ফিকে হয়ে যায়। স্মৃতির জোয়ার আপনাকে ভাসিয়ে  দিয়ে আবার পর্ন দেখতে বাধ্য করার শক্তি হারিয়ে ফেলে অনেকাংশেই।  কিন্তু অনেকদিন পর একবার পর্ন দেখা হয়ে গেলে মরে যাওয়া স্মৃতির গোড়ায় পানি ঢালা হয়। স্মৃতিরা নতুন উদ্যোমে মাথা তোলে। ফলাফল আবার ঘনঘন পরপর বেশ কয়েকবার পর্ন দেখে হস্তমৈথুন করে ফেলা।

তৃতীয়ত, অনেকদিন পর শয়তান আপনাকে বাগে পায়। এতোদিন সে আপনাকে দিয়ে পাপ করাতে পারেনি। আজ সুযোগ পেয়েছে। সে সর্বশক্তি নিয়োগ করে আপনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আপনাকে ক্রমাগত কুবুদ্ধি দিতে থাকবে। ওয়াস ওয়াসা দিতে থাকবে।

চতুর্থত, এটা বেশ শক্তিশালী একটা কারণ। দীর্ঘদিন পর প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ায় আপনি হতাশ থাকবেন। গভীর দুঃখবোধ আপনাকে ভেঙ্গে চুরে ফেলবে। নিজেকে ঘৃণা করতে শুরু করবেন আপনি সেই মুহূর্ত থেকেই। এই নাজুক সময়ে নিজের হতাশা,দুঃখ,ঘৃণা, ভবিষ্যৎ ভাবনা, ক্রোধ সব ভোলার জন্য আপনি আবার ডুব মারবেন পর্নভিডিওতে।

তাই এই কয়দিন খুব হুঁশিয়ার থাকতে হবে আমাকে। কোনমতেই এই ফাঁদগুলোতে পা দেওয়া যাবেনা। আসক্তির প্রথম প্রথম কতোবার যে এই ফাঁদগুলোতে ফেসেছি।

 

মোমবাতির শিখা স্থির হয়ে গিয়েছে। বাতাস বলে কোন বস্তু ধরাধামে আছে বলে মনে হচ্ছেনা। গরম আরো বেড়েছে। ভ্যাঁপসা চিটচিটে গরম। যা বলছিলাম। প্রথম প্রথম এই ফাঁদগুলোতে অনেক ফেঁসেছি। পোড় খাওয়া আমি তারপর কিছুটা বুঝতে পারলাম কীভাবে এই ফাঁদগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।

 

পর্ন দেখে ফেলার পর বা হস্তমৈথুন করে ফেলার পর আর একটুও দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে গোসল করে ফেলুন। তারপর ওযু করে দু রাকা’আত নামাজ পড়ে ফেলুন। মন খারাপ করে দীর্ঘশ্বাস আর দুশ্চিন্তা দিয়ে করুণ কাহিনী লিখার কোন দরকার নেই আপনার। যতোটা ভাবছেন ততোটা খারাপ কিছু হয়নি। বিছানায় শুয়ে পড়লে, একা একা থাকলে আপনার সমূহ সম্ভাবনা আছে আপনি কিছুক্ষণ পর আবার পর্ন দেখবেন।

মানুষ জনের কাছে যান। গল্প গুজব করুন। বাসায় ফোন করুন। বাবা মার সঙ্গে কথা বলুন। রোদে যান। আলো আর উষ্ণতার স্বাদ নিন। ভেঙ্গে পড়বেননা। একজন কাছের বন্ধু বা কাছের কোন মানুষের সাহায্য নেওয়া খুব জরুরি। যার সঙ্গে আপনি সবকিছু শেয়ার করবেন। সবখুলে বলে তার সাহায্য চাইবেন। অধিকাংশ মানুষই এই কাজটা করতে চায়না। গুরুত্ব দেয়না। কিন্তু এই কাজটা যে কতোটা জরুরি এবং ইফেক্টিভ যারা এটি করেছেন তারা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন। প্রথম প্রথম আমিও গুরুত্ব দিয়েছিলাম না। পর্ণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তেমন সুবিধা করতে পারছিলাম না। পরে এক মেঘলা বিকেলে একজন বন্ধুকে সব বললাম। সাহায্য চাইলাম। এরপরে আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় ম্যাজিকের মতো সব কিছু ঘটতে থাকলো। খুব দ্রুত পর্ন দেখার পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে পেরেছিলাম।

এই কয়েকটি দিন  এমন  কোন বন্ধু বা কাছের মানুষকে নয় নম্বর বিপদ সঙ্কেত জানিয়ে দিন। খুব বেশি বেশি তাঁদের সংস্পর্শে থাকুন। (কাছের মানুষ বলতে  আবার গার্লফ্রেন্ড মনে করবেন না। গার্লফ্রেন্ড পর্ন আসক্তি ছাড়ার ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায়। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তো আছেই সেই সঙ্গে অনেক লোকের সাথে কথা বলে দেখেছি)

যে ডিভাইসে পর্ন দেখেছিলেন সে ডিভাইস তালাবদ্ধ করে রাখুন। তার পূর্বে ফেসবুক একাউন্ট ডিএক্টিভেট করে নিতে ভুলবেননা। মনে মনে স্থির সংকল্প করুন  যে আগামী তিন চারদিন ফেসবুকমুখো হবোনা ।  এন্ড্রোয়েড ফোনে পর্ন দেখলে তা তালাবদ্ধ করার পূর্বে সিমখুলে কমদামি একটি ফোনে নিয়ে নিন।

সবচেয়ে ভালো হয় বন্ধু বা কাছের কারো সাহায্য নিয়ে ফোনে স্পিন ব্রাউজার ইন্সটল করে নেওয়া। আর পিসির জন্য K9 । ব্যস খেল খতম। যা হবার হয়েছে ভুলে যান। শুর থেকে আবার সবকিছু শুরু করুন।

বেশি বেশি দান সদকা করুন। নামায এবং কুরআন পড়ার ব্যাপারে সিরিয়াস হন। মসজিদের বারন্দায় গিয়ে বসে থাকুন। স্রেফ বসে থাকুন।

এই নাজুক সময়ে ইস্তেগফার পড়লে বেশ কাজে দেয়। একবার এক ভাইয়ের কাছে শুনেছিলাম যে সে ১২ হাজার বারেরও বেশি ইস্তেগফার করেছিল।

পর্ণের দৃশ্যের কথা মাথায় আসা মাত্রই আপনি নিজের জন্য এবং ঐসব পর্ন অভিনেতা অভিনেত্রীদের জন্য দু’আ করবেন। পড়ুন- এই লিখাগুলো- দু’আ তো করেছিলামফাঁদ (প্রথম পর্ব )ফাঁদ – দ্বিতীয় পর্ব– ফাঁদ’ (তৃতীয় পর্ব) –‘ফাঁদ’ (চতুর্থ পর্ব )ফাঁদ (ষষ্ঠ পর্ব)

বেশি বেশি পর্ন এবং মাস্টারবেশনের ক্ষতিকর দিক নিয়ে লিখাগুলো পড়তে হবে। দিনে অন্তত একবার করে।

এবার আসুন হতাশার কথায়। দেখুন পর্ন দেখার পরে বা মাস্টারবেট করার পরে হতাশা, বিষণ্ণতা আসাটা খুবই স্বাভাবিক। আল্লাহর আইন অমান্য করার কারণে বিষন্নতার বর্ষা আপনাকে ভিজিয়ে ছাড়বেই। সেই সাথে পর্ন দেখার ফলে মস্তিষ্কে ডোপামিনের তেলেসমাতি। মড়ার ওপর খড়ার ঘা হিসেবে রুটিন ওলট পালট হয়ে যাওয়া। মন খারাপ করে বসে থাকলে বড় ভুল করবেন। অনেকেই ভীষণ দুঃখবোধ নিয়ে ঘুমুতে যায়। তিনচার ঘন্টা সেঁটে ঘুমানোর পরেও দুঃখবোধ নিয়েই ঘুম ভাঙ্গে। কাজের কাজ কিছুই হয়না। খাওয়া গোসল নামাজ পড়াশোনা সব শিকেয় ওঠে। এবেলার ভাত ওবেলা। মানসিক শূন্যতা তো আছেই সেই সাথে শরীরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এই দুর্বলতা কাটাতেই নষ্ট হয়ে যায় জীবনের মূল্যবান কয়েকটা দিন।

ভাই চলুন একটু অন্যভাবে চিন্তা করি।  আপনার আশেপাশেই কতো অসংখ্য মানুষ রয়েছে যারা ভয়ঙ্কর রকমের পরনাসক্ত। কিন্তু এ নিয়ে তাদের তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেয়। জীবনের একটা অংশে পরিণত করেছে পর্ন দেখে হস্তমৈথুন করা বা গার্লফ্রেন্ডের সাথে রুম ডেট করাকে।

আপনার অবস্থা কি তাদের চেয়ে ভালো নয়? আপনার মধ্যে কী পাপের অনুভূতি, হারাম হালালের অনুভূতি কাজ করেনা? এতো হতাশ হচ্ছেন কেন? যে সমাজ অশ্লীলতায় সয়লাব হয়ে গিয়েছে যে সমাজে পর্ন অভিনেতা, অভিনেত্রীরা ঘরের মানুষ হয়ে গিয়েছে সেই সমাজে আপনি স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে মুক্ত বাতাসের খোঁজ করছেন, টগবগে নিজের ভেতরটাকে শেকল পরিয়ে রাখতে চাচ্ছেন এটা কী বড় এক বিজয় নয়?

আদমেরই তো সন্তান আমরা। আদম (আঃ) ভুল করেছিলেন। আবার তওবা করে সংশোধন হয়েছিলেন। আমাদেরও তো ভুল হবে ভাই। একের পর এক ভুল করব আমরা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভুল করব। আর বারে বারে আল্লাহ্‌র কাছে নত হব। নত হতে হতে দিন পার করে দিব। আল্লাহ্‌ তো এটাই চান।

ভাই নিজের ওপর রহম করুন । আপনি শেষ হয়ে যাননি। জীবনতো আমাদের কেবল শুরু। এখনি  আমাদের যাবার বেলা হয়নি।

এখন আমরা  কলুষতায় আকন্ঠ ডুবে আছি তাই বলে ভবিষ্যত এরকমই হবে সেটা তো কোথাও লিখা নেই। উমার ইবনে খাত্তাবকে (রাঃ) দেখুন । একসময় ছিলেন পাড় মাতাল। মদে চুর হয়ে থাকতেন । ছিলেন ইসলামের ঘোরতরো শত্রু। তিনি কখনো ইসলাম কবুল করবেন এ কথা ভুলেও কেউ ভাবেনি। বলা হতো যে খাত্তাবের গাধা ইসলাম কবুল করলেও করতে পারে কিন্তু উমার? কক্ষনো নয়।

তিনি কি ইসলাম গ্রহণ করেননি ? দুনিয়াকে দেখাননি অতীত মুছে ফেলা যায়।

আপনি মন খারাপ করে অলস হয়ে হতাশায় ডুবে থাকলে কিছুক্ষণ পর হয়তো আবার পর্ন দেখতে চাইবেন। হস্তমৈথুন করবেন। কয়েকদিন হয়তো চলবে একটানা।  এই দুঃখকে, এই শোককে কিন্তু একটু ভিন্নভাবে ভাবলেই শক্তিতে পরিণত করা যায়। পর্ন আসক্তির বিরুদ্ধে পরবরতি লড়াইয়ের রসদ জোগাড় করা যায়। এর পরের বার যখনই পর্ন দেখতে মন চাইবে বা হস্তমৈথুন করার তাগাদা আসবে তখন এই বিশাল রিক্ততা, শূন্যতায় ভরা মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করবেন। নিজেকে প্রশ্ন করবেন আমি আবারো কী এই বেদনাবিধুর সময় পার করতে চাই ?

ভাই, আমাদের আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আমাদের পুনরায় সুযোগ দিয়েছেন। এমনোতো  হতে পারতো আমাদের বাবা মা আমাদের হাতে নাতে ধরে ফেললেন। পর্ন দেখার সময় মৃত্যু এসে কড়া নাড়লো আমাদের দরজায়! হতো পারতোনা? এরকম কি হয়না?

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আমাদের বাঁচিয়েছেন এই লজ্জার হাত থেকে, জঘন্য পরিণতির হাত থেকে।ভাই, আল্লাহ্‌ আমাদের এভাবে পানিতে   ফেলে দিবেন না। তিনিই আমাদের কন্ঠনালীরও একদম নিকটে। আমাদের ওপর দয়া করাটাকে তো তিনি নিজের কর্তব্য বলে স্থির করেছেন। তিনি আমাদের ভুলে যাননি। না আমাদের পরিত্যাগ করেছেন। আমাদের গভীরের , গহীনের কষ্টগুলো তিনি জানেন। তিনি আমাদের ভুলে যাননি।

‘  তোমার মালিক কখনো কাউকে ভুলে থাকেননা’। (সূরা মারইয়াম,আয়াত ৬৪)

তিনি অচিরেই অবশ্যই অবশ্যই আমাদের মুক্তির ব্যবস্থা করে দিবেন। আমাদের শুধু লেগে থাকতে হবে।

ইনশা আল্লাহ্‌ মুক্তি এই সামনেই!

 

‘আর অবশ্যই তোমার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে উত্তম। আর অচিরেই তোমার রব তোমাকে অনুগ্রহ দান করবেন, ফলে তুমি সন্তুষ্ট হবে’। (সূরা দুহা, আয়াত- ৪-৫)

 

( লস্ট মডেস্টি টিম কর্তৃক অনুলিখিত)

এখন পর্যন্ত প্রকাশিতব্য সকল লিখার লিংক

এখন পর্যন্ত প্রকাশিতব্য সকল লিখার লিংক

লাস্ট আপডেট – ০১/০৫/২০১৯

 

আমাদের কথা

.পরীক্ষার আগের রাতের এক পাগলামি থেকে যেভাবে শুরু হল মুক্ত বাতাসের খোঁজে আমাদের পথচলা……

মুক্ত বাতাসের খোঁজে

পোকামাকড়ের আগুনের সাথে সন্ধি

.

অনুপম উত্থান
হলিউডের মুভির মতোই আমরা এক সুপারহিরোর জন্য অপেক্ষা করি। ভাবি কোনো একদিন আমরা আয়রনম্যান, সুপারম্যানের মতো হিরো পাবো আর তারপর সব চেইঞ্জ হয়ে যাবে। বদলে যাবে । ভালোবাসা আবার ফিরে আসবে মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে। এখন যেভাবে চলছে চলুক, অবেলায় নিভে যাক অযুত কোটি তরুন,তরুনী, আত্মহত্যা করুক বেকার বোকা যুবকের দল, পরিযায়ী পাখি আর প্রজাপতিরা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাক তাতে আমার কী? আমি তো কিছুই পরিবর্তন করতে পারব না! এগুলোর জন্য আল্লাহ্‌ তো আমাকে পাকড়াও করবেননা…! . দায়িত্ব এড়ানোর কি চমতকার শিশুসুলভ অযুহাত! .
.
আসলেই কী তাই ? নাকি স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ালে আমার শান্ত নির্ঝঞ্ঝাট জীবনটা হয়তো একটু ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ হবে, ক্যারিয়ারটা হয়তো একটু ওলট পালট হবে, ভালোমানুষ,ভালোছেলের তকমাতে কিছুটা কালি পড়বে, চিইল আর চিইলময় জীবনটা, মাসে একবার ট্যুর দেওয়ার জীবনটা, সেলফিবাজি,রেস্টুরেন্ট,সিনেপ্লেক্সের জীবনটা, বাইক, মুভি,সিরিয়ালের জীবনটা, প্রেমিকার চোখে চোখ রেখে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থাকা জীবনটা আর আগেরমতো থাকবেনা, দায়িত্ব নিতে হবে, কাজ করতে হবে এই ভেবে আমরা এই মিথ্যে কথাগুলো বলি নিজের সাথে?
.
দূর থেকে মনে হয় স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ানো অসম্ভব। যে একবার দাঁড়ায় কেবল সেই বুঝতে পারে স্ত্রোতের বিপরীতে দাঁড়ানো কঠিন হতে পারে তবে অসম্ভব কিছুইনা, একবার আল্লাহ্‌র ওপর ভরসা করে দাঁড়াতে পারলে আর কোনো চিন্তা থাকেনা, এই পথের পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে আল্লাহ্‌র রহমত, সাহায্য, ভালোবাসা। আর অবশ্যই চিরসুখের এক জান্নাতের প্রতিশ্রুতি। . আলহামদুলিল্লাহ! হতাশা আর অন্ধকারের এই বদ্বীপে আলোর মশাল হাতে ছুটে চলছেন কিছু সিংহহৃদয় ভাইয়েরা। পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে সেমিনার করে যাচ্ছেন একের পর এক। তাদের এই কাফেলায় যোগ দেওয়ার সাদর আমন্ত্রণ রইলো।
.
.

অনিবার্য যত ক্ষয়

.

পর্ন আসক্তদের খুব কমন একটা প্রশ্ন করতে দেখা যায় – আমি তো শুধু দেখছিই , কিছু করছি না , কারো কোন ক্ষতি করছিনা ইত্যাদি । এই প্রশ্নগুলোর মোক্ষম উত্তর পাবেন এখানে । এই লিখা গুলোতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে পর্ন আসক্তি কিভাবে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যায় ধ্বংসের দিকে ।

.

১০৮ টি নীলপদ্ম (প্রথম কিস্তি)

১০৮ টি নীলপদ্ম (দ্বিতীয় কিস্তি)

১০৮ টি নীলপদ্ম (শেষ কিস্তি)

মাদকের রাজ্যে

নরক

অনিবার্য যত ক্ষয় (প্রথম পর্ব) 

অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) 

অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব) 

পর্নমুভি, মানবপাচার এবং পাশ্চাত্যের যৌন দাসত্বের গল্প (প্রথম পর্ব)

পর্নমুভি, মানবপাচার এবং পাশ্চাত্যের যৌন দাসত্বের গল্প (দ্বিতীয় পর্ব)

সিরিয়াল কিলার (প্রথম পর্ব) 

“সিরিয়াল কিলার (দ্বিতীয় পর্ব)

পর্নোগ্রাফি যেভাবে আমাকে সিরিয়াল কিলার বানিয়েছেঃ টেড বান্ডি’র অন্তিম সাক্ষাৎকার

একটি নির্দয় পৃথিবী

পর্নোগ্রাফি যেভাবে জীবন ধ্বংস করেঃ পামেলা পলের সাক্ষাৎকার

পর্নঃজীবনের স্বাদ নষ্টকারী

আত্মোপলব্ধি

.

ফ্যান্টাসি কিংডম

.

জীবনের দশ বারোটা বসন্ত পার হয়ে যাবার পর দেহ ও মনে অন্যরকম একটা পরিবর্তন আসে । মন কি জানি চায় । ফ্রক পড়া পাশের বাসার মেয়েটার চোখদুটো একটু বেশী কালো মনে হয় ছেলেটার কাছে । সদ্য গোফের রেখা গজানো , শার্টের বোতাম খোলা কোঁকড়া চুলের ছেলেটাকে মাঝে মধ্যেই আড় চোখে দেখে ফ্রক পড়া মেয়েটাও । বিপরীত লিঙ্গের প্রতি, নারী পুরুষের শরীরটার প্রতি অদম্য একটা কৌতূহল জেগে ওঠে ।

.

কিছুদিন আগেও এই কৌতূহল মেটানো কঠিন ছিল । থ্রিজি, ফোরজির যুগে আজ সেটা পানির মতো সোজা । এখনকার ছেলেমেয়েরা দুধের দাঁত পড়ার আগেই সব কিছু জেনে ফেলছে । এটা খুব বেশী খারাপ কিছু হত না ,যদি বাবা মা বা অভিজ্ঞ কারো নিকট থেকে তারা কৌতূহল গুলো মেটাতো । কিন্তু দুঃখের বিষয় , সেক্স এডুকেশানের জন্য তারা ঢুঁ মারছে ইন্টারনেটের অন্ধকার গলিতে বা পর্ন/চটি গল্প গুলে খাওয়া কোন ইঁচড়ে পাকা বন্ধুর কাছে । আর তখনোই জ্বলে উঠছে বিশাল এক দাবানলের প্রথম অঙ্গারটা ……

“ফ্যান্টাসি কিংডম”(প্রথম কিস্তি)

ফ্যান্টাসি কিংডম”(দ্বিতীয় কিস্তি)

“ফ্যান্টাসি কিংডম”(শেষ কিস্তি)

চোরাবালি

.

খুবই অবাক লাগে যখন দেখি একদল মানুষ মাস্টারবেশনের পক্ষে প্রচারণা চালায়; ধর্মে নিষেধ করেছে তো কি হয়েছে, বিজ্ঞান আমাদের বলছে এটা শরীরের জন্য উপকারী , এর কোন ক্ষতিকর দিক নেই, মাঝে মাঝে মাস্টারবেট করলে শরীর ভালো থাকে, টেনশান মুক্ত থাকা যায় ব্লা ব্লা …… । পাশ্চাত্যের কিছু দেশে তো রীতিমতো স্কুলের বাচ্চাদের সেক্স এডুকেশানের নামে এই জঘন্য ব্যাপারটাতে উৎসাহী করে তোলা হয় । খুবই দুঃখ লাগে যখন দেখি আমাদের দেশেও মুসলিম নামধারী আল্লাহর কিছু অবুঝ বান্দা এর পক্ষে ফেসবুক , ব্লগে লিখালিখি করছে , ভিডিও বানাচ্ছে ।

এই সিরিজে ইনশা আল্লাহ আমরা সবাইকে একটা ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করব আপাতদৃষ্টিতে মাস্টারবেশন আসক্তি খুব নিরীহ মনে হলেও কি ভয়ঙ্কর বিষে বিষাক্ত এই আসক্তি । প্রথম দুই টা পর্বে আমরা এমন কিছু হতভাগ্য ভাইদের কথা আপনাদের জানাবো মাস্টারবেশন আসক্তি যাদেরকে ধ্বংসের গভীর এক খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে । পরের কয়েকটি পর্বে আমরা আলোচনা করব বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মাস্টারবেশনের ভয়াবহতা । সবশেষে ইনশা আল্লাহ , ইসলাম এবং বিজ্ঞানের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে মাস্টারবেশনের ওপর একটা তুলনামূলক পর্যালোচনা করা হবে

.

চোরাবালি প্রথম পর্ব

চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব 

চোরাবালি তৃতীয় পর্ব 

চোরাবালি চতুর্থ পর্ব 

চোরাবালি পঞ্চম পর্ব

চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব

চোরাবালি সপ্তম পর্ব

চোরাবালি অষ্টম পর্ব

মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?

মিথ্যের শেকল যতো

সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!

.

নীল রঙের অন্ধকার

.

পর্ন মুভি বিষাক্ত মাকড়াশার মতো জাল বিছিয়ে রাখে । গ্ল্যামার আর চাকচিক্যে আকৃষ্ট হয়ে যে কেউ আটকে পড়তে পারে এই জালে । একবার জালে আটকা পড়লে সেই জাল ভেদ করে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন । মাকড়াশা যেভাবে পোকাকে তিলে তিলে মেরে ফেলে পর্ন মুভিও আপনাকে ঠিক সেভাবেই একটু একটু করে ধ্বংস করে ফেলবে । আপনি আস্তে আস্তে হারাবেন আপনার স্বাস্থ্য, আপনার পরিবার, আপনার চাকুরী, এমনকি আপনার ভালবাসার মানুষটিকেও । আমাদের এই সিরিজে আমরা আপনাদের কিছু সত্যিকারের গল্প বলে যাব । গল্পগুলো কিছু পর্ন আসক্ত মানুষের । কীভাবে তারা হারিয়ে ফেলেছেন এই জীবনের মূল্যবান সবকিছুই, নীল রঙের অন্ধকার গহ্বরে কিভাবে তারা ডুবে যাচ্ছেন সেই গল্প ।

ব্যর্থতা আর আর্দ্রতার গল্প!

দীর্ঘশ্বাস আর নীরব আর্তনাদের গল্প!

নষ্ট হবার গল্প!

.

নীল রঙের অন্ধকার (প্রথম কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (দ্বিতীয় কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (তৃতীয় কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (চতুর্থ কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (পঞ্চম কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (ষষ্ঠ কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (সপ্তম কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (অষ্টম কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (নবম কিস্তি) 

.

পর্দার ওপাশে

.

পর্ন মুভি তার গ্ল্যামার আর চাকচিক্যের চোখ ধাঁধানিতে সেই অনেক যুগ আগে থেকেই বলে চলেছে এক মিথ্যা গল্প । এই মিথ্যা গল্প নারী আর যৌনতা সম্পর্কে ।

পর্ন মুভি গুলোতে নারীদেরকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন তারা পর্নমুভিতে পারফর্ম খুব খুব উদগ্রীব এবং তারা এটা খুব উপভোগ করছে । কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে পর্ন মুভির অভিনেতা অভিনেত্রীরা পর্নমুভিতে পারফর্ম করা উপভোগ করেন না । মাত্র পেটের দায়ে তারা এই কাজ গুলো করতে বাধ্য হন । তাদেরকে বিশেষ করে নারীদের চরমভাবে নির্যাতন করা হয় ।

.

পর্ন ইন্ড্রাস্টীর মুনাফার অঙ্কটা বেশ স্বাস্থ্যবান । তাই ডিরেক্টর এবং প্রডিউসাররাও এই অমানবিক কাজ করতে দ্বিধা বোধ করে না । আপনার কাছে পর্ন মুভি তো একেবারেই সহজলভ্য তাই না ? কেবল মাঊসের দুটো ক্লীকের ব্যাপার । তারপরেই পর্ন মুভির অবিরত ভান্ডার এবং আপনার বিকৃত লালসা চরিতার্থ করার সূচনা । কিন্তু নীল স্ক্রীনের গ্ল্যামার দেখে ‘টাসকি ’ খাওয়া আপনি কখনো কি জানতে চেয়েছেন পর্দার ওইপাশের গল্পগুলো । এক একটা স্টীল পিকচার, এক একটা ভিডিওতে আবদ্ধ রয়েছে আপনারই কোন এক বোনের, কোন এক ভাইয়ের হৃদয়ের করুন হাহাকার । পর্ন মুভির হতভাগা অভিনেতা অভিনেত্রীদের , চার দেয়ালের মাঝে বন্দী যতসব আর্তনাদ আর দুঃস্বপ্নের অভিজ্ঞতা গুলোর সবটুকু আমরা হয়তো বুঝতে পারব না । কিন্তু তারপরেও চেষ্টা করতে দোষ কি ? এখানে এমন কিছু পর্ন অভিনেত্রীদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা করা হল যারা সেই নরকে ক্ষতবিক্ষত হলেও সেখান থেকে বেঁচে ফিরতে পেরেছেন কোনমতে ।

.

ক্যামেরার পিছনে

পর্দার ওপাশে

আমি কিভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসলাম, কেন ছাড়লাম এবং কেন সবাই এটা পরিহার করবে- By Jessica Mendes

নরক

.

‘নীল নকশা’

.

আলোর কথা বলে তারা । আলোয় আলোয় ভরিয়ে দিতে চায় পৃথিবী । ওরা বলে শান্তি, সমৃদ্ধি আর প্রগতির কথা। কিন্তু ওদের বাতলে দেওয়া পথ অনুসরণ করে এই সভ্যতা ক্রমাগত সুপারসনিক গতিতে এগিয়ে চলেছে অধঃপতনের দিকে। নিকষ কালো আঁধারে ছেয়ে গিয়েছে প্রত্যেকটি মানব আর মানবীর হৃদয়। সুকুমার বৃত্তিগুলো দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে। অদ্ভূত বন্ধ্যা হয়েছে উর্বরা ফাগুন। অথচ তারা প্রথমে বলেছিল আলোর কথা, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সুখ আর সমৃদ্ধির। শয়তান আর তার দোসরদের প্রতিশ্রুতি সবসময়ই মিথ্যে হয়। প্রথম প্রথম চোখ ধাঁধিয়ে গেলেও, আশার বন্যা বইয়ে দিলেও আলেয়ার পিছনে ঘুরে ঘুরে দিনশেষে মাথা কুটে মরতে হয়। নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচতে হলে বুঝতে হবে শয়তানের চক্রান্ত। চিনতে হবে গাদ্দারদের।

অবশ্যই পড়ুনঃ

.

সমকামি এজেন্ডাঃ একটি ব্লুপ্রিন্ট

মিথ্যায় বসত (প্রথম পর্ব)

পাঠক সাবধান ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি (প্রথম পর্ব)

পাঠক সাবধান ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি (দ্বিতীয় পর্ব)

নীল নকশা (প্রথম কিস্তি)

নীল নকশা (দ্বিতীয় কিস্তি)

নীল নকশা (তৃতীয় কিস্তি)

আপেক্ষিক নৈতিকতা ও পেডোফেলিয়া

সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!

মিথ্যের শেকল যতো

.

সভ্যতার সংকট

.

টিনের চালে সামান্য ফুটো থাকলেও, সেই ছিদ্র দিয়ে দিনের আলো ঠিকই প্রবেশ করে। সত্যকে হাজার ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করা হলেও সত্য ঠিকই একদিন প্রকাশিত হয়। পাশ্চাত্যের সামরিক, রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক চাকচিক্যে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া কিছু পরাজিত হীনমন্য মানসিকতার মুসলিম আর তাদের শায়খেরা পাশ্চাত্যকে গ্রহণ করেছে প্রভু হিসেবে। পাশ্চাত্য কখনো ভুল হতে পারেনা। পাশ্চাত্য কখনো ভুল করতে পারেনা । পাশ্চাত্যের কথা আমরা শুনলাম আর মানলাম এই হলো তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। পাশ্চাত্য নিজেও দাবী করে বসে আছে- উন্নয়ন,শান্তি আর প্রগতির পথে হাঁটতে হলে অনুরসরণ করতে হবে আমাদেরকেই। আমাদের ঠিক করে দেওয়া তরীকাতেয় মানবতার মুক্তি।

আসলেই কী তাই?

.

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-১

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-২

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব- ৩ 

একেই বলে সভ্যতা (প্রথম পর্ব) !!!

একেই বলে সভ্যতা (দ্বিতীয় পর্ব) !!!

এরই নাম স্বাধীনতা !!!

এরই নাম স্বাধীনতা!!! দ্বিতীয় পর্ব 

এরই নাম স্বাধীনতা!!! তৃতীয় পর্ব

পাশ্চাত্যে বেড়ে ওঠা

নারী যখন পন্য

অভিশপ্তনগরী: https://bit.ly/2MumYeW

“****” ম্যাম গার্ড পড়ছিলঃ বুঝতে পারছিলাম না, প্যান্ট সামলাবো নাকি কলম !!! –

.

মিথ্যায় বসত

.

ব্যাপারটা দুঃখজনক ।

LGBT’র শুরুটা হয়েছিল ভন্ড আলফ্রেড কিনসের হাত ধরে । সেক্স নিয়ে অনেক গাঁজাখুরি রিসার্চ করেছিল এই লোকটা । তারপরের দায়িত্বটুকু কাঁধে তুলে নিয়েছিল রক ফেলার ইন্সটিটিউট, প্ল্যান্ট প্যারেন্টহুড,পশ্চিমা মিডিয়া । এরা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে এই ‘বিজ্ঞামনস্ক’ লোকটার একেবারেই অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে করা রিসার্চগুলো বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করেছে । তার রিসার্চ পেপারগুলো যেন আসমান থেকে আসা কোন ঈশ্বরের বাণী । অক্ষরে অক্ষরে মেনে নিতে হবে সব কিছু ।

.

পরবর্তীতে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা আলফ্রেড কিনসের রিসার্চগুলো তুলোধুনো করে ছেড়েছিলেন । কিন্তু যা ক্ষতি হওয়ার তা ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছিল । যৌনতার ব্যাপার স্যাপার গুলো আমেরিকানরা (সে তা সাধারন নাগরিকই হোক বা রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারক) দেখেছে আলফ্রেড কিনসের পড়িয়ে দেওয়া চশমার ভেতর থেকেই । তাইতো কিন্ডারগার্ডেনের বাচ্চাদেরকেও সেক্স এডুকেশানের নামে সমকামিতার শিক্ষা দেওয়া হয়, মাস্টারবেট করতে উৎসাহিত করা হয় । কিছু দিন আগে তো ‘সমলিঙ্গ বিবাহ’ আইনও পাশ হয়ে গিয়েছে ।

.

কিন্তু এর চেয়েও দুঃখজনক ব্যাপার হলো পাশ্চাত্যের কিছু স্কলার, দা’ঈ এর সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড ।উনারা ঘুরিয়ে, পেঁচিয়ে , হিকমাহর আড়ালে সমকামিতাকে স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে মুসলিমদের গ্রহণ করে নিতে বলছেন।

.

এই সিরিজে সমকামিতাকে দেখা হয়েছে ভিন্ন দুটি দৃষ্টিকোন থেকে; বিজ্ঞান এবং ইসলাম ।

.

আশা করি LGBT নিয়ে সব ধোঁয়াশা দূর হবে ।

সমকামীদের মিথ্যা দাবী এবং নাস্তিকদের মিথ্যাচার (প্রথম পর্ব)

সমকামীদের মিথ্যা দাবী এবং নাস্তিকদের মিথ্যাচার (দ্বিতীয় পর্ব)

সমকামীদের মিথ্যা দাবী এবং নাস্তিকদের মিথ্যাচার (তৃতীয় পর্ব)

সমকামীদের মিথ্যা দাবী এবং নাস্তিকদের মিথ্যাচার (শেষ পর্ব)

সমকামিতা,স্বাধীনতা,রোগ নাকি অন্য কিছু 

সমকামিতার শাস্তি 

জার্নি টু ম্যানহুড

পাঠক সাবধান ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি (প্রথম পর্ব)

পাঠক সাবধান ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি (দ্বিতীয় পর্ব)

সমকামি এজেন্ডাঃ একটি ব্লুপ্রিন্ট

আপেক্ষিক নৈতিকতা ও পেডোফেলিয়া

মিথ্যায় বসত (প্রথম পর্ব)

সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!

.

বিষে বিষক্ষয়

.

পর্ন আসক্তি ছাড়ার জন্য পর্ন ওয়েব সাইট ব্লক করার সফটওয়্যার বা অ্যাপ্স ইনস্টল করা খুবই জরুরী। “পর্ন দেখতে মন চাইলো, হাতের মুঠোয় হাইস্পিড ইন্টারনেট, দুটো ক্লিক, তারপর পর্ন মুভির বিশাল ভান্ডার”, এরকম অবস্থায় থাকলে পর্ন আসক্তি থেকে বের হয়ে আসা দুঃসাধ্য।

.

এই লেখায় আমরা আপনাদের এমন কিছু সফটওয়্যার, অ্যাপ্সের সন্ধান দেবো যা দিয়ে আপনি অনলাইনের ফিতনা মোকাবেলার রসদ পেয়ে যাবেন ইনশা আল্লাহ্‌।

.

বিষে বিষক্ষয়

.

অশনি সংকেত

.

অশনি সংকেত

আইটেম সং,শিশু নির্যাতন এবং বলিউডী দুনিয়ার ভন্ডামি 

আইটেম সং

.

ফাগুনের দিন শেষ হবে একদিন

.

সেই রঙিন কৈশোর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কতোবার আপনি মায়াময়ীদের প্রেমে পড়েছেন! রুপা,মীরা,নীরা,প্রতীতি,সোমা! আর কতোবার আপনার হৃদয় ভেংগেছে! কতোবার শান্ত, নিরুদ্রপ জীবন ছারখার হয়ে গিয়েছে! দীর্ঘ নির্ঘুম রাত,একলা শুকতারা,নিকোটিনের ধোয়া,পুরোনো ইনবক্স, গভীর দীর্ঘশ্বাস, ঝাঁকড়া চুল,শূন্য মানিব্যাগ,শূন্য পরীক্ষার খাতা,চিড় ধরা ভাতৃত্বের মতো বন্ধুত্ব,মায়ের চোখের জল,বাবার ভীষন আক্ষেপ। .

.

যখন আপনার বন্ধুরা পড়ার টেবিলে ভবিষ্যৎ গড়তে ব্যস্ত,তখন আপনি নিজ হাতে আপনার ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছেন। বাবার টাকা নষ্ট করেছেন, মায়ের সংগে মিথ্যা বলেছেন। টেনশান,অস্থিরতা আর উদ্বিগ্নতায় কাটিয়েছেন কত দিন,কত রাত। নিজের সংগে একটু সৎ হোন। সত্যি করে বলুনতো আসলেই কি সুখ পেয়েছেন? আর শান্তি?

.

‘হারাম থেকে পাওয়া সুখ অল্পেই শেষ হয়ে যায়

থাকে শুধু গ্লানি আর লজ্জা

দিনশেষে শুধু থাকে শূন্যতা আর পাপের বোঝা

সেই আমোদপ্রমোদে কি লাভ শেষমেশ যার ফলাফল জাহান্নামের আগুনের শাস্তি?’

-শেইখ খালিদ আর রশীদ

.

আততায়ী ভালোবাসা (প্রথম পর্ব)

ফাগুনের দিন শেষ হবে একদিন (প্রথম পর্ব) 

তোমরা কি এমনি এমনি জান্নাতে চলে যাবে? 

আয় কান্না ঝেপে … 

আরশের ছায়া 

উত্তরের অপেক্ষায় 

আল্লাহ্‌র কাছে আসার গল্প 

শান্তি পাব কোথায় গিয়ে 

তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (প্রথম কিস্তি)

তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (দ্বিতীয় কিস্তি)

তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ (তৃতীয় কিস্তি)

ভালোবাসা ও বাস্তবতা 

কাছে আসার গল্প 

.

হয়নি যাবার বেলা
ভাইয়া দেখ, খুব মন খারাপ নিয়ে লিখাটা লিখছি। তোমাদের বয়সে আমিও স্বপ্ন দেখব বলে দু’চোখ পেতেছিলাম। আমারো একটা স্বপ্ন ছিল আর এখন স্বপ্নভঙ্গের বেদনাও আছে। আমি তোমাদের দুর্দান্ত দুর্দান্ত সব স্বপ্ন দেখতে নিষেধ করবনা, তবে কীভাবে, কোন পথে হাঁটলে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হবেনা তা নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ্‌। তোমরা এখন যে পথের পথিক, সেই পথে হেঁটে ক্ষত বিক্ষত আমার দু’পা। চোরাবালি আর কাঁটাঝোপ গুলো চিনেছি একটা একটা করে, বুঝেছি কেন স্বপ্ন আহত হয় ক্ষণে ক্ষণে, তারপর একসময় নিহতই হয়ে যায়।

পর্নমিথ

.

পর্নমুভির ধোঁয়াটে জগত , পর্ন মুভি দেখার ক্ষতিকর দিক , মাস্টারবেশন নিয়ে অনেকর মাঝেই শেকড় গেড়ে রয়েছে অনেক ভুল ধারনা । আমরা মনে করি , পর্ন মুভির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে , নিজের পরিবার , সমাজ এবং এই উম্মাহকে বাঁচানোর জন্য এই ভুল ধারনাগুলো দূর করা জরুরী । এই সিরিজে আমরা চেষ্টা করব পর্ন মুভি , মাস্টারবেশন সম্পর্কে ভুল ধারনা গুলো দূর করার ।

.

চটি পড়া কি পর্ন দেখার মতোই ক্ষতিকর? 

কেন বিয়ে মাস্টারবেশনের সম্পূর্ণ সমাধান না

.

নীড়ে ফেরার গল্প

.

কিছু তরুণ ।

সদা হাস্যোজ্জল ।

কাউকে বুঝতে দেয়না তারা এই হাসিমুখগুলোর আড়ালে কতোটা কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছে।

কতটা ঘৃণা করে তারা নিজেদেরকে ।

বহুদিন আগে তারা করেছিল এক ভুল – মাস্টারবেশন আর পর্ন মুভির অন্ধকার জগতে পা বাড়িয়ে । আজ সেই ভুলের মাসুল দিতে যেয়ে তাদের হাঁসফাঁস অবস্থা । তারপর কিভাবে তারা সেই অন্ধকার অভিশপ্ত জীবন থেকে বেরিয়ে আসলো , শ্বাস নিল মুক্ত বাতাসে, পড়ুন সেই অবিশ্বাস্য সত্য কাহিনীগুলো ।

.

নীড়ে ফেরার গল্প (প্রথম কিস্তি)

নীড়ে ফেরার গল্প (দ্বিতীয় কিস্তি)

ইনবক্স থেকে

.

ঝেটিয়ে বিদায় করুন বেয়াড়া পর্ন/মাস্টারবেশন আসক্তি

.

পর্ন এবং মাস্টারবেশন আসক্তি দূর করার বেশ কিছু টিপস দেওয়া হয়েছে এই লিখাগুলোতে ।

.

লিটমাস টেস্টঃ যেভাবে বুঝবেন আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত 

বাড়িয়ে দাও তোমার হাত

পর্বত জয়ের প্রতিজ্ঞা 

ফাঁদ (প্রথম পর্ব )

ফাঁদ – দ্বিতীয় পর্ব

‘ফাঁদ’ (তৃতীয় পর্ব)

‘ফাঁদ’ (চতুর্থ পর্ব )

ফাঁদ (পঞ্চম পর্ব)

ফাঁদ (ষষ্ঠ পর্ব)

তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে… (প্রথম পর্ব)

তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে… (দ্বিতীয় পর্ব)

তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে… (তৃতীয় পর্ব)

তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে (শেষ পর্ব)

প্রেসার কুকার

ভুলে ভরা স্বপ্ন

ঝেটিয়ে বিদায় করুন বেয়াড়া পর্ন আসক্তি !!!! 

এখনি সময় পর্নকে বিদায় বলার

বৃত্তের বাইরেঃ পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তি 

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি 

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) 

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (শেষ কিস্তি) 

.

ক্যাটাগরি – রিমাইন্ডার

.

পর্নমুভি বা মাস্টারবেশনের শর’ঈ হুকুম কি, এগুলো আপনার অন্তর কে কিভাবে কলুষিত করে ফেলে, জীবনের সুখ শান্তি হারিয়ে আপনি ধূসর, রঙহীন জীবন যাপন করেন ,রহমান আল্লাহ্‌র ক্ষমা থেকে কিভাবে এগুলো আপনাকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়, কিভাবে আপনি নিজের অজান্তেই যাত্রা শুরু করেন জাহান্নামের লেলিহান অগ্নিশিখার রাজত্বে , পর্নমুভি বা মাস্টারবেশনের জালে আপনাকে আটাকানোর জন্য কিভাবেই বা শয়তান ফাঁদ পাতে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই লিখাগুলোতে ।

.

রূপকথা নয়! (প্রথম পর্ব)

রূপকথা নয়! (শেষ পর্ব)

শান্তি পাব কোথায় গিয়ে 

ডেস্টিনি

তোমরা কি এমনি এমনি জান্নাতে চলে যাবে? 

দু’আ তো করেছিলাম 

দু’আ নিয়ে কিছু কথা 

আয় কান্না ঝেপে … 

আরশের ছায়া 

উত্তরের অপেক্ষায় 

“ পর্নোগ্রাফি ও ইসলাম” 

আমরা কি হস্তমৈথুন করতে পারবো ? 

আল্লাহ্‌র কাছে আসার গল্প 

রিমাইন্ডার

রিমাইন্ডার -দ্বিতীয় পর্ব

আমি তারায় তারায় রটিয়ে দিব

অমূল্য নিয়ামত চোখের খিয়ানত করছি না তো? 

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ১০টি সহজ উপায় 

বাড়িয়ে দাও তোমার হাত

হুজুরদের প্রেম যে কারণে এতো তীব্র হয়

.

নেশা যখন চটি গল্প পড়া

.

এসি রুমে আরামদায়ক বিছানায় শোয়া মা সন্তানের জন্য যেরকম দুশ্চিন্তায় করে,ফুটপাতে শোয়া মা তার সন্তানের জন্য সেইরকম দুশ্চিন্তাই করে ।মা দের সন্তানের প্রতি ভালোবাসাই আর কোন ব্যাপার নেই, কোন ফরমানলিন নেই । আমরা মায়ের এই অপার্থিব ভালোবাসা, বোনের স্নেহের প্রতিদান দিচ্ছি তাঁদের নিয়ে লিখা চটি গল্প পড়ে । কি কিউট আমরা ! আমরা অনলাইনের জগতটাকে এমন অসুস্থ বানিয়ে ছেড়েছি যে বাংলায় টাইপ করে গুগলে কিছু খুঁজতে কোন সুস্থ লোকের প্রবৃত্তি হয় না ।

.

একটা বিশাল প্রজন্ম গড়ে উঠেছে এবং উঠছে যারা প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি পার হবার আগেই চরম অশ্লীলতার জগতটার সঙ্গে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে , যারা মা ,বোন ,কাজিন,ভাবী ,খালা, চাচী,মামী এদের নিয়ে লিখা চটি গল্প পড়ে আর রাত দিন এদের নিয়ে সেক্স ফ্যান্টাসীতে ভোগে । খুব চটকদার স্লোগান শোনা যায় আমাদের এই জেনারেশান নিয়ে , এরা নাকি দেশটার অবস্থা বদলে দেবে , যতদিন ওদের হাতে দেশ, ততদিন নাকি পথ হারাবে না বাংলাদেশ……… এরা নিজেরাই তো পথ হারিয়ে ফেলেছে ,এরা আবার কি পথ দেখাবে ?

.

চটি গল্পে আসক্তদের নেশা কাটিয়ে উঠতে পথ দেখাবে আমাদের এই লিখাগুলো ইনশা আল্লাহ ……

.

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (প্রথম পর্ব) 

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (দ্বিতীয় পর্ব)

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (তৃতীয় পর্ব)

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (শেষ পর্ব)

.

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে

.

কোন বাবা-মা’ ই বিশ্বাস করতে চাননা তাঁদের সন্তান পর্ন দেখার মতো এতোটা নীচে নামতে পারে । কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠোর । Security technology company Bitdefender এর গবেষনা থেকে দেখা যাচ্ছে , পর্নসাইটে যাতায়াত করে এমন ১০ জনের মধ্যে ১ জনের বয়স দশ বছরের নিচে । এবং এই দুধের বাচ্চা গুলো রেপপর্ন টাইপের জঘন্য জঘন্য সব ক্যাটাগরির পর্ন দেখে । রেফারেন্সঃ 

.

আপনি, আপনার ছোটভাই/বোন বা সন্তানকে যতই নিরীহ,ভদ্র আর ল্যাদা গ্যাদা কাঁচু মনে করেন না নিশ্চিত থাকুন সে একবার না একবার হলেও পর্ন দেখে ফেলেছে এবং অচিরেই তার পর্ন আসক্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে । সর্বনাশ হয়ে যাবার আগেই সাবধান হোন ।

.

দাঁত থাকতেই দাঁতের মূল্য বুঝুন । না হলে পরে পস্তাতে হবে ।

ইনশা আল্লাহ্‌ সাহায্য করবে নিচের লিখা গুলো

.

মৃত্যু? দুই সেকেন্ড দূরে! (প্রথম পর্ব)

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (প্রথম কিস্তি)

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি)

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (শেষ কিস্তি)

হৃদয়ের ঋণ (প্রথম কিস্তি)

হৃদয়ের ঋণ (শেষ কিস্তি)

.

ও যখন পর্ন আসক্ত

.

আমরা অনেকেই যে ভুল ধারনাটা করে বসি সেটা হল পর্নএডিকশান শুধুমাত্র অবিবাহিত ছেলে /মেয়েদের আছে । কিন্তু আমাদের খোলা চোখে কখনোই ধরা পড়ে না যে মধ্যবয়স্ক বিবাহিত শিক্ষিত অশিক্ষিত দুই ধরণের লোকদের মধ্যেও এই সমস্যা প্রবল ।

একবার পর্ন আসক্ত হয়ে গেলে সঙ্গীর মাঝে আর প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া না , তাকে শুধু ভোগ্য দ্রব্য মনে হয় । অনেক স্বামী/স্ত্রী তাদের সঙ্গীদেরকে বাধ্য করেন বিছানায় পর্ন স্টারদের অনুকরন করতে । অনেক স্বামীই স্ত্রীকে তো রেপ পর্যন্ত করে ফেলেন –ভালোবাসা হারিয়ে যায় , মধ্যরাতে স্বামীর স্পর্শ স্ত্রীর শরীরে আর শিহরণ জাগায় না , মনে হয় একটা পশু তাকে ছিড়ে ছিবড়ে ফেলছে । ঝড় থেমে গেলে স্বামী পাশ ফিরে ঘুমিয়ে যান , স্ত্রী বেচারী জেগে থাকেন একজোড়া সিক্ত চোখ আর একদলা ঘৃণা নিয়ে । একসময় ভেঙ্গে যায় সংসার ।

.

এই সিরিজে বিবাহিতদের পর্ন আসক্তির সমস্যা নিয়ে যেমন আলোচনা করা হয়েছে , তেমনি কিছু টিপসও দেওয়া হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ্‌

.

ও যখন পর্ন আসক্ত” (প্রথম পর্ব)

ও যখন পর্ন আসক্ত” (দ্বিতীয় পর্ব)

ও যখন পর্ন আসক্ত” (শেষ পর্ব)

.

ছোট্ট বুকে অনেক ব্যাথা

.

শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন: কিভাবে নিরাপদ রাখবেন আপনার শিশুকে

.

বিয়ে নিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে

.

সইতেও পারা যায়না, বলতেও পারা যায়না! লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে মুখ ফুটে বললেই যে কম্মো সারা হয়ে যাবে তাও না। লেজকাটা শেয়ালদের অনেকেই আবার দাঁত কেলিয়ে হাসে! বিশাল এক ঝামেলা!

.

 
.

বিয়ে নিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে

.

কুড়ানো মুক্তো

.

ফেসবুক ব্রাউজিং করতে করতে অনেক সময় পর্ন এডিকশান এর উপরে বা অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার জন্য রিমাইন্ডার টাইপের বেশ ভালো ভালো লিখা চোখে পড়ে । আমাদের মনে হয়েছে এই লিখা গুলো পর্নমুভির আসক্তি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে । এভাবনা থেকেই এই সিরিজ শুরু করা । প্রতিটা লিখার শেষে এটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে সেটি উল্লেখ করার চেষ্টা করা হয়েছে ইনশা আল্লাহ । অনেক ভাইকে অবশ্য ফেসবুকে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। আল্লাহ (সুবঃ) প্রত্যেক ভাইকেই উত্তম প্রতিদান দান করুক । লিখা গুলো ভাইদের নাজাতের উসীলা হয়ে যাক । (আমীন)

.

কুড়ানো মুক্তো (প্রথম পর্ব) 

কুড়ানো মুক্তো (দ্বিতীয় পর্ব) 

কুড়ানো মুক্তো (তৃতীয় পর্ব) 

কুড়ানো মুক্তো (চতুর্থ পর্ব) 

কুড়ানো মুক্তো (পঞ্চম পর্ব)

.

একগুচ্ছ অনুবাদ

.

আমাদের সমাজের অনেক গভীরে পর্ন মুভি শাখা প্রশাখা বিস্তার করে আছে । ছেলে, বুড়ো , মধ্য বয়স্ক বিবাহিত, অবিবাহিত এমনকি অনেক মেয়েরাও আজকাল পর্নমুভিতে আসক্ত। কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় এই ভয়ংকর গুনাহ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার প্রয়াস খুব একটা দেখা যায়না আমাদের দেশে । অনেক মানুষের সঠিক ধারনাও নেই পর্নমুভির অপকারিতা সম্পর্কে। আমাদের ব্লগের যাত্রা শুরু হয়েছিল মানুষজনকে পর্ন মুভির ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং চোখের হেফাজত করার মাধ্যমে আল্লাহ’র (সুবঃ) আনুগত্য করতে মানুষজনকে সহায়তা করার উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে ।

.

আমাদের কাজটা একটু সহজ হত যদি বাংলা ভাষায় পর্ন মুভির ব্যাপার গুলো নিয়ে কোন ম্যাটেরিয়ালস থাকতো । কিন্তু বাংলা ভাষায় পর্নমুভির টপিক নিয়ে খুব কম কাজ হয়েছে । কাজেই ব্লগের আর্টিকেল লিখতে যেয়ে আমাদের বেশীরভাগ সময় সাহায্য নিতে হয় ইংরেজীতে লিখা বিভিন্ন বই কিংবা ওয়েবসাইটের । যেহেতু বাংলা ভাষায় এ ব্যাপার নিয়ে গবেষণা হয়নি আর তেমন কোন রিসোর্সও নেই এবং আমরা টুকটাক কাজ করছি এগুলো নিয়ে , কাজেই আমাদের মনে হয়েছে আমরা যতদূর পারি ইংরেজী ভাষার রিসোর্স গুলো বাংলায় অনুবাদ করে রাখি । কোন একসময় গবেষনা বা অন্য কোন কাজে কেউ এখান থেকে উপকৃত হতে পারেন ।

.

একগুচ্ছ অনুবাদ (প্রথম কিস্তি)

একগুচ্ছ অনুবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

.

হে আমার মেয়ে

.

জীবন সায়াহে দাড়িয়ে আপন মেয়ের প্রতি একজন বয়োবৃদ্ধ পিতার হৃদয় নিংড়ানো উপদেশ

.

হে আমার মেয়ে (প্রথম পর্ব)

হে আমার মেয়ে (দ্বিতীয় পর্ব) 

হে আমার মেয়ে (শেষ পর্ব) 

শুভ্রতার ব্যাকরণ

শুভ্রতার ব্যাকরণ

লস্ট মডেস্টির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত সকল ভিডিওর লিংক সহ উপকারি কিছু ভিডিওর লিংক ।
(লাস্ট আপডেট- ১৪/০৯/২০১৮)
.
নীরবতা হিরণ্ময়। ক্ষেত্রবিশেষে ইসলাম নীরবতাকে মহিমান্বিত করেছে- ভাল কথা বল, না হলে চুপ করে থাক। নীরবতা কাম্য। তবে সব নীরবতাই কাম্য নয়। কিছু কিছু সময় আসে যখন নীরবতা ভেঙ্গে উঠে দাঁড়াতে হয়। তেতো ঠেকলেও বলতে হয় সত্য কথা। দেখুন- সবিনয়ে নিবেদন- https://bit.ly/2xjsbAS
.
আশরাফুল মাখলুকাত তুমি, সকল সৃষ্টির সেরা, সুন্দরতম। তুমি কেন হবে পরাজিত। আল্লাহর প্রতিনিধি হয়ে পৃথিবীতে এসেছ তুমি… মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে আল্লাহর দাসে পরিণত করতে। সেই তুমিই কেন পর্ন,হস্তমৈথুনের দাসে পরিণত হবে? তুমিই না খুব অহংকার করে বল মাই লাইফ, মাই চয়েস, মাই রুলস ? সেই অহংকারী তোমার জীবনটাকেই কেন নিয়ন্ত্রণ করবে পর্ন, হস্তমৈথুন। আনন্দম 
.
অঙ্গার- এক নারীর হৃদয় ভাঙ্গার গল্প
.
ভাই রিদওয়ানের একটি অসাধারন ভিডিও। পর্ন/মাস্টারবেশন আসক্তি কাটাতে সাহায্য করবেই করবে ইনশা আল্লাহ্‌ 
.
পর্ন আসক্তি, মানসিক সমস্যা ও ইসলাম নিয়ে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর খুব চমৎকার একটি ভিডিও 
.
Muslimizationtv চ্যানেলের বানানো অসাধারণ একটি শর্ট ফিল্ম।পর্ন আসক্তি ছাড়াতে কাজ করবে ম্যাজিকের মতো-
.

Fight Against Dehumanization এর বানানো কিছু অসাধারণ ভিডিও –




.
অসাধারন একটি ভিডিও। পর্ন আসক্তি যেভাবে বদলে ফেলে মানুষের মস্তিষ্ক
.
পর্ন জগতের সফল একজন পুরুষ অভিনেতা। এক সকালে ঘুম থেকে উঠে আবিষ্কার করে বসল এক মহাসত্য। কি সেটা? জানতে হলে দেখুন এই ইংরেজি ডকুমেন্টারিটা
.
থিওডর রবার্ট বান্ডি ওরফে টেড বান্ডি, মেয়েদের অত্যাচার করে মেরে ফেলা ছিল যার ‘প্যাশন’। কত মেয়েকে যে সে হত্যা করেছে তার ইয়ত্তা নেই। কি ছিল টেড বান্ডির এই অন্ধকার জগতের চালিকা শক্তি ? কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উঁচু ডিগ্রীও টেড বান্ডিকে মানুষ বানাতে পারেনি ?
উত্তরটা খুবই চমক জাগানিয়া – পর্ণোগ্রাফি ।
শুনুন টেড বান্ডির নিজের মুখেই
.
K9 অসাধারণ একটা সফটওয়্যার যার মাধ্যমে পিসি থেকে ব্লক করা যায় সবধরণের পর্নসাইট। আপনার সন্তান,স্বামী/স্ত্রী বা ছোট ভাইবোনের অনলাইন সুরক্ষার জন্য খুবই দরকারী এই সফটওয়্যার ইন্সটলের টিউটোরিয়াল
.
এন্ড্রয়েড ফোনে পর্ন সাইট ব্লক–প্রথম পর্ব”
এন্ড্রয়েড ফোনে পর্ন সাইট ব্লক-শেষপর্ব”
এন্ড্রয়েড ফোনে ইউটিউবের ফিতনা থেকে রক্ষাঃ
১ 

এন্ড্রয়েড ফোনে অনাকাঙ্ক্ষিত এড ব্লক
সাবস্ক্রাইব করে রাখা যেতে পারে এই ইসলামিক চ্যানেলগুলো
.
যারা ইংরেজিতে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করেন তাদের জন্য –
(খুবই গুরুত্বপূর্ণ)
(খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই সাইটের ভিডিওগুলো নিয়ে কাজ করা উচিত। কোন ভাই যদি এগুলো বাংলা ডাবিং করে করে বা সাবটাইটেল করে আমাদের দেন তাহলে আমরা প্রকাশ করব ইনশা আল্লাহ্‌। উম্মাহর অনেক বড় খেদমত হবে ইনশা আল্লাহ্‌। )

অনিবার্য যত ক্ষয় (প্রথম পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

বাকের ভাইকে (এইসব দিনরাত্রি নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র)   নিয়ে নব্বইয়ের দশকে অবিশ্বাস্য রকমের মাতামাতি করা হয়েছে  এদেশে । সেই সময়ের উঠতি তরুণেরা বাকের ভাইয়ের মতো দাঁড়ি রেখে, ব্যাকব্রাশ করে চুল আঁচড়িয়ে  সানগ্লাস চোখে ঘুরে বেড়াতো , মিছিলে শ্লোগান দিত – আমরা সবাই বাকের হবো , এত মোনা কোথায় পাব’?

বাকের ভাইয়ের ফাঁসি আটকানোর জন্য রাস্তায় মিছিল করা হয়েছে, লেখককে হুমকি ধামকিও দেওয়া হয়েছে – বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হলে দেখে নেওয়া হবে, অভিনেতা কাদেরেরে ( নাটকে বাকের ভাইয়ের শাগরেদ) বাসায় নাকি ঠিল ছোঁড়া হয়েছে । এরকম একটা কথা শুনেছিলাম বাকের ভাইয়ের ফাঁসির পর তার কুলখানির আয়োজনও নাকি করা হয়েছিল ।

বর্তমান সময়ে দেশে   কিরনমালা সিরিয়াল নিয়ে যা হচ্ছে তা মিডিয়া কিভাবে মানুষের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারে তার একটা ক্ল্যাসিক উদাহরণ হয়ে থাকবে । পুরো চিত্রটা পাওয়ার জন্য  নিচে কিছু  খবরের লিংক দেওয়া হলে, পড়ে দেখা যেতে পারে –

★”কিরনমালা নিয়ে দুই বোনের ঝগড়া। একজনের আত্মহত্যা”

[ http://bit.ly/2bvgPRn ]

.★”কিরনমালা নিয়ে স্বামির সাথে ঝগড়া, এক গৃহবধুর আত্মহত্যা”

[ http://bit.ly/2bELj0Z ]

.

★”কিরনমালা নিয়ে দুই গ্রামে সংঘর্ষ। পুলিশের ১০ রাউন্ড গুলি। আড়াইশতাধিক আহত।” [ http://bit.ly/2btqtF2 ]

.

★”কিরনমালা দেখতে না দেয়ায় ৭ বছরের ছেলের আত্মহত্যা”

[ http://bit.ly/2btpTXY ]

.

★”কিরনমালা দেখতে না দেয়ায় মোহাম্মদপুরে আরেক ১৪ বছরের মেয়ের আত্মহত্যা” [ http://bit.ly/2btqE3s ]

.

★”মা কিরনমালা দেখার সময় দুই ভাই-বোনের পানিতে ডুবে মৃত্যু”

[ http://bit.ly/2btqGrO ]

.

★‘কিরণমালা’ দেখছেন মা, পুড়ে মরল মেয়ে

[http://bit.ly/2b8pg3L]

[ সংকলনে – Muhammad Tafazzul ]

নাটক, সিনেমা,মিডিয়া, গল্প, উপন্যাস এগুলো মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রণ করার খুবই শক্তিশালী মাধ্যম ।  এই মিডিয়াই ঠিক করে দেয় আমরা কাকে নিয়ে চিন্তা করব, কিভাবে চিন্তা করব, কার দুঃখে কেঁদে বুক ভাসাবো, কার আনন্দে আনন্দিত হব , কি পোশাক পড়বো, কি খাবার খাব  সবকিছু । মানুষ হিমুর মতো পাগল সেজে খালি পায়ে হেঁটে বেড়ায় রাস্তায়,  ফুটবলারদের মতো  হেয়ারকাট দেয়,  শাহরুখ, রনবীরদের  মতো প্রেম করে ,  বিজ্ঞাপনের মডেলদের মতো  পোশাক আশাক পড়ে ।

‘আমি তো শুধু দেখছি কিছু করছি না , কারো ক্ষতি তো করছি না’ এই টাইপের একটা কথা প্রায়ই শোনা যায় অনেক পর্ণ আসক্তদের  থেকে । অনেকে নিছক অজ্ঞতাবশত এই কথা বলে, আবার অনেকে নিজেদের পর্ণদেখাকে জাস্টিফাই করার জন্য এরকম একটা অন্তঃসারশূন্য ,ফাঁপা দাবী করে ।

আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে পর্ণমুভি/ আইটেম সং বা  মিউজিক ভিডিও (সফটকোর পর্ণ)  দেখা ধর্ষণ, যৌন বিকৃতি , শিশুনির্যাতন এর প্রভাবক হিসেবে কাজ করে , অনেক সময় প্রধান চালকের ভূমিকা পালন করে তাহলে এই লিখা পড়ে আপনার লাভ নেই । আপনি সত্যটা জানেন ।  শুধু শুধু সময় নষ্ট  হবে ।

এই লিখাটা তাদের জন্য যারা কোনরকম তথ্য-প্রমাণ ছাড়া , কোন একাডেমিক গবেষণা ছাড়া গায়ের জোরে প্রমাণ করতে চান , “পর্ণমুভি  ক্ষতিকর নয় , ধর্ষণ বা যৌন বিকৃতির জন্য এটা দায়ী নয়”, “আমি তো শুধু দেখছি, কিছু করছি না”।

লিখার আসল অংশে প্রবেশ করার পূর্বে কিছু কথা বলে নিতে চাই ।  আমরা এই আর্টিকেলের প্রথমেই বাকের ভাই এবং কিরনমালা’র উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছি মানুষ যা দেখে , মিডিয়া যেটা তার সামনে হাইলাইট করে দেখায় সেটা তার ওপর কতোটা প্রভাব বিস্তার করে । মিছিল থেকে শুরু করে খুন !

তাহলে একটা মানুষ যদি রেগুলার  পর্ণমুভি দেখে সেটা তার আচার আচরনে প্রভাব ফেলবে এটাও তো অস্বাভাবিক কিছু না ।

খুব সুচতুরভাবে   আমাদের  পৃথিবীতে পর্ণমুভিকে  স্বাভাবিক একটা ব্যাপার বানিয়ে ফেলা হচ্ছে (নরমালাইজড) । আসল পর্ণ তো আছেই [ http://tinyurl.com/9ys2k],  বিজ্ঞাপন , বিলবোর্ড আইটেম সং, মিউজিক ভিডিওতে পর্ণস্টারদের অনুকরণ করা হচ্ছে । মুভি, সিরিয়াল গুলোর মাধ্যমে  বিকৃত যৌনাচার কে (এনাল সেক্স, ওরাল সেক্স ) যেমন  প্রমোট  করা হচ্ছে , তেমনি সমকামীদের জন্যেও একটা শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে  । পর্ণমুভি অতিসহজলভ্য করে ফেলা হয়েছে । বাংলাদেশের ১৩-১৭ বছর বয়সীদের শতকরা ৭৭ জন  নিয়মিত পর্ণমুভি দেখছে [http://tinyurl.com/z8mzjqs ] ।

এগুলোর ফলাফল তো আমরা হাতে নাতেই পাচ্ছি ।

গত কয়েক বছরে খুব দ্রুত  আমাদের সমাজে অশ্লীলতাকে বরন করে নেওয়ার একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে । আমাদের দেশে  ফেসবুকে গ্রুপ খুলে লাখ লাখ ছেলে মেয়ে  নির্লজ্জ রসিকতায় মেতে উঠছে । আমাদের তরুণ তরুণীরা  কাম তাড়নায় পাগল হয়ে ভাদ্র মাসের কুত্তাদের মতো রাস্তাঘাটে, লিটনের ফ্ল্যাটে , ক্লাসরুমে শরীরের উত্তাপ মেপে নিচ্ছে । বিছানায়   পর্ণস্টারদের অনুকরণ করছে, পশুর মতো  একে অপরকে ব্যবহার করছে । ।  দশ  বছর আগেও টিভিতে যে দৃশ্য  একাকী দেখলেও আমরা লজ্জায় লাল হয়ে যেতাম, তারচেয়েও অশ্লীল দৃশ্য আমরা ফ্যামিলি শুদ্ধ বসে দেখছি  ।

আর কথা বাড়াতে চাই না ।  ধৈর্য ধরে পড়ে ফেলুন , ধর্ষণ, বিকৃত যৌনাচার বা শিশুনির্যাতনের সঙ্গে পর্ণমুভির কি সম্পর্ক তা নিয়ে লিখা একাডেমিক , রসকষহীন ,খুবই বিরক্তিকর এই আর্টিকেলটি ।

ধন্যবাদ ।

যৌন নিপীড়ন,লাঞ্ছনা,অবমাননা,ধর্ষণ,অজাচার,উৎপীড়ন ও অন্যান্য যৌন অপরাধ যেমন নারী পাচার ও যৌন দাসত্বের সাথে পর্নোগ্রাফির সম্পর্ক:

“পর্নোগ্রাফি হল থিওরি আর রেপ হল তার বাস্তবায়ন।”

-রবিন মরগান (Going Too Far: The Personal Chronicle of a Feminist)

“পুরুষরা পর্নোগ্রাফির পেছনে পয়সা ঢালে আর ধকল যায় নারীদের ওপর ধর্ষণ আর নিপীড়নের আকারে এমন এক সমাজের কাছে যা তাদের তুচ্ছ সেক্সুয়াল অবজেক্ট হিসেবে গ্রহণ করে।” -রোসালি ম্যাগিও (The Dictionary of Bias-Free Usage)

“আমি জেলে লম্বা সময় কাটিয়েছি এবং অনেকের সাথেই কথা হয়েছে যাদের অপরাধের মূল উৎস হল পর্ণ।তাদের প্রত্যেকেই ছিল এতে বাজেভাবে আসক্ত।F.B.I. এর নিজস্ব সিরিয়াল হোমোসাইড এর গবেষণায় এসেছে, সিরিয়াল কিলারদের মধ্যে সবচেয়ে কমোন ইন্টারেস্ট হল পর্ণ যা একেবারে সত্য।”
-টেড বান্ডি (Serial Killer & Rapist of at least 28 Women & Girls)

পড়তে পারেন এই তিনটি লিখা –

http://bit.ly/2coKlub

http://bit.ly/2bztRsK

http://bit.ly/2by3Kc0

পর্নোগ্রাফি ও উদ্দামতা:

২০১০ সালের একটি রিসার্চ নিয়ে আলোচনা করা যাক যা সম্পন্ন করেন ম্যারি অ্যানি লেইডেন (PhD, Director of the Sexual Trauma and Psychopathology Program Center for Cognitive Therapy, Department of Psychiatry, University of Pennsylvania)

পর্ণের উত্তেজনা ব্যাক্তিকে ফ্যান্টাসির সীমানা ডিঙ্গিয়ে ভয়াবহ বাস্তবতার মুখে ঠেলতে পারে।একটা এক্সপেরিমেন্টে একদল পুরুষকে দেখানো হয় রেইপ পর্ণ এবং আরেক দলকে নন-রেইপ পর্ণ।এরপর কোন রকম হাতের স্পর্শ ছাড়া নিজেদের সর্বোচ্চ মাত্রায় উত্তেজিত করতে বলা হল।এতে দেখা যায়, যাদের রেইপ পর্ণ দেখানো হয়েছে তাদের ফ্যান্টাসিগুলো ছিল অধিক বর্বর বাকিদের তুলনায়।আরেক গবেষণায় এসেছে, যেকোন ধাঁচের পর্ণই হোক না কেনো তার সাথে সরাসরি সম্পর্ক আছে অকথ্য গালাগালি, ড্রাগস আর অ্যালকোহলের।আর এসবই একজনকে দিয়ে ধর্ষণ করানোর জন্য যথেষ্ট।তাই যারা উগ্র লেভেলের পর্ণ দেখে, তাদের দ্বারা ধর্ষণের সম্ভাবনাও বিপুল থাকে।যাদের ডেইট রেইপ করার কলঙ্ক আছে তাদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে প্লেবয় টাইপের  কিছু ম্যাগাজিন বেশ ভূমিকা রেখেছে ।  দেখা গিয়েছে যে,যেসব স্টেইটে এইসব ম্যাগাজিনের সার্কুলেশনের হার বেশি সেসব স্টেইটে ধর্ষণের হারও বেশি।

যেসব কিশোর এই সব পর্ণ দেখে অভ্যস্ত তাদের ৪২% হল সেক্স অফেন্ডার।সাধারণ কিশোরদের তুলনায় এদের পর্ণে জড়িয়ে পড়াটা খুবই স্বাভাবিক।৫-৮ বছর বয়সের মধ্যেই তা সম্ভব।এদের খুব কম সংখ্যক নিশ্চিত করেছে যে নিজেদের এই কুকর্মের পেছনে পর্ণ দায়ী নয়।তবে বাকিদের ক্ষেত্রে পর্ণই প্রধান কারণ।
এখন কিছু পরিসংখ্যান দেখা যাক।হার্ডকোর পর্নোগ্রাফি লেলিয়ে দিয়েছে বিভিন্ন ধাঁচের অপরাধীকে তাদের অপরাধ সংঘটনের জন্য।যেমন,চাইল্ড মলেস্টার(৬৭%),ইনসেস্ট অফেন্ডার(৫৩%) ও রেইপিস্ট(৮৯%)।এদের সবাই যে শুধু পর্ণ দেখার পরই ভিক্টিমদের উপর হামলা করত তা নয়,এদের অনেকেই রেগুলার পর্ণ দেখায় আসক্ত ছিল যা তাদের বর্বর হতে রসদ জুগিয়েছে এবং ওগুলো যে হার্ডকোর লেভেলের ছিল তাও কিন্তু নয়।তাই একজন পুরুষের পুরুষত্বের অপব্যবহার তার পর্ণ দেখার হারের ওপরও নির্ভর করে।যারা তাদের দৈহিক সামর্থ্যকে বাজেভাবে কাজে লাগায় বা যারা নারীদের কেবল আমোদের উপাদান হিসেবে উপভোগ করে আসছে তাদের দ্বারা শঙ্কিত হবার শঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

এবার কিছু ভিক্টিমের বক্তব্য শোনা যাক।১০০ জন ভিক্টিমের মধ্যে ২৮% বলেছে যে তাদের ওপর হামলাকারী ব্যাক্তি পর্ণ দেখেছিল আর বাকিদের মধ্যে ৫৮% এ ব্যাপারে ঠিক নিশ্চিত নয়।আবার প্রথম শ্রেণির ভিক্টিমদের ৪০% বলেছে যে তাদের ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছিল তার একটি অংশ ছিল পর্ণ।বাকি ৪৩% বলেছে যে নির্যাতনের প্রকৃতি পর্ণে যা দেখানো হচ্ছিল তার মতোই ছিল অনেকটা।১৮% এর ধারণা অনুযায়ী,পর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে নির্যাতনকারী আরও ধর্ষকামী হয়ে উঠেছিল।১০০ জনের মধ্যে ১২% জানিয়েছে যে নির্যাতনকারী হুবুহু তার দেখা পর্ণের অনুরুপ ঘটিয়েছে তাদের সাথে আর ১৪% জানিয়েছে যে তাদের দিয়ে জোরপূর্বক কিছু বর্বর কাজ করানো হয়েছিল।

সবশেষে মূল কথা হল,পর্নোগ্রাফির জগৎ আপনাকে অস্বাভাবিক ব্যবহারে অভ্যস্ত করাবে।ধীরে ধীরে আপনার জীবনের নিত্যনৈমিত্তিক অংশে পরিণত হবে এবং আপনার বিকৃত মস্তিষ্ক এক সময় আপনার কাছে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।এই বিষের সংক্রমণ থেকে কেউই নিরাপদ নয়।হতে পারে সে পুরুষ বা নারী, যুবক বা যুবতী, বাচ্চা বা বুড়ো, বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত।

#অনিবার্য_যত_ক্ষয়

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টীম কর্তৃক অনূদিত)

পড়তে পারেন –

অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x5OdHU
অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব) – https://bit.ly/2O7Pgxf

রেফারেন্সঃ http://bit.ly/2c8x0li