বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (শেষ পর্ব)

বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (শেষ পর্ব)

এরপর আসেন, বলিউডের অন্যতম বর্ষিয়ান অভিনেতা অনুপম খের। এই লোকটা বিশাল একটা হিপোক্রিট আর ধুরন্ধর! পুরোনো তবে ছোট্ট ঘটনা বলি।
.
রিতা কয়রাল কলকাতা ড্রামা জগতের পরিচিত মুখ। এই অনুপম খেরের স্ত্রী (কিরণ খের) কলকাতার একটি মুভিতে কাজ করে। তার স্ত্রীর ডাবিং করে দেয় এই রিতা কয়রাল। কিন্তু, এই কথা রিতাকে লুকিয়ে রাখতে বলা হয়। ফলশ্রুতিতে, ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডে ডাবিং এ নাম চলে আসে কিরণ খেরে’র। পরিচালকও অনুপম খেরে’র ভয়ে সত্য বলেনি। কারণ সে ছিল ওই মুভির প্রযোজক। যাইহোক, রিতা কয়রাল মিস করল ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড!
.
তো একদিন অনুপম খের রিতাকে ফোন দিল। রিতা ভাবল তাকে তার অ্যাওয়ার্ডটা দেওয়ার জন্যই বুঝি সে ফোন করেছে। অনুপম খের জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি ডাবিং এর টাকা-টা পুরো পেয়েছ?” রিতা বলল, “হ্যা, পেয়েছি।“
.
সে বলল, “আমি তোমাকে আরো বেশি টাকা দিতে চাই। তবে শর্ত একটাই, তুমাকে বলতে হবে যে, এই মুভির ডাবিং তুমি করনি“। কিন্তু যখন রিতা এটা বলতে অস্বীকার করল, তখন এই অনুপম খের-ই বলে উঠল, “তুমি মোম্বাইয়ে কখনো ঢুকতে পারবে না এবং কলকাতা ইন্ডাস্ট্রিতে তুমি কীভাবে কাজ কর সেটাও আমি দেখে নিব!“ রীতিমত ওই মহিলাকে ধমকে দিল। তবে আইরনি হল, এই অনুপম খের-ই সুশান্ত এর মৃত্যু নিয়ে শোক পালন করেছে, ভিডিও বার্তা দিয়েছে অথচ সে-ই একজনের জীবন শেষ করার হুমকি দিয়েছে!
.
এছাড়া, মুসলিমদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিজেপি সরকার NRC এবং CAA নামে যে আইন চালু করেছে , তার বিরোধিতা করায় শাহিনবাগের ছাত্রদের সে সন্ত্রাসী বলেছে। সহিংস বলেছে!
.
এই হচ্ছে এদের হিপোক্রিসি! এই হচ্ছে এদের বাকস্বাধীনতা আর নারী উন্নয়নের এক নিকৃষ্ট নমুনা! এরা সারাজীবন বাকস্বাধীনতা আর লিবারেলিজমের (উদারনীতির) জিগির তুলে, হিউম্যানিজমের ফেনা তুলে মুখে। কিন্তু, বাস্তব জীবনে তারা এর ঠিক বিপরীত! হাজারো নীতি-দর্শনের বুলি কপচানো এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডরা দিনশেষে নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছুই দেখে না। বাকস্বাধীনতার নামে নিজের স্বার্থ ঠিকই হাসিল করবে, ইসলামকে আক্রমণ করার মাধ্যমে ঠিকই খ্যাতি অর্জন করবে, জাতে উঠবে, ফলোয়ার বাড়াবে কিন্তু অন্যের বেলায় কচু দেখাবে, তাদেরকে কনফ্রন্ট করবে!
.
তবে সবচে’ মজার বিষয় হল, বাহ্যিকভাবে মনে হয় এরা অনেক খুশি এদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে! কিন্তু বাস্তবতা কী তা-ই?
.
হৃত্তিক রোশন তার স্ত্রীকে যখন ডিভোর্স দিতে চায় তখন তার স্ত্রী ডিভোর্স এলিমুনি হিসেবে ৪০০ কোটি রুপি চেয়ে বসে! পরবর্তীতে এই সওদা হয় ২৫০ কোটি রুপিতে!

সালমান খানের বড় ভাই, আরবাজ খান ডিভোর্স এলিমুনি হিসেবে তার স্ত্রীকে দেয় ১৫ কোটি রুপি এবং তাদের বিয়ের বয়স তখন ছিল ১৭ বছর!

আমির খানও তার স্ত্রীর সাথে সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেনি এবং ডিভোর্সের সময় ৫০ কোটি রুপি পে করতে হয় তার স্ত্রীকে।

একইভাবে ‘বলিউডের নবাব’-খ্যত সাইফ আলী খানকে ডিভোর্স এলিমুনি হিসেবে গুণতে হয় ৫ কোটি রুপি!

করিশমা কাপুর তার স্বামীর সাথে ১১ বছর কাটানোর পর ডিভোর্স দেয় এবং ১৪ কোটি রুপির বন্ড হাতিয়ে নেয় তার এক্স স্বামীর কাছ থেকে!

ভারতের ‘গ্রেইট পয়েট(!)’ জাভেদ খানের অভিনেতা ছেলে ফারহান খানও পারেনি ১৬ বছরের বৈবাহিক জীবন টিকিয়ে রাখতে! তাকে তার স্ত্রীকে ‘জুহু’তে ৭০ কোটি রপির একটি বাংলো দিয়ে দিতে হয়!

বলিউডের সাকসেসফুল ডিরেক্টর আদিত্য চোপড়াকে তার ফরমার ওয়াইফকে দিতে হয় ৫০ কোটি রুপি ডিভোর্সের কারণে!

সঞ্জয় দত্ত বলিউডে ২ টা জিনিসের জন্য বিখ্যাত। এক. তার ড্রাগ এডিকশন। দুই. তার বিয়ের সংখ্যা।

বলা হয়ে থাকে সে নাকি বিয়ে করতে কখনো টায়ার্ড হয়না! তবে তার অসংখ্য স্ত্রীর মধ্যে থেকে তার তৃতীয় স্ত্রী তাকে কাঁদিয়ে ছাড়ে ডিভোর্সের সময়। তার এই স্ত্রীকে দিয়ে দিতে হয় তার নিজস্ব বাংলো এবং দামী দামী ৩টি গাড়ি!
.
এভাবে অসংখ্য বিখ্যাত বলি-সেলেবদের কেইস উল্লেখ করা যাবে যারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংসার করলেও নিজেদের সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেনি! কারণ? টাকা পয়সা? না, অবশ্যই না।
.
দেখুন তাদের কী অবস্থা! আমি জানি এই যে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে এগুলো তাদের কাছে কিছুই না এবং এদের ব্যপারে কেউ বলতে পারে যে, এগুলো কেবল তাদের কন্ট্রভার্সি। কিন্তু, চিন্তা করে দেখুন, টাকার বিনিময়ে এরা নারী ভোগকে কী পরিমাণ শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে! টাকা আছে বলে একটার পর একটা বিয়ে করছে। একজনকে টাকা দিচ্ছে আরেকজনকে বিয়ে করছে! ক্ষমতাবলে নারীদের শোষন করছে, কাজ দেওয়ার নাম করে তাদের ইজ্জতহানী করছে। এটা কী নারীকে অবজেক্টিফাই করেনা? নারীর মর্যাদাহানী করেনা? এটাই কী তবে নারীবাদ? অথচ এরাই নাকি বলে আমরা মুসলিমরা নারীদেরকে সেক্স অবজেক্ট হিসেবে বিবেচনা করি! আমরা নাকি সন্ত্রাসী! বেকডেইট! ছিহ! আমরা এদের থেকে সভ্যতা শিক্ষা করার দাবি করি! আমরা এদেরকে অনুসরণ করি।
.
এই যে ফ্যাক্ট আপনাদের সামনে তুলে ধরা হল, এর চাইতে কয়েক হাজার গুণ নেগেটিভ জিনিস লুকায়িত থেকে যায়, আমাদের সামনে আসে না। এই ইন্ডাস্ট্রিতে ট্যালেন্টের কদর নেই, আছে বাবা-মায়ের ফেইমের কদর। এই ডিপ্রেশনে পড়েই কত আউটসাইডার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সুইসাইডের পথ বেঁছে নেয়। তাই, বলাই যায় এই অসুস্থ মস্তিষ্কের লোকগুলো আসলে নিজেদের জীবনে সুখী নয়। অথচ আমরা এদের থেকে সুখ-শান্তির ফর্মুলা গ্রহণ করি! সংস্কৃতি আর বিনোদনের উপায় ধার করি! আমাদের ঘরের মা-বোনেরা এদের সিরিয়াল দেখে, আমাদের যুবক-যুবতীরা এদের মুভি দেখে! দেখে ইনফ্লয়েন্সড হয়, পরিবার ও সমাজে অশান্তি বয়ে নিয়ে আসে!
.
এগুলো আসলে এদের মিথ্যা ছলনা। এদের প্রতিটা বিষয় অভিনয়। আর এদের অভিনয়ের উপর আমরা কাঁদি, হাসি! অথচ এরা সুখী হওয়ার ভান করে । কিন্তু, দিনশেষে আত্মহত্যা করে মারা যায়!
.
তাই বলিউড থেকে বেরিয়ে আসুন। বলিউডকে বয়কট করুন। তাদের অভিনেতা-অভিনেত্রী, গায়ক-গায়িকা সবাইকে। এটাই হচ্ছে সময় নিজেকে সামলে নেওয়ার, নিজেকে, নিজের পরিবার ও সমাজকে। নিজের চিন্তা-চেতনা, আদর্শ আর সংস্কৃতিকে বলিউড, হলিউডের গোলামির জিঞ্জির থেকে মুক্ত করে নিন, ধ্বংস করে দিন তাদের চক্রান্তকে। হস্তমৈথুন, পর্নোগ্রাফি থেকে বেরিয়ে আসতে অবশ্যই আপনাকে বলিউড থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, কারণ এগুলো আপনাকে সুড়সুড়ি প্রদান করবে। এগুলোর আইটেম সং-এর নগ্ন নায়িকা আর ইন্টিমেইট সিন আপনাকে ঘায়েল করে ফেলবে। তাই হিফাযাত করুন নিজের যৌবনকে, নিজের ঈমানকে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।
.

(শেষ)
.
পড়ুন আগের পর্বগুলো:

প্রথম পর্ব- https://www.lostmodesty.com/darkbolly1/
দ্বিতীয় পর্ব- https://www.lostmodesty.com/darkbolly2/
.
লেখক: Mashud Ur Rahman
.
পোস্ট লিংক- https://tinyurl.com/ylbnwdvh

#SaveFoundation_প্রবন্ধলিখন_প্রতিযোগিতা_২০২০

শেয়ার করুনঃ
বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (দ্বিতীয় পর্ব)

বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (দ্বিতীয় পর্ব)

কারান জোহর। দ্যা গ্রেইট ডিরেক্টর অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা! এই লোকটা একটা সমকামী এবং বলিউডে সমকামীতার এনসাইন-বেয়ারার। ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশনের পর্দায় এই কথা সে অকপটে স্বীকার করে। এছাড়া, সে স্টারকিড ছাড়া অন্য কাউকে তার মুভিতে খুব কম নেয়। এজন্য তাকে স্বজনপ্রীতির জন্য অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়। তবে যথেষ্ট ব্যতিক্রম ঘটেছে সিদ্ধার্থ মলহোত্রার ক্ষেত্রে। সিদ্ধার্থ মলহোত্রা কোনো স্টারকিড নয়, একজন আউটসাইডার। কিন্তু, তাকে সিনেমায় নেবার করার কারণ হল সে কারান জোহরের ‘বয়ফ্রেন্ড’ এবং সহকারী ছিল যা একটি ওপেন সিক্রেট! তাহলে বুঝুন, যুব সমাজের যারা এদের মুভি দেখে তারা কেনো সমকামী সাপোর্টার হয়! শামির মোন্তাজিদ আর সাকিবরা কি এমনি এমনিই সমকামীদের সাপোর্ট করে জাতে উঠতে চায়?
.
এছাড়া, বেশ কয়েকদিন আগে ‘পদ্মাবতী’ নামে একটি মুভি রিলিজ হয়েছে, মুসলিম শাসক আলাউদ্দিন খিলজি ও কাল্পনিক চরিত্র পদ্মাবতীকে নিয়ে। ছবিতে সুলতান এবং তাঁর সেনাপতি মালিক কাফুরকে সমকামী দেখানো হয়েছে। মূলত সুলতানকে দেখানো হয়েছে মাদকাসক্ত এবং উভকামী যৌনতাতাড়িত জালিম, অত্যাচারী রূপে। অর্থাৎ মানবীয় মন্দ গুণের এমন কোনো কিছুই বাদ রাখা হয় নি যাতে সুলতানকে ঘৃণিতভাবে উপস্থাপনের বাকি রাখে। অথচ সুলতান নিজে এবং তাঁর সেনাপতি ছিলেন সত্যিকার মুসলিম। মুসলিমদের বিরূদ্ধে বিষোদ্গার করাই ছিল এই মুভির লক্ষ্য।
.
এছাড়া বলিউডে এখন পর্যন্ত এমন কিছু মুভি রিলিজ হয়েছে যেগুলো Homosexuality তথা সমকামীতাকে সাপোর্ট করার জন্য বানানো হয়েছে! সঙ্গত কারণেই আমি এগুলোর নাম বলছি না। তবে যারা বলি-মুভি দেখে বা দেখেছে তারা সহজেই বিষয়গুলো বুঝে যাবে।
.
রিসেন্টলি সাহিল চোধুরী নামে এক ভারতীয় ইউটিবার, যে ২০১৪ সাল থেকে মডেলিং করছিল এবং ২০১৮ এর দিকে সে মডেলিং ছেড়ে দেয়; সে বলছে, “আমি প্রায় প্রতিটি প্রোডাকশনের জন্য অডিশন দিয়েছি। বিভিন্ন ওয়েব সিরিজের জন্যও অডিশন দিয়েছি। কিন্তু আমি এখানে অনেক খারাপ জিনিস দেখেছি। মডেলিং করা অবস্থায়ই আমি সেখানকার যে পরিস্থিতি দেখেছি ফলে (ফিল্মে আসার) আগেই আমার ইচ্ছা সব উবে যায়।“
.
সে আরও বলে, “এখানকার সকলেই ড্রাগ এডিক্টেড। (মেয়ে) মডেলদেরকে তারা যা-তা করার জন্য বলে! শুধু আসো এবং সেক্স করো!” সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ কথা যা সে বলেছে তা হল, “আমি পিতা-মাতাদেরকে বলব আপনাদের সন্তানদেরকে দয়া করে মডেলিং-এ পাঠাবেন না। মডেলিং-এ কোনো ক্যারিয়ার নেই। কারণ, এখানে যত ডিজাইনার আছে সবগুলোই সমকামী। সব সুন্দর ছেলেদের সাথে তারা সমকাম করতে চায়! আমি চাই আপনারা আপনাদের সন্তানদেরকে ফোন দিয়ে খবর নিন যে, তারা ভালো আছে কিনা। কেননা এখানে সেক্সুয়াল হ্যারাসম্যান্ট খুবই সাধারণ বিষয়। এজন্যই ইন্দার কুমার, কুশাল পাঞ্জাবী এবং আনান্দী’রাসহ অনেক মডেলরা (মডেলিং অবস্থায়ই তথা ফিল্মে আসার আগেই) আত্মহত্যা করে ফেলে।“
.
বেশ কয়েকদিন আগে ভারতের মিডিয়া একটা বিষয় নিয়ে খুব হালচাল শুরু হয় সেটি হচ্ছে ‘me too movement’ যেখানে মডেল কিংবা যে বা যারাই বলিউডে বিভিন্ন স্টারদের দ্বারা হ্যারাসম্যান্টের স্বীকার হয়েছে তারা অকপটে মিডিয়ার সামনে ওইসব লোকদের নাম বলে দিয়েছে ও হ্যারাসম্যান্টের ঘটনা উল্লেখ করে দিয়েছে। সেখানে নাম উঠে এসেছে বড় বড় তারকাদের। যেমনঃ শাহরুখ খান, সাজিদ খান, মিউজিক কোম্পানি ‘টি-সিরিজ’ এর মালিক ভুশন কুমারের নাম পর্যন্ত!
.
তো আমি শুধু একটি ঘটনা উল্লেখ করে শেষ করছি। তা হল, মারিনা কুয়ার নামের এক সংগীত শিল্পীকে কাজ দেওয়ার বাহানা করে সাজিদ খান (মুভি ডিরেক্টর) ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। একইভাবে চেষ্টা করে এই ভুশন কুমার এবং এই কথা যখন মারিনা কুয়ার পাবলিকলি me too movement-এ বলে তখন সাজিদ আর ভুশনের দেখে যাওয়া আর অপমানিত হওয়া ছাড়া আর করার কিছু ছিল না! কারণ তা ছিল সত্য ঘটনা। এরকম হাজারো অভিনেতা-অভিনেত্রী, গায়ক-গায়িকাদের এরা শোষণ করে কাজ দেওয়ার নামে এবং এই সিন কেবল বলিউড নয় বরং বাংলাদেশেও হয়ে থাকে। তবে আপনারা এই ঘটনা মাথায় রাখবেন, কারণ, সামনে আমরা ছোট্ট করে এটা নিয়ে আলোচনা করব।
.
যাইহোক, নেপোটিজম নিয়ে যখন বলি-পাড়ায় ঝড় উঠেছে, তখন এদের মিউজিক ইন্ড্রাস্টির লোকেরাও চুপ বসে নেই। হঠাৎ করে TOI এর একটি আর্টিকেলে দেখি ‘মাইকে আযান নিয়ে কটাক্ষকারী’ সংগীত শিল্পী সনু নিগম তাদের বলিউডের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির নেপোটিজমের বিরুদ্ধে বলছে। বেচারা! অনেক বছর যাবত সে গান পায় না।
.
সে বলছে, “আজ একজন অভিনেতা মারা গিয়েছে। কাল হয়ত কোনো মিউজিক কম্পোজার, গায়ক বা লিরিসিস্টের ব্যপারেও আপনারা এমন শুনতে পারেন। কেননা আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে মুভি থেকেও বড় মাফিয়ারা আছে।“ …সে আরো বলে, “মাত্র ২ জন লোক এই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি চালায়। তাদের হাতেই সবকিছু!” … সে আরো বলে, “আমি নতুন মিউজিশিয়ানদের চোখে , কন্ঠে ফ্রাস্ট্রেশন দেখেছি।“
.
তো আসুন, মারিনা কুয়ারের ছোট্ট গল্প শেষ করি। উপরের কথাগুলো বলায় সনু নিগমের উপর ভড়কে যায় ভুশন কুমার। ফলে সনু নিগমের বিরুদ্ধে সে অন্যদের ভড়কে দেয়। কাউন্টারপার্ট হিসেবে, সনু নিগম বলছে, “মারিনা কুয়ার কেন তোর (ভুশন) বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করে দিল আমি জানি না তবে মারিনা কুয়ার রিলেটেড একটি ভিডিও এখনো আমার কাছে পড়ে আছে। আমি এই ভিডিও আমার ইউটিউব চ্যানেলে ছেড়ে দিব।“
.
এই হচ্ছে এদের বাস্তবতা। শেয়ালের ধূর্ততা নিয়ে এরা Women empowerment এর কথা বলে তাদের ভোগ করার জন্য। আজ এরা একটা আরেকটার সাথে কুকুরের মত কামড়াকামড়ি করছে। কিন্তু আমরা এসব দেখেও না দেখার ভান করছি!
.
এভাবেই, এই বলিউড মানুষের মাঝে ইসলামফোবিয়া, পর্নোগ্রাফি আর সমকামীতাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ যারা সার্ভাইভ করে বলি-পাড়ায় ঢুকছে তারাও পরবর্তীতে অন্যদের সাথে এরূপ আচরণ করছে। এর ফলে পুরো বলিউড জোড়ে বিকৃত চিন্তার সেক্সিস্টদের উদ্ভব হচ্ছে এবং বলিউডে এমন কন্টেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে যা মানুষকে বিকৃতিকে সাধারন এবং সহজাত বলে মেনে নিতে বাধ্য করছে ও অবচেতন মনে এই বিষয়গুলোকে মানুষ বরণ করে নিচ্ছে।
.
চলবে ইনশা আল্লাহ…
.
পড়ুন প্রথম পর্ব- https://www.lostmodesty.com/darkbolly1/
.
লেখক: Mashud Ur Rahman
.
#SaveFoundation_প্রবন্ধলিখন_প্রতিযোগিতা_২০২০

শেয়ার করুনঃ
বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (প্রথম পর্ব)

বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (প্রথম পর্ব)

ভারতের তিনটি ব্যবসা খুব জোরেশোরে চলে ওয়ার্ল্ডওয়াইড।
১/ বলিউড;
২/ ক্রিকেট;
৩/ টুরিস্ট ব্যবসা।
.
আজকের আমাদের আলোচনার বিষয় হল বলিউড। আজ আলোচনা হবে কীভাবে এটি আমাদের মাঝে পর্নোগ্রাফি, সমকামীতা, অযাচার আর নানা ধরণের মতবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং আলোচনা হবে এদের ইনসাইডারদের বিকৃতি নিয়ে।
.
বলিউডের একটি মুভি বা একটি আইটেম সং-ই একেকটা পর্নোগ্রাফির সমান। মানসিক বিকৃতি আর অবাধ ওয়েস্টার্ন কালচারের সমাবেশ এই বলিউডকে করেছে রঙিন, পৌছে দিয়েছে অনন্যতায়। স্ক্রিপটেড অ্যাওয়ার্ড শো, শত শত কোটি টাকার ব্যবসা, ইসলামফোবিয়া, সেক্যুলারিজম, সেক্সিজম, প্লেজিয়ারিজম, সারিয়ালিজম, লিবারেলিজম, হিউম্যানিজম, ম্যাটার‍্যালিজমের পসরা সাজিয়ে নিয়ে গঠিত এই বলিউড শোবিজের নামে প্রতিটি স্তরের মানুষের মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে সব ধরণের বিকৃতি। এই গড্ডালিকায় গাঁ ভাসানো মানুষেরা জানে না বা জানতে চায় না এর ‘বিহাইন্ড দ্যা সিন’ কারসাজি। এর অদেখা জগত সম্পর্কে তারা মোটেও ওয়াকিবহাল নন। কারণ এটা তাদের কাছে কেবল বিনোদনের একটি অংশ মাত্র।
.
এই বলিউড আমাদের যুবক-যুবতীর মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, নিজের শৈশব জীবনের নস্টালজিয়া হচ্ছে বন্ধু-বান্ধবের সাথে বিড়ি টানা, গালাগালি করে কথা বলা, পর্ন দেখা, মাদকাসক্ত হওয়া, রাফ চলাফেরা করা, প্রেম করা ইত্যাদি। এগুলো তাদের পুশ করা এজেন্ডা।
.
যেকোন জায়গায় কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ণ করার একটা মৌলিক দিক হল, সেই জায়গায় কিছু মানুষকে যারা খ্যাতির জন্য নিজের আদর্শকে বিলিয়ে দিয়ে সমাজে নোংরামি আর বিকৃতি আমদানি করতে পারে, তাদেরকে টাকা পয়সা দিয়ে সেই এজেন্ডার প্রচারক বানিয়ে দেওয়া। পরবর্তিতে এই প্রচারকদের মাধ্যমে এজেন্ডা বাস্তবায়ণ হয়ে গেলে সেখানে এই এজেন্ডার ফ্রি ফলোয়ার তৈরি হয়ে যায়। এদের টাকা দেওয়া লাগে না। ওই যে, যাদেরকে টাকা দিয়ে এজেন্ডার প্রচারক বানানো হয়েছিল তাদের আদর্শকে একদল লোক সত্য বলে ধরে নেয়।
.
এই যে সমকামী এজেন্ডা, এর টেকনিকাল ইমপ্লিমেন্ট এইটাই। আগে সমকামীতার প্রচারকরা মানুষের মননে-মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, সমকামীরা সমাজে নির্যাতিত, অবহেলিত! এখন এদের জন্য সিম্পেথি দেখিয়ে মানুষকে সমকামীতার সমর্থক বানানো হচ্ছে, সমকামীতাকে গ্লরিফাই ও সেলিব্রেইট (প্রাইড মান্থ এর একটি দিক) করা হচ্ছে যেন এটি খুব ভালো জিনিস এবং এটি বর্তমানে চলমান একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় নেক্সট জেনারেশনের লোকদের টাকা দিতে হচ্ছে না। বরং তারা একে মানবিকতার একটি অংশ বা দিক মনে করেই এদের সমর্থন করে যাচ্ছে!
.
এই একই ট্যাকটিক বলিউড ভারত উপমাহাদেশে খেলেছে। বলিউড আমাদের উপমহাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে পর্নোগ্রাফি, সমকামীতা, লিভ-ইন বা লিভ-টুগেদারের (এই ইস্যুগুলো নিয়ে লিটারেলি তারা মুভি তৈরি করেছে) মত অসামাজিক ও নোংরা সংস্কৃতির বিষবাষ্প। এরা নিজেদের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বলে কিন্তু কন্টেন্টের নামে এরা আমদানি করেছে বিজাতীয় ও ইসলাম বিরোধী সংস্কৃতি, লিগালাইজ করছে অবাধ যৌনাচার! কিন্তু আমরা না বুঝেই বলিউড বন্দনায় মেতে উঠেছি!
.
রিসেন্টলি সুশান্ত সিং মারা যাওয়ায় বলি পাড়ায় রীতিমত ঝড় উঠেছে। নেপোটিজম এবং সেক্সিজম নিয়ে বেশ কথাবার্তা হচ্ছে। মিটিওরিক স্টারডম পাওয়া এই অভিনেতা কেনই বা আত্মহত্যা করল? নিছক প্রেম ভালোবাসা? আমার বিশ্বাস হয়না। তার নিজের যেমন টাকা পয়সা আর খ্যাতি-যশ ছিল, চাইলেই সে সহজে অন্য যে কারো সাথে রিলেশনে যেতে পারত।
.
তবে আমি আপনাদেরকে কিছু ফ্যাক্ট দিতে চাই যেগুলো ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এই অভিনেতার মৃত্যুর কন্সিকিউয়েন্সে।
.
সুশান্তের মারা যাওয়ার আগে তার সম্পর্ক ছিল রিয়া চক্রবর্তী নামের আরেক অভিনেত্রীর সাথে। কিন্তু সেই অভিনেত্রীর একটি স্কেপটিকাল রিলেশন আছে ষাটোর্ধ বলি-বিখ্যাত ডিরেক্টর মহেশ ভাটের সাথে যেই লোকটি মুভির নামে অসংখ্য পর্নোগ্রাফিক ফিল্ম উপহার দিয়েছে তার দর্শকদেরকে। সে সুশান্তের মৃত্যুর কিছুদিন পুর্বে বলেছে যে, সুশান্ত ছেলেটা পাগল হয়ে যাচ্ছে এবং সে নাকি খুব শীঘ্রই সুইসাইড করবে এবং আসলেই কিছুদিন পর সে সুইসাইড করে। তবে সুশান্তের ফরেনসিক রিপোর্টে, বেডশিটে কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া যায়নি কেবল অপরিচিত কারো বাম হাতের ফিঙ্গার প্রিন্ট ছাড়া। তাই একে অনেকেই সুইসাইড না বলে হত্যা বলতে চাচ্ছেন!
.
সে যাইহোক, এত লম্বা প্যাঁচাল কেন পাড়লাম? উদ্দেশ্য হল এই মহেশ ভাট। এই লোকটা তার নিজের বড় মেয়েকে কিস করেছে ও নিজের এই মেয়েকেই বিয়ে করতে চাচ্ছিল এবং সে এটা মিডিয়ার সামনে স্বীকারও করেছে! কতটা পার্ভাট হলে কেউ নিজের মেয়েকে কিস করে ও বিয়ে করতে চায়?
.
চলবে ইনশা আল্লাহ …
.
টীকাঃ
.
১] ইসলামফোবিয়াঃ ইসলামবিদ্বেষ। ইসলামের বিভিন্ন বিধান নিয়ে কটুক্তি করা।
.
২] সেক্যুলারিজমঃ ধর্মনিরেপেক্ষতাবাদ। ধর্ম আর রাষ্ট্র-রাজনীতিকে আলাদা মনে করা। এর মূল কারণ ছিল, ইউরোপে খ্রিষ্টান চার্চের মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতন যা থেকে বাঁচতে এই মতবাদের উৎপত্তি হয়। এর মূল ধারনা হল ধর্মের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ ইসলামি শরিয়াহ’র উদ্দেশ্য হল আল্লাহ’র জমিনে আল্লাহ’র আইন বাস্তবায়ন করা।
.
৩] প্লেজিয়ারিজমঃ লেখা চুরি। অন্যের সাহিত্যকর্ম বা রচনা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া।
.
৪] লিবারেলিজমঃ উদারনৈতিকতা। সহজভাষায় বললে, সবকিছুতে তারা উদারতা খোঁজে। ইসলামের নানা বিধান নিয়ে তাদের সমস্যা, কারণ তাদের মতে এগুলোতে উদারতা নেই।
.
৫] হিউম্যানিজমঃ মানবতাবাদ। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ এই টাইপের বিশ্বাসী। তারা ধর্মের উপরে মানবতাকে স্থান দেয়। অথচ, এই মানবতার নেই কোনো গাইডলাইন, নেই কোনো মূলনীতি। যেমনঃ ধরুন ‘ক’ ব্যক্তি ‘খ’ কে হত্যা করল। এটা মানবতাবিরোধি। এতে ‘খ’-এর পরিবারের অনেক ক্ষতি হল। তাই, তারা সরকারকে ‘ক’-এর হত্যার দাবি জানালো এবং সরকারি নিয়মানুযায়ী তাঁকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হল। এখন ‘ক’-কে হত্যা করা কী মানবতাবিরোধী নয়? আর হত্যা না করা হলে তা-কি ‘খ’ এবং তার পরিবারের প্রতি না-ইনসাফি নয়? মানবতাবিরোধী নয়? তাই মানবতার সঙ্গার্থ একেক প্রেক্ষাপটে একেকজনের কাছে একেকরকম। তাই, এই মানবতা বিশালভাবে ডিফায়েন্ট এবং ইনডিফিনিট! তাই, এটা নিয়ে জানতে Iftekhar Sifat ভাইয়ের এই লেখাটি পড়তে পারেন [https://bit.ly/2YCJN9C]।
.
৬] ম্যাটারিয়ালিজমঃ বস্তুবাদ। জীবনের সুখ-শান্তি, সাফল্য বস্তু’র মাঝেই যেমন, গাড়ি, বাড়ি, নারী, টাকাপয়সা ইত্যাদিতে নিহিত আছে বলে মনে করা।

.
লেখক: Mashud Ur Rahman
.
#SaveFoundation_প্রবন্ধলিখন_প্রতিযোগিতা_২০২০

শেয়ার করুনঃ
আমরাই তোমাদের সমাজ…

আমরাই তোমাদের সমাজ…

আমরা স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি তে ছেলেমেয়েদের একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পড়াশোনা করাবো, সম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে কথা। আমরা তাদেরকে শারীরিক শিক্ষা বই এর মাধ্যমে শিখিয়ে দেবো কিভাবে বয়ঃসন্ধির প্রভাবে ছেলেমেয়েদের মাঝে শারীরিক মানসিক চাহিদা তৈরি হয়। এই শূন্যতা, চাহিদা সঠিক উপায়ে পূরণ করার পদ্ধতি কি বা নিয়ন্ত্রণের উপায় কি তা আমরা কখনো তাদেরকে শেখাবো না, সেই সব বিষয় সহজলভ্য করবো না। বরং আমরা এও শিখিয়ে দেবো চারপাশের বিবাহের উদাহরণ দেখিয়ে যে, লাখ টাকার চাকরি ছাড়া আর বয়স ৩০ পেরিয়ে মাথা টাক হবার আগ পর্যন্ত সমাজে বিয়ের কথা বলা জঘন্য পাপ, হারাম।
.
আমরা তাদেরকে প্রথমালু, একাত্তর সহ সকল টিভি মিডিয়া পত্রিকা দিয়ে শেখাবো বাল্যবিবাহ অনেক বড় পাপ, আর শরীরের প্রেম অনেক মহৎ একটি গুণ সেটা যেই বয়সেই হোক না কেনো, ক্লোজ আপ এর অনেক বড় বড় নারী পুরুষের কাছে আসা ব্যানার টানিয়ে শেখাবো কিভাবে কাছে আসার গুণ অর্জন করতে হয়, লিটনের ফ্ল্যাটে যেতে হয়। আমরা তাদেরকে সমাজের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, লেখক ঔপন্যাসিকদের মন ভুলানো প্রেমের গল্প দিয়ে শিখিয়ে দেবো একটু আধটু বিয়ের বাইরে প্রেম ছাড়া জীবন টা অর্থহীন, পানসা, বিবাহের পর পরকিয়ার টেস্ট না নিলে কি আর জীবন এ টুইস্ট থাকে! আমরা তাদের হাতে কম বয়সে মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ তুলে দিয়ে অবাধে ইন্টারনেট দিয়ে শেখাবো কিভাবে পর্ণ মুভিতে আসক্ত হতে হয়, জীবনটাকে শুধু এঞ্জয় করতে নারী পুরুষের সম্পর্কটা শুধু যৌনতা দিয়ে চিন্তা করতে হয় (ফ্রয়েড বাবুদের ফিলোসফি তো রেডি ই রেখেছি ইন্টালেকচুয়াল আর্গুমেন্ট হিসেবে)।
.
আমরা তাদেরকে সারাজীবন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নামক অন্ধের কারখানায় শিখাবো কিভাবে বেশি টাকা আয় করে সমাজে সফল হতে হয়, একটা চকচকে চামড়ার ফার্মের মুরগি নামক ঘিলুবিহীন মাংসপিন্ড বা ভুড়িওয়ালা টাকার মেশিন বিয়ে করে সমাজে ইর্শ্বনীয় হতে হয়, সুখ পেতে হয়। আমরা তাদেরকে নীতি নৈতিকতার স্ট্যান্ডার্ড শিখাবো যুগের সাথে বয়ে চলা ট্রেন্ড থেকে। যেখানে ছেলে ধর্ষণ করলে বাবা বলবে, “এই বয়সে ছেলেপেলে একটু আধটু করেই, আমিও আকাম করি, আমার কি যৌবন নাই?” জাফর ইকবালদের কলাম দিয়ে শেখাবো স্টুডেন্ট লাইফে প্রেম করতে হয়, তাছাড়া পড়াশোনায় মন বসানো কঠিন। নাটক, মুভি, গান দিয়ে শেখাবো সময় কাটানোর সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতেই পারে না। নায়ক নায়িকা সেলিব্রেটিদের লাইফ দেখিয়ে শেখাবো কেনো আমাদের জীবন টা অপূর্ণ তাদের মত হতে না পেরে।
.
আমরা তাদের শেখাবো কিভাবে টকশোর বিজ্ঞানীরা এতো জ্ঞানী হলো, আর মডেলদের দেহ বিক্রি করা পেশাকে ফ্যান্টাসি আইডল হিসেবে কেনো প্রতিষ্ঠা করবো। তাদেরকে খুব সূক্ষ্মভাবে শেখাবো তোমার শরীরের অনেক চাহিদা আছে, জীবনে চাহিদা পূরণ না করতে পারা লুজারদের বৈশিষ্ট্য, যেহেতু বৈধ পথে এইসব চাহিদা মেটানো কঠিন তাই তোমরা অবৈধ পথ কে লিগালাইয করা শেখো মনে মনে। বিচার ব্যবস্থা দেখিয়ে শেখাবো সমাজে দাপট, টাকা, আর রাজনৈতিক ব্যানার থাকলে তুমি যা খুশি তাই করতে পারো। এবার তুমি খুন করো, ধর্ষণ করো, ঘুষ খাও, সুদ খাও, যা খুশি তাই করো তোমাকে কেউ কিছু বলবে না, কোন শাস্তি নেই তোমার। আমরা তাদেরকে ধর্ম শিখতে দেবো না, পরকাল বিশ্বাস মজবুত করতে দেবো না, স্রষ্টা, ধর্ম, নিয়ম কানুন সব কেবল হুজুরদের মধ্যযুগীয় স্মৃতিরক্ষার রীতি হিসেবে শিখিয়ে আসবো। দিন শেষে তাদেরকে এমন এক আজব পশুরুপী মানুষ হতে শেখাবো যেখানে জীবনের কোন উদ্দেশ্য নেই, কোন চিরন্তন গন্তব্য নেই, নেই কোন নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড বা আদর্শ যে অনুযায়ী সে চলবে। আমরা তাদেরকে শেখাবো, আরে এই যুগে এটা মানা যায় নাকি, ওটা ছাড়া যায় নাকি এমন অজুহাতে সকল পূণ্য কে এড়িয়ে চলতে আর পাপ কে আপন করে নিতে।
.
এতোসব কিছু শেখানোর পর যখন সে টিকতে না পেরে প্রেমের ফসল হিসেবে এবরশন এর অভিজ্ঞতা নিয়ে হাজির হয় তখন আমরা চোখ বন্ধ করে এড়িয়ে যাবো, যখন ধর্ষণ করবে তখন “পুরুষ তুমি মানুষ হও” দিয়ে কলাম ছাপাবো, নারী তুমি বন্ধুর পার্টিতে যেতেই পারো, একটু মাখামাখি করতেই পারো, তাই বলে অমতে ***! তবে তোমার ইচ্ছায় হলে সেটাকে আমরা নারী স্বাধীনতা বলতাম, প্রেমের বহিঃপ্রকাশ বলতাম! যখন সে খুন করবে, সুদ, মদ, ঘুষ খাবে সেগুলোকে আমরা ব্যক্তিস্বাধীনতা বলবো, একটু আকটু হয় বলে সমাজের সকলকে এই ক্যাটাগরীতে দেখিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলবো। সামান্য পাওয়া না পাওয়া নিয়ে সুইসাইড করলে, জীবনের অর্থ না পেয়ে হতাশ হয়ে গেলে সুখন ভাইদের দিয়ে মোটিভেশনাল স্পিচ দেয়াবো, “কিভাবে এই দুনিয়ায় সফল হতে হয়?” তবে পরকালের ব্যাপারটা সব সময় পাশ কাটিয়ে, ঘৃণা দেখিয়ে চলে যাবো। তোমাদের নীতি নৈতিকতা বলতে যখন কিছুই থাকবে না তখন টিভি পত্রিকায় টকশো কলামে বড় বড় আর্টিকেল ছেপে দেখাবো, ডিবেট করে প্রমাণ করবো এর পিছনে মনোবিজ্ঞানের অমুক জীন দায়ী। তবুও আমরা কখনো আমাদের দ্বীমুখী নীতি স্বীকার করবো না, নিজেদের ভণ্ডামি ছাড়তে চাইবো না আমরা যে কতটা অন্ধ গোঁড়া তা মানতে চাইবো না। যত যাই হোক, চূড়ান্ত সমাধান যে আসলে একটাই- “ইসলাম” সেটা কখনই প্রয়োগ ঘটাতে চাইবো না, তা নাহলে আমাদের মুখোশ যে খুলে যাবে। হ্যা আমরা এমনই, আমরাই তোমাদের সমাজ…
.
Post Courtesy: Mahfuj Alamin

শেয়ার করুনঃ
ষোলো – ফেব্রুয়ারি সংখ্যা ২০২১

ষোলো – ফেব্রুয়ারি সংখ্যা ২০২১

আজ তারা ভালোবাসার সংজ্ঞাই পাল্টে ফেলেছে। ভালোবাসাকে করে ফেলেছে ভ্রষ্টদের নষ্টামোর সমার্থক শব্দ।
.
আজ তারা ভালোবাসার গল্প বলে, কাছে আসার গল্প বলে। তাদের এই গল্পগুলো দুনিয়াতে কেমন পুরস্কার বয়ে আনে তা আমরা দেখেছি। রাস্তার পাশের ডাস্টবিন থেকে ছাত্রী হলের ট্রাংক, সবকিছুই তাদের কাছের আসার গল্পের স্বাক্ষ্য দেয়। পরকালীন পরিণতি কী হতে পারে তা আর নাই-বা বললাম।
.
পশ্চিম থেকে আমদানিকৃত এই বেহায়াপনা কখনোই ভালোবাসা ছিল না। প্রেমিকার জন্য বিশ্ব সংসার তন্য তন্য করে ১০৮টি নীল পদ্ম খুঁজে আনা কিংবা দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে লাল কাপড় বাঁধা ভালোবাসা নয়। ভালোবাসা এগুলো থেকে মুক্ত, পবিত্র। ভালোবাসা একটি ইবাদাত।
.
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসাও ভালোবাসা, ভাইয়ের জন্য ঝগড়াটে বোনের ভালোবাসাটাও ভালোবাসা। আবার আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসাও ভালোবাসা। বরং এটা এমন এক ভালোবাসা, যা আমাদেরকে সেইদিন আরশের ছায়ায় স্থান করে দেবে যেইদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া থাকবে না। এটা এমন এক ভালোবাসা, যার পুরস্কার দেখে নবিরা পর্যন্ত ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়বেন।
.
ভালোবাসার ব্যাকরণ ভুলে যাওয়া আমাদের এই নতুন প্রজন্মকে ভালোবাসার আদি ও অকৃত্রিম পাঠ মনে করিয়ে দিতেই আমাদের এবারের আয়োজন ছিল ভালোবাসা নিয়ে। ভালোবাসার নাম ভাঙিয়ে চলা অশ্লীলতা আর বেহায়াপনার কাউন্টার দেওয়া এবং প্রকৃত ভালোবাসার ব্যাপকতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আমরা। আল্লাহ আমাদের এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমীন।
.
এবারের সংখ্যায় আমরা একটি #ঐচ্ছিক_মূল্য নির্ধারণ করেছি, #পঁচিশ_টাকা। এমনিতে #ফ্রি থাকছে। তবে কেউ চাইলে কিনেও নিতে পারবে। এই টাকা দিয়ে আমরা কী করবো? বিভিন্ন ক্যাম্পেইনে কাজে লাগাবো। কীভাবে কিনবে ভাবছো? ফর্ম পূরণ করো এই লিংকে– https://forms.gle/3znRJYqTJ9jhit418
অতঃপর ম্যাগাজিন ডাউনলোড করে নাও এই লিংক থেকে– rebrand.ly/SholoFebruary
.
আমাদের ভালোবাসাগুলো হোক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, হোক জান্নাতের পাথেয়। ভালোবাসা রইলো ষোলো’র প্রতিটি পাঠক এবং পাঠিকার জন্য। উহিব্বুকুম ফিল্লাহ!
———-
বরাবরের মতোই এই মাসেও

ষোলো

 পেইজের ভাইয়েরা নিয়ে এসেছে মাসিক ম্যাগাজিন। এবারের সংখ্যাটি ভালোবাসা নিয়ে। আশাকরি এই ম্যাগাজিন দ্বারা আপনারা খুবই উপকৃত হবেন। ইনশা আল্লাহ।

#ভালোবাসা_দিবস
#ভ্যালেন্টাইন
#ষোলো
#ম্যাগাজিন

শেয়ার করুনঃ