কুড়ানো মুক্তো (দ্বিতীয় পর্ব)

শয়তানকে ঠেকানো অনেকটা হাত দিয়ে জলস্রোত ঠেকানোর মতো। ইস্তেগফার আর সর্বোচ্চ সতর্কতা ছাড়া বাঁচার উপায় নাই।

যৌনতা প্রকাশকারী অশ্লীল মেয়েদের চেয়ে ভয়ঙ্কর কিছু রাস্তায় আছে বলে মনে হয়না। অথচ তাঁরা মনে করে সৌন্দর্য প্রকাশের অধিকার তাদের আছে। আর মাত্রই দেখলাম শিশু বিবাহ বন্ধের ডাক দিয়ে বলা হচ্ছে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে না। এটা আপনি বলতেই পারেন কিন্তু একটা মেয়ে কম বেশি ১২ বছরের পর যে আর শিশু থাকে না তা বোধকরি কারও অজানা নয়। পারলে সে প্রক্রিয়াটা ঠেকিয়ে দেন না! পারবেন প্রতি  মাসের পুর্নিমাকে হাত দিয়ে আড়াল করতে?

ছেলেরা ১৪ বছর বয়স থেকে পরিণত যদিও আইন তাকে শিশু বলে। আইনে বলা শিশু যে আসলে কি ধুর্ত সিংহ সেটা তার খপ্পরে না পড়লে বোঝা যায় না। দেখেন মানুষের বিবেচনা বুদ্ধি এক আর যিনি মানুষের স্রষ্টা তার বিবেচনা আর বুদ্ধি আরেক। তিনিই তৃষ্ণা সৃষ্টি করেছেন আবার তিনিই পানির ব্যাবস্থা করেছেন। এখন কেউ যদি বলে যতই তৃষ্ণার্ত  হও পানি পাবে না বাতাস খাও, হবে? হবে না। দেখেন বোনেরা এটা এমন একটা বাস্তবতা যে মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই এমন।

আমি একটা বাস্তব উদাহরন দিই। একটা নামকরা বিশাল গৌরবপুর্ন ঐতিহাসিক ইউনিভার্সিটিতে আমার কিছু বন্ধু ছিলো। একদিন তাদের আবাসিকে গিয়ে দেখলাম মোবাইলে কিছু ভিডিও দেখছে। কিসের জানেন? মোবাইলের ক্যামেরা অন করে সবার অগোচরে ধারন করা মেয়েদের শরীরের ভিডিও। বুঝেন এবার সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারীদের ক্ষুধা কত তীব্র। ও হ্যাঁ আমার ভার্সিটিতেও যে এমন কিছু ছিলো না এমন না। মেধাবীদের বুদ্ধি জানেনতো ! সে তো ছিলো ২০০৭ এখন ২০১৬। অগ্রগামী টেকনোলজির সুবিধা কোথায় চলে গেছে! সাথে গেছে চাহিদাও।

বোনেরা! এই বিষয় নিয়ে লেখার কোনদিন ইচ্ছা হয়নি। কিন্তু রাস্তায় চলতে ভীষন কষ্ট হয়। ডানে বামে সামনে কোথাও আপনারা  কোন সুযোগ রাখেননি। সবসময় নিচে তাকিয়ে চলা সহজ নয়। আপনার উপর অনিচ্ছাকৃত একটা দৃষ্টি হয়ত মাফ হবে কিন্তু তার প্রভাব অন্তর জালিয়ে দেয়। যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে এমন কোন মেয়েকে জিজ্ঞেস করুন জোর করে যার নিকাব খুলে নেওয়া হয়েছে অতঃপর তার অন্তরের কি অবস্থা হয়। বিশ্বাস করেনআপনার নগ্নতা আমাদের আনন্দ দেয় না, আযাব দেয়।

বোনেরা! বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে যেহেতু এড়ানোর উপায় নাই। লক্ষাধিক পিপাসিত যুবকের মাঝে নিজের সৌন্দর্যকে প্রকাশ করে যৌনতাকে উস্কে দেওয়ার কোন মানে নাই। জান্নাতের সুধাতো দুরের কথা ঘ্রানও কিন্তু জুটবে না।

 [ সংগৃহীত ]

যে দু’চোখ দিয়ে মুভি, নাটক, পোস্টার, বিলবোর্ড, পত্রিকা, বিজ্ঞাপন আর স্ক্রীনে নারীদের সম্মান হরণ করা হয় প্রতিদিন-প্রতিক্ষণ, তোমার সেই দু’চোখ যে ধর্ষকেরই চোখ তা তোমাকে কেউ বলে দিবে না। কেউ তোমাকে বলে দিবে না যে তোমার জঘন্য ঐ দুই চোখ ব্যভিচারী চোখ।
.
ছেলে তুমি সাবধান!

সুরা নূরের ৩০ নং আয়াতে তোমার সর্বশক্তিমান প্রতিপালক, প্রজ্ঞাময় ন্যায় বিচারক তোমাকেই তোমার দৃষ্টি সংযত রাখার “আদেশ” করেছেন, ওইটুকু মনেগেঁথে রেখে আগে নিজে ঠিক হও, পশু থেকে  মানুষ হও, তাহলেই হবে। তোমার কাছ থেকে তোমার ব্যাপারে ৩০ নং আয়াতেরই হিসেব নেয়া হবে এটা ভুলে যেও না। কক্ষণো না।
.
কুরআনে কোনকিছুই এমনি এমনি নেই। ছেলেদেরকে এমনি এমনি খেলাচ্ছলে আগে আদেশ করা হয়নি। ৩১ নং আয়াতে যাবার আগে ৩০ নং আয়াতটাকে জীবনে প্রতিষ্ঠা করে নাও ছেলে। ৩১ নং আয়াতে যাদেরকে আদেশ করা হয়েছে তাদের হিসেব তাঁরা দিবেন। তাঁরা সেই আদেশ মেনে না চললে তোমার কিছুই করার নেই। তুমি বড়জোর তাদেরকে আয়াতটা জানাতে পারো, দু’আ করতে পারো নিজের আম্মু, বোন, স্ত্রী আর কন্যার জন্যে। এইতো!
.
তবে তারা সেটা না মানলেও মনে রেখো, তুমি কিন্তু তোমাকে করা আদেশটুকু মানতে বাধ্য। যারা আয়াতটার আদেশ লঙ্ঘন করেন তাদেরকেও তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে তুমি বাধ্য। এইটা ভুলে গিয়ে তাদের করণীয় কর্তব্য নিয়ে রগ ফুলিয়ে বিতর্ক করে নিজের কর্তব্যকে এড়িয়ে গিয়ে জাস্টিফাই করবার দুঃসাহস তুমি করতেই পারো, কিন্তু তাতে ছাড় তুমি পাবে না, একটুও না, এইটুকু জেনে রাখো। যেসব কন্যা, স্ত্রী, মা কিংবা বোনের সম্মান তুমি নষ্ট করেই যাচ্ছো প্রতিদিন, তুমি কি মনে করেছো তার পইপই করে হিসেব নেয়া হবে না? তোমারই দু’চোখ সবচাইতে ভয়ংকর দিনে তোমার বিপক্ষেই সাক্ষী দিয়ে তোমারই মহাধ্বংসের কারণ হবে না? এত্তো সোজা?
.
ভাইরে, নিজের হিসেব নিয়ে চিন্তিত হও। নিজে ঠিক হও।

[ সংগৃহীত]

 

কোথাও কেউ নির্যাতিত হবে তখনই শাহবাগীরা কিংবা বিবিসির মত এন্টিইসলামিক গ্রুপগুলো ইসলামিক রুলিংস টেনে আনবে । তনু হত্যার ঘটনায় শাহবাগীরা তাদের ইভেন্টের ইন্ট্রোতে খেঁজ কাটা কুমিরের গল্পের মত হিজাবকে টেনে আনছে। আবার বিবিসির মত তুখোড় (!!) মিডিয়াও যখন বলে হিজাব করেও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি, তখন এদের ভন্ডামিগুলো বুঝা যায়। অথচ ইসলামিক রুলিংসগুলো একটা আরেকটার সাথে এমনভাবে যুক্ত যে একটা ব্রেক করলে অন্যটির সাথে ভারসাম্য হারাবে। ইসলাম কমপ্লিট কোড অব লাইফ। চুজ এন্ড পিক মেন্টালিটি নিয়ে প্র্যাকটিস করতে গেলে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

গতবছর পহেলা বৈশাখের ঘটনায়ও মুক্তমনা!! ভন্ডরা মূল ঘটনা রেখে ইসলামিক রুলিংসের বিরোধিতা করছিল । সে সময়ের জুবায়ের ভাইয়ের লেখাটা বর্তমানের জন্য সত্য–

” নারী সংক্রান্ত যেকোন আলোচনায় অবধারিতভাবে যে কথাটি উঠে আসবে তা হল-“অমুক অমুক বিধান মেনেও তো মেয়েরা তমুক তমুক সমস্যায় পড়ে”। এটা হল শয়তানের শয়তানি, চালবাজের চালবাজি আর ইসলামকে ফিশিং গেম জ্ঞান করে চুজএন্ড পিকের ফল।

আগেও বলেছি, ইসলামের বিধানগুলো একটা অন্যটার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা মানলে সমস্যা থেকেই যাবে। মাহরাম ছাড়া নারীরা সফর করবে না

এটাই আদেশ, তাই বলে মাহরামকে নিয়ে যেখানে খুশি যাব আর সমস্যায় পড়ব না, তা না। কোনখানে যাওয়া যাবে আর কোনখানে যাওয়া যাবে না সেই ব্যাপারেও ইসলামের কিছু বলার আছে। টিএসসিতে নিগৃহীত হওয়া নারীর সাথে তার স্বামী ছিল, এই তথ্য মাহরাম থাকার প্রয়োজনীয়তা কমায় না। যেমাহরাম আপনাকে নিয়ে বখাটেদের ভিড়ে গমন করায়, সে আবার কীসের প্রটেক্টর?

ফ্রি মিক্সিং এর স্বর্গরাজ্যে স্বেচ্ছায় নিজেকে ভাসিয়ে দিলে শুধু স্বামী কেন, বাকি তেরজন মাহরাম সাথে থাকলেও বিপদ এড়ানো যাবে না। প্রথমত এবং প্রধানত, মেয়েরা ঘরের ভেতর থাকবে এটাই

আল্লাহ’র হুকুম।শরীয়তসম্মত জরুরতে যখন বেরোবে তখন আপাদপমস্তক আবৃত থাকবে, নো সাজসজ্জা, নো পারফিউম; আর দূরত্ব বেশি হলে মাহরাম সাথে থাকা মাস্ট।

এই অবধি বলার পর শয়তান আরেক যুক্তি এনে হাজির করবে-“অথচ মেয়েরা নিজের ঘরেও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, তবে ঘরে থেকে লাভটা কী?”

আল্লাহর ওয়াস্তে অন্তরের ধুলো সরান। মেয়েরা ঘরেও হ্যারসড হয় বটে। কাদের দ্বারা হয়?

– খালাতো- মামাতো-চাচাতো ভাই, দুঃসম্পর্কের চাচা-মামা ইত্যাদি দ্বারা।

ইসলাম কিন্তু এও বলে দিয়েছে মেয়ের ঘরে এরা অ্যালাউড না, এরা গায়েরে মাহরাম, এদের সামনে দেখা দেওয়া যাবে না। অথচ কী অবলীলায়  একঘরে তাদের রেখে বাপ-ভাই রা বেরিয়ে যায় বাসা থেকে, আর দুর্ঘটনা ঘটলে দোষ নাকি মোল্লাদের। এদের মস্তিষ্কে কী পরিমাণ আচ্ছাদন পড়েছে!

[ সংগৃহীত] ]

রাতে পর্ণ দেখে অপবিত্র শরীরে ঘুমালে। সকালে ক্লাসের মেয়েদের শরীর নিয়ে চর্চা করলে। রাস্তা ঘাটে চোখ দিয়ে নানা কিছু দেখে খায়েশ মেটালে। বন্ধুদের আড্ডায় আরেক জনের বোনকে নিয়ে যা ইচ্ছা তারই চর্চা করলে। বিকালে এসে ফেসবুকে তনু ধর্ষণের বিরুদ্ধে লেখা স্ট্যাটাসে লাইক দিলে এবং প্রতিবাদী ফেসবুক ইভেন্টগুলোতে going দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর গিললে।

না, এত সহজ নয়। যুবক! তোমার ঝামেলা আছে। তোমার অন্তরে মারাত্মক ব্যাধি আছে। ভাল হও, ভাল হবার ভাণ ধরো না। কারণ তোমার প্রতিদিনকার আচরণে মনে হয়না আমাদের বোনেরা তোমার কাছে নিরাপদ।

[ সংগৃহীত]

চলবে ইনশা আল্লাহ …

কুড়ানো মুক্তো (প্রথম পর্ব) – https://bit.ly/2oZCWEn

কুড়ানো মুক্তো (তৃতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x3aGoY

কুড়ানো মুক্তো (চতুর্থ পর্ব) – https://bit.ly/2x8qyWv

কুড়ানো মুক্তো (পঞ্চম পর্ব)- https://bit.ly/2x33lpc

আপেক্ষিক নৈতিকতা ও পেডোফিলিয়া

আপেক্ষিক নৈতিকতা ও পেডোফিলিয়া

কিছুদিন আগে টিএসসির ভাইরাল হওয়া ছবির প্রসঙ্গে বলেছিলাম নৈতিকতার মানদন্ডের গুরুত্বের কথা। কোন মানদন্ডের ওপর ভিত্তি করে আমরা কোন কিছুকে ভালো বা খারাপ বলবো? আমরা কি মানদন্ড হিসেবে নেবো প্রচলন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কিংবা কোন নির্দিষ্ট অঞ্চল বা জাতির ঐতিহ্য বা সংস্কৃতিকে? নাকি একটি সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় মানদন্ড থাকতে হবে। বলেছিলাম – ইসলামের বদলে সামাজিকতা, গ্রহণযোগ্যতা ও ঐতিহ্যকে মানদন্ড হিসেবে নিলে পশ্চিম থেকে আমাদের দিকে এগিয়ে আসা প্রচন্ড ও সর্বব্যাপী নৈতিক অধঃপতনের স্রোতের মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। সময়ের সাথে বদলাতে থাকা নৈতিকতার কম্পাস বাঁধ দিতে পারে না, বরং অধঃপতন আর অবক্ষয়ের কারণ হয়ে ওঠে। পাবলিক পারসেপশান বদলায়, খুব দ্রুতই বদলায়। এক প্রজন্মের কাছে যা অকল্পনীয়, অন্য প্রজন্মের কাছে তাই হয়ে ওঠে স্বাভাবিক। গত এক শতাব্দী জুড়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পাবলিক পারসেপশান এবং জনমত পরিবর্তনের কাজ করে আসছে ম্যাস মিডিয়া। আধুনিক প্রপাগ্যান্ডার জনক এবং আনসাং হিরো ( বা অ্যান্টিহিরো) এডওয়ার্ড বারনেইস তার বই “প্রপাগ্যান্ডা”-তে মিডিয়ার মাধ্যমে সোশ্যাল এঞ্জিনিয়ারিং এর ধাপগুলো তুলে ধরেছেন খুব সহজবোধ্য ও খোলামেলাভাবে।
.
একটা বাস্তব উদাহরণ দেই। গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে ধরে ইন্টারনেটে একটা বিষয় নিয়ে তুলকালাম হচ্ছে। জনপ্রিয় মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম TEDxTalk এর একটি পর্বে মিরজাম হেইন নামে একজন জার্মান মেডিক্যাল স্টুডেন্ট বলেছে – পেডোফিলিয়া বা শিশুকাম একটি অপরিবর্তনীয় যৌন প্রবৃত্তি (unchangeable sexual orientation)। একজন নারী ও পুরুষের পারস্পরিক যৌন কামনা যেমন স্বাভাবিক তেমনি কিছু মানুষ শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষন বোধ করে – এটাও স্বাভাবিক। তাই যারা পেডোফাইল- শিশুকামী – এই তাড়না, এই আকর্ষনবোধের কারণে তাদের দোষারোপ করা উচিৎ না। ভিডিওটি প্রকাশিত হবার সাথেসাথে ব্যাপক তর্কবিতর্ক শুরু হয় এবং তুমুল বিরোধিতার কারণে TEDxTalk বাধ্য হয় তাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে ভিডিও সরিয়ে নিতে।
.
মজার ব্যাপারটা হল শিশুকামের প্রবণতা স্বাভাবিক, অপরিবর্তনীয় এসব বলার পাশাপাশি হেইন এটাও বলেছে যে, শিশুকামের বাস্তবায়ন অপরাধ ও অনৈতিক। অর্থাৎ শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষন থাকা স্বাভাবিক কিন্তু এই কামনা বাস্তবায়িত করা, এই অ্যাট্র্যাকশানের ওপর কাজ করা অপরাধ।
.
এখানেই নৈতিকতার মানদন্ডের ব্যাপারে আমাদের আলোচনা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
.
পেডোফিলিয়া যদি নারীপুরুষের পারস্পরিক শারীরিক আকর্ষনের মতোই যদি স্বাভাবিক এবং অপরিবর্তনীয় বিষয় হয় তাহলে এই আকর্ষনের ওপর আমল করা কেন অপরাধ হবে? কারণ একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যখন কোন শিশুর সাথে যৌনতায় লিপ্ত হয় তখন ব্যাপারটা দুজনের সম্মতিতে হয় না। অর্থাৎ এটা অপরাধ কারণে এখানে পারস্পরিক সম্মতি (Consent) অনুপস্থিত। একই কারণে পশুকামও অপরাধ, কারণ এক্ষেত্রেও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যৌনকর্ম হচ্ছে না। সম্মতি একপাক্ষিক। এটা হেইনের উত্তর। যদিও পশ্চিমের অনেকেই এখন তার বিরোধিতা করছে, কিন্তু যৌনতার ব্যাপারে আধুনিক পশ্চিমের ধারণা অনুযায়ী এ উত্তর সঠিক।
.
চিন্তা করে দেখুন, বিবাহবহির্ভূত সেক্স (যিনা), সমকামিতা, উভকামিতা, সুইঙ্গার সেক্স, হুকআপ কালচার (বহুগামীতা), গ্রুপসেক্সের মতো যৌনবিকৃতিগুলোর পক্ষে উদারনৈতিক পশ্চিমের ডিফেন্স কী?
.
“আমরা তো কারো ক্ষতি করছি না!”
.
“যতোক্ষন পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিয়ে কিছু করছি, ততোক্ষন কী সমস্যা?”
.
“ভালোবাসা কোন বাঁধা মানে না”
.
“দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যা ইচ্ছে করার অধিকার আছে, এবং এতে হস্তক্ষেপ করার স্বাধীনতা কারো নেই”
.
“আমার এ ব্যাপারটা (যেকোন যৌনবিকৃতি) জন্মগত”
.
মূলত এধরণের উত্তরই বিভিন্নভাবে আমরা শুনে আসছি। সুতরাং পেডোফিলিয়ার ব্যাপারে মিরজাম হেইন যা বলেছে তা পুরোপুরিভাবে পশ্চিমের এ দৃষ্টিভঙ্গি – এ মানদণ্ডের – সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
.
এখন প্রশ্ন করতে পারেন – এ মানদন্ডে সমস্যা কোথায়? হ্যাঁ এটা ইসলামের নৈতিকতার সাথে যায় না, কিন্তু পারস্পরিক সম্মতির শর্ত দিয়ে তো অ্যাটলিস্ট শিশুকামিতা ও পশুকামিতার মতো ব্যাপারগুলো আটকানো যায়, এটাই বা কম কিসে?
সমস্যা হল, এ শর্ত দিয়ে শিশুকামিতাকে আটকানো যায় না। ব্যাখ্যা করছি।
.
বলা হচ্ছে – শিশুর সাথে সেক্স একটি অপরাধ এবং অনৈতিক কাজ কারণ এখানে উভয়পক্ষের পারস্পরিক সম্মতি (consent) নেই।
পারস্পরিক সম্মতি নেই কেন?
.
কারণ একটা নির্দিষ্ট বয়সের আগে, বয়ঃপ্রাপ্ত হবার আগে শিশুর মধ্য যৌনতার ধারণা গড়ে ওঠে না। যেহেতু শিশুর মধ্যে যৌনতার ধারণা, নিজের যৌনতা সম্পর্কে সচেতনতাই নেই। তাই তার পক্ষে কোন যৌনকর্মে সম্মতি দেয়া (consent করা) সম্ভব না। অতএব শিশুর সাথে সেক্স আবশ্যিকভাবেই সম্মতি ছাড়া হচ্ছে, তাই এটি একটি অনৈতিক ও অপরাধ। যেমন একজন নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া যৌনকর্ম করা রেইপ।
রাইট?
রং।
.
এ পুরো যুক্তির ভিত্তি হল “Consent” – সম্মতি। যদি আমি প্রমাণ করতে পারি যে এখন শিশুর যৌনতার ব্যাপারে সম্মতি দেয়ার মতো ম্যাচিউরিটি আছে, তাহলে কি এ যুক্তি আর দাড়াতে পারবে?
.
যদিও এখনো বিষয়টা ঠিক এভাবে আলোচনা করা হচ্ছে না, কিন্তু শিশুরাও যে “যৌনতা সম্পর্কে সচেতন” এটা অলরেডি পশ্চিমা অ্যাকাডেমিয়া এবং মিডিয়া সুপ্রতিষ্ঠিত একটি বিষয়। বিশ্বাস হচ্ছে না?
.
সেই পঞ্চাশের দশক থেকেই পশ্চিমা মনোবিজ্ঞানের অবস্থান হল শিশুরা জন্ম থেকেই যৌনতা সম্পর্কে সচেতন। যৌনতা সম্পর্কে আধুনিক সেক্সোলজির জনক ড. অ্যালফ্রেড কিনসি এবং আরেক মহারথী ড. জন মানির অবস্থানের দিকে তাকালেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যায়। এ দুজনের অবস্থানের সারসংক্ষেপ হল –
.
১) জন্মের পর থেকেই শিশুরা যৌনতা সম্পর্কে সচেতন, সেক্সুয়ালি অ্যাক্টিভ এবং যৌনসুখ অর্জনে সক্ষম।
২) ১০-১১ বছর বয়েসী শিশু যৌন আকর্ষন অনুভব করতে পারে। তুলমামূলক ভাবে বয়স্ক কোন ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন – শিশুর জন্য নেতিবাচকই হবে এমন কোন কথা নেই।
.
[রেফারেন্স ও বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন, ১) মিথ্যের শেকল যত, মুক্তো বাতাসের খোঁজে, ইলমহাউস পাবলিকেশন, ২) “পাঠক সাবধান! ভয়ের জগতে প্রবেশ করছো তুমি!! ফলো দা মানি – https://bit.ly/2FiZ03e]
.
যদি কিনসি আর জন মানির দেয়া যৌনতার ধারণা গ্রহণ করা হয় – যদি মানব যৌনতার ব্যাপারে আধুনিক পশ্চিমা চিন্তার মূলনীতিগুলো মেনে নেয়া হয় – তাহলে আর এ যুক্তি দেয়া যায় না যে শিশুকাম একটি অপরাধ কারণ শিশুদের পক্ষে Consent করা বা যৌনকর্মে সম্মতি দেয়া সম্ভব না। যদি কেউ যৌনতা সম্পর্কে সচেতন হয়, যৌনসুখ অর্জনে সক্ষম হয় এবং সক্রিয়ভাবে যৌনকর্মে অংশগ্রহণ করতে পারে, তাহলে সে সম্মতি কেন দিতে পারবে না?
.
শিশুকামের পক্ষে প্রচারণা চালানো অ্যামেরিকান ও ইউরোপিয়ান বিভিন্ন সংস্থা সত্তরের দশক থেকে ঠিক এ যুক্তিই ব্যবহার করে আসছে। দেখুন অ্যামেরিকান সমকামি শিশুকামি সংস্থা NAMBLA – North American Man Boy Love Association এর সদস্যদের বক্তব্য – https://www.youtube.com/watch?v=Ygrd29-_O3I
.
এতো গেল অ্যাকাডেমিয়ার কথা। সাধারণ মানুষের কী অবস্থা? অধিকাংশ সময়ই অ্যাকাডেমিকদের তত্ত্বকথার কচকচির সাথে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের তেমন কোন সম্পর্ক থাকে না। এক্ষেত্রেও ব্যাপারটা কি এরকম? সাধারণ মানুষও কি মনে করছে একজন শিশু যৌনতা সম্পর্কে সচেতন, নিজের যৌনতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম ?
.
জি মনে করছে। কিংবা বলা ভালো তাদের মনে করানো হচ্ছে। এব্যাপারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর জন্য মিডিয়া, এডুকেইশান সিস্টেম, পশ্চিমা সরকার এবং গ্লৌবাল অর্গাইনাইযেইশানগুলো (ইউএন, WHO ইত্যাদি) পুরোদমে কাজ করছে। ব্যাপারটা সম্ভবত আপনারও চোখে পড়েছে, তবে হয়তো কানেকশানটা ধরতে পারেননি।
.
গত দশ বছরে ট্র্যান্সজেন্ডার আইডেন্টিন্টি নিয়ে ঘটে যাওয়া ব্যাপারগুলো একটু মনে করার চেষ্টা করুন তো! কিছু শিরোনাম আবার মনে করিয়ে দেই –
.
“ব্রিটেনের প্রথম জেন্ডার ফ্লুয়িড পরিবার: বাবা নিজেকে নারীতে পরিণত করছেন, মা নিজেকে পুরুষ মনে করেন, আর ছেলে বড় হচ্ছে জেন্ডার নিউট্রাল হিসাবে”।
.
নিউ ইয়র্কে আইনি ভাবে ৩১ টি লৈঙ্গিক পরিচয়কে (Gender Identity) স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
.
ব্রিটিশ ডিপার্টমেন্ট স্টোর জন লুইস ঘোষণা করেছে তারা বাচ্চাদের পোশাক আর “ছেলে” বা “মেয়ে” ট্যাগ দিয়ে আলাদা করবে না। এখন থেকে তারা বাচ্চাদের শুধু “Unisexz”/”Gender Neutral” পোশাক বিক্রি করবে।
.
২০১৭ এর মার্চে টাইম ম্যাগাযিন মানুষের মৌলিক পরিচয় ও যৌনতার পরিবর্তনশীল সংজ্ঞার এ যুগ নিয়ে কাভার স্টোরি করেছে। Beyond ‘He’ or ‘She’: The Changing Meaning of Gender and Sexuality – শিরোনামের এ লেখায় সমকামী অধিকার নিয়ে কাজ করা অ্যাডভোকেসি গ্রুপ GLAAD এর একটি জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে অ্যামেরিকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ এখন আর নিজেদের সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক যৌনাচারে আকৃষ্ট (Heterosexual) অথবা সম্পূর্ণ ভাবে সমকামিতায় আকৃষ্ট মনে করে না। বরং “মাঝামাঝি কিছু একটাকে” বেছে নেয়। একইভাবে অ্যামেরিকান তরুনদের এক-তৃতীয়াংশ “পুরুষ” বা “নারী” হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয় না।
.
[রেফারেন্স ও বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন – “পাঠক সাবধান! ভয়ের জগতে প্রবেশ করছো তুমি!! ফলো দা মানি – https://bit.ly/2FiZ03e]
.
কিছুদিন আগে বাংলাদেশের ডেইলি স্টার তাদের সাপ্তাহিক সাপ্লিমেন্ট “Lifestyle” এ Gender fluidity/ Gender Neutrality – কে সমর্থন করে কাভার স্টোরি করেছে। [লিঙ্ক – https://bit.ly/2OngXCN]
.
নার্সারির বাচ্চাদের জেন্ডার ফ্লুয়িডিটির ব্যাপারে ক্লাস নিচ্ছে ড্র্যাগ কুইনরা। [https://nbcnews.to/2tkr4P2]
.
ব্রিটেনে প্রতি সপ্তাহে ৫০ জন শিশুকে Gender Dysphoria ও Gender Change সঙ্ক্রান্ত ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে, যার মধ্যে ৪ বছর বয়েসী শিশুও আছে। শিশুদের মধ্যে লিঙ্গ পরিবর্তন অপারেশন বৃদ্ধি পাচ্ছে। [https://bit.ly/2LUsKai]
.
সংক্ষেপে ট্র্যান্সজেন্ডার আইডিওলজির মূল কথা হল – মানুষের ধরাবাঁধা কোন যৌনতা ও লৈঙ্গিক পরিচয় নেই। এ ব্যাপারটা একটা স্পেক্ট্রাম একটা রংধনুর মতো (হ্যাঁ এই জন্যই রংধুন সিম্বল ব্যবহার করা হয়)। কোন কিছু সাদাকালো না। এখানে আছে অনেক, অনেক রং। যে কোন মানুষ বা শিশু যদি বলে সে একজন নারী হিসেবে, বা পুরুষ হিসেবে, বা অন্য কোন “কিছু” হিসেবে পরিচিত হতে চায়, তবে তাই ধরে নিতে হবে। সে শারীরিকভাবে, জন্মসূত্রে যাই হোক না কেন!
.
মজার ব্যাপার হল ট্র্যান্সজেন্ডার মুভমেন্টের পক্ষে দেয়া যুক্তিগুলো দিয়ে খুব সহজে সমকামিতার পক্ষে দেয়া যুক্তিগুলো খন্ডন হয়ে যায়। সমকামিতার পক্ষে বহুল ব্যবহৃত একটি যুক্তি হল কিছু মানুষ জন্মগতভাবেই সমকামি হয় (‘born this way’)। আবার অনেকে বলার চেষ্টা করে একটি বিশেষ জিন (the gay gene) আছে যার কারণে কিছু মানুষ সমকামি হয়ে জন্মায়। অর্থাৎ তারা দাবি করে সমকামিতদের যৌনতা বায়োলজিকালি নির্ধারিত।
.
আবার দেখুন ট্র্যান্সজেন্ডার উন্মাদনার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে এরা বলছে যৌনতা, লৈঙ্গিক পরিচয়, এসবই পরিবর্তনশীল। কোন কিছুই পাথরে লেখা। যে নারী হিসী জন্মেছে সে একসময় পুরুষ হতে পারে, যে নারীদের প্রতি আকর্ষনবোধ করতো একসময় সে আকর্ষনবোধ করতে পারে পুরুষের প্রতি। এগুলো খুবই স্বাভাবিক ইত্যাদি। যদি তাই হয়, তাহলে নিশ্চয় সমকামিতা জন্মগত হতে পারে, যেহেতু জন্মগত লিঙ্গকেই স্বীকার করা হচ্ছে না। সমকামি জিন বলেও তাহলে কিছু থাকতে পারে না। এই যুক্তি অনুযায়ী সমকামিতা, উভকামিতা, পশুকামিতা, কিংবা নারী পুরুষের স্বাভাবিক যৌনতা – কোন কিছুই জিনগত না, বায়োলজিকালি নির্ধারিত না। এসবই এগুলো বদলাতে পারে। যার অর্থ একজন সমকামি, একসময় সমকামিতা থেকে বের হয়ে আসতে পারে। আর যদি সাধারণভাবেই একজন সমকামি সমকামিতা থেকে বের হয়ে আসতে পারে, তাহলে ট্রিটমেন্টের মাধ্যমেও এটা করা সম্ভব। অর্থাৎ ট্র্যান্সজেন্ডার উন্মাদনার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে মিলিট্যান্ট সেক্যুলারিযম সমকামিতার পক্ষে চালানো নিজেরদের প্রপাগ্যান্ডাকেই খন্ডন করে বসে আছে। তাদের এক কথা আরেক কথার সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। অসংলগ্ন ধ্যানধারণা ও মতাদর্শের মধ্যে এ প্যাটার্নটা বারবার দেখতে পাবেন।
.
লক্ষণীয় বিষয় হল এখানে সত্যিকারের ইন্টারসেক্স বা ট্রু হারমাফ্রোডাইটের কথা বলা আচ্ছে না। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী প্রতি ২০০০ জনে ১ জন True Hermaphrodite বা intersex ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। জনসংখ্যার ০.০৫%। অর্থাৎ এরা এমন মানুষ সংখ্যায় খুবই কম। ট্র্যান্সজেন্ডার মুভমেন্টে এমন মানুষ/শিশুদের কথা বলা হচ্ছে যাদের শারীরিক কোন সমস্যা নেই। শারীরিকভাবে তারা পুর্নাংঙ্গ নারী বা পুরুষ। কিন্তু তারা মনে করেছে তারা ভুল দেহে আটকা পড়েছে। মিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী চার বছর বয়েসী শিশুদেরও এখন এমন মনে হচ্ছে, এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ফ্রি-তে এমন ওষুধ দিচ্ছে যেগুলো তাদের স্বাভাবিক বয়ঃসন্ধিকে বিলম্বিত বা বন্ধ করবে (Puberty Blockers – horomone therapy) [https://to.pbs.org/2uUu1rt, https://bit.ly/2K1zjpy]
ট্র্যান্সজেন্ডার উন্মাদনা নিয়ে কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড রিডিং এর জন্য দেখুন –
.
নিচে দুটো দশ বছর বয়েসী ছেলের ভিডিও দিচ্ছি যারা দাবি করছে ২ এবং ৩ বছর বয়স থেকে “ড্র্যাগ” করা শুরু করেছে। এ বয়সেই তারা আবিষ্কার করেছে যে তাদের স্বাভাবিক শারীরিক পরিচয়ের বাইরেও তাদের মধ্যে অন্য একটি “সত্ত্বা” আছে। ড্র্যাগ (Drag) হল পশ্চিমা সমকামিদের একটি সাবকালচার যেখানে সমকামি পুরুষরা নারীদের মতো ড্রেসআপ ও মেইকআপ করে বিভিন্ন ধরণের স্টেইজ শো – রানওয়ে, গান, নাচ ইত্যাদি-তে অংশগ্রহণ করে। কাজটা যখন সমকামি পুরুষরা করে তখন তাকে বলা হয় “ড্র্যাগ কুইন”। “ড্র্যাগ কিং” এর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো। সমকামি নারীরা পুরুষের মতো ড্রেসআপ ও মেইকআপ করে। এধরণের অনুষ্ঠানগুলো হাইলি সেক্সুয়ালাইযড হয়ে থাকে। ভিডিওও অংভঙ্গি দেখলেই বুঝতে পারবেন। এবাচ্চাগুলো টিভিতে বড়দের যা করতে দেখেছে তাই কপি করছে।
‘ডেযমন্ড’ – https://www.youtube.com/watch?v=Qk0WA3VlFfA
‘ল্যাকট্যাশিয়া’ – https://www.youtube.com/watch?v=bdCXxUxI-WE
.
[দুটো ভিডিওতেই নানা জাতের অসভ্য মানুষের ফুটেজ আছে, সো নিজ দায়িত্বে দেখবেন বা দেখবেন না। ট্র্যান্সজেন্ডার মুভমেন্টের উন্মাদনার মাত্রা বোঝানো এবং প্রমাণ হিসেবে লিঙ্কগুলো দেয়া। আমি পারসোনালি ভিডিওগুলো দেখতে সাজেস্ট করবো না।]
.
আসুন এবার ডটগুলো মেলানো যাক। পুরো ব্যাপারটা এবার একটু স্টেপ বাই স্টেপ চিন্তা করুন –
১০ বছর বয়েসী বাচ্চারা বলছে তারা ২/৩ বছর বয়েস থেকেই নিজেদের মধ্যে এই ‘সত্ত্বা’ অনুভব করছে। কেউ অনুকরণ করছে ড্র্যাগ কুইনদের, আবার কেউ বলছে সে নিজের নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করতে চায়। অভিভাবক, সমাজ, রাষ্ট্র ও মিডিয়া তাদেরকে সমর্থন করছে, এবং এই বাচ্চাদের “অনুভূতির” ওপর বেইস করে জীবনকে আমূল বদলে দেয়া বিভিন্ন মেডিকাল প্রসিজারের দিকে যাচ্ছে। লক্ষ করুন, এ সিদ্ধান্তগুলোর সাথে যৌনতার ব্যাপার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ৮ বছর বয়েসী একটা ছেলে যদি বলে সে হাইলি সেক্সুয়ালাইযড সমকামি সাবকালচারের সাথে আইডেন্টিফাই করে, অথবা যখন সে বলে সে আসলে পুরুষের দেহে আটকে পড়া একজন নারী – এবং আমরা যখন সেটা মেনে নেই, তখন মূলত আমরা এটাই মেনে নিচ্ছি যে নিজের যৌনতা ও শরীরের ব্যাপারে এ সিদ্ধান্তগুলো দেয়ার মতো ম্যাচিউরিটি তার মধ্যে এসেছে। অর্থাৎ এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার মাধ্যমে আমরা মেনে নিচ্ছি এ বয়েসী একটা বাচ্চার সম্মতি দেয়ার – consent করার – সক্ষমতা আছে।
“নিজের পুরো শরীরকে বদলে ফেলার ব্যাপারে, নিজের লিঙ্গ বদলে ফেলার ব্যাপারে যে মানুষ সিদ্ধান্ত দিতে পারে, কার সাথে শোবে সেই ব্যাপারে সে সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না?”
.
একজন পেডোফাইল যদি প্রশ্ন করে, কী জবাব দেবেন? যদি যৌনতা এবং যৌন বিকৃতির ব্যাপারে পশ্চিমা চিন্তার মূল কাঠামোকে মেনে নেন, যদি আপনি মেনে নেন একটা শিশু তার লিঙ্গ পরিবর্তনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাহলে আপনাকে এটাও মানতে হবে যে এই শিশু তাহলে যৌনকর্মের ব্যাপারেও সম্মতি দিতে পারে। সুতরাং যে যুক্তি দিয়ে মিরজাম হেইন এবং অন্যান্য আরো অনেকে শিশুকামকে অনৈতিক ও অপরাধ বলছেন তা ধোপে টেকে না। ট্র্যান্সজেন্ডার আইডিওলজি আমাদের দেখাচ্ছে যে শিশুরাও যৌনতার ব্যাপারে সচেতন, সক্রিয় ও সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম। এবং এভাবেই যৌনতার ব্যাপারে আধুনিক পশ্চিমা দর্শন – যা আমরা আধুনিকতার নামে গদগদ হয়ে গ্রহণ করেছি – সেটা শিশুকামীতাকে বৈধতা দেবে।
অলরেডি একে বৈধতা দেয়ার থিওরেটিকাল এবং রেটোরিকাল ফ্রেইমওয়ার্ক পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন শুধু প্রয়োজন নিয়মিত কিছু আবেগঘন নভেল, সিরিয়াল, সিনেমা আর দেশে দেশে হাই-প্রোফাইল কিছু শিশু ট্র্যান্সজেন্ডার সেলিব্রিটি। ঠিক দু’দশক আগে যেভাবে সমকামিতার স্বাভাবিকীকরন ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরির জন্য মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয়েছিল, বর্তমানে “ট্রান্সজেন্ডার রাইটস”-এর নামে ঠিক একই কাজ করা হচ্ছে।
[সমকামিতার স্বাভাবিকীকরন কিভাবে হল – https://bit.ly/2vdLmL6]
.
“যৌনতা, ব্যক্তি পরিচয় এসবই আপেক্ষিক। ব্যক্তির স্বাধীন সিদ্ধান্তের বিষয়। একজন মানুষ ভেতরে কেমন তাই মুখ্য। সামাজিক প্রথা আর পশ্চাৎপদতার কারণে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি উচিৎ না। যখন কারো ক্ষতি হচ্ছে না তখন বিরোধিতা কেন?” – এসব আর্গুমেন্টের মাধ্যমে এই বিকৃতি ও অসুস্থতাকে স্বাভাবিক, নির্দোষ কিছু হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এবং একবার এই বিকৃতি গৃহীত হবার পর এই যুক্তি ব্যবহার করে বৈধতা দেয়া হবে পেডোফিলিয়ারও। আমার কথাটা স্মৃতিতে মজুদ করে রাখতে পারেন, বছর দশেক পর মিলিয়ে নেবেন।
.
এই অর্থহীন যৌনমানসিক বিকৃতির জট ইসলামের আলোতে খোলা খুব সহজ। আমরা জানি, আল্লাহ মানুষকে ফিতরাহর (natural disposition) ওপর সৃষ্টি করেছেন। মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা হল বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষন। জীবনের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে প্রতটি মানুষ বয়ঃপ্রাপ্ত (বালেগ) হয়, এবং তখন থেকে সে যৌনতায় সক্রিয় হবার সক্ষমতা অর্জন করে। অঞ্চল, আবহাওয়া ও পরিবেশভেদে এই বয়সের মধ্বেঁযে কিছু পার্ধেথক্য পরিলক্ষিত হয়। সমকামিতা জন্মগত না, স্বাভাবিক না। বরং একটি যৌনমানসিক বিকৃতি। আমরা জানি আল্লাহ ভুল করেন না। কাজেই ভুল করে, ছেলের দেহে মেয়ে বা মেয়ের দেহে ছেলে আটকা পড়েছে – এধরণের কিছু হওয়া সম্ভব না। হয় এটা মানসিক রোগ, বিকৃতি, বাহ্যিক কোন ফ্যাক্টরের প্রভাব (অ্যাবিউয, শক, ট্রমা ইত্যাদি) অথবা সিহর বা জ্বিন শায়াত্বিনের প্রভাব। আর যারা সত্যিকার অর্থে, শারীরিকভাবে ইন্টারসেক্স (ট্রু হারমাফ্রোডাইট) তাদের হুকুম আহাদিস থেকে স্পষ্ট, এবং এটা তাদের জন্য একটি পরীক্ষা।
.
কিন্তু যখনই আপনি পরম মানদন্ডকে ছেড়ে আপেক্ষিকের গলিতে ঢুকে পড়বেন, কোন কূলকিনারা পাবেন না। আপেক্ষিক নৈতিকতা আর সামাজিকতাকে নৈতিকতার মানদন্ড হিসেবে নেয়ার এই হল ফলাফল। যৌনতা এবং যৌনবিকৃতি এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে শক্তিশালী কারণ এ বিষয়গুলো সহজাতভাবে মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। কিন্তু একই ধরণের বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান পশ্চিমা চিন্তা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অন্যান্য ক্ষেত্রেও। পশ্চিমা সভ্যতা তাদের উৎকর্ষের চরমে পৌছানোর পর এখন আছে অবক্ষয় আর অধঃপতনের পর্যায়ে। প্রত্যেক সভ্যতায় এই পর্যায়ে এসে নানান ধরণের যৌনবিকৃতি ও সীমালঙ্ঘন দেখা দেয়। লেইট স্টেইজ ডেকাডেন্স। পশ্চিম এখন এই অবস্থায় আছে। তাদের মধ্যে অনেকে এটা বুঝতেও পারছে। [https://bit.ly/2HtHdsg] কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা মুসলিমরা এখনো অনিমেষ নয়নে মুগ্ধ হয়ে পচতে শুরু করা অতিকায় এই কাঠামোর দিকে চেয়ে আছি। তাদের অনুকরণে নিজেদের উন্নতির স্বপ্ন দেখছি। অথচ সত্যিকারের দিকনির্দেশনা, সত্যিকারের পরশপাথর, পরম মানদন্ড – আল ফুরকান আমাদের হাতের কাছেই। কী বিচিত্র ইচ্ছাঅন্ধত্ব, কী অদ্ভূত আত্মঘৃণা!
====
লেখক- আসিফ আদনান
আমাদের সন্তান পর্ন  দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি)

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি)

যেভাবে বুঝবেন আপনার সন্তান পর্ন আসক্ত:

১) পর্ন দেখার পর সাধারনত ব্রাউযারের হিস্টোরি ডিলিট করে ফেলা হয়। আপনি যদি লক্ষ্য করেন আপনার সন্তান ব্রাউজিং হিস্টোরি ডিলিট করে ফেলছে তাহলে বুঝবেন সে অনলাইনে এমন কিছু করছে যেটা সে অন্য কাউকে দেখতে দিতে চাচ্ছেনা। হতে পারে সে অনলাইনে প্রেম করছে অথবা পর্ন ভিডিও দেখছে। শেষেরটি হবার সম্ভাবনাই বেশী। ২০১২ সালে করা Tru Research এর জরিপ অনুসারে ১৩-১৭ বছর বয়সী টিনেইজারদের ৭১ শতাংশ তাদের ব্রাউযার বা চ্যাট হিস্টোরি মুছে ফেলে যাতে তাদের বাবা মা কোন আন্দাজ করতে না পারে তারা অনলাইনে কী করে।[1]

২) আপনার সন্তান প্রাইভেসী নিয়ে খুবই খুঁতখুতে হয়ে পড়বে। তার নিজের ঘরের দরজা লাগিয়ে রাখবে।

৩) আপনি হুট করে ঘরে ঢুকলে চমকে যাবে। তার মধ্যে অস্বাভাবিক নড়াচড়া লক্ষ করবেন। ক্ষিপ্রগতিতে সে ট্যাব মিনিমাইয করে ফেলবে। ডেস্কটপ ওয়ালপেপারের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে। হাত মাউসের ওপরে রেখে দ্রুত ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ক্লিক করতে থাকবে, পেইজ রিফ্রেশ করতে থাকবে।

“কী করছো?” জিজ্ঞাসা করলে সে লাজুক হাসি হাসবে, এই সেই বলে কথা ঘুরানোর চেষ্টা করবে অথবা রেগে যাবে।

৪) কাঁথা/কম্বলের  নিচে লুকিয়ে লুকিয়ে  মোবাইল ব্যবহার করবে।

৫) রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার করবে। বাইরে ঘোরাফেরা বা খেলাধুলা করার চেয়ে সারাদিন ঘরের কোণে পিসিতে বসে থাকবে।

একদম চুপচাপ হয়ে যাবে। আপনার পাশে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকবে, তেমন কোন নড়াচড়াও করবেন না, কোন কথাও বলবেনা। আপনি তার চেহারায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ করবেন। যেমন- মুখ লাল হয়ে যাবে, জোরে জোরে নিঃশ্বাস পড়বে।

৬) বাথরুমে মোবাইল নিয়ে যাবে। বাথরুমে আগের চেয়ে দীর্ঘ সময় কাটাবে।

৭) পিসির স্ক্রিন দেয়ালের দিকে ঘুরিয়ে নিবে যেন স্ক্রিনে কী চলছে তা দেখা না যায়।

৮) পর্নসাইট ভিজিট করলে সাধারণত পপ আপের পরিমাণ বাড়তে থাকে।  নেট ব্রাউযিং করার সময় আপনি প্রচুর পরিমাণ পপআপ নোটিফিকেশান যন্ত্রণায় ভুগলে ধরে নেবেন  ডালমে কুচ কালা হ্যায়।

৯) যৌনতার প্রতি সে অস্বাভাবিক কৌতূহল দেখাবে। এমনকি আপনি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন।

১০) তার আচার-আচরণে, অঙ্গভঙ্গীতে পর্নস্টারদের অনুকরণের ছাপ থাকবে।

১১) আপনি আবিষ্কার করবেন সে মাস্টারবেট করছে।

এ লক্ষণগুলো থাকলে বুঝবেন আপনার সন্তান পর্ন দেখছে। এর কিছু কিছু অবশ্য (২,৪) এটাও ইঙ্গিত করে যে আপনার সন্তান অন্য কারো সঙ্গে “মনের” লেনদেন করেছে।[2],[3],[4]

পড়ুন-

মৃত্যু? দুই সেকেন্ড দূরে! (প্রথম পর্ব): https://bit.ly/2OcDLF9

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2CMF4sV

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (শেষ কিস্তি): https://bit.ly/2NzPdxm

হৃদয়ের ঋণ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2MmESA9

হৃদয়ের ঋণ (শেষ কিস্তি)- https://bit.ly/2NHUza4

 

রেফারেন্সঃ

[1] Jamie Le, “The Digital Divide: How the Online Behavior of Teens is Getting Past Parents,” – http://bit.ly/2CIHg3i

[2] Warning Signs that Your Teen is Secretly Viewing Porn – http://bit.ly/2Cv9YBH

[3] Warning Signs That a Child May Be Viewing Pornography – http://bit.ly/2qqtWf2

[4] Warning signs that your child might be addicted to porn – https://www.smalley.cc/warning-signs-if-your-child-is-watching-online-porn/

একেই বলে সভ্যতা (প্রথম পর্ব) !!!

একেই বলে সভ্যতা (প্রথম পর্ব) !!!

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

এক.

উত্তর প্রদেশ ।

ইন্ডিয়া ।

নিরিবিলি এক  আখক্ষেতের  মধ্যে  স্কুল পড়ুয়া এক মেয়ে  বসে  আছে ।

একদঙ্গল কামে উন্মত্ত পুরুষ তাকে ঘিরে ধরে আছে । মেয়েটি অসম্ভব কাপছে ,ফাঁদে পড়া হরিণীর মতো  ভীত চোখে  সে বারবার চারপাশে তাকাচ্ছে । মনে ক্ষীণ আশা, কেউ বুঝি তাকে উদ্ধার করবে এই পশুদের হাত থেকে । কিন্তু না,  শেষ রক্ষা হলো না ।  বুনো শুয়োরের মতো   ঘোত ঘোত করে    একজন হেসে উঠলো ।  মানুষরূপী একটা পশু ঝাঁপিয়ে পড়লো অসহায়  মেয়েটার ওপর ।

বিশ্বাস  করতে প্রচন্ড  কষ্ট হয়,  অসহায়  এক মেয়ের ওপর অত্যাচারের এই জঘন্য ঘটনা কেউ ভিডিও করে অনলাইনে আপ্লোড করে দিবে আর হাজার হাজার মানুষ  সেটা দেখে মনের এবং হাতের সুখ মেটাবে । মানুষের পক্ষে কি  এতটা  নিচে নামা সম্ভব  ? যুগ যুগ ধরে মানবতার জয়গান গেয়ে  লিখা সবগুলো কবিতাই কি মিথ্যে ?

কিন্তু বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইন্ডিয়ার উত্তর প্রদেশে  প্রতিনিয়ত  এরকম অসংখ্য ঘটনা ঘটে চলেছে

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে  ভারতের উত্তরপ্রদেশের  দোকানগুলোতে  পুলিশ এবং প্রশাসনের নাকের ডগার নিচে অসহায় মেয়েদের  উপর চালানো অত্যাচারের ভিডিও বিক্রী করা হচ্ছে । প্রতিদিন শত শত , আসলে  শত শত নয় হাজার হাজার রেপ ভিডিও বিক্রি করা হচ্ছে যেগুলোর মূল্য ৫০ রুপী থেকে ১৫০ রুপী ।

এক দোকানে একলোক  কেবল গোঁফ উঠতে শুরু করেছে এমন এক ছোকরাকে বলছে, ” জানিস আমি বোধহয়  এই লেটেস্ট, হটেস্ট ভিডিওর এই মেয়েকে চিনি” । ভিডিওটাতে সদ্য বিশের কোঠা পার হওয়া  এক মেয়ের উপর দুইটা পশু অত্যাচার করছে । অসহায় মেয়েটির কন্ঠে আকুতি ঝরে পড়ছে , “ মাফ ক্যারো, মাফ ক্যারো । কমসে কম ভিডিও তো মাত উঠারো” ।

এক সিনিয়র পুলিশের ভাষ্যমতে রেপের দৃশ্য ভিডিও করে রাখা হয় ভিক্টিমকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য । পুলিশের বিভিন্ন উৎস থেকে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে প্রশাসন কোনমতেই এই জঘন্য ঘটনাগুলো বন্ধ করতে পারবে না ।[১]

আল জাজিরার ভিডিও প্রতিবেদন – http://bit.ly/2fsTzmV

যে সব দেশ গুলো থেকে সবচেয়ে বেশী পর্নমুভি দেখা হয় তাদের মধ্যে  ইন্ডিয়া তিন নম্বরে । ইন্ডিয়ান মহিলারও ব্যাপক হারে পর্ন দেখছে ইদানীং [২,৩]  ।

একটা প্রদেশে চালানো জরিপ থেকে দেখা যায় ৪০ শতাংশ পুরুষ “রেপ পর্ন” দেখে [৪] ।

আইটেম সং, ইন্ডিয়ান মুভির, মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণকে তো সবসময় সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছেই ।

ইন্ডিয়াতে প্রতি ২০ মিনিটে একটা করে রেপ হচ্ছে[৫] । বিশ্বের যে দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশী রেপের ঘটনা ঘটে তার প্রথম ১০ টি দেশের মধ্যে ইন্ডিয়া রয়েছে [৬,৭] ।

ইন্ডিয়াতে প্রচুর পরিমান চাইল্ড এবিউজের ঘটনা ঘটে। বিশ্বের অনেক দেশের গনমাধ্যমেই এ ব্যাপারে অনেক রিপোর্ট হয়েছে [৮,৯,১০] । এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে বেশী  চাইল্ড এবিউজ হয় এমন পাঁচটা দেশের শর্টলিস্টেও রয়েছে ইন্ডিয়ার নাম [১১]

আর কত মা, বোন  ধর্ষিত  হলে আমরা বুঝবো  নারীস্বাধীনতা আর প্রগতিশীলতার সব বুলি ফাঁপা ?  মিথ্যে , প্রতারনা , ধোঁকা ?

আর কত শিশু যৌন নিপীড়িত হলে   তবে আমাদের হুঁশ ফিরবে ?

আর কত   বোনের ঘর ভাংলে, আর কত বোন আত্মহত্যা করলে  তবে আমরা চিনবো আমাদের আসল শত্রুকে ?

#know_your_enemy

#একেই_বলে_সভ্যতা

#নারী_স্বাধীনতা

দুই.

প্রিয় বন্ধুরা,

আর তিন দিন মাত্র বাকি। তারপরেই আমি  All Boys Private High School থেকে গ্রাজুয়েট করে ফেলব। বলতে গেলে আমি কখনই পর্নমুভির ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারিনি। ৪ বছর পূর্বে আমি যখন সবে মাত্র স্কুলে ভর্তি হলাম, তখন বুঝতে পারলাম এটা কতটা ভয়ংকর হতে পারে।

সেই দিনের সব কিছুই আমার স্পষ্ট মনে আছে। আমার মা স্কুলের কর্তৃপক্ষের সাথে একটা মিটিং করে ফিরলেন। আমাকে কাছে ডেকে বললেন-“দেখ বাবা, আজ তোমার স্কুলের কর্তৃপক্ষ আমাকে সতর্ক করলেন পর্নমুভির ব্যাপারে।”

আসল সমস্যাটা হল, কোন বাবা-মা’ই বিশ্বাস করতে চাননা তাদের সন্তান পর্ন দেখে। খুব কম বাবা-মা’ই তাদের ১২-১৩ বছরের ছেলের ফোন বা পিসি চেক করেন।

আরেকটা সমস্যা হচ্ছে স্কুলের কর্তৃপক্ষ মনে করে যে বাচ্চারা  পর্নের ভয়াবহতা ভাল করেই জানে। কিন্তু এটা মোটেও সঠিক নয়।

স্কুলের প্রথম সপ্তাহে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে বসেছিলাম। আমি বরাবরই একটু লাজুক স্বভাবের। চুপচাপ তাদের কথাগুলি শুনছিলাম। “নতুন ভিডিওটা দেখেছিস ? আরে ঐ যে ঐ ভিডিওটা !, জানিস, সেদিন একটা নতুন ওয়েব-সাইট পেয়েছি।”

বুঝতে পারছিলাম না ওরা কি নিয়ে কথা বলছে। এই ধরনের ছেলেদের সাথে আমি আগে কখন ওঠাবসা করিনি।

এই ভাবেই দিন কাটতে থাকল। আড্ডা দিতে বসলেই এই ধরনেরে কথা শুরু হত।

একদিন, একজন আমাকে প্রশ্ন করল, “এই, তোর পছন্দের ওয়েব-সাইট কোনটা ?”

আমি বললাম-“আমি পর্ন দেখিনা”।

সঙ্গে সঙ্গে হাসির রোল পড়ে গেল। একজন মন্তব্য করল,”তুইতো দুধের বাচ্চা। যা বাড়ি গিয়ে আম্মুকে বল ফিডার খাব”। আর একজন হাসি থামিয়ে, সিরিয়াস হয়ে বলল-“যা ব্যাটা চাপা মারিস না। পৃথিবীতে সবাই পর্ন দেখে।”

বুঝলাম- পর্ন শুধু বড়দের সমস্যা নয়, এটা বর্তমানে বিশ্বের প্রয় সবার সমস্যা।

পরের বছরই অবাক হয়ে দেখলাম আমার ঐ বন্ধুগুলা পর্নের প্রভাবে কতটা পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

তারা তাদের গার্লফ্রেন্ডের সাথে একান্ত মুহূর্তের ছবিগুল সবার সাথে শেয়ার করতে শুরু করল। রসালো , রগরগে মন্তব্য করাও থেমে থাকল না।

গার্লফ্রেন্ডদের  শরীর নিয়েই  তাদের যত আগ্রহ। কেউ ভুলেও প্রশ্ন করেনা যে তাদের  গার্লফ্রেন্ড মানুষ হিসেবে কেমন ? বই পড়তে ভালবাসে কিনা ? ডাকটিকেট জমানর শখ আছে কিনা ?

আমার মনে হত তারা তাদের গার্লফ্রেন্ডদের ভোগ্য পণ্যের মত ‘ইউজ’ এবং ‘এবিউজ’ করছে। ইচ্ছেমত মজা কর তাদের সাথে তারপর ভাল না লাগলে বা পুরোনো হয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে দাও। ভালবাসা তাদের কাছে এতটাই সস্তা।

তাদের এই অধঃপতন এবং নারী জাতির প্রতি এমন মনোভাব একটা জিনিসেরই ফসল আর তা হল ‘পর্নোগ্রাফি আসক্তি’।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হল- পর্ন দেখা এবং নারীদের নিয়ে এমন ‘ছিনিমিনি’ খেলা পৌরষের মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে যত নিচে নামতে পারবে, যার ‘প্লে-বয়’ ইমেজ যত বেশি সে তত বেশী আসল পুরুষ।

যারা নারীদেরকে আসলেই সম্মান করে, নারীর শরীরটা নয় বরং তার মনটাকেই যারা প্রাধান্য দেয়; আজকাল তাদের নিয়ে রসিকতা করা হয়। নপুংসক,হিজড়া  এরকম হাবিজাবি আরও কত কি বলা হয়। [১২]

তিন.

….রাতে আমার মা যখন অফিসে থাকত তখন আমার পিতা আমাকে খুব খারাপ ভাবে স্পর্শ করত এবং আরো অনেক কিছু করতো । আমি তখন খুব ছোট, মাত্র ১০ বছর বয়স ।

যে দিন জানতাম আমার মা আজ রাতে বাসায় থাকবেনা, সেদিন আমার সারাদিন খুব অস্বস্তিতে কাটত, আতঙ্কে থাকতাম এই ভেবে যা না জানি রাতটা কীভাবে কাটবে !

আমি এই ব্যাপারটা নিয়ে এতটাই ভীত ছিলাম যে কাওকে কোনদিন এইনিয়ে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারিনি। বাবা আমাকে সবসময় চাপ দিত- যেন আমি  মুখ বন্ধ করে রাখি – মা জানতে পারলে আমাকে বাসা থেকে বের করে দেবে।

স্কুলের এমন কোন বন্ধু ছিলনা যাদের সাথে আমি এটা শেয়ার করতে পারতাম । ৪ বছর ধরে আমি এই নরকযন্ত্রণা ভোগ করেছি। [১৩]

চার.

যুক্তরাজ্যে কিশোর ভাইয়ের হাতে ধর্ষিতা হয়েছে তার ৮ বছরের বোন। ১৩ বছরের ওই কিশোর বাড়িতে পর্নো ছবি দেখার পর নিজের বোনকে ধর্ষণ করে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত বোনকে চিকিৎসা দেওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

ঘটনার দিন তাদের বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। ওই কিশোর তখন তার এক বন্ধুর সঙ্গে এক্সবক্স গেমস কনসোলে পর্নো ছবি দেখে। ঘটনার পর পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে।

পরে সে পুলিশকে জানায়, অনলাইনে দেখা ছবির কিছু অংশ সে কপি করে রাখে। এরপর সে ছবির নায়ক-নায়িকা যেসব যৌনক্রিয়া করেছিল সেগুলো অনুকরণ করার চেষ্টা চালায় এবং নিজের বোনের ওপর চড়াও হয়। নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলে, বয়স কম হওয়ায় সে তার বোনকেই বেছে নিয়েছিল। আইনগত কারণে ওই কিশোরের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

গত বুধবার ছেলেটিকে ইংল্যান্ডের ব্ল্যাকবার্ন আদালতে হাজির করা হয়। ম্যাজিস্টেটের কাছে সে নিজের দোষ স্বীকার করেছে তবে তাকে তার পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর সে বর্তমানে এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছে।

এই ঘটনা গোটা যুক্তরাজ্যে অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। কেননা ভিডিও গেমস খেলার যন্ত্রের মাধ্যমে শিশুরা সহজেই অনলাইনের পর্নো সাইটগুলোতে যেতে পারে। অনেকে অবশ্য যন্ত্রটি কেনার সময়ই দোকানিদের সহায়তায় পর্নো সাইটগুলো ব্লক করে দেন। তবে এতেও কাজ হচ্ছে না। বাড়িতে থাকা অন্যান্য উপকরণ যেমন এক্সবক্স, প্লে-স্টেশন, আইপড ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিশুদের পক্ষে নিষিদ্ধ সাইটগুলোতে সহজেই প্রবেশ করে ডাউনলোড করা সম্ভব।
সূত্র : দ্য মিরর [১৪]

ঘটনাগুলো  কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পাশ্চাত্যের ঘরে ঘরে এগুলো খুবই সাধারণ ঘটনা। আগ্রহী হলে পড়তে পারেন এই লিংকের  [১৫] লিখাগুলো  ।

পাঁচ.

আমি জানি এই আর্টিকেলের [১৬] সবটুকুই সত্য, কারণ আমি বেড়ে উঠেছি ‘জার্মানিতে’। আমি জানি এই সভ্যতা কতটা পচে গেছে। বিশেষ করে বিজ্ঞাপন গুলো । আপনি কখনই এই অশ্লীল বিজ্ঞাপন থেকে বাচতে পারবেন না । টিভি,ম্যাগাজিন,নিউজপেপার… কোথায় নেই ? ছোট থেকেই আপনাকে শেখানো  হবে এগুলি খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

সিক্সত গ্রেডে পরার সময়কার একটি ঘটনা। ‘সেক্স এডুকেশন’ ক্লাসে টিচার খুব বড় একটা কাগজ নিয়ে এসে, আমাদের বললেন-”  যৌনতা সম্পর্কে যা যা মনে আসে সব এখানে লিখ, যৌনতার নিয়ম কানুন গুলো লিখতে ভুলনা যেন!! লেখ শেষ হলে আমরা এগুলি নিয়ে আলোচনা করব।”

কি ভয়ংকর অবস্থা, তাইনা ? তবে  আমি আপনাকে কখনই বলবনা স্কুলে আমাদের কতটা গ্রাফিক, কতটা অশ্লীল সাহিত্যের বই পড়তে দেয়া হত। ওইসব কথা মনে করতেই আমার রুচিতে বাধে ।

আমি কখনই চাইবো না  আমার ছেলেমেয়েরা জার্মানীতে বেড়ে উঠুক ।

—Sebastian Bradley.

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

#একেই_বলে_সভ্যতা

[লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত]

পড়ুন-

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-১: https://bit.ly/2OhCeO0
মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-২: https://bit.ly/2Ms17VA
মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব- ৩ https://bit.ly/2p6dopk
একেই বলে সভ্যতা (দ্বিতীয় পর্ব) !!!: https://bit.ly/2xbpnW5
এরই নাম স্বাধীনতা !!!: https://bit.ly/2xcsUnn
এরই নাম স্বাধীনতা!!! দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2xce9kq
এরই নাম স্বাধীনতা!!! তৃতীয় পর্ব-https://bit.ly/2MxnRna
পাশ্চাত্যে বেড়ে ওঠা: https://bit.ly/2p1Irme
নারী যখন পন্য: https://bit.ly/2OilZQH
অভিশপ্তনগরী: https://bit.ly/2MumYeW

“****” ম্যাম গার্ড পড়ছিলঃ বুঝতে পারছিলাম না, প্যান্ট সামলাবো নাকি কলম !!! – https://bit.ly/2x3Krif

রেফারেন্সঃ

[১] http://bit.ly/2azmaGv

[২] http://tinyurl.com/jy5d6zf

[৩] http://tinyurl.com/z2qxzdw

[৪] http://preview.tinyurl.com/jl2ttct

[৫] http://tinyurl.com/hy2xphf

[৬] http://tinyurl.com/zlfdcuw

[৭] http://tinyurl.com/z2x8oz7

[৮] http://tinyurl.com/gwqhbta

[৯] http://tinyurl.com/zgs665u

[১০] http://tinyurl.com/hos7vdl

[১১] http://tinyurl.com/ld4zxd9

[১২] ঘটনাটি www.fightthenewdrug.com  থেকে সংগৃহীত।

[১৩] http://tinyurl.com/hjq2a29

[১৪] http://tinyurl.com/zerbb5v

[১৫] http://www.antipornography.org/harm_stories.html

[১৬] http://fightthenewdrug.org/germanys-legalized-prostitution-industry-looks-like-a-real-life-horror-movie/

 

আমি তারায় তারায় রটিয়ে দিব

আমি তারায় তারায় রটিয়ে দিব

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

আমি তারায় তারায় রটিয়ে দিব …………

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

জানিস দোস্ত গতকাল না কঠিন একটা পাপ করে ফেলেছি । গতকাল রুমে কেউ ছিল না , দরজাটা বন্ধ করে , অনলাইনে যেয়ে ………

ভাই থামেন , আর কথা বাড়াইয়েন না ।  আপনার যে  পাপ কাজের কথা আল্লাহ(সুবঃ) ছাড়া আর কোন কাক পক্ষীও টের পায়নি ,আপনার  যে পাপ  আল্লাহ (সুবঃ) গোপন করে রেখেছিলেন মানুষের কাছ থেকে, সেটা আপনি নিজে সকলের সামনে প্রকাশ করে দিয়ে , নিজের কি সর্বনাশ করছেন জানলে মাথার চুল একটা একটা করে ছিড়ে চান্দু হয়ে যেতেন তারপরেও আক্ষেপ ফুরাতো না ।

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন –  আমার সকল উম্মত মাফ পাবে, তবে প্রকাশকারী ব্যতীত। আর নিশ্চয় এ বড়ই ধৃষ্টতা যে, কোন ব্যক্তি রাতে অপরাধ করল যা আল্লাহ্ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে ভোর হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক! আমি আজ রাতে এমন এমন কর্ম করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত অতিবাহিত করল যে, আল্লাহ্ তার কর্ম গোপন রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার উপর আল্লাহ্‌’র  পর্দা খুলে ফেলল। [সহীহ বুখারি]

আরেকটা বর্ণনায়[১] এসেছে – আল্লাহ (সুবঃ) হাশরের ময়দানে ফেরেশতাদের বলবেন যাও আমার অমুক অমুক বান্দাকে ডেকে নিয়ে এসো । ফেরেশতাগন বান্দাদেরকে নিয়ে এসে আল্লাহ (সুবঃ) এর সামনে দাঁড় করিয়ে দিবেন । আল্লাহ (সুবঃ) বান্দাদেরকে বলবেন ,“ হে আমার বান্দা! আমার কাছে এসো । বান্দা  আল্লাহ’র (সুবঃ) কাছে এসে দাঁড়াবে  আল্লাহ (সুবঃ) বান্দাকে আরো কাছে ডাকবেন । বান্দা আল্লাহ’র (সুবঃ) আরো কাছে যেয়ে দাঁড়াবে । এভাবে বান্দা আল্লাহ’র (সুবঃ) এতো কাছে চলে যাবে যে   সে নুর দ্বারা  আচ্ছাদিত হয়ে যাবে । আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এবং তার মাঝে শুধু একটা পর্দা থাকবে । কোন ফেরেশতা তাকে আর দেখতেও পাবে না , শুনতেও পাবে না আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এবং বান্দার কথোপকথন ।

শুধু  আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আর তাঁর  বান্দা ।

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) তাঁর বান্দাকে বলবেন , “ইয়া আব্‌দি , দেখ তোমার আমলনামা ,তুমি নিজেই দেখ পৃথিবীতে কি করে এসেছো তুমি” ।

বান্দা তার আমলনামায় চোখ বুলাবে – শুধু পাপ আর পাপ , রাশি রাশি পাপ ।

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বলবেন ,“ ইয়া আব্‌দি ,তুমি কি জানতে না তুমি গোপনে যে কাজ কর আমি  সেটাও দেখতে পাই ? তুমি কি জানতে না একদিন তোমাকে আমার সামনে দাঁড়াতে হবে ? তুমি কি জানতে না একদিন আমি তোমার সব কাজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করব ?

বান্দা উত্তর দিবে , “ইয়া রব্ব! আমি জানতাম , জানতাম ……… আমি জানতাম” ।

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বলবেন,“ তাহলে  কেন তুমি এই কাজ গুলো করেছিলে ? কেন” ?

বান্দা উত্তর দিবে , “ইয়া রব্ব! আপানর সামনে এই পাপের বোঝা নিয়ে  দাঁড়িয়ে আমার বিচার করার চেয়ে আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা আপনার জন্য অনেক সহজ”।

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বলবেন,“ পাতা উল্টাও , পরের পৃষ্ঠায় যাও”।

বান্দা পরের পাতায় যেয়ে দেখবে  পুরোটাই আগের চেয়েও জঘন্য গুনাহ দ্বারা পরিপূর্ণ । এভাবে সে পুরো আমলনামার পাতা উল্টিয়ে ফেলবে । প্রত্যেকটা পাতাতেই  আগের পাতার চেয়ে আরো বেশী , আরো জঘন্য গুনাহ দেখতে পাবে সে ।   বান্দা প্রচন্ড মন খারাপ করে ফেলবে । প্রচন্ড হতাশ হয়ে সে ভাববে – আমাকে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) নিশ্চয়ই এখনো জাহান্নামের আগুনের  গর্তে ফেলে দিবেন । আমি তো ভালো আমলও করেছিলাম ,কিন্তু সেগুলো আমার কাজে আসলো কই  ?  আমার পাপই আমাকে ধ্বংস করে ছাড়লো!

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বান্দাকে বলবেন , “ ইয়া আব্‌দি! তুমি কেন তোমার পাপকাজ গুলো গোপন করে রেখেছিলে দুনিয়ার জীবনে”?

বান্দ জবাব দেবে , “ ইয়া রব্ব! আমি আমার পাপগুলো নিয়ে লজ্জিত ছিলাম’।

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বলবেন ,“ তুমি কি দেখনি পৃথিবীতে  আমি তোমার পাপগুল মানুষের নিকট থেকে গোপন করে রেখেছিলাম । এটা ছিল তোমার প্রতি আমার রহমাহ । আজকেও আমি তোমার পাপগুলো মানুষের নিকট থেকে গোপন করে রাখবো” ।

[ অন্য একটা বর্ণনায়  এসেছে – আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বলবেন , “দুনিয়াতে তুমি তোমার মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন করে রাখতে, তাই আজকে আমিও তোমার দোষ গোপন করে রাখব” ।]

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বান্দাকে বলবেন , “এবার আমলনামার পাতা উল্টাও” ।

আমলনামা খুলতেই বান্দার চোখ কপালে উঠে যাবে । পুরো আমলনামা জুড়েই শুধু ভালো কাজ । পাপকাজ গুলোর টিকিরও খোঁজ নেই ।

ফেরেশতারাও জানবে না  যে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বান্দার সমস্ত পাপ আমলনামা থেকে  মুছে ফেলে  ভালো কাজ দিয়ে পূর্ণ করে দিয়েছেন ।

অতঃপর বান্দাকে মাফ করে দেওয়া হবে  ।  [সহীহ বুখারি]

ভাই , পর্নমুভি দেখা বা মাস্টারবেট করা ছাড়তে না পারলেও চেষ্টা করুন এগুলো সবার নিকট থেকে গোপন করে রাখতে ,   আল্লাহ্‌ (সুবঃ) ছাড়া  পাপের কোন সাক্ষী না রাখতে ।  আল্লাহ্‌’র (সুবঃ) দয়া হলে তিনি হয়তো আপনার এই গোপন পাপ গুলো দুনিয়াতেও গোপন রাখবেন এবং হাশরের ময়দানেও গোপন রেখে আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন । অযথা সবাইকে বলে বেড়িয়ে কেন ক্ষমা পাবার  এই সুযোগটা হারাবেন ?

বন্ধুদের সঙ্গে বসে পর্ন দেখে , মেয়েদের ফিগার বিশ্লেষণ করে বা কোন কারণ ছাড়াই [২]  স্রেফ মজা করার জন্য বন্ধুদের সঙ্গে কে কত পর্ন দেখে , কার কত জিবি কালেকশান , কে কতবার মাস্টারবেট  করে এগুলো নিয়ে  আলোচনা করে নিজেই  নিজের পায়ে কুড়াল মারবেন না, ভাই । একদিন আফসোস  করতে হবে এই সব “ফান” করার জন্য । কিন্তু তখন কিছুই করার থাকবেনা ।

কিছুই করার থাকবেনা ……

পড়ে দেখতে পারেন – ডেস্টিনি – https://bit.ly/2MqWqLv

রেফারেন্সঃ

[১] https://www.youtube.com/watch?v=W58xj93ljPM

[২] পর্ন মুভি/ মাস্টারবেশন আসক্তি ছাড়ার জন্য কোন দ্বীনি ভাই , বন্ধু বা কাছের কোন মানুষের  সাহায্য নেওয়া  খুব জরুরী । একা একা আসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার চেয়ে জোট বেঁধে লড়াই করা অনেক অনেক গুন ভালো । তারমানে এই নয় যে , আপনি যদু কদু মধু সবাইকে বলে বেড়াবেন আপনার পর্ন আসক্তি/ মাস্টারবেশন আসক্তির কথা , আর সবার কাছ থেকে সিমপ্যাথি পাবার চেষ্টা করবেন ।