“নেশা যখন চটি গল্প পড়া (প্রথম পর্ব)”

“নেশা যখন চটি গল্প পড়া (প্রথম পর্ব)”

প্রথম পর্ব- “মিথ্যে কথার রাজ্যে”

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

ভার্সিটিতে ফার্স্ট ইয়ারে পড়তাম তখন । ছুটিতে বাসায় গিয়েছিলাম ।   রাতের ট্রেনে বাসা থেকে হলে  ফিরছি ।একা একা নাইট জার্নি করে  যাচ্ছি তাই আব্বু , আপু আর আম্মু বেশ টেনশান করছিল  । ফোন দিয়ে আমাকে  অস্থির করে তুলছিল ।  ঘুমাতে পারছিলনা ।

ট্রেন ছাড়ল রাত  ১১ টার অনেক পরে ।আম্মু ১১টার অনেক আগেই ঘুমিয়ে যায় কিন্তু সেদিন জেগে ছিল ,আম্মুকে ফোন করলাম  । আম্মু ঘুমালো ।

“ভাই, আপনার ফোন থেকে একটা কল করা যাবে”?
ঘুরে তাকালাম আমার পাশের সিটে বসা প্রশ্নকারীর দিকে । ২৪/২৫ বছরের মতো বয়স। নিম্নবিত্ত
কিছুটা অবাক হয়ে   বিরক্তি মাখা সুরেই বললাম, “হ্যাঁ করেন” ।
আমার বিরক্তিটা সহজেই টের পেয়ে গেল সে । কৈফিয়ত দেবার  মতো করে   বলল ,  “ভাই আমার ফোন টা হারায়ে গেসে গতকাল ।বুড়া মা বাসায় চিন্তা করছে । ফোন না করলে আমার মা টা ঘুমাতে পারবেনা”।

সে আমার ফোন থেকে তার পাশের বাসায় ফোন করল ( তার মায়েরও ফোন নেই)। তার মাকে জানাতে বললো সে ভালোমতো ট্রেনে উঠেছে ।

 

এসি রুমে আরামদায়ক বিছানায় শোয়া মা সন্তানের জন্য যেরকম দুশ্চিন্তায় করে,ফুটপাতে শোয়া মা তার সন্তানের জন্য সেইরকম দুশ্চিন্তাই করে ।মা দের সন্তানের প্রতি ভালোবাসাই আর কোন ব্যাপার নেই, কোন ফরমানলিন নেই । আমরা  মায়ের এই অপার্থিব ভালোবাসা, বোনের  স্নেহের প্রতিদান  দিচ্ছি   তাঁদের নিয়ে লিখা চটি গল্প পড়ে ! আমরা  অনলাইনের জগতটাকে এমন অসুস্থ বানিয়ে ছেড়েছি  যে বাংলায়  টাইপ করে  গুগলে   কিছু খুঁজতে কোন সুস্থ লোকের প্রবৃত্তি হয় না   ।

 

একটা বিশাল প্রজন্ম গড়ে উঠেছে এবং উঠছে যারা প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি পার হবার আগেই  চরম অশ্লীলতার জগতটার সঙ্গে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে ,   যারা মা ,বোন ,কাজিন,ভাবী ,খালা, চাচী,মামী এদের নিয়ে লিখা  চটি গল্প পড়ে আর  রাত দিন এদের নিয়ে  সেক্স ফ্যান্টাসীতে ভোগে ।

চটি গল্প, পর্নমুভির চেয়েও ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে এর পাঠকদের ওপর । বই/লিখা  মানুষের মনোজগতকে প্রভাবিত করার জন্য  খুবই শক্তিশালী একটা মাধ্যম ।  কুরআনের দিকে আমরা তাকাতে পারি   । আল্লাহ্‌’র (সুবঃ) এই পবিত্র বই কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের গতিপথ পরিবর্তন করেছে এবং করছে । পাথরের চেয়েও কঠিন মনের মানুষ শিশুর মতো অঝোরে কাঁদে কুরআন পড়ে , এই কুরআন পড়েই আল্লাহ্‌র জন্য মানুষ তার জীবনটা বিলিয়ে দিতেও কুন্ঠাবোধ করে না ।

চটি গল্প পড়ার সময়  পাঠক অনেককক্ষন  ধরে বিষয় গুলো নিয়ে চিন্তা করার সময় পায় , ইচ্ছে হলেই পড়া বন্ধ করে সেক্স ফ্যান্টাসীতে ডুবে যায় । কিন্তু পর্ন মুভিতে তার এ সুযোগ থাকে সীমিত । ঘটনার দ্রুত পট পরিবর্তন হয় , চিন্তা করার খুব একটা সময় থাকে না ।  কোন বিষয়ের ওপর  ভিডিও দেখা বা লেকচার শোনার চেয়ে সেই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে সেটা বেশি সময় ধরে মাথায় থাকে । চটি গল্পে পড়া জিনিস গুলো এর পাঠকের মস্তিষ্কে খুব বেশি সময়ের  জন্য পাকাপোক্ত আসন গেড়ে বসে । সারাক্ষন মাথার মধ্যে কৃমির মতো কিলবিল করতে থাকে গল্পের ঘটনাগুলো । সহজেই  রেহাই পাওয়া  যায়না  বিকৃত অবাধ্য  চিন্তাগুলোর হাত থেকে ।

আমাদের এই সিরিজে ইনশাআল্লাহ্‌ আমরা আলোচনা করব  ভয়ংকর এই আসক্তি নিয়ে । প্রথমে ইনশা আল্লাহ্‌  আমরা চেষ্টা করব চটি গল্পের ধাপ্পাবাজির  দিকটা তুলে ধরার , তারপর আলোচনা করা হবে এর ভয়াবহতা  সম্পর্কে এবং সর্বশেষে  ইনশা আল্লাহ্‌ কিছু  টিপস দেওয়া হবে চটি গল্পের আসক্তি  দূর করার জন্য ।

অনেকগুলো মিথ্যে কথা –

১) ভাই, চটি গল্পে আপনি  যা পড়ছেন বা পড়েছেন তার আগাগোড়া  ষোল  আনাই মিথ্যে । একেবারে বানানো গল্প । কারো সাথে কখনো ওরকম কিছু হয়নি । কেউ ওরকম করে না । কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের পক্ষে ঐগুলো করা তো দূরের কথা চিন্তা করাও সম্ভব নয় । পেটে লাল নীল পানি না পড়লে বা গাঞ্জার কল্কিতে দু’টান মেরে না আসলে ঐরকম গালগল্প লিখা সম্ভব না ।

২) অন্তরঙ্গতার পদ্ধতি, সময় , ফ্রিকোয়েন্সি ঐগুলাও অবাস্তব । কোন স্বাভাবিক নারী পুরুষের পক্ষে ওদের মতো করে এত সময় ধরে বা এত ঘন ঘন অন্তরঙ্গ থাকা সম্ভব নয় ।

৩) নারী বা পুরুষের প্রাইভেট পার্টস এর যে বর্ণনা আপনি  পড়ছেন, তার সবকিছুই ঢাহা মিথ্যে , অতিরঞ্জিত ।

৪)  কোন স্বাভাবিক নারী পুরুষের পক্ষে অন্তরঙ্গতার সময় এত নির্লজ্জ হওয়া সম্ভব না । কেউ ওরকম খিস্তি খেউর করেনা , পশুর মতো চিৎকার চেঁচামেচি করে না ।

৫) চটি গল্পে মামী , ভাবী, চাচী , খালা , কাজিন , বোন , মা (লিখতে খুবই অস্বস্তি লাগছে, আল্লাহ্‌ আমাদের এইসব জঘন্য কাজ থেকে রক্ষা করুক , যারা এসব লিখে  আল্লাহ্‌ তাদের হেদায়াত দিক অথবা ধ্বংস করে দিক)  বান্ধবীদের সঙ্গে লীলাখেলার যে কাহিনী আপনি পড়ছেন এবং তার অনেকটা সত্য বলে ধরে নিয়েছেন তার পুরোটাই মিথ্যে ।  পাশের বাসার আন্টি , কাজের মেয়ে , টিচারদের নিয়ে যে গল্পগুলো পড়েছেন সেগুলোও ভুয়া   ।

বটমলাইনটা হল – চটি গল্প গুলো বের হয় সাধারণত প্রচন্ড সেক্স পারভারট  একদল মানুষের (আসলে জানোয়ার , মানুষ না) গাঞ্জার ধোঁয়ার আচ্ছন্ন বিকৃত মস্তিষ্ক থেকে । নিজের কিছু করার মুরোদ নেই , অথচ মনে প্রচন্ড খিদে – কি আর করবে  বেচারারা !  তাই মনের জঘন্য চিন্তা গুলো লিখে আর তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করে । কিন্তু এগুলোকেই ধ্রুব সত্যি মনে করে বেড়ে উঠছে একটা জেনারেশানের ছেলেমেয়ে । কোন দিকে কি যাচ্ছে আমাদের সমাজটা তা কি ভাবার সময় আসেনি ?

……… চলবে ইনশাআল্লাহ্‌

পড়ুন-

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (দ্বিতীয় পর্ব)- https://bit.ly/2NdygJX

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (তৃতীয় পর্ব)- https://bit.ly/2CPWuoM

নেশা যখন চটি গল্প পড়া (শেষ পর্ব)- https://bit.ly/2p3KtCf

নীল রঙের অন্ধকার (প্রথম কিস্তি)

নীল রঙের অন্ধকার (প্রথম কিস্তি)

পর্ন মুভি বিষাক্ত মাকড়াশার মতো  জাল বিছিয়ে রাখে । গ্ল্যামার আর চাকচিক্যে আকৃষ্ট হয়ে যে কেউ আটকে পড়তে পারে এই জালে । একবার জালে আটকা পড়লে  সেই জাল ভেদ করে বেরিয়ে আসা  অত্যন্ত কঠিন । মাকড়াশা যেভাবে পোকাকে  তিলে তিলে মেরে ফেলে পর্ন মুভিও আপনাকে  ঠিক সেভাবেই একটু একটু করে ধ্বংস করে ফেলবে । আপনি আস্তে আস্তে হারাবেন আপনার স্বাস্থ্য, আপনার পরিবার, আপনার চাকুরী, এমনকি আপনার ভালবাসার মানুষটিকেও । আমাদের এই সিরিজে আমরা আপনাদের কিছু সত্যিকারের গল্প বলে যাব । গল্পগুলো কিছু পর্ন আসক্ত মানুষের । কীভাবে তারা হারিয়ে ফেলেছেন এই জীবনের মূল্যবান সবকিছুই, নীল রঙের অন্ধকার গহ্বরে  কিভাবে তারা ডুবে যাচ্ছেন সেই গল্প ।

ব্যর্থতা আর আর্দ্রতার গল্প!

দীর্ঘশ্বাস আর নীরব আর্তনাদের গল্প!

নষ্ট হবার গল্প!

পাঠক, আপনাকে স্বাগতম !

আমার স্বামী পর্ন আসক্ত। এটি কষ্টকর , কারণ আমি একজন সমাজ কর্মী । তার সাথে পরিচয়ের আগ থেকেই আমি পর্নের বিরুদ্ধে লড়ে আসছি। আমি  ব্যক্তি, পরিবার, এবং সমাজের উপর তার ধ্বংসাত্মক প্রভাব দেখেছি। আমি সারাটা জীবন যুদ্ধ করেছি। আমি ছোটবেলা থেকেই উত্ত্যাক্তকারীর কবলে পড়েছি, কিন্তু আমি সেক্স এবং যৌনতাকে স্পেশাল মনে করি। সেই দম্পতিদের জন্য এটা নিষ্পাপ এবং পবিত্র একটা উপহার যারা পরস্পরের প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করেছে। আমার আর আমার স্বামীর মূল্যবোধ একই ধরনের ছিল। আমরা পরস্পরের সাথে সব সময় আমাদের চিন্তা চেতনা শেয়ার করতাম। আমরা পরস্পরের জন্য নিজেকে, নিজের ভালবাসাকে , নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলাম।

আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত যেদিন সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আর তার পর দিন ছিল সবচেয়ে খারাপ দিন। আমাদের বাগদান উদযাপন করতে , আর আমার পরিবারকে বাগদানের আংটি দেখাতে আমরা একসাথে আমাদের বাসায় যাই। ফেরার পথে সে আমাকে বললে যে সে আমাকে কিছু বলতে চায়। সে মনে করেছিল এটা এত গুরুত্বপূর্ণ না। তারপরেও আমার জানা উচিত।

সে পর্নে  আসক্ত ছিল। ১২ বছর বয়স থেকে সে পর্নে  আসক্ত ছিল। আমার সাথে দেখা হবার আগ পর্যন্ত তার কখনও অনুতাপ হয়নি । আমি মেনে নিতে চেষ্টা করলাম। আমার  সবটা দক্ষতা দিয়ে তাকে পর্ন ত্যাগ করার জন্য উৎসাহিত করলাম। বাসায় ফিরে এসে নিজেকে একা আবিষ্কার করলাম। খুব কাঁদলাম। আমি জানতাম এটা আমার দোষ ছিল না , আমি কোন খারাপ কাজ করিনি। এমনকি পরিস্থিতি এতটা খারাপও ছিল না। সেতো শুধু পর্ন দেখেছে। নাইট ক্লাব বা পতিতালয়ে যায়নি। সে এখনও একজন ভাল মানুষ। তাকে আমি ভালবেসেছি, তার খারাপ অতীত জেনেও।

কিন্তু আমার ধারনা ভুল ছিল। আমি তার সম্পর্কে ভুল ধারনা করেছি। সে এমন একজন মানুষ যে প্রমাণ করেছে, বছরের পর বছর পর্ন দেখেও মানুষের যৌন তাড়না পুরণ হয় না। সে এমন একজন মানুষ যে তার চোখ দিয়ে মেয়েদেরকে ব্যবহার করেছে , অবমাননা করেছে। কাজেই সে নির্দোষ না। সে এইসব কথা আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছে। আর এমন সময় সে এগুলো প্রকাশ করেছে জখন আমার আর ফিরে যাবার পথ খোলা নেই। নেই কোন প্রশ্ন করার সুযোগ। আমি নিজেকে প্রশ্ন করি, “আগে থেকে জানলে আমি কি বিয়েতে রাজি হতাম? আমি কি তাকে প্রায়শ্চিত্ত করতে বলতাম? ” হয়তোবা করতাম। কিন্তু তার এই সত্য লুকিয়ে রাখা আমাকে দুর্বল করে দিয়েছে। এটা আমাকে এক বিকৃত যৌন চাহিদার এক রাক্ষসের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করছে।

এরপর বিয়েটা হয়েই গেল। সে সৎ থাকবে বলে আমাকে কথা দিয়েছিল। সে বলেছিল, যদি আমি চাই তবে আমরা সারা জীবন কোন সাপোর্ট গ্রুপে যাব। অবচেতন ভাবে তার কর্মকাণ্ডের দায়ভার আমি নিতে শুরু করলাম। আমরা সাপোর্ট গ্রুপে গেলাম । সেখানে পাশাপাশি দুইটা রুম ছিল। আমি সারাটা সময় কাঁদলাম। তাদের কথা শুনলাম। কিছু রূপসী মেয়ে তাদের সঙ্গীর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার জন্য নিজেকে দোষারোপ করছিল । তারা খুব বড় ধরনের মানসিক আঘাত পেয়েছিল। আসলে একজনের ভুলের কারণে যখন নির্দোষ কাওকে পস্তাতে হয় তখন এমন হওয়া স্বাভাবিক। আমি সেই পুরুষমানুষ গুলোকে ঘৃণা করি। সেখানে গেলে আমার নিজেকে লাঞ্ছিত মনে হয়। আর সেখানে নিয়ে যাবার জন্য আমার স্বামীকেও ঘৃণা করি। আমি এই কাউন্সেলিং সেশনে যাওয়া পছন্দ করি না। কারণ আমি জানি সেখানে কারা যায়। সেদিন সে খুশিমনেই কাউন্সেলিং গ্রুপ থেকে ফেরে। কিন্তু আমি গাড়ি পর্যন্ত যাবার আগেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। বাসায় ফিরে সে আমার কাছে বসে। কিন্তু সে বোঝে না আমার ভিতর কি চলছে। সে আস্তে আস্তে ভাল হতে থাকে। কিন্তু আমার গায়ে “Wife of a Porn Addict.” লেবেলটা চিরতরে লেগে যায়।

তার আর আমার সম্পর্কের পবিত্রতা নষ্ট হয়ে গেছে। সেকি পর্ন তারকাদের সাথে আমার তুলনা করবে না? সেকি আমাকে আসলেই ভালবাসবে? সে কীভাবে আমাকে ভালবাসবে যেখানে আমাকে দেখলেই তার পর্নমুভির কথা মনে পড়ে?

বিয়ের পর কিছুদিন সব ভালোই চলছিল। একদিন আমি অফিসের মিটিং সেরে তাড়াতাড়ি বাসায় খাবার খেতে ফিরলাম। খাওয়া সেরে আমি তাকে বিদায় জানালাম। একটু পরে সে আমাকে মেইল করল যে তার আবার পর্ন দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে। কিন্তু সে দেখবে কিনা বুঝতে পারছে না। আমি বুঝতে পারলাম , এটা এমন এক আসক্তি, যা থেকে সে কখনোওই ও মুক্তি পায় নি । এরপর থেকে আমি খুব ভয়ে থাকি, খুব সতর্ক থাকে।

আমি বুঝতে পারলাম অন্তরঙ্গতাকে আমি শুধু তাকে আমার কাছে বেধে রাখার জন্য ব্যবহার করি। আমার ইচ্ছা না থাকলেও এটা করতে হয়। এরপর তার যৌন অক্ষমতা দেখা দিতে লাগল। আমার ভয় হয় যে আমি তাকে পর্নোগ্রাফির জগতে হারিয়ে ফেলব।

আমি ডায়েট করা শুরু করেছি। এখন আমার নিজের শরীর কে আমি নিজেই ঘৃণা করি। আমি এখন সবসময় তার প্রতি সন্ধিহান। আমি তার অতীতের জন্য ক্ষুব্ধ। কিন্তু সে আমাকে খুশি রাখতে সচেষ্ট।তাই আমি এখন কাউন্সেলিংএ যাই কীভাবে তাকে মাফ করবো তা বুঝতে। আমি যাই করি না কেন,সে হয়ত আর ভালো হবে না। আমার সাথে সে কখনোই সুখী হবে না। আমি এসব মেনে নিয়েছি।

আমার স্বামী  তার বড় ভাই ও বাবার মাধ্যমে খুব ছোটবেলাতে পর্নোগ্রাফির সঙ্গে পরিচিত হয়ে যায়। সে এর নেতিবাচক ফলাফল বোঝার বয়স হবার আগেই আসক্ত হয়েছে। আর আমি… আমি আমার মনে ভিতর অবিশ্বাস পুষে নিয়ে চলেছি। প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছি এই অচেনা পৃথিবীর সাথে মানিয়ে নেবার। পর্নের বেড়াজালে আমরা আজ আবদ্ধ।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

পড়ুন-

নীল রঙের অন্ধকার (দ্বিতীয় কিস্তি):  https://bit.ly/2xg34yS

নীল রঙের অন্ধকার (তৃতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2x6jBFY

নীল রঙের অন্ধকার (চতুর্থ কিস্তি): https://bit.ly/2x7BEvA

নীল রঙের অন্ধকার (পঞ্চম কিস্তি): https://bit.ly/2x7WuuS

নীল রঙের অন্ধকার (ষষ্ঠ কিস্তি): https://bit.ly/2xf97TY

নীল রঙের অন্ধকার (সপ্তম কিস্তি):  https://bit.ly/2p3UUFS

নীল রঙের অন্ধকার (অষ্টম কিস্তি):  https://bit.ly/2xf8VUK

নীল রঙের অন্ধকার (নবম কিস্তি):  https://bit.ly/2QquLgS

ফাঁদ (প্রথম পর্ব )

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

কংক্রিটের  রাস্তায় পড়ে থাকা   কোল্ড ড্রিংক্সের খালি বোতলে কষে একটা লাথি মেরে রাগ আর  বিরক্তি দুটোই একসঙ্গে  ঝাড়লো রুম্মান । “ধুউউর! পেটে খিদে রেখে এভাবে পার্কের বেঞ্চিতে কতক্ষন বসে থাকা যায়” ?

সেই দুপুর থেকে সে বসে আছে এই বেঞ্চিতে । এখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে চলল । পেটে দানাপিনা কিছুই পড়েনি টিফিনের পর ।

সামনের বেঞ্চিতে আধাশুয়ে থাকা উশকো খুশকো চুলের গাল  ভাঙ্গা লোকটা তার ইঁদুরের মতো পিটপিটে লাল চোখ দিয়ে অনেকক্ষন ধরে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে স্কুল ড্রেস পড়া রুম্মানের দিকে । রুম্মান অস্বস্তিবোধ করতে শুরু করলো । ঐ গাঞ্জাখোর ব্যাটাটা ছিনতাইকারী না হয়েই যায় না ।

“গাধা কোথাকার ! আমার কাছ থেকে ছিনতাই করার মতলবে আছে , আমার পকেটেতো  একটা ছেঁড়া দুটাকার নোটও নেই”  মনে মনে ভাবলো রুম্মান  ।

সেই দুপুরে স্কুল ছুটি দিলেও বাসায় যেতে ভয় পাচ্ছে রুম্মান । বেশ কয়েকবার বাসায় যাবার জন্য রওয়ানা দিয়ে আবার মাঝপথ থেকে ঘুরে এসেছে , সাহসে কুলোয়নি ।  আজ বাসায় গেলে তার বাবা তাকে “বানাবেই”। সূর্য সকালে ওঠে – সন্ধায় অস্ত যায় , গরু ঘাস খায় এইগুলো যেমন ধ্রুব সত্য , তেমনি আজকে সে যে তার বাপের হাতে ডলা খাবে সেটাও ধ্রুব সত্য।

 

গত সপ্তাহে  ক্লাসের টেক্সট বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে  ক্যান্ডি ক্রাশ খেলার সময় সে  বাবার হাতে ধরা খেয়ছিল রেড হ্যান্ডেড – তখনো তার বাবা তাকে কিছু বলেননি । গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে সে দুপুরবেলা বাসা থেকে পালিয়ে হাজির হয়েছিল  পাড়ার মাঠে ।  বীর পুরুষের মতো  কাঠফাটা রোদে  ক্রিকেট খেলে জ্বর বাঁধিয়ে বিছানায় পড়ে ছিল সে বেশ কয়েকদিন , তখনো তার বাবা তাকে কিছু বলেননি । কিন্তু আজকে আর রক্ষা নেই  । আজকে মিড এক্সামের রেজাল্ট কার্ড দিয়েছে এবং সে দুইদুইটা সাব্জেক্টে ডাব্বু মেরে বসে আছে ।

ছিনতাইকারীর উটকো ঝামেলা থেকে বাবার হাতে পিট্টি খাওয়া ভাল। যা আছে কপালে ভেবে রুম্মান বেঞ্চি থেকে স্কুল ব্যাগটা তুলে কাঁধে নিয়ে , পানির খালি বোতলটা হাতে নিল ।  মক্তবের হুজুরের কাছ থেকে যত সূরা ক্বিরাত শিখেছিল  ছোট বেলায় তার সব বিড়বিড় করে পড়তে পড়তে হন হন করে হাঁটা দিল বাসার দিকে । …প্লিজ! আল্লাহ আজকে  পার করাইয়া দাও , সামনের শুক্রবার থেকেই নামাজ ধরব ,কথা দিলাম, পাক্কা , প্লিজ আল্লাহ প্লিজ ।

সুবহানাল্লাহ! মানুষের সাইকোলজিটাই এমন যে , মানুষ যখন অন্য কাউকে রাগিয়ে দেয় তখন সে তার সামনে যেতে ভয় পায় , ইতস্তত বোধ করে । শয়তান আদম সন্তানের  ঠিক এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ফন্দি আঁটে আদম সন্তানকে তার পরম করুণাময় অসীম দয়ালু রবের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ।

শয়তান আর নফসের পাল্লায় পড়ে ভয়াবহ পাপ করে ফেলেছেন – মনে করুন যে পর্ন মুভি দেখে ফেলেছেন বা মাস্টারবেট করে ফেলেছেন । হরমোনের প্রেসার কমার পর আপনার খেয়াল হল – হায়! হায়! আমি এ কি করলাম?  অনুশোচনার আগুনে আপনি দগ্ধ হচ্ছেন , ধিক্কার দিচ্ছেন নিজেকে।  তৎক্ষণাৎ গোসল করে এসে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন; উদ্দেশ্য  তওবা করা ।

রঙ্গমঞ্চে আগমন  হল শয়তান ব্যাটার । আপনাকে ওয়াসওয়াসা দিতে শুরু করল ,“ কিরে ভন্ড! একটু আগে আল্লাহর নফরমানী করে আবার এখন এসেছিস তওবা করতে ? যা ভাগ !  তোর দেখি  কোন লজ্জা শরম নাই, আল্লাহ’র সামনে দাঁড়াচ্ছিস কোন মুখে ? আল্লাহ কি তোকে মাফ করে দিবে মনে করেছিস”?

আপনি ভেবে দেখলেন – কথার মধ্যে তো বেশ যুক্তি আছে । দ্বিধা দ্বন্দে ভোগা শুরু করলেন   তওবা করবেন কি করবেন না , ভুলে গেলেন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) তওবা করাকে কতটা উৎসাহিত করেছেন …

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন যারা তাঁর কাছে তওবা করে, এবং তিনি তাদেরকে ভালবাসেন যারা নিজেদেরকে পবিত্র করে।

—কুরআন, সূরা ২ (আল-বাকারা), আয়াত ২২২

অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে, এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন; আল্লাহ মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ।

—কুরআন, সূরা ৪ (আন-নিসা), আয়াত ১৭

প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপ করে, পাপীদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম যারা তওবা করে।

—সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং- ২৪৯৯

সহিহ বুখারীতে, আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেন:

আল্লাহর রাসূল বলেন, “তোমাদের কেও মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট খুঁজে পেয়ে যতটা খুশি হয়,আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবাতে তাঁর চেয়েও বেশি খুশি হন।”

সহীহ বুখারী৮:৭৫:৩২১

ব্যাস শয়তানের প্ল্যান সার্থক ।

শয়তানের কুমন্ত্রনা একেবারেই পাত্তা দিবেননা  , আপনাকে ভন্ড বললেও সে আসলে নিজেই ভন্ড । যে কোন পাপ করার পর এক   মাইক্রোসেকেন্ডও দেরি না করে তৎক্ষণাৎ তওবা করুন , বহুত “ফায়দা” হবে।

“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সমীপে খাঁটি তওবা কর, এই আশায় যে তোমাদের প্রভু তোমাদের সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন আর তোমাদেরকে এমন উদ্যানসমূহে উপবিষ্ট করবেন যার নিম্নদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত থাকবে…”

—কুরআন,সূরা ৬৬ (আল-তাহরিম), আয়াত ৮

জালালুদ্দিন রুমী কী চমৎকার ভাবেই না বলেছেন –

“কড়া নাড়ো, তিনি তোমায় দরজা খুলে দেবেন
বিলীন হয়ে যাও, তিনি তোমায় সূর্যের মত উজ্জল করবেন
লুটিয়ে পড়ো, তিনি তোমায় বেহেশতে তুলে নেবেন
নিজেকে রিক্ত করো, তিনি তোমায় সবকিছু দিয়ে পূর্ণ করবেন”।

শয়তান বেচারার মন খুব খারাপ । এত চেষ্টার পরেও আপনার তওবা করা ঠেকাতে পারলো না । তার ষড়যন্ত্রের বাউন্সার,  দুর্দান্ত হুক করে আপনি পাঠিয়ে দিয়েছেন  মাঠের বাইরে । সে বুঝে ফেলেছে আপনাকে তওবা করা থেকে ফেরানোর মুরোদ ও’র কেন ও’র বাপ দাদা  চৌদ্দগুষ্ঠির কারো   নেই । কিন্তু  তারপরেও  দমে গেল না বেচারা । আবার রঙ্গমঞ্চে হাজির হল নতুন ফন্দি এঁটে –  এই তওবা দিয়েই ঘোল খাইয়ে ছাড়বে আপনাকে।  খেলা হবে ।

কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করল আপনাকে – আগে পর্ন মুভিটা দেখ তার পর তওবা করে ফেললি । আরে ব্যাটা  জানিস না তওবা করলে আল্লাহ কি পরিমাণ খুশি হয় ? সব পাপ মাফ করে দেয়” ? তুইও মজা পেলি আর আল্লাহও খুশি হল !!! সাপও মরলো লাঠিও ভাংলো না !!!

ভাই, এরকম প্ল্যান করে পাপ করার পর তওবা করলে , তওবা  কি কবুল হবে ? আল্লাহ (সুবঃ) খুশি হবেন ? আপনিই বলুন কমনসেন্সটা কাজে লাগিয়ে ?

বিষয়টা অনেকটা এরকম – আপনি রাস্তায়  কাউকে  বলা নেই কওয়া নেই মনের সুখে কিল থাপ্পড় চড় ঘুষি মেরে, মুখের জিওগ্রাফি বদলে দিয়ে সরি বললেন – তারপর ঐ বেচারা কি হাসিমুখে চেহারার রক্ত মুছতে মুছতে বলবেন  – ইটস ওকে ব্রো ? নাকি মামা চাচা দোস্ত সব্বাইকে ফোন করে শার্টের হাতা গুটিয়ে আপনার দিকে তেড়ে আসবে –    তবে রে ব্যাটা …

আল্লাহ (সুবঃ) যে কাজ হারাম করেছেন সেই কাজ এভাবে প্ল্যান করে করলে আল্লাহ (সুবঃ) এর সঙ্গে কি রসিকতা করা হয়ে যায় না ? আল্লাহর সঙ্গে রসিকতা !!!

আর তাছাড়া – পর্ন দেখা অবস্থায় বা মাস্টারবেট করা অবস্থায় মারা গেলে কবরে বা হাশরের ময়দানে  কেমন আদর আপ্যায়ন পাবেন সেটাও চিন্তা কইরেন ।

সাধু সাবধান । শয়তান এরকম কুমন্ত্রনা দিতে শুরু করলে বিতাড়িত শয়তান থেকে  চটজলদি আশ্রয় চান আল্লাহর কাছে । ল্যাপটপ , ফোন (যেটাতে আপনি পর্ন মুভি দেখার প্রিপারেশান নিচ্ছিলেন) বন্ধ করে দিয়ে ওই যায়গা ছেড়ে চলে যান দূরে । মানুষ জনের কাছে । খুব ভালো হয় সঙ্গে সঙ্গে ওজু করে  দুই রাকাত সলাত আদায় করতে পারলে । আরো ভালো হয় জোরে আযান দিতে পারলে – জানেনইতো – আযান শুনলে শয়তান পাদু করতে করতে এলাকা ছেড়ে পালায় – দূর হ ব্যাটা পাঁজির পা ঝাড়া  শয়তান! দূর হ!  দূরে যেয়ে মর  ………

 

(চলবে ইনশা আল্লাহ)

পড়ুন-

ফাঁদ – দ্বিতীয় পর্ব- https://bit.ly/2Od7b63
‘ফাঁদ’ (তৃতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2Od4nWz
‘ফাঁদ’ (চতুর্থ পর্ব ) – https://bit.ly/2CPbF1s
ফাঁদ (পঞ্চম পর্ব)- https://bit.ly/2x77Puk
ফাঁদ (ষষ্ঠ পর্ব)- https://bit.ly/2NIckWN
ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (দ্বিতীয় কিস্তি)

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (দ্বিতীয় কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

হস্তমৈথুন  বর্তমানে  যুবকদের সবচেয়ে বড়  সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এই    সমস্যার জন্য  ব্যক্তির থেকে সমাজ বেশি দায়ী । বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজ    ‘Late Marriage ‘ কে বেশি গুরুত্ব দেয়ায় এই সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। যখন    হালালের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই হারামের দিকেই মানুষ    বেশি ঝুঁকে।

এই সমাজের কারণেই মুসলিম তরুণ সমাজের একটা বিরাট অংশ হস্তমৈথুন নামক একটা Destructive নেশায় আসক্ত ।

এই   নেশা থেকে মুক্তি পাবার উপায়গুলো আমি প্রধানত ১) ইসলামের আলোকে ও ২) বিজ্ঞানের আলোকে আলোচনা করব। অন্যান্য বিষয়ের আলোকেও কিছু আলোচনা করা হবে।

প্রথমে আমাদের জানা উচিত, কেন আমরা হস্তমৈথুন নামক নেশায় বার বার পতিত হই?  BRAIN SCIENCE   আমাদের এই প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম।

BRAIN SCIENCE OF MASTURBATION:

“মানুষের Main Sex Organ কোনটি?”এই প্রশ্নের উত্তরে  বেশিরভাগ মানুষই বলবে- “পুরুষাঙ্গ ও স্ত্রীর যৌনাঙ্গ” । এই উত্তরটা ভুল । মানুষের  প্রধান  Sex Organ  হল মানুষের মস্তিষ্ক ।[1]  কারণ  মস্তিষ্কের কিছু    Neurotransmitter মানুষের ‘ Sexual Process ‘ এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন    করে।

যখন একজন  ব্যক্তি হস্তমৈথুন করতে উদ্যত হয় তখন  সে  “Funnel Of  Sexual   Process”   এর মধ্য দিয়ে যায়। । [2]  হস্তমৈথুন করার জন্য সে যৌন  উত্তেজক  কিছু  দেখে  বা কল্পনা করে। যৌন উত্তেজক কিছু দেখা বা কল্পনা করার  ফলে তার  শরীরে ‘  Testosterone ‘ এর নিঃসরণ বেড়ে যায় । ‘ Testosterone ‘  ব্যক্তিকে   Sexually arouse করে এবং তাকে এই ফানেলে ঢুকিয়ে দেয়।

এরপর   শক্তিশালী কিছু Neurochemicals নিঃসরিত হয় ব্রেইনে। যেমন-Dopamine, Endorphins । এখানে Dopamine হল একধরনের নিউরোট্রান্সমিটার আর এর কারণেই আমরা ‘Sexual Plesure’ অনুভব করি। মূলত Dopamine  এর কারণেই মানুষে  হস্তমৈথুনে নেশাগ্রস্থ হয় ।

ব্যক্তি  যখন ফানেলে প্রবেশ করে  তখন এই কেমিক্যালগুলো ব্রেইনে  নিঃসরিত হয় আর এই  কেমিক্যালগুলোর উদ্দেশ্য হল  ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ উত্তেজনার  অবস্থায়  পৌঁছানো অর্থাৎ Orgasm । এই  কেমিক্যালগুলো খুবই পাওয়ারফুল আর এই  কারণেই  যখন ব্যক্তি ফানেলের গভীরে চলে  যায় তখন সে যেকোন উপায়ে Orgasm করতে  চায়  ,বলা যায় এই কেমিক্যালগুলো  ব্যক্তিকে এই কাজ করতে বাধ্য করে।

উদাহরণ  হিসেবে Dopamine এর কথা বলা  যায় । Dopamine এর অন্যতম কাজ হল  যৌনসংগীর  উপর ব্যক্তির মনোযোগ বৃদ্ধি  করা  ও অন্যান্য বিষয়ের উপর থেকে  মনোযোগ  সরিয়ে নেয়া। অর্থাৎ এটা আপনার  ব্রেনকে যৌক্তিকভাবে অন্যান্য বিষয়  নিয়ে  চিন্তা করতে বাধা দেয় এবং   ব্যক্তিকে Orgasm এ পৌঁছাতে ব্যস্ত রাখে।  আর  এই কারণে যখন কেউ “Funnel Of  Sexual  Process”  এর খুব ভিতরে ঢুকে পড়ে তখন  যুক্তি খুব ধীরে কাজ করে।

এর   ফলে ” এই সব করা ঠিক না ” ” জাহান্নামের আগুনের কথা ” , ”  আল্লাহ্‌  তাআলা  আমাকে দেখছেন ” ইত্যাদি যুক্তিগুলো ব্যক্তির ঈমান অনুযায়ী  কাজ করে।  যদি  কারো ঈমান মজবুত হয় তাহলে সে    “Funnel Of Sexual   Process” এর সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছানোর ঠিক আগ মুহূর্তে ফিরে আসতে পারবে   ।যদি কোন   সুন্দরী নারী কোন পুরুষ আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে আহ্বান করে তাহলে  ”  ‘Testosterone   ‘ এর একটা Boost  নিঃসরণ হবে যা কিনা Dopamine কে triggered  করার  মাধ্যমে  ব্যক্তিকে “Funnel Of Sexual  Process” এর গভীরে ঢুকিয়ে দিবে।

আর  এইজন্যই হয়তো আল্লাহ্‌ তাআলার আরশের নিচে সে ব্যক্তি স্থান  পাবে যাকে  কোন  সুন্দরী নারী ব্যভিচারের জন্য আহবান করে অথচ সে ব্যক্তি তা  অস্বীকার  করে।

কিন্তু যাদের ঈমান দুর্বল তাদের জন্য ফিরে আসা খুব কঠিন । এজন্য অনেক প্রাক্টিসিং মুসলিমও এই বদভ্যাস থেকে সহজে মুক্তি পায় না।

তো  আমরা বুঝতে পারছি যে হস্তমৈথুনের দ্বারা  মূলত ‘ Dopamine Addiction’  হয় । যখন Orgasm হয় তখন   Dopamine brainstorm এর সৃষ্টি হয় যা কিনা হিরোইন খাবার পর ব্রেনে যে ক্রিয়া হয় তার সমতুল্য। [3]

এখন   যারা এই বদভ্যাসে অভ্যস্ত তারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন যে আপনাকে  “Funnel  Of  Sexual  Process” এর মধ্য থেকে ফিরে আসা শিখতে হবে  ও ‘Dopamine  Addiction ‘ ছাড়তে হবে। আর এই দুইটা  সমস্যার সবচাইতে সুন্দর  সমাধান  দিয়েছে ইসলাম।

আমি এখন ইসলামের আলোকে এই নেশা থেকে মুক্তি পাবার কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করব—

১) তাক্বওয়া:

অন্তরে   আল্লাহ্‌ তাআলার ভয় থাকতে হবে। আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদের সর্বদা  আমাদের  দেখছেন , তাই যখনই  Sexual Urge অনুভব করবেন তখনই মনে রাখবেন যে  আল্লাহ্‌   তাআলা আপনাকে দেখছেন। তাঁর দৃষ্টিকে এড়িয়ে আপনি কখনোই কোন কাজ  করতে  পারবেন  না। আপনার কাজের জবাবদিহি আল্লাহ্‌ তাআলার কাছে করতে হবে।যদি তিনি অসন্তুষ্ট হন তাহলে আপনার পরিণাম হবে জাহান্নাম । — এই কথাগুলো মাথায় রাখবেন।আর তাক্বওয়া বৃদ্ধি পায় এমন আমল নিয়মিত করতে হবে। তাক্বওয়া আপনাকে সকল প্রকার হারাম থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম ।

২) সাওম পালন :

যারা   বিয়ে করতে পারছেন না তাদের জন্য উত্তম হল সাওম পালন করা । কারণ সাওম পালন করলে মানুষের ‘ Will Power ‘ বাড়ে এবং মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে ।আর  এই দুটি গুণ দিয়ে সহজেই একজন তার  Sexual Desire ‘কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ ) বলেন —

” হে যুবক সমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ে করার সামর্থ রাখে সে  যেন বিয়ে করে  ।  কেননা বিয়ে দৃষ্টি ও লজ্জাস্থান হিফাযাতের জন্য সবচেয়ে বেশি  সহায়ক ।  আর  যে সামর্থ রাখে না সে যেন সাওম পালন করে,কেননা সাওম যৌন  উত্তেজনা প্রশমনকারী।”[সহীহ মুসলিম]

আর এই কারণে রমাদান মাসে অনেকেই পুরো এক মাসই হস্তমৈথুন করা থেকে বিরত থাকতে পারেন।

৩)নিয়মিত স্বলাত আদায়:

ইসলাম   প্র্যাকটিস করা ছাড়া এই নেশা থেকে মুক্তি পাবার পসিভিলিটি খুবই কম। ইসলাম প্র্যাকটিস করতে হলে অবশ্যই আপনাকে নিয়মিত স্বলাত আদায় করতে হবে। আর স্বলাতের ফাযীলতগুলোর মধ্য একটি হল যে স্বলাত অশ্লীল কাজ থেকে মানুষকে বিরত  রাখে।

মহান আল্লাহ্‌ বলেন–

” নিশ্চয়ই স্বলাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। ” [সূরা আনকাবূত, আয়াত-৪৫ ]

হস্তমৈথুন অবশ্যই একটা Erotic Act তাই নিয়মিত যত্নের সাথে স্বলাত আদায় করলে অবশ্যই আপনি এই অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকতে সক্ষম হবেন। বিস্তারিত জানার  জন্য আয়াতটির তাফসীর দেখে নিবেন।

৪)দৃষ্টি সংযত রাখা :

এই বিষয়ে অনেকে যুবকই অসচেতন । একটা কথা আপনাকে মনে রাখতে হবে যে  ‘Sincerity’  ছাড়া কখনোই আপনি এই নেশা থেকে মুক্তি পাবেন না। আর   ‘Sincerity ‘ এর পরীক্ষায় আপনাকে  পাশ করতে হলে অবশ্যই যখন আপনাকে আপনার  দৃষ্টিকে সংযত   রাখতে হবে। অনেকে আছে যারা বেগানা নারীর দিকে এক নজরে তাকিয়ে থাকে হোক তা বাস্তবে বা টিভিতে  অথবা কম্পিউটার স্ক্রিনে।

রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ ) বলেন–

“চোখের যিনা হল দৃষ্টিপাত করা বা দেখা। “[বুখারী]

কোন   মেয়েকে  একনজরে দেখার পর আপনার প্রধান Sex Organ  ব্রেন, ইনপুট হওয়া   ডাটা এনালাইজ করা শুরু করে ।  যেহেতু আপনি বিপরীত লিঙ্গকে  দেখেছেন  সেহেতু   আপনার শরীরে অল্প হলেও  ‘Testosterone ‘  নিঃসরিত হবে ,  কতটা নিঃসরিত হবে তা নির্ভর করে ডাটার আকর্ষণীয়তার উপর । আর এইভাবেই যদি   আপনি কয়েকজনকে   দেখেন তাহলে আপনার ব্রেইন সেই ইমেজগুলো অল্পসময়ের জন্য হলেও  সেভ করে রাখবে   আর এই ইমেজগুলোই আপনার  অন্তরে লুকিয়ে থাকা কামনাগুলোকে  জাগ্রত করে দিবে এবং আপনার শরীরের সেক্সুয়াল মোড অন করে দিবে যার ফলাফল হতে পারে হস্তমৈথুন।

তাই অশ্লীলমুভি, অশ্লীল অনুষ্ঠান  ও  বেপর্দা নারীদের দিকে দৃষ্টিপাত  করা থেকে আপনাকে বিরত থাকতে হবে নাহলে  হস্তমৈথুন থেকে মুক্তি লাভ  করা আর  আকাশ-কুসুম কল্পনা করা একই কথা হবে।

৫)অবাধ মেলামেশা:

যেখানে   নারীদের দিকে তাকানোই হারাম সেখানে তাদের সাথে প্রেম করা , বন্ধুত্ব করা ,মেলামেশা করার তো প্রশ্নই আসে না। অবাধ মেলামেশাও পুরুষের সেক্সুয়াল মোড অন করে। পুরুষ যখন কোন নারীর সাথে ইন্টারেকশন করে তখনও তার শরীরের   ভিতর  ‘Testosterone ‘  নিঃসৃত হয়  এবং তাকে সেই নারীর সাথে সঙ্গম করার  জন্য   প্রস্তুত করে।[4]

আর  ‘Testosterone ‘  নিঃসরণের লেভেল  যদি  high  হয় তাহলে ব্যক্তি  Orgasm এর প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে।  তাই  অবাধ মেলামেশা থেকে আপনাকে বিরত থাকতে হবে।

৬) বন্ধু নির্বাচন :

খারাপ  চরিত্রের বন্ধুদের সাথে মেলামেশা একেবারেই কমিয়ে দিতে হবে। আপনার ৫ জন বন্ধুর মধ্যে যদি ৪ জনই সেক্স এডিক্ট হয় , তাহলে আপনার সেক্স এডিক্ট   হবার সম্ভাবনা খুব বেশি।

রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ ) বলেছেন–

“মানুষ তার বন্ধুর স্বভাব-আচরণে প্রভাবিত হয়, সুতরাং  যাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে ,তার ব্যাপারে আগে ভেবে নাও। ” [আবু দাউদ, তিরমিযী]

তাই বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক থাকতে হবে। যারা ইসলামের পথে সময় ব্যয় করছে তারাই হতে পারে আপনার উত্তম বন্ধু ।

এছাড়া যা যা করতে পারেন-

শয়তান   আমাদের অশ্লীলতার পথে পরিচালিত করতে চায়।তাই যখনই শয়তান আপনাকে  আহ্বান  করবে হারামের পথে তখনই আপনি দু’আ পড়ে শয়তানের কুমন্ত্রণা   থেকে  আল্লাহ্‌   তাআলার কাছে আশ্রয় চাইবেন। ‘হিসনুল মুসলিম ‘ বইয়ে এই সম্পর্কিত  দু’আ   পাবেন। আপনি ‘ আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম ‘ বলেও আশ্রয়   চাইতে   পারেন।

রাতে ঘুমানোর সময় পুরুষদের   যৌনাঙ্গ  কয়েকবার erect হয়। একে বলা হয়  ‘Nocturnal Penile Tumescence’ ।  এই  erection এর কারণেও অনেকে উত্তেজিত হয়ে  পড়ে এবং হস্তমৈথুন করে। এই  সমস্যা  থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য  রসূলুল্লাহ্‌  (সঃ ) এর সুন্নাহ অনুসরণ  করতে হবে।  যখন আপনি রাতে ঘুমাতে যাবেন তখন অযু করে  ঘুমাতে পারেন,   ঘুমানোর সময় যেসব  দু’আ পড়তে আমাদের বলা হয়েছে সেগুলো পড়তে  পারেন , ডান  কাতে শুতে হবে ,  পেটের উপর শোয়া যাবে না ইত্যাদি।

আপনার রুমে ক্বুর’আনের আয়াত ও হাদীস পোস্টারিং করতে পারেন । এতে  করে   যখন আপনার  Sexual Urge হবে তখন যুক্তি দিয়ে তা সহজে কমাতে পারবেন।

একটা   কথা মনে রাখবেন রাতারাতি আপনি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন না, আপনাকে    ধৈর্য ধরতে হবে। কখনো ব্যর্থ হলে হতাশ না হয়ে আবার চেষ্টা করতে হবে।

আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদের হস্তমৈথুনের ফিতনা থেকে  বিরত থাকার তওফীক দান করুন। আমীন ।

[আগামী কিস্তিতে বিজ্ঞানের আলোকে কিছু পয়েন্ট আলোচনা করা হবে, ইনশা’আল্লাহ্‌ । পড়ার আমন্ত্রণ রইল]

পড়ুন-

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি – https://bit.ly/2N9OeEM
ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (শেষ কিস্তি) – https://bit.ly/2oYwnls

লেখক-  ফরহাদ হোসেইন মিঠু ।  উনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত। আল্লাহ ভাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।

তথ্যসূত্রঃ-

[1] Dr. Laura Berman

[2] Is Masturbation a Healthy Outlet?

[3] THE NEUROCHEMISTRY OF SEX

[4] Desires And Plesures Decoded , Documentry by Discovery Channel

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (দ্বিতীয় কিস্তি)

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (শেষ কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।

 

হস্তমৈথুন ও Diet Meal Plans:

কিছু কিছু খাদ্য দ্বারা আমাদের Libido (desire for sexual activity ) নিয়ন্ত্রিত হয় । এই বিষয়ে Cynthia Sass (author of S.A.S.S Yourself Slim) বলেন — “Studies show that certain foods or nutrients do play a role in boosting libido and supporting a healthy sex life.” [1]

 

যেসব খাবার Libido বাড়ায় তাদের বলা হয় Aphrodisiac Foods বলে। Aphrodisiac Foods মানুষের Libido বাড়াতে সাহায্য করে, এই জন্য একে Foods of Love ও বলা হয় । অপরদিকে Anti-aphrodisiac বা Anaphrodisiac Foods মানুষের Libido কমাতে সাহায্য করে । তাই আপনার ফুড প্ল্যানে যদি Aphrodisiac Foods বেশি থাকে তাহলে আপনার Sexual Urge ঘন ঘন হতে পারে এবং পাওয়ারফুলও হতে পারে। তাই হস্তমৈথুন রোধে আপনাকে একটা ব্যালেন্সড ডায়েট মেনে চলতে হবে যেখানে Aphrodisiac Foods এর পরিমাণ অতিরিক্ত হবে না । Anti-aphrodisiac foods গুলো আমি খেতে বলব না কারণ এইগুলোর খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে।তাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল হয় যদি Aphrodisiac Foods খাওয়া কমিয়ে দেয়া হয় ।

আমি কিছু Aphrodisiac Foods এর নাম বলছি ব্যাখ্যাসহ এবং Anti-aphrodisiac এর সম্পর্কেও কিছু তথ্য দিব ।

 

Aphrodisiac Foods :-

Fruits:-

Watermelon (তরমুজ ) :- তরমুজের একটা টুকরো sweet libido-booster হিসেবে কাজ করতে সক্ষম । Texas A&M Fruit and Vegetable improvement Center এর রিসার্চাররা ২০০৮ সালে এক আর্টিকেলে বলেন যে, তরমুজের কিছু উপাদান আছে যা মানুষের শরীরে Viagra- like effects দিতে সক্ষম।

 

তরমুজ একধরণের Phytonutrient উপাদান ধারণ করে যার নাম হল Citruline । এই Citruline কে আমাদের শরীর arginine নামক অ্যামিনো এসিডে কনভার্ট করে । আর এই arginine আমাদের শরীরে নাইট্রিক এসিডের লেভেল বাড়ায় যার ফলে আমাদের Blood vessel গুলো relaxed হয় ।আর Viagra মেডিসিনও এই একই পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে। তাই যখন এই ফলের সিজন আসবে তখন অবিবাহিতদের জন্য এই ফলটা একটু কম খাওয়াই ভাল হবে।

 

 

Mango (আম ) :- Vitamin E এর ভাল প্রাকৃতিক উৎস হল আম । এই Vitamin E কে বলা হয় sex vitamin । এইজন্য আম হল একটা Aphrodisiac Fruit ।

 

Banana (কলা ) :- কলা হল B-group Vitamin ও পটাশিয়ামের দারুণ উৎস। এই দুটি পুষ্টি উপাদান সেক্স হরমোন প্রোডাকশনে ব্যবহৃত হয় । এছাড়া কলা ‘Bromelain ‘ নামক এনজাইম প্রডুস করে , ধারণা করা হয় এই এনজাইম male libido বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

 

Apple (আপেল) :- আপেলে ‘Quercetin’ নামক একধরনের antioxidant থাকে ।’Quercetin’ এর কারণেই একে Aphrodisiac Fruit বলে গণ্য করা হয়। এছাড়া বেরি , কাল-আংগুর , চেরিতেও ‘Quercetin’ থাকে ।

 

Animal-Based Protein:-

 

Egg (ডিম) :- ডিম হল হাই প্রোটিনযুক্ত খাদ্য। আর প্রোটিন Aphrodisiac effect বাড়ায় । এছাড়া ডিম হল L-arginine নামক অ্যামিনো এসিডের ভাল উৎস । আর এই L-arginine যৌন রোগ erectile dysfunction এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় । তাই বিবাহিত ভাইয়েরা বেশি বেশি ডিম খান আর অবিবাহিতরা ডিম খাওয়া কমিয়ে দিন ।

 

Meat (মাংস ) :- বিফ ও চিকেনে Carnitine ও L-arginine নামক অ্যামিনো এসিড থাকে আর থাকে জিংক । Carnitine ও L-arginine রক্তপ্রবাহ ইম্প্রুভ করে এবং সেক্সুয়াল Function এর জন্যও এরা গুরুত্বপূর্ণ । জিংকও সেক্সুয়াল Function এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

 

 Vegetables:-

 

Tomato (টমেটো :- Love Apple নামে পরিচিত টমেটোতে প্রচুর ভিটামিন-এ থাকে । আর এই ভিটামিন-এ টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে Vital Role পালন করে।

Carrot (গাজর):- গাজরকে ভায়াগ্রার ভেজিটেবিল ভার্সন বলা যায়।কারণ গাজরে ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-ই দুইটাই থাকে যা সেক্স হরমোনকে পজিটিভলি ইফেক্ট করে থাকে ।

Chilies (মরিচ ) :- মরিচে থাকা Capsaicin হার্টবিট বাড়ায় এবং endorphin রিলিজ করতে সাহায্য করে যা কিনা Libido বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে ।

 

Others:- Honey (মধু) :- মধুতে প্রচুর ভিটামিন-বি থাকে যা টেস্টোস্টেরন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন হয়।

 

Garlic (রসুন ) :- রসুনে ‘ Allicin ‘ নামক পদার্থ থাকে । ‘ Allicin ‘ সেক্সুয়াল অর্গানগুলোতে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় যা কিনা Libido বৃদ্ধিতে সহায়ক । এছাড়া আরো Aphrodisiac Foods আছে। আমি শুধু যেগুলো সহজলভ্য সেগুলোর নামই উল্লেখ করেছি ।

 

Anti-Aphrodisiac Foods :-

প্রাচীন যুগ থেকেই Anti-Aphrodisiac এর খোঁজ শুরু হয়ে ছিল । মধ্যযুগে যৌন চাহিদা কমানোর জন্য সাধুরা Chaste Tree এর Berry খেত ।যদিও এখন Anti-Aphrodisiac হিসেবে এটা ব্যবহৃত হয় না। বেশির ভাগ Anti-Aphrodisiac এর ব্যাড ইফেক্টস আছে কিছু ।কারণ কিছু Anti-Aphrodisiac টেস্টোস্টেরনের লেভেল একেবারে কমিয়ে দেয় ।আর টেস্টোস্টেরন পুরুষের দেহ গঠনে ও রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেমে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

 

Anti-Aphrodisiac Drug এর কাজ হল ভায়াগ্রার বিপরীত যাকে Anti-Viagra বলা হয় । আর এই ড্রাগগুলো সাধারণত জেলে থাকা বন্দীদের দেয়া হয় যাতে বন্দীদের যৌন উত্তেজনা প্রশমিত হয় ।এছাড়া যাদের Over-active Sexual Drive আছে তারাও ডাক্তারের পরামর্শে এই ধরনের ড্রাগ নিয়ে থাকেন।

 

আমি শুধু দুইটা পয়েন্ট দিব Anti-Aphrodisiac সম্পর্কে –

 

 

১) Rice :- ভাত খাওয়ার মাধ্যমে টেস্টোস্টেরনের লেভেল কমানো যায় ।[2] কারণ ভাতে ফ্যাট কম থাকে । আর এর সাইড ইফেক্টসও নেই ।

 

২) Green and Yellow Vegetables :- সবুজ এবং হলুদ শাক-সবজিও ভাল Anti-Aphrodisiac হিসেবে কাজ করে ।

 

 

ডায়েট যেভাবে করবেন :-

Aphrodisiac Food গুলোর বড় লিস্ট দেখে হয়তো অনেকে ভাবছেন যে, “আরে ভাই সব খাবারের নামই তো দিয়ে দিলেন ? তাহলে আমরা খাব টা কি ? ” আসলে আমি Aphrodisiac Food খেতে নিষেধ করি নি। আমি বলতে চাচ্ছি যে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেন Aphrodisiac Food গুলো কম থাকে। যেমন ধরুন–কেউ সকালে পুরো অর্ধেক একটা তরমুজ খেয়ে নাস্তা করল, দুপুরে চিকেন খেল , বিকালের নাস্তায় কলা ও আম খেল , আবার রাত্রে বিফ ও ডিম খেল! তাহলে এটা হয়ে যাবে Aphrodisiac Based Diet Plan ।তাই আপনাকে যেটা করতে হবে সেটা হল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই ধরনের খাবার কমিয়ে রাখা ,একেরবারেই ছেড়ে দিতে হবে এমন কোন কথা নেই। কারণ Aphrodisiac খাদ্যগুলোর মধ্যে কিছু আছে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল ।

আর সবচেয়ে ভাল হয় Plant Based Diet করলে । কারণ গবেষণায় দেখা যায় যে , Plant Based Diet মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ায় । তাই শাক-সবজি বেশি খাবেন আর Animal-Based খাদ্য যেমন – বিফ , চিকেন এগুলো কম খাবেন।

 

আর আপনি যদি হস্তমৈথুন থেকে একেবারেই মুক্তি পেয়ে যান তাহলে এই ডায়েট Plan স্ট্রিকলি ফলো করার দরকার নেই । যদি আপনি ১ম  ও ২য় কিস্তির  সমাধানগুলোও স্ট্রিকলি মেনে চলেন তাহলে এই ডায়েট Plan আপনার জন্য Optional হবে।

 

আল্লাহ্‌ আমাদের হস্তমৈথুনের ফিতনা থেকে হিফাজত করুন । আমীন ।

পড়ুনঃ

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি – https://bit.ly/2N9OeEM
ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) – https://bit.ly/2p2f9E1

 

 

লেখক-  ফরহাদ হোসেইন মিঠু ।  উনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত। আল্লাহ ভাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।

 

রেফারেন্স :-

[1] Best and Worst Foods for Sex

[2] “Foods That Fight Pain: ” by Dr. Neal Barnard

[3] পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্যগুলো নেয়া হয়েছে বিভিন্ন আর্টিকেল থেকে।