‘মাদকের রাজ্যে’

‘মাদকের রাজ্যে’

‘মাদকের রাজ্যে’

মেঘের অনেক রং।

কখনো রক্তের মতো টকটকে লাল।

কখনো নীল।

কখনো সবুজ।

কখনো সজনে ফুলের মতো সাদা।

এখন অবশ্য মেঘের রং ধূসর।

টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।

মন খারাপ করে দেওয়া বৃষ্টি।

সেদিন সকালে বৃষ্টি ছিল কিনা মনে নেই, তবে কেন জানি আমার মন খারাপ ছিল ভীষণ। বিক্ষিপ্ত ভাবে নেট ব্রাউজিং করছিলাম। হটাৎই একটা লিখা চোখে পড়ল। কে জানতো এই লিখাটি বদলে দিবে আমার জীবনের গতিপথ!

লেখকের মুন্সিয়ানা আছে বটে, বাস্তব ঘটনা, তথ্য উপাত্ত আর কিছু বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আশ্চর্য এক কাহিনী ফেঁদে বসে আছেন; পর্ন আসক্তি নাকি কোকেইন বা হিরোইন আসক্তির মতোই ক্ষতিকর! এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম লিখাটি। হজম করতে সময় লাগলো কিছুটা।

পর্ন দেখলে আপনার যে ক্ষতিটা হবে কোকেইন,হিরোইন ইত্যাদি কড়া মাদক সেবনেও আপনার একই ক্ষতি হবে! শুধু তাই না পর্ন আসক্তি আপনার মস্তিষ্কের গঠণই বদলে ফেলবে!

কিন্তু কেন? আপনি কিছু খেলেন না, পান করলেন না, ঘরের এককোণে বসে বসে পর্ন দেখলেন তারপরেও কেন কোকেইন বা হিরোইন সেবনের মতো ক্ষতির শিকার হবেন আপনি?  কেন আপনার মস্তিষ্ক পরিবর্তিত হয়ে যাবে?

এই ‘কেন’র উত্তর পাবার জন্য বিজ্ঞানের কিছু কচকচানি শুনতে হবে। চেষ্টা করছি যতোটা সম্ভব সহজ ভাবে বোঝানোর।

আমাদের মস্তিষ্কের একটা অংশকে বলা হয় রিওয়ার্ড সেন্টার। এটার কাজ হল আপনাকে পুরষ্কৃত করার মাধ্যমে আনন্দের অনুভূতি দেওয়া, বেঁচে থাকার প্রেরণা দেওয়া[1,2]। সহজ বাংলায় বলি, ছোট বেলায় ফেলুদা পড়ার নেশা ছিল। বাসা থেকে বলতো পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট কর তাহলে ফেলুদার বই কিনে দেওয়া হবে। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার পর আমাকে ফেলুদার বই কিনে  দিয়ে ভালো ফলাফলের জন্য পুরুষ্কৃত করা হল। রিওয়ার্ড সেন্টার ঠিক এই কাজটাই করে। যেসব কাজগুলো আপনার জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ভালো কিছু খাওয়া,কিছু পাবার জন্য কঠোর পরিশ্রম করা সেই সব কাজগুলোর জন্য আপনাকে প্রেরণা দিবে এবং কাজ শেষ হলে পুরষ্কার প্রদান করবে।

কিন্তু রিওয়ার্ড সেন্টার কীভাবে  আমাদের পুরষ্কৃত করে? মেকানিজম টা কী?

রিওয়ার্ড সেন্টার এই পুরষ্কার দেবার জন্য ডোপামিন এবং অক্সিটোসিন নামের দুটি কেমিক্যাল রিলিজ করে। এই কেমিক্যাল গুলো পাইকারী হারে উৎপন্ন হয় যখন রিওয়ার্ড সেন্টার অনুভব করে পুরষ্কার দেওয়ার মতো কিছু ঘটেছে। এই দুইটি কেমিক্যাল উৎপন্ন হলেই খেল খতম… এরপর আকাশে বাতাসে শুধু আনন্দ আর আনন্দ। আনন্দম, আনন্দম,আনন্দম।[3]

কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো এই ‘রিওয়ার্ড সেন্টারটি’ খুব সহজেই বেহাত হয়ে যায়। [4]

 

আফিম বা কোকেন জাতীয় মাদকদ্রব্য কোন প্রকার ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই ‘আরামসে’ রিওয়ার্ড সেন্টারকে উত্তেজিত করে তোলে। মস্তিষ্কে ডোপামিন আর অক্সিটোসিনের জলোচ্ছ্বাস শুরু হয় পরিণতিতে কবি গুরুর ভাষায়  ‘সুখের মতো ব্যাথা’ অনুভূত হতে থাকে। [5]

পর্নও, মাদক দ্রব্যের মতো খুব সহজেই মস্তিষ্কে ডোপামিনের বন্যা বইয়ে দিয়ে এর দর্শককে ক্ষনিকের জন্য সুতীব্র আনন্দ দিতে পারে [6]। পর্নআসক্ত এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা গিয়েছে তাদের মস্তিষ্কের গঠন হুবহু এক[7]।  লেকিন  পিকচার আভি বাকী হ্যায়…

ডোপামিন ব্রেইন পালসের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুরুষ্কার পাবার নতুন রাস্তা তৈরি করে। যার ফলে এর দর্শক ঠিক আগের কাজটাতে ফিরে যায় যার কারণে প্রথমবার ডোপামিন নির্গত হয়েছিল। এই কারণেই এক বার পর্ন দেখলে বার বার দেখতে ইচ্ছে করে। [8]

দুধের দাঁত পড়তে শুরু করেছে তখন কেবল। বহু কষ্টে ব্যাট তুলে ধরতে পারি । আশেপাশে আমার মতো কয়েকজন পিচ্চিকে নিয়ে একটা দল গঠন করা হল। বল থাকলেও ব্যাট ছিলনা। কারোরই সাহস ছিলনা বাবার কাছে ব্যাটের আবদার করার। অগ্যতা একজন তার বড় ভাইয়ের হাতে পায়ে ধরে  তাল গাছের ডাল চেঁছে ব্যাট বানানোর ব্যবস্থা করল। সেই ব্যাট নিয়ে আমাদের কী যে আনন্দ!

কিছুদিন এটা দিয়ে জম্পেশ খেলা হল, কিন্তু তারপর তালের এই ব্যাট দিয়ে আর খেলতে ইচ্ছে করতোনা। ইতিমধ্যে আমরা কিছুট বড় হয়ে গিয়েছি। কাঠমিস্ত্রীদের দিয়ে নিম কাঠের সুন্দর একটা ব্যাট বানানো হল। নীলরঙা এই ব্যাট এখনো আমার চোখে ভাসে! কত  ছক্কা যে মেরেছি এই ব্যাট দিয়ে!  কিছুদিন পরে এই ব্যাট দিয়েও খেলার আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম। চাঁদা তুলে বেশ দামী কাঠের বল খেলার ব্যাট কেনা হল।

এতো প্যাঁচাল পাড়ার একটাই উদ্দেশ্য  আপনাদের বোঝানো যে মানুষ কোন কিছু নিয়ে খুব বেশীদিন সন্তুষ্ট থাকতে পারেনা। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) মানুষকে এভাবেই সৃষ্টি করেছেন।

পর্নআসক্তির ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটে। ধরুন, আপনি কোন সফটকোর পর্ন দেখলেন, একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ডোপামিন রিলিজ হল আপনি আনন্দ পেলেন। পর পর কয়েকবার পর্নমুভি দেখার পর ঠিক একই পরিমাণ ডোপামিন রিলিজ হলেও আপনি আগের মতো আর আনন্দ পাবেননা। আপনি আর এই পর্ন মুভিতে সন্তুষ্ট থাকতে পারবেননা। আপনার প্রয়োজন পড়বে নতুন কিছুর। কেন এমন হয়?

 

কারন মাত্রারিক্ত ডোপামিন রিলিজ হলে মস্তিষ্ক ডোপামিনের ব্যাপারে কম সংবেদনশীল হয়ে যায়। অতিরিক্ত ডোপামিনের প্রভাব থেকে আত্মরক্ষার জন্য মস্তিষ্ক কিছু Receptor Nerve বিসর্জন দেয় [9]। এই Receptor Nerve এর কাজ হল ডোপামিন অণু গ্রহণ করে মস্তিষ্ককে এই সিগন্যাল দেওয়া যে আমি এতো এতো পরিমাণ ডোপামিন গ্রহণ করেছি । যখন Receptor Nerve এর সংখ্যা কমে যাচ্ছে তখন ডোপামিন রিলিজ হলেও সেটা গ্রহণ করার জন্য পর্যাপ্ত Receptor Nerve থাকছে না এবং মস্তিষ্ক ধরে নিচ্ছে উপস্থিত ডোপামিনের পরিমাণ খুব কম। এ কারনেই সেই একই পর্নমুভি দেখেও আপনি আগের চেয়ে কম আনন্দ পাচ্ছেন।

পূর্বের মতো আনন্দ পাবার জন্য আপনি তখন ঝুঁকে পড়বেন  হার্ডকোর পর্ন এর দিকে।  এতে ডোপামিন রিলিজের মাত্রা বাড়বে এবং আপনি পাবেন সেই পূর্বের সুতীব্র আনন্দ। সফট কোর পর্ন দিয়ে শুরু করে ডোপামিন লেভেলের সঙ্গে পাল্লা দেবার জন্য আপনি ধীরে ধীরে গে পর্ন, লেসবিয়ান পর্ন,চাইল্ড পর্ন এর মতো জঘন্য ক্যাটাগরির পর্ন দেখা শুরু করবেন।[10]

মাদকাসক্তদের ক্ষেত্রেও কিন্তু ঠিক এমনটাই ঘটে। সিগারেট থেকে যে মাদকাসক্তির সূচনা হয় তার শেষ হয় কোকেইন , হিরোইন দিয়ে।[11,12]

আমাদের মস্তিষ্কের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ হচ্ছে ফ্রন্টাল লোব। এই বাবাজির কাজ কী?

ল্যাবের করিডোর দিয়ে কোণ রূপবতী হেঁটে গেলে আপনার দুচোখে যে স্বপ্নের আবীর নামে তার জন্য দায়ী এই ফ্রন্টাল লোব। আমাদের ভাব প্রকাশের মাধ্যম মানে ভাষা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের পারদর্শিতা, সর্বোপরি আমাদের ব্যক্তিত্ব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই ফ্রন্টাল লোব। [13]

মাদকাসক্তি,অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়া,ইন্টারনেট আসক্তি,পর্ন এই ফ্রন্টাল লোবের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। [14] ভয়ংকর ব্যাপার হলো- একজন মানুষ যতোবেশী পর্ণ দেখে, ঠিক ততোবেশী তার মস্তিষ্কের ক্ষতি  সাধিত হয়ে থাকে, এবং ক্ষতি থেকে রিকভার করাটাও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।[15]

আশাকরি বোঝা গিয়েছে আপাত দৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও পর্নমুভি  মুভি কী বিশাল ক্ষতি করে আপনার মস্তিষ্কের।

রেফারেন্সঃ

[1]  Hilton, D. L., and Watts, C. (2011). Pornography Addiction: A Neuroscience Perspective. Surgical Neurology International, 2: 19; (http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3050060/) Bostwick, J. M. and Bucci, J. E. (2008). Internet Sex Addiction Treated with Naltrexone. Mayo Clinic Proceedings 83, 2: 226–230; Nestler, E. J. (2005). Is There a Common Molecular Pathway for Addiction? Nature Neuroscience 9, 11: 1445–1449; Leshner, A. (1997). Addiction Is a Brain Disease and It Matters. Science 278: 45–7.

[2] Bostwick, J. M. and Bucci, J. E. (2008). Internet Sex Addiction Treated with Naltrexone. Mayo Clinic Proceedings 83, 2: 226–230; Balfour, M. E., Yu, L., and Coolen, L. M. (2004). Sexual Behavior and Sex-Associated Environmental Cues Activate the Mesolimbic System in Male Rats. Neuropsychopharmacology 29, 4:718–730; Leshner, A. (1997). Addiction Is a Brain Disease and It Matters. Science 278: 45–7.

[3]  Hedges, V. L., Chakravarty, S., Nestler, E. J., and Meisel, R. L. (2009). DeltaFosB Overexpression in the Nucleus Accumbens Enhances Sexual Reward in Female Syrian Hamsters. Genes Brain and Behavior 8, 4: 442–449; Bostwick, J. M. and Bucci, J. E. (2008). Internet Sex Addiction Treated with Naltrexone. Mayo Clinic Proceedings 83, 2: 226–230; Doidge, N. (2007). The Brain That Changes Itself. New York: Penguin Books, 108; Mick, T. M. and Hollander, E. (2006). Impulsive-Compulsive Sexual Behavior. CNS Spectrums, 11(12):944-955; Nestler, E. J. (2005). Is There a Common Molecular Pathway for Addiction? Nature Neuroscience 9, 11: 1445–1449; Leshner, A. (1997). Addiction Is a Brain Disease and It Matters. Science 278: 45–7.

 

[4] Doidge, N. (2007). The Brain That Changes Itself. New York: Penguin Books, 106;
Kauer, J. A., and Malenka, J. C. (2007). Synaptic Plasticity and Addiction. Nature Reviews Neuroscience 8: 844–858; Mick, T. M. and Hollander, E. (2006). Impulsive-Compulsive Sexual Behavior. CNS Spectrums, 11(12):944-955; Nestler, E. J. (2005). Is There a Common Molecular Pathway for Addiction? Nature Neuroscience 9, 11: 1445–1449; Leshner, A. (1997). Addiction Is a Brain Disease and It Matters. Science 278: 45–7.

[5] Doidge, N. (2007). The Brain That Changes Itself. New York: Penguin Books, 106; Nestler, E. J. (2005). Is There a Common Molecular Pathway for Addiction? Nature Neuroscience 9, 11: 1445–1449.

[6] Doidge, N. (2007). The Brain That Changes Itself. New York: Penguin Books, 106;
Nestler, E. J. (2005). Is There a Common Molecular Pathway for Addiction? Nature Neuroscience 9, 11: 1445–1449.

[7] https://www.youtube.com/watch?v=OtQBxsf1st8

[8] Hilton, D. L. (2013). Pornography Addiction—A Supranormal Stimulus Considered in the Context of Neuroplasticity. Socioaffective Neuroscience & Psychology 3:20767; Pitchers, K. K., Vialou, V., Nestler, E. J., Laviolette, S. R., Lehman, M. N., and Coolen, L. M. (2013). Natural and Drug Rewards Act on Common Neural Plasticity Mechanisms with DeltaFosB as a Key Mediator. Journal of Neuroscience 33, 8: 3434-3442; Hedges, V. L., Chakravarty, S., Nestler, E. J., and Meisel, R. L. (2009). DeltaFosB Overexpression in the Nucleus Accumbens Enhances Sexual Reward in Female Syrian Hamsters. Genes Brain and Behavior 8, 4: 442–449; Hilton, D. L., and Watts, C. (2011). Pornography Addiction: A Neuroscience Perspective. Surgical Neurology International, 2: 19; (http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3050060/)
Miner, M. H., Raymond, N., Mueller, B. A., Lloyd, M., Lim, K. O. (2009). Preliminary Investigation of the Impulsive and Neuroanatomical Characteristics of Compulsive Sexual Behavior. Psychiatry Research 174: 146–51; Angres, D. H. and Bettinardi-Angres, K. (2008). The Disease of Addiction: Origins, Treatment, and Recovery. Disease-a-Month 54: 696–721; Doidge, N. (2007). The Brain That Changes Itself. New York: Penguin Books, 107

[9] Hilton, D. L., and Watts, C. (2011). Pornography Addiction: A Neuroscience Perspective. Surgical Neurology International, 2: 19; (http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3050060/) Angres, D. H. and Bettinardi-Angres, K. (2008). The Disease of Addiction: Origins, Treatment, and Recovery. Disease-a-Month 54: 696–721.

[10] Angres, D. H. and Bettinardi-Angres, K. (2008). The Disease of Addiction: Origins, Treatment, and Recovery. Disease-a-Month 54: 696–721; Zillmann, D. (2000). Influence of Unrestrained Access to Erotica on Adolescents’ and Young Adults’ Dispositions Toward Sexuality. Journal of Adolescent Health 27, 2: 41–44.

[11] http://fightthenewdrug.org/how-porn-affects-the-brain-like-a-drug/#sthash.ROBODp8y.dpbs

[12] https://www.yourbrainonporn.com/brain-scan-studies-porn-users

[13] https://www.healthline.com/human-body-maps/frontal-lobe/male

[14] Yuan, K., Quin, W., Lui, Y., and Tian, J. (2011). Internet Addiction: Neuroimaging Findings. Communicative & Integrative Biology 4, 6: 637–639; Zhou, Y., Lin, F., Du, Y., Qin, L., Zhao, Z., Xu, J., et al. (2011). Gray Matter Abnormalities in Internet Addiction: A Voxel-Based Morphometry Study. European Journal of Radiology 79, 1: 92–95; Miner, M. H., Raymond, N., Mueller, B. A., Lloyd, M., Lim, K. O. (2009). Preliminary Investigation of the Impulsive and Neuroanatomical Characteristics of Compulsive Sexual Behavior. Psychiatry Research 174: 146–51; Schiffer, B., Peschel, T., Paul, T., Gizewshi, E., Forshing, M., Leygraf, N., et al. (2007). Structural Brain Abnormalities in the Frontostriatal System and Cerebellum in Pedophilia. Journal of Psychiatric Research 41, 9: 754–762; Pannacciulli, N., Del Parigi, A., Chen, K., Le, D. S. N. T., Reiman, R. M., and Tataranni, P. A. (2006). Brain Abnormalities in Human Obesity: A Voxel-Based Morphometry Study. NeuroImage 31, 4: 1419–1425.

[15] Angres, D. H. and Bettinardi-Angres, K. (2008). The Disease of Addiction: Origins, Treatment, and Recovery. Disease-a-Month 54: 696–721.

একটি নির্দয় পৃথিবী

একটি নির্দয় পৃথিবী

পর্নোগ্রাফি গত দুই দশক থেকেই জনসাধারণের বেডরুম, ড্রয়িংরুমে পৌঁছাতে শুরু করে স্যাটেলাইট চ্যানেল আর ভিসিআর এর মাধ্যমে । এবং এখনকার সময়টাতে ইন্টারনেটের বদৌলতে  একেবারেই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে । কেবল দুই তিনটা ক্লিকের ব্যাপার । তারপরেই পর্ন এর বিশাল ভান্ডার ।

আতঙ্কিত হবার বিষয় হল,পর্নোগ্রাফির বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বা তার চেয়েও কয়েকগুণ দ্রুত গতিতে বেড়েছে শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণ , মাত্রাতিরিক্ত ভায়োলেন্স, জঘন্য পদ্ধতিতে  নারীদের নির্যাতন করার ঘটনা । সেই সাথে বেড়েছে ‘কামের’ দৌরাত্ম। টেলিভিশানের বিজ্ঞাপন,স্পোর্টস ম্যাগাজিন,কর্পোরেট অফিস ভার্সিটির ক্যাম্পাস কোথায় আজ ‘কামের’ কেনাবেচা চলে না ?

আবির্ভাবের সময় থেকেই  পর্নোগ্রাফি,বিকৃত কাম এবং বিকৃত পৌরষত্বের   মাখামাখি সম্পর্ক । তবে পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে এবং প্রভাবে  বর্তমানে মহিলাদের  যৌন হয়রানি এমনকি মারধোর করে বিকৃত পৌরষত্বের প্রকাশটা বেশ চোখে লাগার মত ।

সত্যি কথা বলতে কি , পর্নোগ্রাফি আমাদের এই হৃদয়হীন কর্পোরেট সমাজের নিষ্ঠুরতাকেই ফুটিয়ে তোলে । আমাদের সমাজটা কি হৃদয়হীন হয়ে যাই নি? আমরা কি অমানুষ হয়ে যাই নি ?  আমরা তো সেই সমাজে বাস করি, যাদের  আমেরিকা এবং তার ইয়ার দোস্তদের বাণিজ্যিক অবরোধের কারণে গাজায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হলেও কিছু যায় আসে না ।  ইরাকে পাঁচ লাখ শিশু না খেতে পেয়ে কুকুর বিড়ালের মতো  মৃত্যুবরন করলেই বা আমদের কি?  আফগানিস্তান, পাকিস্তানে ড্রোন হামলায় শত শত নাবিলার সংসার তছনছ হচ্ছে তো কি হয়েছে আমাদের তো কিছুই হয়নি ?

চৌদ্দ বছরের ইরাকী বালিকা আবীর-আল-জানবিকে গনধর্ষণ করে , তার পরিবারের সকল সদস্যকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেললেও আমাদের প্রতিবাদ করা তো দূরে থাক, এগুলো শুনতেও ইচ্ছা করে না ।

পর্নোগ্রাফির ভায়োলেন্স, নিষ্ঠুরতা , নারীদের সম্মানহানি করা আমাদের এই ঘুনে ধরা, ভোগবাদী স্বার্থপর সমাজেরই প্রতিচ্ছবি ।

আবু গারিব  কারাগারের আমেরিকান সৈন্যদের হাতে নির্যাতিত মুসলিম বন্দীদের যে কয়েকটা ছবি লিকড হয়েছে সেগুলো পর্ন এর চাইতেও জঘন্য । একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে এক আমেরিকান মহিলা সৈনিক এক উলঙ্গ পুরুষের গলায় দড়ি বেঁধে গরু ছাগলের মত টানছে ।

আর একটা ছবি শিকলে বাঁধা নগ্ন বন্দীর  ।

মুসলিম বন্দীদেরকে নগ্ন করে, মেঝেতে একজনের ওপর আর একজনকে সাজিয়ে মানুষের পিরামিড তৈরি করা হয়েছে এমন ছবিও ছিল  ।

এবং এরকম আরো শত শত ক্লাসিফাইড ছবি আছে, যেগুলোর নাগাল হয়তো সাধারণ মানুষ কখনো পাবে না । কয়েকজন কংগ্রেসম্যান এরকম কিছু ক্লাসিফাইড ছবি দেখেছেন । ইরাকী মুসলিম বন্দীদের  জোরপূর্বক মাস্টারবেট করতে বাধ্য করানোর ছবি, যৌন মিলনের অভিনয়ে বাধ্য করানোর ছবি । কারাগারের গার্ডদের যৌন মিলনের  ছবি ।

পর্ন, পেশাদার রেসলিং, টেলিভিশানের রিয়েলিটি শো, মিউজিক ভিডিও এবং কর্পোরেট কালচারের  অন্তসারশূন্যতা এবং ভয়াবহতা এই লিকড ছবিগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় । এটা এমন একটি কালচার যা আপনার উপর আধিপত্য বিস্তার করে আপনাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করবে, আপনাকে মানসিক দাসত্বের শিকল পড়িয়ে দিবে এবং সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হল এটা আপনি কখনোই অনুধাবন করতে পারবেন না যে আপনি নিজেকে পুরোপুরি স্বাধীন একজন মানুষ হিসেবে দাবি করলেও আপনি যেদিন থেকে পর্ন এর খপ্পরে পড়েছেন সেদিনই আপনার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছেন । আপনি আসলে একজন দাস  । এটি এমন একটি পৃথিবী যেখানে নৈতিকতা এবং দয়ার কোন স্থান নেই । এটি এমন একটি পৃথিবী যেখানে ভালবাসা আর কামের নামে  নারীদেরকে বাণিজ্যিক পন্যের মতো কেনাবেচা করা হয় । মানুষকে শেখায় শুধুমাত্র ভোগবাদী চোখদিয়ে আর একজনকে বিচার করতে  ।

পর্নমুভি আমাদের সমাজে এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে যে এটা আর কারো চোখে লাগে না ।  যৌন হয়রানি, নির্যাতন, ধর্ষণ, শারীরিক এবং মানসিক টর্চার এইগুলোও মোটামুটি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে গেছে । সামাজিক লজ্জা বা সামাজিক এবং রাষ্টীয় দায়বদ্ধতা এই ব্যাপারগুলো হারিয়ে গেছে ।

বিল মারগোল্ড নামক একজন পর্ন মুভির অভিনেতা এবং প্রডিউসার  একবার খুব আক্ষেপ করে বলেছিলেন , “  আমি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি , এই জঘন্য ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কাজটাই হল নারীদের জঘন্য পদ্ধতিতে নির্যাতনের মাধ্যমে   কিছু বিকৃত মানসিকতার (স্যাডিস্ট) পুরুষদের বিকৃত বাসনা চরিতার্থ করা । আমি ভেতরের গোমর ফাঁস করে দিয়েছি বলে   এই ইন্ডাস্ট্রি আমাকে ঘৃণা করে , কিন্তু আমি কাউকে পরোয়া করি না । আমরা সেটে এবং স্ক্রীনে মহিলাদের ধরে পেটাই, তাদের যাচ্ছেতাই ভাষায় গালি গালাজ করি , তাদের উপর চরমভাবে নির্যাতন চালানো হয় । আশ্চর্যের ব্যাপার হল , আমি শুনেছি আমার  এই অমানবিক কাজ গুলো পর্দায় দেখে  পর্ন মুভির  দর্শকেরা চিৎকার করে, সিটি বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে । আমি যখন কোন মহিলার গলা টিপে ধরি বা  তাদের সঙ্গে কুকুরের মত আচরণ করি তখন দর্শকেরা হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে ।

এত কিছুর পর নারীদেরকে পর্নমুভিতে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় , যেন তারা এটা খুব উপভোগ করছে । তাদের মুখ দিয়ে এমন এমন ডায়ালগ দেওয়ানো হয় যা একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানসিকতার কেউ কখনোই বলতে চাইবে না ।

এটি একটি নির্দয় পৃথিবী ।

(“Empire of Illusion: The End of Literacy and the Triumph of Spectacle”

by Pulitzer Prize winning author Chris Hedges

এই বইয়ের একটি অনুচ্ছেদের আলোকে রচিত,  ঈষৎ সংক্ষেপিত এবং পরিমার্জিত)

ক্যামেরার পেছনে

ক্যামেরার পেছনে

দর্শকদের কাছে পর্ণোগ্রাফী সুখ ও রোমাঞ্ছের এক জগত বলে মনে হয়। কিন্তু যারা এটা তৈরি করে বা এতে পারফর্ম করে, তাদের অধিকাংশই মাদক সেবন, যৌন-রোগ, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও আদম পাচারের সাথে জড়িত।

নিজেদের মোহময় রূপ ধরে রাখতে পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপক পরিশ্রম করে। যদিও ক্যামেরার পিছনে রয়ে গেছে মাদক সেবন, আদম পাচারের পাশবিক বাস্তবতা।

কিছু পরিবর্তন, পরিমার্জনের মাধ্যমে পর্নমুভিকে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন পর্দায় যা ঘটছে আ বেশ উপভোগ্য। কিন্তু আন-কাট ভার্সনের গল্প পুরোটাই বিপরীত। পর্ন পারফর্মারদেরকে তাদের এজেন্ট এবং পরিচালকরা নিয়মিত ভীতি প্রদর্শন করে। তাদেরকে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে এমন সব কাজ করতে বাধ্য করা হয় যা তারা করতে চায়না।

পর্ণোগ্রফাররা শুধুমাত্র অভিনেতাদের শারীরিক ও মানসিক কষ্টগুলোই কাট-ছাট করে না, বরং তারা এই সত্যটাকেই লুকায় যে, অধিকাংশ পারফর্মারদের পারফর্ম করতে বাধ্য করা হয় এবং তাদের আর কোন উপায়ই থাকে না।

প্রতারণার একটা অংশ এটাও যে, তারা চায় যেন সাধারণ মানুষ এই কথা মনে করে যে পর্ন একটা বৈধ বিনোদন যা গ্ল্যামারাস মানুষদের স্বেচ্ছায় তৈরি। দর্শকদের জন্য এটা খুবই প্রমোদ্ময় কারণ যারা এতে পারফর্ম করে তারা এটাকে বেশ উপভোগ করে। কিন্তু যে সত্যটা তারা লুকায় তা হলো, পারফর্মাররা এই জন্য হাসিমুখে উপভোগের অভিনয় করে যে ক্যামেরার পিছনে তার দিকে তাক করা আছে পিস্তল। লাস্যময় মুখটা গোমড়া হলেই হয়তো তা নিশানা ভেদ করবে।

আর একটা কুফল হলো আদম পাচার। যেহেতু এটা গোপন ব্যবসা তাই স্পষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া বেশ মুশকিল। কিন্তু যেসব ঘটনা আলোর মুখ দেখেছে তা সত্যই গা হিম করার মতো। যেমন, ২০১১ সালে মায়ামির দুইজন বাসিন্দার বিরূদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয় যে, তারা ৫ বছর যাবত মেয়েদেরকে পাচারের ফাঁদে ফেলার জন্য নানাভাবে প্রলুব্ধ করে। প্রথমে তারা মডেলিং এর প্রস্তাব দেয়। যখন তারা অডিশনের জন্য আসে তখন তাদেরকে নেশাগ্রস্ত করা হয়। এরপর অপহরণ অথবা ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ভিডিও করে তা পর্ণোগ্রাফীর দোকানে বিক্রি কতা হয়। একই বছর, মিসৌরির এক দম্পতির বিরুদ্ধে এক মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে পর্ন অভিনয়ে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়। তারা মেয়েটিকে মারধর করে, পানিতে চুবিয়ে, শ্বাসরোধ করে, আরো নির্যাতন করতে থাকে যতক্ষন না সে রাজি হয়। তাদের তোলা একটি ছবি একটি পর্ন ম্যাগাজিন এর প্রচ্ছদে স্থান পায়।

এ ঘটনা দুটো তো শুধু প্রারম্ভিকা, এরকম শত ঘটনা পর্দার আড়ালেই রয়ে গেছে। যার একটি হয়ত প্রকাশ পায়, কিন্তু শত মেয়ে নীরবে এর শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এছাড়াও অনেককে পতিতাবৃত্তির শিকার হতে হয়।। বর্তমানে পর্ণের প্রসারে পতিতাবৃত্তি আর  যৌনব্যবসাকে খুব স্বাভাবিক মনে করা হয়। পর্ন পারফর্মারদের যৌন ব্যবসায় যোগদানে অবাক হবার কিছু নেই। বরং, এ দুটো যেন একই গাছের ফল। যে সকল লোক পর্ণে আসক্ত তারা অন্যদের দ্বিগুনেরও অধিকবার পতিতালয়ে যায়। অনেক সময় খদ্দেরকে আকৃষ্ট করতে ঐসব মেয়েদের নগ্ন ছবি দেখানো হয়, যা থেকে সে বাছাই করে। এইসব মেয়েদের অধিকাংশই পাচারের শিকার যারা তাদের দালাল কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এবং তার ইচ্ছনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের সাবেক একজন প্রতিনিধি ড। জেনিস বলেন,“দালাল ও পাচারকারীরা তাদের শিকার যৈন্দাস রূপে ব্যবহারের জন্য পর্ণোগ্রাফীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। অশ্লীল সব ভিডিও দেখে মেয়েরা নিজেদের নিয়তিকে বুঝে যায় এবং তা মেনে নিতে বাধ্য হয়।”

এক জরিপে[১] নয়টি দেশের ৮৫৪ জন পতিতার শতকরা ৪৯ ভাগ স্বীকার করেছে যে তাদের কাজের সময় পতিতাবৃত্তির সময় তা ভিডিও করে পর্ন মুভি বানানো হয়েছে। শতকরা ৪৭ ভাগ বলেছে যে, তাদের পুরুষ সঙ্গীরা তাদেরকে ঐসব কাজ করতে বাধ্য করেছে যা তা পর্ন মুভিতে দেখে। এতে বেশ কজন আহত হওয়ার কথাও স্বীকার করে।

অবশেষে বলতে হয়, পর্ন যৌন ব্যবসার জ্বালানি যোগান দেয়। পর্ন আর পতিতাবৃত্তি দুইটিই যৌন ব্যবসা নামক বিষবৃক্ষের দু’টি ফল।

রেফারেন্সঃ

[১]Farley, Melissa, Ann Cotton, Jacqueline Lynne, Sybill Zumbeck, Frida Spiwak, Maria E. Reyes, Dinorah Alvarez, and Ufuk Sezgin. “Prostitutuion and Trafficking in Nine Countries: An Update on Violence and Posttraumatic Stress Disorder.” Journal of Trauma 2, iss. 3 & 4 (2003), 44.http://www.prostitutionresearch.com/pdf/Prostitutionin9Countries.pdf (accessed April 26, 2014).

পর্দার ওপাশে

পর্দার ওপাশে

পর্নমুভি তার গ্ল্যামার আর চাকচিক্যের চোখ ধাঁধানিতে  সেই অনেক যুগ আগে থেকেই বলে চলেছে এক মিথ্যা গল্প । এই মিথ্যা গল্প নারী আর যৌনতা সম্পর্কে । পর্নমুভি গুলোতে নারীদেরকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন তারা ব্যাপারটা করতে খুব খুব উদগ্রীব এবং তারা ব্যাপারটা খুব উপভোগ করছে । কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে পর্নমুভির অভিনেতা অভিনেত্রীরা কেউই ব্যাপারটা একদমই উপভোগ করেন না ।কেবলমাত্র  ঠেকায় পড়ে  তারা এই কাজ গুলো করতে বাধ্য হন । তাদেরকে বিশেষ করে নারীদের চরমভাবে নির্যাতন করা হয় ।

পর্নইন্ডাস্ট্রির মুনাফার অঙ্কটা বেশ স্বাস্থ্যবান । তাই ডিরেক্টর এবং প্রডিউসাররাও এই অমানবিক কাজ করতে দ্বিধা বোধ করে না । আপনার কাছে পর্নমুভি তো একেবারেই সহজলভ্য তাই না ? কেবল মাউসের  দুটো ক্লিকের ব্যাপার ।  তারপরেই পর্নমুভির অবিরত ভান্ডার  এবং আপনার বিকৃত লালসা চরিতার্থ করার সূচনা । কিন্তু  নীল স্ক্রিনের গ্ল্যামার দেখে ‘টাস্কি’ খাওয়া আপনি কখনো কি জানতে চেয়েছেন  স্ক্রিনের ওইপাশের গল্পগুলো ? এক একটা ছবি, এক একটা ভিডিওতে  আবদ্ধ রয়েছে আপনারই কোন এক বোনের কোন এক ভাইয়ের হৃদয়ের করুণ হাহাকার ।পর্নমুভির হতভাগ্য অভিনেতা অভিনেত্রীদের  কংক্রিটের চার দেয়ালের মাঝে বন্দী যতসব আর্তনাদ আর  দুঃস্বপ্নের অভিজ্ঞতা গুলোর সবটুকু আমরা হয়তো বুঝতে পারব না । কিন্তু তারপরেও চেষ্টা করতে দোষ কি । এখানে এমন কিছু পর্ন অভিনেতা অভিনেত্রীদের অভিজ্ঞতার  বর্ণনা করা হল যারা সেই নরকে ক্ষতবিক্ষত হলেও সেখান  থেকে কোনমতে বেঁচে ফিরতে পেরেছেন ।

“ পর্নইন্ডাস্ট্রি  এর  সঙ্গে জড়িত লোকদের অনুভূতি একেবারেই ভোঁতা করে দেয় । এর সঙ্গে জড়িত লোকজন তাদের পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে    অনুভূতিহীন জড় পদার্থের মত আচরণ করে, প্রেতাত্মার মত হেঁটে বেড়ায় ।  পর্নইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের যেভাবে এবিউজ করা হয় তা অকল্পনীয় ।  এখানে নারীদের উপর  যেভাবে নির্যাতন করা হয় তা  মানসিক ভাবে সুস্থ কোন লোকের পক্ষে কখনোই করা সম্ভব না । আমি অল্প কিছু সময় পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছিলাম । কিন্তু এই অল্পসময়ে আমি যে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছি তা ভাবলে এখনো আমি শিউরে উঠি”।

.

“ সত্যি কথা বলতে আমি আমার জীবনকে ঘৃণা করি । আমি নিজেকেও প্রচুর প্রচুর ঘৃণা করি । আমি বেঁচে থাকতে চাইনা । আমি বেশ কয়েকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি”।

.

“পর্নইন্ডাস্ট্রিতে যাবার ৯ মাসের মধ্যে আমি সেখান থেকে বের হয়ে এসেছি । কিন্তু এর জন্য আমাকে খুব চড়া মূল্য দিতে হয়েছে । আমি ডিস্প্লাসিয়া (এক প্রকারের  std= sexual transmitted disease) এ আক্রান্ত  হই । এবং কিছুদিন পরে আমি গর্ভবতী হয়ে পড়ি । এব্রোশান করা ছাড়া আমার কোন উপায়ই ছিল না । এটা আমাকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে প্রচন্ড আঘাত করে। আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছে ।

‘আর সব পর্নঅভিনেত্রীদের মতোই আমি এই মিথ্যাটা সবসময় বলি। আমাকে যখন মানুষজন  প্রশ্ন করে, ঐ পর্নমুভির ঐ হার্ডকোর সীনটা করার সময় আপনার কেমন লেগেছিল । আমি হাসি হাসি মুখ করে বলি , “আমার ভাল না লাগলে কি আমি ঐ সীনটা করতাম? আমার ভালো না লাগলে আমি কোন কাজই করি না, পর্নইন্ডাস্ট্রিতে আমার কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে’।

এভাবেই দিনের পর দিন আমাকে মিথ্যা বলে যেতে হয়। আসল সত্যটা হচ্ছে আমি কখনোই চাইনা এইসব দৃশ্যে অভিনয় করতে । কিন্তু  ঐসব হার্ডকোর দৃশ্যে অভিনয় না করলে আমি কখনোই এই ইন্ডাস্ট্রিতে কোন কাজ পাব না’।

‘১০৪ ডিগ্রী জ্বর নিয়েও আমাকে ঘন্টার পর ঘন্টা শুটিং করতে হয়েছে । আমি কাঁদছিলাম । খুব করে চাইছিলাম বাসায় চলে যেতে । কিন্তু আমার এজেন্ট  চাচ্ছিলনা আমি  শুটিং শেষ না করেই বাসায় চলে যাব । অগ্যতা আমাকে প্রচন্ড শরীর খারাপ নিয়েই কাজ করতে হয়েছিল ।

আর একদিন পরিচালককে খুশি করার জন্য চুক্তি ছিল না এমন একজন লোকের সঙ্গে আমাকে অভিনয় করতে হয়েছিল । সেই লোকটা ছিল একটা পাষণ্ড । আমাকে মেঝেতে  ফেলে লাথি মারছিল । আমি মেঝের  এদিক সেদিক ছিটকে যাচ্ছিলাম । পরিচালক একপর্যায়ে শুটিং বন্ধ করে আসল পেমেন্টের চেয়ে কিছু কম টাকা দিয়ে আমাকে বাসায় পাঠিয়ে দিল । কারণ তারা যা চাচ্ছিল , আমি  সেটা করতে একেবারেই রাজি ছিলাম না’।

আমরা অনেকেই ভুল ধারণা করে বসে থাকি পর্নঅভিনেতাদের কাজ বোধহয় পৃথিবীর সবচেয়ে মজার কাজ। তারা মজা পাচ্ছে আবার টাকাও পাচ্ছে!

পর্নঅভিনেতাদের অভিনয় করার জন্যে প্রচুর পরিমাণ যৌন শক্তিবর্ধক ওষুধ সেবন করতে হয় পরিণতিতে ভুগতে হয়  বিভিন্ন রকমের জটিল অসুখ-বিসুখে।

অবসাদ,হতাশা,গ্লানি তো রয়েছেই। মারাত্মক রকমের মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন তারা। পর্নমুভিতে অভিনয় করে যে টাকা উপার্জন করেন তার বেশিরভাগই চলে যায় মাদকের পেছনে।। নারীর প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ রূপে বদলে যায়। কোন নারীকেই তারা ভালবাসতে পারেননা, ভুলে যান ভালোবাসা কী।

নারী ছাড়া কীভাবে একজন পুরুষ সম্পূর্ণ হতে পারে? সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত নারীর কাছে পুরুষেরা ঋণী। নারীর জলে স্নান করেই তো পুরুষ হয়েছে বিশুদ্ধ,সভ্য,পবিত্র। জীবনের বন্ধুর পথে নারী বন্ধু হয়ে হাত ধরে রেখেছিল বলেই না পুরুষ পেয়েছে জীবনের বন্ধুর পথে চলার সাহস।

পর্নঅভিনেতারা কোন নারীর সঙ্গেই ভালোবাসার সম্পর্কে জড়াতে পারেননা,  জীবনের কী করুণ পরিণতি! পৌরষত্বের কী নিদারুণ অপমান!

এর পরেও কি আপনি মাউসে দুটো ক্লিক করে উঁকি মারবেন  সেই নিষ্ঠুর নীল  দুনিয়ায় ?

রেফারেন্সঃ

[১] https://goo.gl/jXCdFt

[২] https://goo.gl/GS8hbM

[৩]https://goo.gl/33HJcn

[৪] https://goo.gl/dYnBuJ

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন  থেকে মুক্তি

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি

শহুরে মুরগীর কুঠির জীবন চাওয়া-পাওয়া ,সাফল্য-ব্যর্থতার সংজ্ঞা পালটে দিয়েছে । কর্ম ব্যস্ত জীবনের চাপে পিষ্ট হয়ে আমাদের হাসফাস অবস্থা । ভোগবাদী সমাজ সুকুমার বৃত্তি গুলো  ধ্বংস করে দিচ্ছে । নগ্নতা, অশ্লীলতা, অনাচারকে সাদরে বরণ করে নেওয়ার জন্য   ড্রয়িংরুমে হাজার হাজার টাকা দিয়ে কেনা “বোকা বাক্সটা”তো সাজিয়েই রেখেছিই । এরকম এক ভয়াবহ অস্থির  সমাজে তরুণরা যে নানা বদ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে যাবে সেটাই স্বাভাবিক । আমাদের তরুণরা যত রকম বদ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে গেছে তার মধ্যে বেশ ভয়াবহ একটা হল হস্তমৈথুন  ।

তরুণদের ছি ছি করে লাভ নেই, গাধার সামনে মুলো ঝুলোলে  এরকমই হয় । অনেক তরুণ আছে যারা এই    থেকে বের হয়ে আসতে চায় । কিন্তু “ভালবাসার  মোড়কে কাম বেচা” এই সমাজে সেটা প্রায় অসম্ভব । আবার এই পঁচে যাওয়া সমাজটাও তো পরিবর্তিত হচ্ছেনা। তাহলে কীভাবে কি ? সারা জীবনই কি তরুণেরা হস্তমৈথুনের দুষ্টচক্রের মধ্যে বন্দী হয়েই থাকবে? মাথা কুটে কুটে দিন পার করবে?

অসম্ভবকে সম্ভব করাই মানুষের কাজ । চলুন দেখি কীভাবে বের হয়ে আসবেন এই ভয়ঙ্কর দুষ্টচক্র থেকে

 

১) প্রথমেই উপলব্ধি করুন এটা আপনার জন্য ভাল না ।

আপনি কি  এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জানেন –

  •  হস্তমৈথুন   আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদী বিষন্নতায় ভোগাবে
  • আপনাকে ভাবতে শেখাবে শুধুমাত্র এটাই আপনাকে সুখ দিতে পারে
  • দাম্পত্য জীবনে আপনি ভয়াবহ রকমের ব্যর্থ হবেন
  • এটা করার পর আপনার নিজেরই নিজেকে ঘৃণা করতে ইচ্ছা করবে । নিজের কাছে নিজেকেই দোষী দোষী বলে মনে হবে । আপনার স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটবে।
  • হস্তমোইথুন একপর্যায়ে আপনার প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে ।

এছাড়াও অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করলে  আপনি যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হবেন

  •  পিঠ এবং পিঠের নিম্নাংশে ব্যাথা
  • চুল পড়া
  • অলসতা
  • চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া
  • সবসময় ক্লান্তি অনুভব করা
  • স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
  • আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া

অতিরিক্ত হস্তমৈথুন  আপনার ইজাকুলেশান টাইমকে কমিয়ে দিবে । এতে আপনার লাইফ পার্টনার অতৃপ্তিতে ভুগবেন, যা অনেক পাপের পথ খুলে দিতে পারে ।

বিস্তারিত পড়ুন চোরাবালি সিরিজে

২) হস্তমৈথুন  যে বেশ ক্ষতিকর এটা আপনি উপলব্ধি করে ফেলেছেন । তারমানে আপনি হস্তমৈথুন   থেকে রিকভারি করার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ করে ফেলেছনে ।   এখন আপনার কাজ হল কেন আপনি হস্তমৈথুন   করেন এই বিষয়টা বের করে ফেলা । আপনার প্রাত্যাহিক রুটিনের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ফেলুন; কি কি বিষয়সমূহ আপনাকে হস্তমৈথুন  করতে বাধ্য করছে ।

আপনি কি

  • প্রাত্যাহিক রুটিনে আপনি বিরক্ত হয়ে গেছেন ?
  • অধিকাংশ সময়ই একা থাকেন ?
  • হতাশ?
  •      হতাশা, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি,জীবনের গ্লানি,অবসাদ  দূর করার জন্য হস্তমৈথুন করেন ?
  • আপনার হাতে প্রচুর অবসর সময় এবং আপনার করার কিছুই নেই?
  • নিয়মিত পর্ন মুভি, আইটেম সং দেখেন?

৩) এবার আমরা দেখব কীভাবে হস্তমৈথুন  এর দুষ্টচক্র ভেঙ্গে বের হয়ে আসতে হবে ।

প্রথমত, আপনি  নিজের উপর ভরসা করতে শিখুন । প্রচুর পরিমানে দু’আ করুন আল্লাহ্‌র কাছে । দু’আর শক্তিকে কখনোই অবহেলা করবেন না । অনেক অনেক লোক আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে তাঁর কাছে দু’আ করার মাধ্যমে হস্তমৈথুন   থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছে । কাজেই আপনি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হন, আপনি হস্তমৈথুন করা ছাড়তে চান এবং আপনি অবশই সেটা পারবেন।

আপনার অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন । কোন বিষয়ে আগ্রহ থাকলে (ফটোগ্রাফি, সাইক্লিং) সেটা নিয়ে লেগে থাকার চেষ্টা করুন । হবি গ্রোআপ করার চেষ্টা করুন । ভালো, দ্বীনি ফ্রেন্ড সার্কেলের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করুন ।

সবসময় মনে রাখবেন, আপনি  অবশ্যই হস্তমৈথুন করা পুরোপুরি ছেড়ে দিতে পারবেন । এবং হস্তমৈথুনের   বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আপনি একা নন ।

এছাড়াও যা করতে পারেন

  • জীবন কে উপভোগ করতে শিখুন
  • আপনার প্রাত্যাহিক জীবনকে যতবেশি সম্ভব কর্মব্যস্ত করে তুলুন
  • রোজা রাখতে পারেন । এটা আপনার অতিরিক্ত এনার্জি শুষে নিয়ে আপনাকে হস্তমৈথুনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে (সপ্তাহে অন্তত একদিন রোজা রাখার চেষ্টা করুন । সোমবার অথবা বৃহস্পতিবার । রাসূল (সাঃ) বলেছেন,যার বিয়ে করার সামর্থ্য আছে সে যেন বিয়ে করে নেয় । আর বিয়ে করার সামর্থ্য না থাকলে সে যেন রোজা রাখে।)

আপনি যদি কতগুলো অভ্যাস বদলাতে পারেন তাহলে ইনশা আল্লাহ্‌ অবশ্যই  হস্তমৈথুন করা ছাড়তে পারবেন ।

  • সালাত আদায় করার চেষ্টা করুন। নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।
  • পর্ন মুভি দেখা বন্ধ করুন  । কম্পিউটার এমন যায়গায় রাখুন  যেখানের বসে কিছু দেখলে সবাই আপনাকে দেখতে পাবে ।
  • চোখের হেফাজত করুন। (এটা খুব খুব জরুরি)  বিভিন্ন পত্রিকার বিনোদন পেইজ, ক্রোড়পত্র পড়া থেকে  বিরত থাকুন । মিউজিক ভিডিও, ভারতীয় অশ্লীল বিনোদন থেকে নিজেকে বাঁচান ।
  • যে সময়টাতে এবং যে যায়গাটাতে আপনার মধ্যে হস্তমৈথুন করার ইচ্ছা জাগ্রত হয় সেই সময় একা একা না থেকে মানুষজনের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করুন । এবং পারতপক্ষে সেই  যায়গাতে যাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন
  • যদি গোসলখানায় এই ব্যাপারটা মাঝে মাঝেই ঘটে, তাহলে গোসলখানায় যতকম সময় থাকা সম্ভব ততকম সময় থাকুন । গোসলখানায় বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে থাকুন । মনে মনে ম্যাথ সল্ভ করতে পারেন । ধাঁধার উত্তর খুজতে পারেন । নিজেকে যত কম সম্ভব তত কম স্পর্শ করুন
  • নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন । জগিং করতে পারেন,সাঁতার কাটতে পারেন । বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে পারেন।

একটা বিষয় মাথায় রাখা খুব খুব জরুরী সেটা হল আপনি  প্রথমবারেই  হস্তমৈথুন করা ছেড়ে দিতে পারবেন না । আপনি যদি প্রত্যেকদিন হস্তমৈথুন করেন তাহলে নিজেকে টার্গেট দিন , এখন থেকে আগামী ৩ দিন আমি হস্তমৈথুন করব না । এই টার্গেট পূরন করতে পারলে নতুন টার্গেট ঠিক করুন আমি আগামী ৭ দিন হস্তমৈথুন করব না । এটা পূরন করতে পারলে আবার নতুন টার্গেট ঠিক করুন। আমি আগামী ১৪ দিন মাস্টারব্রেট করব না । এভাবে চালিয়ে যেতে থাকেন । আর হ্যাঁ প্রতিবার টার্গেট পূরন করার পর নিজেকে  পুরষ্কার  দিতে ভুলবেন না । চকোলেট খেতে পছন্দ করেন, তো বেশি বেশি চকোলেট খান । বিরিয়ানীর কথা শুনলেই জিভে জল চলে আসে , তাহলে ঘুরে আসুন বিরিয়ানির দোকান থেকে ।

আর নিজের জন্য প্রচুর পরিমাণ দু’আ করতে থাকুন ।

ইনশা আল্লাহ্‌ আপনি পারবেনই  ।