বৃত্তের বাইরেঃ পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তি

বৃত্তের বাইরেঃ পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তি

যদিও বিষয়টি নতুন, পর্নোগ্রাফি পৃথিবীর প্রায় সকল শ্রেণীর মানুষকে আক্রান্ত করেছে। পুরনো দিনগুলোই ভালো ছিল, কারণ তখনকার লোকজন এরকম কোন বিষয়ের মুখোমুখি হয়নি যেটি তাদেরকে কামনা ও যৌনলালসার গোলাম বানিয়ে দেয়। প্রতি মাসে প্রায় ৭.৫ কোটি লোক প্রাপ্তবয়স্কদের (adult) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে, সার্চ ইঞ্জিনে প্রায় ২৫ শতাংশ সার্চ থাকে পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত এবং পর্নোগ্রাফি থেকে সারাবিশ্বে আয় হয় প্রায় ৫৭ বিলিয়ন ডলার।

ইন্টারনেট আসার আগে, আত্মনিয়ন্ত্রণহীন ও আত্মসম্মানহীন কিছু লোক দোকানে প্রাপ্তবয়স্কদের (adult) ম্যাগাজিন বা ভিডিও কিনতে যেতো, কিন্তু এখন বাড়িতে বসে এবং সবার চোখের আড়ালেই এগুলো পাওয়া সম্ভব।

“সবার চোখের আড়ালে” কথাটা ঠিক না, আল্লাহ তা’লা সবসময় তো দেখছেনই।

একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের সামাজিক দিকগুলো নিয়ে খুব ভালো আলোচনা আছে। যেসব লোক পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত, যারা এটা থেকে বিরত হওয়ার চেষ্টা করছেন এবং যারা এ আসক্তি থেকে ফিরে এসেছেন তারা সবাই সেখানে তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।  কিছু জনপ্রিয় বক্তাদের কাছ থেকে ইসলামিক উপদেশও যুক্ত করা হয়েছে। সবকিছু প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও, এ ধরনের আসক্তি থেকে সফলভাবে ফিরে আসার গল্প ও কিছু উপদেশ সংযুক্ত করা হয়েছে, যেটি এ ধরনের অভ্যাস থেকে ফিরে আসতে সাহায্য করবে। তেমনি কিছু টিপস নিয়েই আমাদের এই লিখাটি।

…আমি ২৫ বছর বয়সের একজন যুবক, আমি পর্ন আসক্তি ও হস্তমৈথুন আসক্তি থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করছি। আমার বয়স যখন ১০-১১ বছর, তখন হঠাৎই হস্তমৈথুন শুরু করি। তখন বুঝতে পারিনি আমি কি করছি এবং আমি জানতাম না যে এটা হারাম (আমি এটা গোপনে করতাম, যদিও আমি তখন ছোট ছিলাম তবুও আমি বুঝতাম যে এটা খারাপ)। যাইহোক, আমি এটা প্রায় ২ বছর পর্যন্ত চালিয়ে যাই এবং তারপর একদিন পর্নোগ্রাফি আবিষ্কার করি। আমি বিব্রত বোধ করতাম বলে দোকান থেকে ম্যাগাজিন কিনতে পারতাম না, তাই আমি পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত বিষয় এর জন্য বড়দের পুরনো বইপত্র খোঁজাখুঁজি করতাম।

আমি অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকতাম এবং আমার বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়লে শেষ রাতের অশ্লীল অনুষ্ঠান দেখার জন্য টি.ভি. চালিয়ে রাখতাম। (আমি এগুলো গোপনে দেখার জন্য দরজা ভিড়িয়ে রাখতাম এবং কেউ আসার শব্দ পেলে সাথে সাথে তা লুকিয়ে ফেলতাম)।

একসময় বিষয়টা আমার কাছে খুব খারাপ মনে হলো এবং আমি নিজেকে অপরাধী বোধ করলাম। তাই বিষয়টা নিয়ে আমার বাবার সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন আমার বয়স ছিলো ১৩। তিনি এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করলেন এবং আমাকে কিছু বাস্তবধর্মী উপদেশ দিলেন। উপদেশগুলো কয়েকমাস পর্যন্ত কাজ করলো এবং আমার বাবা মনে করলেন যে তিনি সফল হয়েছেন। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত আমি আবার আগের অভ্যাসে ফিরে গেলাম।

আমি এগুলো কয়েকবছর পর্যন্ত চালিয়ে গেলাম, আমার বয়স ১৫/১৬ হওয়া পর্যন্ত (এই সময়টাতে আমার নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছে, কিন্তু তারপরও আমি চালিয়ে গিয়েছি)। এটা হওয়ার কারণ, ইন্টারনেট সহজলভ্য হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে পর্ন ভিডিও দেখা আমার জন্য অনেক সহজ হয়ে গেলো (এগুলোর জন্য কোন দোকানে যাওয়ার দরকার ছিলো না, বরং ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের পর্ন ভিডিও সহজেই পাওয়া যেত)।

পর্নআসক্তি মাদকাসক্তির মতোই, আপনি এখানে বিনামূল্যে যুক্ত হতে পারবেন, তারপর যখন পুরোপুরি আসক্ত হয়ে পড়বেন তখন আপনি বাধ্য হবেন বিক্রেতার কাছে ফিরে যেতে। কিন্তু আপনাকে  টাকা খরচ করতে হবে আরো উন্নত মানের পর্ন ভিডিও পাওয়ার জন্য। প্রায় দুই বছর পর আমি লক্ষ্য করলাম বিনামূল্যে পাওয়া পর্ন ভিডিওগুলো আমার জন্য যথেষ্ট না, আমার চাহিদা বাড়তে থাকায় তা মেটানোর জন্য আরো বেশি পর্ন ভিডিও প্রয়োজন। এক কথায় বলতে গেলে, যতই দিন যাচ্ছিল ততই এসবের চাহিদা বাড়তে থাকলো। আমার বয়স যখন প্রায় ২০, তখন আমি এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হিসেবে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

দুর্ভাগ্যবশত, বিয়ে করার পর কয়েকমাস এগুলো থেকে বিরত থাকলেও আমি আবার আগের অভ্যাসে ফিরে গেলাম।

যাইহোক, প্রায় এক বছর আগে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমার এতটা নীচে নামার কারণ হচ্ছে আমার ভেতরের পশুত্ব, এটা আমাকে সব দিক থেকে গ্রাস করেছে। আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি এই পশুটাকে হত্যা করার জন্য, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি।

তারপরও, এক বছর আগে এমন কিছু একটা ঘটেছিল যার ফলে আজ আমি এই ফোরামে বলতে পারছি যে, আমি এই পশুটাকে হত্যা করেছি। আসলে আজ আমার বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি। অন্যান্য আসক্তদের মতো আমারও মনের ভেতর ধারণা ছিল যে, আমি হয়ত নিজেকে বেশিদিন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবো না। এক বছর আগে আমি যখন এসব থেকে ফিরে আসলাম, তখন বুঝতে পারলাম যে, আমার মনের ভেতরের এই ধারণা দূর করতে হবে। কারণ, এই ধারণা আমার ফিরে আসাকে অর্থহীন করে দেবে। তাই আমি স্থির হয়ে বসে পর্নোগ্রাফির সব খারাপ প্রতিক্রিয়াগুলো সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করলাম এবং নিম্নোক্ত প্রতিক্রিয়াগুলো খুঁজে পেলামঃ

১। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এটি আপনাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে।

২। সবসময় নিজেকে অপরাধী ও নিরর্থক মনে হবে।

৩। সবসময় নিজের কাছে লজ্জিত হবেন, যার ফলে নিজের আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস কমে যাবে।

৪। মূল্যবান সময় নষ্ট হবে, যে সময়টাতে নতুন কিছু শেখা বা বন্ধুদের সাথে উপভোগ করতে পারতেন।

৫। নিজের কাজগুলোকে গোপন রাখার জন্য মিথ্যা বলতে হবে এবং এই মিথ্যাগুলোকে ঢাকার জন্য আবার মিথ্যা বলতে হবে, এভাবে চলতেই থাকবে।

৬। স্ত্রীর সাথে দৈহিক মিলন খুবই অস্বাভাবিক মনে হবে।

৭। স্ত্রীর সাথে দৈহিক মিলনের পর যে তৃপ্তি পাওয়া যায় তার তুলনায় হস্তমৈথুন এর আনন্দ খুবই সামান্য।

৮। সত্যিকথা বলতে, পর্নোগ্রাফি এবং পতিতাদের পেছনে ১০ বছরে আমি প্রায় ১৫০০০ ইউরো নষ্ট করেছি। এই অর্থ আমি গরিবদের দান করতে পারতাম, ১০ বার ছুটিতে ভ্রমণ করতে পারতাম অথবা অন্তত ৪-৫ বার পবিত্র মক্কা নগরীতে ভ্রমণ করতে পারতাম।

৯। ভালো কাজ (যেমন আল্লাহ্‌কে খুশি করার জন্য কুরআন পড়া বা মুসলিমদের সাহায্য করা) এসব কাজের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হয়। কারণ, সবসময় মনে হয়, আমি এত খারাপ কাজ করেছি, এখন ভালো কাজ করে আর কি হবে?

১০। আমি পর্ন ভিডিও দেখছি, এই বিষয়টা আমার স্ত্রীর জন্য অনেক কষ্টকর ছিল। আমার কাছেও এটা অনেক অপমানজনক ছিল, কারণ আমি তার সাথে প্রতারণা করছিলাম।

সুতরাং, আমি কীভাবে এটা থেকে মুক্তি পেলাম?

এটা আসলে নিচের কাজগুলোর সমন্বয়ের ফলে হয়েছেঃ

১। আমি সবসময় উপরের ১০টি খারাপ প্রতিক্রিয়া স্মরণ করার চেষ্টা করতাম। (আমি এগুলো লিখে নিয়েছিলাম এবং প্রতিদিন পড়তাম।)

২। প্রতিদিন কুরআন পড়তাম, দোয়া করতাম এবং দান-খয়রাত করতাম।

৩। বাসায় যথাসম্ভব একা না থাকতে চেষ্টা করতাম।

৪। সময়মত নামায আদায় করতাম।

৫। আমরা যখন বাসায় থাকতাম তখন আমার স্ত্রীকে বলতাম আকর্ষণীয় পোশাক পড়তে।

৬। পর্ন ভিডিও দেখা এবং হস্তমৈথুনের পর নিজেকে কি পরিমাণ অপরাধী, হতাশ ও লজ্জিত মনে হয় সেটা সবসময় স্মরণ রাখতাম।

৭। অনেকেই আমার সাথে একমত হবেন যে, যখন কেউ একাকী ও বিষণ্ণ বোধ করে এবং হাতে অলস সময় থাকে তখন সে পর্ন ভিডিও দেখে। অলস সময় কীভাবে কাটাতে হয় সে ব্যাপারে ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিছুদিন আগে আমি একটি ইসলামিক বয়ান শুনেছি, সেখানে ইমাম বলছিলেন অলস সময়ে শয়তান সহজেই ধোঁকা দেয়। এই সময়টা মানুষের জন্য খুব ক্ষতিকর হতে পারে। যখন হাতে কোন কাজ থাকে না, কোন কিছুতে মনোযোগ দেয়ার মত কিছু থাকে না, তখন এই শুন্যতা পূরণের জন্য মানুষ পর্নোগ্রাফির মত পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে।

সুতরাং, নিজেকে সবসময় ভালো কিছু নিয়ে ব্যস্ত রাখতে হবে (যেমন বই পড়া, বন্ধুদের সাথে দেখা করা, খেলাধুলা করা, কোন উন্নয়নমূলক কাজ করা, কৌতুক জাতীয় অনুষ্ঠান দেখা বা এমন কিছু করা যেটা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম নয়)। হাতে প্রচুর সময় থাকলে কখনো অলসভাবে বসে থাকা যাবে না, কারণ এই অলসতাই আপনাকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে।

আরো কিছু পরামর্শঃ

এই ৭ টি পয়েন্ট ছাড়াও আরো কিছু পরামর্শ আছে যেগুলো আমার কাজে লেগেছে।

–আমি আল্লাহ্‌র কাছে ওয়াদা করেছিলাম যে, আমি যদি আবার আগের অভ্যাসে ফিরে যাই তাহলে, একটানা ১২০ দিন রোযা রাখবো।

–প্রতিদিন আমি আয়নার সামনে দাঁড়াই এবং নিজেকে বলি ‘কক্ষনো না’, ‘কক্ষনো না’, বারবার বলি। (এর মানে হচ্ছে আমি কখনো আমার আগের জীবনে ফিরে যাব না)

–আমার একটা গোপন নোটবই আছে যেটা আমি শুধু এই কাজের জন্যই কিনেছি। আমি সেখানে বছরের প্রতিটি সফল দিনের পাশে একটি করে টিক চিহ্ন দেই, টিক চিহ্ন মানে হচ্ছে ঐদিন আমি পর্ন ভিডিও দেখিনি অথবা একটি ক্রস চিহ্ন যার মনে হচ্ছে ব্যর্থতা। আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমার নোটবইতে এখন ৩৬৫টি টিক চিহ্ন রয়েছে, একটিও ক্রস নেই। আমি এই টিক চিহ্নগুলো সবসময় দেখি এবং এগুলো আমাকে বিজয়ের আনন্দ দান করে। আমি আমার নোটবইতে কোন ক্রস চিহ্ন দেখতে চাই না, কারণ এটা আমার আগের জীবনে ফিরে যাওয়া নির্দেশ করবে। এই ক্রসগুলো আমাকে হতাশ করবে, তাই আমি এগুলো পুরোপুরিভাবে পরিহার করার চেষ্টা করি।

আমি আশা করি এই পরামর্শগুলো সবার কাজে লাগবে। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যাতে সঠিক পথে থাকতে পারি।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

আমি কীভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসলাম, কেন ছাড়লাম এবং কেন সবাই এটা পরিহার করবে- By Jessica Mendes

আমি কীভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসলাম, কেন ছাড়লাম এবং কেন সবাই এটা পরিহার করবে- By Jessica Mendes

আমি আমার ১৮তম জন্মদিনের পরদিন পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে পড়ি। এখানে আমি ঘটনাটি বর্ণনা করছি…

আমার বয়স ১৮ হবার এক সপ্তাহ আগে আমি Craigslist নামক ওয়েবসাইটে চাকরির খোঁজ করছিলাম। সেখানে আমি “মডেলিং করে মাসে ২০০০০-৩০০০০ ডলার আয় করুন” শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পেলাম। সেই বিজ্ঞাপনে পর্নোগ্রাফি বা ভিডিও সম্পর্কে কিছু লেখা ছিল না, তারা শুধু তাদেরকে একটি ছবি মেইল করে পাঠাতে বলেছিল। আমি একসময় তাদেরকে আমার একটি ছবি পাঠাই। তারা তৎক্ষণাৎ আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং আমি কখন তাদের সাথে দেখা করব তা জানতে চায়। তারা তখন আমাকে বলেছিল যে, তারা ‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিনের মডেলদের মত মডেলিং করার জন্য মেয়ে খুঁজছে।

পরে আমি নিজেই তাদের সাথে কথা বলার জন্য তাদের অফিসে গেলাম। আমি সেখানে কর্মরত একজন মহিলার সাথে প্রায় চার ঘণ্টা কথা বললাম এবং সবশেষে তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি মূলত পর্নোগ্রাফি তৈরির জন্য মেয়েদেরকে নিয়োগ দেন। তারপর তিনি আমাকে একটা কাগজে আমি কোন কোন ক্যাটাগরিতে কাজ করার জন্য তৈরি আছি তা চিহ্নিত করতে বললেন।

সত্যিকথা বলতে, মেয়েরা অল্প সময়ে বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য এ পেশায় আসে, বিশেষ করে হাইস্কুল/কলেজ পাশ করা মেয়েরা। পর্নোগ্রাফির ভিডিও দেখে সেসব মেয়েদের পর্ন সম্পর্কে একটা অস্পষ্ট ধারণা থাকে, কিন্তু বাস্তবে পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে মেয়েদেরকে কি করতে হয় সে সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই থাকে না, যতক্ষণ না তারা পর্ন ইন্ডাস্ট্রির গভীরে প্রবেশ করে।

আমার সাথে যা হয়েছিল তা বলতে গেলে আমি এখনো বিব্রত বোধ করি। আমার নিজেকে খুব ছোট মনে হয়, কারণ পর্ন ইন্ডাস্ট্রির লোকদের সব কথাই আমি সরল মনে বিশ্বাস করেছিলাম। আমি অর্থের প্রতি এতই আসক্ত ছিলাম যে, তাদের সব মিথ্যা কথাগুলোই বিশ্বাস করেছিলাম।

আমার বয়স এখন ২০ এবং আমার বয়স ১৯ হওয়ার কিছুদিন পরে আমি পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ত্যাগ করি। সুতরাং, আমি অনেকদিন ধরে এসব করছি না। যাইহোক, আমার অনেকদিন সময় লেগেছে তাদের মিথ্যা কথাগুলো বুঝতে এবং এখন আমি পর্ন ইন্ডাস্ট্রির প্রকৃত চেহারা চিনতে পেরেছি। আমার এই জিনিসটি বুঝতে অনেক কষ্ট হয়েছিল যে, পর্নোগ্রাফি মানে নারীর ক্ষমতায়ন/স্বাধীনতা নয় এবং এটি মেয়েদের জন্য নিরাপদও নয়। ঐ ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে আমি যখনই আমার মানসিকতা পরিবর্তন করতে চেয়েছি, তখনি ইন্ডাস্ট্রির লোকদের কথায় সে পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দিয়েছি।

ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে প্রথম দিকে আমার খুব খারাপ কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছিল। কিছু দৃশ্য আমার জন্য এতই পাশবিক ছিলো যে আমি কাঁদতে বাধ্য হয়েছিলাম। কিন্তু পরে অন্যান্য মেয়েদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম যে, এরকম দৃশ্যে কান্নাকাটি করা পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। তাই আমি পর্নোগ্রাফি ত্যাগ করলাম না।

এমনকি আমার ১০ বারেরও বেশি জরুরি চিকিৎসা নিতে হয়েছিলো বিভিন্ন রকম শারীরিক, যৌন ও জীবাণুঘটিত অসুস্থতার জন্য। তারপরও আমি পর্নোগ্রাফি ত্যাগ করিনি, কারণ এসব পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে খুব স্বাভাবিক ঘটনা। আমি Chlamydia, Gonorrhea বা অন্যান্য STD(Sexually Transmitted Disease) তে আক্রান্ত অনেক মেয়েদের দেখেছি এবং এসব দুরারোগ্য ও ছোঁয়াচে রোগকে তারা খুব স্বাভাবিক রোগ মনে করে।

সবশেষে যে জিনিসটি আমাকে পর্নোগ্রাফি ত্যাগ করতে বাধ্য করল তা হচ্ছে, পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত লোকজনদের ক্যামেরার বাইরের জীবন সম্পর্কে জানা –তাদের জীবনটা আগে কেমন ছিল, তারা তাদের এই কাজকে এবং তাদের নিজেকে কি পরিমাণ ঘৃণা করে, এসব সম্পর্কে জানা। আমি বুঝতে পারলাম যে, আমি তাদের মত জীবন চাইনা।

যে সময়টাতে আমি চিন্তা করছিলাম যে, পর্নোগ্রাফি ছাড়ব কি ছাড়ব না, ঠিক তখনি ইন্ডাস্ট্রির একজন পুরনো কর্মীর দেহে Syphilis রোগের জীবাণু পাওয়া গেলো। এর ফলে খুব সহজেই আমি পর্নোগ্রাফি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। এবং আমি যদি ঠিক তখনি ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে আসতাম তাহলে আমার জীবনে হয়ত আর কোন গুরুতর ঘটনা ঘটতো না।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারে যে, একজন পর্ন অভিনেত্রীর দেহে রোগের জীবাণু কেন থাকবে? তাদের কি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় না? যদিও আমি অনেকগুলো ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে পর্নোগ্রাফি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তবুও আমি সবগুলো ক্ষতিকর দিক একসাথে পর্যবেক্ষণ করার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

দু-একজন ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পর্ন অভিনেত্রীদের দেহে রোগের জীবাণু বা অন্যান্য যৌনঘটিত রোগের পরীক্ষা করা হয় না। এমনকি আমার মত কোন পর্ন অভিনেত্রী অসুস্থ বা আহত হলে, চিকিৎসার জন্য তাদের নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করতে হয়। পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে দু-একটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ কোম্পানিগুলোই তাদের কর্মীদের যৌন নিরাপত্তার জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। তাই পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মীরা অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হয়।

আমি আরো বুঝতে পারলাম যে, আমাকে ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ অর্থ আয় করছে তার তুলনায় আমার বেতন ২০০০০-৩০০০০ ডলার কিছুই না। প্রকৃতপক্ষে, কর্মীদেরকে যে পরিমাণ অর্থ দেয়া হয় সেটা কোম্পানির আয়ের তুলনায় খুবই নগণ্য। পর্ন অভিনেত্রীরা কখনো খুব জনপ্রিয় বা কালজয়ী হয়ে উঠতে পারে না যাতে করে তাদের ভিডিও গুলো থেকে কোম্পানিগুলো বহুবছর পর্যন্ত আয় করতে পারবে। তাই পর্ন অভিনেত্রীদেরকে এককালীন অর্থ দেয়া হয়।

আমি আরো উল্লেখ করতে চাই যে, প্রথমদিকে আমার একটা ভুল ধারণা ছিল যে পর্নোগ্রাফিই হচ্ছে কলেজ ডিগ্রি ছাড়া চাকরি পাওয়ার একমাত্র উপায়। আমি অল্পবেতনের ছোটখাটো কোন কাজ না করে বেশি অর্থ উপার্জন করতে চাইছিলাম এবং একই সাথে কলেজে পড়ালেখাও চালিয়ে যেতে চাইছিলাম। কিন্তু, অধিকাংশ মেয়েদের মত আমার পক্ষে সবকিছুর খরচ জোগানো সম্ভব ছিলো না। আমার বিশ্বাস ছিল যে, পর্নোগ্রাফিই আমার জন্য অর্থ উপার্জনের একমাত্র উপায় যাতে আমি আমার সব প্রয়োজন ও চাহিদা মেটাতে পারি।

পর্নোগ্রাফি ছাড়ার পরপরই আমি আবার লেখাপড়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম। পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে দক্ষতা অর্জন করতে থাকলাম। আমি নানান ধরনের মানুষের সাথে দেখা করে বুঝতে পারলাম যে, আমি এবং আমার বন্ধুরা মিলে এমন কিছু কাজ করতে পারি যাতে করে আমার প্রয়োজন ও চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আয় করতে পারি –যেমন Stocks, Internet Marketing, Video Game Live Streaming, Managing Businesses ইত্যাদি। এরকম আরো অনেক কাজ করা যায়।

যেসব ছাত্রছাত্রীদের মা-বাবা পড়াশুনার খরচ দিতে পারে না তারা এ ধরনের কাজ করে নিজেদের খরচ চালায়। তারা পড়ালেখার পাশাপাশি হাতখরচের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ খুঁজে বের করে। এবং সে কাজগুলো পর্নোগ্রাফির মত নিজেদের ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর নয়।

পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত ব্যক্তিরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি কখনোই সফলতা পাবেন না। সুতরাং, আপনি যদি স্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত থাকেন, তাহলে কেন পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে জন্য আপনার স্বাস্থ্য, আপনার ভবিষ্যৎ, সবার সাথে সুসম্পর্ক, আত্মসম্মান, খ্যাতি এবং সর্বোপরি আপনার ব্যক্তিত্ব কে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন?

২০১৩ সালে পাঁচ জন যৌনকর্মী HIV তে আক্রান্ত হওয়ায় একটি পর্ন ইন্ডাস্ট্রিকে তিন বার বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ধরনের ঘটনা কি সবার জন্য বড় একটি সতর্কীকরণ নয়? আমার কাছে এটা অনেক হতাশাজনক মনে হয় যে, এখনো কিছু মানুষ এসব ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। আমি যখন পর্নোগ্রাফিতে আসার সিদ্ধান্ত নেই তখন এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে আমি অবশ্যই পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে আসতাম না। আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করি, কারণ এ ধরনের কোন রোগ সংক্রমণের আগেই আমি পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ত্যাগ করেছি।

বাস্তবতা হচ্ছে, পর্নোগ্রাফি করে খুব জনপ্রিয় হওয়া বা ভাল কিছু অর্জন করা সম্ভব না। বর্তমানে আমি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সুখী এবং স্বাভাবিক জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করি। আমি সবাইকে পর্নোগ্রাফির ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে বলে যাবো, কারণ আমি মনে করি, কেউ যদি আগে থেকে আমাকে পর্নোগ্রাফির খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে ভালভাবে বলতো, তাহলে আমি হয়ত পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে পড়তাম না।

আমি যদি একজন মানুষকেও পর্নোগ্রাফির ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারি, তাহলে আমার প্রচেষ্টা সার্থক হবে!

(অনূদিত)

(ফিতনার ভয়ে রেফারেন্স দেওয়া হলোনা)

পর্নোগ্রাফি যেভাবে জীবন  ধ্বংস করেঃ পামেলা পলের সাক্ষাৎকার

পর্নোগ্রাফি যেভাবে জীবন ধ্বংস করেঃ পামেলা পলের সাক্ষাৎকার

পামেলা পল একজন আমেরিকান লেখিকা । পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে তাঁর কন্ঠস্বর বরাবরই সোচ্চার । তিনি পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতা সম্পর্কে pornfield  নামে একটি বই লিখেন । এই বই সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত সুন্দর ভাবে  পর্নোগ্রাফির ভয়াবহ দিক সম্পর্কে আলোচনা করেন । আমাদের পাঠকদের জন্য  সেই সাক্ষাৎকারের কিছু চুম্বকাংশ অনুবাদ করা হল

প্রশ্নঃ আমেরিকান সমাজে পর্নোগ্রাফির প্রসারে কোন বিষয়টা আপনাকে সবচেয়ে বেশী বিস্মিত করেছে?

পামেলা পলঃ  সত্যি কথা বলতে কি এই বইটা লিখার পূর্বে আমি কখনোই মনে করিনি পর্নোগ্রাফি এরকম ভয়াবহ একটা ইস্যু । আমি জানতাম আমেরিকাতে পর্নোগ্রাফির প্রচুর ভোক্তা আছে , কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম পর্নোগ্রাফি এমন কোন বিষয় না যে এটা কারো জীবন শেষ করে দিতে পারে । আমার মনে যে প্রশ্নটা জেগেছিল সেটা হচ্ছে ,” এইযে আমাদের সমাজে (আমেরিকান সমাজে) যে বিপুল পরিমাণ পর্নোগ্রাফি দেখা হয় সেটার কোন ইফেক্ট আছে কিনা?

কাজেই   গবেষণা করা শুরু করলাম । কেঁচো খুড়তে যেয়ে সাপ বেরিয়ে এল । আমি এমন কতগুলো লোকের সন্ধাণ পেলাম যাদের জীবন পর্নোগ্রাফি সম্পূর্ণরূপে  ধ্বংস করে দিয়েছে । এমনকি এমন কিছু লোকের সন্ধান পেলাম যারা পর্নোগ্রাফিতে পুরোপুরি আসক্ত না , কিন্তু এই পর্নোগ্রাফির প্রভাবে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে , চাকুরী হারিয়ে ফেলেছে । এইসব লোকেরা  মাঝে মাঝে অনুধাবন করতে পারে যে তারা আসলে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত । কিন্তু তারা যে বিষয়টা কখনোই উপলব্ধি করতে পারেনা যে এটার পরিনাম কি ।

প্রশ্নঃ কোন স্পেসিফিক উদাহরণ দিতে পারেন ?

পামেলা পলঃ  একজন মহিলার সঙ্গে আমার প্রায় আধা ঘন্টার উপর ফোনালাপ হয়ে ছিল । উনি আমাকে বললেন, ‘আমি একসময় প্রচুর পর্ন মুভি দেখতাম । আমি এটাকে নিছক বিনোদন মনে করতাম । আমার হাসব্যান্ডও পর্নে আসক্ত ছিল । কিন্তু আমাদের দাম্পত্য জীবন ছিল খুবই হতাশাজনক । আমরা খুবই অসুখী ছিলাম”।

এই ভদ্র মহিলা পর্নোগ্রাফির বাহ্যিক জৌলুশে মুগ্ধ ছিল , কিন্তু যখন সে ব্যাপারটা খতিয়ে দেখলো তখন তার মোহ কেটে যেতে সময় লাগলোনা ।

আপনার আসল  প্রশ্নে ফিরে আসি । আপনি কয়টা উদাহরণ চান ? আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছি তারা সবাই পর্নোগ্রাফির ভয়াবহ পরিনতির শিকার ।

আমি প্রচন্ড বিস্মিত হয়েছি, যখন  লোকজন আমাকে বলতে শুরু করল যে পর্নোগ্রাফি তাদেরকে ব্যাপক বিনোদনের জোগান দেয় । কিন্তু একই সঙ্গে তারা  এটাও বললো  তাদের যৌন জীবনে তারা প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন । তারা তাদের ইরেকশান নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা, তাদের স্ত্রীরা তাদের নিয়ে ভয়াবহ অসুখী এবং তারা স্বাভাবিক যৌনকর্মে তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে । পর্নোগ্রাফি এইসব হতভাগা লোকদের এমনভাবে প্রোগ্রামড করে ফেলেছে যে অনলাইনে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে পর্ন মুভি দেখাতেই তারা আনন্দ পায় ।

প্রশ্নঃ  আপনি আপনার বইয়ের এক যায়গায় বলেছেন   অনেকেই পর্ন সিরিয়াসলি নেয় না । হালকা ভাবে নেয় , মজা মনে করে।   কিন্তু আপনার বইয়ে কিছু লোকের কথা উল্লেখ করেছেন   যারা এটা খুব সিরিয়াস বিষয় হিসেবে নেই । তো ,হঠাত হঠাত পর্নমুভি দেখা এই  মানুষগুলো কিভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে?

পামেলা পলঃ  পর্নোগ্রাফি  কিভাবে মানুষের উপর প্রভাব ফেলে এটা নিয়ে আমি পুরো একটা চ্যাপ্টার লিখেছি আমার বইতে । আমার বইয়ে এ ব্যাপারে  বিস্তারিত আলোচনা আছে । প্রথমত পর্নোগ্রাফি মানুষের সুকুমার বৃত্তিগুলো ধ্বংস করতে থাকে । একবার পর্ন মুভি দেখলে তার মধ্যে বার বার এটা করার প্রবনতা জাগে ।  সফট পর্ন  দেখা একজন লোক কিছুদিনের মধ্যেই এটাতে আর কোন আগ্রহ খুঁজে খুঁজে পায় না । সে নতুন কিছু চায় । আরো বেশি   আগ্রাসন , আরো বেশি খোলামেলা । এভাবে কয়েক ধাপ পেরিয়ে  সে একসময় নিজেকে আবিষ্কার করে হার্ডকোর পর্ন মুভি, চাইল্ড পর্ন দেখা অবস্থায় ।

আশঙ্কার কথা হল , যারা মাঝে মাঝে  পর্ন মুভি দেখে তাদের মধ্যেও   ঠিক  একই  উপসর্গ দেখা যায় (একটু কম মাত্রার) যেগুলো পাওয়া যায় পর্নোগ্রাফিতে আসক্তেদের মধ্যে ।

প্রশ্নঃ কোন নির্দিষ্ট বয়সের বা নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষেরাই কি শুধু পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয় ?

পামেলা পলঃ একসময় আমি বিশ্বাস করতাম পর্নোগ্রাফিতে  শুধু তারাই আসক্ত হয় যারা অশিক্ষিত,

অসচেতন । এটা শুধুমাত্র অবিবাহিত মানুষদের জন্যই । আমি ভাবতাম , প্রায়  প্রত্যেক টিন এজারদের  এমন একটা সময় পার করতে হয় , যে সময় তারা প্রচুর পরিমাণ পর্ন মুভি দেখে । পর্নের ব্যাপ্তিটা অনেক ছোট ।  কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের সমাজের প্রায় সকল বয়সের এবং সকল শ্রেণীর মানুষ পর্নোগ্রাফিতে  আসক্ত হয়ে পড়ছে । টিন এজার বলুন, মধ্যবয়স্কদের কথা বলুন, বৃদ্ধদের কথা বলুন  । সবাই পর্ন মুভি দেখে ।

আমি এমন অনেক উচ্চশিক্ষিত ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েটেড লোকের কথা জানি , অনেক বিবাহিত, অবিবাহিত , বাগদান করা , ছোট ছোট বাচ্চা কাচ্চা আছে এমন লোকের কথা জানি যারা নিয়মিত পর্ন মুভি দেখেন ।  পর্নোগ্রাফি মানুষের বেডরুম , ড্রয়িং রুম থেকে শুরু করে স্কুল কলেজের ক্লাস রুমে , অফিস আদালতে, চার্চে সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে । অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি যারা নিজেদেরকে নিবেদিত প্রাণ  খৃষ্টান মনে করেন, তারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ।  পর্নোগ্রাফি চার্চেও পৌঁছে গেছে । অনেক  সন্যাসীও এতে ভয়াবহ রকমের আসক্ত ।

প্রশ্নঃ আপনার বই এবং আপনার কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ধার্মিক মানুষদের মধ্যে পর্ন মুভি দেখার প্রবনতাটা বেশ বেশি ! কিন্তু ব্যাপারটা একটু খাপছাড়া  হয়ে গেল না ?

পামেলা পলঃ   আসলে ধার্মিক  মানুষেরা এই ব্যাপারটাতে অনেক সৎ । তাদেরকে এই ব্যাপারে কোন প্রশ্ন করা হলে তারা প্রায় কোন কিছুই লুকোছাপা না করে সত্য কথাটা বলে দেন ।  সেকুল্যারদের মধ্যে এই জিনিসটার বেশ অভাব ।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান করার সময় যখন ধার্মিক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি পর্নোগ্রাফি নিয়ে ভোগান্তিতে আছেন কিনা? তখন তারা সত্য কথাটাই বলে দেন । একটা বিষয় এখানে মাথায় রাখবেন , পর্নোগ্রাফি নিয়ে ভোগান্তিতে থাকা মানেই এটা নয় যে তারা নিয়মিত পর্ন মুভি দেখেন । এর মানে এটাও যে তারা পর্নোগ্রাফি থেকে দূরে সরে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন এবং একারনেই  এটা নিয়ে বেশ  ভোগান্তিতে আছেন ।

আমি যেটা মনে করি সেকুল্যারদের চেয়ে ধার্মিক লোকেরাই এই ব্যাপারটা নিয়ে বেশি সচেতন এবং এটার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে বেশি তৎপর ।

প্রশ্নঃ   পর্নোগ্রাফির সমস্যাটা দূর করার জন্য সেকুল্যাররা  ধার্মিক লোকদের থেকে কি  শিক্ষা নিতে পারে ?

পামেলা পলঃ  সেকুল্যারদের  ধর্মভিত্তিক কমিউনিটিদের মত পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করতে হবে । আমরা সবাই বলি, অমুক সমাজের এত শতাংশ লোক পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত, এত শতাংশ লোক পর্নোগ্রাফির কারণে ভয়াবহ জীবন কাটাচ্ছে , কিন্তু সত্যিকারঅর্থেই পর্নোগ্রাফিকে ভয়াবহ একটি বিষয় হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করার কাজ খুব একটা  হয়নি । আমরা কয়জনের সঙ্গে পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি ? এই ব্যাপারটাতে ধর্ম ভিত্তিকি কমিউনিটি গুলো অনেক অনেক এগিয়ে আছে । তারা অনেক আগেই পর্নোগ্রাফিকে একটা সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে । এবং এটার বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে চলেছে । পর্নোগ্রাফির  বিরুদ্ধে  তাদের এই   ক্যাম্পেইন অনেক আগেই শুরু হয়েছে ।

প্রশ্নঃ  তো একজন মানুষ কখন বুঝতে পারবেন যে তিনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন?

পামেলা পলঃ  দেখেন, এই  বিষয়টা এক একজনের   ক্ষেত্রে এক একরকম হয় । ­­­­ খুব কম সংখ্যক  লোক  দ্রুত ব্যাপারটা ধরতে পারে । বেশীরভাগ লোক বছরের পর বছর ধরে পর্নমুভি

দেখে যায় কিন্তু বুঝতেই পারে না তারা এতে ভয়াবহ রকমের আসক্ত হয়ে পড়েছে । এবং মজার ব্যাপার হল, তারা কখনো স্বীকার করতে চায়না যে তারা  পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ।

আমি প্রায় ২ ডজন লোকের সঙ্গে কথা বলেছি যারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ।  তাদের যখন জিজ্ঞাসা করলাম আপনারা কতদিন ধরে পর্নমুভি দেখেন , তারা সবাই উত্তর দিতে লুকোছাপার আশ্রয় নিলেন । সবাই কিছুটা  সময় কমিয়ে উত্তর দিলেন  । একজনতো আমাকে বলেই বসলেন (যিনি প্রায় কয়েক বছর ধরে  প্রত্যেকদিন গভীর রাত পর্যন্ত পর্ন মুভিতে বুঁদ হয়ে থাকেন) আমি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত না !

 

তো কখন  বুঝবেন আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ? কয়েকটা বেসিক রুল  বলি

মনে করুন, কেউ একজন সফটপর্ন দেখা শুরু করল । কিছুদিন পর সে যদি  নিজেকে  আবিষ্কার করে  চাইল্ড পর্ন বা গে পর্ন দেখা অবস্থায় তাহলে বুঝতে হবে  বিপদঘন্টা বেজে গেছে , ঐ লোক পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছে ।

আর একটা রুল বলি , এটাকে অবশ্য জেনারালাইজড করলে হবে না , এটা কিছু কিছু মানুষের জন্য । অনেক লোক আছে পর্ন মুভি দেখা শুরু করার কিছু দিন পর  পতিতালয়ে যেতে শুরু করে । কেউ কেউ অনলাইনে পতিতাদের  সঙ্গে চ্যাট করে । তাইলেই তো এই দুইটা রুল দিয়েই মোটামুটি বুঝতে পারবেন একজন মানুষ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত কিনা ।

প্রশ্নঃ আপনি কি বিশ্বাস করেন আপনার বই পর্নোগ্রাফির  বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করবে?

পামেলা পলঃ আসলে মানুষের জানা দরকার পর্নোগ্রাফি শুধু নিছক বিনোদন নয় । এর সঙ্গে ভয়াবহ ক্ষতি

জড়িত  রয়েছে । মানুষজনের এমন লোকদের কথা গ্রহণ করা উচিত যারা একসময় পর্নে আসক্ত ছিল বা এটা নিয়ে পড়াশোনা করেছে ।  এমন একসময় ছিল যখন  চিকিৎসকরা রোগীদের প্রেস্ক্রাইব করত ধূমপান করার জন্য এবং মুভিতে সিগারেটকে বেশ হাইলাইট করে দেখানো হত । সময়টা ছিল এমন যে ‘পুরুষ’ হতে হলে আপনাকে ধূমপান করতেই হবে । কিন্তু যখন সবাই ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো জানতে পারলো, তখন থেকে ধূমপানের মাত্রা কমে যেতে থাকলো ।  এবং বর্তমানে এটাকে নেতিবাচক দিক হিসেবেই মেইনস্ট্রীম মিডিয়ায় উপস্থাপন করা হয় । আমি বলব পর্নোগ্রাফির ব্যাপারটাও সিগারেটের মতো । আমরা এটা নিয়ে যতবেশি  আলোচনা করব, এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানবো ,এটার বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে ততোবেশি সচেতনতা  সৃষ্টি হবে ।

(ঈষৎ সংক্ষেপিত এবং পরিমার্জিত)

রেফারেন্সঃ

http://www.beliefnet.com/news/2005/10/how-porn-destroys-lives.aspx

অমূল্য নিয়ামাত চোখের খিয়ানত করছি না তো??

অমূল্য নিয়ামাত চোখের খিয়ানত করছি না তো??

রুমে কেউ নেই,দরজা বন্ধ। সামনে ল্যাপটপ ও ইন্টারনেটের অবাধ জগত। যেখানে ইচ্ছা সেখানে সার্ফিং করার সুযোগ। কেউ তো আর দেখছে না! শয়তানের ধোঁকা দেয়ার সুবর্ণ সুযোগ। আর মানবিক দুর্বলতা ও ঈমানি দুর্বলতার কারণে সেই ধোঁকায় পরার সমূহ সম্ভাবনা। বন্ধুর কাছ থেকে পেনড্রাইভ ও পোর্টেবল হার্ডডিস্ক ভর্তি করে আনা হারাম কন্টেন্টে ল্যাপটপ পূর্ণ। লাখ লাখ হারাম সাইট তো আছেই। হারামে প্রবেশ করতে একটি ক্লিকই যথেষ্ট।

বেনামাজিদের কথা বাদই দেয়া যাক, যারা নামাজ পরেন তারা অন্য গুনাহ থেকে বিরত থাকতে পারলেও শয়তানের এই আহবানকে মাঝে মধ্যে উপেক্ষা করতে পারেন না। কেননা হারাম জিনিসকে শুধুমাত্র হারাম জানলেই তা থেকে বাঁচা যায় না বরং ওই হারামকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করা দরকার। নিজেকে বুঝানো দরকার “কেউ না দেখলেও আল্লাহ্‌ তো দেখছেন”। আর মহান আল্লাহ্‌র সাহায্য থাকা তো অবশ্যই দরকার। শয়তানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের এই বিজনেস মুসলিমদের মহান আল্লাহ্‌র হুকুম থেকে গাফেল করার জন্যই। এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যে ইন্টারনেট ইউজ করে কিন্তু জীবনে কখনই এই হারাম জিনিসের প্রতি দৃষ্টি দেয়নি। কিন্তু ১/২/৩ বার গুনাহ হয়েছে বলে একে অভ্যাসে পরিণত করা মহান আল্লাহ্‌র হুকুমের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

ভুল হয়েছে, ক্ষমা চাইতে হবে, বারবার ক্ষমা চাইতে হবে আর এই হারাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য মহান আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চাইতে হবে।

যার চোখ নেই সেই একমাত্র জানে চোখের কদর কতোটুকু। এতো বড় নিয়ামাত চোখের শুকরিয়া কি আমরা হারাম দিকে দৃষ্টি দেয়ার মাধ্যমে আদায় করবো? ওয়াল্লাহি!

“তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না।” (আল-ইমরানঃ১৩৫)

“আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।” (আন-নিসাঃ১৮)

এই জঘন্য গুনাহে নিমজ্জিত হওয়ার আগে আমাদের একটিবার ওইসব শহীদদের কথা মাথায় রাখা উচিত যাদের শাহাদাতের কারণে আজকে দ্বীন ইসলাম আপনার আমার পর্যন্ত এসেছে। আমরা তো সবাই শহিদ হতে চাই না। এবং শহিদ হওয়া সবার জন্য সম্ভবও নয়। মহান আল্লাহ্‌ যাকে অনুগ্রহ করেন একমাত্র সেই এই মহান নিয়ামাত লাভ করেন। আমাদের দরকার একটু নফসের কুরবানি। নফসের ধোঁকা থেকে নিজেকে হিফাজত করা।

খুব কি কঠিন কাজ???? সেইসব শহিদদের তুলনায় আমাদের নফসের কুরবানি কি বেশি হয়ে গেলো???? কখনই নয়।

নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত সালাত গুরুত্বসহকারে আদায় করা এবং মহান আল্লাহ্‌র সাহায্য ছাড়া বর্তমানের সবচেয়ে জঘন্য এই গুনাহ থেকে কেউ বেঁচে থাকতে পারবে না। খুশুর সহিত ৫ ওয়াক্ত সালাত জামাতে আদায় এবং মহান আল্লাহ্‌র কাছে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার দু’য়া করলে অবশ্যই মহান আল্লাহ্‌ সাহায্য করবেন।

মহান আল্লাহ্‌ বলেন,

“আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামায কায়েম করুন। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর।” (সূরা আল-আনকাবুতঃ৪৫)

ফেসবুকের নিউজ ফিড ও নেট সার্ফিং এর সময় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কিছু টিপসঃ

বর্তমান ফিতনার যুগে চোখের গুনাহের সবচেয়ে উর্বর জায়গা হলো অনলাইন। এই দুনিয়ার প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে হাশরের ময়দানে। এমনকি ব্রাউজার হিস্টোরি,চ্যাট হিস্টোরি, প্রতিটি লাইক/কমেন্ট এর হিসাব দিতে হবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ করতে চাইলে তাকে ঠেকানোর কেউ নেই। আমাদের মাথায় রাখা দরকার “browsing history” ডিলিট করতে পারলেও আমরা কিরামান কাতিবিন(দুই কাঁধের ভালো-মন্দ লিখার ফিরিশতাদ্বয়) এর লিখা ডিলিট করতে পারবোনা। একাগ্রচিত্তে তাওবা ছাড়া এই গুনাহ মাফ হবে না। যারা অনিচ্ছাকৃতচোখের গুনাহ থেকে বাঁচতে চান

তাদের জন্য কিছু টিপসঃ

১) অনলাইনের অযাচিত অ্যাড দূর করার জন্য addons হিসেবে Adblock ইউজ করতে পারেন। Firefox, chrome উভয় ব্রাউজারের জন্যই পাবেন। এতে ওয়েব পেজ দ্রুত লোড হবে। ব্যান্ডউইডও কম খরচ হবে। আজেবাজে অ্যাডও দেখতে হবে না।

https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/adblock-plus/

https://chrome.google.com/webstore/detail/adblock-plus/cfhdojbkjhnklbpkdaibdccddilifddb

২) ফেসবুকের ডান পাশে আসা বিভিন্ন মডেলদের ফলো করার আইডি, বিভিন্ন অশ্লীলপেজ এর অ্যাড ইত্যাদি দূর করার জন্য facebook purity ইউজ করতে পারেন। Firefox, chrome উভয় ব্রাউজারের জন্যই পাবেন।

https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/fb-purity-cleans-up-facebook/

https://chrome.google.com/webstore/detail/fb-purity-clean-up-facebo/ncdlagniojmheiklojdcpdaeepochckl?hl=en

৩) নিউজ ফিডে উল্টাপাল্টা ছবি শেয়ার দেয়া বন্ধুদের নিউজ ফিডে অফ করে দিতে পারেন। আইডির উপর কার্সর রাখলে following লিখাকে unfollow করে দেন। এতে ওই আইডি আপানার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকবে কিন্তু নিউজ ফিডে শো করবে না। এতে চোখের গুনাহও হলো না বন্ধুও রাগ করলো না। মাঝখানে আপনি ফিতনা থেকে বেঁচে গেলেন। সেও দ্বীনের দাওয়াত থেকে বঞ্চিত হলো না।

৪) ইউটিউবে এখন প্রচুর ইসলামিক চ্যানেল রয়েছে। ওই চ্যানেলগুলোকে সাবস্ক্রাইব করে রাখলে ইউটিউবে নিজের গুগুল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করে রাখলে শুধু ওই চ্যানেলগুলোর ভিডিওগুলোর অ্যাডই আসবে। এতে চোখকে অযাচিত জিনিস দেখা থেকে বিরত রাখতে পারবেন।

কুরআন ও হাদিস থেকে কিছু রিমাইন্ডারঃ

“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।”

(সূরা নূর : ৩০)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, দৃষ্টি শয়তানের বিষাক্ত তীরসমূহের মধ্যে একটি বিষাক্ত তীর। যে ব্যাক্তি আমার ভয়ে কু-দৃষ্টি ত্যাগ করে আমি তাকে এমন একটি ঈমানী নুর দান করি, যার স্বাদ সে তার অন্তরে অনুভব করে। (তাবরানী)

হযরত হাসান (রা.) থেকে বণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে পুরুষ দৃষ্টিপাত করে এবং যে নারী দৃষ্টিপাত করার সুযোগ দেয় উভয়ই আল্লাহর নিকট অভিশপ্ত। (মিশকাত)

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান, কিয়ামতের দিন সমস্ত চোখ ক্রন্দনরত অবস্থায় থাকবে। কিন্তু ঐ চোখ ক্রন্দনরত অবস্থায় থাকবে না, যে চোখ দুনিয়াতে নিষিদ্ধ বস্তু দেখা থেকে বিরত রয়েছে। (আত-তারগীব ওয়াত তারহীব।)

মহান আল্লাহ্‌ আমাদেরকে মাফ করুন ও শয়তানের ধোঁকা থেকে হিফাজত করুন। ঈমান আমলের যথাযথ হিফাজত করে দুনিয়া থেকে আখিরাতে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আইটেম সং, শিশু নির্যাতন এবং বলিউডী দুনিয়ার ভন্ডামী

আইটেম সং, শিশু নির্যাতন এবং বলিউডী দুনিয়ার ভন্ডামী

কারিনা কাপুরকে দেখলাম টিভিতে, মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ সোচ্চার । কয়েক মাস আগে তিনি বললেন যে, মুম্বাইতে সন্ধ্যা ছয়টার পর বের হওয়া, তিনি নিরাপদ মনে করেন না ।

প্রিয়াংকা চোপড়া, আমাদের সময়ের আরেকজন বলিউড ডিভা, অনেকদিন যাবত ধরেই মেয়েদের পণ্য বানানো কিংবা মেয়ে শিশুর বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন ।

অথচ এই দুই নায়িকার কাওকেই, সিনেমায় তাদের খোলামেলা পোশাকের ব্যাপারে আপত্তি তুলতে শোনা যায়না । অন্তত প্রিয়াংকার ক্ষেত্রে, তার ক্যারিয়ারের একটা বড় অংশ কেটেছে অর্ধনগ্ন হয়ে, উন্মত্ত কামুক পুরুষের সামনে নাচার দৃশ্যে অভিনয় করে ।

কোন সন্দেহ নেই, এই আইটেম গানগুলোতে মেয়েদের পণ্যরুপে উপস্থাপন করা হয় । আপনি কি ‘মুন্নি বদনাম’ ‘শিলা কি জাওয়ানি’ থেকে শুরু করে, ‘পাল্লু কে নিচে’ গানগুলোর কথা বুঝে শুনে বলতে পারবেন, যে কথাগুলো অশ্লীল নয় কিংবা নারীর সম্মানহানী করেনা ?

এইসব গানে ক্যাটরিনারা দেদারসে নাচবেন, আবার সমাজে নারীবাদীর মুখোশ পরে, ভদ্র সাজবেন ।

যদি এরপরেও আপনার দ্বিধা থাকে মনে, তাহলে একটা প্রশ্নের উত্তর দিন, ‘আইটেম কথাটার মানে কী?

একটু সচেতনতার সাথে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, কাদের এই আইটেম গান টার্গেট করে । কোন আইটেম গান, শিক্ষিত মধ্যবিত্তের পরিচিত পরিবেশে দৃশ্যায়ন করা হয়না । হয় করা হয় উচ্চবিত্তের বেহায়াপনা হিসেবে, নয়তো মফস্বল শহরের ভেতরে, টং দোকানের সামনে; যেখানে আইটেম আর তার কামার্ত বন্ধুরা সাধারণত পরে থাকে নিম্নবিত্তের পোশাক । এমনকি, নাচের ভঙ্গিমায়ও সেইসব লোকেদের টার্গেট করা হয়, যারা মহিলাদের একটা বাজারে পণ্যের চেয়ে বেশি কিছু ভাবতে পারেনা । আইটেমের চারিদিক ঘিরে থাকে নির্মাণ শ্রমিক, রিকশাওয়ালা বা অটো ড্রাইভারের পোশাক পরিহিতেরা । আপনি হয়ত শিক্ষিত মানুষ হয়ে ভাবতে পারবেন ক্যাটরিনা তো শুধুই অভিনয় করছে, কিন্তু মনে মনে একজন রিকশাওয়ালা হয়ে দেখুন । তার কাছে কী মেসেজ দিতে চান নায়িকারা?

তাই প্রিয়াংকা যখন বলেন, পুরুষ আর নারী সমান, তখন কি সব ক্লাসের মেয়েদের বুঝান নাকি কেবল তার মত উচ্চবিত্ত মহিলাদের । নিম্নবিত্তরা আইটেম গানের আইটেমের মতই পণ্য ?

আমাদের মা-বোনেরা, নয় বছরের শিশুরা কিন্তু এই প্রিয়াংকাদেরই আজকে রোল মডেল বানাতে চান । এজন্যই কি গত দশ বছরে, এদেশের মহিলাদের পোশাকের ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হয়ে গেছে? ওড়না তো বলতে গেলে এখন কোন মেয়েই ‘প্রয়োজন’ হিসেবে পরেনা, পরে অতিরিক্ত একটি ফ্যাশনেবল কাপড় হিসেবে । ফিল্মের নায়িকারা যতই উপর উপরে তুলসি পাতা সাজুন, আসলে তারা প্রকাশ্যে, ছেলে ও মেয়েদের উভয়ের কাছেই ‘নারী শুধু পণ্য’ এই মেসেজ দিয়ে যাচ্ছেন । তাই সাত বছরের মেয়ে শিশুটি যখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে স্তন মাপে, আর ক্লাস ফাইভের ছেলের দ্বারা শিক্ষিকা অপদস্ত হয়, আমরা আর অবাক হইনা।

আপনি হয়ত ভাবছেন এগুলো শুধুই মুভি, বাস্তবে এর প্রভাব নেই। জেনে রাখুন, একটি রহস্য উপন্যাস যেমন, সুবিচারের মেসেজ দেয় আমাদের অবচেতন মনে, সাহিত্য উপন্যাস মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ ফেলে, তেমনি এগুলোও নারীদের পণ্য বানিয়ে ফেলছে দিন কে দিন। আমার কথা বিশ্বাস না হলে, নিজ পরিবারের উপর পরীক্ষা করুন। আপনার সন্তান যদি আপনাকে সব বলতে পারে এমন হয়, তাহলে তাকে একটি আইটেম সং দেখতে দিয়ে, সে কী বুঝেছে জিজ্ঞেস করুন। আর যদি সে লজ্জা পায়, তাহলে ধরে নেবেন, হয় সে আপনাকে বন্ধু ভাবেনা, নয়তো এমন কিছু শিখেছে, যা নিজের খুব কাছের বন্ধুকেও বলতে সঙ্কোচ হয় তার ।

এইসব আইটেম গান দেখা থেকে বিরত থাকুন ।  আইটেম গয়ান  আপনাকে  ধীরে ধীরে পর্নোগ্রাফির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে; আপনি জানতেও পারছেন না ।

এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে পৃথিবীর যেকোন স্তন্যপায়ী প্রাণী তথা mammals পুরুষের জন্য, টেস্টোস্টেরেন হরমোনের প্রভাব সহ্য করা কঠিন । এটি আপনাকে পাগল করে তোলে, বুনো হাতির মতই, বাধ্য করে পর্নোগ্রাফি আর  হস্তমৈথুনের মত অশ্লীল বিষয়ে নিজেকে জড়াতে । সাবধান ভাই। আল্লাহ্‌ আমাদের ও আমাদের প্রিয় পরিবারগুলোকে এই ফিতনা থেকে বাঁচার তৌফিক দিন।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

পড়তে পারেন-

আইটেম সং- https://bit.ly/2x5xMdW

অশনি সংকেত- https://bit.ly/2QoJTLH