নীড়ে ফেরার গল্প

নীড়ে ফেরার গল্প

১৮ বছরের  এক তরুণ ।

সদা   হাস্যোজ্জল ।

কাউকে বুঝতে দেয়না এই হাসিমুখের আড়ালে   কতটা কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছে সে।

কতটা  ঘৃণা সে করে   নিজেকে ।

বহুদিন আগে সে করেছিল এক ভুল – মাস্টারবেশন আর পর্ন মুভির অন্ধকার জগতে পা বাড়িয়ে ।তারপর  কীভাবে সেই  অন্ধকার অভিশপ্ত জীবন থেকে বেরিয়ে আসলো সে , শ্বাস নিল মুক্ত বাতাসে?

…… আমার যখন ১৩ বছর বয়স তখন একদিন হটাৎ করেই মাস্টারবেশন বিষয়টা আবিষ্কার করে ফেললাম । প্রথম প্রথম আমি জানতামই না এটি খুব খারাপ।মাঝে মধ্যেই এটা করতাম । মাস দুয়েকের মধ্যে আমি মাস্টারবেশনে  পুরোপুরি  অভ্যস্ত হয়ে গেলাম । প্রতিদন একবার তো বটেই , মাঝে মাঝে তিন চার বার করে মাস্টারবেট করতাম ।

আমি ছোটবেলা থেকেই ভদ্র ছেলে ছিলাম, যাকে বলে ‘গুড বয়’। মেয়েদের সবসময় সম্মানের দৃষ্টিতে দেখতাম । আমার পরিবার থেকেও আমাকে এটাই শেখানো হয়েছিল । কিন্তু মাস্টারবেশনে অভ্যস্ত হয়ে যাবার পর আমার মধ্যে আমূল একটা পরিবর্তন এসে গেল  এবং সেই পরিবর্তন যে নেতিবাচক সেটা বলাই বাহুল্য। আমি মেয়েদেরকে অন্য চোখে দেখা শুরু করলাম । আমার আশেপাশের মেয়েদের যেমন আমার ক্লাসমেট, প্রতিবেশিনী, স্কুলের ম্যাম এদের নিয়ে আমি সেক্স ফ্যান্টাসিতে ভুগতাম । আমার এই ফ্যান্টাসি গুলো এতটাই জঘন্য ছিল যে সেগুলো মনে হলে আমার  এখন বমি আসে ।আমি অবাক হয়ে ভাবি , কীভাবে আমি,এই আমি এত বাজেভাবে চিন্তা করতাম!

আমি প্রত্যেকবার মাস্টারবেট করার সময় এইসব মহিলাদের নিয়ে চিন্তা করতাম । পত্রিকার বিনোদন পেইজ, ম্যাগাজিনের মডেল , নায়িকাদের ছবি, মিউজিক ভিডিও আমাকে বেশি  বেশি  মাস্টারবেট করতে বাধ্য করত ।

এভাবে দু’বছর চলে গেল । মাস্টারবেট শুরু করার পূর্বে আমি খুবই এনারজেটিক ছেলে ছিলাম । বিভিন্ন আউটডোর স্পোর্টসে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতাম । কিন্তু  আস্তে আস্তে আমি এসবে উৎসাহ হারিয়ে ফেললাম  এবং একসময়  খেলাধুলা বলতে গেলে ছেড়েই দিলাম । আমি সবসময় দুর্বলতা অনুভব করতাম । আমার শরীরের ওজন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে শুরু করল । শুরুর দিনগুলোতে মাস্টারবেশেন আমি প্রচুর মজা পেতাম। কিন্তু এই সময়টাতে প্রতিবার মাস্টারবেট করার পর আমার মধ্যে প্রচন্ড খারাপ লাগা কাজ করত । আদিগন্ত বিস্তৃত বিষন্নতা আমাকে গ্রাস করে ফেলত ।

আমি ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করলাম মাস্টারবেশন আমার জন্য  ক্ষতিকর , আমার এটা ছাড়া উচিত । কিন্তু আমি কিছুতেই ছাড়তে পারছিলাম না ।নিজেকে প্রচুর পরিমাণ ঘৃণা করতাম ।

১৮ বছর বয়সটা আমার এই ছোট্ট  জীবনের সবচেয়ে কালো অধ্যায় । আমি এই সময়টাতে দিনে প্রায় ২/৩ বার মাস্টারবেট করতাম । পথে ঘাটে মেয়েদের টাইট টাইট পোশাক আশাক, তাদের চলাফেরা , অঙ্গ ভঙ্গি, পত্রিকার বিনোদন পেইজ , ম্যাগাজিনের নায়িকাদের খোলামেলা ছবি, আইটেম সং আমাকে পাগল করে তুলতো । আমি যেন একটা পশুতে পরিণত হয়ে যেতাম । মনে হত  এখন ,এই মুহূর্তে  যে কোন মূল্যে আমার একটা শরীর চাই;নারীর শরীর  , হোক সে রাস্তার পতিতা ।

১৩ বছর বয়স  থেকে আমি মাস্টারবেশনে অভ্যস্ত হলেও আমার সৌভাগ্য আমি তখনো পর্নমুভিতে আসক্ত হইনি । ১৮ বছর বয়সে এক বন্ধুর মাধ্যমে আমি ‘চটির’ খোঁজ পেয়ে যাই ।রাত জেগে , ক্লাসের পড়া বাদ দিয়ে , এমনকি ক্লাসেও লুকিয়ে লুকিয়ে চটি পড়তাম এবং অতি অবশ্যই প্রত্যেকবার চটি পড়ার পর মাস্টারবেট করতাম । এমন বাজে অবস্থা হয়েছিল যে আমি রমাদান মাসে রোজা রাখা অবস্থাতেও চটি পড়তাম এবং মাস্টারবেট করতাম । আমার পড়াশোনা শিকেয় উঠলো , স্বাস্থ্য ভয়ানক ভাবে ভেঙ্গে পড়লো,চুল পড়তে শুরু করলো,সেই সঙ্গে ভয়ানক মাথা ব্যাথা।

চটিগল্প আমার মানসিকতা একেবারেই নষ্ট করে দিয়েছিল । আমি ক্লাসের ম্যাম , বাসার কাজের মেয়ে , প্রতিবেশিনী, ক্লাসের সহপাঠিনী,  এমনকি আমার অনেক মেয়ে কাজিন, ফুফু, মামী এদেরকে নিয়েও সেক্স ফ্যান্টাসিতে ভুগতাম । চটি গল্পে পড়া কাহিনী গুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার চিন্তা করতাম । আমার আশ পাশ দিয়ে কোন মেয়ে গেলেই আমি তাকে নিয়ে বাজে চিন্তা করা শুরু করতাম । আমার আশে পাশের কোন মেয়েই আমার ফ্যান্টাসির নায়িকা হওয়া থেকে রেহাই পেত না ।

অনেক আগে থেকেই আমাকে বিষণ্নতা পেয়ে বসেছিল, এবার যেন বিষাদসিন্ধুতে হাবুডুবু খেতে থাকলাম। বিষণ্নতা দূর করার উপায় হিসেবে প্রচুর গান শুনতাম । কিন্তু এতে অল্প কিছু সময় ভালো লাগলেও পরে আবার  ভয়াবহ বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়ে পড়তাম ।

এই ভয়াবহ সময়টাতে  এমন একজনকে আমার পাশে দরকার ছিল যে আমার সব কথা গুলো মনযোগ দিয়ে শুনবে ,আমার কষ্ট গুলো ভাগ করে নিবে ,  আমাকে সাহায্য করবে এই অভিশপ্ত জীবন থেকে বের হয়ে আসতে । কিন্তু লজ্জার কারণে এবং আমার এই ভয়াবহ  অন্ধকারের গল্প শুনলে আমাকে কতটা ঘৃণা করবে এই ভেবে  আমি কাউকে কিছু বলতে পারতাম না । সবার সঙ্গে হাসিমুখে চলতাম । কাউকে বুঝতে দিতাম না এই ১৮ বছরের ছেলেটার জীবন কতটা অভিশপ্ত ,   প্রত্যেকটা দিন  তার হৃদয়টা কিভাবে  কুরে কুরে খাচ্ছে মাস্টারবেশন আর চটি নামক  অভিশাপটা ।

এর কিছুদিন পর আমি পর্ন মুভিতে আসক্ত হয়ে গেলাম । প্রথম দিকে নারী পুরুষের পশুর মত যৌন মিলন দেখে আমার বমি আসতো । কিন্তু কয়েকদিনের ভেতরেই আমার কাছে এগুলো স্বাভাবিক হয়ে গেল । সফটপর্ন ছেড়ে আমি ধীরে ধীরে হার্ডকোর পর্ন দেখা শুরু করলাম ।

জীবন আমার কাছে অসহ্য মনে হতো । নিজেকে প্রচুর পরিমাণ ঘৃণা  করতাম । সবকিছু ছেড়ে পালিয়ে বাঁচতে চাইতাম । চাইতাম এই অন্ধকার কলুষিত জীবন থেকে বেরিয়ে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে।

এক দেড় বছর পার হয়ে গেল।আমি মাস্টারবেশনে তখনো আসক্ত , পর্ন  দেখা বন্ধ করার জন্য প্রতিনিয়ত লড়ি নিজের সাথে এবং পরাজিত হই । হঠাৎ একদিন আপনাদের লিখা গুলো চোখে পড়লো ( লস্ট মডেস্টি ব্লগের লিখা) । আমি যেন এক অমূল্য রত্ন ভান্ডারের সন্ধান পেলাম । আপনাদের লিখা আমাকে ভয়ানক ভাবে প্রভাবিত করল । মাস্টারবেট করার ইচ্ছে জাগলেই আপনাদের লিখা গুলো পড়তাম । আপনাদের কথা মতো প্রচুর পরিমাণ দু’আ করতাম  আল্লাহ্‌ (সুবঃ)’র কাছে । একটা  টার্গেট ঠিক করে নিয়েছিলাম – আগামী এক সপ্তাহ ইনশা আল্লাহ্‌ পর্ন  মুভি দেখবনা , মাস্টারবেট করব না,আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ আমি পর্ন  এবং মাস্টারবেশন আসক্তি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়ে গিয়েছি।

হতাশা, বিষন্নতা কাটিয়ে উঠেছি সেই কবে ,  পড়াশোনায় উৎসাহ ফিরে পেয়েছি । জীবনটাকে এখন অনেক অনেক বেশি  ভালবাসতে ইচ্ছে করে । এই গ্রীষ্মের মত জীবনটাকে এত মধুর মনে হয়নি আগে কখনো ।

আমার জন্য সবাই দু’আ করবেন আমি যেন চিরকাল এই অন্ধকার জগত থেকে দূরে থাকতে পারি । লস্ট মডেস্টি   টিমের প্রত্যেক সদস্যের জন্য আমার অনেক অনেক দু’আ এবং শুভকামনা রইলো । আল্লাহ্‌ আপনাদের কাজে বারাকাহ দান করুক ।  আপনাদের কাজের মাধ্যমে এবং আল্লাহ্‌ (সুবঃ)’র ইচ্ছায় আমার মত অনেকেই অন্ধকার জগত থেকে বের হয়ে আসবে ইনশা আল্লাহ্‌ ।

একটা কথা বলে শেষ করব। হাইপার সেক্সুয়ালাইজড  বর্তমান পৃথিবীতে নারীদেহ পন্যের মত বেচাকেনা চলছে । আইটেম সং , রিয়েলিটি শো, খেলার মাঠ, বিলবোর্ড সবকিছুই তরুণদের কামের আগুনকে উষ্কে দিচ্ছে সব সময় ।  ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে পা হড়কানো  দুটো মাউসের ক্লীকের ব্যাপার মাত্র ।  এরকম এক অস্থির পৃথিবীতে হয়তো   আপনার সন্তান/ ছোট ভাই বোন / কাজিনও রক্ষা পায়নি পর্ন  মুভি/ মাস্টারবেশন/চটির   হাত থেকে । হয়তো    আপনার আশেপাশে আপনার সন্তান/ ছোট ভাই বোন / কাজিন  মাস্টারবেশন , পর্ন  মুভিতে আসক্ত হয়ে বিভীষিকাময় জীবন পার করছে ।  সে তার কষ্ট গুলো হয়তো আপনাকে  বুঝতে দিচ্ছে না,আপনার কাছ থেকে গোপন করে রেখেছে তার এই অন্ধকার পৃথিবী,হাসিমুখের আড়ালে ।

তার সঙ্গে বন্ধুর মত মিশুন।তার আস্থা অর্জন করুন , তাকে  তিরস্কার না করে,লজ্জা না দিয়ে  তার অন্ধকারের গল্পগুলো শুনুন, তার কষ্টগুলো অনুভব করুন ।বাড়িয়ে দিন সাহায্যের হাত ।

আপনার সাহায্য তার খুব প্রয়োজন ।

খুব বেশি  প্রয়োজন ।

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ১০টি সহজ উপায়

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ১০টি সহজ উপায়

আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়া এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া। আর তা যদি করতে হয় তাহলে জেনে নেয়া ভাল যে জান্নাতে যাওয়ার পথ ফুল বিছানো পথ নয়। সে পথে চলতে গেলে আমাদের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। সহিহ হাদিসে এসেছে যে জাহান্নামকে ঘিরে রাখা হয়েছে কামনা বাসনা দ্বারা। অর্থাৎ মানুষের যা করতে ভাল লাগে তা দিয়ে জাহান্নামকে ঘিরে রাখা হয়েছে। আর জান্নাতকে ঘিরে রাখা হয়েছে দুঃখ-কষ্ট ও ধৈর্য দ্বারা।

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার অনেক উপায় রয়েছে তার মধ্যে এখানে বর্তমানে বাস্তবতার ভিত্তিতে ১০টি সহজ উপায় নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

১.গুনাহের সম্ভব্য রাস্তা বন্ধ করাঃ গুনাহ যাতে না হয় সে জন্য গুনাহের উপায় গুলো বন্ধ করে ফেলতে হবে। গুনাহর সামনে যখন একজন মানুষ দাঁড়ায় তখন গুনাহ থেকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এর চেয়ে সহজ হচ্ছে সেই গুনাহের যাতে কাছে না যেতে হয় সেই ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে কোন কিছুর প্রতি যদি কারও আকর্ষণ থাকে তাহলে সেটা যদি সামনে এসে যায় তাহলে তা পাশ কাটিয়ে যাওয়া কঠিন। এর চেয়ে এর মুখোমুখি যাতে না হতে হয় সে ব্যবস্থা করা ভাল। সোজা কথায় খাল কেটে যেন আমরা কুমির না আনি। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন “মুমিনদেরকে বল তারা যেন দৃষ্টি অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।” এখানে আল্লাহ তাআলা প্রথমে দৃষ্টি অবনত রাখতে বলেছেন। তার কারন হচ্ছে দৃষ্টি অবনত রাখতে পারলে লজ্জাস্থানের হেফাজত অনেক সহজ হয়ে যায়।

বাস্তব একটি কেস নিয়ে আলোচনা করি। ইন্টারনেট বর্তমানে অনেক ফিতনার রাস্তা খুলে দিয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেটবিহীন জীবন আবার অবাস্তব সাজেশন। তাহলে কি করতে পারি? যেটা করতে পারি সেটা হচ্ছে।

–   যদি খুব দরকার না হয় তাহলে লো স্পিড নেট ব্যবহার করা।

–   বিভিন্ন অ্যাপ্স আছে যা অশ্লীল ছবি/বিজ্ঞাপন ফিল্টার করে তা ব্যবহার করা।

–   একা একা রুমে বসে নেট ব্রাউজ না করা।

২. দৈনন্দিন রুটিন ঠিক করাঃ আমদের ডেইলি রুটিন সম্পূর্ণ অনৈসলামিক। আমরা দিন শুরু করি দেরিতে আর রাতে জেগে থাকি। এটা মহাবিপদ। রাত জেগে থেকে সকালে দেরি করা ঘুম থেকে উঠার ফলে আমাদের দিনের পর দিন ফজরের সালাত মিস হচ্ছে। স্টুডেন্ট লাইফে এটা আরও বড় সমস্যা। আমরা যদি সাহাবীদের লাইফ স্টাইল দেখি তাহলে দেখব যে তারা সকল কাজ দিনেই সম্পন্ন করতেন। রাসূল (স) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন যে তার উম্মাতকে যেন সকালের প্রথম ভাগে বরকত দেয়া হয়। এবং আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছিলেন। অনেক সময় মনে হতে পারে যে রাতে তো আমার পড়া ভাল হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভোরে পড়লে পড়া ভাল হয়। আরেকটি জিনিস হচ্ছে রাতের বেলা ফিতনার সুযোগ অনেক বেশি। তাই আমরা চেষ্টা করব যেন রাতের বেলা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে ভোরে উঠার চেষ্টা করা। ২/৩ দিন চেষ্টা করলেই ইনশাআল্লাহ তা অভ্যাসে পরিণত হবে।

৩. নিয়মিত কুরআন চর্চা করাঃ প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করা ও কুরআনের পিছনে সময় ব্যয় করা উচিত। তাহলে এই কুরআনই আমাদের গুনাহ থেকে টেনে তুলবে।

৪. সালাতকে সুন্দর করাঃ আমাদের চেষ্টা করতে হবে সালাতকে সুন্দর করতে হবে। আল্লাহ বলেছেন যে “নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে মন্দ ও অশ্লীল কাজ হতে দূরে রাখে।”

৫. আল্লাহর সাহায্য চাওয়াঃ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়। আল্লাহ যদি সাহায্য করেন তাহলে তা সোজা হয়ে যায়। এইজন্য ইউসুফ (আ) কে যখন সেই সুন্দরী উচ্চ বংশীয় মহিলা খারাপ কাজের জন্য আহ্বান করল তখন তিনি একজন নবী ও দৃঢ় চরিত্রের হওয়া সত্ত্বেও সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন।

৬. গুনাহ ও গুনাহের কুফল সম্পর্কে জানাঃ আমাদেরকে জানতে হবে কোন কোন কাজ গুনাহ। আজকে মানুষ জানেই না কোন কাজ গুনাহ। এছাড়া আমাদের গুনাহের কুফল সম্পর্কেও জানতে হবে। তাহলে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সহজ হবে। গুনাহের কুফল অনেক। যেমনঃ হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হওয়া, জ্ঞান কমে যাওয়া, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, আল্লাহর সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়, জীবন জটিল হয়ে পড়ে ইত্যাদি।

৭. বিকল্প ব্যবস্থা করাঃ হারাম বিনোদন বাদ দিয়ে আমরা হালাল বিনোদন যেমন বিভিন্ন হালাল খেলাধূলা করা যেতে পারে। যারা মুভি দেখেন তারা বিভিন্ন ডকুমেন্টরি দেখতে পারেন। এভাবে হারামের হালাল বিকল্প খুঁজতে হবে।

৮. দৈনন্দিন জিকর করাঃ দৈনন্দিন বিভিন্ন জিকর রয়েছে যেগুলো গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। যেমন খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলা। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে বলা “বিস্মিল্লাহি তাওাক্কালতু আলাল্লাহি লা হাওলা কুও্বাতা ইল্লা বিল্লাহ।” এভাবে সব কাজের আগে দোয়া রয়েছে যেগুলো চর্চা করলে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।

৯. কথা বলা, খাওয়া, মেলামেশা করা এগুলোর পরিমাণ কমানঃ কথা কম বলা কষ্টকর। কিন্তু যে বেশি কথা বলে তার গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রাসূল (স) বলেছেন যে আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে সে হয় ভাল কথা বলুক নাহয় চুপ থাকুক। কারন কথা বলতে বলতে এমন গুনাহ হয়ে যেতে পারে যার শাস্তি খুব সাংঘাতিক। এছাড়া অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত না হওয়া। এছাড়া বেশি না ঘুমান ও বেশি না খাওয়া। অর্থাৎ হালাল কাজ গুলোর মধ্যেও সীমারেখা টানা।

১০. ধৈর্য ধারণ করাঃ আমাদের ধৈর্যের খুব অভাব। কিন্তু গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে। ধৈর্য আসবে চেষ্টা করার মাধ্যমে। একজন লোক হয়ত আপনার পায়ে পাড়া দিয়ে চলে গেল আপনি চেষ্টা করুন তাকে কিছু না বলতে। আর ধৈর্য আয়ত্ত করার সবচেয়ে বড় সুযোগ হল রামাদান মাস।

(সংগৃহীত)

লিটমাস টেস্টঃ যেভাবে বুঝবেন আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত …

লিটমাস টেস্টঃ যেভাবে বুঝবেন আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত …

যেকোনো সমস্যা সমাধানের পূর্বশর্ত হচ্ছে সমস্যাটা স্বীকার করে নেয়া। পর্ন-আসক্তির ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তা-ই। প্রথমেই আপনাকে স্বীকার করতে হবে যে আপনি পর্নে আসক্ত, তবেই কেবল ভেতর থেকে আসক্তি দূর করার তাগাদা পাবেন। পর্ন-আসক্ত হবার পরেও আপনি যদি গোঁ ধরে থাকেন যে আপনি পর্ন-আসক্ত না, শুধু মাঝেমধ্যে দু-একটা পর্ন ভিডিও দেখেন, তাহলে কারোরই সাধ্য নেই আপনাকে সাহায্য করার।

আমরা আপনাকে ৫ টি প্রশ্ন দিচ্ছি[1], [2]

নিজেকে এ প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করুন। একটি প্রশ্নের জবাবও যদি “হ্যাঁ” হয়, তাহলে বুঝবেন, বিপদঘণ্টা বেজে গেছে। আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।

প্রথম প্রশ্ন : দিন দিন আপনার পর্ন ভিডিও দেখার সময় কি বেড়ে যাচ্ছে? একবার পর্ন দেখতে বসলে খেয়াল থাকে না কতটা সময় কেটে গেছে? প্রত্যেকদিন বা প্রত্যেকবার কি আপনি আগের দিনের চেয়ে বেশি সময় ধরে পর্ন ভিডিও দেখছেন?

পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত লোকেরা প্রতিদিন তাদের পর্ন ভিডিও দেখার পরিমাণ একটু একটু করে বাড়িয়ে দেয়। ব্যাপারটা মাদক ব্যবহারের মতো। নিয়মিত মাদক ব্যবহার করা শুরু করলে একসময় মানুষ আবিষ্কার করে, আগে যে ডোজে “কাজ” হতো, এখন আর তাতে হয় না। নিয়মিত ব্যবহারকারীরা তাই ক্রমান্বয়ে মাদকের পরিমাণ বাড়াতে থাকে।

পর্ন-আসক্তদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই রকম। তারা একটা পর্ন ভিডিও এক-দু বার দেখার পর তাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। মাদকাসক্তের রুটিনে তিনটি মূল কাজ থাকে। মাদকের জন্য টাকা জোগাড়, মাদক কেনা, নেশা করা। তার দৈনন্দিন জীবন, চিন্তাভাবনা, প্ল্যান-প্রোগ্রাম সব এ তিনটিকে ঘিরে আবর্তিত হয়।

পর্ন আসক্তের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই রকম। পার্থক্য হলো ফ্রি ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফির এ যুগে পর্ন-আসক্ত ব্যক্তিকে টাকার চিন্তা করতে হয় না। পর্ন-আসক্ত ব্যক্তির সময় যায় নতুন নতুন পর্ন ভিডিও খুঁজে বের করতে। এ খোঁজাখুঁজির ব্যাপারটা তাদের প্রতিদিনের রুটিনের অনেকটা সময় নিয়ে নেয়। এতে তারা স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি বা কর্মক্ষেত্রে যেতে দেরি করে ফেলে, অলসতা বোধ করে এবং কাজ করে কূল পায় না।

আপনার মধ্যে এই লক্ষণগুলো থাকলে বুঝবেন আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।

দ্বিতীয় প্রশ্ন : আপনি কি সফটকোর পর্ন ভিডিও ছেড়ে হার্ডকোর পর্ন দেখা শুরু করেছেন?

পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত লোকেরা প্রথম অবস্থায় সফটকোর পর্ন ভিডিও দেখে। কিছুদিন পর তারা সফটকোর পর্নে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এটা তাদের কাছে আর যথেষ্ট “উত্তেজক” মনে হয় না। তারা নতুন, আর “কড়া” কিছু খুঁজে বেড়ায়। আস্তে আস্তে হার্ডকোর পর্ন ভিডিও দেখতে শুরু করে। এভাবে তারা একসময় এমন একটা অবস্থায় পৌঁছায় যখন অজাচার, সমকামিতা বা শিশুদের ধর্ষণের ভিডিও তাদের উত্তেজিত করে, তাদের কাছে স্বাভাবিক বিষয় বলে মনে হয়। ওরাল সেক্স, অ্যানাল সেক্সের মতো জঘন্য বিষয়গুলোও তাদের কাছে ডালভাত হয়ে যায়।

আপনার এ রকম অবস্থা হলে বুঝবেন বিপদঘণ্টা বেজে গেছে—আপনি মারাত্মকভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত।

তৃতীয় প্রশ্ন : আপনার মাথায় কি সারাদিন পর্ন ভিডিওতে দেখা দৃশ্যগুলো ঘুরতে থাকে?

পর্ন ভিডিও দেখার পর একজন পর্ন-আসক্ত ব্যক্তির মাথায় অনেকক্ষণ এটার রেশ থেকে যায়। ভিডিওতে দেখা দৃশ্যগুলো তার মাথায় ক্রমাগত ঘুরপাক খায়। পড়াশোনা করার সময়, অফিসে কাজ করার সময়, রাতে ঘুমানোর আগে, অলস বসে থাকার সময়, এমনকি নামাজ পড়ার সময়ও তার মস্তিষ্ক অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শেষ দেখা পর্ন ভিডিওর দৃশ্যগুলো নিয়ে ভাবতে থাকে। পর্ন ভিডিওর নায়িকাদের শরীরের সাথে সে তার আশেপাশের মহিলাদের শরীর তুলনা করে, তার স্ত্রীর শরীর (মেয়েরা স্বামীর শরীর এবং বিছানায় তার স্বামীর পারফরম্যান্স) এবং বিছানার পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তুষ্টিতে ভোগে। পর্ন ভিডিওতে দেখানো পদ্ধতিতে তার সঙ্গীর সাথে সে যৌনমিলন করতে চায়। পার্টনার রাজি না হলে সে রেগে যায় এবং মনঃক্ষুণ্ণ হয়। সম্পর্কে সৃষ্টি হয় জটিলতা।

এই বিষয়গুলোর একটিও আপনার মধ্যে থাকলে আপনি বুঝবেন, আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত।

চতুর্থ প্রশ্ন : পর্ন ভিডিও দেখার পর আপনি কি বিষণ্ণবোধ করেন? দিন দিন হতাশা কি আপনাকে গ্রাস করে ফেলছে? আপনি কি অস্থিরতায় ভুগছেন? নিজের আচরণের জন্য লজ্জিত? সব সময় নিজের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করে?

ভালো কাজ মানুষের অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করে, প্রচণ্ড ভালোলাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। অন্যদিকে মন্দ কাজ অন্তরকে অশান্ত করে তোলে, মানুষকে অপরাধবোধে ভোগায়। পর্ন ভিডিও দেখার পর বিষণ্ণবোধ করলে, অস্থিরতায় ভুগলে বুঝবেন এটা আপনার জন্য অশনিসংকেত।

পঞ্চম প্রশ্ন : আপনি কি নিজের কাছে বা অন্য কারও কাছে ওয়াদা করেছেন—আমি আর কখনোই পর্ন ভিডিও দেখব না, কিন্তু সেই ওয়াদা রাখতে পারেননি?

এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তিরা নিজের কাছে বা অন্য কারও কাছে প্রতিজ্ঞা করে যে, আমি আর কখনোই পর্ন ভিডিও দেখব না, কিন্তু কিছু সময় বা কয়েকদিন পরে তারা সেই প্রতিজ্ঞা বেমালুম ভুলে যায়, আবারও পর্ন দেখায় ফিরে যায়। অনেকে আবার আরেক কাঠি সরেস। প্রতিবার পর্ন ভিডিও দেখার আগে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়—এটাই শেষ বার, আমি আর জীবনে কখনোই পর্ন দেখা তো দূরের কথা, এর ধারেকাছেও ঘেঁষব না। কিন্তু কিছু সময় বা কয়েকদিন পরে তারা আবারও পর্ন দেখে এবং এবারও বলে এটাই আমার শেষ বার, এবারের পর আর কখনোই পর্ন দেখব না।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো পর্ন-আসক্তদের অনেকেই বলে, “আরে ধুর! আমি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হতে যাব কেন? আমি চাইলেই যেকোনো সময় এটা দেখা ছেড়ে দিতে পারি।” কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা চাইলেই পর্ন ভিডিও দেখা ছাড়তে পারে না।

[1]  Porn Addiction 101 – https://goo.gl/ZyQ61r

[2] 5 Signs Your Porn Habit Is More Of A Problem Than You May Think- https://goo.gl/srPDjH

আত্মোপলব্ধি

আত্মোপলব্ধি

আমাদের প্রজন্ম পর্নোগ্রাফি দ্বারা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত, আর এই আসক্তি খুব অল্প বয়স থেকেই শুরু হয়। পর্নোগ্রাফি যেসব সমস্যা তৈরি করে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, এটি বিনোদন পাবার জন্য অন্য মানুষকে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করতে শেখায়।

আমরা এই বিষয়ে গবেষণার পাশাপাশি ডেভিন নামের একজন কলেজ ছাত্রের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। পর্নোগ্রাফি কীভাবে তার জীবনকে আক্রান্ত করেছে, সে বিষয়ে আমরা তার সাথে কথা বলেছি এবং পর্নোগ্রাফি কীভাবে তার মানসিকতার পরিবর্তন করেছে, এ ব্যাপারে সে তার বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।

নিচের উক্তিগুলো ডেভিনের সাক্ষাৎকার থেকে নেয়া, সেই সাথে কিছু আলোচনা তুলে ধরা হলোঃ

“আমি যখন প্রথম পর্নোগ্রাফি দেখি তখন আমি ৭ম শ্রেণীর ছাত্র। আমি ইন্টারনেটে একটি পর্ন  ওয়েবসাইট এর বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। এটা অনেক জঘন্য ছিল। ৮ম শ্রেণীতে থাকাকালীন অবস্থায় আমি পর্নোগ্রাফিতে পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে পড়ি।”

এটা প্রমানিত যে,পর্নোগ্রাফি একটি ক্রমবর্ধমান আসক্তি। অসংখ্য জরিপে দেখা গিয়েছে, পর্নো গ্রাফি মানুষের মানসিকতাকে এমন করে দেয় যে, সে অন্য মানুষকে “মানুষ” হিসেবে মর্যাদা দিতে ভুলে যায় এবং অন্যান্যদের সাথে তার সম্পর্কের উপরও খারাপ প্রভাব পড়ে। সে দেহের আকার, আকৃতি ও দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখে মানুষকে বিচার করতে থাকে। সে অবচেতন মনেই অন্যান্যদেরকে এমনকি নিজের ভালোবাসার মানুষকে শুধুই বিনোদনের বস্তু হিসেবে ভাবতে শুরু করে, সে এটা ভুলে যায় যে তাদেরও মানুষের মত চিন্তা, অনুভূতি, ব্যক্তিত্ব ও আবেগ আছে। এটা প্রকৃত ভালোবাসার বিপরীত। পর্নো গ্রাফি নারী-পুরুষকে শুধু যৌন মিলনের উপকরণ হিসেবে কল্পনা করতে শেখায়, যেটি প্রকৃত ভালোবাসাকে হত্যা করে।[১,২]

“আমি লক্ষ্য করলাম, পর্নোগ্রাফিতে আমি যেসব চরিত্র দেখতাম, তারা যেন আমার সাথেই অবস্থান করছে। ক্যাম্পাসে হাঁটার সময় যখন মেয়েদের দেখতাম, আমি শুধু তাদের দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো দেখতে পেতাম। বাস্তবিক পক্ষে, আমি না চাইলেও আমার চোখ এই বিষয়গুলোই দেখত। আমি অবচেতন মনে মেয়েদেরকে তাদের দৈহিক আকৃতি দেখে বিচার করতাম। পর্নোগ্রাফি আমাকে মেয়েদের ব্যাপারে এসব চিন্তা ছাড়া ভালো কোন কিছু চিন্তা করতে বাধা দিয়েছে।”

পর্ন  ভিডিওতে যেসব মানুষদের দেখা যায় তাদেরও একটা বাস্তব জীবন আছে। একজন  সাবেক  পর্নো  অভিনেত্রী  এক সাক্ষাৎকারে পর্নোগ্রাফি সম্পর্কে বলেছিলেন, “পুরুষরা বারবার আপনার মুখে আঘাত করছে আপনাকে উত্তেজিত করার জন্য এবং এভাবে চলছেই। পর্নোগ্রাফিতে আপনাকে একটি পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়-অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এখানকার মানুষগুলো মাদক সেবন করে কারণ তারা এধরনের জীবনকে ভুলে থাকতে চায়।”

এই কথাগুলো শুনেও কি আপনার পর্নোগ্রাফিকে যৌন উত্তেজক মনে হচ্ছে?

অবশ্যই না। প্রকৃতপক্ষে, পর্ন  ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের কাছে যৌনতার সংজ্ঞা এই রকমই।

২০০৫ সালে, ৪০০ জন লোকের উপর জরিপে দেখা যায়, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তিরা অন্যদের চেয়ে বেশি একাকীত্ব বোধ করে।[৩]

পর্নোগ্রাফিতে সুন্দর ও আকর্ষণীয় পরিবেশে দুজন মানুষের মধ্যে অপার্থিব যৌন আনন্দের দৃশ্য তৈরি করা হয়-যেটা বাস্তবিক পক্ষে সম্ভব নয়। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তিরা বাস্তব জীবনে এ ধরনের অপার্থিব যৌন আনন্দ প্রত্যাশা করে, ফলে তারা অসন্তুষ্টিতে ভোগে।

“পর্নোগ্রাফি চরম একাকীত্ব সৃষ্টির একটি মাধ্যম। আমি যখন একাকীত্ব বোধ করতাম তখন পর্ন  দেখতাম এবং এটা আমার একাকীত্ব কমাতে পারত না বরং বৃদ্ধি করত। কখনো একঘেয়ে লাগলে, হতাশ বা নিজের প্রতি রাগান্বিত হলেও আমি পর্নোগ্রাফিতে ডুবে থাকতাম।”[৪,৫]

মূল লিখাটি- https://fightthenewdrug.org/an-interview-with-a-porn-addict/

রেফারেন্সঃ

[১] http://bit.ly/2n3OHtd

[২] http://bit.ly/2DoqNys

[৩] http://bit.ly/2EZ8X5B

[৪] http://bit.ly/2DnE9ew

[৫] http://bit.ly/2DulYaT

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-১

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-১

আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড  নিজেদেরকে দাবী করে এক মহান সভ্যতার ধারক হিসেবে । যার অন্যতম ফিচার  গনতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা আর নারীদের সমান অধিকার । পৃথিবীর বুকে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাদের  তোড়জোড়ের অভাব নেই । war on terror এর নামে তারা মুসলিম দেশ গুলোতে আক্রমণ করতে দুইবার চিন্তা করে না । মুসলিম নারীদের জন্য তাদের মায়াকান্নার শেষ নেই । তারা বলে মুসলিমরা নারীদেরকে বোরখার আড়ালে রেখে,নারীদেরকে  ঘরে বন্দী করে রেখে  তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে , তাদেরকে এক অদৃশ্য দাসত্বের শিকলে বেঁধে রেখেছে । তারা মুসলিম নারীদেরকে বোরখার আড়াল থেকে বের করে এনে, শরীয়া আইনের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেংগে ফেলে  তাদেরকে পুরুষের সমান অধিকার দিতে চায় । অথচ তাদের দেশেই তারা  নারীদের অধিকার কেড়ে নিয়ে  নারীদেরকে পন্য বানিয়ে ফেলেছে । তারাই পর্ন ইন্ডাস্ট্রি বানিয়েছে,তারাই সেখানে  নারীদের সাথে পশুর মতো আচরণ করছে । বাসায়, স্কুলে, কলেজে, রাস্তাঘাটে, অফিসে, হাসপাতালে , সেনাবাহিনীতে কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। সবখানেই নারীরা চরম ভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে । আমাদের এই সিরিজে আমরা চেষ্টা করব এই পাশ্চাত্য সভ্যতার ভন্ডামী আপনাদের সামনে তুলে ধরার । আমরা চেষ্টা করব সেই সব  হতভাগ্য বোনদের  বুকফাটা হাহাকার গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছে দেবার যারা এই তথাকথিত আধুনিক, মক্তমনা, নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী সমাজের দ্বারা ভয়ংকর যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ।

.

“আমেরিকান আর্মির  মহিলা সদস্যরা শত্রুদের নিয়ে ততোটা বেশী শংকিত থাকে না ,  যতটা বেশী  শঙ্কিত থাকে তাদের পুরুষ সহকর্মীদের হাতে যৌন নিপীড়িত হবার  ভয়ে  ……”।

.

একটা গভীর  দীর্ঘশ্বাস ছেড়েই এই কথা গুলো বললেন ডোরা হারনান্দেজ যিনি প্রায় দশ বছরেরও বেশী সময় ধরে কাজ করেছেন আমেরিকান নেভি এবং আর্মি ন্যাশনাল গার্ডএ । ডোরা হারনান্দেজ সহ আরো কয়েকজন প্রবীণ ভদ্রমহিলার সঙ্গে কথা হচ্ছিল যারা  আমেরিকার সামরিক বাহিনীতে  কাজ করেছেন অনেক বছর , ইরাক এবং আফগানিস্থান যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন । এই ফ্রন্টগুলোতে  কোনমতে  তারা সারভাইভ করতে পেরেছেন  কিন্তু পুরো কর্মজীবন জুড়ে তাদেরকে আরোও একটি যুদ্ধ করতে হয়েছে  নীরবে-এবং সেই যুদ্ধে তারা প্রতিনিয়তই পরাজিত হয়েছেন । তাদের সেই নীরব যুদ্ধ ধর্ষণের বিরুদ্ধে ।

পেন্টাগনের নিজেস্ব  রিসার্চ থেকেই  বের হয়ে এসেছে যে আমেরিকান সামরিক বাহিণীর  প্রতি চার জন মহিলা সদস্যের একজন তাদের ক্যারিয়ার জুড়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ।

ডোরা হারনান্দেজ থেমে যাবার পর  মুখ খুললেন সাবিনা র‍্যাংগেল , টেক্সাসে,  এলপাসোর অদূরে তাঁর বাসার ড্রয়িংরুমে বসেই আমাদের কথা হচ্ছিল, “ আমি যখন আর্মির বুট ক্যাম্পে ছিলাম তখন আমি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম এবং যখন নেভিতে গেলাম তখন একেবারে  ধর্ষণের শিকার হলাম” ।

জেমি লিভিংস্টোন ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন  ইউ.এস নেভিতে  তিনি বললেন, আমি জানতাম   ইউ এস আর্মির কালচারটাই এমন যে  সৈনিক এবং অফিসাররা  রেপ করাকে তাদের অধিকার  মনে করে । তাই আমি রেপের ঘটনা গুলো চেপে যেতাম আর আমার বসই আমাকে রেপ করত, কাজেই আমি কাকে রিপোর্ট করব’?

ভদ্রমহিলাগন একে একে আমেরিকান  আর্মিতে তাদের উপর করা যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো বলে চলছিলেন । তারা কেউই পূর্ব পরিচিত ছিলেন না , কিন্তু আমেরিকান আর্মিতে  নিজেদের সহকর্মী এবং বসদের হাতে তারা যে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সেই  দুঃসহ অভিজ্ঞতাই তাদেরকে একে অপরের কাছে নিয়ে এসেছে । হৃদয়ের সবকটা জানালা খুলে দিয়ে তারা একজন অপরজনের দুঃখগুলো ভাগাভাগি করে নিচ্ছিলেন ।

পেন্টাগনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে (২০১০ সাল,) ইউ এস আর্মিতে প্রতি বছর উনিশ হাজারের মতো যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে । (২০১১ সালে এটার পরিমাণ ছিল ছাব্বিশ হাজার)ইউ এস আর্মির মহিলা সদস্যরা আমেরিকার বেসামরিক মহিলাদের থেকে অধিক মাত্রায় যৌন নির্যাতনের ঝুকিতে থাকে । পেন্টাগনের  Sexual Assault Prevention and Response office এর প্রধান গ্যারী প্যাটন বলেন , আমাদের অবশ্যই এই কালচারটা পরিবর্তন করতে হবে । যৌন নির্যাতনকে  স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে মেনে নিলে চলবে না ।  ভিক্টিমের ইউনিটের সবাইকে যৌন নির্যাতনের ব্যাপারটিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে ।

সাবিনা র‍্যাংগেল  হাইস্কুল শেষ করেই আর্মিতে  জোগদান করেছিলেন । তার  ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল  আর্মির বুট ক্যাম্পে একদিন ট্রেনিং করার সময় তার  ড্রিল সার্জেন্ট এর দ্বারা । সাবিনা র‍্যাংগেল প্রথমে ভেবেছিলেন তার সার্জেন্ট বোধহয় তাকে  ড্রিল করার ব্যাপারে নির্দেশনা দিচ্ছেন , কিন্তু আসলে  সার্জেন্ট  তার  শরীরে হাত বুলানোর চেষ্টা করছিলেন ।

সাবিনা  র‍্যাংগেল বুট ক্যাম্প শেষ করার পর আর  আর্মি ছেড়ে চলে আসেন । যৌন নির্যাতনের ঘটনা  চেপে যান সবার কাছ থেকে ।

পেন্টাগনের পরিসংখ্যান অনুসারে মাত্র ১৪ শতাংশ যৌন নির্যাতনের ঘটনা রিপোর্ট করা হয় । বাকী ৮৬ শতাংশ ঘটনা লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায় । অনেক ভিক্টিম অভিযোগ করেন তার নির্যাতনকারী তার চেয়ে উঁচু র‍্যাংকের।অনেকে অভিযোগ করেন  যৌন নির্যাতনের শিকার হলে যেই  কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট করতে হবে ,  সেই সব কর্মকর্তাই আমাকে  যৌন নির্যাতন করেছে । র‍্যাংগেলের ক্ষেত্রেও এইরকমটা হয়েছিল ।

র‍্যাংগেল  ২০০০ সালের দিকে আবার ইউ এস  সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন । এইবার তিনি  নেভিতে । এল পাসোতে ইউ এস নেভীর একটা ঘাঁটিতে তিনি  কাজ করার দায়িত্ব পান ।

একবার  তার বেতনের চেকে কিছুটা সমস্যা হলে তিনি তাঁর কমান্ডার এক  সার্জেন্ট মেজরের  সঙ্গে  যোগাযোগ করলেন । সেই  সার্জেন্ট মেজর তাঁকে  তার অফিসে ডেকে পাঠালেন । তবে তিনি র‍্যাংগেলকে এই প্রস্তাবও দিলেন , “ তুমি যদি আমার সঙ্গে হোটেলে দেখা কর তাহলে, আমি তোমাকে খুশি করে দিব” ।

র‍্যাংগেল এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন । কিন্তু সেই সার্জেন্ট মেজর এতে একটুকুও না দমে র‍্যাংগেলকে বিছানায় যাবার প্রস্তাব দিতেই থাকলেন।

আমি যখন তার অফিসে গেলাম তখন আর কোন উপায় না পেয়ে  তার পি.এস (যিনি নিজেও একজন মহিলা) কে বললাম , যখন বস আমাকে ডাকবে এবং আমি যাবার পর ভেতর থেকে দরজা লক করে দিবে , প্লীজ আপনি এই সময়টাতে একটু পর পর দরজায় নক করবেন । তিনি কিছুটা ক্লান্তস্বরে উত্তর দিলেন , “সাবিনা ! শুধু তোমার সাথেই না , বস সবার সাথেই এরকম করে …।

আমরা,সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বা আছেন এমন অনেক অনেক মহিলার সঙ্গে কথা বলেছি , যারা সবাই একটা ব্যাপারে একমত হয়েছেন – ইউ.এস সামরিক বাহিনীর পুরুষরা , সামরিক বাহিনীর নারীদের ধর্ষণ করাকে তাদের অধিকার মনে করে । সামরিক বাহিনীতে তো একটা কৌতুক প্রচলিতই আছে ,‘পুরুষ সহকর্মী বা অফিসারদের হাতে  ধর্ষিত হওয়া নারী অফিসার বা সৈন্যদের পেশাগত দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে’।

সাবিনা  র‍্যাংগেল একবার এক মিশনের দায়িত্ব পেলেন । সেই মিশনেও এই সার্জেন্ট মেজর ছিলেন  । এই সার্জেন্ট মেজর আর একজন সার্জেন্ট মেজরকে নিয়ে সাবিনা র‍্যাংগেল কে ধর্ষণ করতে থাকেন ।

সাবিনা র‍্যাংগেল বিভিন্ন সময় তার কমান্ডারদের (যাদের মধ্যে একজন মহিলা কমান্ডারও ছিলেন) তার ধর্ষিত হবার ঘটনা জানালে , তারা কোন পদক্ষেপ না নিয়ে সাবিনাকে ঘটনা গুলো চেপে যেতে বললেন । এমনকি কোন কোন অফিসার তাঁকে এই ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে উত্যক্ত করত ।

সাবিনা র‍্যাংগেল আস্তে আস্তে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়লেন । একদিন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন  সামরিক বাহিনী ছেড়ে চলে যাবার – ব্যস অনেক হয়েছে আর এই পাশবিক নির্যাতন সহ্য করা যাবে না । তিনি জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়লেন । ধর্ষিত হবার দুঃসহ  স্মৃতি গুলো তাঁকে সারাক্ষন তাড়া করে বেড়াতে লাগলো । আত্মহত্যার চেষ্টাও করলেন কয়েকবার ……

শরীয়াহ আইনানুসারে, অপরাধ করার কারণে নারীদের দোররা মারলে   আমেরিকার মিডিয়াতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে ,মুসলিমদের তুলোধুনো করে দেওয়া হয় , নারীবাদীরা মায়া কান্না কাঁদে,  হই চই শুরু করে দেয় – মুসলিমরা বর্বর, মধ্যযুগীয়, মুসলিমরা নারী স্বাধীনতার বিরোধী   ব্লা ব্লা ব্লা …

অথচ তাদের নিজেদের দেশের আর্মিতেই যে ভয়াবহ নারী নির্যাতন হয় সে ব্যাপারে  তারা চুপ  । কোথায়  তাদের মানবাধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, কোথায়  নারী স্বাধীনতা ?

#ডাবলস্ট্যান্ডার্ড

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌  ……

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনুবাদিত )

পড়ুন-

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-২ http://lostmodesty.blogspot.com/2015/10/blog-post_25.html

মুখোশ উন্মোচনঃ পর্ব-৩  http://lostmodesty.blogspot.com/2015/12/blog-post_29.html

পাশ্চাত্যে বেড়ে ওঠা – http://lostmodesty.blogspot.com/2015/12/blog-post_17.html

রেফারেন্স-

১) http://www.npr.org/2013/03/20/174756788/off-the-battlefield-military-women-face-risks-from-male-troops

২)http://www.protectourdefenders.com/factsheet/

৩) http://www.globalresearch.ca/sexual-assault-against-women-in-the-us-armed-forces/5374784