এখনি সময় পর্নকে বিদায় বলার!

এখনি সময় পর্নকে বিদায় বলার!

একদিন আমি ফেসবুকে একটা প্রশ্ন পোস্ট করলাম – “কোন খারাপ স্বভাবটাকে এই রামাদানে একেবারেই ছেড়ে দিবেন বলে মনে করেন?”

আশ্চর্যজনকভাবে এক ভাই ডাইরেক্ট বলে দিলেন যে তিনি পর্ন দেখা ছাড়তে চান। মানে ব্যাপারটা একবার ভেবে দেখুন,  একজন মানুষ কোন পর্যায়ের হতাশায় ভুগলে এই ব্যাপারে জনসম্মুখে এভাবে মুখ খোলেন!

আসলে  লজ্জার মাথা খেয়ে তাঁর এই সত্যকথন, তাঁর সাহসের স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং এটাই প্রমাণ করছে যে তিনি নিজের সঙ্গে  অনবরত যুদ্ধ করছেন। আর আমরা এটাও বুঝতে পারছি যে তিনি তাঁর এই আসক্তি কাটানোর জন্য  আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কীভাবে রামাদান মাস সহিসালামতে কাটাবেন এটা নিয়ে তিনি মারাত্মক চিন্তিত। তিনি ভয়ে আছেন, রোজা থাকা অবস্থায় না আবার নিজেকে আটকাতে না পেরে কোন পর্ন website-এ গিয়ে পর্ন দেখা শুরু করে দেন।

আপনারা কেউ কেউ হতেবা এটা মনে করতে পারেন, “আস্তাগফিরুল্লাহ! রামাদান মাসে কেউ এমন করারতো দূরের কথা, এরকম কাজ করার চিন্তা কেমন করে করতে পারে?” যদি এই চিন্তা আপনার মাথায় এসে থাকে তাহলে একটু থামুন। আস্তাগফিরুল্লাহ না বলে বরং আলহামদুলিল্লাহ্‌ বলে আল্লাহর শুক্রিয়া আদায় করুন যে তিনি, আর-রহমান, আপনাকে এই ফিতনা থেকে বাঁচিয়েছেন আর তাঁর কাছে এই দোয়া করুন যে তিনি যেন আপনাকে পর্ন থেকে যিনা পর্যন্ত সব ধরণের হারাম থেকে রক্ষা করেন।

পর্নের প্রভাবঃ

যদিও পর্ন আসক্তির অনেক ক্ষতিকর ফলাফল আছে, এর মধ্যে যেটা তালিকার শীর্ষে রয়েছে সেটা হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গতার মধ্যে যেই প্রভাব এটা ফেলে। গবেষণা থেকে জানা যায় যে পর্নগ্রাফি কার্যক্রমে মানুষকে যৌন অনুভূতিহীন করে ফেলে। এর ফলে তাদের একই আনন্দ পেতে আরও বেশি উত্তেজনার প্রয়োজন হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, এর ফলে তাদের নিজের স্বামী/স্ত্রী পর্যায়ক্রমে তাদের যৌন চাহিদা পূরণ করার জন্য যথেষ্ট থাকে না।

পর্ন আসক্তির ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে সবারই জেনে রাখা উচিৎ। যারা এতে আসক্ত এবং যারা আসক্ত না, উভয়েরই। পর্ন আসক্তির ঠিক মদ কিংবা মাদকাসক্তির মতো। এটাকে হুট করে থামানো যায় না। এটার পিছনে সময় ও শ্রম ব্যায় করতে হয় আর পর্ন আসক্তির এতটা শক্তিশালী কেন এটা যতক্ষণ না কেউ ঠিক মতো না বুঝতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। পর্ন আসক্তির তো যৌন আসক্তির  শুধুমাত্র একটা অংশ বিশেষ। পর্ন আসক্তি যিনার চেয়ে কম গুনাহের কাজ কিন্তু এটা যদি না ছাড়া যায় তাহলে এটাই এক সময় যিনার দিকে নিয়ে যাবে। ঠিক এই কারণেই আল্লাহ বলেছেন – “আর বাভিচারের কাছেও যেয়ো না…”(কুরআন ১৭:৩২)। আর পর্ন হচ্ছে যিনার দরজা। আসক্তি

এটা (পর্ন) কেন একটা পর্ন আসক্তিঃ

এই বিষয় নিয়ে গবেষণা থেকে জানা যায় যে পর্ন আসক্তি  এক ধরণের রাসায়নিক আসক্তি। অর্থাৎ, পর্নের প্রতি মানুষের আকর্ষণ মস্তিষ্কের উপর ঠিক সেই প্রভাবটাই ফেলে যেটা কোন মাদকদ্রব্য ফেলে। এমনকি এটাকে এই Wired articleটিতে “crack cocaine” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মেরি অ্যানি লেইডেন,  co-director of the Sexual Trauma and Psychopathology Program at the University of Pennsylvania’s Center for Cognitive Therapy, পর্নের ব্যাপারে বলেন, “একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য যত ক্ষতিকর জিনিস আছে, আমার জানা মতে তার মধ্যে এটা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।”

আসক্তি অতিক্রম করাঃ

আপনি যদি পর্নআসক্ত হয়ে থাকেন তাহলে এটা জেনে রাখুনঃ

১।আপনি একা নন

২।আপনি অভাগা বা খারাপ মানুষও নন

স্ত্রী এবং পরিবার, আপনারা জেনে রাখুনঃ

১।এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আসক্তদের ব্যাপারে তাচ্ছিল্য করে কথা না বলে আপনি এই আসক্তিটার উপস্থিতি এবং বাস্তবতা স্বীকার করুন। তাদের সঙ্গে এইরকম আচরণ করলে তারা নিজেদেরকে আরও ছোট মনে করবে, নিজেদের ব্যাপারে আরও খারাপ অনুভব করবে এবং ফলে তাদের পর্নের মাধ্যমে endomorphine এর যেই আনন্দলাভের তীব্র অনুভুতি, সেটা পাওয়ার ইচ্ছা আবার জাগ্রত হবে।

২।পর্ন আসক্তি যে শুধু মাত্র আসক্তদের জন্যই ক্ষতিকর তা নয় বরং এটা তার স্বামী/স্ত্রীর জন্যও খারাপ। এটা বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার কারণও হয়ে দারাতে পারে। ঠিক এই জন্যই এই ব্যাপারটাকে এত তুচ্ছ মনে করা ঠিক নয়। পর্ন আসক্তদের স্বামী/স্ত্রীর কাছে আমার বিনিত অনুরধ থাকল যে আপনারা পুলিশ অফিসারের মতো কড়া ব্যবহার না করে বরং তাদের এই সমস্যার সমাধানে যোগদান করুন। তাদের আসক্তিটা আপনি কখনও জোর করে ছাড়াতে পারবেননা।

রামাদানকে কাজে লাগানোঃ

পর্ন আসক্তিকে অতিক্রম করার জন্য দুটি দরকারি জিনিস দরকার– দৃঢ় ইচ্ছা এবং বাস্তব পদক্ষেপ।

রামাদান মাসে আমাদেরকে রোজা রাখতে হয়। রাসুল(সাঃ) রোজা রাখার মাধ্যমে আমাদের যৌন আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা শিখিয়েছেনঃ

রামাদান হল এমন একটা সময় যখন আমাদের রোজা রাখার অনেক “দৃঢ় ইচ্ছা” থাকে। রোজা রেখে আবার নিজের এই আসক্তির কারণে আমরা এটাকে ভেঙ্গে ফেলতে পারি না। রামাদানই হল একটা বাস্তব পদক্ষেপ।

সহযোগীর সাহায্য নেয়াঃ

এই আসক্তিটার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একজন সহযোগী রাখুন। এই সহযোগী হতে পারে আপনার কোন বন্ধু অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্য অথবা আপনার স্বামী বা স্ত্রী। আপনার এই সহযোগীকে বলুন আপনার কম্পিউটারে একটা পর্ন filtering monitor install করে দিতে এবং তাদেরকে দিয়ে আপনার কম্পিউটারে পাসওয়ার্ড সেট করে নিন এবং তাদের কাছ থেকে কথা নিন যে আপনি তাদের কাছ থেকে সেটা জানার যতই চেষ্টায় থাকুন না কেন তারা যেন কোন অবস্থাতেই সেটা আপনাকে না বলে।

আরও কিছু পরিবর্তনঃ

আপনার স্মার্ট ফোনটা বদলে ফেলুন – আপনার স্মার্ট ফোনটা বদলে একটা সস্তা ফোন ব্যবহার করুন। এমন কিছু যেটাতে ইন্টারনেট চলে না।

আপনার কম্পিউটার বদলে ফেলুন – এমন যদি হয়ে থাকে যে আপনি আপনার ল্যাপটপে পর্ন দেখেন তাহলে ওটা বাদ দিয়ে একটা ডেস্কটপ কিনে ফেলুন যেটা আপনার বাসার কোন খোলা জায়গায় রাখতে হবে যেখানে বসে আপনি পর্ন দেখতে পারবেন না।

আপনার টিভিটা বন্ধ রাখুন – আপনার কাছে যদি কোন পর্নের ভিডিও অথবা ডিভিডি থেকে থাকে সেগুলো নষ্ট করে ফেলুন অথবা ফেলে দিন। সহযোগীর সাহায্য নেয়াঃ

আরও কিছু কার্যকরী পদক্ষেপঃ

নিজেকে যাচাই করাঃ – আপনি নিজেকে নিজের কাজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করুন এবং আপনার সহযোগীর সাথে আপনার addictionএর ব্যাপারে পরামর্শ নিন। একবার ভেবে দেখুনঃ আপনি যদি রোজা থাকা অবস্থায় নিজেকে সামলাতে পারেন তাহলে আপনি রামাদান মাসের রাত্রিগুলোতে, যেই রাতগুলো বছরের অন্য সব রাতের থেকে পবিত্র, এই সময়ে কেন সামলাতে পারবেন না? আর আপনি যদি নিজেকে রামাদান মাসে নিজেকে সামলাতে পারেন তাহলে রামাদান মাসে যেই আল্লাহকে আপনি মানেন বাকি মাসগুলোতেও কি আপনি একই আল্লাহকে মানেন না, যিনি সব সময় আপনাকে দেখেন?

সবসময় আল্লাহর কাছে দোয়া করুন – আল্লাহ, আত-তাওয়াবের কাছে ক্ষমা চান, আপনি যেই সময়টা ব্যায় করছেন, যেই চেষ্টাটা চালিয়ে যাচ্ছেন, তিনি যেন তাতে বরকত দান করেন এবং আপনার এই পরিক্ষাটা যেন উনি সহজ করে দেন। সবসময় মনে রাখুন যে একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছাতেই আপনি এই পরীক্ষায় পরেছেন এবং আপনি চেষ্টা করলে উনি ওনার রহমতের দ্বারা আপনাকে এটা থেকে আরও শক্তিশালী মু’মিন হিসেবে বের করবেন। এই পবিত্র মাসের রাতগুলোতে এবং ইফতারি করার আগের সময়গুলোতে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, তাঁর সাহায্য চান।

এইরকম বেশি বেশি দোয়া করুন –

اللهم اني ظلمت نفسي ظلما كثيرا ولا يغفر الذنوب الا انت فاغفرلي مغفرة من عندك, وارحمني انك انت الغفور الرحيم

[O Allāh! I have wronged myself very much, and none can forgive sins, except You only. Grant me forgiveness, and have mercy upon me; indeed You are the Most Forgiving, Ever Merciful.] (Bukhāri)

বই পড়ুনঃ সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে  এই আসক্তি থেকে বের হয়ে আসার উপর যেই বইগুলো লেখা হয়েছে, সেগুলো পড়ে দেখা। ইচ্ছা  হারিয়ে ফেলার আগেই বইগুলো পড়া শুরু করুন।

মোট কথা, চেষ্টা করুন যে এই রামাদানে, যখন আপনার spiritual motivationটা অনেক বেশি ,এই সময়টাতে এমন কোন কিছু করার একটা অভ্যাস করুন যেটা আপনাকে শুধু এই রামাদানেই নয় বরং ভবিষ্যতেও  পর্ন থেকে দূরে রাখবে।

পর্নঃজীবনের স্বাদ নষ্টকারী

পর্নঃজীবনের স্বাদ নষ্টকারী

পর্নোগ্রাফি একটি সামাজিক মহামারি ব্যাধি। শিশু, তরুণ, ও প্রাপ্তবয়স্ক কেউ এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, ইন্টারনেট এর মাধ্যমে অপ-সংস্কৃতির অবাধ প্রবেশ এর প্রধান কারণ।

পর্নোগ্রাফির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা আমাদের উদ্দেশ্য। মানুষ পর্নমুভির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জেনে সচেতন হবে এ আশায় ব্যক্তিগতভাবে পর্নমুভি দেখার ক্ষতিকর ফলাফল ভোগ করেছেন এমন অনেকেই  তাদের কাহিনী আমাদের সাথে নির্দ্বিধায় শেয়ার করেছেন।

তেমনি একটি সত্য কাহিনী টাইসন নামের(নাম পরিবর্তন করা হয়েছে)একজনের বাস্তব জীবন থেকে নেয়া। যেটি তার অতীতের ড্রাগস ও পর্নমুভি আসক্তির সাথে সংগ্রামের । টাইসনের গল্পটি আমরা বিরল ও অদ্ভুত ঘটনা বলতে পারতাম। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা সারা বিশ্বর শিশু, তরুণ, ও প্রাপ্তবয়স্ক থেকে যে হাজার হাজার মেইল এবং সরাসরি পত্র পেয়েছি তার বেশীরভাগে দেখা যায়, পর্নমুভি আসক্তির অভিজ্ঞতা সবক্ষেত্রে অনুরূপ।

…… আমি এককালে  ড্রাগস আসক্ত ছিলাম ।সেই আসক্তি কাটিয়ে উঠেছি অনেক দিন হল । ড্রাগসের সরাসরি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। আমি বেঁচে আছি এজন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।

যদি আপনি আমাকে পাঁচ বছর আগে জিজ্ঞেস করতেন, আমি পর্ন মুভিকে কখনোই আসক্তি ও ড্রাগস হিসেবে বিবেচনা করতাম না। সত্যি কথা বলতে, আমি আপনার কথা হেসে উডিয়ে দিতাম। কিন্তু  আমি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি   পর্ন মুভি, ড্রাগসের মতোই ক্ষতিকর

আমি ভাবতাম পর্নোগ্রাফি  জীবনের একটা স্বাভাবিক অংশ ।  আমি মনে করতাম পর্ন মুভি ক্ষতিকর নয়। পর্নমুভি আমাকে  তো আমাকে বলছে না যাও কাউকে  খুন করে আসো বা   কারো ক্ষতি কর ।

কিন্তু একসময়  আমি একটি কঠিন সত্য আবিষ্কার করলাম  পর্ন মুভি আমার স্বাভাবিক জীবন যাত্রার ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে আমি রক্ত-মাংসের মানুষ ভেবে কোন  নারীর দিকে তাকাতে পারতাম না, তাকে শুধু কেনা-বেচার বস্তু ও কামনার আগুন উস্কে দেওয়ার সামগ্রী হিসেবে দেখতাম। আমি নিজের উপর আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিলাম না এবং এ ধরনের চিন্তাকে আমি যত বেশি প্রশ্রয় দিতাম তত বেশি পর্ন মুভির প্রতি ক্ষুধা বেড়ে যেত।

কিন্তু, ততক্ষণ আমি এটা থামানোর চেষ্টা করিনি, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি পর্ন মুভি আসক্তিকে  সত্যিকারভাবে ড্রাগস আসক্তির অনুরূপ হিসেবে দেখিনি। কোন এক বিকেলে,  যৌন আবেদনময়ী পোশাকে এক আকর্ষণীয় নারীকে দেখে আমি কামাতুর হয়ে গেলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি নারীর শরীর  পেতে চাইলাম।  এই অনুভূতি থেকে মুক্তি পেতে কিছু পর্নমুভি দেখতে চাইলাম। আমি ইন্টারনেটে আমার প্রিয় পর্ন সাইটে লগ অন করার জন্য তাড়াতাড়ি কম্পিউটারের কাছে  এ ছুটে গেলাম। আমি কোন কিছু পরোয়া করছিলাম না, আমি যে কোন উপায়ে শুধু পর্ন মুভি অথবা সেক্স চেয়েছিলাম। যখন আমার অবস্থা স্বাভাবিক হল ঠিক ঐ মুহূর্তে আমার মনে হল আরে  আমি একসময় ড্রাগ নিতে দেরি হলে যেরকম অস্থির হয়ে যেতাম , শরীরের প্রচন্ড চাপ অনুভব করতাম পর্ন মুভির ক্ষেত্রেও তো সেরকমটা হচ্ছে ।   আমি বুঝতে পারলাম যে আমি নিজের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি, এবং পর্ন মুভির  আসক্তি আমাকে শেষ করে ফেলেছে।

দুর্ভাগ্যবশত, এই চোখ-খুলে দেওয়া অভিজ্ঞতাটা অনেক দেরিতে হল। ড্রাগস আসক্তির চেয়ে পর্ন মুভি আসক্তি নির্মূল করতে আমার আরও অনেক বেশি বছর লেগেছিল। মনে করে দেখুন পূর্বে আমি বলেছিলাম যে আমার পর্ন  দেখা কাউকে আঘাত করছে কিনা, হায়! আমি কতই না ভুল ছিলাম ? আমার পর্ন  আসক্তি আমার স্ত্রী ও সন্তানের প্রায় অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। এই দুঃসহ অভিজ্ঞতা পাড়ি দেওয়ার সময় আমার অনেক বার মনে হয়েছে আত্মহত্যা করে ফেলি। কারন আমার মনে হত সম্ভবত আমি আর কখনো সাভাবিক জীবন ও সুস্থ সম্পর্কে ফিরতে পারবনা।

অনেকেই মনে করেন পর্ন মুভি শুধু  মজা, সেক্স, ও স্রেফ বিনোদনের জন্য । কিন্তু  এটা মোটেও ঠিক না । প্রায় সবাই জানে যে, ড্রাগস নেওয়া আপনার জন্য ভাল নয়, কিন্ত তারা কি জানে পর্ন মুভি আসক্তি ঠিক একই ভাবে আসক্তিপূর্ণ ও প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক বরবাদ করে দেয়? নিজে জেনেছি যে, ড্রাগস আসক্তির চেয়ে   পর্ন  আসক্তি থেকে রিকভার করা অধিকতর কঠিন। যারা আনন্দময় জীবন ও সম্পর্ক চায়, তাদের উচিত যে কোন মূল্য পর্ন মুভি থেকে দূরে থাকা। যদি আপনি ইতোমধ্যে এতে জড়িয়ে পড়েন তবে দ্রুত বেরিয়ে পড়ুন এবং সাহায্য নিন। এটা আপনাকে কখনো আনন্দ দেবেনা, বরং আরও বেশি ক্ষতি করবে। পর্ন মুভির আসক্তি থেকে  মুক্তি পাবার পর আমি  নতুন করে বাঁচতে শিখেছি , নারীদেরকে সম্মান করতে শিখেছি । জীবনটা আমার কাছে এখন অনেক বেশি মধুর মনে হয় ।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

মূল লিখাটি এই সাইট থেকে সংগৃহীত- https://fightthenewdrug.org/blog/

পড়ুন-

মাদকের রাজ্যে- https://bit.ly/2N4ONzA

নীল রঙের অন্ধকার (প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2NAWPjh
নীল রঙের অন্ধকার (দ্বিতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2xg34yS
নীল রঙের অন্ধকার (তৃতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2x6jBFY
নীল রঙের অন্ধকার (চতুর্থ কিস্তি): https://bit.ly/2x7BEvA
নীল রঙের অন্ধকার (পঞ্চম কিস্তি): https://bit.ly/2x7WuuS
নীল রঙের অন্ধকার (ষষ্ঠ কিস্তি): https://bit.ly/2xf97TY
নীল রঙের অন্ধকার (সপ্তম কিস্তি): https://bit.ly/2p3UUFS
নীল রঙের অন্ধকার (অষ্টম কিস্তি): https://bit.ly/2xf8VUK
নীল রঙের অন্ধকার (নবম কিস্তি): https://bit.ly/2QquLgS
শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন: কিভাবে নিরাপদ রাখবেন আপনার শিশুকে

শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন: কিভাবে নিরাপদ রাখবেন আপনার শিশুকে

আপনার শিশুর উপরও যে যৌন নিপীড়ন হবে না সেই বিষয়ে আপনি কখনো নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না। প্রতিটা শিশুই যৌন নিপীড়নের ঝুঁকিতে থাকে।আপনার শিশু কখনো যৌন নিপীড়নের শিকার হবে না এমনটা আশা করে কিংবা ভেবে থাকলে তা আপনার শিশুর উপর যৌন নিপীড়নের আশঙ্কা কমাবে না,বরং যদি তারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয় তখন তারা কীভাবে সাহায্য লাভ করবে সেই সম্পর্কে আপনার প্রস্তুতি থাকবে না।

শিশু যৌন নিপীড়নের বাস্তবতা  খুবই ভয়াবহ ধারণা,কিন্তু এটা এমন একটা জিনিস যা প্রত্যেক অভিবাবকের মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজন।

সামগ্রিক অবস্থা-

 

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রতি ৪ জন মেয়ের মাঝে ১ জন মেয়ে এবং প্রতি ৬ জন ছেলের মাঝে ১ জন ছেলে ১৮ বছরের আগেই যৌন নিপীড়নের শিকার হয় এবং স্থান,কাল,ধর্ম,আয় উপার্জন,পরিবার নির্বিশেষে যেকোনো শিশুই যৌন নিপীড়নে আক্রান্ত হতে পারে।নিপীড়িতদের মধ্যে প্রায় ৮৫% শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে তার সামাজিক বলয়ের মধ্যে থাকা মানুষদের  মাধ্যমে,যেমনঃতার আত্মীয়,তার পারিবারিক বন্ধু,তার শিক্ষক কিংবা প্রতিবেশী।যারা শিশুর উপর যৌন নিপীড়ন চালায় তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুটির পরিচিত হয়।

 

অধিকাংশ নিপীড়িত শিশু তার নিপীড়ন সম্পর্কে কাউকে জানায় না।এর কারণ হতে পারে তারা তাদের অভিভাবক কে কীভাবে বলবে সেই সম্পর্কে জানে না অথবা তার অভিভাবক তার সাথে বিরূপ আচরণ করবে এই ভেবে ভয় পায়।

 

যেসব শিশু যৌন নিপীড়নের কথা লুকিয়ে রাখে তারা শৈশবকালে  এবং জীবনের অন্যসময়ে নানাধরনের শারীরিক ও মানসিক প্রতিকূলতায় ভোগে।তাই শিশুকে যৌন নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচাতে এবং  তারা যৌন নিপীড়নের শিকার হলে যাতে তাদের অভিভাবিককে জানাতে পারে এই বিষয়ে জ্ঞান দিতে হবে অল্প বয়স থেকেই।অভিভাবক হিসেবে আপনার শিশুর নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষা দান করা এবং কোনটি সঠিক কোনটি ভুল সেই সম্পর্কে শিক্ষাদান করা আপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।যৌন নিপীড়নের লক্ষণ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন,এর ফলে নিপীড়ন ঘটবে না।

v  শিশু যৌন নিপীড়ন সম্পর্কে প্রচলিত কিছু  কথা

Ø  শুধুমাত্র সুন্দর মেয়েরাই যৌন নিপীড়নের শিকার হয়।

Ø  অধিকাংশ শিশু যৌন নিপীড়নকারী দেখতে কুৎসিত বৃদ্ধ লোকের মত হয়।

Ø  অপরিচিতরাই যৌন নিপীড়ন করে থাকে।

Ø  খালি পুরুষেরাই শিশুদের ধর্ষণ করে।

Ø  আমার শিশুর ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটলে সে আমাকে বলতে পারবে।

Ø  আমার শিশুর উপর এমন কিছু ঘটবে না।

Ø  যৌন নিপীড়নকারীরা দেখতে ভয়ংকর ও কুৎসিত হয়।

Ø  শিশু যৌন নিপীড়ন সম্পর্কে শিক্ষা দিলে শিশুরা ভয় পাবে,তাই এই বিষয়ে চুপ থাকাই শ্রেয়।

Ø  শুধুমাত্র সমকামী ছেলেরাই ছোট ছেলেদের কষ্ট দেয়।

Ø  আমার পরিবারে এরকম কিছু ঘটবে না।

Ø  যৌন নিপীড়ন একটি পারিবারিক ব্যাপার এবং সেই অনুযায়ী এইটার ব্যবস্থা নিতে হবে।

আপনি কী করতে পারেন?

Ø  যৌনতা এবং যৌন নিপীড়ন সম্পর্কে বয়স উপযোগী ভাষায় কথা বলতে পারেন।

Ø  যৌনতা বিষয়ে সরাসরি ও খোলাখুলি ভাবে কথা বললে আপনার সন্তান তখন তার   মনে কোন প্রশ্ন থাকলে তা নিঃসঙ্কোচে জিজ্ঞেস করতে পারবে।

Ø  আপনার শিশুকে তার শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নাম গুলো শেখান,এতে করে তারা ওই অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সম্পর্কে  কোন প্রশ্ন থাকলে তা করতে পারবে।

Ø   শরীরের কিছু অঙ্গ যে গোপনীয় তা শেখান।

Ø  কেউ তার গোপনীয় অঙ্গ স্পর্শ করতে পারবে না কিংবা দেখতে পারবে না এই সম্পর্কে আপনার শিশু কে জানান।তবে বিশেষ কোন যত্ন নেবার প্রয়োজন হলে শিশুটির অভিভাবকের সামনে গোপনীয় অঙ্গ স্পর্শ করতে পারবে এই বিষয়ে তাকে অবহিত করুন।

Ø  কেউ যদি আপনার শিশুর গোপন অঙ্গ স্পর্শ করে কিংবা দেখতে চায় অথবা কেউ যদি তার নিজের  গোপন অঙ্গ আপনার শিশু কে দেখায়, তখন আপনার শিশুকে এই ঘটনা সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব কোন বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবক জানায় সে সম্পর্কে বলুন।

Ø  যেসব স্পর্শ আপনার শিশুকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলায় সেসব স্পর্শকে না বলতে শেখান,অথবা কেউ যদি সেই ধরনের স্পর্শ করে তাহলে,অতি দ্রুত সে যাতে কোন বিশ্বস্ত অভিভাবককে এই বিষয় সম্পর্কে জানায় সে শিক্ষা দিন।

Ø  যৌনতা ও যৌন নিপীড়ন  বিষয়ে সরাসরি খোলাখুলি কথা বার্তা  আপনার শিশুকে আরও শেখাবে যে এগুলো কোন গোপন কিছু নয়।নিপীড়নকারীরা মাঝে মাঝে বলে যে এইসব কথা গোপনীয়।আপনার শিশুকে অবহিত করুন যে কারো স্পর্শ যদি আপনার শিশুকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলায় সে যাতে এটা গোপন না করে এবং তার অভিভাবককে জানায় ।

Ø  আপনার শিশু যাতে নিঃসঙ্কোচে এই ধরনের গোপনীয় জিনিস বলতে পারে এবং এসব গোপনীয় জিনিস বোলার পর তাকে কোন অসুবিধায় পড়তে হবে না এই বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করুন।

Ø  যৌনতা বিষয়ক সকল তথ্য এক দীর্ঘ আলোচনাতেই দিবেন না,যৌনতা ও যৌন নিপীড়নের আলোচনা রুটিন মাফিক চালিয়ে যাবেন।

আপনার শিশুর জীবনের সাথে জড়িত হোন –

Ø  আপনার শিশুর কার্যকলাপের উপর আগ্রহী হোন ।

Ø  আপনার শিশুকে প্রশ্ন করুন কাদের সাথে সে স্কুলে থাকে বা খেলে ।

Ø  আপনার শিশু যদি খেলাধুলার সাথে জড়িত থাকে তাহলে তার সাথে খেলার মাঠে যান এবং তার কোচ এবং অন্যান্য অভিভাবক সম্পর্কে জানুন।

Ø  আপনার শিশু স্কুল পরবর্তী কোন কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকে,তাহলে সে সারাদিন কি করেছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করুন।

Ø  আপনার শিশু যদি অতি মাত্রায় টেলিভিশন দেখে অথবা ভিডিও গেমস খেলে তাহলে তার সাথে বসে টেলিভিশন দেখুন অথবা ভিডিও গেমস খেলুন।

Ø  অনেক টিভি অনুষ্ঠান (উদাহরণ স্বরূপCSI) এবং অনেক গেমস (GRAND THEFT AUTO) যৌন সন্ত্রাস সম্পর্কে দেখায়।এসব অনুষ্ঠান বা গেমস থেকেই উদাহরণ নিয়েই যৌনতা  সম্পর্কে আপনার শিশুর সাথে আলাপচারিতা শুরু করতে পারেন।

Ø  আপনার শিশু বড় কাদের সাথে কথা বলছে সেটা জানুন।

Ø  অনেক সময় দেখা যায় আপনার শিশু আপনার থেকে অন্য কাউকে বেশি বিশ্বাস করছে। এদের সম্পর্কে জানুন।

যথেষ্ট সময় দিন-

Ø  আপনার শিশুর সাথে বেশি করে সময় কাটান।

Ø  আপনার শিশুকে বুঝতে শিখান যে প্রশ্ন বা তার কাছে ভালো লাগছে না –এই ব্যাপার গুলো নিয়ে আপনার সাথে কথা বলতে পারে সে।

Ø  আপনি আপনার শিশুর সমস্যা বা প্রশ্ন ভালো ভাবে শুনবেন এই ব্যাপারে আপনার শিশুকে সন্দেহহীন করতে হবে।

নিপীড়ন শুধু অপরিচিতরাই করে –এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন 

 

আমারা সবাই সাধারণত এই ধারণাই করি যে, পরিচিতদের কাছে আমার শিশু সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও এটা সত্যি যে ,৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয় তার খুব কাছের পছন্দের মানুষগুলোর দ্বারা।   শিকাগো শিশু অধিকার কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক  রিভেট্টি এই ব্যাপারে বলেন ,”আপনার সবচেয়ে বেশি চিন্তা করা উচিৎ তাদের নিয়ে যাদের সাথে আপনার শিশু প্রতিদিনই সময় কাটায় ।বরং অপরিচিতদের নিয়ে কম চিন্তা করা উচিৎ। ”

বাংলাদেশে বোধহয় এমন মেয়ে খুব কমই পাওয়া যাবে যারা টীনএজ বয়সে এবং প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থাতেও   তাদের নিকটাত্মীয়দের (,দেবর , দুলাভাই, খালু, ফুফা, কাজিন ) দ্বারা যৌন নিপীড়নের (স্পর্শ,টীজ , আকার ইঙ্গিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চাওয়া , জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা, ভয়ভীতি দেখানো  ইত্যাদি    ) শিকার হন নি । এই যৌন নিপীড়নের ঘটনা গুলো নারীরা কারো কাছে প্রকাশ করেন না বা পরিবারের কাউকে জানালেও লোকলজ্জার ভয়ে তা ধামাচাপা দেওয়া হয় । কাজেই এই সম্পর্কগুলো নিয়ে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার । মাহরাম , গায়েরে মাহরাম  মেনে চললে ইনশা আল্লাহ্‌   এ  নীরব যৌন নিপীড়ন থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব ।

আপনার শিশুকে বিশ্বাস করুন –

 

আপনার শিশুর সাথে ভরসা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলুন। আপনার শিশু আপনাকে কিছু বললো ,আর আপনি সেটা বিশ্বাস না করে তাকে উল্টো আরও নানা প্রশ্ন করে  ভীত করে তুললেন ,তাহলে তার সাথে কিছু হলে সে আপনাকে তা জানানোর ব্যাপারে আগ্রহ হারাবে। যখন আপনি আপনার সন্তানকে অপ্রয়োজনীয় এবং আপত্তিকর স্পর্শ নিয়ে কথা বলবেন,তখন তাকে এটা আগে বুঝতে দিন যে আপনি তাকে বিশ্বাস করেন এবং সে যেন আপনাকেই আগে তার সমস্যাগুলো বলে।

 

নিপীড়নের পূর্ব লক্ষণ এবং বিপদজনক কারণ গুলো –

 

 

যেসব ব্যক্তি আপনার বাচ্চার সংস্পর্শে আসে তাদের সবাইকে সন্দেহ করে আপনার  দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই । কিন্তু যেহেতু নিপীড়নের ঘটনাগুলো প্রায় একই ধরনের, সেহেতু আপনাকে অবশ্যই কিছু পূর্ব লক্ষণের সাথে পরিচিত থাকতে হবে –

  • জানতে হবে আমার কি খোঁজা উচিৎ :

 

সাধারণত কেউই তার পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সন্দেহ করে না বা করতে চায় না ।কিন্তু আপনি যদি শিশুদের প্রতি বিকৃত রুচির যৌন নিপীড়কদের কিছু বৈশিষ্ট্য জানেন ,তাহলে আপনি তাদের ব্যাপারে সঠিক ধারণা রাখতে পারবেন ।এখানে কিছু উল্লেখ করা হলো –

Ø  সমবয়সীদের থেকে শিশুদের সাথে সময় কাটাতে মাত্রারিক্ত পছন্দ করবে ।

Ø  শিশুদের এমন সব জিনিস করতে দিবে যা তাদের মা-বাবা করতে দেয় না ।

Ø  শিশুদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কৌতুক করবে ।এছাড়া নানা ধরনের যৌনাবেদনময়ী শব্দ দিয়ে এগুলো বর্ণনা করবে ।

Ø  শিশু এবং কিশোর-কিশোরদের যৌনতার ব্যাপারে মাত্রারিক্ত আগ্রহী হবে যা আসক্তির পর্যায়ে পড়ে।

Ø  যৌন কার্যাবলীর সময় প্রাপ্ত বয়স্ক সঙ্গী/ সঙ্গিনী কে শিশু অথবা কিশোর/কিশোরীদের মতো আচরণ করতে বলবে।

Ø  প্রায়ই শিশুদের নিয়ে তৈরী পর্ণ দেখবে এবং এর প্রতি প্রবল আসক্তি থাকবে।

Ø  হস্তমৈথুন তার কাছে দৈনন্দিন কাজের মতো হয়ে যাবে।

Ø  এছাড়া এরা সাধারণত এমন পেশায় থাকে যাতে শিশুদের সংস্পর্শে সহজেই আসতে পারে যেমন শিক্ষক,প্রশিক্ষক ইত্যাদি।

  • সন্দেহ করুন যদি আপনার শিশুকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় –

 

এটা সবসময়ই ভালো লাগে যদি যখন শিক্ষক, প্রশিক্ষক বা এই জাতীয় লোকজন আপনার শিশুর ভালো এবং বিস্ময়কর গুণাবলী সম্পর্কে বুঝতে পারে এবং এজন্য অন্যান্য শিশু থেকে তাকে আলাদাভাবে দেখা হয় । কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এটা শিশুর যৌন নিপীড়নের অন্যতম পূর্ব লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। রিভেট্টির মতে,”বিকৃত রুচির লোকেরা বাচ্চাদের আলাদা করে ফেলে এবং ভাবতে শিখায় সে অন্যদের থেকে আলাদা ।” প্রকৃতপক্ষে যারা পেশাদার তারা কখনই কারও প্রতি বিশেষ অনুরাগী হয় না।

  • একা থাকার ক্ষেত্রে সর্বাধিক সতর্কতা আরোপ করুন –

 

যখন কোন বিকৃত রুচির শিশু যৌন নিপীড়ক ,কোন শিশুকে আলাদা করে ফেলে ,তার পরবর্তী কাজ হচ্ছে সেই শিশুকে একা পাওয়া ।এর জন্য সে শিশুটির মা-বাবা কে নানা ধরনের প্রস্তাব দেয় , যেমন –বাড়িতে তার কাছে আলাদা ভাবে পড়া,তার সাথে একা একা খেলাধুলা করা ,তার সাথে বেড়াতে যাওয়া ,বাড়িতে অথবা বেড়ানোর সময় তার কাছে শোয়া । আপনি যদি দেখেন যে,এর জন্য সে অতিরিক্ত তোষামোদি বা জোর করছে অথবা সেও আপনার শিশুর মতোই উত্তেজিত হয়ে গেছে ,তাহলে কোন অবস্থাতেই তার সাথে আপনার বাচ্চাকে একা থাকতে দিবেন না ।

  • পরিবারের অতীতকে অবহেলা করবেন না –

 

রিভেট্টির মতানুযায়ী, নিপীড়নের দিকে ঝোঁক সাধারণত বংশগতভাবে আসে। যদি পরিবারের মাঝে আপনার নিজেরই নিপীড়িত হবার অভিজ্ঞতা থাকে কিংবা পরিবারে এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে আপনার সন্তানেরও নিপীড়িত হবার সম্ভবনা বেড়ে যায়।”

সঠিকভাবে নির্ধারণ করুন আপনার শিশুর সংস্পর্শে থাকা পুরুষ যারা তার কাছে আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হবে –

 

একজন সঙ্গীহীন মা তার জীবনে চলার জন্য একজন পুরুষ সঙ্গীর অভাব বোধ করেন ।শিশু যৌন নিপীড়করা এই সুযোগটাই গ্রহণ করে (প্রায় ৯৫% নিপীড়নকারীই পুরুষ ) ।সাধারণত সঙ্গীহীন বা একা থাকা মা তার বাচ্চাদের সময় দিতে পারেন না এবং খুব খুশি হন যদি কেউ তার বাচ্চাকে সময় দেয় এবং তার দেখাশোনা করে।আর বিকৃতরুচির যৌন নিপীড়করা ঠিক এই সুযোগটাই নেয় ।

  • একসাথে ঘুমানো বা রাতে একসাথে থাকাকে কখনই হালকা ভাবে নিবেন না-

 

বেড়ানো বা অন্য অনেক কারণে আপনার শিশুকে তার কোন বন্ধুর বাড়িতে রাতে থাকতে হতে পারে। কিন্তু আপনার সন্তান কোথায় কিভাবে থাকতে তা আপনাকে খুব ভালো ভাবে জানা থাকতে হবে।রিভেট্টি এই ব্যাপারে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন,”আপনার সন্তানের কোন জায়গাতে রাতে থাকার ব্যাপার কখনই কম গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন না। যদি আপনি সেই পরিবার সম্পর্কে খুব ভালো ভাবে না জানেন এবং নিজে সেখানে বেশ কিছু বার না গিয়ে থাকলে , কখনই আপনার সন্তানকে সেখানে রাতে থাকতে দিবেন না।এবং একেবারে নিশ্চিত হয়ে জানুন সেখানে কে কে থাকে এবং তারা কি করে।যদি কোন কিছু আপনার কাছে অস্বাভাবিক বা অসামঞ্জস্য মনে হয়, তাহলে আপনার সহজাত প্রবৃত্তির উপর আস্থা রাখুন ।”

অনেক সময় বাসায় আত্মীয়স্বজন বেড়াতে আসলে , ছোট বাচ্চাদের তাদের সঙ্গে ঘুমাতে হই । এটা কখনোই করা উচিত না । অবশ্যই  অবশ্যই আপনার ছোট বাচ্চার ঘুমানোর জন্য  আলাদা বিছানার ব্যবস্থা থাকতে হবে ।

v  দি আপনি বুঝতে পারেন যে আপনার সন্তান যৌন নিপিড়নের শিকার হচ্ছে –

 

আমরা আশা করি ,আপনাকে কখনও এই ধরনের আলোচনার  মাঝে দিয়ে যেতে হবে না ।কিন্তু আপনি যদি বুঝতে পারেন বা সন্দেহ করেন যে আপনার শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে বা হচ্ছে ,তাহলে দেরী বা সংকোচ না করে আপনাকে অবশ্যই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • হজভাবে প্রশ্ন করুন –

 

আপনার সন্তানকে সহজভাবে প্রশ্ন করুন যাতে সে নিজে থেকেই তার মনের কথা বলতে পারে।যেমন বলতে পারেন যে তুমি যে তোমার এই বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলে সবচেয়ে সেখানে সবচেয়ে ভালো কী লেগেছে অথবা খারাপ কি লেগেছে । কিংবা বলতে পারেন যে, “ছোটবেলায় আমি এমন কিছু করেছিলাম বা আমার সাথে এমন কিছু হয়েছিল যে আমি মা-বাবাকে বলতে চাই নি যে তারা কষ্ট পাবে বা চিন্তা করবে ,কিন্তু যখন বললাম তখন সব ঠিক হয়ে গিয়েছিল।তোমার সাথে কি এমন কিছু হয়েছে ?” মোট কোথা আপনাকে এমন ভাবে কথা বলতে হবে যাতে আপনার সন্তান আপনাকে তার মনের কথা খুলে বলে।তবে কোন অবস্থাতেই তাকে বকা দিয়ে বা রাগারাগি করে প্রশ্ন করা যাবে না। তাহলে আপনার বাচ্চা আপনাকে কখনই তার সাথে কিছু হলে ,সেটা বলবে না ।

  • খেয়াল করুন আপনার সন্তানের মাঝে কোন পরিবর্তন এসেছে কিনা-

 

আপনি যদি আপনার সন্তানের মাঝে কিছু বিশেষ ধরনের পরিবর্তন দেখতে পান ,তাহলে বুঝবেন তার কিছু হয়েছে ।যেমন –

Ø  এমন সব আচরণ বা  শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ে যৌন সম্পর্কিত শব্দ বলবে যা তার বয়সের সাথে খাপ খায় না। এই ধরনের কথা বা আচরণ সে আগে কখনই করেনি।

Ø  বয়সের তুলনায় আরও ছোট বাচ্চার মতো আচরণ করবে যা সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

Ø  যাদের কাছে থেকে  নিপীড়নের শিকার হবে না,তাদের প্রতি নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকবে।

Ø  একা একা থাকবে এবং সব কিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিবে।

Ø  অল্পতেই রেগে  এবং অস্থির হয়ে যাবে।

Ø  হঠাৎ করে অন্ধকার দেখে ভয় পাবে।

Ø  প্রায়ই দুঃস্বপ্ন দেখবে।

Ø  ঘুমের পরিবর্তন হবে , অতিরিক্ত ঘুমাবে অথবা কম ঘুম হবে।

আপনার সন্তানের সুরক্ষার বিষয়টি আপনার উপরেই নির্ভর করে।আপনার সন্তানকে ‘না’ বলা শিখাতে হবে অপ্রয়োজনীয় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধ স্পর্শগুলোর প্রতি।সন্তানের সাথে আপনার সম্পর্ক এমন হয় যাতে সে আপনাকে সহজেই প্রশ্ন এবং তার কোন সমস্যার কথা খুলে বলতে পারে।সে যেন কখনই ভাবতে না পারে যে সে একা।আর এইসব পদক্ষেপের মাধ্যমেই আপনি আপনার সন্তানকে যৌন নিপীড়নের হাত থেকে মুক্ত রাখতে পারেন ইনশা আল্লাহ্‌ ।

আমাদের সন্তান পর্ন  দেখে!! (প্রথম কিস্তি )

আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!! (প্রথম কিস্তি )

প্রথম পরিচয়

ক্লাস নাইন টেনের সময়টাতে গান শোনার প্রচন্ড নেশা ছিল। স্কুল আর ঘুমানোর সময় বাদ দিয়ে  প্রায়  পুরোটা সময়  একটার পর একটা গান শুনতাম। গান শোনা ছাড়া কেন জানি থাকতে পারতাম না। সে সময় আমার নিজের পিসি বা ফোন কিছুই ছিল না। গান শোনার একমাত্র সম্বল ছিল সনির এমপি ফাইভ। তখনো এন্ড্রয়েড ফোনের যুগ শুরু হয়নি। বাজার  দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নকিয়া ২৭০০ ক্লাসিক আর  চায়না ফোন। বন্ধুদের চায়না ফোনের লাউডস্পীকার  থেকে তাহসানের গান ভেসে আসতো, আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম আর ভাবতাম কবে আমি  একটা এরকম “অস্থির” ফোনের গর্বিত মালিক হবো।

সারাক্ষণ যেহেতু গান শুনতাম তাই একটা গানে অল্প দিনেই অরুচি ধরে যেত। ইন্টারনেট তখন আমার কাছে স্বপ্নের মতো। গলির মোড়ের কম্পিউটারের দোকানই ভরসা। কয়েকদিন পর পর গলির মোড়ের  কম্পিউটারের দোকানে যেতে হতো নতুন গান ডাউনলোড দিতে। দশ বিশ টাকা দিলেই পুরো এমপি ফাইভ ভর্তি করে গান দিয়ে দিতো। এভাবে বার বার যাবার কারণে দোকানদারের সাথেও বেশ খাতির জমে গেল। তো একবার সে লোক আমার  এমপি ফাইভ লোড করে দিয়ে একটু বেশী টাকা চাইলো। আমি অবাক হয়ে  তার দিকে তাকাতেই সে একটা চোখ টিপ দিয়ে বললো, “মাল দিছি ছোট ভাই”।

পরে আমার অনেক  বন্ধুবান্ধবের কাছে অনেকটা একইরকমের গল্প শুনেছি। কেউ দোকানে গেছে কলকাতার বাংলা সিনেমা ডাউনলোড করে নিতে, কম্পিউটারের দোকানদার সেই সিনেমা তো দিয়েছেই সেই সাথে ফাউ হিসেবে কিছু নীল সিনেমাও দিয়ে দিয়েছে। তারপর আস্তে তাকে পর্ন ভিডিওতে আসক্ত বানিয়ে ফেলে দোকানের  ক্যাশ বাক্স ভরিয়েছে। আমার খুব কাছের অসম্ভব মেধাবী একজন বন্ধু এভাবে পর্ন ভিডিওতে আসক্ত হয়ে পড়াশোনা শিকেয় তুলে ফেলেছিল। খুব কাছ থেকে পর্নোগ্রাফির মুভির কারণে ওর বদলে যাওয়া দেখেছি। এই হাইস্পিড ইন্টারনেটের যুগেও প্রতিনিয়ত অনেককে দেখি এভাবে কম্পিউটারের দোকান থেকে মেমোরি কার্ড লোড করে নিতে (বিশেষ করে গ্রাম এবং মফস্বল অঞ্চলগুলোতে)। পঞ্চাশ-ষাট টাকার জন্য জাহান্নাম কিনে নিতে দুবারও ভাবছেন না এ সব দোকানদাররা।

“যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের সমাজে অশ্লীলতার প্রসার ঘটুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না”। [২৪:১৯]

পর্ন ভিডিওর সাথে পরিচয়ের আরেকটা কমন মাধ্যম হচ্ছে কচি বয়সেই “পেকে” যাওয়া বন্ধু বান্ধব। এই অকালপক্ক বন্ধু বান্ধবের দল কোন ভাবে পর্ন মুভির সন্ধান পেয়ে গেছে। তারপর তারা নিজেরা তো সেই জিনিস দেখেই সাথে সাথে তার ইয়ার দোস্তকেও সেটার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মহান দায়িত্ব স্বেচ্ছায় নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়। শেয়ার ইট, ব্লু টুথ, পেনড্রাইভ, হার্ডডিস্কে চলে লেনাদেনা।  ক্লাসের গোলগাল মোটা রিমের চশমা পড়া ভদ্র ছেলেটাকেও জোরাজুরি করে পর্ন ভিডিও দেখার জন্য। বন্ধুদের  চাপাচাপিতে নেহায়েত বাধ্য হয়েই ভদ্র, ভালো ছেলেটা হয়তো একবার পর্ন ভিডিও দেখে ফেলে। প্রথমবার দেখে তার বমি আসতে চাইলেও, পাসশাপাশি শরীরে অচেনা এক “ফিলিংস”-ও কাজ করে। পরে আবার দেখতে ইচ্ছে করে। তারপর আবার। এভাবেই একসময় ভালো ছেলেটাও আটকা পড়ে পর্ন মুভির জালে।

অনেক সময় ১০-১২ বছরের ছেলেরা শরীরে হুট করে আসা পরিবর্তন দেখে চমকে যায়, কিন্তু ভয়ে বা লজ্জায় বাবা মাকে এগুলো সম্পর্কে কোন প্রশ্ন করতে পারে না। কৌতূহল মেটাতে না পেরে বাধ্য হয়ে শেষমেষ আশ্রয় নেয় তাদের বন্ধুদের কাছে। বন্ধুদের সাথে এ কথা, এই আলোচনা সেই আলোচনা হতে হতে একসময় পর্ন, মাস্টারবেশন এই কথাগুলও চলে আসে। এভাবেও অনেকের পর্ন এবং মাস্টারবেশনের সাথে পরিচয় হয়ে যায়। আমার বাল্যকালের অনেক ইয়ার দোস্তদের এভাবেই পর্ন এবং মাস্টারবেশনের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল।

 

পর্নমুভির সঙ্গে পরিচয় ঘটার আর একটা মাধ্যম হচ্ছে বড়ভাই, কাযিন বা পাড়াতো ভাই বোনদের (বিশেষ করে গ্রামে এটা খুবই বেশী) পর্ন আসক্তি। বড়ভাই, বোন বা কাযিন পর্ন ভিডিওতে আসক্ত। তার  মোবাইলে বা পিসির মেমোরি ভর্তি পর্ন ভিডিও। ছোটভাই, বোন বা কাযিন সে মোবাইল বা পিসিতে মাঝে মাঝে গেইমস খেলে, ঘাঁটাঘাঁটি করে। হুট করে সে একদিন আবিষ্কার করে বসবে পর্ন ভিডিও। আমার খুব কাছের একজন আত্মীয়ের ছয় সাত বছরের পিচ্চির এভাবেই পর্নোগ্রাফির সাথে পরিচয় ঘটে গেছে।

কথাটা বলতে খুব খারাপ লাগছে কিন্তু তবুও বলি, এভাবে পাড়াতো ভাই বোন বা কাযিনদের মাধ্যমে যেসব বাচ্চাদের পর্নোগ্রাফির সাথে পরিচয় ঘটে, সেই পাড়াতো ভাই বোন বা কাযিনদের মাধ্যমে সেই বাচ্চাদের যৌন নিপীড়িত হবার খুব ভালো  একটা সম্ভাবনা থাকে।[1] কাজেই এটা খুবই সিরিয়াসলি নেয়া দরকার।

তবে পর্নোগ্রাফি এবং মাস্টারবেশনের সাথে টিনেইজার বা বাচ্চাদের পরিচিত হবার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হল ইন্টারনেট এবং স্যাটেলাইট চ্যানেল। অ্যামেরিকাতে শতকরা ৪৬ ভাগ কিশোর নেট ব্রাউযিং করা অবস্থায় নিজেরা পর্নোগ্রাফি না খুজলেও এমনি এমনিই পর্ন ভিডিওর খোঁজ পেয়ে যায়।[2] ১৫-১৭ বছর বয়সী টিনেইজারদের মধ্যে শতকরা ৭০ জন অনলাইনে স্বাস্থ্য বিষয়ক কন্টেন্ট ঘাটতে গিয়ে হুট করে পর্ন ভিডিওর সন্ধান পেয়ে যায়।[3]

 

তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে আপনার সন্তানকে একদিন না একদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিতেই হবে। আমরা সেটা নিষেধও করছি না। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো, আপনি ১০-১২ বছরের একটা বাচ্চার হাতে কেন হাই স্পিড নেট তুলে দেবেন? কেন তাদের হাই কনফিয়াগেরশান ফোন তুলে দেবেন? ১০-১২ বছরের একটা বাচ্চা হাই কনফিগারেশান ফোন, হাই স্পিড নেট দিয়ে কী এমন গুরুত্বপূর্ন কাজ করবে ঠিক বুঝতে পারছি না? সে কি নেট ঘেঁটে অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার ব্যাপারে গবেষণা করবে? ইউটিউব থেকে টিউটোরিয়াল নামিয়ে দেখবে? উইকিপিডিয়াতে গিয়ে পড়াশোনা করবে? গুগলে বিভিন্ন শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে সার্চ করবে? ফেইসবুকে বিভিন্ন শিক্ষামূলক গ্রুপে থাকবে?

বি প্র্যাক্টিকাল। আপনার সন্তান গুগলে ঠিকই যাবে তবে “সালোক সংশ্লেষণ” নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার জন্য না, পর্ন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার জন্য। ইউটিউব থেকে টিউটোরিয়াল নামাবে না,  নামাবে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত পর্দায় “আগুন লাগানো” কোন আইটেম সং। ফেইসবুকের শিক্ষা মূলক গ্রুপ গুলোতে তাকে খুবই কম পাওয়া যাবে, সে বুঁদ হয়ে থাকবে কারো রঙ্গ লীলার কাহিনীতে কিংবা সময় কাটাবে বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে চ্যাট করে।

 

আপনার  সন্তানকে কি ফেরেশতা ভাবেন? সে কি মানুষ নয়? তার কি জৈবিক চাহিদা বলে কিছু নেই? পত্রিকা, বিলবোর্ড, টিভি, সিনেমা, ইন্টারনেট – তার প্রতি চারদিক থেকে ছুড়ে দেয়া হচ্ছে যৌনায়িত ইমেজারি। আপনি আপনার সন্তানকে নিয়ে একসাথে ড্রয়িংরুমে বসে বসে ভারতীয় নর্তকীর নাচ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছেন, দেখছেন আইপিএল-বিপিএলের চিয়ারলিডারদের শরীরের ভাঁজ, মুভি দেখছেন, বাসায় প্রথম আলো টাইপ পত্রিকা রাখছেন যেটা পর্নস্টার, নর্তকী আর পতিতাদেরকে বাংলাদেশের মানুষজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মহান দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছে। এখনকার বলিউডের এক একটা আইটেম সং পর্ন ভিডিওর চেয়েও খারাপ। নারী পুরুষের সব রসায়নই সেখানে দেখানো হচ্ছে।  আপনার সন্তান এগুলো দেখছে, হয়তো আপনার সাথে এক সাথে বসেই দেখছে কিন্তু  আপনি তাকে কিছুই বলেন না। এখন কোন  আইটেম সং তার ভালো লেগে গেলে সে সেটা ডাউনলোড করার জন্য নেটে তো ঘুরে বেড়াবেই। সেই আইটেম গার্ল এর নাম লিখে গুগল সার্চ তো করবেই। আর এসব জায়গা থেকেই সে খোঁজ পেয়ে যাবে পর্নোগ্রাফির জগতের। আর বীর বাঙালি গুগলের এমন অবস্থা করে ছেড়েছে যে গুগলে কোন বাংলা ওয়ার্ড লিখে সার্চ দিলেই অমুকের স্ক্যান্ডাল, তমুকের রাতের আঁধারে ধর্ষণ, এ জাতীয় খবরের লিংক চলে আসে।

আপনার সন্তান এমন এক সমাজে, এমন এক পরিবেশে আছে যেখানে প্রতিনিয়ত তার জৈবিক চাহিদাকে উস্কে দেয়া হচ্ছে। আপনার সামনেই সেটা হচ্ছে, আপনি এ নিয়ে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, আপনার সন্তানকে এ যৌনতা তাড়িত সংস্কৃতি থেকে রক্ষার জন্য কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না – সে তো আগুন নেভানোর রাস্তা খুঁজবেই।

পরের বার টিভিতে যখন কোন আইটেম সং চলবে, একটা ছোট পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। অন্যান্য বারের মতো অন্যমনস্ক ভাবে চ্যানেল স্কিপ করে যাবেন না। ভালো করে খেয়াল করবেন। একটা ১০-১২ বছরের ছেলে কিংবা মেয়ের চোখে ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেম দেখার চেষ্টা করবেন। গানের কথাগুলো মনযোগ দিয়ে শুনবেন। এধরণের ডজন ডজন বা শতো শতো আইটেম সং বর্তমান সমাজ ও সংস্কৃতিতে একটা ১০-২ বছরের কিংবা আরো ছোট ছেলে অথবা মেয়ের চিন্তা ও আচরণের ওপর ঠিক কী ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করার চেস্টা করে দেখুন। আশা করি সত্য অনুধাবনে কষ্ট হবে না।

এ আইটেম সং গুলো পর্ন আসক্তি তৈরি করে চলেছে। পর্নোগ্রাফির সাথে বাচ্চাদের পরিচয় হচ্ছে হয়তো ১০ -১২ বছর বয়সে, গোপনে লুকিয়ে লুকিয়ে বাচ্চারা এগুলো দেখছে। কিন্তু আপনি নিজেই সারাদিন টিভি ছেড়ে রেখে, খাওয়ানোর সময় বলিউডের গান ছেড়ে রেখে, একেবারে ছোট ছোট শিশুকে আইটেম সং এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই পর্নোগ্রাফির চেয়েও বেশী উত্তেজক ভাবে নারী পুরুষের রসায়ন দেখানো হচ্ছে। মাঝে মাঝে বাজারের কোন ‘হিট’ গান ছেড়ে ওকে বলছেন, “বাবু! একটু নেচে দেখাওতো” বা “বাবু একটু গেয়ে শোনাও তো”। কখনো কি ভেবে দেখেছেন, নিজ হাতে আপনি ওর কত বড় সর্বনাশ করছেন?

পড়ুন-

মৃত্যু? দুই সেকেন্ড দূরে! (প্রথম পর্ব): https://bit.ly/2OcDLF9
আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (দ্বিতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2N6WIMF
আমাদের সন্তান পর্ন দেখে!!! (শেষ কিস্তি): https://bit.ly/2NzPdxm
হৃদয়ের ঋণ (প্রথম কিস্তি)- https://bit.ly/2MmESA9
হৃদয়ের ঋণ (শেষ কিস্তি)- https://bit.ly/2NHUza4

রেফারেন্সঃ

[1] Porn Has Fueled A 400% Rise In Child-On-Child Assaults In The UK – http://bit.ly/2CV4q4r

[2] Influence Of New Media On Adolscent Sexual Health: Evidence And Opportunities – http://bit.ly/2CFwURY

[3] Rideout VJ, Foehr UG, Roberts DF. Generation M2: Media in the lives of 8- to 18-year-olds. Menlo Park, CA: Henry J. Kaiser Family Foundation; January 2010

“****” ম্যাম গার্ড পড়ছিলঃ বুঝতে পারছিলাম         না, প্যান্ট সামলাবো নাকি কলম !!!

“****” ম্যাম গার্ড পড়ছিলঃ বুঝতে পারছিলাম না, প্যান্ট সামলাবো নাকি কলম !!!

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

বছর পাঁচেক আগের কথা । মফস্বল শহর থেকে ঢাকার এক দেশ বিখ্যাত কলেজে এইচ এস এসসি প্রথম বর্ষে ভর্তি হলাম। বাবা মা ছেড়ে একা একা ঢাকা শহরে এসেছি ,মন  ভার হয়ে থাকতো সবসময় । কিন্তু কলেজের স্যার আর ম্যামদের ক্লাসগুলো উপভোগ করতাম খুবই।

.

প্রত্যেকজন স্যার এবং ম্যাম ছিলেন প্রচন্ড পেশাদারিত্বের অধিকারী । সবার চোখে মুখে ছিল তাঁদের ছাত্রদের কিছু শেখানোর প্রবল আগ্রহ । ম্যাথ ডিপার্টমেন্ট এর এক শিক্ষক তো ছিলেন প্রবাদতুল্য মানুষ । শুধু একাডেমিক   পড়াশোনাই নয়, নীতি,নৈতিকতা,আদব,কায়দা   শেখানোরও প্রচন্ড চেষ্টা করতেন আমাদের স্যার এবং ম্যামরা । কলেজের অধ্যক্ষের মুখে তো লেগেই থাকতো,‘আমি ভালো ছাত্র চাই না , ভালো মানুষ চাই’।

.

বিশ্ব দাপিয়ে বেড়ানো অগণিত ভালো  ছাত্র কলেজ থেকে আগেও বের হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে ।কিন্তু  কয়জন ভালো মানুষ বের হচ্ছে তা  গবেষণার বিষয় ।

.

টিচারদের এমন আন্তরিকতা  থাকার পরেও , তাঁদের সঙ্গে বিশেষ করে ম্যাডামদের সঙ্গে আমারই কয়েকজন সহপাঠী এবং সিনিয়র ভাইদের বেয়াদবি  দেখে  টাসকি খেয়ে গেছলাম ।

ম্যডামরা যখন রোল কল করতেন (বিশেষ করে ম্যাডাম অল্প বয়স্কা এবং সুন্দরী হলে ) তখন পোলাপান একটু ন্যাকামো করে, নাকি স্বরে ইয়েস ম্যাম বলে রেসপন্স করত ।

বায়োলজী ক্লাসগুলোতে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে ম্যডামদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা হত ।পোলাপানের আড্ডার জটলা থেকে টুকরো টুকরো কথা কানে আসতো ……… অমুক ম্যডামকে শাড়ি পড়লে যা লাগে না , …… তমুক ম্যডাম একটা *** , অমুক ম্যডামের সেই ফিগার ……

আরো অনেক কথা যেগুলো শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করে যাবে । এখানে না বলাটাই শ্রেয় ।

.

বেয়াদবি  এই পর্যন্ত থাকলেও সহ্য করা সম্ভব ছিল । কিন্তু একদিন এক ম্যডামের ক্লাসে  পেছনের দিকের বেশ কয়েকটা বেঞ্চের পোলাপান একসঙ্গে  ফোনের  লাউড  স্পীকারে পর্নমুভি ছেড়ে দিয়েছিল ।

ম্যাডাম সেদিন কাঁদতে কাঁদতে ক্লাস থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন ।

(এরকম কাহিনী অন্য একটা ক্লাসে অন্য একজন ম্যডামের সঙ্গেও করা হয়েছিল )

কলেজ লাইফের এই  ঘটনা গুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই মনে করতাম । ভুলেও গিয়েছিলাম এইগুলো । কিন্তু কিছুদিন আগে আমাদের কলেজের ফেসবুক ফ্যান পেইজে (যেটা চালায় কলেজের প্রাক্তন এবং বর্তমান স্টুডেন্টরা)  একটা ট্রোল দেখে (ছবিতে দেখুন) আবারো টাসকি খেয়ে গেলাম ।  এতদিন যা কিছু ক্লাস রুমে করা হতো , যা কিছু মনের মধ্যেই চাপা পড়ে থাকতো বা বন্ধুদের আড্ডার সার্কেল থেকে বের হতে পারত না , তা ফেসবুকের খোলা বাজারে ঢাকঢোল পিটিয়ে জানান দিয়ে দেওয়া হল । বেয়াদবিটাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হল  আরকি ।

…… ****  “****” ম্যাম গার্ড পড়ছিলঃ বুঝতে পারছিলাম না, প্যান্ট সামলাবো নাকি কলম !!!

কলেজের রানিং স্টূডেন্টদের বানানো  এই ট্রোলে আবার দেখলাম বেশ কয়েকজন রসিক সিনিয়র ভাইয়া কমেন্ট করে ব্যাপক মজা নিয়েছেন (ছবিতে দেখুন)

 

এই ম্যডামগুলোই  স্টুডেন্টদের কিছু   শেখাবেন বলে , রাত জেগে ক্লাসের প্রিপারেশান নেন, চল্লিশ পঞ্চাশ মিনিট ঠাই দাঁড়িয়ে ক্লাস নেন , বক বক করেন  , ব্ল্যাকবোর্ডে লিখতে লিখতে চকের গুঁড়ো খান , ফ্যানের নিচে থেকেও দর দর করে  ঘামেন  । যারা   এতটা আন্তরিকতা , এতটা স্নেহ , এতটা মমতা দিয়ে ক্লাসে পড়ানোর চেষ্টা করেন , তাঁদের সঙ্গেই  এমন ব্যবহার করা হল  ? এটা জাস্ট তাদের মুখের কথা , কিন্তু এটাই কি   কুৎসিত একটা ইঙ্গিত দেয় । তাহলে চিন্তা করুন  তাদের মনের ভেতরে কি লুকিয়ে আছে , ম্যামদের  নিয়ে তাদের চিন্তা ভাবনা কতদূর গড়িয়েছে!

.

কিছু  সিনিয়র ভাইয়দের দেখলাম  ওইখানে কমেন্ট করে মজা নিয়েছেন এবং  লাইক দিয়েছেন , বুঝলাম না  কী করে  তারা এমনটা করতে পারলেন। ছোট ভাইগুলার নাহয় এখনো ম্যাচিউরিটি আসে নি ,তারা নাহয় একটা  ভুল করে ফেলেছে  , সিনিয়র হিসেবে তাদের উচিত ছিল সেই ভুল শুধরিয়ে দেওয়া ।   কিন্তু তারা  সেই ভুল শুধরিয়ে না দিয়ে কমেন্ট করে  তাদেরকে আরো উৎসাহ দিলেন !এরাই না দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তান ?  দেশ ও জাতির গর্ব ? দেশ না একদিন এরাই চালাবেন ?   এদের  টিচারও যদি  এদের   সেক্স ফ্যান্টাসির শিকার হওয়া থেকে রেহাই না পায় , তাহলে  তাদের সহপাঠী,  অফিসের কলিগ,  অধীনস্থ নারী কর্মচারীরা কী করে রেহাই পাবে ?

এরকম একটা প্রজন্ম নিয়ে আমরা কী স্বপ্ন দেখব,  বলুন ? এদের হাতে  যখন দেশ চালানোর ভার পড়বে  তখন কী অবস্থা হবে এই দেশের ?

.

বাংলাদেশে আজ এমন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছ যেখানে স্টুডেন্টদের হাতে মহিলা শিক্ষকদের  টিজিং এর শিকার হতে হয় । ঘটনা গুলো চাপা পড়ে থাকে । লোক লজ্জা আর মান সম্মান খোয়ানোর ভয়ে এইগুলো কেউ প্রকাশ করেন না । আর এইগুলো বলে বেড়ানোর কথাও না । একবার  এক আড্ডায়  আমার ভার্সিটির  পোলাপানের   অন্য  একটা ভার্সিটির  মহিলা ফ্যাকাল্টিদের ফিগার এনালাইসিস শোনার দুর্ভাগ্য হয়েছিল  । বেশিক্ষন সেখানে  বসে থাকতে পারিনি ।

.

(এখানে আমার একটা ব্যক্তিগত অব্জারভেশান বলে রাখি – এইটা জাস্ট আমার পার্সোনাল একটা মতামত –  স্টুডেন্টদের হাতে ম্যামদের নাকাল হবার পেছনে ম্যামরা নিজেরাও অনেকটা দায়ী । যেই লেভেলের সাজগোজ আর পোশাক আশাক পরে কিছু কিছু   ম্যাম ক্লাস রুমে যান , অমুকের গায়ে হলুদ, তমুকের বৌভাতে উনারা  যেরকম মাঞ্জা মেরে ফটোগ্রাফারদের হাতে শরীর ছেড়ে দেন এবং পরে সেইছবি গুলো ফেসবুকে আপলোড করেন, তাতে একজন স্টুডেন্টের পক্ষে তাদেরকে নিয়ে খুব ভালো কিছু ভাবা সম্ভব নয়   )

.

আসলে সারারাত ধরে পর্নমুভিতে নারীদের বস্ত্র হরণ দেখলে , আইটেম সং দিয়ে ফোনের মেমরি লোড করে রাখলে নারীদেরকে নিয়ে খুব একটা ভাল চিন্তা করা সম্ভব হয়না । নারীরাও যে মানুষ , তাদেরও হৃদয় আছে, তাদেরও মন আছে , একজোড়া চোখ আছে সেই চোখের ভেতরে একটা  আকাশ আছে এগুলো অনুধাবন করা যায়না । তাদেরকে শুধু একটা মাংসপিণ্ড মনে হয় যা নিয়ে উদ্দাম ফুর্তি করা যায়, রাত কাটানো যায়, কিন্তু ভালবাসা যায় না,  তার চোখের তারায় হারিয়ে যাওয়া যায় না , তাদেরকে সম্মান করা যায়না ।

.

ম্যামদের নিয়ে যারা এরকম চিন্তা ভাবনা করতে পারে তারা তাদের “জাস্ট ফ্রেন্ড” কিংবা ছোট বোন বড় বোন হিসেবে দেখা আশেপাশের মেয়েদের নিয়ে কোন লেভেলে চিন্তা করতে পারে তা  মাথায় একটু বুদ্ধি থাকলেই বোঝা যায় ।  মুখের সামনে আপু আপু বা দোস্ত দোস্ত করে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও , ভদ্রতার মুখোশ পড়ে থাকলেও  এইসব ছেলেরা তাদের সেই আপুদের বা ইয়ার দোস্তদের অনুপস্থিতিতে তাদের ফিগার নিয়ে যে পোস্টমর্টেম করে তার রিপোর্ট  জানলে কোন ভদ্র মেয়ের পক্ষে তাদের সঙ্গে  মেশা  দূরে থাক কথা বলাও সম্ভব নয় । ফেসবুকে  আপুদের আপলোড করা পিক  দিয়ে যে    তার কত “জাস্ট ফ্রেন্ড” ছেলে বন্ধু   যৌবন জ্বালা নিভায় তা যদি এইসব আপুরা  জানতো !

তবে আজকাল  দিন বদলাইয়া গেছে । আজকালকার মেয়েরা নাকি তাদেরকে কেউ হট চিক , সেক্সি বললে খুশিই হয় ।  কোথায় চলেছে আমাদের এই সমাজটা,  কোথায় যাচ্ছি আমরা ?  আবহমান বাংলার সেই লজ্জাবতী নারীরা কোথায় গেল আজ?

.

জীম তানভীর ভাইয়ের একটা লিখার কিছু অংশ এখানে তুলে দিতে  ইচ্ছে করছে,

…………ছেলেরা যখন মেয়েদেরকে “slave” হিসেবে দেখতে শেখে তখন মেয়েরা শেখে শিলা হতে হবে,তাতে যৌবনজ্বালায় বিকারগ্রস্ত ছেলেদের চড়কির মত ঘোড়ানো যাবে।
তারা শেখে পার্লারে গিয়ে কি সব পেডিকিউর মেনিকিউর না করলে নাকি স্ট্যাটাস থাকে না।

তারা শেখে বড় মডেল কিংবা অভিনেত্রী হওয়ার জন্য নিজের চরিত্রকে ফটোগ্রাফার কিংবা প্রডিউসারের কাছে নিজের চরিত্র বিকিয়ে দেয়া দোষের কিছু না।

তারা সানন্দা টাইপের ম্যাগাজিনগুলো বিমুগ্ধ নয়নে পড়তে থাকে আর বুঝে ফেলে শরীর দেখিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার মূলমন্ত্র।

.

তারা হিন্দী সিরিয়াল দেখে আবিষ্কার করে নিজেকে সাজিয়ে রাখা হল স্মার্ট মেয়েদের কাজ !এই যদি আমরা শিখি,আমরা কিভাবে আশা করতে পারি একটা ছেলে একটা মেয়েকে সম্মান করবে ?

সম্মান অর্জন করা যায় শরীর দেখিয়ে? সৌন্দর্য দিয়ে ? সেক্সি মেয়ে দেখলে আমাদের চোখ বিনয়ে নুয়ে পড়ে নাকি কি যেন খুজে বেড়ায় ?
একটা মেয়ে কি গায়ের উপর থেকে ওড়না ফেলে দিয়ে আশা করে তার দাম বাড়বে ?

আজকে যে ছেলেটা জন্ম নিয়েছে সে শরীর নাচিয়ে কুদিয়ে বেড়ানো মিলার মিউজিক ভিডিও দেখে কি ভাববে সেটা কি আমরা চিন্তা করেছি ???