নরক

নরক

পর্ণের দুনিয়াটাকে অনেক আকর্ষণীয় মনে হয় তাই না? কিন্তু ভিতরের কাহিনী কিন্তু একদম উল্টো। বিকৃত রুচির মানুষের চাহিদা মেটাতে গিয়ে কত মেয়েকে যে নির্মম অত্যাচারের শিকার হতে হয় আর কত মেয়ের চাপা কান্না যে বাতাসে হারিয়ে যায় সে খবর কি আমাদের কানে আসে? এই আর্টিকেলটাতে কিছু পরিসংখ্যান আর তথ্যের সাহায্যে পর্ণ অভিনেতা আর অভিনেত্রীদের ভয়াবহ জীবন তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

“ছেলেরা আপনার মুখে ঘুষি মারতে থাকবে, বলতে গেলে আপনাকে ছিড়ে ফেলবে।আপনার মনে হবে আপনার প্রাণ বেরিয়ে আসছে আর এটা থেমে থাকে না।আপনাকে এখানে একটা ভোগ্য বস্তু হিসেবে দেখানো হবে, মানুষ হিসেবে নয়।মানুষ যখন সমাজে নিজের স্থান খুজে পায় না তখনি সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে”। – সাবেক পর্ণ অভিনেত্রী

পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির একটি সেকেণ্ডারি নেচিবাচক প্রভাব হল  চুড়ান্ত পর্যায়ে   মাদকাসক্তি। একজন পর্ণ অভিনেত্রীর  স্বীকারোক্তি “আমরা যেসব মাদক ব্যবহার করি তা হল এক্সটেসি,কোকেইন,মারিজুয়ানা(গাজা),জানাক্স,ভালিউম,ভিসোডিন আর এলকোহল”

২০১২ সালে ১৭৭ জন পর্ণ অভিনেত্রীদের উপরে করা একটা জরিপে দেখা গেছে   জীবনে একবার হলেও ৭৯%  পর্ণ অভিনেত্রী  marijuana  ব্যবহার করেছেন , hallucinogens  ব্যবহার করেছেন ৩৯% , ecstasy  ব্যবহার করেছেন ৫০% , cocaine  ব্যবহার করেছেন ৪৪% , methamphetamine ব্যবহার করেছেন ২৭% , tranquilizers ব্যবহার করেছেন ২৬% , heroine ১০% ।

জানুয়ারি ২৮,২০০৮ এ এক পুরুষ পর্ণঅভিনেতা তার ব্লগে লিখেনঃ

“মাদক আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে খুব বড় একটি সমস্যা।কেউ যদি আপনাকে অন্য কিছু বলে তবে সে মিথ্যা বলছে।শুধু এই মাদকের জন্য অগণিত মেয়ে নিজেদের বেচে থাকার ইচ্ছা উদ্যম সব হারিয়ে ফেলেছে ।এটা চিন্তা করলেই  আমি খুবই কষ্ট পাই আর তাদের এই অধঃপতন খুবই বেদনাদায়ক,অন্তত আমার কাছে।এটা মানতেই হবে যে, বেশিরভাগ মাদকাসক্ত প্রফেশনাল সহায়তা ছাড়া তাদের অভিশপ্ত জীবন থেকে বের হয়ে আসতে পারেন না।আমি শুটিং সেট থেকে শুরু করে পার্টি এমনকি গাড়িতেও ড্রাগের যথেচ্ছ ব্যবহার দেখেছি।আনুমানিক ৯০%

জনবল(পারফরমার,ড্রাইভার,এজেন্ট,মালিক ইত্যাদি) মারিজুয়ানা(গাজা) তে আসক্ত।সম্প্রতি স্টেজে আমার সাথে কর্মরত মেয়েটি আচমকা অজ্ঞান হয়ে যায়(সে অক্সিকোন্টিনে আসক্ত ছিল)।আরেকটি মেয়ে GHB ওভারডোজ হয়ে সেটেই লুটিয়ে পড়ে(GHB-পার্টি ড্রাগ যেটা এলকোহলের সাথে সহজে মিশে না)।প্রেস্টিজিয়াস  পুরস্কার পেয়েও ইতিহাস আছে এমন মেয়েদের যারা এতই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিল যে তারা সেটা আনতে যেতে পারে নি।কারণ তারা প্রায় ৫০ পাউন্ড ওজন হারিয়ে নিজের চেহারা গঠন সব ধুলোয় মিশিয়ে ফেলে।প্রশ্ন হল এখানে মাদক এত সহজলভ্য কেন??প্রথমত এখানে মুলত ১৮-২১ বছরের মেয়েরা কাজ করে যাদের অনেকেই অশিক্ষিত নয়তো অল্প শিক্ষিত।অনেকেই আসে যারা বলতে গেলে কপর্দকশূন্য অথবা পিজার দোকানে সস্তা কাজ করে।

এখানে এসে তারা মাসে ১০ হাজার ডলার আয় করে যার বিনিময়ে মাসে তাএর ৫ ঘন্টা করে ১০-১২ দিন কাজ করতে হয়।মাদকের দালালরা হাঙরের মত তাদের শিকার করে।এই মেয়েদের হাতে থাকে অবসর সময় আর প্রচুর কাঁচা টাকা।দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে মাদক ব্যবসায়ীদের বাজিমাত।

২০১২ সালে ১৭৭ জন পর্ণ অভিনেত্রীদের উপরে করা একটা জরিপে দেখা গেছে   জীবনে একবার হলেও ৭৯%  পর্ণ অভিনেত্রী  marijuana  ব্যবহার করেছেন , hallucinogens  ব্যবহার করেছেন ৩৯% , ecstasy  ব্যবহার করেছেন ৫০% , cocaine  ব্যবহার করেছেন ৪৪% , methamphetamine ব্যবহার করেছেন ২৭% , tranquilizers ব্যবহার করেছেন ২৬% , heroine ১০% ।

মাদকের ছড়াছড়ির সাথে সাথে নির্যাতনের বিষয়টিও ব্যাপক

আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে।একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে

১০০% স্ট্রিপার শারীরিক নির্যাতন অথবা গালাগালির শিকার হন।

৯১% রিপোর্টে দেখা গেছে কাস্টমাররা মৌখিক ভাবে তাদের

অপদস্ত করে, সাথে সাথে প্রায় সবাই শারীরিক নির্যাতনের সম্মুখীন হয়।

স্ট্রিপারদের গায়ে হাত দেয়া নিষিদ্ধ হলেও রিপোর্টে দেখা যায়

কাস্টমাররা তাদের হাতে(৮৮%), স্তনে(৭১%),পশ্চাৎদেশে(৯১%)

স্পর্শ করে।আক্রমণের ঘটনাও কম নয়।চুল টানা

(২৭%),চিমটি(৫৪%),চড় মারা(৫৮%) এমনকি কামড়ে

দেয়ার(৩৬%) মত ঘটনাও ঘটে।এই আক্রমণগুলো স্ট্রিপক্লাবের ভিতর বডিগার্ড আর স্টাফদের সামনেই ঘটে।

ইদানিং পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি জোর দিচ্ছে চড় থাপ্পড়, অমানবিক নির্যাতন আর থুথু ছিটানো রাফ আর পেইনফুল সেক্সের প্রতি। একটা সিনে পুরুষ অভিনেতা অভিনেত্রী কে ধরে টয়লেটের কমোডে মুখ ঢুকিয়ে চেপে ধরে। এই ইন্ডাস্ট্রিতে এটাই নাকি ক্লাইম্যাক্স। ৮৮% ভাগ ফিল্ম শারীরিক ও মানসিক ভয়াবহ নির্যাতনে ভরপুর।

আমাদের জানামতে ২০০৩ থেকে ২০১৪ সনের মধ্যেই সান ফেরনান্দ ভ্যালি , ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ১৫০০ যৌন কর্মীর ২২৮ জনই মৃত্যুবরণ করেছে এইডস , আত্মহত্যা , মাদক সেবনের মাধ্যমে । এদের অনেকেই হয়েছে হত্যার শিকার আবার অনেকে বরণ করেছে অকাল মৃত্যু । পৃথিবীর কোন ইন্ডাস্ট্রি , এমনকি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি যা কিনা পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির চেয়েও ১০ গুণ বড় – এমন পরিসংখ্যান নেই । যেখানে একজন আমেরিকানের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭৮.৬ বছর সেখানে একজন যৌনকর্মীর প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৩৬.২ বছর ।

পর্ণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলোর খুব  গা ঘিনঘিনে  বিষয় হল যৌন রোগ  । লস অ্যাঞ্জেলস এর সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ২০-২৪ বছর বয়সীদের তুলনায় যৌনকর্মীদের ক্লামিডিয়া ও গনেরিয়া সংক্রমণ সম্ভবনা ১০ গুণ বেশি । তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে এই রোগগুলো সংক্রমণ সম্ভবনা যৌনকর্মীদের মাঝে কল্পনাতীত ভাবে বেশি । ডাক্তার শেরন মিশেল – সাবেক পর্ণ অভিনেত্রী ও AIM (Adult Industry Medical Healthcare Foundation) এর  ফাউন্ডারের সঙ্গে  এক সাক্ষাতকারে যৌন রোগের প্রাদুর্ভাবের কথা নিশ্চিত করেছেন । তিনি আরও উল্লেখ করেছেন “৬৬% যৌনকর্মী হারপিস এ ভোগেন , ১২-২৮% এর রয়েছে যৌন রোগ , ৭% এর রয়েছে HIV” ।

কোন যৌন রোগ আছে কিনা তার পরীক্ষা পর্ণ শিল্প আইনের আওতাভুক্ত নয় । কর্মীদের তাদের নিজ খরচে পরীক্ষা করাতে হয় । পর্ণ সেট এ একাধিক যৌন সঙ্গীর সাথে মেলামেশার দরুন পরীক্ষালব্ধ ফলাফল হয় অনিশ্চিত – যার ফলে পর্ণ শিল্পে যৌন রোগের প্রাদুর্ভাব আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে । পর্ণ স্টারদের অনেক কিছু বলার আছে পর্ণ ভোক্তাদের কাছে এই যৌনরোগগুলোর ব্যাপারে ।.

তো বুঝলেন তো , ল্যাপটপে বা মোবাইলের স্ক্রীনের এইপাশে বসে পর্ণমুভির জগতটাকে  যতই আকর্ষণীয় দেখাক না কেন , পর্দার ওপাশে  লুকিয়ে আছে কতটা   বর্বরতা  আর  নিষ্ঠুরতা ?

এখানে স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন এসে  যায় , পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা যদি  সত্যিই এতটা খারাপ হয় , সেখানে যদি নারীদেরকে এভাবেই নির্যাতন করা হয়  তা হলে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি  বন্ধ করে দেওয়া হয়না কেন ? পর্ণ ওয়েবসাইটগুলো তো ব্লক করে দিলেই কেল্লাফতে । আর মানবাধিকার রক্ষায় সদা জাগ্রত , নারী স্বাধীনতার অগ্রদূত   আমেরিকা, ফ্রান্স এরা চুপ করে কেন ? সুশীল সমাজ , মুক্তমনারা কেন এগুলোর বিরুদ্ধে তেমন কোন কথা বলে না ?

–      কারণ  টাকা । জী টাকা ।

আপনাকে  পর্ণ মুভির বাজার সম্পর্কে একটা হালকা পাতলা ধারণা দিলেই ইনশা আল্লাহ্‌ বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা ।

“Online pornography is the first consistently successful e-commerce product.”

–      Donna Rice Hughes  ( ceo of enough is enough,  working for ensuring  the internet safety of children and families)

পৃথিবীতে আনুমানিক ৪২ লক্ষ পর্ণ ওয়েবসাইট আছে যা মোট ওয়েবসাইটের ১২% । পৃথিবীর প্রায় ৭২ লক্ষ মানুষ এই ওয়েবসাইটগুলোর মাসিক পরিদর্শক । প্রত্যেক দিনের অনুসন্ধান আবেদনের (search request) চার ভাগের এক ভাগই থাকে পর্ণ বিষয়াবলীর উপর – যার পরিমাণ দাড়াই ৬৮ লক্ষ । যেখানে প্রায় ৪০ লক্ষ আমেরিকানই পর্ণ ওয়েবসাইটের নিয়মিত পরিদর্শক । U.S.A প্রাপ্তবয়স্ক চলচিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ১ বছরে প্রায় ৪০০০-১১০০০ চলচিত্র নির্মাণ করে – এবং এর মাধ্যমে আয় করে আনুমানিক ৯-১৩ লক্ষ কোটি মোটা অঙ্কের টাকা ।

২০০৬ সালে sex-related entertainment business’ থেকে শুধুমাত্র আমেরিকার ১৩ বিলিয়ন ডলার কামিয়েছে ।

-Fishbein, president of the Adult Video News Media network

এমনকি  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি হলিউডের চেয়েও বেশী লাভজনক ।  প্রতিবছর গড়ে  ১৩০০০ পর্ণ মুভি তৈরি করা হয়  অন্যদিকে প্রতিবছর হলিউডে মাত্র ৫০৭ টি মুভি তৈরি করা হয় । পর্ণ মুভি থেকে মুনাফা আসে ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি আর হলিউডের মুভিগুলো থেকে  ৮.৮ বিলিয়ন ডলার । (Bridges and Wosnitzer, 2007).

এখানে আর একটা ব্যাপারও মাথায় রাখা জরুরী । পর্ণ মুভি তৈরি করার সময় খুব মোটা অংকের বাজেটের প্রয়োজন পড়ে না , কিন্তু হলিউডের মুভি গুলোর বাজেট হয় খুব বড়  অংকের । তারমানে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি খুব অল্প টাকা বিনিয়োগ করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশ বড়সড় টাকা হাতিয়ে নেয়

পর্ণ মুভির ব্যবসা নিয়ে কথা বলতে গেলে ঘুরে ফিরেই  আমেরিকার নাম আসবে ।  আমেরিকা হল সে দেশ পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির খনি । এখানেই সবচেয়ে বেশী পর্ণ মুভি  তৈরি করা হয় ।   এই আমেরিকার  Californiaতে  বিশ্বের ৮৫% এডাল্ট কন্টেন্ট তৈরি হয়।বেশিরভাগ নারী প্রতিভা(!) এজেন্সি এই এলাকার আশে পাশেই অবস্থিত আর অনেক নারী মডেল এখানে আসেন পর্ণ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে।পুরুষ মডেলদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা, এমনকি ছোট বড় সব পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি এই “California” তেই  অবস্থান করছে।পৃথিবীতে যতগুলো পর্ণ ওয়েবসাইট আছে তার শতকরা ৮৯ ভাগের মালিক আমেরিকানরা ।

তাহলে এবার বলুনতো দাদাবাবু , আমেরিকার কি দরকার পড়ছে পর্ণমুভির ইন্ডাস্ট্রী গুলো বন্ধ করে দেওয়া ?  অল্প পুঁজিতে পর্ণমুভি বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতানো বাদ দিয়ে  সে কেন  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রী বন্ধ করবে ? সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে  বোকা ছাড়া আর কে  জবাই করতে চায়, বলুন?

তাইলে,  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রীতে ড্রাগসের ব্যবহার, নারী নির্যাতন  …… … আরো কি কি জানি ?

আমেরিকার মত উদার গনতান্ত্রিক দেশ , নারী স্বাধীণতায় বিশ্বাসী দেশ এগুলো মেনে নিবে ?

আরে ভাই সহজ ব্যাপারটা বোঝেন না কেন ,  টাকার  আর তেলের গন্ধ পেলে পশ্চিমা দেশগুলোর হুশ থাকেনা ।   আর নারী  নির্যাতন ? তাদের ভাষায় তো  শুধু  মুসলিমরাই নারী  নির্যাতন  করে- তারা নারীদেরকে পর্দার আড়ালে আবদ্ধ করে রাখে , তাদেরকে ঘরে বন্দী  করে রাখে , সম্পত্তিতে সমানধিকার দেয় না ব্লা ব্লা ব্লা ……… ।

 

বোঝা গেছে  আমেরিকা কি চীজ ?

#হিপোক্রিট

“ও” যখন পর্ন আসক্ত  (তৃতীয় পর্ব)

“ও” যখন পর্ন আসক্ত (তৃতীয় পর্ব)

যেভাবে বুঝবেন আপনার সঙ্গী পর্ন-আসক্ত :

১) আপনার স্বামী ধীরে ধীরে অসামাজিক হয়ে পড়বেন। পারিবারিক এবং সামাজিক বিভিন্ন গেট টুগেদার তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে চলবেন। আপনাকেও তিনি আর আগের মতো সময় দেবেন না। আপনাকে নিয়ে ঘুরতে বের হবেন না। আপনার মান-অভিমান, সুখ-দুঃখের প্রতি তার তেমন কোনো নজর থাকবে না।

২) আপনার স্বামীর ইন্টারনেট আসক্তি মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যাবে। দিনরাত অনলাইনে পড়ে থাকবেন। কর্মক্ষেত্র থেকে বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে তিনি ল্যাপটপ বা মোবাইল নিয়ে বসবেন। আপনার সাথে বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের সাথে স্থির হয়ে দুদণ্ড বসে কথা বলার সময়টুকুও তার হবে না।

৩) তার ঘুমের প্যাটার্ন বদলে যাবে। রাতভর অনলাইনে থাকার কারণে সকালে বেশ দেরি করে ঘুম থেকে উঠবেন। কখনো কখনো এমনো হবে যে, সারা রাত তিনি বিছানায় পিঠ ঠেকাবেন না, “অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত” এসব বলে রাতভর অনলাইনে পড়ে থাকবেন।

৪) ব্রাউযারের সার্চ হিস্টোরি ডিলিট করে দেবেন।

৫) রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় আপনি সাথে থাকলেও, আপনার উপস্থিতি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তিনি অন্য মেয়েদের শরীর চোখ দিয়ে গিলে খেতে চাইবেন।

৬) আইটেম সং, মিউযিক ভিডিওর প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আকর্ষণ জন্মাবে। আপনার সামনেই চরম অশ্লীল আইটেম সং দেখতেও দ্বিধাবোধ করবেন না।

৭) আপনার স্বামী সম্পূর্ণ এক নতুন দৃষ্টিতে আপনাকে দেখতে শুরু করবেন। আপনার পোশাক-আশাক কেমন হওয়া উচিত, আপনার ফিগার কেমন হলে ভালো হয়, সে সম্পর্কে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেকচার ঝাড়তে থাকবেন। আপনি অবাক হয়ে আবিষ্কার করবেন, যে মানুষটার কাছে আপনি ছিলেন দুর্দান্ত রূপসী, অমরাবতীর রাজকন্যা, যে মানুষটা আপনার সবকিছুই পছন্দ করত, আপনাকে নিশিদিন পাগলের মতো ভালোবাসত, সে মানুষটি আজ আপনার চেহারার খুঁত ধরছেন, উঠতে-বসতে আপনার কাজের ভুল ধরছেন, আপনার সাথে রূঢ় আচরণ করছেন!

৮) আপনার স্বামী অন্তরঙ্গতার সময় জানোয়ারের মতো হয়ে যাবেন। অ্যানাল সেক্সের মতো হারাম বা ওরাল সেক্সের মতো জঘন্য কাজে আপনাকে বাধ্য করবেন বা করতে চাইবেন। আপনি রাজি না হলে আপনাকে বকাঝকা করবেন বা মারধর করবেন। অনেক সময় এ কাজগুলো করতে আপনাকে বাধ্য করবেন এবং আপনার অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে করবেন। অন্তরঙ্গতার সময় আপনার তৃপ্তি-অতৃপ্তির দিকে কোনো খেয়াল রাখবেন না, নিজের তৃপ্তিই তার কাছে শেষ কথা হয়ে দাঁড়াবে।

একজন পর্ন-আসক্ত ব্যক্তির স্ত্রী তার স্বামীর সাথে অন্তরঙ্গতার বর্ণনা দিয়েছিলেন এভাবে :

“…ওর কাছে আমি রক্ত-মাংসের একজন মানুষ ছিলাম না, ছিলাম একটা ভোগ্য পণ্য। বিছানায় ও আমার সাথে ঠিকমতো প্রেম করত না, যেন বিছানায় শুধু ওর শরীরটাই উপস্থিত, মন থাকত অন্য কোথাও—হয়তো-বা ওর মন পড়ে থাকত সেই পর্ন অভিনেত্রীদের কাছে—যাদের কথা চিন্তা করে সে উত্তেজিত হতো আর তারপর আমার শরীরের ওপরে ঝাল মেটাত…”

৯) বিছানার অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করে রাখতে চাইবেন।

১০) পর্ন-আসক্তির একপর্যায়ে আপনার স্বামী আপনার সঙ্গে অন্তরঙ্গতায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। আপনার সঙ্গে একই বিছানা ভাগাভাগি করার চেয়ে তিনি অন্য বিছানায় বা অন্য ঘরে ঘুমুতে আগ্রহী হবেন। অন্তরঙ্গতার বিশেষ পর্যায়ে তার উত্তেজিত হতে সমস্যা হবে।

১১) আপনার স্বামী তার প্রাইভেসি নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে। তার সঙ্গে কথা বললেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার স্বামী কী যেন লুকোচ্ছে আপনার কাছ থেকে। নিছক কৌতূহলবশত, “রাত জেগে অনলাইনে কী করো”, “কী লুকোচ্ছো আমার কাছ থেকে”, এ ধরনের প্রশ্নও আপনার স্বামীকে মারাত্মক ক্ষেপিয়ে দেবে। তিনি আপনাকে কটু কথা বলবেন, ঝগড়াঝাঁটি করবেন।

অগণিত পর্ন-আসক্তদের ওপর গবেষণা করে বিশেষজ্ঞরা এ লক্ষণগুলো চিহ্নিত করেছেন। ওপরের কিছু কিছু লক্ষণ অবশ্য পরকীয়া করেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও থাকতে পারে। তবে ৫,৬,৮,৯,১০ নম্বর লক্ষণগুলো থাকলে নিশ্চিতভাবেই বলতে পারবেন যে, আপনার স্বামী পর্ন-আসক্ত।[1], [2], [3]

[1] Does My Spouse Have a Pornography Problem? – https://goo.gl/KikzUJ

[2] 8 Signs Your Partner Is Addicted To Porn – https://goo.gl/UqmhPf

[3] 10 Signs of Porn Addiction: Do these describe your husband? – https://goo.gl/uLEjBi

শান্তি পাব কোথায় গিয়ে ?

শান্তি পাব কোথায় গিয়ে ?

বিসমিল্লাহির  রহমানীর রহীম

আর  ত্রিশ মিনিট পরে আপনার ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেক্ট্রনিক্স -২ পরীক্ষা । আপনি ওপ-এম্প এর সার্কিট  ঠিকমতো সলভ করতে পারেননা , টাইমারের সার্কিট দেখলে মনে হয় কাগজে অর্থহীন কিছু আকাআঁকি । তারওপর  কোর্স টিচার মারাত্মক রকমের হাড় কিপটা । নাম্বার দিতেই চান  না , আর সেই সাথে তাঁর  অতীত সুনাম আছে  প্রশ্নপত্র কঠিন করে স্টুডেন্টদের সাথে “মজা” নেওয়ার ।  নিরুপায় হয়ে  পরীক্ষায় আসতে পারে এমন  কিছু প্রশ্নের উত্তর পিডিএফ বানিয়ে আপনি মোবাইলে নিয়ে নিলেন ।    কিন্তু পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে যাওয়া নিষেধ  । কোন স্টুডেন্টের কাছে মোবাইল পেলেই তৎক্ষণাৎ সেই স্টুডেন্টকে পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয় । সেই সাথে একবছর ড্রপ  । তো এরকম একটা ভয়াবহ পরিস্থতিতে,  আপনি পকেট থেকে আলতো করে মোবাইল বের করে টুকলিবাজি শুরু করেছেন পরীক্ষার হলে ।  স্বাভাবিকভাবেই আপনি প্রচণ্ড অস্থিরতায় ভুগছেন  ।  ফ্যানের নীচে থেকেও আপনার কপালে   বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে  গেছে  । হার্টবিট বেড়ে গেছে  ।  আপনি  সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে  আছেন এই বুঝি স্যারের হাতে ধরা খেয়ে গেলেন ।

আপনার অন্তর বড় অশান্ত , বড় অস্থির ।

সুবহানআল্লাহ, একটু চিন্তা করে,  দেখুন দুনিয়ার সামান্য মানুষের বানানো আইন ভাঙ্গার কারণে , খুব ছোট একটা অপরাধ করার কারণেই আপনার মনের শান্তি কর্পূরের মতো উবে গেছে । তাহলে আকাশ ও জমীনের সৃষ্টিকর্তা , যিনি একেবারে শূন্য থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন সেই মহিমান্বিত আল্লাহর (সুবঃ) আইন প্রতিনিয়ত ভেঙ্গে , প্রতিনিয়ত আল্লাহর সঙ্গে বিদ্রোহ করে আপনি কী করে অন্তরে শান্তি পাবেন?  বলুন, কীভাবে শান্তি পাবেন ?

আল্লাহ (সুবঃ) আপনাকে বলেছিলেন  দৃষ্টি সংযত করতে , চোখের হেফাজত করতে ।

“……মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।”

(সূরা নূর : ৩০)

আপনি প্রতিনিয়ত  তাঁর সেই আদেশকে বুড়ো আঙ্গুল  দেখাচ্ছেন । রাস্তায় মেয়েদেরকে চোখ দিয়ে  গিলে খাচ্ছেন ,  বন্ধুদের সঙ্গে মেয়েদের ফিগার নিয়ে থিসিস করছেন ,  গভীর রাতে আপনার  মোবাইলের স্ক্রিন নীল হয়ে  যায়, সার্ফিং করে বেড়ান এক্সরেটেড সব ওয়েবসাইটে, পর্নস্টার আর আইটেম গার্লরা আপনার  ড্রিম গার্ল, স্বপ্নের রাজকন্যা  । আপনি কিভাবে শান্তি পাবেন ?

বন্ধু , আড্ডা , গান , জিএফ, বিএফ ,  সিরিয়াল ,ফেসবুকিং, সেলফি , ডিএসএলআর, কেএফসি,  পিৎজাহাট  এগুলো নিয়েই আপনার কেটে যাচ্ছে অষ্টপ্রহর । ভাবছেন ,সুখেই আছি । বুকে হাত রেখে একবার সত্যি করে  বলুন তো, আপনি কী আসলেই শান্তিতে  আছেন, সুখে আছেন   ?

কেন এক বিকেল বেলা ঘুম থেকে উঠে শেষ বিকেলের আলোয়  অজানা কারণে আপনার মন খারাপ হয়ে যায়? গভীর রাতে কি  যেন ভেবে  আপনার চোখ ভিজে যায় জলে । দলা বাধা কষ্টগুলে ভিড় জমায় বুকের ভেতর ।   অন্তরটা খাঁ খাঁ করে  ।  কি যেন নেয় আপনার ।  কোথায় যেন একটা  অপরিপূর্ণতা । কোথায় যেন কিসের একটা অভাব ।   জীবনটা  বড্ড বেশী জটিল মনে হয়  ।

আইটেম গার্লদের কোমর দোলানি আর দেহের ভাঁজ দেখে আপনার  মন কি অস্থির , অশান্ত হয়ে যায় না ? মনের ভেতরের পশুটা কি আপনাকে কুঁরে কুঁরে  খায় না? প্রত্যেক বার পর্ন মুভি দেখার  পর , মাস্টারবেট করার পর  আপনার কি মরে  যেতে ইচ্ছে করে না ? মনে হয়না কেন করলাম , কেন করলাম , কেন কেন …… ?

 

কিসের নেশায় ডুবে আছেন ভাই আপনি ? কিসের নেশায় ?

পর্নস্টারের নিটোল দেহ ,  জিএফের ‘মনে ঝড় তোলা চোখ, আইটেম গার্লদের লাস্যময়ী হাসি ? আপনি এদেরকে কি একেবারে নিজের মতো করে কখনো পাবেন ? পাবেন না । এরা তো ইলিউশান ছাড়া কিছুই না । এরা একদিন বুড়িয়ে যাবে । দেহে অনেক ভাঁজ পড়বে , চামড়া কুচকিয়ে যাবে, দাঁত পড়ে যাবে , চোখ ধূসর হয়ে যাবে , চুল পাটের শনের মতো হয়ে যাবে । সবশেষে মাটির নীচে পোকা মাকড়ে খুবলে খুবলে খাবে এদের দেহ , গলে পচে দুর্গন্ধ ছড়াবে ।

এতেই আপনার এত আকর্ষণ! এদের কারণেই আপনি সেই জাহান্নামের আগুণকে তুড়িমেরে উড়িয়ে দিচ্ছেন , যা অন্তর পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলবে আর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর ।

আপনি ভুলে যাচ্ছেন আপনার সেই “আয়তনয়না” জান্নাতি স্ত্রীর কথা যিনি আপনার জন্য লক্ষ কোটি বছর ধরে অপেক্ষা করে আছেন । যাঁর মাথার স্কার্ফ এই দুনিয়া এবং আকাশের মধ্যবর্তী সবকিছুর থেকেও উত্তম । প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ জান্নাতের স্ত্রীদের সৌন্দর্যের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ (সুবঃ) সার্টিফিকেট দিয়েছেন ।

জান্নাতেও ঝুম বৃষ্টি হবে , আপনার জান্নাতি স্ত্রীকে নিয়ে রিকশায় বসে আপনি লক্ষ কোটি বছর ধরে বৃষ্টি বিলাস করতে পারবেন , হা করে জ্যোৎস্না গিলতে পারবেন , শেষ বিকেলের মরে আসা নরম হলুদ আলোয়  দুজন দুজনার চোখের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দিতে পারবেন হাজার হাজার বছর ।

দুজনে ঘুরে বেড়াবেন জান্নাতের বাগানে । মাথার উপর থেকে ঝরে পড়বে গাছের ঝরা পাতা । আপনাদের শরীরে আলতো পরশ বুলিয়ে দিয়ে যাবে । আপনার স্ত্রী আপনার কাঁধে মাথা রেখে হাঁটবে , আপনি তাঁকে শোনাবেন জান্নাতের কোন প্রেমের গান , পশু পাখি অবাক হয়ে শুনবে আপনার গান । এত সুন্দর গান কে গায় তা দেখার জন্য চাঁদটাও হয়তো উঁকি দিবে আকাশে ।

আমি আপনি কত পাগল , কত পাগল !!!

……”নারী জাতির প্রতি ভালোবাসা , সন্তান সন্ততি , কাঁড়ি কাঁড়ি সোনা রুপা , পছন্দসই ঘোড়া , গৃহপালিত জন্তু ও জমীনের ফসল মানব সন্তানের জন্য লোভনীয় করে রাখা হয়েছে । অথচ এ সবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের কিছু ভোগের সামগ্রী মাত্র । উৎকৃষ্ট আশ্রয় তো একমাত্র আল্লাহ্‌র কাছেই রয়েছে ।

(সুরা আলে ইমরান , আয়াত -১৪)

পর্নমুভির ফ্যান্টাসি , আইটেম গার্লদের গ্ল্যামারে কোন শান্তি নেই ।  এগুলো আপনার অন্তরকে   ক্ষত বিক্ষত করে তোলে  ।  শান্তি নেই ঝুম বৃষ্টিতে ‘জিএফের” সঙ্গে একি  রিকশাতে পাশাপাশি বসে কাকভেজা হয়ে ভিজাতে, চাঁদনী  পসর রাতে হা করে জ্যোৎস্না গিলাতে । এগুলো আপনাকে ক্ষনিকের আনন্দ দিতে পারে কিন্তু শান্তি দিতে পারে না ।

 

শান্তি আছে , আল্লাহর আদেশ মেনে দৃষ্টি হেফাজত করার মধ্যে । শান্তি আছে আপনার রবকে সিজদাহ করার মধ্যে  , রবের সামনে রাতে  একাকী দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলাতে । নিজের নফসের অবাধ্যতা করে রবের দাসত্ব করাতে ।  ভাই এই  শান্তি   অমূল্য । দুনিয়ার কোন  কিছুর বিনিময়ে এই শান্তি পাওয়া যায় না।  একবার এই শান্তি  পেলে আপনি বারবার চাইবেন এই শান্তি পেতে ।   একবার চেষ্টা করেই দেখুন না । একটা সপ্তাহ আল্লাহ্‌র নফরমানী না করে চোখের হেফাজত করে দেখুন না ফলাফল কি হয় ।  শান্তি না পেলে ভাল না লাগলে আবার আগের লাইফ  স্টাইলে ফিরে গেলেন । একবার তো  চেষ্টা  করে দেখবেন ।

 

“  ………অবশ্যই আল্লাহর স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত হয়।” (আল কুর‘আনঃ সূরা ১৩, আয়াত ২৮).

‘ফাঁদ’ (তৃতীয় পর্ব)

ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে হলের বারান্দায় আসতেই দিলটা “খুশ” হয়ে গেল নিলয়ের। চমৎকার ঝকঝকে রোদ ধুয়ে দিচ্ছে চারপাশটাকে। আকাশটা ভীষণ নীল। মনে হচ্ছে কেউ যেন নীল রং ঢেলে দিয়েছে সমস্ত আকাশজুড়ে। কী অসহ্য সুন্দর!

জোড়া শালিক হলুদ হলুদ পা ফেলে ঘাসের মধ্যে পোকা ধরছে। ঘাসগুলো যেন সবুজ গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। মৃদু বাতাসে তির তির করে কাঁপছে সাদা ঘাসফুলগুলো। নারিকেল, আম, জাম আর কাঁঠালের বনে দীর্ঘশ্বাসের মতো একটা বাতাস উঠল হুট করে। আমের শাখাগুলো দুলছে, হাতছানি দিয়ে ডাকছে যেন নিলয়কে; আয় নিলয়, আয়…

নাস্তা করে এসে কী করবে ঠিক বুঝতে পারল না নিলয়। ছুটির দিন আজকে। ক্লাস কিংবা ল্যাবের কোনো ঝামেলা নেই। আরেকবার সেঁটে ঘুম দেবে কি না ভাবছে, এমন সময় মনে হলো “ধুর! ঘুম দিয়ে লাভ নেই। তারচেয়ে একটা মুভি দেখি। কী জানি একটা নতুন বাংলা মুভি এসেছে শোভন বলছিল… উমম… মনে পড়ছে… ওটাই দেখি।”

ইউটিউবে গিয়ে মুভি দেখা শুরু করল নিলয়। গতানুগতিক কাহিনি। একটু পরেই একটা গান শুরু হয়ে গেল। আইটেম সং। নিলয় ভদ্র ছেলে। শুক্রবার ছাড়াও মাঝে মাঝে মসজিদে যায়। আইটেম সংয়ের কাণ্ডকারখানা দেখে লজ্জা পেয়ে গেল। স্কিপ করে গেল পুরোটা। একটু পর শুরু হলো আরেকটা গান। আইটেম সং না হলেও যথেষ্টই অশ্লীল। এবার কিছুক্ষণ, কিছুক্ষণ না পুরোটাই দেখল সে। ভেতর থেকে কে যেন তাকে বলল, আরে ব্যাটা দেখ, একবার দেখলে কিছুই হয় না।

পুরোটা মুভি যখন সে দেখে শেষ করল তখন ওর অবস্থা বেশ খারাপ। কান গরম হয়ে গেছে। হার্টবিট খুব বেড়ে গেছে। জোরে জোরে নিশ্বাস পড়ছে। বাইশটা বসন্ত পার করে দেয়া তৃষ্ণার্ত শরীর জেগে উঠেছে। নিলয় ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সেই আইটেম সংটা (প্রথম বার এটা দেখেই সে লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলেছিল) বেশ কয়েকবার দেখল। তারপর একটা-দুইটা করে বেশ কয়েকটা দেখে ফেলল। ভেতর থেকে ওর ভালো মানুষের সত্তাটা বার বার নিষেধ করছিল। সেটাকে পাত্তা দিলো না সে একবারেই। উত্তেজনা বাড়তে থাকল। একসময় জঘন্য কাজটা করে ফেলল নিলয়। ঠান্ডা হবার পর হুঁশ ফিরল। গভীর অবসাদ তাকে গ্রাস করল। একটু আগেও যে সোনালি রোদ্দুরে ভরা পৃথিবীটাকে অনেক সুন্দর মনে হচ্ছিল, আল্লাহ্‌কে (সুবঃ) বার বার ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছে করছিল সে পৃথিবীটাকেই এখন ভীষণ স্যাঁতস্যাঁতে, অন্ধকারাচ্ছন্ন মনে হচ্ছে।

মরে যেতে ইচ্ছে করছে। কতবার এভাবে নিজের নফস আর শয়তানের কাছে পরাজিত হতে হবে জানে না নিলয়।

এভাবেই উদ্দেশ্য গোপন করে কালে কালে, যুগে যুগে, আদম (আঃ) আর হাওয়া (আঃ) থেকে শুরু করে তাঁদের সন্তানদের ধোঁকা দিয়ে চলেছে ইবলিস। সে কখনোই সরাসরি আপনাকে বলবে না, “যা পর্ন দেখ” বা “হস্তমৈথুন কর”। ধাপে ধাপে অত্যন্ত ধৈর্য ধরে আগাবে সে। প্রথম ধাপটা সে আপনার কাছে খুব আকর্ষণীয় করে রাখবে। সে কাজটা করার জন্য আপনার সামনে অনেক লজিক নিয়ে আসবে। আদম (আঃ) আর হাওয়াকে (আঃ) যেভাবে ধোঁকা দিয়েছিল ঠিক সেভাবেই। ঘটনাটা আমরা সবাই জানি। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আদম (আঃ) আর হাওয়াকে (আঃ) একটা গাছের ফল খেতে নিষেধ করেছিলেন। এমনকি সে গাছের কাছে যেতেও নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শয়তান তাদের সেই গাছের ফল খাইয়েই ছেড়েছিল। শয়তান প্রথমেই উনাদের বলেনি, “তোমরা এই নিষিদ্ধ গাছের ফল খাও।” শয়তান প্রথমে আদম (আঃ) আর হাওয়া (আঃ) গিয়ে বলল, “দেখো! আমি তোমাদের বন্ধু, আমি তোমাদের উপকার করতে চাই। তোমরা যদি এই গাছের ফল খাও, তাহলে তোমরা চিরযৌবন পেয়ে যাবে। চিরকাল এই জান্নাতে থাকতে পারবে।”

তাঁরা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে আল্লাহ্‌র (সুবঃ) আদেশ অমান্য করে ফল খেলেন, শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ্‌ (সুবঃ) তাঁদের চিরসুখের জান্নাত থেকে বের করে পাঠিয়ে দিলেন এই দুঃখ-কষ্টে ভরা দুনিয়াতে।

বনি ইসরাইলের বারসিসার ঘটনাটাও শয়তানের স্টেপ বাই স্টেপ ধোঁকার আরেকটি ক্ল্যাসিক উদাহরণ। অত্যন্ত ইবাদতগুজার বারসিসাকে শয়তান ধীরে ধীরে ধোঁকায় ফেলে এক তরুণীর প্রেমে মশগুল করে দেয়। তারপর তার সঙ্গে যিনা করিয়ে নেয়। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হলে ইবলিস বারসিসাকে প্ররোচনা দেয় তাকে মেরে ফেলতে। সবশেষে বারসিসাকে বাধ্য করে শয়তানের উদ্দেশে সিজদাহ করতে।

আপনাকে কাবু করার জন্য সে একই রকম ফাঁদ পাতবে। প্রথম স্টেপটা হবে আপাতদৃষ্টিতে খুবই সাধারণ, নিরীহ একটা বিষয়। রাস্তাঘাটে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকা, মাঝেমধ্যে মুভি দেখা, ইউটিউবে একটু ভিডিও দেখা, কোনো মেয়েকে ফেইসবুকে ফলো করা, প্রোফাইল পিকচারে লাইক দেয়া, মাঝেমধ্যে চ্যাট করা, বা “বোনের মতো”/ “জাস্ট ফ্রেন্ড” মেয়েবন্ধুদের সাথে একটু আড্ডা দেয়া, হ্যাং আউট করা ইত্যাদি। এ কাজগুলো করতে আপনার মন খুঁত খুঁত করলে হাজারটা যুক্তি খাড়া করবে সে আপনার সামনে; আরে একদিনই তো…, মাঝেমধ্যে বিনোদনেরও তো একটু দরকার আছে নাকি! ইসলাম কি এতই কঠোর? আমি তো শুধু চ্যাটই করছি, প্রেম তো আর করছি না…, মেয়ে দেখলে কী আর এমন হবে; আল্লাহ্‌র (সুবঃ) এত সুন্দর সৃষ্টি, মা শা আল্লাহ্‌ দেখব না কেন? আমরা ও রকম না, একসাথে বসে আড্ডা দিলেও, একই রিকশায় ঠাসাঠাসি করে বসলেও আমাদের মনে খারাপ কিছু আসে না—আমরা জাস্ট ফ্রেন্ডস… এ রকম হাজার হাজার যুক্তি।

যদি শয়তানের পাতা এই ফাঁদে একবার পা দেন, তাহলেই ফেঁসেছেন। বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে শয়তানের হাতে নাকানি-চুবানি খেয়ে নিজের জন্য জাহান্নামের গর্ত বুকিং করার। নিজের ওপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে ভাবতে পারেন, আরে ধুর! অযথায় ভয় দেখাচ্ছেন আপনি… আমাকে কখনো শয়তান নাকানি-চুবানি খাওয়াতে পারবে না, উল্টো আমিই তাকে দৌড়ানি দেবো। ওই প্রথম স্টেপই কেবল, তারপর তো আর আগাচ্ছি না। আপনার মতোই বারসিসাও ভেবেছিল যে, “ওই প্রথম স্টেপ পর্যন্তই। তারপর তো আর আগাচ্ছি না।” কিন্তু একসময় হাঁটি হাঁটি পা পা করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় সবগুলো স্টেপস পার করে শয়তানকে সিজদাহ করার মতো জঘন্য পাপ করে বসেছিল। আপনার ক্ষেত্রেও যে এমনটা হবে না, তার গ্যারান্টি কী। বারসিসা ছিল খুবই বড় একজন ইবাদাত-বন্দেগী করনেওয়ালা (আবিদ)। কিন্তু শেষমেষ তারই এমন করুণ পরিণতি হয়েছিল—আমি, আপনি কোনো ছার।[1]

তা ছাড়া, আল্লাহ্‌ (সুবঃ) নিজেকে নিজেই ফিতনাহতে ফেলতে নিষেধ করেছেন। তিনি কিন্তু বলেননি তোমরা যিনা কোরো না, তিনি বলেছেন যিনার কাছেও যেয়ো না।[2]

কাজেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে নিজেকে এই সব ফিতনাহর মধ্যে ফেলার কোনো মানেই হয় না। আত্মবিশ্বাস ভালো, তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কেবল বোকাদেরই থাকে। রংবাজি করার আরও অনেক জায়গা পাবেন, এখানে না করাই ভালো। জান্নাত-জাহান্নামের প্রশ্ন এটা। বাস্তবতাটা বোঝার চেষ্টা করুন। আপনি খুব ভালো করেই জানেন কোন কোন বিষয়গুলো আপনাকে ফিতনাহর মধ্যে ফেলে। কোন ট্রিগারগুলো একটু একটু করে আপনাকে পর্ন দেখতে, হস্তমৈথুন করতে বা আসল যিনা করে ফেলতে ধাবিত করে। সে বিষয়গুলোর তালিকা করুন। ট্রাকের পেছনে লেখা থাকে, দেখেছেন না—১০০ হাত দূরে থাকুন? সেভাবেই যিনার দিকে ধাবিত করা সেই বিষয়গুলো থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন। ধারেকাছেও ঘেঁষবেন না। শয়তানকে কোনো সুযোগই দেবেন না। কোনো যুক্তিই মানবেন না।

[1] বারসিসার কাহিনিটা পড়ে আসুন এই লিংক থেকে – http://bit.ly/2nabgeZ

[2] সূরা বনি ইসরাইল; ১৭ : ৩২

একেই বলে সভ্যতা!!! (দ্বিতীয় পর্ব)

একেই বলে সভ্যতা!!! (দ্বিতীয় পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

অসহায়, বিপর্যস্ত, দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের উপর জাতিসংঘের “শান্তিরক্ষীদের” চরম বিকৃত যৌন নির্যাতনের খবর আসছেই। ২০১৩ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে (CAR) একশোরও বেশি নারী, কিশোর-কিশোরী ও শিশু “শান্তিরক্ষীদের” দ্বারা নির্যাতিত হবার কথা ডকুমেন্টেড হয়েছে। গত ২৬ মার্চ জাতিসংঘেরই একজন মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তার সফরের সময় ভয়ঙ্কর একটি ঘটনার কথা উঠে এসেছে, যা একজন সুস্থ মানুষের জন্য পড়াটাও কষ্টকর। ফ্রেঞ্চ “শান্তিরক্ষী”-দের দ্বারা সংঘটিত এ ঘটনাটির বর্ণনা সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে আমি তার অনুবাদ তুলে ধরছি। পাঠকের কাছে মাফ চেয়ে নিচ্ছি, কোন সুস্থ মানুষের একরকম অসুস্থতার মুখোমুখি হওয়া উচিত না, বাস্তবে তো না-ই, অনলাইনেও না। কিন্তু মানবতা আর শান্তির পতাকাধারীরা গালভরা বুলির আড়ালে, শান্তির ধোঁয়া তুলে আসলে কি করছে তা তুলে ধরা দরকার মনে করছি। এই হল এদের সভ্যতা আর মানবতার রূপ, এই হল শান্তিরক্ষী বাহিনীর আনা শান্তির নমুনা-
“তিনজন মেয়ে জানিয়েছেন, চতুর্থ আরেকজন ভিকটিম সহ তাদের চারজনকে সাঙ্গারিস বাহিনীর ক্যাম্পে বন্দী করা হয়। সাঙ্গারিস বাহিনীর মিলিটারি কম্যান্ডার তাদেরকে ক্যাম্পের ভেতর বেঁধে ফেলেন এবং বিবস্ত্র করেন। তারপর তাদেরকে বাধ্য করেন একটি কুকুরের সাথে সঙ্গম করতে। ঘটনার পর প্রতিজনকে ৫০০০ ফ্র্যাঙ্ক [স্থানীয় মুদ্রা – প্রায় ৭০০ টাকা] দেওয়া হয়। ভিকটিমদের একজন ঘটনার কিছুদিন পর অজানা রোগে মৃত্যুবরণ করেন। আরেকজন ভিকটিম জানান এই ঘটনার পর থেকে তাকে “সাঙ্গারিস কুত্তি” বলে ডাকা হয়। সাঙ্গারিস হলো মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত ফ্রেঞ্চ সামরিক বাহিনীর নাম।”

সূত্রঃ http://tinyurl.com/zfoeug8

যদি কেউ মনে করেন জাতিসংঘ শান্তিবাহিনীর দ্বারা নির্যাতনে এবং পাশবিকতার এটাই প্রথম ঘটনা, তবে ভুল করবেন। বিপর্যস্ত, অসহায় মানুষ, যাদের “সাহায্য” করার অজুহাতে জাতিসংঘ বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্যবাদী-ক্রুসেইডার সেনাবাহিনি প্রেরণ করে, তাদেরকে নির্যাতন করা জাতিসংঘের জন্য নতুন কিছু না। প্রায় দুই দশক ধরে তারা এরকম করে আসছে, এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। কিন্তু বার বার, ধারাবাহিক ও নিয়মিতভাবে এ ঘটনাগুলো ঘটার পরেও জাতিসংঘ তেমন কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করে নি বরং পাশবিকতার মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। “রক্ষকই যখন ভক্ষক” – এ কথাটা “শান্তি ও মানবতার” ধারক-বাহক জাতিসংঘের সাথে যেভাবে খাপে খাপে মিলে যায়, বর্তমান বিশ্বে আর কারো সাথে মনে হয় না অতোটা মেলে। নিচে গত বিষ বছরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের নারী-শিশুদের উপর চালানো যৌন নির্যাতনের সংক্ষিপ্ত টাইম লাইন দেওয়া হলঃ

অগাস্ট ১৯৯৬ – মো্যাম্বিকের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং জাতিসংঘর মহাসচিবের কার্যালয়ের অধীনস্ত বিষেশজ্ঞ গ্রাসা মিশেল জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে একটি রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। “শান্তিরক্ষী” বাহিনীর দ্বারা ছেলে ও মেয়ে শিশুদের উপর চালানো যৌন নির্যাতনের বিষয়টি প্রথমবারের মতো এই রিপোর্টে উঠে আসে।

১৯৯৯ – বসনিয়াতে জাতিসংঘের “আন্তর্জাতিক পুলিশ বাহিনীর” কার্যক্রম পর্যবেক্ষনের দায়িত্ব থাকা ক্যাথেরিন বলকোভ্যাচ, বসনিয়াতে এই বাহিনী আসলে কি করছিল তা প্রকাশ করে দেন। জাতিসংঘের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত পতিতা গমনে অভ্যস্ত ছিল। তার চেয়েও ভয়ঙ্কর তথ্য হল, যুদ্ধ বিধ্বস্ত বসনিয়ার মেয়ে ও কিশোরীদের পূর্ব ইউরোপে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি ও পাচারের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল জাতিসঙ্ঘের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তাদের কারো কোন শাস্তি হয় নি। ক্যাথেরিনকে বরখাস্ত করা হয়।

ফেব্রুয়ারী ২০০২ – খোদ জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা UNHCR এবং Save The Children এর উপদেষ্টাদের তৈরি একটি রিপোর্টের মাধ্যমেই গিনি, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন এবং সার্বিকভাবে পশ্চিম আফ্রিকায় জাতিসংঘের “শান্তিরক্ষীদের” দ্বারা উদ্বাস্তু নারী ও শিশুদের যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। রিপোর্ট থেকে জানা যায় UNHCR এর অধীনে থাকা ক্যাম্প গুলোতেই সর্বাধিক যৌন নির্যাতন ও জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তির ঘটনা ঘটে।

অক্টোবর ২০০২ – পশ্চিম আফ্রিকাতে উদ্বাস্তু নারী ও শিশুদের উপর জাতিসংঘের “মানবাধিকার” কর্মী, “ত্রানকর্মী” এবং “শান্তিরক্ষীদের” দ্বারা সংঘটিত যৌন নির্যাতনের ব্যাপারে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তত্ত্বাবধান পরিষদ (OIOS) একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে।

অক্টোবর ২০০৩ – এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ বাধ্য হয় নারী- ও শিশুদের যৌন নির্যাতন করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষ ভাবে তাদের “শান্তিরক্ষীদের” আহবান জানাতে।

ফেব্রুয়ারী ২০০৪ – কঙ্গোতে উদ্বাস্তু নারী ও শিশুদের উপর চালানো “শান্তিরক্ষীদের” পাশবিকতার অফিশিয়াল তদন্ত শুরু। সমস্ত কঙ্গো জুড়েই, এবং উত্তর-পশ্চিম কঙ্গোর বুনিয়া শহরে বিশেষভাবে, জাতিসংঘের ক্যাম্পের ভেতরে নারী ও শিশুদের ধর্ষন ও জোর পূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। সামরিক এবং সিভিলিয়ান, জাতিসংঘের উভয় ধরনের কর্মী এবং অফিসাররা এ অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল।

মার্চ ২০০৫ – জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের যৌন নির্যাতন সম্পর্কে প্রথম বিশ্লেষনর্মী রিপোর্ট “যাইদ রিপোর্ট” – এর প্রকাশ। জাতিসংঘের বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অসহায়দের উপর যৌন নির্যাতনের এই ধারার ব্যাপক প্রচলন এবং জাতিসংঘের ভেতরে একে “সাধারণ ঘটনা” হিসেবে মেনে নেওয়ার মনোভাবের কথা উঠে আসে।

২০০৬ – বিবিসির অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে আসে কিভাবে হাইতি এবং লাইবেরিয়াতে “শান্তিরক্ষীরা” শিশুদের নিয়মিত ধর্ষন ও জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে। ছোট মেয়েরা বিবিসির সাংবাদিকদের জানায় কিভাবে খাবার ও টাকার জন্য শান্তিরক্ষীরা নিয়মিত তাদেরকে যৌনকর্মে বাঁধ্য করতো।

জানুয়ারী ২০০৭ – ২০০৫ সালে দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষীদের দ্বারা শিশু ও কিশোরীদের সিস্টেমেটিক ধর্ষন ও যৌন নির্যাতনের খবর প্রায় দুই বছর পর মিডিয়াতে প্রকাশ পায়। ১২ বছরের মেয়েরাও শান্তিরক্ষীদের লালসার শিকার হয়।

২০০৮ – জাতিসংঘের ত্রানকর্মী ও শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে আইভরি কোস্ট, দক্ষিণ সুদান এবং হাইতিতে শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। জাতিন্সঘের শান্তি ও মানবাধিকারের ধারক-বাহকদের দ্বারা ধর্ষিত হয় ৬ বছরে শিশুও। শুধুমাত্র Save The Children অভিযোগ প্রমাণিত হবার প্রেক্ষিতে তিনজন কর্মীকে বরখাস্ত করে দায় সারে।

সেপ্টেম্বর ২০১৩ – দক্ষিণ মালীতে শান্তিরক্ষীদের দ্বারা গণধর্ষন। কোন বিচার নেই।

নভেম্বর ২০১৩ – একদল স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দলের অধীনে করা রিপোর্ট জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়া হয়। নিজেদের সদস্যদের দ্বারা দক্ষিণ সুদান ও লাইবেরিয়াতে ব্যাপকভাবে সঙ্ঘটিত ধর্ষন ও নারী ও শিশুদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার ঘটনার বিচারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের উদাসীনতা নিয়ে এই রিপোর্টে কড়া ভাষায় সমালোচনা করা হয়। ২০১৫ পর্যন্ত এ রিপোর্ট ধামাচাঁপা দিয়ে রাখা হয়। ২০১৫ সালে “এইডস মুক্ত পৃথিবী” (AIDS Free World) নামে একটি আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ স্বউদ্যেগে মিডিয়ার কাছে গোপনে এই রিপোর্ট পৌছে দেওয়ার পর, রিপোর্টটি আলোর মুখ দেখে।

এপ্রিল ২০১৫ – জাতিসংঘের অভ্যন্তরীন একটি রিপোর্ট AIDS Free World গোপনে সংগ্রহ করার পর মীডিয়াতে প্রকাশ করে। রিপোর্টে থেকে জানা যায় মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুই-এ “শান্তিরক্ষীরা” খাবার এবং টাকার জন্য ৮ থেকে ১৫ বছর বয়েসী দশ থেকে বারো জন ছেলেকে নিয়মিত ধর্ষন করে। ধর্ষন সংঘটিত হয় অভ্যন্তরীণ উদ্ভাস্তুদের জন্য তৈরি জাতিসংঘের নিজস্ব সেন্টারের ভেতরে।

মে ২০১৫ – জাতিসংঘের বিরুদ্ধে তাদের সদস্য কতৃক নারী-শিশু ধর্ষন ও নির্যাতনের তথ্য গোপন করা এবং অপরাধীদের বাঁচিয়ে দেওয়ার অভিযোগ।

জানুয়ারী ২০১৫ – মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে “শান্তিরক্ষীদের” দ্বারা মেয়েদের ধর্শনের আরও প্রমাণ।

মার্চ ২০১৬ – জাতিসংঘের একটি প্রকাশিত রিপোর্ট অনুয়ায়ী ২০১৫ সালে দশটি জাতিসংঘ মিশনে মোট ৬৯ টি ধর্ষনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

সূত্রঃ http://tinyurl.com/z3bwr8q

এই হল জাতিসংঘের মানবতা আর সভ্যতার নমুনা। এভাবেই তারা শান্তি প্রতিষ্ঠা করে আসছে। সবচেয়ে গরীব, সবচেয়ে অসহায়, সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্থ মানুষদের এভাবে তারা “সাহায্য” করছে। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে চালু করা এনজিও আর অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলো, সুশীলদের মুখ দিয়ে এই জাতিসংঘের আদর্শই আমাদের শেখাতে চাচ্ছেন, আমাদের স্কুলের পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে এই জাতিসংঘের আদর্শ আমাদের শিশুদের মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। প্রথম আলো-ডেইলি স্টার-একাত্তরের মতো মিডিয়াগুলো জাতিসংঘের সিলেবাস অনুযায়ী আমাদের নারী অধিকার, শিশু অধিকার আর শান্তি-সভ্যতা সংজ্ঞা শেখাতে চাচ্ছে। আমাদের সামনে এসব ধর্ষক-নির্যাতক, পিশাচকে হিরো হিসেবে উপস্থাপন করছে, তাদের নৈতিকতাকে (!) উৎকৃষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করছে আর আমাদের বোঝাচ্ছে ইসলাম কতো মধ্যযুগীয়, কতো বর্বর, কতো পাশবিক! আর তাই তো নাসির বাচ্চু-খুশি কবীররা এদেশে সমকামীতার লাইসেন্স চায়, ৭১ বিকৃতাচারের পক্ষে নাটক বানায়, শাহবাগীরা পহেলে বৈশাখে “সমকামী প্যারেড” করেন।

তাই পরের বার যখন শারীয়াহ নিয়ে এসব মিডিয়া কিংবা সুলতানা কামালদের “আসক”-এর মতো সংস্থাগুলোর কথা চোখে পরবে, যখন এরা তনু ধর্ষন নিয়ে তোলপাড় করবে কিন্তু কৃষ্ণকলির স্বামীর মুখের আঁচড়ের দাগ, গৃহ পরিচারিকার মৃত্যু, ময়না তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করবে – তখন মাথায় রাখবেন ঠিক কোন মানবতার সংজ্ঞা, কোন ধরণের স্বাধীনতা, কোন ধরনের সভ্যতা, কোন ধরনের শান্তি, কোন ধরনের ইনসাফের নমুনা তাদের ফিরিঙ্গি আন্তর্জাতিক প্রভুরা উপস্থাপন করেছেন, আর তারা অনুসরণ করছে। হয়তোবা অসহায় মানুষকে কুকুরের সাথে সঙ্গমে বাধ্য করাটাই তাদের কাছে সভ্যতা ও স্বাধীনতা, হয়তো বা পশুকাম, শিশুকাম, ধর্ষন আর পতিবৃত্তির অধিকারই তাদের কাছে মানবাধিকার, হয়তো তাদের এই বিশ্বব্যবস্থায় এটাই নৈতিকতা, এটাই এ বিশ্বব্যবস্থার ধর্ম – কিন্তু নিশ্চয় সৃষ্টিকর্তার নাযিলকৃত শারীয়াহর মাপকাঁঠিতে এরা জঘন্য অপরাধী। আর নিঃসন্দেহে এই জঘন্য অপরাধ ততোদিন বন্ধ হবে না, যতোদিন আল্লাহর আইন দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে,। ততোদিন এসব অপরাধীর বিচার হবে না, যতোদিন আল্লাহ্‌র শারীয়াহর অধীনে এসব জন্তুর বিচার করা হচ্ছে।

“আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে ফাসাদ সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো শান্তির পথ অবলম্বন করেছি।“ [আল-বাক্বারাহ, ১১]

Collected From
Brother
Asif Adnan

পড়ুন প্রথম পর্ব – http://lostmodesty.blogspot.com/2016/08/blog-post_34.html