আমার স্ত্রীও আমাকে ছেড়ে চলে যায়…

আমার স্ত্রীও আমাকে ছেড়ে চলে যায়…

আমার বয়স যখন ১২, তখন থেকেই আমার পর্ন দেখা শুরু। পরিচয়টা করিয়ে দেয় আমার সৎ মা। ১২ বছর বয়সে সে-ই আমাকে প্রথম পর্ন দেখায়। তখন থেকেই আমি তার রুম থেকে চুরি করে এনে একাকী পর্ন দেখতাম।
.
পাঁচ বছরে মাথায় পর্নের জন্য আমি মোটামুটি পাগল হয়ে যাই। একজন মুভি-সেলার ছিলো, যে নতুন কোনো পর্ন আসলেই সেটা বাজারে ছেড়ে দিতো। আমি তার কাছে আমার নাম রেজিস্ট্রেশন করলাম। এমন দিনও কেটেছে, যখন আমি একসাথে ১২ টা ডিভিডি কিনেছি এবং সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটানা পর্ন দেখেছি।
.
আস্তে আস্তে শুরু করি হস্তমৈথুন। ততদিনে এক পতিতার কাছে খুলে যায় আমার বাইরের মুখোশ। আমি ঘনিষ্ঠ হই তার সাথে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! আমার STD ধরা পড়ে। [https://wb.md/3pwpcPf] দীর্ঘসময় আমাকে আইসোলেশনে থাকতে হয়েছে। নিজের গুপ্তাঙ্গ হারাতে হারাতে বেঁচে গেলাম আমি।
.
সুস্থ হওয়ার পরপরই আমি আবার পর্ন দেখা শুরু করি। এর ফলে আস্তে আস্তে কিছু জিনিসের সম্মুখীন হলাম। সেগুলো আপনাদের বলছি –
.
== ২৬-২৮ বছরের মধ্যেই আমি মানসিকভাবে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যাই। একটা অবুঝ শিশুতে পরিণত হই আমি। সাধারন নিয়ম-কানুন, অনুশাসনও আমার মাথায় ধরতোনা।
.
== ৩০ বছর বয়সে আমি বিয়ে করি। এমনকি বিয়ের পরেও আমি আমার স্ত্রীর সাথে পর্ন দেখেছি,, হস্তমৈথুন করেছি। ধীরে ধীরে আমার পুরুষত্ব হারিয়ে ফেলতে শুরু করি। এরপর দ্রুত বীর্যপাত।
.
ততদিনে ঈমানের নূর আমি হারিয়ে বসেছি। অন্তরে আল্লাহর ভয়ের ছিটেফোটাও ছিলোনা। আমি নামাজ পড়তাম না। অপরাধ আর জুলুমের কাছে নিজেকে খুব বেশীই সঁপে দিয়েছিলাম আমি। গুনাহগুলো সব স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আমিও আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলি সব।
.
== আমার স্ত্রীও আমাকে ছেড়ে চলে যায়। তার মতে, আমি মানসিক ভারসাম্যহীন। তার কথায় অবশ্য যুক্তি আছে, কারণ মাঝেমাঝেই আমার হ্যালুসিনেশন হতো [https://bit.ly/36xzGX0]। মানসিক রোগের একটি লক্ষণ এটি।
.
== বারবার তাওবাহ করেছি আমি। কিন্তু প্রত্যেকবারই একমাস বা তার কিছুদিন পরেই আমি আবার ফিরে যেতাম আগের দুনিয়ায়।
.
সিগারেট কিংবা ড্রাগস ছাড়া আমার জন্য এতটা কষ্টকর ছিলোনা। কিন্তু পর্ন ছাড়া আমার জন্য রীতিমতো অসম্ভব ছিলো।
.
আমি দুয়া করি, আল্লাহ আমাকে এবং আমার মতো আসক্তদেরকে এই কলুষতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার তাওফিক দান করুক, এবং এই নোংরামি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য মজবুত ঈমান দান করুক।
.
== আমার দৃষ্টিশক্তির অবনতি হতে শুরু করল। ২২ বছর বয়সেই আমাকে চশমা পরতে হয়। একসময় আমার চোখ দিয়ে দুধের মতো সাদা তরল বের হতে লাগলো।
.
== কুরআন মুখস্ত করতাম একসময় আমি। মুহুর্তের মধ্যেই সব হারিয়ে ফেলি আমি।
.
== আমার স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে শুরু করে। আমি ছিলাম ক্লাসের উজ্জ্বল, মেধাবী ছাত্র। অথচ আমি হয়ে যাই গাধা। আমার চিন্তা চেতনা হয়ে পড়ে পাগলাটে, দূষিত।
.
আপনাদের সাথে আমার গল্প শেয়ার করার কারন হচ্ছে, আমি চাইনা আপনারা আমার মতো শিকার হন। জীবনের প্রতিটা সেকেন্ড আমি পস্তাচ্ছি। এবং আমি কখনোই আমার সেই সৎ মা’কে ক্ষমা করবোনা যে আমাকে এই জগতের সাথে পরিচয় করিয়েছে।
.
আপনি যদি ইতোমধ্যেই পর্ন দেখে থাকেন, তাহলে এখনই বন্ধ করুন। অন্যথায়, এটি আপনার যে ক্ষতি করবে আপনি তা কখনোই ফেরাতে পারবেননা। আর আপনি যদি এখনও না দেখে থাকেন, তাহলে পালিয়ে বাঁচুন এর থেকে। কোকেইন বা ড্রাগসের চেয়েও বেশী মারাত্মক এই পর্ন।
.
…………………………………………………………………
Taemin Muqassam ভাইয়ের পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত ইমেজগুলোর বাংলা অনুবাদ। মূল পোস্ট পড়তে ক্লিক করুন এখানে-  বিষ
বিষ

বিষ

অশ্লীলতা নিয়ে আল্লাহ্’র পক্ষ থেকে হুশিয়ারি আছে অনেক, আমরা তো অনেকে অশ্লীলতার সংজ্ঞাও জানি না, আসলে সেই সবচেয়ে বড় অশ্লীল যে নিজের নিকট নিজের একাকিত্বের সঙ্গী হিসেবে নিজের জামিল ওয়াক্তগুলোতে অশ্লীল, সে বিকৃত মস্তিষ্কের, সুস্থতার ভান করা কোন অসুস্থ লোক, আর অসুস্থ তার চাহনিও। আর অসুস্থ বানানোর চর্চায় বর্তমানে বা এই জিনিষের পিছনে সবচেয়ে বেশী দায়ী যেই জিনিষটা সেটা হচ্ছে ব্লু ফিল্ম উইদিন ডার্ক ওয়ার্ল্ড, এ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তা হবে বিশাল থেকে বিশালতর, সাইকোলজিক্যাল টার্মই ৪৭ হাত বিশিষ্ট, সেদিকে আপাতত না যাওয়াই হয়তো মঙ্গল।
.
নিঃসঙ্গ অপরাধ বা নিরিবিলি পাপ কি? আর পরিণতি কি? আমি শুধু সেই জিনিষটা বুঝাতে চাচ্ছি।
.
সবচেয়ে সহজ ভাষায় যদি আমি বলতে চাই তাহলে এই জিনিষটা এমন কিছু, যে আপনি নিজের জিনিষ নিজে চুরি করলেন অথবা নিজের গলা নিজে চেপে ধরলেন, আপনি নিজেকে মেরে ফেলেন না, তবে নিজের কাছে মরে যান প্রতিনিয়ত, ধ্বংসলীলার পরবর্তী অনুশোচনাই আপনাকে ভাসিয়ে দেয়, ব্যস এতোটুকো কমন৷ তবে ক্ষতি কি এতোটুকোই হয়? অজান্তেই আল্লাহর আজাব যে আসে এটা ক’জন বুঝে?
.
শারিরীক মানসিক এবং আধ্যাত্মিক আলাপ টানতেও যদি যাই তবে কিতাব লিখা লাগবে বা পার্ট ভিত্তিক লেকচার দেওয়া লাগবে অথবা সেমিনার… যেগুলো সম্ভব না, কেবল আপনার পদন্নোতি টা দেখুন৷
নীরবে অশ্লীলতায় যারা ডুবে যায় এরা প্রথম যেই শাস্তিটা পায় সেটা হচ্ছে এদের শান্তি চলে যায়, শুরুয়াতের ধাপ, এডিকশনে রূপ নিয়ে ফেললে, তারা দ্বীনের আর তেমন পরোয়া করে না এসব ব্যাপারে, নিষেধ কে তরক করে, এদিকটা তাদের জন্য হাল্কা হয়ে যায়, অশ্লীল জিনিষ না দেখলে ঘুম আসে না, মানে তার শেষ কর্ম হয়ে যায় ঘুমের আগে অশ্লীলতার দর্শন, এটা শেষ আমল হিসেবে রেকর্ড হলো, আর ঘুম থেকে চোখ খোলা হলো না৷ কিসসা খতম৷
.
সুন্নত একদম শেষ হয়ে যায়, মুখ যিকরের বিপক্ষে থাকে, যেই চোখ মুখ নিয়মিত অশ্লীলতার সাক্ষ্মী দিচ্ছে সেখানে পবিত্র জিনিষের স্থান হবে না, স্বাভাবিক৷
.
আপনি ভাবতে পারেন, আমি সালাত তো আদায় করতে পারছিই, এই সালাতও কিন্তু পাঁচ প্রকার, অশ্লীলতায় জর্জরিতদের সালাত টা কেবল তাদের ঈমানের একটা সাক্ষী হিসেবেই থেকে যায়, সে মুসলিম যাষ্ট এই জিনিষের সাক্ষী, তাও কতশতবার ফজর কাযা হওয়ার পর, তার সালাতের অবনতি যে হয় সে এটা জানে, নোংরামির এক প্রান্তে এসে ফজরের সময় সেটা থেকে পবিত্র হওয়া সম্ভব হয় না, তখন ঘুমিয়ে বা ঘুমের ভানে ইচ্ছাকৃতভাবে একটা ফরজকে কুরবানি করতে হয়। আর সালাত যা হয়ও তার ধরনও হয় ‘মুআকাব’ – এটা এমন সালাত যার জন্য সওয়াবের পরিবর্তে উলটা গুনাহ কামাই হয়, কঠিন শাস্তি পেতে হয়। আফসোস মুকারবাব তো নয়ই মুকাফফারা আনহু পর্যন্তও যায় না তাদের সালাতের কোয়ালিটি আর কখনই।
.
ভিজুয়ালাইজড হয় নানান সীন মনোসাউন্ড ইনভিসিবল রিফ্লেকশন ক্রিয়েট করে মনোযোগ নষ্ট করার জন্য, সালাতে কোনভাবে মনোযোগ টিকে না৷ ‘কত দ্রুত শেষ হবে এই জিনিষ?’ এমন ভাবনায় মন উতলা হয়ে যায়৷ দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে তাড়াহুড়োর কারনে মুখ থেকে সূরা বের হয় ভুল, লাহানে জলিতে ভরপুর যদিও সে একসময়ের ক্বারি সাহেবও হয়ে থাকে৷ অশ্লীলতা এমনই এক ভয়াবহ অভিশাপ৷
.
সবচেয়ে মেজর পার্ট মানুষ আর তওবাহ করতে পারে না, প্রথম দিকে লজ্জিত হয়, ফিরে আসে, ওয়াদা করে আর করবে না, আবার ফিরে যায় পুরোনো পাপে আবার তওবা করে, ২ বার ৩ বার এরপর তওবাহ করাই ছেড়ে দেয়, ভাবে যে আমি আর এর থেকে বের হতেই পারবো না, বারবার কেন আল্লাহর সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করবো, অথবা আমি এতোবার ওয়াদা ভাঙ্গি আল্লাহ আর মাফ করবেন না৷ আমি কোন মুখে তওবাহ করবো আও আমার তওবাহ করে কি লাভ বের তো হতে পারি না৷
.
প্রতিটা কথা শয়তানের সুক্ষ্ম ফাঁদ, সে মানুষকে হতাশ অবস্থায় পায় আর তার ভিতর এসব শব্দের বীজ বুনে, পাপাচারে লিপ্ত হতে থাকে এদিকে ব্যক্তি, ভুলে যায় আল্লাহর ক্ষমা অসীম, আল্লাহর এই ক্ষমতাকে ছোট করে দেখে ফেলে শয়তানের প্ররোচনায়, যেই তওবাহ তার জন্য পরীক্ষা হতে পারতো সে বারবার গুনাহ করে অনুশোচনা করলে আল্লাহ্ পরীক্ষা নিয়ে বিশেষ অনুগ্রহে হয়ত তার মন থেকে গান্দেগী সাফ করে নিজের এক নিকট বান্দা বানিয়ে নিত, সেদিকে সে তওবাহ কে প্রত্যাখ্যান করে নিজেই অভিশপ্ত হয়ে ওঠে। খেয়াল থেকে উড়ে যায় যে, তওবাহ না করা দাম্ভিকতা এবং অহংকার করা। এভাবেই যেকোন ছোট পাপ হয়ে যায় বড় পাপ তা কতসময় নিয়ে যায় কুফরেও৷
.
সুবহানআল্লাহ্ শুধু ধারনা থেকে না, এমন অর্ধশত কেস আমি নিজে দেখেছি, কাউন্সেলিং করেছি, দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে নানান যায়গায় মিটিং করার সময় অনেকে প্রশ্ন লিখে পাঠাতো এর মাঝে এই অভিশপ্ত শব্দগুলোর অবস্থান থাকতো উপরদিকেই। এই পোষ্টের ছবির গল্পের মূল চরিত্র এখনো বেঁচে আছে, তওবার সুযোগ তার আছে, অথচ কতজন তো আছে, যারা ঈমানই হারায়৷
.
ফ্লোরিডায় একবার আমার কাছে এক ছেলে আসে কৃষ্ণাঙ্গ যার বড় ভাই ছিল তাদের বাড়ির প্রথম রিভার্ট সে নিজে সবাইকে দাওয়াহ দেয় ধীরে ধীরে পুরো পরিবার মুসলিম হয়, ছেলেটাও (বড় ভাইটা) ইলমের প্রতি আগ্রহী হয়, কিন্তু একসময় সে অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ে, প্রচুর ব্লুফিল্ম এডিকশন থেকে পরে চলে যায় ফিজিক্যাল রিলেশনের দিকে, সে নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারেনি, এক মেয়ের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে৷ মেয়ে তাকে বলে যে সে খ্রিষ্টান হলেই তার সাথে রিলেশন করবে, সবই তার ছোট ভাই জানতো বুঝাতে চাইতো, তার বড় ভাই বলতো তোমাদের সবাইকে আমি দাওয়াহ দিয়েছি, আমাকে বুঝাতে এসো না৷ সে মেয়ের শর্ত মেনে নিয়ে রিলেশনে জড়িয়ে পড়লো, মাত্রাতিরিক্ত কোকেন সেবনের কারনে সেদিন তার মৃত্যু হলো৷
.
তার ভাই বললো আমরা যখন তার লাশ আনতে গেলাম, তার চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছিলো না, উফফ!! কি বীভৎস ছিল, তার হাতে একটা ক্রসের পেন্ডেন্ট ছিল, হায়রে তার চেহারা থেকে একসময় নুর বের হতো, সে আমাদের সবাইকে দাওয়াহ দিয়ে মুসলিম বানিয়েছিলো, আজ সে নিজেই কাফের হয়ে মারা গেল৷ হায় আফসোস সে একটা পাপকে ছোট ভেবেছিলো৷ এ বলে সে কাঁদতে লাগলো৷
.
বারসিসার কাহিনীও তো জানেন সকলে, কি বলবেন আপনি আর? কোন পাপ ছোট? এই অশ্লীলতায় জড়িয়ে আছে এক বিশাল সমাজ, তারা জীবন ধ্বংস করছে না শুধু খেলছে ঈমান নিয়েও, এমন এক জিনিষ এটা যে বুঝানো, বলা, জানতে চাওয়াও মুশকিল৷ নিজেদের শেষ করে দেওয়ার এ কেমন বিষয় এখন দেখা যাচ্ছে?
.
আপনারা যারা এতো দূর এসেছেন সবাইকে বলবো, আপনি যদি কোনরকম অশ্লীলতাজনিত পাপে জড়িত হন, মাফ চান তওবাহ করতেই থাকুন, যতবার হয় ততোবার চাইবেন, ইচ্ছাকৃত করতে চেষ্টা না করবেন৷ খুব কান্নাকাটি করে মাফ চান, আল্লাহ্ আপনাকে সাহায্য করবেন ইনশাআল্লাহ, দাম্ভিক হবেন না, হতাশ হবেন না৷ আপনার সামনে জ্বলন্ত অঙ্গার আপনি নিজের গায়ে কেরোসিন ঢালছেন এখনি বন্ধ করুন নাহলে জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাবেন৷
.
কোন মানসিক ক্ষতি হবে বা শারীরিক ক্ষতি হবে এসব আমি কিচ্ছু বলবো না, কারন সবাই এসব বিষয়ে জানে, চোখ বা স্মরণ শক্তি কমার ব্যাপারও সবাই জানে, যারা জানে না তারা বই পড়ুক আর্টিকেল পড়ুন, বর্তমানে অনেক আছে বাজারে, বাংলা ভাষায়ও ভালো কিছু কাজ হয়েছে, আমি শুধু বলবো যে আপনি আল্লাহর জন্য ফিরে আসুন, ঈমান বাঁচানোর জন্য অশ্লীলতা দেখা বন্ধ করুন, আগুন থেকে বাঁচার জন্য অশ্লীল কিছু নীরবে করা থেকে বিরত থাকুন৷ ওয়াল্লাহি আপনার পক্ষে পসিবল না, টিকে থাকে সেই আগুনের আঁচে পর্যন্ত, এমন তাপও আপনি সইতে পারবেন না সেই আগুনের, যা কেবল একটি পশম পোড়াবে আপনার শরীরের৷ আল্লাহর কসম আপনি পারবেন না৷
.
আর যাদের বয়স ২১-২৫ এর ভিতর অন্তত নিজের আর ওয়াইফের খরচ চালাতে পারবেন, ঠেলেঠুলে হলেও সম্ভব৷ বিয়ে করুন যত দ্রুত সম্ভব বিয়ে করুন, ২০২১ চলছে ২০২২ এর মধ্যে টার্গেট করুন বিয়ের যদি সম্ভব হয়, কোন বাবা বা কোন মা এটা পড়লে বুঝার ট্রাই করুন, আপনিও সময় পার করে এসেছেন ছেলেমেয়েদের তাড়না বুঝুন৷ আপনি নিজের অংশকেই আগুনে জ্বালিয়ে দিচ্ছেন, যাদের একদমই সম্ভব না, সিয়াম পালন করুন৷ দুআ করুন৷ ভালো এক্টিভিটিজ এর মধ্যে থাকুন৷
.
ওভার ফ্যান্টাসাইজড হবেন না, বিয়ে করবো না ইবনে তাইমিয়্যা হবো এসব আজগুবি ফ্যান্টাসি থেকে দূরে থাকুন, আপনি নিজেও জানেন আপনি ইবনে তাইমিয়্যা হতে পারবেন না৷ আমি তো বলি ইবনে তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহও যদি এই টাইমে আসতেন তিনি বিবাহ করে নিতেন অবশ্যই ইনশাআল্লাহ্৷
.
বিয়ে করবো না বলনেওয়ালা লোকেরা হয় বিমার, নাহয় মিথ্যুক অথবা লাচার৷ যে নর্দমায় দাঁড়িয়ে নদীর সুমিষ্ট পানির উদাহরণ দেয়৷ সময় আছে এখনো বুঝুন৷
.
আরেকটা কথা বলে রাখি, ম্যাক্সিমাম টাইমই এসব জিনিষ নফসের ধোঁকায় হয়, তবে এটাও সত্য যে এগুলো জ্বীনদের দ্বারা পজেসড হয়েও হয়, যেটা মানুষ বুঝে না, অনুমানও করতে পারে না। আবার ঠিকও থাকতে পারে না, যারা খুব বেশী মাত্রায় জড়িয়ে গেছেন, আমল বাড়ান, সেল্ফ রুকইয়্যাহ শুরু করুন, কিছু অনুভব করলে ভালো রাক্বির কাছে যান, হেল্প নিন। এই ভয়াবহতা কুফর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে কিন্তু, দুষ্ট জ্বিন শয়তানরাও দুশমন মানুষের ঈমানের। এই কথাগুলো বেশী প্রচার হওয়া উচিৎ, কারন জ্বীনেরা এখন বসবাস করে মানুষের মাঝেই।
আর অশ্লীলতা কিন্তু কেবল এসব নোংরা ছবিই না, বরং নাটক, ওয়েব সিরিজ, ড্রামা সিরিজ বা মিউজিক ভিডিও গুলোও কোন অংশে কম না, আপনাকে মুক্ত হতে হলে গোড়া কেটে ফেলেই হতে হবে, চেপে ধরতে হবে নিজেকে।
.
এবং, নিজেকে অশ্লীলতার দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া নিজেকে হত্যা করার চেয়েও ভয়াবহ, আত্মহত্যায় একবার মৃত্যু ঘটে, অশ্লীলতায় ঘটে প্রত্যেকবার, এ শুধু এক জিনিষের মৃত্যু না বরং হায়া, প্রশান্তি, ইজ্জত, মস্তিষ্কের ব্যালেন্স, ঈমান ও আমলেরও মৃত্যু৷
লেখকঃ Taemin Muqassam
সাকিব বিন রশীদরা আমাদের এদেরকেই অনুসরণ করতে বলে…

সাকিব বিন রশীদরা আমাদের এদেরকেই অনুসরণ করতে বলে…

‘আমার আংকেল আমাকে যৌন নির্যাতন করেছিলো, তখন আমার বয়স ছিলো ৮ বছর’
.
‘আমি আমার বাবার হাতেই যৌন নির্যাতনের স্বীকার হই, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে বাবা আমাকে যৌন নির্যাতন করেন’।
.
‘ছুটিতে মজা করার কথা ছিলো আমাদের, কিন্তু কে জানত খুব দ্রুতই তা আমার জন্য দুঃস্বপ্নে রূপ নেবে’
.
এরকম অসংখ্য টুইটের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে টুইটার। বাবা,চাচা এমন নিকট আত্মীয়দের হাতে যৌন নির্যাতনের ঘটনার ব্যাপারে মুখ খুলেছে ফ্রান্সের হাজারে হাজারে নাগরিক। তিন বছর আগে ইন্টারনেট ভরে গিয়েছিলো #Metoo হ্যাশট্যাগে। সেই সময় একে একে বের হয়ে আসছিলো ইউরোপ আমেরিকা হলিউড, বলিউডে যারা নারী স্বাধীনতার গান গাইতো তাদের হাতেই নারীদের যৌন নির্যাতনের গা শিউরে ওঠা কাহিনী। বিশ্ববাসীর সামনে একদম খুলে পড়েছিলো নারী স্বাধীনতা, প্রগতি আর সমানাধিকারের বুলি আউড়ানো ইউরোপ আমেরিকা আর মিডিয়ার মুখোশ।
.
এই #Metoo movement এর আদলেই ফ্রান্সে শুরু হয়েছে #Metooinceste আন্দোলন। এর শুরুটা হয় বেশ জঘন্য এক ঘটনা দিয়ে। Olivier Duhamel নামের এক ফ্রেন্স প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবির নামে অভিযোগ ওঠে সে তার সৎ ছেলেকে বয়ঃসন্ধি অবস্থায় যৌন নির্যাতন করেছে। এই ঘটনার পর #Metooincesteএর বন্যা শুরু হয় টুইটারে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ২০ হাজার টুইট করা হয়। ফ্রান্সের নাগরিকরা একে একে বলতে শুরু করে কীভাবে তারা নিজেদের বাবা,চাচা, ভাই ইত্যাদি আপনজনের হাতে যৌন নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে ছোটো থাকতে।
.
ফ্রান্সে ইনসেস্ট অর্থাৎ যাদের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ এমন মানুষদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা বৈধ। অর্থাৎ বাবা মেয়ে দুজন বিছানায় যেতে পারবে, ভাই বোন , মা ছেলে যা খুশি তাই করতে পারবে। এগুলো কোনো সমস্যা না তাদের কাছে। কিন্তু যদি যৌনতায় আগ্রাসন প্রদর্শন করা হয় বা ১৫ বছরের কম বাচ্চাকে বিছানায় নেওয়া হয় তখন সেটা ফ্রান্সে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
.
.
এই চরম ঘৃণিত আইনের ফলাফল হয়েছে ভয়াবহ। ফ্রান্সের ঘরে ঘরে আজ ইনসেস্টের মাধ্যমে যৌন নির্যাতন চলছে। প্রতি ১০ জনের ১ জন বলছে তারা ইনসেস্টের স্বীকার।ইনসেস্টের মাধ্যমে যৌন নির্যাতিত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থার নাম ফেসিং ইনসেস্ট। এই সংস্থার প্রেসিডেন্ট Patrick Loiseleur বলছে, ইনসেস্ট হলো ঘরে থাকা একটা হাতির মতো যা কেউই দেখছেনা(মানে দেখেও না দেখার ভান করছে) ইনসেস্টের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশী যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে কিন্তু এটা নিয়ে সবচেয়ে কম কথা হয়’।
.
বাহ ফ্রান্সে সভ্যতা, প্রগতিশীলতা, মানবাধিকারের কি অপূর্ব নিদর্শন!
.
দুই.
আমাদের সুশীল প্রগতীশীলরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য ইউরোপ আমেরিকাকে অন্ধু অনুসরণ করার কথা বলে।
.
পিতার হাতে সন্তানেরা যৌন নির্যাতিত হয় এমন দেশের কাছ থেকে আমাদের সভ্যতা শিখতে হবে?
.
ভাইয়ের কাছে বোন নিরাপদ নয় এমন দেশের কাছ থেকেই আমাদের মানবাধিকার শিখতে হবে?
.
এমন দেশকে অনুসরণ করে প্রগতিশীলতা শিখতে হবে আমাদের?
.
জ্বি করতে হবে। আমাদের সাকিব বিন রশীদ ভাইয়েরা বলেছেন করতে হবে। এরকম করলেই আমরা চ্যালচ্যালাইয়া উন্নত হয়ে যাব। জাতে উঠে যাবো। মুখ দিয়ে ভরভর করে ইংরেজি বের হবে। আর তাই, লিটনের ফ্ল্যাট, কনসেন্ট, জাস্টফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ড, গ্রুপ স্টাডি, স্লিপওভার, ছেলে বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরি, পিরিয়ড নিয়ে ছেলেদের সাথে আলোচনা করা… এক এক করে ফিরিঙ্গিদের লাইফস্টাইলের সবকিছু শেখানো হচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্মকে। এর ফলাফল কেমন হতে পারে আনুশকা দিহান তা জানিয়ে দিয়ে গেলো।
.
আপাতত কনসেন্ট আর স্লিপওভারে সীমাবদ্ধ থাকলেও কয়দিন পর সমকামিতা, ইনসেস্টকে স্বাভাবিক করার দাবী করবে সাকিব বিন রশীদরা। নিশ্চিত থাকতে পারেন এমন দাবী করবেই। কারণ তাদের সাদা চামড়া প্রভুরা সমকামিতা, ইনসেস্টকে স্বাভাবিক করেছে।
.
আমরা কি তখনো প্রগতিশীলতা শেখার নামে, জাতে ওঠার নামে সাকিব বিন রশীদদের কথা শুনবো? যেই ট্রেনে সাকিব বিন রশীদরা আপনার সন্তান ছোটো ভাইবোনদের তুলে দিয়েছে সেই ট্রেনের গন্তব্য সমকামিতা আর ইনসেস্টেই।এখনো যদি সাবধান না হন তাহলে আর কিছু বলার নেই। জেগে জেগে ঘুমানো মানুষকে ঘুম থেকে জাগানো যায় না।
.
তিন.
ফ্রান্স মানবাধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার আর বাক স্বাধীনতার নামে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অবমাননা করেছিলো। ফ্রান্সের সর্বস্তরের নাগরিক রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে অপমান করেছিলো। ইন্ডিয়ার দাদাবাবুরা তাতে সমর্থন যুগিয়েছিলো। সেই মহান মানবাধিকার , ব্যক্তিস্বাধীনতার দেশে কেমন ব্যক্তি স্বাধীনতার চর্চা করা হচ্ছে তা তো আপনারা দেখছেনই। পিতার হাতে সন্তানও নিরাপদ নয়। ভাইয়ের হাতে নিরাপদ নয় নিজ বোনও।
.
ইতিহাস ঘেঁটে দেখেন যেকোনো জাতির পতনের সময় সে জাতির মধ্যে চরম মাত্রার যৌন বিকৃতি দেখা দেয়। ফ্রান্সের পতন অতি সন্নিকটে। এরা জাতি হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অবমাননা করেছিলো। কাপুরুষ আমরা কিছুই করিনি এদের বিরুদ্ধে। তাই বলে আল্লাহর স্বাভাবিক নিয়ম থেমে থাকবে না। আল্লাহর কিছু পছন্দনীয় বান্দার হাতে খুব শীঘ্রই পতন ঘটবে ফ্রান্সের।
পতনের আওয়াজ ঐ পাওয়া যায়…
.
রেফারেন্স:
১]Incest Scandal Sets Off a New #MeToo Movement in France- https://tinyurl.com/y3s8aobg
[২] Prominent French Intellectual Steps Down Amid Accusations of Incest- https://tinyurl.com/y4y4rut5
[৩] In the #MeToo Era, France Struggles With Sexual Crimes Involving Minors- https://tinyurl.com/y2ulj8nt
.
======
লেখক:

Enamul Hossain
প্রেমাসক্তি

প্রেমাসক্তি

[ক]
.
একটা পরিসংখ্যান দিয়ে শুরু করা যাক, বিশ্লেষণ সংক্রান্ত সংগঠন ‘বাজফিড’ এর মতে, পশ্চিমা বিশ্বে ১৫ বছরের কম বয়সী যুবকদের মধ্যে প্রায় ৯৯.৫% পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত।এর মধ্যে ৩০% হচ্ছে নারী। এই আসক্তি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং এরপর তাদের চাহিদা পূরণের মনোভাব তৈরী হয়। এরপর সাধারণত ১৭ বছর বয়সে একজন যুবক এবং ১৮ বছর বয়সে একজন নারী প্রথমবার যৌন কর্মে লিপ্ত হয়।
.
মূল কথা হচ্ছে,তুমি একটা দানব বা আগুন নিয়ে খেলা করছো, যে আগুন নেভানোর শক্তি তোমার নেই। হারাম যৌনতা ইসলাম ধর্মে কতবড় পাপের বিষয় তার ব্যাপারে তোমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।
.
পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি, পতিতাবৃত্তি পুরো পৃথিবী ব্যাপী অনেক বড় প্রতিষ্ঠান এবং চক্র। এই বিশাল সম্রাজ্য বন্ধ করার সাধ্য তোমার আমার নেই, এমনকি কারোর নেই। আমাদের শুধুমাত্র ধৈর্যধারণ করতে হবে।
.
তাই বলে যে শুধুমাত্র ধৈর্য ধারণ করতেই থাকবে, এটা কখনোই সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে পরিবারের অনেক বড় একটা ভূমিকা বিদ্যমান। অভিভাবকদের তার সন্তানের যৌন চাহিদার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণের সাথে সাথে তাকে একটা নির্দিষ্ট সময় বেধে দিতে হবে। যেমন: তোমার পড়াশুনা শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করো, কিংবা তোমার নির্দিষ্ট বয়স হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করো, এমনটি বলা বেশী উত্তম।তাহলে তারা তাদের নির্দিষ্ট সময় অনুসারে নিজেকে এবং নিজের চাহিদাকে পাপের সমুদ্রে ডুবিয়ে দেয়া থেকে বাচিয়ে রাখতে চেষ্টা করবে। তাদেরকে সময়ের এই গন্ডি অবশ্যই দিয়ে দিতে হবে, নতুবা তাদের পক্ষে এই যৌনতা আর নোংরামির সমাজে অনির্দিষ্ট সময়কাল নিজের চাহিদা শুধুমাত্র ধৈর্যধারণ করেই আটকে রাখা সম্ভব নয়।
.
পুরোনো দিনের মতো এই সময়ে একজন সুদর্শন রাজকুমার বা সুন্দরী রাজকন্যার আশা করাটা বোকামী। যার ধন সম্পদ আর সুন্দর চেহারার জন্য ছেলে, মেয়েসহ তাদের পুরো পরিবার অপেক্ষা করতে থাকে। প্রথমত,সেই ছেলে বা মেয়ে মূলত সফল বা প্রকৃত সুন্দরী কেউ নয়। আর দ্বিতীয়ত, সেই মানুষটা হয়তো কখনো আসবেই না, সেটা শুধু তোমার স্বপ্ন হয়েই থাকবে। নতুবা যদি এমন কেউ আসেও, তবে তার তোমার জীবনে আসতে হয়তো অনেক দেরী হয়ে যাবে। আর ততক্ষণে একটা ছেলে বা মেয়েদের সাথে যতকিছু হওয়া উচিৎ নয়, তার সবটাই ঘটে যাবে। তারপর একটা পর্যায়ে তারা নষ্ট হয়ে নিজের কাছে কিংবা সমাজের কাছে ব্যবহারকৃত নিকৃষ্ট পণ্যের ন্যায় মূল্যহীন হয়ে পড়বে। এর ফলে বিয়ে এবং অন্য কোনো সম্পর্ক বা সঙ্গীর আর প্রয়োজন মনে হবে নাহ। কেননা তাদের চাহিদার যতটা প্রয়োজন ছিলো বিয়ের পর যা তাদের পাওয়ার কথা ছিলো তার সবটাই তাদের বিয়ের পূর্বেজ পূরণ হয়ে গেছে।
.
যখন তারা হারাম পন্থায় তাদের সকল সুখ ভোগ করা শুরু করবে তখন তারা মূলত তাদের ধর্ম তাদের দ্বীন থেকে সরে যাবে। যৌন আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে একটা মানুষের শারীরিক গঠনের দিক থেকে সবচাইতে বড় আক্রমনাত্তক অনুভূতি। তবুও যতক্ষণ তোমার পূর্ণাঙ্গ বয়স হয়নি ততক্ষণ পর্যন্ত যতটা তোমার প্রাপ্য নয় ততটা এখন আশা করো না। সতর্ক থাকো।
.
.
[খ]
.
একই সময়ে আমাদের জেনারেশনের অনেক রকম চাহিদা দেখা যায়। ১৬ বছরের একজন যুবক,যে কিনা এখনো নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো সক্ষমতা অর্জন করতেই পারেনি,যে এখনো বাহ্যিক পৃথিবীর কষ্টের সম্মুখীন হয়নি এবং এই অবস্থায় কেউ যদি হারাম সম্পর্ক নিয়ে তার বাবা মায়ের কাছে গিয়ে বলে, আমরা একটা সম্পর্কে আছি এবং আমরা বিয়ে করতে চাই, এটা মূলত একটা অযৌক্তিক প্রস্তাব। কেননা সে এখনো তার বিবাহের পরের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রস্তুত নয়।
.
বিবাহের পরে অনেক দায়িত্ব থাকে যার জন্য তার এখনো প্রস্তুতি গ্রহণ করা বাকী। সে শুধুই একটা অনুভূতির মাধ্যমে ভালোবাসা নামক সম্পর্কে আবদ্ধ। আর এই ভালোবাসা সত্যিই অনেক শক্তিশালী অনুভূতি। এই অনুভূতি যাতে কাউকে ভুল কোনো কাজের দিকে ধাবিত না করে,সেজন্যেই ইসলামে রয়েছে ‘ওলী বা অভিভাবক’ পন্থা। একজন সন্তানের বাবা মা তার পরবর্তী পদক্ষেপের ফলফল যতটা আঁচ করতে পারবে, সেটা কারো পক্ষে নিজ থেকে বোঝা সম্ভব নয়।
.
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, “এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে, যাতে তোমরা তাদের সাথে শান্তিতে বাস করতে পার এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।” -সূরা-রূম,আয়াত:২১
.
ইসলামে ভালোবাসা কিন্তু কোনো অবজ্ঞার বিষয় নয়। ইসলাম তোমার সঙ্গীকে ভালোবাসতে বারণ করে নি বরং আল্লাহ তায়ালা মানুষকে এমন ভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, আমাদের একা থাকা বা সঙ্গীহীন চলা সম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে সরল পন্থা এবং সঠিক মাধ্যম অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। আর এই সরল আর উত্তম পন্থা হচ্ছে ‘বিয়ে’।
.
যুবকদের অবশ্যই বুঝতে হবে,তুমি বিয়ের আগেই কোনো সম্পর্কে জড়াতে পারো না। কেননা আশে পাশে তাকালেই বুঝতে পারবে হারাম সম্পর্ক দিনশেষে তোমাকে কষ্ট দিবেই। বাস্তবতায় ভালোবাসা সত্য তবে সে ভালোবাসায় যদি আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধে হয়, সেখানে আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ থাকেনা। এজন্যেই মূলত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্কগুলো ব্যর্থ হয়। আর শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তায়ালা কিন্তু তোমার থেকে পৃথিবীতে তোমার সম্মান কেড়ে নিবেন। হারাম পন্থা অবলম্বন করার সর্বপ্রথম শাস্তি আর সম্মানহানী তোমার দুনিয়া থেকেই শুরু হবে।
.
হ্যালেন ফিসার নামের একজন মহিলা রয়েছে। যিনি মূলত ভালোবাসা বা প্রেম নিয়ে কাজ করে থাকেন। তিনি প্রেমিক প্রেমিকাদের এম.আর.আই স্কান করেন এটা জানার জন্য যে, প্রেমের অনুভূতির ফলে মানুষের শরীর এবং ব্রেণে কি কি পরিবর্তন হয়। এরপর তিনি একটা অস্বাভাবিক জিনিস আবিষ্কার করেন। তিনি দেখলেন যে, যারা প্রেমের সম্পর্কে রয়েছে তাদের এই অনুভূতি বিদ্যমান থাকাকালীন ব্রেণের যে অংশ সচল হয়, একই অংশ একজন অধিক মাদকাসক্ত মানুষেরও সচল হয়। আর নেশার পরবর্তী যে হরমোনগুলো যেমন ডোপামিন, অক্সিটোসিন নিঃস্বরণ হয়, একই হরমোন প্রেমের সম্পর্কে থাকার ফলেও নিঃস্বরণ হয়। সুতরাং সেই ব্যক্তিকে আমি প্রেমিক বলতে চাইনা। সে মূলত একজন নেশাগ্রস্থ ব্যক্তির মতই প্রেম নামক বিষের ঘোরে আসক্ত।
.
এখন ১৬-১৭ বছরের কেউ যদি এসে বলে যে, আমি কাউকে ভালোবাসি। তার বক্তব্য এবং অনুভূতিকে সত্য বলতে আমার কিছুটা অসুবিধা হবে। এজন্যেই আমাদের অভিভাবক রয়েছে,আর তাদের কথা অবশ্যই আমাদের মান্য করা উচিৎ। অনেক সময় আমাদের সিদ্ধান্ত গুলো ভুল হতে পারে এটা বোঝার সাধ্য আমাদের থাকেনা, কিন্তু আমাদের অভিভাবকগণ এক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক করে দিতে পারেন।
.
আর অভিভাবদেরও অবশ্যই বোঝা উচিৎ যে, এই শক্তিশালী অনুভূতি যদি ভুল দিকে অগ্রসর হতে থাকে,একটা পর্যায়ে সে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
.
তুমি যদি বাইরের পরিবেশে তাকাও, তুমি দেখতে পারবে একজন হিরোয়িন কোকেন আসক্ত মানুষকে তা থেকে ফেরানোর জন্য কতশত রিহেবিলিটেশন সেন্টার রয়েছে এবং অনেকে এরপরেও তাদের আসক্তি কমাতে সক্ষম হয়না। কেউ কেউ ফিরে গিয়ে পূর্বের ন্যায় নেশা গ্রহণ করতে থাকে।
.
হ্যালেনফিসার এর মতে, হিরোয়িন কোকেন শরীরে প্রবেশ করার পর তা যেভাবে বিক্রিয়া করে একইভাবে প্রেমের সম্পর্কে থাকাকালীন মস্তিষ্কের মূল অংশ ‘রেপটেলিয়ান কোর’ সচল হয়। তাই এটা থেকে নিজেকে মুক্ত করা অনেক বেশী কষ্টসাধ্য।
.
একজন যুবকের বিয়ের ক্ষেত্রে উপযুক্ত বিচারবুদ্ধি করার ক্ষমতা জন্মানো অত্যাবশ্যক। তোমাকে তোমার পারিপার্শ্বিক অবস্থানুযায়ী উপযুক্ত বিচার করার যোগ্যতা তৈরী হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।আর এর সাথে তোমার ভালোবাসার অনুভূতির ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে।
.
যদি তোমার ভালোবাসা কোনোভাবে ব্যর্থ হয়,তুমি আবেগের বশবর্তী হয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। তোমার আবেগ তোমার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে বাধা হয়ে দাঁড়াবে এবং এটাই ধীরে ধীরে শিরকের দিকে ধাবিত করে।
.
যেমন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, “এবং মানবমন্ডলীর মধ্যে এরূপ আছে – যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে প্রিয় মনে করে, আল্লাহকে ভালবাসার মতই তারা তাদেরকে ভালবাসে। এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে আল্লাহর প্রতি – তাদের প্রেম দৃঢ়তর। যারা অত্যাচার করেছে তারা যদি পূর্ববর্তীদের শাস্তিগুলো অবলোকন করত তাহলে দেখত, সমুদয় শক্তিই আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর।” -সূরা বাকারা,আয়াত:৬৫
.
তোমার প্রেম ধীরে ধীরে তোমাকে আল্লাহর থেকে বেশী অন্যকাউকে গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিক ভালোবাসার হকদার বানিয়ে ফেলে।আর আল্লাহর থেকে অন্যকাউকে অধিক ভালোবাসা’ই শিরকের অন্তর্গত। কেননা ভালোবাসার সর্বোচ্চ এবং প্রথম হকদার হচ্ছে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। এবং এরপরে আল্লাহর রাসূল (সা)। কিন্তু বর্তমানে ভালোবাসার সম্পর্কে প্রেমিক প্রেমিকা একে অপরকে রবের অধিক প্রিয় বানিয়ে দেয়। এমনকি একজন যদি কোনো আবদার করে এবং সেটা যদি ইসলামের নিয়মের বাইরেও চলে যায়,অপরজন তা পুরণ করতে সামান্য দ্বিধা করে না। আর এভাবেই মূলত বিয়ের আগেই যৌন কর্মকান্ড সংঘটিত হয়।
.
তুমি মুলত একজনকে ভালোবেসে তাকে আল্লাহ তায়ালার বিরুদ্ধে গিয়েও মান্য করছো। কীভাবে? বিয়ের পূর্বে ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়াটা আল্লাহর নিয়মের বাইরে যাওয়া, আর যখন তুমি আল্লাহর চাইতে বেশী কাউকে ভালোবাসার অধিকার দিবে, তুমি তখন মুশরিকের অন্তর্ভুক্ত হতে থাকবে।
.
হাদিস বলছে, “সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতায়, মানুষের তার রবের উপর আনুগত্য গ্রহণযোগ্য নয়।” – সহীহ বুখারী,৪৩৪০
.
সুতরাং মানুষ যখনই আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুকে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করবে, তখন তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে।
.
.
[গ]
.
আমাদের এসবের জন্য সচেতনা গড়ে তুলতে হবে। কেননা এই শক্তিশালী প্রেমাসক্তি মানুষকে এমন ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যাবে যে ধ্বংস একজন নেশাগ্রস্ত মানুষের হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসাকে অবশ্যই অনুমতি দিয়েছেন। তবে সে ভালোবাসা বিবাহের পরবর্তী সময়ের জন্য। ভালোবাসার অনুভূতি মূলত কোনো পাপের বিষয় নয়। শুধু জানতে হবে এই অনুভূতিগুলোকে কিভাবে সঠিক পন্থায় ব্যবহার করা যায়, তাদের জানতে হবে কিভাবে তারা যৌনাকাঙ্ক্ষা গুলোকে সামলে রাখবে বা হালালভাবে সেগুলোকে পুরণ করবে। নতুবা এই অনুভূতি গুলোই তাদের জাহান্নামে যাবার কারণ হবে।
.
কিন্তু বাস্তবতায় আমরা মানুষেরা মূলত যৌনতা প্রবণ,ভালোবাসা প্রবণ, স্বপ্ন প্রবন। আর এইসবের ভারসাম্য রক্ষার জন্যেই আল্লাহ তায়ালা বিবাহকে বৈধ করে দিয়েছেন।
.
বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক সিগমুন্ড ফ্রয়েড একটা কথা বলেছিলেন, যেটা হাদিসের সাথেও কিছুটা মিল রয়েছে। তিনি বলেছেন, “তোমার অনুভূতিগুলোকে তুমি এমন ভাবে সামলে রাখো যেনো তুমি দ্রুতগামী ঘোড়ার পিঠে বসে ঘোড়া চালাচ্ছ।” ঘোড়াটাই মূলত তোমার আকাঙ্ক্ষা। ঘোড়া যেনো তোমাকে ফেলে না দেয় বা ভুল দিকে যা যায়, এজন্যে তুমি যেভাবে তাকে নির্দেশনা দিবে, তোমার অনুভূতি যেনো তোমাকে তোমার রব থেকে দূরে না সরিয়ে দেয় সে দিকেও তোমার যথেষ্ট সতর্ক থাকা উচিৎ।
.
পুরুষের থেকে নারীদের যৌন চাহিদা অধিক হয়। পৃথিবীর সব বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে একই মত পোষণ করেছে। এজন্যেই পুরুষের থেকে নারীদের জন্য অভিভাবকের অধিক প্রয়োজন। নারীরা না চাইলে একটা পুরুষ কখনোই তাকে ভোগ করার ব্যাপারে সামনে অগ্রসর হতে পারে না। এক্ষেত্রে নারীদের যৌনতার ব্যাপারে ধর্মীয় জ্ঞান লাভ করা এবং বিধিবিধান অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক।
.
দেখেন, আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা) কিন্তু বলেননি ধৈর্য ধারণ করে বসে থাকো অপেক্ষা করো। বরং তিনি বলেছেন, “হে যুবকেরা ! তোমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা বিবাহ দৃষ্টি ও লজ্জাস্থানের সুরক্ষা দেয়। আর যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সিয়াম পালন করে। কারণ এটা তার রক্ষাকবচ।”
-বুখারি ও মুসলিম
.
যেহেতু এই সমাজের সবকিছু আমাদের একার পক্ষে পরিবর্তন সম্ভব নয় তাই নিজের জীবনের ক্ষেত্রে এবং অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে সবদিকেই ভারসাম্য রক্ষার্থে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যেতে হবে।সমুদ্রে ডুব দিলে যেমন পানিতে পুরো শরীর ভিজে যায়, তেমনি এই নোংড়া যৌনতার সম্রাজ্যে গা ভাসিয়ে দিলে দুর্গন্ধময় কাঁদা শরীরে লেগে যাবে। আর এর ফলাফলস্বরূপ দুনিয়া এবং আখিরাতে ধ্বংস অনিবার্য। সুতরাং নিজের যৌনাকাঙ্ক্ষা ও প্রেমাসক্তির ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকাই উত্তম।
.
মূল লেকচার- মুহাম্মদ হিজাব
অনুবাদ- Bayazid Bostami
হতাশা ও মনোবিদ ভাইয়া!

হতাশা ও মনোবিদ ভাইয়া!

হতাশা ও মনোবিদ ভাইয়া!
.
মূলঃ ডা. তানভীর রহমান
শ্রুতি লিখনঃ আব্দুস সালাম
ⓒ ষোলো ম্যাগাজিন, সংখ্যা ৩

—-

আমাদের আশেপাশে হতাশ মানুষের সংখ্যা কিন্তু নেহাতই কম না। এমনকি আমরাও ছোটখাটো তুচ্ছ বিষয়ে বেশ ভেঙে পড়ি। আর বয়সটা তো এমনই যে অনেক অনেক আবেগ জমা হয়ে থাকে মনের মধ্যে। পত্র-পত্রিকায় চোখ রাখলে কিছুদিন পরপরই খবর আসে কোনো না কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করছে। এর পেছনেও কিন্তু নাটের গুরু অধিকাংশ সময়ই এই হতাশা। চলো জেনে নেওয়া যাক প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে এই বিষয় সম্পর্কেঃ
.
 ডিপ্রেশন বা হতাশা কী ? সাধারণ মন খারাপ ও হতাশা’র মধ্যে পার্থক্যই বা কী?
.
– সাধারণ মন খারাপ হলো আমাদের একটি Emotional Reaction আর হতাশা হলো একটি মানসিক রোগ। আমাদের যে সাধারণ মন খারাপ হয়ে থাকে তা যখন অনেকদিন স্থায়ী হয় তখনই মূলত সেটি হতাশায় পরিণত হয়। যেটিকে Medical Science এর ভাষায় Clinical Depression অথবা Major Depressive Disorder বলা হয়, যা বলতে আমরা বিষণ্ণতা বুঝি। সাধারণ মন খারাপের সময় সীমা যত দীর্ঘ হতে থাকে তখন মূলত চিন্তা, আচরণ, আবেগ সবকিছুর সংমিশ্রণে সেটি হতাশা বা হতাশায় রূপ নেয়।
.
 আমরা কখন বুঝতে পারব যে, কেউ হতাশায় ভুগছে কি-না অথবা হতাশার লক্ষণ সমূহ কী কী?
.
– American Psychological Association এর মতে কিছু বিষয়কে তারা হতাশার Criteria বা নির্ণায়ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে Diagnostic Statistical Manual বা DSM-5 হতাশার ৯ থেকে ১৩ টি লক্ষণ নির্ধারণ করেছে। যদি কারো মধ্যে পাঁচটি পুরোপুরি প্রকাশ পায় তবে আমরা বলতে পারি সে হতাশায় ভুগছে। যেমনঃ
.
• দিনের অধিকাংশ সময় মন খারাপ থাকা।

• কোনো কিছুতেই পূর্বের ন্যায় আনন্দ না পাওয়া, পূর্বে যা ভালো লাগত তা আর ভালো না লাগা।

• আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া।

• খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, যেমন কম খাওয়া অথবা বেশি খাওয়া। ওজন কমে যাওয়া অথবা বেড়ে যাওয়া, রাতে দেরিতে ঘুম আসা বা ঘুম ভেঙে গেলে আর ঘুম না আসা।

• আত্মহত্যার চিন্তা-চেষ্টা করা, ইত্যাদি।
.

 হতাশা শুরু হয় কেন?
.
– বিষণ্ণতা সাধারণত কোনো কারণবশত শুরু হতে পারে আবার কোনো কারণ ছাড়াও শুরু হতে পারে, যেমন সাধারণ মন খারাপের যেসকল কারণ রয়েছে যেমন নিকট আত্মীয় মারা যাওয়া, ব্যবসায় লস হওয়া, রিলেশনশিপ ব্রেকআপ ইত্যাদি কারণে হতাশা হতে পারে আবার কোনো কারণ ছাড়াও হতে পারে যেটিকে Androgynous Depression বলা হয়।
.
 হতাশা থেকে বের হওয়ার উপায়?
.
– হতাশাকে সাধারণত Mild, Moderate, Severe এই তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়। Mild এবং Moderate এর বেলায় সাধারণত কোনো ঔষধ লাগেনা, যদি তাকে সাধারণ কাউন্সেলিং করা হয় এবং বন্ধুবান্ধব ও পরিবার সাপোর্ট দেয় তবে সে হতাশা থেকে বের হয় আসতে পারে। আর Severe এর বেলায় সাধারণত কাউন্সেলিং এ কাজ হয়না, তখন ঔষধের সাহায্য নেয়া হয়ে থাকে। এককথায় হতাশার তীব্রতা অনুযায়ী তার চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। যদি সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয় তবে ইনশা আল্লাহ এর থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।
.
 প্রাথমিক স্তরের ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজের পক্ষে ব্যাপারটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব?
.
– প্রথমত আমাদের মাথায় এই কথাটি খুব ভালোভাবে গেঁথে নিতে হবে যে, “Life is not a bed of roses”, অর্থাৎ জীবন ফুলশয্যা নয়। জীবনটা কারো কাছেই সহজ নয়। আমরা সাধারণত যাদের বাইরে থেকে দেখি অথবা সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখে ভাবি যে, তার লাইফটা কত সুন্দর, কিন্তু‌ আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা যেগুলো দেখি সেগুলো প্রায় সবই কৃত্রিম। সবাই সাধারণত নিজের সবচেয়ে ভালোটা সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে এবং খারাপটাকে ঢেকে রাখে। তাই সেগুলো দেখে এমন ভাবা যাবে না যে সে অনেক ভালো অবস্থানে আছে আর আমার অবস্থান অনেক খারাপ। তাছাড়াও বন্ধু নির্বাচনে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। যদি সবাইকে বন্ধু ভাবা যায় এবং সবাইকে যদি মনের কষ্টের কথা গুলো শেয়ার করা যায় তবে এমন হতে পারে যে, কিছু বন্ধু অনুপ্রেরণা দেয়ার পরিবর্তে উল্টো হতাশা বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনও হতে পারে যে এর প্রেক্ষিতে হতাশায় আক্রান্ত ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করতে পারে যা সে আগে করার চিন্তা করেনি। এছাড়া বাবা-মায়ের সাথে যদি বোঝাপড়া ভালো হয় তবে তাদের সাথে বিষয়টি শেয়ার করা যেতে পারে অথবা বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুর সাথে শেয়ার করে সাহায্য চাইতে হবে। আর যদি এমন অবস্থার সুযোগ না থাকে তবে কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে অবশ্যই পরামর্শ করতে হবে।
.
 অনেক হতাশ মানুষই পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না, এক্ষেত্রে করণীয়?
.
– যদি এমন হয় যে, কেউ পূর্বে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারত কিন্তু এখন পারছে না তবে তার কারণটা খুঁজে বের করতে হবে। আরেকটি ব্যাপার হলো পড়াশোনার যে লক্ষ্য তা স্থির রাখতে হবে। সে পড়াশোনা করছে কেন বা পড়াশোনা করে সে আসলে কী করতে চায় বা কী হতে চায় এইটা যদি ঠিকমত মাথায় রাখে তবে ইনশা আল্লাহ বিষয়টি অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। তাছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুকে যদি অধিকাংশ সময় কাটানো যায় অথবা ওই দিকে মনোনিবেশ করলে যেমন পোস্টে কতগুলো রিয়্যাক্টস পড়ল, কতগুলো কমেন্ট পড়ল এসব ভাবনা মাথায় থাকলে কোনো কিছুতেই মনোযোগ দেয়া সম্ভব হবে না। মোটকথা উপরোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে নিয়মিত। হোক না সেটা অল্প সময় এর জন্য হলেও।
.
 অনেকেই আছেন যারা ভবিষ্যৎ নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকে, হয়ত ভবিষ্যতে ভালো কিছু পাব না কিংবা ভবিষ্যতে অনেক খারাপ কিছু হবে এসব চিন্তায় ভেতরে অস্থিরতা কাজ করে। এটি থেকে বের হবার উপায় কী?
.
– এই ধরনের সমস্যাকে বলা হয় OCD বা Obsessive Compulsive Disorder। এই ক্ষেত্রে এমনটা হয় যে, একটি চিন্তা মাথায় আসলে সারাক্ষণ সেটা নিয়েই ভাবতে থাকে, এক সময় সেটি বৃদ্ধি পেতে পেতে অনেক জটিল আকার ধারণ করে। আরেকটি কারণ হতে পারে এ্যানজাইটি বা এ্যানজাইটিজ ডিসঅর্ডার। এটার ক্ষেত্রে সে সব কিছু নিয়ে চিন্তা করে যে, ‘এটা কী হবে?, ওইটা কী হবে?’ সবকিছুতেই একটা উদ্বেগ কাজ করে, সাথে দুশ্চিন্তা তো রয়েছেই। তো এই ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা’আলা আমাদের তাক্বদীরে যা দেখেছেন তাই হবে। ভবিষ্যতের চিন্তা বাদ দিয়ে বরং বর্তমানটাকে কিভাবে সুন্দর করা যায় সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকার জন্য Breathing Exercise অনেক ভালো একটা সমাধান।
.
 Breathing Exercise! এই জিনিসটা আবার কী?
.
– এটি এক ধরনের শারীরিক ব্যায়াম বলতে পারো। এটি মূলত ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস ভেতরে নিয়ে সেকেন্ড পাঁচেক এর মতো ধরে রেখে মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস ছাড়তে হয়। নিরিবিলি কোনো জায়গায় করলে বেশি ফলপ্রদ হয়। চেয়ারে বসে কিংবা বিছানায় শুয়ে যেকোনো উপায়েই করা যেতে পারে। যদি এটি নিয়মিত করা হয় তবে দেখা যাবে যে, তার অনেকগুলো উপসর্গ আপনা-আপনিই চলে গেছে।
.
আমি একটা কাজ আর করব না ঠিক করেছি (বারবার গুনাহ করে ফেলি), কিন্তু বারবার কাজটি করেই চলেছি, এর থেকে বের হওয়ার উপায় কী?
.
– কেউ একটি কাজ বারবার করছে তার মানে সে কাজটিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং কাজটি করতে তার কাছে ভালো লাগছে। এখন কাজটি ছাড়তে হলে সেটি ছাড়ার প্রবল পরিমাণে ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে এবং সেই ইচ্ছাশক্তিকে সেই কাজে প্রয়োগ করতে হবে। আমরা অনেকেই ভাবি যে, আস্তে আস্তে কাজটি ছেড়ে দেব কিন্তু এমন করা যাবে না। কাজটি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। অন্যথায় দেখা যাবে আস্তে আস্তে ছেড়ে দেব বলে পুনরায় সে তাতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই এমন চিন্তা বাদ দিয়ে কাজটি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে, “মুক্ত বাতাসের খোঁজে” বইটি কিন্তু বেশ ভালো রকমের সাহায্য করবে। আর সর্বদা আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দু’আ করতে হবে।
.
 আমরা যদি আমাদের আশেপাশে এমন কাউকে দেখি যে, সে আত্মহত্যা করতে চাচ্ছে বা আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে তবে আমরা তার জন্য কি কি করতে পারি?
.
– আমরা তাদের এইটা বুঝাতে পারি যে, সময় হয়তো এখন খারাপ কিন্তু আল্লাহ তা’আলা চাইলে নিশ্চয়ই আবার ভালো সময় আসবে। যাদের সমস্যাটা এমন যে, আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসে কিন্তু ততটা মারাত্মক না, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ কাউন্সেলিং করা যেতে পারে অথবা বিষণ্ণতা দূর করার যে সব উপায় সমূহ আছে, যেমন Breathing Exercise করা যেতে পারে। তাছাড়া, সম্প্রতি কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, আত্মহত্যা করার আগে ব্যক্তিটি কিন্তু নিয়মিত ফেসবুকে পোস্ট দেয়, তাই এই ধরণের কোনো পোস্ট দেখার সাথে সাথে তার পরিবারের সাথে কোনো বিলম্ব ছাড়াই যোগাযোগ করবে। আর যখন দেখা যায় যে, তোমার পরিচিত কোনো ব্যক্তির সাথে Severe হতাশা এর লক্ষণগুলো মিলে যায় এবং সে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে এমন ক্ষেত্রে তাকে আর তার আগের অবস্থানে রাখা যাবে না, এক্ষেত্রে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। তারপর চিকিৎসার মাধ্যমে তার অবস্থার উন্নতি হলে তখন তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে। আর যদি দেখা যায় যে, আমার নিজের মধ্যেই আত্মহত্যা চিন্তা আসছে তবে পরিবারের কাউকে হোক বা বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুকে জানিয়ে হোক কোনো একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। সবশেষে এটাই বলব যে, আমাদের সব সময় এই কথাটি মাথায় রাখা উচিত, “আল্লাহ তা’আলা আমাকে যে জীবন দান করেছেন তার মালিক আমি না, তাই আমি সেটাকে নষ্ট করতে পারিনা।