হতাশা ও মনোবিদ ভাইয়া!

হতাশা ও মনোবিদ ভাইয়া!

হতাশা ও মনোবিদ ভাইয়া!
.
মূলঃ ডা. তানভীর রহমান
শ্রুতি লিখনঃ আব্দুস সালাম
ⓒ ষোলো ম্যাগাজিন, সংখ্যা ৩

—-

আমাদের আশেপাশে হতাশ মানুষের সংখ্যা কিন্তু নেহাতই কম না। এমনকি আমরাও ছোটখাটো তুচ্ছ বিষয়ে বেশ ভেঙে পড়ি। আর বয়সটা তো এমনই যে অনেক অনেক আবেগ জমা হয়ে থাকে মনের মধ্যে। পত্র-পত্রিকায় চোখ রাখলে কিছুদিন পরপরই খবর আসে কোনো না কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করছে। এর পেছনেও কিন্তু নাটের গুরু অধিকাংশ সময়ই এই হতাশা। চলো জেনে নেওয়া যাক প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে এই বিষয় সম্পর্কেঃ
.
 ডিপ্রেশন বা হতাশা কী ? সাধারণ মন খারাপ ও হতাশা’র মধ্যে পার্থক্যই বা কী?
.
– সাধারণ মন খারাপ হলো আমাদের একটি Emotional Reaction আর হতাশা হলো একটি মানসিক রোগ। আমাদের যে সাধারণ মন খারাপ হয়ে থাকে তা যখন অনেকদিন স্থায়ী হয় তখনই মূলত সেটি হতাশায় পরিণত হয়। যেটিকে Medical Science এর ভাষায় Clinical Depression অথবা Major Depressive Disorder বলা হয়, যা বলতে আমরা বিষণ্ণতা বুঝি। সাধারণ মন খারাপের সময় সীমা যত দীর্ঘ হতে থাকে তখন মূলত চিন্তা, আচরণ, আবেগ সবকিছুর সংমিশ্রণে সেটি হতাশা বা হতাশায় রূপ নেয়।
.
 আমরা কখন বুঝতে পারব যে, কেউ হতাশায় ভুগছে কি-না অথবা হতাশার লক্ষণ সমূহ কী কী?
.
– American Psychological Association এর মতে কিছু বিষয়কে তারা হতাশার Criteria বা নির্ণায়ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে Diagnostic Statistical Manual বা DSM-5 হতাশার ৯ থেকে ১৩ টি লক্ষণ নির্ধারণ করেছে। যদি কারো মধ্যে পাঁচটি পুরোপুরি প্রকাশ পায় তবে আমরা বলতে পারি সে হতাশায় ভুগছে। যেমনঃ
.
• দিনের অধিকাংশ সময় মন খারাপ থাকা।

• কোনো কিছুতেই পূর্বের ন্যায় আনন্দ না পাওয়া, পূর্বে যা ভালো লাগত তা আর ভালো না লাগা।

• আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া।

• খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, যেমন কম খাওয়া অথবা বেশি খাওয়া। ওজন কমে যাওয়া অথবা বেড়ে যাওয়া, রাতে দেরিতে ঘুম আসা বা ঘুম ভেঙে গেলে আর ঘুম না আসা।

• আত্মহত্যার চিন্তা-চেষ্টা করা, ইত্যাদি।
.

 হতাশা শুরু হয় কেন?
.
– বিষণ্ণতা সাধারণত কোনো কারণবশত শুরু হতে পারে আবার কোনো কারণ ছাড়াও শুরু হতে পারে, যেমন সাধারণ মন খারাপের যেসকল কারণ রয়েছে যেমন নিকট আত্মীয় মারা যাওয়া, ব্যবসায় লস হওয়া, রিলেশনশিপ ব্রেকআপ ইত্যাদি কারণে হতাশা হতে পারে আবার কোনো কারণ ছাড়াও হতে পারে যেটিকে Androgynous Depression বলা হয়।
.
 হতাশা থেকে বের হওয়ার উপায়?
.
– হতাশাকে সাধারণত Mild, Moderate, Severe এই তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়। Mild এবং Moderate এর বেলায় সাধারণত কোনো ঔষধ লাগেনা, যদি তাকে সাধারণ কাউন্সেলিং করা হয় এবং বন্ধুবান্ধব ও পরিবার সাপোর্ট দেয় তবে সে হতাশা থেকে বের হয় আসতে পারে। আর Severe এর বেলায় সাধারণত কাউন্সেলিং এ কাজ হয়না, তখন ঔষধের সাহায্য নেয়া হয়ে থাকে। এককথায় হতাশার তীব্রতা অনুযায়ী তার চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। যদি সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয় তবে ইনশা আল্লাহ এর থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।
.
 প্রাথমিক স্তরের ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজের পক্ষে ব্যাপারটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব?
.
– প্রথমত আমাদের মাথায় এই কথাটি খুব ভালোভাবে গেঁথে নিতে হবে যে, “Life is not a bed of roses”, অর্থাৎ জীবন ফুলশয্যা নয়। জীবনটা কারো কাছেই সহজ নয়। আমরা সাধারণত যাদের বাইরে থেকে দেখি অথবা সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখে ভাবি যে, তার লাইফটা কত সুন্দর, কিন্তু‌ আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা যেগুলো দেখি সেগুলো প্রায় সবই কৃত্রিম। সবাই সাধারণত নিজের সবচেয়ে ভালোটা সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে এবং খারাপটাকে ঢেকে রাখে। তাই সেগুলো দেখে এমন ভাবা যাবে না যে সে অনেক ভালো অবস্থানে আছে আর আমার অবস্থান অনেক খারাপ। তাছাড়াও বন্ধু নির্বাচনে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। যদি সবাইকে বন্ধু ভাবা যায় এবং সবাইকে যদি মনের কষ্টের কথা গুলো শেয়ার করা যায় তবে এমন হতে পারে যে, কিছু বন্ধু অনুপ্রেরণা দেয়ার পরিবর্তে উল্টো হতাশা বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনও হতে পারে যে এর প্রেক্ষিতে হতাশায় আক্রান্ত ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করতে পারে যা সে আগে করার চিন্তা করেনি। এছাড়া বাবা-মায়ের সাথে যদি বোঝাপড়া ভালো হয় তবে তাদের সাথে বিষয়টি শেয়ার করা যেতে পারে অথবা বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুর সাথে শেয়ার করে সাহায্য চাইতে হবে। আর যদি এমন অবস্থার সুযোগ না থাকে তবে কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে অবশ্যই পরামর্শ করতে হবে।
.
 অনেক হতাশ মানুষই পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না, এক্ষেত্রে করণীয়?
.
– যদি এমন হয় যে, কেউ পূর্বে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারত কিন্তু এখন পারছে না তবে তার কারণটা খুঁজে বের করতে হবে। আরেকটি ব্যাপার হলো পড়াশোনার যে লক্ষ্য তা স্থির রাখতে হবে। সে পড়াশোনা করছে কেন বা পড়াশোনা করে সে আসলে কী করতে চায় বা কী হতে চায় এইটা যদি ঠিকমত মাথায় রাখে তবে ইনশা আল্লাহ বিষয়টি অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। তাছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুকে যদি অধিকাংশ সময় কাটানো যায় অথবা ওই দিকে মনোনিবেশ করলে যেমন পোস্টে কতগুলো রিয়্যাক্টস পড়ল, কতগুলো কমেন্ট পড়ল এসব ভাবনা মাথায় থাকলে কোনো কিছুতেই মনোযোগ দেয়া সম্ভব হবে না। মোটকথা উপরোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে নিয়মিত। হোক না সেটা অল্প সময় এর জন্য হলেও।
.
 অনেকেই আছেন যারা ভবিষ্যৎ নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকে, হয়ত ভবিষ্যতে ভালো কিছু পাব না কিংবা ভবিষ্যতে অনেক খারাপ কিছু হবে এসব চিন্তায় ভেতরে অস্থিরতা কাজ করে। এটি থেকে বের হবার উপায় কী?
.
– এই ধরনের সমস্যাকে বলা হয় OCD বা Obsessive Compulsive Disorder। এই ক্ষেত্রে এমনটা হয় যে, একটি চিন্তা মাথায় আসলে সারাক্ষণ সেটা নিয়েই ভাবতে থাকে, এক সময় সেটি বৃদ্ধি পেতে পেতে অনেক জটিল আকার ধারণ করে। আরেকটি কারণ হতে পারে এ্যানজাইটি বা এ্যানজাইটিজ ডিসঅর্ডার। এটার ক্ষেত্রে সে সব কিছু নিয়ে চিন্তা করে যে, ‘এটা কী হবে?, ওইটা কী হবে?’ সবকিছুতেই একটা উদ্বেগ কাজ করে, সাথে দুশ্চিন্তা তো রয়েছেই। তো এই ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা’আলা আমাদের তাক্বদীরে যা দেখেছেন তাই হবে। ভবিষ্যতের চিন্তা বাদ দিয়ে বরং বর্তমানটাকে কিভাবে সুন্দর করা যায় সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকার জন্য Breathing Exercise অনেক ভালো একটা সমাধান।
.
 Breathing Exercise! এই জিনিসটা আবার কী?
.
– এটি এক ধরনের শারীরিক ব্যায়াম বলতে পারো। এটি মূলত ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস ভেতরে নিয়ে সেকেন্ড পাঁচেক এর মতো ধরে রেখে মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস ছাড়তে হয়। নিরিবিলি কোনো জায়গায় করলে বেশি ফলপ্রদ হয়। চেয়ারে বসে কিংবা বিছানায় শুয়ে যেকোনো উপায়েই করা যেতে পারে। যদি এটি নিয়মিত করা হয় তবে দেখা যাবে যে, তার অনেকগুলো উপসর্গ আপনা-আপনিই চলে গেছে।
.
আমি একটা কাজ আর করব না ঠিক করেছি (বারবার গুনাহ করে ফেলি), কিন্তু বারবার কাজটি করেই চলেছি, এর থেকে বের হওয়ার উপায় কী?
.
– কেউ একটি কাজ বারবার করছে তার মানে সে কাজটিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং কাজটি করতে তার কাছে ভালো লাগছে। এখন কাজটি ছাড়তে হলে সেটি ছাড়ার প্রবল পরিমাণে ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে এবং সেই ইচ্ছাশক্তিকে সেই কাজে প্রয়োগ করতে হবে। আমরা অনেকেই ভাবি যে, আস্তে আস্তে কাজটি ছেড়ে দেব কিন্তু এমন করা যাবে না। কাজটি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। অন্যথায় দেখা যাবে আস্তে আস্তে ছেড়ে দেব বলে পুনরায় সে তাতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই এমন চিন্তা বাদ দিয়ে কাজটি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে, “মুক্ত বাতাসের খোঁজে” বইটি কিন্তু বেশ ভালো রকমের সাহায্য করবে। আর সর্বদা আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দু’আ করতে হবে।
.
 আমরা যদি আমাদের আশেপাশে এমন কাউকে দেখি যে, সে আত্মহত্যা করতে চাচ্ছে বা আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে তবে আমরা তার জন্য কি কি করতে পারি?
.
– আমরা তাদের এইটা বুঝাতে পারি যে, সময় হয়তো এখন খারাপ কিন্তু আল্লাহ তা’আলা চাইলে নিশ্চয়ই আবার ভালো সময় আসবে। যাদের সমস্যাটা এমন যে, আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসে কিন্তু ততটা মারাত্মক না, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ কাউন্সেলিং করা যেতে পারে অথবা বিষণ্ণতা দূর করার যে সব উপায় সমূহ আছে, যেমন Breathing Exercise করা যেতে পারে। তাছাড়া, সম্প্রতি কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, আত্মহত্যা করার আগে ব্যক্তিটি কিন্তু নিয়মিত ফেসবুকে পোস্ট দেয়, তাই এই ধরণের কোনো পোস্ট দেখার সাথে সাথে তার পরিবারের সাথে কোনো বিলম্ব ছাড়াই যোগাযোগ করবে। আর যখন দেখা যায় যে, তোমার পরিচিত কোনো ব্যক্তির সাথে Severe হতাশা এর লক্ষণগুলো মিলে যায় এবং সে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে এমন ক্ষেত্রে তাকে আর তার আগের অবস্থানে রাখা যাবে না, এক্ষেত্রে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। তারপর চিকিৎসার মাধ্যমে তার অবস্থার উন্নতি হলে তখন তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে। আর যদি দেখা যায় যে, আমার নিজের মধ্যেই আত্মহত্যা চিন্তা আসছে তবে পরিবারের কাউকে হোক বা বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুকে জানিয়ে হোক কোনো একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। সবশেষে এটাই বলব যে, আমাদের সব সময় এই কথাটি মাথায় রাখা উচিত, “আল্লাহ তা’আলা আমাকে যে জীবন দান করেছেন তার মালিক আমি না, তাই আমি সেটাকে নষ্ট করতে পারিনা।

শেয়ার করুনঃ
সিনেমার সাথে বিচ্ছেদ ঘটুক আজ থেকেই!

সিনেমার সাথে বিচ্ছেদ ঘটুক আজ থেকেই!

সিনেমার সাথে বিচ্ছেদ ঘটুক আজ থেকেই।
.
বিভিন্ন মুভির ক্যারেক্টার আমাদের কতই না প্রিয়! ব্যাটম্যান থেকে স্পাইডারম্যান, ওলভারিন থেকে টম ক্রুজ, সকল চরিত্রের খুঁটিনাটি আমাদের নখদর্পণে।
.
#সিনেমার ভালােলাগার দিকগুলাে বাস্তব জীবনে প্রয়ােগ করার চেষ্টা করেনি এমন মানুষ কিন্তু বিরল। তাই ইসলামের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোয়ারেন্টাইন এর হট টপিককে কিভাবে বিদায় করা যায় তাই নিয়েই থাকছে আমাদের এইবারের বিশষ আয়োজন ‘সিনেমা সংখ্যা’।
.
#ষোলো’ এর এবারের সংখ্যাটা মূলত সিনেমা আসক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়েই। বিভিন্ন লেখায় উঠে এসেছে কিভাবে সিনেমা আমাদের ক্ষতি করে, কিভাবে তিল তিল করে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। লেখাগুলো পড়ে হয়তো কারো কারো টনক নড়তেও পারে ইন শা আল্লাহ।
পাশাপাশি আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে কিছু লেখা থাকছে। ক্রুসেডার #ফ্রান্সকে তাদের প্রাপ্য আমরা বুঝিয়ে দিতে পারিনি। কিন্তু তাদেরকে কোনঠাসা করার সামর্থ্য আমাদের আছে। তাদের সকল পণ্য বয়কট করা। ঝিমিয়ে পড়া বয়কট আন্দোলনকে জাগিয়ে দিতে থাকছে #লস্টমডেস্টি টিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা।
.
অনেক বকবক করলাম। এবার কাজের কথায় আসি। এক্ষুনি ডাউনলোড করে নাও তোমাদের প্রিয় ‘ষোলো’ এর নভেম্বর সংখ্যাটি। ডাউনলোড লিংক- https://rebrand.ly/SholoNovember1
.
ডাউনলোড করে রেখে দিলে কোনো ফায়দা হবে না। পড়তে হবে। ঝটপট পড়ে ফেলতে হবে। তারপর সে অনুযায়ী আমল করতে হবে। বুঝলে?
.
আর তোমার বন্ধু/বান্ধবীর সাথে শেয়ার করতে ভুলো না কিন্তু!
শেয়ার করুনঃ
ষোলো

ষোলো

ষোলো হল কিশোর বয়স্কদের জন্য নিবেদিত ইসলামিক ম্যাগাজিন। যেখানে প্রতি সংখ্যায় চেষ্টা করা হচ্ছে এমন কোনো ভয়ংকর আসক্তি নিয়ে আলোচনা যা সাধারণের চোখে তেমন কিছু না হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে সাংঘাতিক বিষয়। তিলে তিলে নিষ্পেষিত হয়ে যাচ্ছে যেসব কারণে আমাদের কিশোর-কিশোরীরা তাদেরকেই মুক্ত বাতাসের খোঁজ দিতে আমাদের এই অনবদ্য আয়োজন। সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকে যেন নির্ভুল ম্যাগাজিন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাণ্ডারীদের হাতে তুলে দিতে পারি। বর্তমানে চলছে প্রস্তুতি সংখ্যার কাজ। যখন ষোলোর সব পাঠক প্রস্তুতি সংখ্যার ওপর সন্তুষ্ট হবে ঠিক তখনই বাজারে কিনতে পাওয়া যাবে ষোলো, ইন শা আল্লাহ।
.
ষোলোর সাথে কিভাবে কাজ করব?
.
– তোমার লেখার হাত যদি বেশ ভালো হয় তাহলে নিজের সেরা টপিকটা নিয়ে কিন্তু লিখতে পারো। এইক্ষেত্রে কাওকে দ্বীনের পথে আহবান এর পাশাপাশি সমসাময়িক বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টপিক, বিজ্ঞান, গণিত এর মত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে সাবলীলভাবে লিখেও পাঠাতে পারো। আমাদের রিক্রুটিং টিমের তোমার লেখাকে পছন্দ হলে হয়ে যেতে পারো ষোলো রাইটিং প্যানেলের সদস্য। আর তাছাড়া কিভাবে ষোলোকে আরো উন্নত করা যেতে পারে সেইক্ষেত্রেও কিন্তু তোমার মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকতো পারো।
.
লেখা পাঠানোর ঠিকানাঃ [email protected] । আর তাছাড়া যেকোনো পরামর্শ এই পোস্টের কমেন্ট, ফেসবুক গ্রুপ (মুক্ত বাতাসের খোঁজে ও ক্ষুদে পণ্ডিতের শ্লেট-পেনসিল) কিংবা ই-মেইলে জানাতে পারো।
.
চমক থাকবেইঃ মেইলে পাঠানো বাছাইকৃত লেখাগুলো কিন্তু নিয়মিত আমাদের পেইজ থেকে প্রকাশিত হবে ইন শা আল্লাহ। আর যেকোনো আপডেট সবার আগে পেতে “See FIrst” করে রাখতে পারো। কমেন্টে থাকছে আগের সংখ্যাগুলোর পিডিএফ ও গুগল ফর্ম লিংক।

ষোলো পেইজ লিংক-

https://web.facebook.com/SholoOfficial
শেয়ার করুনঃ
মাসিক কিশোর ম্যাগাজিন ‘ষোল’- অক্টোবর-২০২০ সংখ্যা।

মাসিক কিশোর ম্যাগাজিন ‘ষোল’- অক্টোবর-২০২০ সংখ্যা।

চারপাশ জুড়ে যখন অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, অসভ্যতার কালো মেঘে মেঘাচ্ছন্ন হয়েছে আকাশ ঠিক সেই মুহূর্তে সুস্থ বিনোদনের লক্ষ্যে, সুষ্ঠু সংস্কৃতি চর্চার উদ্দেশ্যে, বড়ো ভাই হয়ে ছোটদেরকে কিছু নাসিয়াহ দেওয়ার জন্যে, একটু মুক্ত বাতাসের সন্ধান দেওয়ার জন্যেই ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ গ্রুপের পথচলা। আর তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ- গতমাস থেকে প্রকাশিত হওয়া এই ম্যাগাজিন- ‘ষোলো’।
.
‘ষোলো’ ম্যাগাজিনের অক্টোবর সংখ্যা এটি। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম প্রকাশিত হয় । নাম শুনলেই বোঝা যায়, যেই বয়সটা কিশোর-কিশোরীদের জন্যে সবচেয়ে গঠনমূলক এবং সেন্সিটিভ, হাঁটতে পারলে দারুণ পথ আর পা পিছলালেই সব শেষ- সেই বয়সটা নিয়েই ‘ষোলো’-র পথ চলা। কেবলমাত্র একঝাঁক ফুলের মতো কিশোর-কিশোরী যারা আগামীদিনে প্রস্ফুটিত হয়ে সুবাসিত করবে এই পৃথিবী তাদেরকে সেই প্রস্ফুটিত হওয়ার পরিবেশটা তৈরি করে দিতেই ‘ষোল’ কাজ করে যাচ্ছে বিনাস্বার্থে। বিন্দুমাত্র স্বার্থ ছাড়া। ‘ষোল’-র চাওয়া এই যে, আমাদের কিশোর-কিশোরীরা মুক্ত বাতাসের অভাবে পথ হারিয়ে না ফেলে। যারা ওই বয়সটা পার করে এসেছে তাদের থেকেই কিছু নাসিয়াহ শুনে সামনের পথটাকে মসৃণ করে নিতে আজ আমাদের সবাইকে জাগতে হবে। কাজে লাগাতে হবে ‘ষোলো’।
.
আর, নাম ‘ষোল’ বলে শুধু ষোল বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর জন্যেই ম্যাগাজিনটি তা কিন্তু না। বরং, স্কুল-কলেজের(ক্ষেত্র বিশেষ বড় মানুষের জন্যেও) সবার জন্যে উপযোগী করে তোলা হয়েছে এই ‘ষোলো’।

.

‘ষোলো’ ম্যাগাজিনে যা যা থাকে- 

কুরআন এবং হাদিস থেকে- সাব ক্যাটাগরি হিসেবে মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে ধারণা, জান্নাত জাহান্নাম থাকতে পারে। কখনক ভয়, কখনো আশা। এমন।
আমরা যাদের উত্তরসূরী- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অন্যান্য নবী-রাসূল, সাহাবা সহ সকল মুসলিম মনীষীদের জীবনের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পাশাপাশি উক্ত ঘটনা থেকে শিক্ষা
ডাক্তারখানা- কিশোরদের শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান
আমাদের নারীরা- মুসলিম সমাজে নারীর মর্যাদা, দায়িত্ব, সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা।
• রিলেশনশিপ, জাস্ট ফ্রেন্ড, বেস্ট ফ্রেন্ড এবং ফ্রি মিক্সিং-এর বিভিন্ন ক্ষতি- এর থেকে বেঁচে থাকার উপায়
তাজকিয়া/আত্মশুদ্ধি
. সমকালীন মুসলিম বিশ্ব
. কুরআন ও হাদিস থেকে পাওয়া মাসনূন দোয়া– এর অর্থ, গুরুত্ব ও ফযিলত
. আক্বিদা ( সহিহ ও ধারাবাহিক বিশ্লেষণ)
. বন্ধু, সহপাঠীর সঙ্গে কিশোরদের মনোভাব এবং আচার-আচরণ চালচলন যেমন হওয়া উচিত।
. বুক সাজেশন
. বিভিন্ন সোশ্যাল একটিভিটি, যেমন পর্নোগ্রাফি বিরোধী প্রচারণা, নিরক্ষরকে পড়া শেখানো, পথশিশুদের নিয়ে কোন ইভেন্ট তৈরি করা এর পেছনে উৎসাহ জোগানো ।
.
পরিশেষে, ছোট ভাই-বোনগুলো একটু সত্যানুরাগী হয়ে উঠুক এবং যারা ‘ষোলো’র পিছনে শ্রম দিয়েছে তাদের জন্য দু’আ করুক- এটিই ‘ষোলো’-র চাওয়া।
ধন্যবাদ।
.

অক্টোবর সংখ্যার ডাওনলোড লিংক- https://rebrand.ly/ht5xc

গত সেপ্টেম্বর সংখ্যার ডাওনলোড লিংকঃ https://rebrand.ly/sholo

আর তাছাড়া আগামী সংখ্যাগুলো প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যেতে ফর্ম ফিলাপ করে রাখুন এইখান থেকেঃ https://forms.gle/rDD1D2YyN1VXSF9T7

তাদের অফশিয়াল ফেইসবুক পেইজ- https://www.facebook.com/SholoOfficial

 

শেয়ার করুনঃ
সমকামিতাঃ নাটের গুরু কারা? (প্রথম পর্ব)

সমকামিতাঃ নাটের গুরু কারা? (প্রথম পর্ব)

এই পোস্টে যেই ছবি গুলো দেখছেন তা বাংলাদেশে তোলা এবং ‘HIGH COMMISSION OF CANADA TO BANGLADESH’ এর ভেরিফাইড পেইজ থেকে নেওয়া।

যারা জানেন না, তাদের জন্য উল্লেখ করছি, ছবিতে রঙিন যে পতাকা দেখতে পাচ্ছেন এটা হচ্ছে এলজিবিটি (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেনডার) কমিউনিটির পতাকা। ফেসবুকে এই মাসে (জুন মাসে) নিশ্চয়ই বিভিন্ন পেইজে এই পতাকার রঙে করা ছবি দিতে দেখেছেন। যারাই দিচ্ছে তারাই সমকামিতা সহ নানা অনৈতিক এবং জঘন্য কিছু পাপের সমর্থনেই দিচ্ছে!

সমকামিতা ইসলামে হারাম এবং এমনকি এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের আইনেও  অবৈধ!

কিন্ত কানাডা, আমেরিকা,যুক্তরাষ্ট্রের মত কিছু দেশ তা পুরা বিশ্বে এবং তার মানে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রোপ্যাগান্ডা চলাচ্ছে!

আজ কানাডিয়ান হাই কমিশনের বাংলাদেশ ভিত্তিক পেইজ, বিভাগ প্রকাশ্যে সমকামিতা প্রমোট করার সাহস দেখাচ্ছে! তারা তাদের পোস্টে নিজেরাই লিখেছে যে তারা বাংলাদেশে সমকামী অধিকার গড়ে তুলতে চায়! তার এতটাই সাহস পেয়ে গিয়েছে যে এখন আর গোপনেও কাজ করছে না!

আর এই পতাকা উড়ানোতে তাদের সাথে  আমেরিকা, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও যোগদান করেছিল- যেটা তাদের পোস্টে উল্লেখিত আছে। এবং সেসব দূতাবাসকেও ট্যাগ দেওয়া আছে।

এবং এসব কিছুর মধ্যে আমার মুসলিম হিসেবে সবচেয়ে কি বেশী খারাপ লেগেছে জানেন? এই পোস্টের অধিকাংশ রিএক্ট   মুসলিম এবং কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীদের থেকে। এবং পজিটিভ রিএক্টের সংখ্যাই বেশী। যেই কয়েকজন প্রতিবাদ করেছে তাদের উপর যেন একেবারে ঝাপিয়ে পড়েছে মুসলিম নামধারী লিবারেলরা।

আজ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেপরোয়া ভাবে সমকামিতা প্রমোট করা এবং সমাকামীদের প্রিয় দেশের মধ্যে অন্যতম একটি দেশ হল, কানাডা।

কিন্ত অনেক বড় এক অংশ অবুঝ বাংলাদেশী জনগণ কানাডাকে রীতিমত পৃথিবীর মাঝে এক বেহেস্ত মনে করে। এবং তাদের প্রধানমন্ত্রীকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ লিডার টাইপের কিছু একটা মনে করে! কিছু হলেই ‘ঈশ! আমাদের যদি ট্রুডোর মত লিডার থাকত এরকম আফসোস করতে দেখা যায়!’

কিন্ত আপনি কি জানেন যে জাস্টিন ট্রুডো কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমকামি সাপোর্টিং প্রধানমন্ত্রী? এবং সে সবচেয়ে বেশী প্রাইড প্যারেডে ( সমকামীদের র‍্যালি)  গিয়েছে?  পুরুষ এবং পুরুষের মাঝে বিয়ে, মহিলা এবং মহিলার মাঝে বিয়ে এসব খুব শক্তভাবে সমর্থন করে সে? ( পোস্টের  ছবি দেখুন, সমকামিদের পতাকা হাতে ট্রুডো। এরপরেও সন্দেহ থাকলে রেফারেন্সে দেওয়া লিংকগুলো চেক করে নিন)

কেন আজ বাংলাদেশীদের কাছে এত প্রিয় এই সমকামী দেশ এবং তার  প্রধানমন্ত্রী?

শুধু মাত্র সুন্দর কিছু কথা, ঈদ মুবারক ভিডিও আর সহজ ইমিগ্রেশন পলিসি পেয়েই বাংলাদেশীরা বোকা হয়ে গিয়েছে!

কেন আমরা আজ প্রশংসার জন্য সমকামিতার সমর্থক লিবারেলদের দিকে তাকিয়ে থাকব?

আর কেনই বা সমকামী দেশে যাওয়ার জন্য এতই উদগ্রীব থাকব?  তারা সহজ ইমিগ্রেশন দিলেই তাদের ভালো চোখে দেখব?

এবং দেখুন যেসব মুসলিমরা সেখানে থাকছে তাদের বেশিভাগ অলরেডি ব্রেইন-ওয়াশড হয়ে সমকামিতার মত জঘন্য পাপ সমর্থন করছে! কারন, আপনি যখন একটা দেশকে এবং তার লিডারকে সুপিরয়র মনে করবেন তাদের তারা যাই প্রচারিত হবে তা দ্বারা আপনি অনুপ্রাণিত হবেন!

এবং আজ কানাডার মত প্রথম বিশ্বের দেশে যেসব মুসলিম পরিবারের ছেলে মেয়ে ছোট থেকে বড় হচ্ছে তারা ইসলাম থেকে অনেক দুরে সরে যাচ্ছে। এবং ইসলাম থেকে দূরে সরে  যাওয়ার হার অনেক বেশী! এবং বর্তমানে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে তাদের মাঝে অধিকাংশই সমকামিতা, লিবারেলিজম, সেকুলারিজম ইত্যাদি সমর্থন করে! কানাডায় থাকা এক ভাইয়ের অভিজ্ঞতা পড়ুন এখানে

এবং সেখানে আরেকটি ব্যাপার হল মুসলিমদের উপর ব্যাড কপ – গুড কপ মেথড চালানো হয়েছে। এক রাজনৈতিক দল কিছুটা সহজ ইমিগ্রেশন পলিসি দেয় আর একটা কিছুটা কঠিন। এখন সহজ পলিসির লোভে এই দুই এর মাঝে মুসলিমরা একটা পার্টি সাপোর্ট দেয়, যারা কি না সমকামিতার মত পাপও প্রমোট করে! আর এটা আমার কোনো থিওরি না। তারা নিজেরাই বলছে, তারা নিজেরাই বলছে যে তারা বিশ্বে সমকামিতা ছড়িয়ে দিতে চায়! তাহলে তাদের সহজ ইমিগ্রেশন পলিসির পিছনে নিয়্যত কী তা আমাদের ভেবে দেখা উচিৎ না? এমন কি হতে পারে না যে তারা দেশের আপার ক্লাসদের তাদের দেশে নিয়ে এসব আইডিওলিজিতে অভ্যস্ত করে দিতে চায় যেন তারা সেটা নিজ নিজ দেশে ছড়িয়ে দিতে ভুমিকা পালন করে? এখন দেখা যাচ্ছে অনেক মেধাবি ছাত্র যে কি না দেশে থাকতে মুসলিম ছিল, ইসলাম প্র্যাকটিস করত সে বাহিরে পড়াশোনা করতে যেয়ে ধর্ম ছেড়ে দিচ্ছে। বা শুধু নামে মুসলিম থেকে এসব অপকর্ম সাপোর্ট করছে! তাহলে কী হচ্ছে? বিভিন্ন দেশের কিছু স্কিলড মেধাবিদের নিয়ে যেয়ে ব্রেইন-ওয়াশড করে দেওয়া হচ্ছে! কিন্ত আজ আমরা মুসলিমরা এসব নিয়ে চিন্তা করি না! কিছু টাকা কামানোর সুযোগ পেলে, বস্তুগত কিছু সুবিধা পেলে সব ভুলে যাই।

আর বাংলাদেশেও ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে এই শুনে বড় হচ্ছে, যে জাসটিন ট্রুডো  অসাধারণ নেতা। বাংলাদেশেও তার মত প্রয়োজন। এখন এর ফলে তারাও কি অবচেতন মনেই প্রভাবিত হচ্ছে না ট্রুডোর মত নেতাদের আইডল হিসেবে দেখতে! আপনি হয়ত বিস্তারিত যাচ্ছেন না, কিন্ত আপনার এরকম মন্তব্যের কারনে অন্য কেউ বা ছোট কেউ তার ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে তার মত হতে চেতে পারে। আমাদের ইসলামিক ইতিহাসে অসাধারণ সব নেতৃত্বের উদাহরণ আছে যাদের আমরা প্রশংসা করতি পারি, অনুপ্রেরনা নিতে পারি,  আল্লাহ্‌র রাসুল হজরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছেন। আমরা কেন অন্য কোন দিকে তাকাব?

 

জাস্টিন ট্রুডো সমকামীদের পতাকার রঙের সাথে মিলিয়ে মোজা পরে একাত্মতা ঘোষনা করছেন।

কানাডিয়ান হাই কমিশনের সমকামিতার সমর্থন দিয়ে করা পোস্টের ছবি – ১

 

 

কানাডিয়ান হাই কমিশনের সমকামিতার সমর্থন দিয়ে করা পোস্টের ছবি – ২

কানাডিয়ান হাই কমিশনের সমকামিতার সমর্থন দিয়ে করা পোস্টের ছবি – ৩

কানাডিয়ান হাই কমিশনের সমকামিতার সমর্থন দিয়ে করা পোস্টে এক বাংগালী – কানাডিয়ান মুসলিমের ধন্যবাদ জানিয়ে করা কমেন্ট

নোট ১- কানাডিয়ান হাই কমিশনের এই পোস্টটি ১ বছরের আগে, আজ নতুন করে সমকামিতা ইস্যু আলোচনায় আশায় এখন পোস্টটা দিচ্ছি। আমি এটা সেই সময়েই দেখেছিলাম এবং বিভিন্ন পপুলার ইসলামিক পেইজে মেসেজ দিয়েছিলাম। কিন্ত ১০-১২ টা পেইজে মেসেজ দিয়েও একটা রিপ্লাইও পাই নাই। একেবারে কেউ আগ্রহ দেখায় নাই। তখন অবশ্য এই গ্রুপের মত কিছু গ্রুপ এবং পেইজ এবং লেখকদের চিনতাম না। তবে, এটা দুঃখের বিষয় যে আমাদের দেশের পপুলার ব্যক্তিরা এই বিষয়ে কোন সচেতনতা সৃষ্টি করছে না। ধরেন মিজানুর রহমান আজহারির মত ব্যক্তিত্বরা যাদের মিলিওন মিলিওন ফলোয়ার তারা এই ব্যাপারে কথা বললে কত বেশী মানুষ জানতে পারত!
সমকামীরা আইন বদলানোর জন্য লবিং করে যাচ্ছে, কাজ করে যাচ্ছে কোন বিরতি ছাড়া, আর আমরা মুসলিমরা ঘুমিয়ে আছি, তাদের যাদের কাছে আল্লাহ্‌র গাইডেন্স নাই তাদের কাজের গতি যদি আমাদের চেয়ে বেশী হয় তাহলে কিন্ত এর দায় আমাদের নিতে হবে, এর উত্তর আমাদের দিতে হবে, যখন আমাদের সমাজে এসব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন আমরা মুসলিমরা কী করছিলাম?

চলুন আমরা জেগে উঠি, সবাই মিলে চেষ্টা করলে সফলতা আমরাই পাব ইন শা আল্লাহ্‌

নোট ২- উল্লেখ্য, ইরাকেও কানাডা, ইংল্যান্ড সহ কয়েকটি দেশ  সমকামিতার সমর্থনে পতাকা উড়িয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেছিল। কিন্ত পরবর্তীতে, ইরাকের প্রতিবাদ/অনুরধে তারা সেই পোস্ট ডিলিট করে দেয়। তার মানে ব্যাপারটা এমন না যে বাংলাদেশ সরকারের এখানে কিছু করার নাই। সরকার কী কিছু শুনছে?

 

চলবে ইনশা আল্লাহ…

(লেখক- অজ্ঞাত। কেউ লেখকের সন্ধান জানলে আমাদের জানাতে পারেন ইনশা আল্লাহ। আমরা এড করে দিব।)

(লস্ট মডেস্টি টিম কর্তৃক সম্পাদিত)

অবশ্যই পড়ুন-

সমকামি এজেন্ডাঃ ব্লু-প্রিন্ট

আর রিজালু বির রিজাল…

 

রেফারেন্সঃ

[১] High Commission of Canada to Dhaka, post source-  https://tinyurl.com/y74nju2b

[১] Justin Trudeau becomes first Canadian PM to visit a gay bar- https://tinyurl.com/y2kkpe53

[২] ‘I Am Sorry. We Are Sorry.’ Read Prime Minister Justin Trudeau’s Formal Apology to Canada’s LGBTQ Community- https://tinyurl.com/ycfuo9br

[৩] Justin Trudeau becomes first Canadian PM to march in Toronto’s Pride parade- https://tinyurl.com/y7r5conu

[৪] Trudeau, Quebec dignitaries march in Montreal Pride parade- https://tinyurl.com/ycssboqv

শেয়ার করুনঃ
মাপকাঠি

মাপকাঠি

নারীপুরুষের মেলামেশার সীমানা কেমন হওয়া উচিত?

প্রশ্নটা নিয়ে ভালোই বিতর্ক শুরু হলো ক্লাসের মেয়েদের মধ্যে। মন পরিষ্কার থাকা, ভালো নিয়্যাত থাকা, উদ্দেশ্য ভালো হওয়া কি যথেষ্ট? নাকি শরীয়াহর দিকনির্দেশনা আর সীমারেখাও মেনে চলতে হবে?

‘আমাদের বয়স তো এখনো কম’, একজনকে বলতে শোনা গেল।

‘কোন বয়সটা কম, কোনটা বেশি, সেটা কিসের ভিত্তিতে ঠিক হবে?

ম্যাচিউরিটি এসেছে কি না সেটার মাপার মাপকাঠি কী? বরং প্রশ্ন হলো, আমরা কি এখন শরীয়াহর দৃষ্টিতে দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন? বালেগা?’

‘যদি মন পরিষ্কার থাকে তাহলে ছেলেমেয়ের মেলামেশায় সমস্যা কী? এটা তো কোনো পাপ না! ’

ঠিক-বেঠিক কে ঠিক করবে? সমাজ, সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র? নাকি শরীয়াহ?

‘আরে তুই তো হুজুরনীদের মতো কথা বলছিস!’
.
বিতর্ক চলতেই থাকল।
বিষয়টা স্কুল প্রিন্সিপালের কানে গেল। তিনি ক্লাসে আসলেন। তবে আসার কারণ ওদের বললেন না। ধীর পায়ে ক্লাসে ঢুকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন,
.
‘আচ্ছা মেয়েরা বলো তো, এই টেবিলটা বড় না ছোট?’

‘ছোট!’, বলল একজন।

‘না, বড়!’ ওর কথার রেশ মিলিয়ে যাবার আগেই আরেকজন চেঁচিয়ে বলল ।

‘আরে না, টেবিলটা মাঝারি সাইজের’, সবজান্তার সুরে বলে উঠল তৃতীয়জন।

মুচকি হেসে প্রিন্সিপাল এবার প্রশ্ন করলেন, ‘তোমরা দেখি এখানেও একমত হতে পারছ না। একমত হতে হলে কী দরকার বলো তো?’

‘ছোট আর বড়-র সংজ্ঞা। কতটুকু হলে ছোট, কতটুকু হলে বড়, সেটা জানতে হবে।’

‘চমৎকার। আর সংজ্ঞার জানার পর কী দরকার?’

‘একটা মাপকাঠি। যা দিয়ে মাপা যাবে, তুলনা করা যাবে।’

‘সুন্দর বলেছ। এই কথাগুলো শুধু টেবিলের জন্য না; বরং আমাদের জীবনের সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যদি কোনো সংজ্ঞা ঠিক করা না থাকে, কোনো পার্থক্যকারী না থাকে এবং কোনো মাপকাঠি না থাকে, তাহলে কোনোদিন, কোনো কিছুতেই আমরা একমত হতে পারব না। এখন প্রশ্ন হলো, কোন সেই মাপকাঠি, যা দিয়ে আমরা বিচার করব? মাপব?’

‘সমাজ, সংস্কৃতি, রীতিনীতি’,

‘কিন্ত যখন সংস্কৃতি আর সমাজের রীতিনীতি বদলে যাবে?’

জবাব দিল না মেয়েটা।

‘আমাদের বাবা-মা যা করবেন, যা শেখাবেন সেটাই আমাদের
মাপকাঠি’, আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল আরেকজন।

‘কিন্তু বাবা-মা যদি একমত হতে না পারে? যদি তারাও তোমাদের মতো তর্ক শুরু করে?’

দ্বিতীয় মেয়েটাও চুপ হয়ে গেল।

‘বিবেক।’

‘সব মানুষের বিবেক কি একরকম?’

‘না।’

‘তাহলে কার বিবেককে আমরা মাপকাঠি হিসেবে নেব?’

এবার তৃতীয় মেয়েটাও চুপ।

‘যুক্তি?’, ঠিক উত্তর না, অনেকটা প্রশ্নের মতো শোনাল এবার।

‘কিন্তু যেটা তোমার কাছে যৌক্তিক সেটা তো আরেকজনের কাছে যুক্তিসম্মত নাও মনে হতে পারে, তাই না?’

‘হ্যাঁ।’
.
‘আচ্ছা এই যে তোমরা বলছ, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি, পিতামাতা, বিবেক, যুক্তি ইত্যাদিকে মাপকাঠি হিসেবে নিতে, তোমরা কি নিশ্চিত এগুলো তোমাকে সঠিক উত্তরটা দিতে পারবে?’

এবার পিনপিতন নীরবতা নেমে এল ক্লাসে। সবাই ভাবছে।

যে মেয়েটাকে হুজুরণী বলা হচ্ছিল এবার সে মুখ খুলল। অনুচ্চ, শান্ত কিন্তু নিশ্চিত গলায় বলল,

‘শরীয়াহ। মাপকাঠি হবে আল্লাহর দেয়া শরীয়াহ।’
‘ঠিক! মাপকাঠি হলো শরীয়াহ। শোনো মেয়েরা, আমরা মুসলিম। আর মুসলিম হবার অর্থ কী? এর অর্থ হলো আমরা প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তের কাছে নিজেদের সমর্পণ করি। আল্লাহ বলেছেন,

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّـهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ ۗ وَمَن يَعْصِ اللَّـهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا

আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো নির্দেশ দিলে কোনো মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারী উক্ত নির্দেশের ভিন্নতা করার কোনো অধিকার রাখে না। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে সে স্পষ্টতই সত্য পথ হতে দূরে সরে পড়ল। [তরজমা, সূরা আল-আহযাব, ৩৬]
.
এবং তিনি বলেন,

وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِن شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّـهِ ۚ ذَٰلِكُمُ اللَّـهُ رَبِّي عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ

আর যেকোনো বিষয়েই তোমরা মতবিরোধ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে; তিনিই আল্লাহ, আমার রব; তাঁরই ওপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী হই। [তরজমা, সূরা আশ-শূরা, ১০]

এবং তিনি বলেন,

فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّـهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا

যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সেই বিষয়কে আল্লাহ এবং রাসূলের (নির্দেশের) দিকে ফিরিয়ে দাও যদি তোমরা আল্লাহ এবং আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো; এটাই উত্তম এবং সুন্দরতম মর্মকথা। [তরজমা, সূরা আন-নিসা, ৫৯]
.
শোনো মেয়েরা, মানুষ ভুল করে। আমাদের ভুল হয়ে যায়। আমরা হয়তো সব সময় শরীয়াহর বিধান মেনে চলতে পারি না। ভুল হওয়াটা সমস্যা না। কিন্তু আমাদের স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে আমরা যা করছি সেটা ভুল। শরীয়াহর বিধান সঠিক। আমি হয়তো কোনো একটা ক্ষেত্রে সেটা পালন করতে পারিনি, কিন্তু আমার স্বীকার করতে হবে যে আমি যা করছি সেটা ভুল। শরীয়াহ যা ঠিক করে দিয়েছে সেটাই ঠিক।’…
.
আল্লাহ এই উম্মাহর মধ্যে এমন শিক্ষকের সংখ্যা বাড়িয়ে দিন, যারা আমাদের সন্তানদের শরীয়াহর কর্তৃত্ব সম্পর্কে শেখাবে এবং শরীয়াহকে গ্রহণ করতে শেখাবে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে।
.
বই: আয়নাঘর
লেখক: ড. ইয়াদ আল-কুনাইবি

শেয়ার করুনঃ