বদলে ফেলুন নিজেকে… এই রমাদানে (দ্বিতীয় পর্ব)

বদলে ফেলুন নিজেকে… এই রমাদানে (দ্বিতীয় পর্ব)

সফলতা কোনটা?

ক্যাম্পাসের জাতীয় ক্রাশের হৃদয় চুরি করতে পারা? প্রিয়তমার মুখে শোনা সেই কাঙ্ক্ষিত ‘জাতীয় সঙ্গীতের ২য় লাইন’? তার নিষিদ্ধ স্পর্শ?
অবসরে রুম লক করে নিজের প্রবৃত্তির ইবাদত?
মেসি-রোনালদো-সাকিবদের সাথে তোলা সেলফি?
অন্যের হক মেরে আদায় করা জমি-বাড়ি-গাড়ি-কোম্পানির টপ পজিশন?
সুদের থোড়াই কেয়ার করে ফুলে ফেঁপে উঠা ব্যাংক ব্যালেন্স?
ইসলামকে ফোর্থ সাবজেক্ট বানিয়ে দুনিয়ার আকর্ষণে ছুটে চলা?

… একটাও না?
.
উত্তর খুঁজছেন? কষ্ট করার দরকার নেই। আপনাকে চিন্তা করার ক্ষমতা যিনি দিয়েছেন, শরীরের প্রত্যেকটা কোষ যিনি সৃষ্টি করেছেন, এই মহাজগত যাঁর আদেশে চলছে সেই স্রষ্টা মহান আল্লাহ-ই বলে দিয়েছেন এই আমাদের, ইনসানদের জন্য প্রকৃত সফলতা আসলে কী –

“সেই দিন, যে দিন আল্লাহ তোমাদেরকে সমবেত করবেন। হাশর দিবসে। সেটা এমন দিন, যখন কিছু লোক অন্যদেরকে আক্ষেপের মধ্যে ফেলে দেবে। আর যারা আল্লাহর প্রতি #ঈমান আনে ও #সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন এবং তাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার নিচে নহর প্রবাহিত থাকবে। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। এটাই মহা সাফল্য।” (আত-তাগাবুন, ৬৪: ৯)

একটা অনুসিদ্ধান্তে আপানারা সবাই একমত হবেন, কোন কাজই পরিকল্পনা-পরিস্থিতি-প্রচেষ্টা ছাড়া বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ঠিক না?
.
আমরা অধিকাংশই ফাসেকি পরিবেশে বড় হয়েছি। চাইতেও, না চাইতেও অনেক কিছু দেখেছি, জেনেছি, করেছি। পর্ন-মাস্টারবেশন-চটিগল্প বলুন বা ক্লাসের সুন্দরী মেয়েটাকে পটানো, ডেটিং এ যাওয়া থেকে শুরু করে লিটনের ফ্ল্যাট – অতীতে যাই কুকর্ম করেছি, কোনটাই পরিকল্পনা-পরিস্থিতি-প্রচেষ্টা অনুকূলে থাকা ছাড়া সম্ভব হয়নি। অনুকূলে রাখতে আমরা কি করেছি? স্যাক্রিফাইস। আর্থিক, মানসিক, শারীরিক।
.
স্রষ্টার বিপরীতে গিয়ে সৃষ্টিকে খুশি রাখতে আমরা তো সব উজাড় করে দিলাম। কী পেয়েছি এর বদলে? যা পেয়েছি তা কি আমাকে সুখী রেখেছে? রাখলে, তার স্থায়িত্ব কদিনের? মরবো না? তারপর? আমার প্রবৃত্তি, আমার প্রেমিকা কি সঙ্গ দিবে কবরে? যাঁর বিপরীতে চললাম দম্ভভরে, তাঁর কাছেই কি শেষমেশ চাইতে বা না চাইতেও প্রত্যাবর্তন করবো না?
—-

আমরা জাহেল কিন্তু এখন মুমিনদের দলে ভিড়তে চাই। এতদিন গাফেলতি করেছি এখন আন্তরিকতার সাথে ইসলাম মেনে চলতে চাই। হারাম কাজে সফলতা নেই, আমরা সফল হতে চাই। জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চাই। মাইক্রো সেকেন্ডের জন্য হলেও জাহান্নামে যেতে চাই না, সে কষ্ট সহ্য করতে পারবো না। ঠিক না?
.
বদলে যেতে চান? করবেন প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকে? এই রমাদানই তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে পারফেক্ট সময়। বড় শয়তান শিকলবদ্ধ। ‘পরিস্থিতি’ অনেকটাই অনুকূলে। এখন দরকার ‘পরিকল্পনা’ আর ‘প্রচেষ্টা’… আসুন, সুযোগটা কাজে লাগাই।
—-

এই রমাদানে আমাদের কী হাসিল করতে হবে? – আল্লাহর হিদায়াত ও ক্ষমা।
.
আমাদের পক্ষ থেকে কী করনীয়? – অতীতের সমস্ত গুনাহ এর জন্য লজ্জিত হওয়া, ক্ষমা চাওয়া, আর ভবিষ্যতে করবো না এই ওয়াদা করা।

এটা তো সবাই জানি। তাহলে সমস্যা কোথায়? ভুল কোথায় হয়?

ভুল হয় যখন আমাদের অন্তর আর কথায় মিল থাকে না। মুখে বলছি আর গুনাহ করবো না কিন্তু অন্তর এখনো প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত হচ্ছে না।
.
নবীজি (ﷺ) বলে গিয়েছেন, এই দুনিয়ায় থাকো এক মুসাফিরের মতো। অথচ, আমাদের ২৪ ঘন্টা কাটে দুনিয়ার ভাবনাতেই। খুব শীঘ্রই আমাদের সামান গুছিয়ে এক কোনে রাখা হবে। ঘর থেকে বের করে শুইয়ে দেয়া হবে কবরে। যাত্রা শুরু হবে অসীম পরকালের পথে। অথচ আমরা এখনো সিরিয়াস হতে পারলাম না দ্বীন ইসলাম নিয়ে।
.
আমাদের রোল মডেল হচ্ছে দুনিয়ার দাসত্ব করে বেড়ানো মানুষেরা। তাদের চলাফেরা, কথা-বার্তা সবকিছু আমাদের মুগ্ধ করে! তাদের মতো জীবন চাই আমাদের। অথচ চিনলাম না রহমাতুল্লিল ‘আলামিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে, অনুসরন-অনুকরণ তো আরও দূরে।
.
আহ! আমরা উনার উম্মত! উনি আমাদের কথা ভাবতেন, আমাদের চিন্তায় কাঁদতেন। কিয়ামতের দিনে একমাত্র তিনিই আল্লাহর আরশের নিচে সিজদাহতে লুটিয়ে পড়বেন। আমাদেরকে পক্ষে শাফা’আত করতে ! [1] সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমরা সাহাবা আজমাঈনদের চিনিনা। অথচ আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে তাঁদের প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়েছেন। [2]
.
কিছুই জানি না। ঈমান আমার কাছে কি দাবি করছে না সেটা জানি, না জানি ইসলামের ইতিহাস, ইতিহাস লিখে যাওয়া সেনাপতিদের। খেয়াল-খুশিকে লাগামছাড়া করে দিয়ে উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়াচ্ছি। বেহায়াপনাকে মনে করছি স্বাধীনতা, দিন শেষে এ স্বাধীনতা আমাকে পোড়াচ্ছে অস্থিরতা আর আক্ষেপে।
.
ইসলামকে শুধু স্কুলের একটা চিকন বইয়ের মলাটে আর কিছু ব্যক্তিগত আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ করে আমরা আজ হয়েছি গন্তব্যহীন।
.
তাহলে সমাধান কী?
.
#ইলম_অর্জন_করুন
.
“…আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারাই কেবল তাঁকে ভয় করে…” (ফাতির, ৩৫: ২৮)

আল্লাহর শক্তিমত্তা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ক্ৰোধ, পরাক্রম, সার্বভৌম কর্তৃত্ব-ক্ষমতা ও অন্যান্য গুণাবলী সম্পর্কে যে ব্যক্তি যতবেশী জানবে সে তাঁর নাফরমানী করতে ততবেশী ভয় পাবে। [3]
.
এই রমাদানেই প্রথম নাজিল হয়েছিল কোরআন, প্রথম শব্দটি কী?

ٱقۡرَ ‘পড়ো’ । নবীজি (ﷺ) এর ক্ষেত্রে এই শব্দের উদ্দেশ্য ছিল ‘তিলাওয়াত’। আমাদের জন্য তা হল দ্বীন ও শরীয়তের বিষয়ে জ্ঞান (ইলম) অর্জন।
.
‘প্রত্যেক মুসলিমের উপরে ইলম অন্বেষণ করা ফরয’ [4]। দুনিয়ার সার্টিফিকেট, গোল্ড মেডেল কিছুই কাজে আসবে না যদি আপনার ইলম না থাকে আর সে ইলম অনুযায়ী আপনি না চলেন।

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে জাহান্নামীদের আফসোস তুলে ধরেছেন এভাবে-

‘তারা আরও বলবে, যদি আমরা সেদিন (নবীদের কথা) #শুনতাম এবং তা #অনুধাবন করতাম, তাহলে আজ জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না’ (আল মুলক, ৬৭: ১০)
.
ঈমানের পরিচয়ঃ আল্লাহ্কে স্রষ্টা হিসেবে ‘একক’, তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান, এ জগতের সার্বভৌমত্ব শুধুমাত্র ‘এক’ আল্লাহর – অন্তরে গেঁথে নিন। স্বেচ্ছায় নিজেকে আত্মসমর্পণ করুন আল-মালিকের কাছে। বিশ্বাস আনুন আল্লাহর ফেরেশতাদের অস্তিত্বে, নবি- রাসূলদের আগমনে, আখিরাতে ও তাকদীরের ভালো-মন্দে। কথায় ও কাজে দ্বীন ইসলামকে বাস্তবায়ন করুন, যে আদর্শের উপর এসেছিলেন আমাদের রাসূল ()। [5]
.
ঈমান ছাড়া শত আমল বৃথা। তাই আপনাকে ভালো করে ঈমানের পরিচয় জানা থাকতে হবে। ব্যাখা বুঝতে হবে। জানতে হবে ঈমান ভঙ্গের কারণগুলো। এরপর আপনাকে স্পষ্ট ধারনা রাখতে হবে ইসলামের স্তম্ভ, হালাল-হারামের সীমারেখা, মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য, শেষ পরিনতি সম্পর্কে।
.
বুঝাতে পারবেন কে? একজন ইলমসম্পন্ন আলিম। খুঁজে নিন। আপনি চেষ্টা করুন, আল্লাহ্ মিলিয়ে দিবেন।
.
সাহাবী আবুদ দারদা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘হায়! তোমাদের আলিমগণ বিদায় নিচ্ছেন কিন্তু তোমাদের বে-ইলম শ্রেণি ইলম অর্জন করছে না। ইলম উঠিয়ে নেওয়ার আগেই ইলম হাসিল কর। ইলম উঠিয়ে নেওয়ার অর্থ আলিমদের প্রস্থান।’ [6]

“যে কেউ ইলমের খোঁজে কোনো পথে চলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।” [7]
.
কিতাব পড়ুন, এমন কিতাব যা দ্বীনের ভিত্তি গড়তে সাহায্য করবে [8]। তা না হলে ফায়দা পাবেন না। অযথা ইউটিউবে র্যান্ডম ইসলামিক ভিডিও দেখবেন না, বিভ্রান্ত হবেন।

#কোরআন_তিলাওয়াতকারীদের_দলভুক্ত_হয়ে_যান
.
“হে লোকসকল! তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের কাছ থেকে এসেছে উপদেশ ও অন্তরসমূহে যা আছে (ব্যাধি) তার #নিরাময় এবং মুমিনদের জন্য #হিদায়াত ও রহমত”। (ইউনুস, ১০: ৫৭)
.
আমাদের অন্তর আজ অসুস্থ। জঘন্য সব চিন্তা-ভাবনা মাথায় কিলবিল করছে। নিরাময় কী? কোরআন।
.
আমরা হিদায়াত খুঁজছি। হিদায়াত আছে কোরআনে।
.
এত এত গুনাহ করেছি যে হিসাব করতে গেলে জাহান্নাম ছাড়া আর কিছু ভাসছে না। তওবার পাশাপাশি দরকার নেকীর পাল্লা ভারি করা। এখানেও আমাদের বন্ধু হবে কোরআন।

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে তার জন্য সওয়াব রয়েছে। আর সওয়াব হয় তার দশ গুণ। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ’। [9]
.
কিয়ামতের দিন কোরআন আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে।

‘কিয়ামতের দিন কুরআন আবির্ভূত হয়ে বলবে, হে রব, (তিলাওয়াতকারীকে) আপনি সুসজ্জিত করুন। তখন তাকে সম্মানের মুকুট পরানো হবে। তারপর বলবে, হে রব, আপনি আরও বৃদ্ধি করুন। তখন তাকে সম্মানের পোশাক পরানো হবে। অতপর বলবে, হে রব, আপনি তার ব্যাপারে সন্তুষ্ট হয়ে যান। তখন আল্লাহ তা‘আলা তার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন। তারপর বলবে, তুমি পড় এবং ওপরে উঠো। এভাবে প্রত্যেক আয়াতের বিনিময়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।’ [10]
.
কোরআন তিলাওয়াতকারীরা আল্লাহর ‘বিশেষ’ বান্দা হবার মর্যাদা পায়। [11]
.
আমদের ভেতর যে ভাইয়েরা কোরআন পড়তে পারি না, আসুন এই রমাদানে শিখে ফেলি। সহজ কিন্তু। বয়স হয়ে গেছে আগে শিখেননি এসব ভেবে লজ্জিত হয়ে বসে থাকার কোন মানে হয় না। অতীত নিয়ে না ভেবে আসুন চলমান সময়কে গুরুত্ব দিই।

‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন শেখে এবং (অপরকে) শেখায়।’ [12]
.
কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা অনুবাদ পড়বো, তিলাওয়াত শুনবো।
.
মোটকথা কোরআনকে অবহেলা করা যাবে না। কোন না কোন ভাবে ফায়দা নিতেই হবে।
.
আজ এ পর্যন্ত থাকুক। যারা লিখাটা পড়লেন, শুধু পড়ার জন্য পড়ে স্ক্রল করে চলে যেয়েন না। একটু বুঝুন, একটু কষ্ট করুন আল্লাহর জন্য। অল্প কদিন বাকি। এরপর আর কষ্ট করার সুযোগও পাবো না আমরা কেউ…
.
রেফারেন্সঃ

[1] বুখারী ২/৯৪৯, আহমাদ ১২৫৭৯, মুসলিম ২০২, তিরমিযী ২৪৩৭
[2] সূরা আত-তাওবাহ, ৯: ১০০; ফাতহুল মাজিদ
[3] তাফসীরে জাকারিয়া
[4] ইবনু মাজাহ ২২৪; মিশকাত ২১৮
[5] পড়ুন, সূরা আত-তাগাবুন এর আয়াত ১-১০ / মুসলিম, হাদিস নং ৮
[6] আদ দারেমী ২৫১
[7]. মুসনাদে আহমদ ১৪/৬৬
[8] কিতাব পরামর্শ-
https://www.alkawsar.com/bn/qa/student-advices/…
https://www.facebook.com/alihasanosama/posts/803740526484168
মুফতী মনসূরুল হক (হাফি.) এর কিতাবসমূহ- https://tinyurl.com/ybssv3k4
[9] তিরমিযী ২৯১০; মিশকাত ২১৩৭
[10] তিরমিযী ৩১৬৪
[11] ইবনু মাজাহ ২১৫; ছহীহুল জামে‘ ২১৬৫
[12] বুখারী: ৫০২৭
.
প্রথম পর্ব- http://lostmodesty.com/2020/05/ramadan1/

শেয়ার করুনঃ
বদলে ফেলুন নিজেকে… এই রমাদানে (প্রথম পর্ব)

বদলে ফেলুন নিজেকে… এই রমাদানে (প্রথম পর্ব)

আসসালামু আলাইকুম। রমাদান মুবারাক। এই রমাদান হোক আপনাদের বদলে যাওয়ার প্রথম রমাদান। যেন পরের বছর রমাদানের এমনি কোনো পবিত্র রাতে আল্লাহর কাছে সিজদাহতে লুটিয়ে শুকরিয়ার অশ্রু বইয়ে দিতে পারেন আর বলতে পারেন, ‘ইয়া আল্লাহ্‌! আপনিই আমাকে গত বছর হিদায়াতের সন্ধান দিয়েছিলেন! আমাকে মুক্ত করেছেন চোরাবালি থেকে…’।

এমন পরিবর্তন আসা সম্ভব, সত্যিই সম্ভব…
.
হয়তো ভাবছেন মিথ্যা সান্ত্বনা দিচ্ছি। রোজা তো রাখি ঠিকই, কই লাভ তো হয় না!

ভাইরে, রোজা রাখার পাশাপাশি যে সমান তালে চলে মিউজিক/ মুভি/ সিরিজ এটা বলছেন না কেনো? ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম স্ন্যাপচ্যাট টিকটক আরো কত সোশ্যাল (!) সাইটে যে নিজের স্মার্টনেস দেখাতে গিয়ে নষ্টামির দুয়ার খুলে রেখেছেন সেটাই বা বাদ যাবে কেনো? জাস্ট-ফ্রেন্ড, গার্ল-ফ্রেন্ডদের কথা আর নাই বা তুলি! এসব দিব্যি চালিয়ে ভাবছেন পর্ন-মাস্টারবেশনের ফাঁদ থেকে বেঁচে যাবেন?
.
যে ভাইয়েরা এটা ভেবে নিয়েছেন যে, স্রেফ উপোস থেকে স্ক্রিনে ললনাদের গিলে দিন পার করে দিবেন আর সামহাউ কোন একটা ‘মিরাকল’ ঘটে উনার পর্ন-মাস্টারবেশন আসক্তি মিটে যাবে, মেয়েদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে!, তাদের থেকে চোখ নিচু হয়ে যাবে আর হিদায়াতের পথ তার সামনে উন্মুক্ত হয়ে যাবে! – আপনারা #বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন। স্রেফ না খেয়ে থাকলেই আপনি হিদায়াতের সন্ধান পাবেন না। এটা সাওম না, এভাবে রমাদান পার করলে আপনি কিছুই অর্জন করতে পারবেন না।
.
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি সওম পালন করেও মিথ্যা বলা ও অপকর্ম ত্যাগ না করে, তাহলে তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। [1]
.
বরং এই উদাসীনতা, আল্লাহর হুকুম আহকামকে পাত্তা না দিয়ে গুনাহে নিমজ্জিত থাকা ডেকে আনে #আজাব। এমন আজাবে কষ্ট পায় আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি।

আল্লাহ্‌ বলেন,

“…নিশ্চিত জেনো, আল্লাহ্ কোনও জাতির অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না, যতক্ষন না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে…” (আর-রা’দ, আয়াত ১১)
.
শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ তাকী উসমানী এই আয়াতের ব্যাখায় বলেন, এমনিতে আল্লাহ্ কোন জাতির ভালো অবস্থাকে মন্দ করে দেন না। কিন্তু যখন তারা আল্লাহর নাফরমানীতে অটল থাকে আর নিজেদের আমল-আখলাক সেরূপে বদলে ফেলে তখন তাদের উপর আল্লাহর আজাব এসে যায়। [2]
.
একই প্রসঙ্গে হাদীসেও এসেছে যে, যখন পাপাচার অধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে, কেউই আজাব থেকে রক্ষা পাবে না, মুমিনরাও না। [3]
.
তাহলে করণীয় কী? দেখেন ভাই, দুনিয়াবী জগতের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে যেমন মেহনত দিতে হয়, তেমনি ‘রুহানী’ জগতের ক্ষেত্রেও একই মেকানিজম। আগে আপনি উদ্যোগ নিবেন, এরপর আল্লাহ্ আপনাকে টেনে বের করবেন মুছিবত থেকে।
.
হাদিসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ্ বলেছেন, ‘আমি সেইরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি, যখন যে আমাকে স্মরণ করে। আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার তওবায় তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বেশি খুশী হন, যে তার মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া বাহন ফিরে পায়। আর যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। যে আমার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। আর সে যখন আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তখন তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।” [4]
.
কিছু বুঝাতে পারলাম কি? আগে আপনি আল্লাহর নিকট এগুবেন- আগে আপনি হারাম থেকে বের হবার সমাধান খুঁজতে আরম্ভ করবেন, আগে আপনি অন্তরকে বোঝাবেন, প্রবৃত্তিকে লাগাম পড়াবেন। এরপর, আপনার মেহনত, নিয়্যাহ এর বদৌলতে আল্লাহ্‌ আপনাকে বাঁচাবেন।
.
যদি বুঝে থাকেন, যদি আপনি আল্লাহর নাখোশ বান্দাদের দলভুক্ত হতে না চান, যদি প্রস্তুত থাকেন ময়লায় আচ্ছাদিত অন্তরকে ধুয়ে সাফ করতে, তাহলে এবার মনোযোগ দিয়ে পড়ুন রমাদানের উদ্দেশ্য-বিধেয়।
.
১.

‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (আল-বাকারা, আয়াত ১৮৩)

আল্লাহ্ সুবহানওয়াতা’আলা রমাদানকে ফরজ করেছেন।

যেন আমরা #তাকওয়া অর্জন করতে পারি।
.
আপনি চাইলেই তো লুকিয়ে কিছু খেয়ে নিতে পারেন, তাই না? তাও সংযম করছেন। কেন? কারণ আপনি জানেন, কেউ না দেখলেও আমাদের রব ঠিকই দেখছেন। উনার ভয়ে আপনার লোভাতুর চোখ ইফতারের প্রহর গুনছে। ওজু করার সময় খুব খেয়াল রাখছেন যেন পানি পেটে না ঢুকে পড়ে! #আল্লাহর_ভয় এবং উনার ভয়ে ‘ভুল-ত্রুটি থেকে সচেতন থাকা’ এটাই হচ্ছে তাকওয়া।
.
শাইখ মূসা জিবরীল উনার Gems of Ramadan লেকচারে সুন্দর বলেছেন, রমাদান হচ্ছে বুট ক্যাম্প এর মতো। এখানে আপনি ‘হালাল’ খাবার থেকে, স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরংগতা থেকে নিজেকে বিরত রাখছেন, আল্লাহর আদেশে। এই ট্রেইনিং থেকে শিক্ষা নিয়ে আপনাকে আগামী ১১ মাস অবশ্যই ‘হারাম’ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে।

তাকওয়া।
.
আল্লাহ্‌র রসূল (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন, সওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তাঁর নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সিয়াম #ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন #অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং #ঝগড়া_বিবাদ না করে। যদি কেউ তাঁকে গালি দেয় অথবা তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। [5]

আপনার অন্তরে যত ভালোভাবে #তাকওয়ার_সিলমোহর বসবে, আপনি তত সচেতন থাকবেন।
.
২.

‘…নিশ্চয়ই সালাত বিরত রাখে আল-ফাহশা (সব ধরনের কবীরা গুনাহ, অশ্লীলতা) এবং আল-মুনকার (কুফর, শির্ক ও অন্যান্য শয়তানী কাজ) থেকে।’ (আল-আনকাবুত, আয়াত ৪৫)

আল্লাহ্‌ বলছেন #সালাত আমাদেরকে বাঁচাবে সকল প্রকার ফাহেশাত থেকে। কিন্তু কীভাবে? মাথায় আসে না অনেকের।
.
সালাতে সূরা ফাতিহা তো পড়া লাগেই, তাই না? ফাতিহার ৫ নম্বর আয়াতের অর্থটা দেখুন, আমরা এখানে সাক্ষ্য দিচ্ছি إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ – ‘আমরা আপনারই ইবাদত করি, আপনার কাছেই সাহায্য চাই’। এভাবে আমরা জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর অনুগত হয়ে চলার ওয়াদা করছি! এখন কীভাবে এ ওয়াদা ভঙ্গ করা সম্ভব? যখনই কোন গুনাহ করতে ইচ্ছা হবে এই #ওয়াদার কথা মাথায় রাখুন। এভাবেই আপনি রক্ষা পাবেন ফাহেশাত থেকে। [6]
.
রমাদানে সালাতের বিশেষত্ব কী?

এই পবিত্র মাসে আমরা শুধু ৫ ওয়াক্ত ফরজ, সুন্নাতে মুয়াকাদ্দাহ সালাতগুলো পড়ি তা না, এর পাশাপাশি আমরা তারাবীহ পড়ি, তাহাজ্জুতও পড়ি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি। কিয়ামুল লাইলের খাতায় শুধু ২০ রাকাত তারাবীহ যোগ করলে, এই মাসেই প্রতিদিন অন্তত ৫২ রাকাত সালাতে আপনি ৫২ বার সূরা ফাতিহা পড়ছেন বা শুনছেন (ইমামের ইক্তিদা করে)।


এভাবে আল্লাহর দিকেই বারবার রুজু করছেন, আল্লাহর সাথে ওয়াদা করছেন যে, একমাত্র উনার কথামতোই আপনি চলছেন, চলবেন। এই আল্লাহর ভয়, উনার ক্ষমা পাওয়ার জন্য করা আপনার সব ইবাদত, উনারই কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ – আপনাকে #হিদায়াতের_পথ দেখাবে, বিইযনিল্লাহ।
.
অনেক কিছু বলে ফেললাম ভাই। মাঝে মাঝে বলতে ইচ্ছা করে। আমরাও আপনাদের মতোই ইনসান। এক গুনাহগার বান্দা… আল্লাহ্কে নাখোশ করে ফেলি শয়তানের ধোঁকায়। আসেন মিলেমিশে নসীহতের মাধ্যমে দুনিয়ার জিন্দেগিটা পার করি… ঈমান নিয়ে।
.
এ পর্ব শেষ করছি দুটো হাদিস মনে করিয়ে দিয়েঃ

– নবীজি (ﷺ) বলেছেন: ‘‘যখন রমাযান মাসের প্রথম রাত হয়, শয়তান ও অবাধ্য জীনদেরকে বন্দী করা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহকে বন্ধ করে দেয়া হয়। এর একটিও খোলা রাখা হয় না। এদিকে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। একটিও বন্ধ রাখা হয় না। আহবানকারী (মালাক বা ফেরেশতা) ঘোষণা দেন, হে কল্যাণ অনুসন্ধানকারী! আল্লাহর কাজে এগিয়ে যাও। হে অকল্যাণ ও মন্দ অনুসন্ধানী! (অকল্যাণ কাজ হতে) থেমে যাও। এ মাসে আল্লাহ তা‘আলাই মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করেন এবং এটা (রমাযান (রমজান) মাসের) প্রত্যেক রাতেই হয়ে থাকে।’’ [7]
.
– জিব্রীল (আ.) দুআ করেছেন, “ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমযান মাস পেল, তবুও তার গুনাহ মাফ হল না।” উত্তরে নবীজি (ﷺ) বললেন, ‘আমীন’। [8]
.
‘ধ্বংস’, নয়তো ‘মুক্তি’…

এই রমাদান শেষে আমাদের পরিণতি হবে এই দুইটার যেকোনো একটা। মাথায় গেঁথে নিন ভালো করে।
.
দ্বিতীয় পর্বে খুবই সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা থাকবে কিভাবে আপনি এই অসাধারণ দিনগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টিতে ব্যয় করতে পারেন।

ইনশাআল্লাহ।
.
রেফারেন্সঃ

[1] http://www.ihadis.com:8080/books/abi-dawud/hadis/2362
[2] তাফসীরে তাওযীহুল কোরআন, ২য় খন্ড, পৃঃ ১৩১
[3] http://ihadis.com/books/muslim/hadis/7129
[4] http://www.ihadis.com:8080/books/hadis-somvar/hadis/1265
[5] http://ihadis.com/books/bukhari/hadis/1904
[6] তাফসীরে তাওযীহুল কোরআন, ২য় খন্ড, পৃঃ ৫৭৫ এর ভাবার্থ
[7] http://www.ihadis.com/books/mishkatul-masabih/hadis/1960
[8] https://www.alkawsar.com/bn/article/641/

শেয়ার করুনঃ
ডিসক্লেইমার

ডিসক্লেইমার

লস্ট মডেস্টি টিমের অফিশিয়াল ডিসক্লেইমারঃ
.
১. লস্টমডেস্টি ব্লগ সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং অলাভজনক একটি উদ্যোগ। এটি কোনো দল, গোষ্ঠী বা সংগঠন, কারো সাথে যুক্ত না। লস্ট মডেস্টি আমাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়া অশ্লীলতা, বিশেষ করে পর্নোগ্রাফির ভয়াবতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম/ব্লগ। লস্ট মডেস্টি কোন নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী, সংগঠনকে না, বরং আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে সকল কাজ পরিচালনা করে।
.
২. লস্ট মডেস্টির সকল কর্মকান্ড অনলাইনে সীমাবদ্ধ।
.
৩. লস্ট মডেস্টির অফিশিয়াল ব্লগ, ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম পেইজ এবং ইউটিউব চ্যানেল ছাড়া, এর আর কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম (গ্রুপ, আইডি, ব্লগ, সাইট, প্রোফাইল) ইত্যাদি নেই। এই অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মের বাইরে অন্য কোন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বক্তব্য/কর্মকান্ড থেকে লস্ট মডেস্টি সম্পূর্ণভাবে মুক্ত।

Website- www.lostmodesty.com
Youtube Channel- www.youtube.com/lostmodesty
Facebook Page- www.fb.com/lostmodesty
Instagram- www.instagram.com/lostmodesty
.
৪. আমাদের অফিশিয়াল পেইজ, ব্লগ, বই ও অফিসিয়াল লিফলেটে নিজস্ব যে কন্টেন্ট (আর্টিকেল, ছবি, ভিডিও, অডিও, স্লাইড) আছে সেসবের প্রতি আমরা সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। এর বাইরে কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে ভিন্ন কোন কন্টেন্ট প্রকাশ বা প্রচার করলে আমরা এর দায়ভার নিবো না।
.
৫. লস্ট মডেস্টির সকল কন্টেন্ট উন্মুক্ত। যে কেউ এগুলো অনলাইন থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।
.
৬. কিছু প্রতিবন্ধকতার কারনে আমাদের কাজের ক্ষেত্র অনলাইনেই সীমাবদ্ধ। তবে যে কোন ব্যক্তি বা সংগঠন চাইলে কোনরূপ Manipulation (পরিবর্তন, পরিবর্ধন) ছাড়া আমাদের কন্টেন্ট ব্যবহার করে মাঠ পর্যায়ে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে আলোচনাকেন্দ্রিক প্রোগ্রাম আয়োজন করতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রম প্রক্রিয়ার দায়ভার শুধুমাত্র তাদের উপরই বর্তাবে। আমরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাদের কাজ মনিটর করার সামর্থ্য রাখি না।
.
৭. বিভিন্ন এলাকায় কিছু ভাই সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে আমাদের কন্টেন্ট ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক সেমিনার বা ক্যাম্পেইন করছেন। এক্ষেত্রে তারা “লস্ট মডেস্টি সাপোর্ট (সমর্থক) টিম” নাম ব্যবহার করলেও বস্তুত তাঁরা সম্পূর্ণ স্ব-উদ্যোগে নিজের অর্থায়নে এ কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা আমাদের সাথে কোনভাবে যুক্ত নন, এবং তাঁরা আমাদের কোন অঙ্গ সংগঠন নন। আল্লাহ্‌ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন।
.
৮. কেবলমাত্র লস্ট মডেস্টির অফিশিয়াল ফেইসবুক পেইজ, ব্লগ কিংবা ইউটিউবে চ্যানেলের বক্তব্য লস্ট মডেস্টির নিজস্ব ও অফিশিয়াল বক্তব্য হিসাবে গণ্য হবে। অন্য কোন বক্তব্য, ও কর্মকান্ডের দায় লস্ট মডেস্টি গ্রহণ করবে না।
.
৯. কোন ধরনের মানসিক/শারীরিক হয়রানী, চাঁদাবাজি, ফ্রি-মিক্সিং, অশ্লীলতা, প্রতারণা, কপটতা, অপরাধ আমরা সমর্থন বা প্রচার করি না। তাই, ‘Lost Modesty’ / ‘মুক্ত বাতাসের খোঁজে’ বা অনুরূপ নাম বা আমাদের কন্টেন্ট ব্যাবহার করে কেউ হয়রানি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা বা অপকর্ম করার চেষ্টা করলে এই অপরাধের দায়ভার শুধুমাত্র তাদের।
.
১০. লস্ট মডেস্টি টিম কোন ব্যক্তি বা সংগঠন থেকে অর্থ সংগ্রহ করে না। কাউকে অর্থ প্রদানও করে না।
.
১১. আমরা মুসলিম। আমাদের কন্টেন্টে কোরআন-সুন্নাহ-সীরাহ সর্বোপরি ইসলামের কথা প্রত্যক্ষ/ পরোক্ষ ভাবে আসে ও আসবে ইন শা আল্লাহ্‌। এক্ষেত্রে আমরা সর্বদা অথেন্টিক সোর্স থেকে রেফারেন্স নেয়ার চেষ্টা করি। আমাদের কোন কন্টেন্ট নিয়ে কারো উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা রটনা বা বিতর্কিত মন্তব্য কাম্য নয়। এছাড়া আমাদের কোন কন্টেন্টের সাথে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের মিল খুঁজে পেলে তা একান্তই কাকতালীয়। আমরা এর দায়ভার নিবো না।
.

শেয়ার করুনঃ
মরণখেলা

মরণখেলা

শুনলাম আমাদের ভার্সিটির আমাদের ডিপার্টমেন্টের এক মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। টুকটাক অনুসন্ধানে জানা গেছে প্রেমিকের সাথে দ্বন্দ্ব, মনমালিন্য টাইপ কোন ইস্যু কে কেন্দ্র করে এই ঘটনার অবতারণা। ভার্সিটি স্টুডেন্টরা বরাবরের মত মুখস্ত আন্দোলন পদ্ধতিতে রাস্তায় গিয়ে মানববন্ধন করছে দোষীর শাস্তি চেয়ে।
.
কিছুদিন আগে ভারতেও এক ভেটোরেনারি মহিলা চিকিৎসককে এক ট্রাক ড্রাইভার ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মেরে ফেলে। সেই একই ধাঁচের আন্দোলন, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, একাত্মতা প্রকাশ, শাস্তি চেয়ে পোস্ট, টুইট এই তো!
.
এই ধরণের আবেগ, ক্ষোভ, ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ, শাস্তির জন্য আন্দোলন আপাত দৃষ্টিতে প্রচলিত সীমার মধ্যে থেকে ভালো প্রতিবাদ মনে হলেও এগুলো আদৌ কোন সমাধান না। কেনো না, কী সমাধান আসলেই প্রকৃত সমাধান, সামগ্রিক সমাধান হতে পারতো সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন মনে করেনা আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই। কারণ যখন ই আপনি সামগ্রিক সমাধানে যাবেন, ধর্ষণ রোধে আসল সমাধান নিয়ে আসবেন তখন এই আন্দোলনকারীরাই সেই সমাধানের বিভিন্ন ধাপে অপরাধের সাথে নিজেদের জড়িত হিসেবে খুঁজে পাবে। তাই চাচা আপন প্রাণ বাঁচা হিসেবে আপাত আবেগ, ক্ষোভ, আন্দোলন, মোমবাতি পার্টিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে দেয়া হোক তাদের। তার চেয়ে বরং একটা কাল্পনিক গল্প বলি এই প্রসঙ্গে, যা কাল্পনিক হলেও অবাস্তব নয়-
.
অমুকের ধর্ষণের বিচারের দাবিতে একত্রিত হয়েছে রায়হান ও মিথিলা। ওরা একই ভার্সিটির আলাদা দুই ডিপার্টমেন্টের ছাত্রছাত্রী। রায়হান এর তেজদ্দীপ্ত কন্ঠে “বিচার বিচার বিচার চাই, ধর্ষকের ফাসি ছাড়া কোন কথা নাই” টাইপ স্লোগানে উপস্থিত শত শত শিক্ষার্থী তালে তাল মিলিয়ে স্লোগান দিচ্ছে। নারীর ইজ্জত এর উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এমন প্রতিবাদমুখর মনোভাব দেখে মিথিলার ভালো লেগে গেলো রায়হান কে। রায়হানও স্লোগান এর ফাঁকে ফাঁকে মিথিলার সাথে পরিচিত হয়ে নিলো। এভাবে কয়েকদিন আন্দোলন চললো, আসামীকে ধরে জেলে দেয়া হলো। এরপর বরাবরের মত বিচার হলো কি হলো না সেই চিন্তা না করে সবাই যার‍যার ক্ষোভে পানি ঢেলে আপাত এই সমাধানে খুশি হয়ে যার যার পড়াশোনায় ফিরে গেলো। কিছুদিন পর আসামী টাকাপয়সা দিয়ে আইন এর ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বের হয়ে গেলো টুপ করে, কেউ কিছু জানলও না!
.
ওদিকে রায়হান, মিথিলা একে অপরের সাথে সময় দেয়া শুরু করলো। ধীরে ধীরে তা প্রেমের পরিণয়ে গিয়ে ঠেকলো। অবশেষে রায়হান মিথিলার প্রেমে এতটাই ডুবে গেলো যে তাকে ছাড়া তার আর কিছুই ভালো লাগেনা। এভাবে চলতে চলতে মিথিলার ফ্যামিলি তাকে অন্য এক প্রতিষ্ঠিত বি সি এস ক্যাডার এর সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেললো। মিথিলাও ভবিষ্যতের ভালো আর মা বাবার কথা চিন্তা করে রায়হানকে না জানিয়েই এংগেজমেন্ট করে ফেললো। ওদিকে রায়হান কোন না কোন মাধ্যমে জেনেই ফেললো!
.
পাগলের মত হয়ে সে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলো মিথিলাকে একটাবারের জন্য কাছে ডেকে সকল আবেগের সহিত জিজ্ঞেস করবে কেনো সে তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেললো! বাট কি আর করা, মিথিলাকে সামনে পেয়ে তার মাথা গেলো বিগড়ে, তাকে ইগ্নোর করা, বিয়ের ব্যাপারে না জানানো, মেকি ভালোবাসার স্বপ্ন দেখানো মিথিলাকে সে একলা সুখী দেখতে চাইলোনা, নিজের ধ্বংসের বিপরীতে। রাগে, ক্ষোভে সে মিথিলাকে সেখানেই জোর করে যৌনতায় বাধ্য করে, খুন করে পালিয়ে গেলো!
.
আবারো সেই একই সার্কেলে ছেলেমেয়ে একাকার হয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে নেমে গেলো!

গল্পটা যেমন তেমন, বাট আমাদের সমাজের বাস্তবতা এটাই। আমরা ধর্ষণ চাইনা কিন্তু প্রতিনিয়ত ধর্ষণ হোক, এমন ই এক সমাজব্যবস্থা তৈরি করে চলেছি। নারী পুরুষকে শিক্ষা, কর্ম, বাজার সব জায়গায় একত্রিত করার ব্যবস্থার মাধ্যমে, ধর্মের দিকে বুড়ো আংগুল দিয়ে প্রেম ভালোবাসার নামে ব্যভিচারের রাস্তা সহজ করে, ক্যারিয়ারের নামে বিয়ের রাস্তা কঠিন করে, পর্দাকে সেকেলে বিধান মনে করে আইটেম সং পর্ণগ্রাফির বিশাল মার্কেট তৈরি করে, চোখের হিফাযতের কোন গুরুত্ব না রেখে, ধর্ষকের ইসলামি ব্যবস্থায় কঠিন শাস্তি এবং বিচারব্যবস্থার বিচারহীনতা আর অসচ্ছতার সুযোগ রেখে আমরা সামগ্রিকভাবে ধর্ষণ প্রিয়, অনৈতিক যৌনতার এক সমাজ তৈরি করে রেখেছি৷
.
আর এতসব শয়তানি করার পর ধর্ষণ হলে আমরা সুশীল সেজে রাস্তায় গিয়ে প্রতিবাদ করার মাধ্যমে নিজেকে মানবতাবাদী, নারীবাদী হবার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীময় খেলায় মেতে উঠে নিজেদের পচে যাওয়া আত্মাকে সুসজ্জিত প্রমাণ করতে চাই!
.
ব্যাপারটা হলো, মাদকবিরোধী কন্সার্ট করছে মাদকখোরেরা, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন করছে ধর্ষকেরা, পটেনশিয়াল ধর্ষকেরা! এমন অবস্থায় এইসব আন্দোলন দেখে খুশি হবো, আফসোস করবো, হাসবো না কাঁদবো তা ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি!
.
Post Courtesy: Mahfuj Alamin

শেয়ার করুনঃ
তুমি এক দূরতর দ্বীপ (সপ্তম কিস্তি)

তুমি এক দূরতর দ্বীপ (সপ্তম কিস্তি)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম।
.
আরেকটা সিচুয়েশন ধরো, তুমি বাসায় বিয়ের কথা বললে, আলহামদুলিল্লাহ বাসায় বিয়ে দিতে রাজি হলো, কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করে তোমার সাথে বিয়েতে বসবে এমন দ্বীনদ্বার কোনো মেয়ে পাওয়া গেলনা। কিন্তু নন প্র্যাকটিসিং মেয়ে রাজি ? তাহলে কী করবে?

বিয়ে করবেনা। কেন করবেনা তার উত্তর আগের পর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। ধৈর্য ধরো। আল্লাহর কাছে দু’আ করতে থাকো। আর্থিক সামর্থ্য উপার্জনের চেষ্টা করতে থাকো। আর দ্বীনদার মেয়ে খুঁজতে থাকো। আল্লাহ ব্যবস্থা করে দেবেন ইনশা আল্লাহ।
.
একটা কথা ভাই, যদি বাবা মা রাজি থাকে, মেয়েও পাও, শুধু ভালো চাকুরী নেই, অল্প টাকা আয় রোজগার এই কারণে বিয়েতে দেরী কোরোনা। আল্লাহর ওয়াদা যে বিয়ের মাধ্যমে তিনি মানুষকে রিযিক বাড়িয়ে দেন।

“আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।” (সূরা আন-নূর,আয়াতঃ৩২)
.
তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করে বিয়ে করে ফেল। একটুকুও দেরি করোনা। কতো যুবক যুবতী এই সুযোগের অপেক্ষায় অস্থির হয়ে দিন গুনছে আর তুমি সেই সুযোগ পাবার পরেও এভাবে হেলায় নষ্ট কোরোনা। নিজের পাপের ভার আর বাড়িয়োনা।
.
যদি এমন সিচুয়েশন হয় যে মিয়া বিবি এবং ফ্যামিলি সবাই রাজি। সবাই অপেক্ষা করে আছে কবে মিয়া আর বিবির পড়াশোনা শেষ হবে, অথবা ভালো একটা চাকুরী পাবে…
এটাও মারাত্মক রকমের ভুল কাজ। এরকম সিচুয়েশনে অবশ্যই কোনোকিছুর জন্য অপেক্ষা না করে বিয়ে করে ফেলা উচিত। আকদ করে রাখা হলো পরে না হয় ওয়ালিমা করা হল। এই রকম অবস্থায় মিয়া বিবি অনেক অনেক গুনাহ করে ফেলে। এমনকি যিনা পর্যন্ত। তুমি যদি এরকম অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করো তাহলে অবশ্যই বিয়ে করে ফেলবে। ওয়ালিমা না হয় পরেই কইরো।
.
বিয়ের কথা বাসায় বলা, বাবা মাকে রাজি করানো, মেয়ে দেখা,বলে-ব্যাটে মেলা, চার চোখ এক হওয়া খুব লম্বা, দীর্ঘ একটা প্রসেস। আজকে বাসায় বললা আর আগামীকাল বাসার লোকজন তোমাকে এসে বলল- ‘ওঠ ছোঁড়া তোর বিয়ে…’ এরকম ভাবলে স্বপ্নভঙ্গ হতে খুব বেশি সময় লাগবেনা। তোমার দুই চোখে হয়তো ছিল ব্যাকুল স্থপতির মতো শুধুই জীবন গড়ার নেশা কিন্তু পৃথিবী তোমাকে ভুল বুঝবে। তোমার দু’চোখে দেখবে শুধু জৈব রসায়নের অনল। অনেক কটু কথা শোনা লাগতে পারে তোমাকে, অনেক অপমান, ট্যাড়া ট্যাড়া মন্তব্য, ব্যঙ্গ বিদ্রুপ। বাবা মাকে রাজি করাতে, মেয়েকে খুঁজে পেতে, মেয়ের বাবা মাকে রাজি করাতে অনেক সময় লাগতে পারে। সেই মধুররাতে বালিকার হাত ধরে স্বপ্নের প্রহর শুরুর আগ পর্যন্ত তোমাকে পেছনে ফেলে যেতে হতে পারে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের এক সময়। পাড়ি দিতে হতে পারে লম্বা বন্ধুর এক পথ। এই কথাগুলো যেন মাথায় থাকে। এবং এই কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা না থাকলে, জীবনের সুকঠিন কংক্রিটে ঠোকর খেতে না চাইলে, হে আমার বিয়ে পাগল ভাইটি, জেনে রাখো তোমাকে নিশ্চিত দুঃখ পেতে হবে। কাঁদতে হবে।
.
আরেকটা কথা এখানে বলেই ফেলা যায়। অনেক ভাই আছেন, যারা চোখের হেফাযত করেন, হারাম রিলেশন,মুভি সিরিয়াল নাটকের কথা শুনলে সাপ দেখে চমকে দূরে সরে যাবার মতো দূরে সরে যান। এক কথায় পবিত্র জীবন যাপন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিয়ের পরে বউকে কীভাবে কতক্ষণ আদর করবেন ইত্যাদি ভেবে দিনরাত পার করেন (এই বিষয়গুলো বিয়ের দিন সকালে বা বিয়ের পর অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে বা বইপত্র পড়ে জেনে নেওয়া উচিত। আগে এসব জানলে পর্ণ দেখা বা হস্তমৈথুন বা ব্যাভিচারে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকে)। এসব ভাবতে ভাবতে কেউ কেউ মাস্টারবেট করে ফেলেন কখন বা পর্ণসাইটে চলে যান তা টের পাননা। চতুর শয়তান এই চিন্তাভাবনাগুলো দিয়ে অনেককেই ঘোল খাইয়ে ছাড়ে। এই চিন্তাগুলো থেকে সাবধান থাকবো। এই চিন্তাগুলো আমাদের মাথাতে আসতে পারে। কিন্তু তাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা কোনোমতেই। একটু সুযোগ দিলেই আমাদের দিয়ে পাপ করিয়ে ছাড়বে। মাস্টারবেট বা পর্ণ না দেখলেও আমরা যে অশ্লীল চিন্তা করছি এটাতেই তো আমার পাপ হচ্ছে। রাস্তার একটা মেয়েকে নিয়ে চিন্তা করাও যেমন পাপ তেমনি ভবিষ্যৎ বউকে নিয়ে চিন্তা করাও পাপ। … আমি তো আমার হবু বউকে নিয়েই ভাবছি অন্য কাউকে নিয়ে তো নয়… ওয়েল, তুমি কি তাকে বিয়ে করেছো? আমাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবা যে এই মেয়ের সাথেই তোমার বিয়ে হবে?

শেষমুহূর্তের ঝড়ে কতো নিশ্চিত বিয়ে ভেঙ্গে গেলো। এই ভুল করবেনা। সে এখনো বেগানা নারী। এখনো তোমাদের বিয়ে হয়নি। এখনো তার সাথে পর্দা মেইন্টেইন করতে হবে।
.
বিয়ে ঠিক হবার পর বিয়ে হবার আগ পর্যন্ত ফেইসবুকের ইনবক্সে টেম্পু চালাবোনা, সম্পর্ক সহজ করা, পরস্পরকে জেনে নেবার উসীলায় ফোনে কথা বলবোনা। রেস্টুরেন্ট, সিনেমাহলের অন্ধকার বা পার্কের চিপাচাপা খুঁজবোনা। এই সময়টা অত্যন্ত নাজুক এক সময়। নিজে জেনেছি, শুনেছি, দেখেছি এই নাজুক সময়ে পোলাপান ধুমায়ে সেক্সচ্যাট করছে, ফোনে অশ্লীল সব কথা বলছে বা বিয়ে তো হবেই, কাজেই এখনই সব কিছু করে ফেললে দোষ কি, এই চিন্তা করে বিছানায় শুয়ে পড়ছে!
ভাই সাবধান, এসব কাজ ভুলেও, ভুলেও করবেনা। এগুলো সুস্পষ্ট সব জিনা। আল্লাহকে ভয় করি ভাইয়া। আমরা আল্লাহকে ভয় করি।
.
এই নষ্ট হয়ে যাওয়া পৃথিবীতে ভালো মেয়ে কি পাবো, প্রেম না করলে ফ্রেশ মেয়ে পাবনা, এরেঞ্জড ম্যারেজ করা মানে সেকেন্ডহ্যান্ড, অন্যের ইউজড জিনিস বিয়ে করা, প্রেম না করলে অচেনা অপরিচতার সঙ্গে মনের মিল হবেনা এ ধরণের চিন্তা ভাবনা ভুলেও করবোনা। ভাইয়া দেখো, যারা ভালো মেয়ে, যারা পবিত্র মেয়ে, তোমার বা তুমি যাদের কাছে এই নেতিবাচক কথাগুলো শোনো তাদের সাথে এসে ইনবক্সে গুতাগুতি করবেনা, ঢলাঢলি করবেনা। জাস্ট ফ্রেন্ড, বেস্ট ফ্রেন্ড কালচার, রিকশায় ঘোরাঘুরি করা, প্রেম করা, চাইলেই ভালোবাসার প্রমাণ দেখানোর জন্য ভিডিও কলে কাপড় খোলা বা লিটনের ফ্ল্যাটে যাওয়া তো বহুত দূরের কথা!এই শ্রেণীর মেয়েদের দেখেই পৃথিবীর তাবৎ মেয়ে সম্পর্কে এমন বাজে ধারণা করে ফেললাম আমরা?
.

‘”যে আল্লাহ্‌কে ভয় করে আর ধৈর্য ধরে, আল্লাহ্‌ এমন ভালো মানুষদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।” [সূরা ইউসুফ ১২ঃ৯০]

“দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য; দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য; সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য। লোকে যা বলে এরা তা থেকে পবিত্র; এদের জন্য রয়েছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।” [সূরা আন্‌-নূর ২৪ঃ২৬]


ভাই দেখ, অনেক ভালোমেয়ে আছে। তুমি যেমন এই ঘোর কলুষতার বর্ষণ থেকে নিজেকে মুক্ত করে রাখার জন্য দাঁতে দাঁত চেপে যুদ্ধ করে যাচ্ছো, বিশ্বাস করো তেমনি এই একই আকাশের নিচে, একই পৃথিবীর বুকে অসংখ্য বোনেরাও দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে যাচ্ছে, অপেক্ষা করে আছে কবে পবিত্রতার ঘোড়ায় চড়ে আসবে তার রাজপুত্র। কবে এই দমবন্ধ হয়ে আসা পৃথিবীতে তারা দুজনে মিলে দুরুমের ভাড়া বাসায় একটুকরো জান্নাত রচনা করবে। এসবের কতোটুকুই বা তুমি জেনেছো? ভেবেছো?
.
ভাই চতুর্দিকে ভালোবাসার আকাল দেখে তুমি হতাশ হবেনা। যদি তুমি পবিত্র থাকো, যদি তোমার ভালোবাসা, জীবনসঙ্গিনীর জন্য অপেক্ষা মৌলিক হয় তাহলে আল্লাহ্ তোমাকে নিশ্চিত ভালো একজন মেয়ের সাথে জুড়ি বেঁধে দিবেন।জীবনের ভালোবাসা হয়তো কোনো এক ভোরে চুপ করে কড়া নাড়বে তোমার দরজায়।
দেইখো।

চলবে, ইনশাআল্লাহ…

প্রথম কিস্তি

দ্বিতীয় কিস্তি 

তৃতীয় কিস্তি

চতুর্থ কিস্তি

পঞ্চম কিস্তি

ষষ্ঠ কিস্তি 

.

শেয়ার করুনঃ
তুমি এক দূরতর দ্বীপ (ষষ্ঠ কিস্তি)

তুমি এক দূরতর দ্বীপ (ষষ্ঠ কিস্তি)

.
বাবা মাকে রাজি করানোর সময় তাদের সাথে বেয়াদবি করা যাবেনা। ভদ্রভাবে বোঝাতে হবে। ঠান্ডা মাথায় তাঁদের কথা শুনবো আমরা। তাঁরা কী চান, আমাদের বিয়ে নিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী এগুলো ভালোমতো শুনে নিব। তাঁদের মনের কথা না জানলে আমরা তাঁদের পটাতে পারবনা। কঠিন হয়ে যাবে। সব বিষয়ে ইস্তেখারা করবো , হুটহাট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবনা। এই বয়সটাতে মানুষ আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। দুনিয়ার সব মেয়েকেই বিবাহ উপযোগ্য পাত্রী বলে মনে হয়। বাবা মার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবো। পাত্রী দেখা, পাত্রীর অভিভাবকদের সাথে কথোপকথন সবক্ষেত্রেই বাবা মা সঙ্গে রাখবো, গুরুজনদের সঙ্গে পরামর্শ করবো।
.
এখানে একজন মিড্যলম্যান থাকলে খুব ভালো হয়। প্রব্লেম সল্ভার টাইপের। যিনি তোমার এবং তোমার বাবা মার সঙ্গে কথা চালাচালি করবেন। লজ্জা, ভয় ইত্যাদি কারণে অনেক ছেলে তাঁদের বাবামাকে চাহিদার কথা বলতে পারেনা, ঠিকমতো বোঝাতে পারেনা। তো যদি অন্য কেউ ছেলের হয়ে বাবা মাকে বোঝাতে পারেন তাহলে জটিলতা কমে যায়। খুঁজে দেখ, দুলাভাই, মামা, চাচা, কাজিন বা পাড়াতো কোনো বড়ভাই বা মুরুব্বি পাও কিনা যে তোমার হয়ে ওকালতি করবে।
.
মনে করো বিয়ে করার জন্য তোমার আর্থিক সামর্থ্য আছে। কিন্তু বাবা মা কোনোমতেই বিয়ে দিতে রাজি হচ্ছেন না। তুমি অনেক বুঝিয়েছো, অনেক চেষ্টা করেছো, কিন্তু তারপরেও কোনোমতেই বাবা মা রাজি হচ্ছেন না । এখন কী করবে?
দেখ এই সমস্যার চিরন্তন সর্বজনীন কোনো সমাধান নেই। এক একজনের ক্ষেত্রে এক এক রকম হবে। এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রেই বিজ্ঞ আলিম, অভিজ্ঞ ভাই,মুরুব্বীদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
.
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের জন্য ওয়ালির (পুরুষ অভিভাবক) অনুমতি আবশ্যক নয়। কোনো কোনো মাযহাব অনুসারে মেয়েদের বিয়ের জন্য পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি লাগবে। ছেলেদের জন্য লাগবেনা। তুমি যদি ব্যক্তিত্ববান হও, বিয়ের পরে অভিভাবকদের মধ্যে যে গ্যাঞ্জাম লাগবে, সেইটা ট্যাকল দেওয়ার যোগ্যতা থাকে, সাহস থাকে, তাহলে ইস্তিখারা করে এবং আলিমদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়ে করে ফেলতে পারো ইনশা আল্লাহ। আর যদি সেই যোগ্যতা, সাহস, কষ্ট স্বীকার করার মানসিকতা না থাকে তাহলে বিয়ে করবেনা। সবর করবে, আল্লাহর কাছে দু’আ করবে বেশি বেশি, দান সাদাকাহ করবে। বিয়ে করবে না।
.
অনেকেই আছে বাবা মাকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করে ফেলে। তারপর বাবা মার কাছ থেকে বউ লুকিয়ে রাখে। মাসের পর মাস চলে যায়, বছর পার হয়ে যায়, বাবা মাকে ভয়ে বউয়ের কথা বলতেই পারেনা।

নারীবাদীরা অবশ্য মুখে স্বীকার করেনা। কিন্তু অন্তরে ঠিকই একটা হাহাকার থাকে। সব মেয়েরাই তাদের জীবন সাজায় বিয়েকে কেন্দ্র করে। কতো স্বপ্ন যে দেখে তারা বিয়ে নিয়ে ! বিয়ে, স্বামী, সন্তান, শ্বশুরবাড়ি নিয়ে তারা কতো সুখ-ছবি আঁকে মনে মনে! এইসব পোলাপান মেয়েদের সারাজীবনের স্বপ্নগুলো স্টীম রোলার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। বিয়ে করে ঠিকই স্ত্রীর কাছ থেকে চোখের শীতলতা খুঁজে পায়, নিজের শরীরের চাহিদা মেটায়, কিন্তু স্ত্রীকে প্রাপ্য সম্মান, সামাজিক স্বীকৃতি আদায় করে দেয়না। স্ত্রীর গর্ভে নিজের সন্তান আসার পরেও কাপুরুষের দলের সাহস হয়না বাবা মার সামনে স্ত্রীকে নিয়ে যাবার। অনেকের কথা জানি যারা বিয়ে করে কিছুদিন ‘ভোগ’ (সরি টু ইউজ দিস ওয়ার্ড) করে চম্পট দেয়। স্ত্রীদের অসহায় করে ইউরোপ আমেরিকায় ‘জ্ঞ্যানার্জন’ করতে যায়। খোঁজ খবর রাখেনা। অনেকে গর্ভপাত পর্যন্ত করে। তথাকথিত দ্বীনি ভাইবোনদের মধ্যেই এমন কেইস আছে। এইসব ছেলেরা আঙ্গুল চোষা বাচ্চা রয়ে গেছে, এদের পুরুষের ভান করা উচিত না।

এইসব পোলাপানদের কানের নিচে থাপড়ানো উচিত সকাল বিকাল দুবেলা রুটিন করে। নিজের স্ত্রীর অধিকার আদায় করার মুরোদ নেই, মায়ের সামনে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে দাঁড়ানোর মেরুদ্বন্ড নেই, বিয়া করতে আইছো কেন মিয়া, যাওগা, গিয়া ফিডার খাও!
.
ভাই আমাদের যদি কমফোর্ট জোন থেকে বের হবার সাহস না থাকে তাহলে ভুলেও এই ভুল করবোনা আমরা। এটাতো স্পষ্ট ভয়ঙ্কর ধরণের জুলুম। একজন মেয়ের স্বপ্ন, মেয়ের জীবন নষ্ট করার, এভাবে কষ্ট দেবার কোনো অধিকার তোমার,আমার নেই। আল্লাহকে ভয় করি ভাই। আল্লাহ আর জুলুমের শিকার ব্যক্তির দু’আর মাঝখানে কোনো পর্দা থাকেনা, সে যদি কাফির মুশরিক হয় তারপরেও। আল্লাহকে ভয় করি। ধ্বংস হয়ে যাবো। জ্বলে পুড়ে মরবো।
.
যদি আর্থিক সামর্থ্য না থাকে আর বাবা মা বিয়ে দিতে কোনোমতেই রাজি না হয় তাহলে কী করবে ?

কী করবে আমরা আগেই আলোচনা করেছি। আবার চোখ বুলিয়ে নাও। আর্থিক সামর্থ্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। দু’আ কর‍তে হবে দান সাদকাহ করতে হবে। ইস্তেগফার পড়তে হবে। তাহাজ্জুদের সালাতে সিজদায় পড়ে বেশি বেশি দু’আ করতে হবে। আল্লাহ রিযিকের ফায়সালা করে দিবেন ইনশা আল্লাহ।
.
নিজের আর্থিক সামর্থ্য নেই দেখে বিয়ে করবনা বা বিয়ে করা যাবেনা এখন- এটা ভেবে বসে থাকবেনা। আগে চাকুরী পেয়ে নেই, আগে ব্যবসাটা গুছিয়ে ফেলি এসব চিন্তাভাবনা শয়তানের ধোঁকা। আর্থিক সামর্থ্য অর্জন এবং বিয়ের চেষ্টা একসাথে চলবে। আল্লাহ্‌র ওয়াদা নিজ চরিত্র রক্ষার্থে বিয়ে করতে যায় এমন যুবকদের তিনি অবশ্যই সাহায্য করবেন। আত তিরমিযীর একটি বিশুদ্ধ হাদীসে এরকম বর্ণনা এসেছে, ‘তিন শ্রেণীর লোকদের সাহায্য করাকে আল্লাহ (সুবঃ) নিজের কর্তব্য বলে স্থির করেছেন- (১) সেই মুজাহিদ,যিনি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেন। (২) সেই ক্রীতদাস যে তার মালিকের সাথে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা প্রদানের মাধ্যমে মুক্তির চুক্তি করেছে এবং (৩) সেই যুবক যে নিজের চরিত্র রক্ষার জন্য বিয়ে করতে চায়’। https://tinyurl.com/y6hmrltr
.
অনেকের ক্ষেত্রে এমন হতে পারে যে, তুমি বাসায় বিয়ের কথা বলেছো। বাসা থেকে ইসলাম প্র্যাকটিস করেনা, পর্দা করেনা এমন কোনো মেয়েকে বিয়ে করার জন্য ঠিক করেছে। বাসা থেকে অনেক জোর দিচ্ছে। ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে- ‘বিয়ে করে বউকে তোর মতো হুজুর বানিয়ে নিস’ এরকম অনেক কথার মাধ্যমে তোমার ব্রেইন ওয়াশ করার চেষ্টা করছে। তুমি ছোট থেকেই ফ্যামিলির সব কথা শুনে এসেছো। এখন কী করবে ? পরিবারের সবার মতের বিরুদ্ধে যাবে? নাকি ফ্যামিলির কথা মতো নন প্র্যাক্টিসিং মেয়েকেই বিয়ে করবে?
.
সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাদিআল্লাহু আনহু) এর একটি ঘটনা শোনানো যাক। তাঁর পুরো জীবন বিশেষ করে যৌবন তিনি আল্লাহ্‌র রাস্তায় উৎসর্গ করেছেন । কোন কোন বর্ণনামতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরিবারের বাহিরে ইসলাম গ্রহণ করা চতুর্থ ব্যক্তি, আবার কোন কোন বর্ণনা মোতাবেক তৃতীয় ব্যক্তি । তিনি সেই দশজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তির মধ্যে একজন যাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন ।
.
সাদ রাদিআল্লাহু আনহু যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখনো তাঁর জীবনের ২০টি বসন্ত পার হয়নি । ইসলাম গ্রহনের পূর্বে তিনি এক অদ্ভূত স্বপ্ন দেখেন । তিনি স্বপ্ন দেখেন, তিনি অন্ধকারে ছিলেন। এমন সময় আকাশে একটা চাঁদ উঠে সবকিছু আলোকিত করে দিল। তিনি চাঁদটাকে অনুসরণ করতে থাকলেন। কিছুক্ষণ পড়ে তিনি আবু বকর,আলী এবং জায়েদ ইবন হারিসা রাদিআল্লাহু আনহুম দের সেই চাঁদটা অনুসরণ করতে দেখলেন।

এই স্বপ্নের কিছুদিন পরেই তিনি আবু বকর (রাদিআল্লাহু আনহু) এর মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।
.
সাদ রাদিআল্লাহু আনহুতাঁর মায়ের খুবই অনুগত ছিলেন । মা বাবার অবাধ্য, মক্কার দুষ্টু ছেলেদেরকে প্রায়ই শুনতে হত , ‘দেখ, সাদ কে দেখ ! সে তার মায়ের কত অনুগত ! হতচ্ছাড়া তোরা সাদের মত হতে পারিস না?’।

ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আসার পর সাদ রাদিআল্লাহু আনহুকে তাঁর পরিবারের বিশেষ করে তাঁর মায়ের প্রচন্ড বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয় । তাঁর মা তাঁর নিকট এসে বললেন , “সাদ! তুমি যদি মুহাম্মাদের ধর্ম ত্যাগ না কর তাহলে আমি খাবার, পানি কিছুই স্পর্শ করব না এবং মক্কার গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদে দাঁড়িয়ে থাকব । এভাবে আমি যখন মারা যাব তখন মক্কার লোকজন তোমাকে দেখিয়ে বলবে এই পিশাচটা তার নিজের মাকে খুন করেছে”।

একদিন চলে গেল। সাদের মা কোন কিছুই খেলেন না। দুই দিন চলে গেল সাদের মা এদিনো কোন কিছুই পানি স্পর্শ করলেন না। তার শরীর প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেল। তিন নাম্বার দিন সাদ রাদিআল্লাহু আনহু তাঁর মাকে যেয়ে বললেন, “ইয়া উম্মি! আপনার যদি ১০০টা প্রাণ থাকে আর আপনি যদি এভাবে আপনার ১০০টা প্রাণ কেও হত্যা করেন তাহলেও আমি আমার ইসলাম ত্যাগ করব না। ছেলের এমন পাহাড়ের মত দৃঢ়তা দেখে তাঁর মা অনশন ভঙ্গ করেন। (পরবর্তীতে সাদ রাদিআল্লাহু আনহুএর মা ইসলাম কবুল করেন। এই কাহিনী ইনশা আল্লাহ্‌ আর এক দিন বলা হবে)।
.
রহমান আল্লাহ্‌ সাদ (রাদিআল্লাহু আনহু) এর দৃঢ়তাকে সম্মান জানানোর জন্য কুর‘আনে আয়াত নাযিল করলেন যেটি কিয়ামাত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে ।

“আমি মানুষদের আদেশ করেছি তারা যেন তাদের পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে । কিন্তু তারা যদি তোমাকে আল্লাহ্‌র সঙ্গে শিরক করার আদেশ দেয় যে ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই তাহলে তাদের মান্য করো না।”
https://tinyurl.com/y5nekf8x
.
আশা করছি, আমরা বুঝে গিয়েছি এরকম মুহূর্তে কী করতে হবে। ভাই, আল্লাহর অবাধ্য হয়ে কারো আনুগত্য করা যাবেনা। সেটা দেশের সংবিধান, প্রধানমন্ত্রী হোক আর বাবা-মা’ই হোক। যে মেয়ে ২০-২৫ বছরে ইসলাম নিয়ে সিরিয়াস হয়নি, সেই মেয়ে বিয়ের একদম পর পরেই ইসলাম নিয়ে সিরিয়াস হয়ে যাবে, পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বে, রোযা রাখবে, পরিপূর্ণভাবে পর্দা করবে, ফ্রি মিক্সিং এড়িয়ে চলবে, মুভি সিরিয়াল দেখবেনা, ফেইসবুক ইনস্টাগ্রামে রং ঢঙ্গের ছবি দেবেনা, টিকটকে ভিডিও বানাবেনা – এগুলো হাস্যকর শোনাচ্ছে না ? যেই মেয়ে আল্লাহ্‌কে ভালোবেসে এগুলো ছাড়তে পারেনি, সেই মেয়ে তোমাকে ভালোবেসে এগুলো ছেড়ে দিবে? মুভি,উপন্যাসে এরকম হয়, কিন্তু বাস্তবে হয়না। আর যদি দেয়ও সেটার মূল্য কতোটুকু? আল্লাহ্‌র কাছে কি সেটা গ্রহণযোগ্য হবে? আল্লাহর জন্য তো সে দ্বীনে ফিরে আসেনি, সে ফিরে এসেছে তোমার কারণে, তোমার ভালোবাসায়। ঐ মেয়ের নিয়্যতেই তো ঘাপলা। বিখ্যাত সেই হাদীসের কথা তো জানোই- প্রকৃতপক্ষে সকল কাজের ফলাফল তার নিয়্যতের ওপর নির্ভরশীল।
.
ভাই আমরা কখনোই এমন মেয়েকে বিয়ে করবোনা। বাবা মা যতো কথায় বলুক না কেন। যতো অভিমানই করুক না কেন। ‘…এতো কষ্ট করে তোকে মানুষ করেছি, আমাদের কোনো শখ আহ্লাদ নেই,তুই আমাদের এতো কষ্ট দিচ্ছিস আল্লাহ কী বলেননি বাবা মাকে কষ্ট দেওয়া যাবেনা, তাদের প্রতি উহ, শব্দটিও উচ্চারণ করা যাবেনা , তোকে পেটে ধরে আমি ভুল করেছি ব্লা ব্লা ……’ কোনো কথাতেই আমাদের মন যেন না গলে। বাবা মার কোনো অধিকার নেই তুমি কাকে বিয়ে করবে কাকে করবেনা সেটা ঠিক করে দেওয়ার। এই অধিকার ইসলাম সম্পূর্ণভাবে তোমাকে দিয়েছে। সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া আছে পাত্রীর দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তুমি যদি আল্লাহর এই আদেশ মানতে গিয়ে বাবামার মনে কষ্ট দাও, তোমার কোনো পাপ হবেনা।
.
ভাই এটা শয়তানের খুব কার্যকরী ফাঁদ। ভুলেও এ ফাঁদে পা দেওয়া চলবেনা। ভুলেও না। কতো জজবাওয়ালা ভাইদের দেখলাম এই ফাঁদে পড়ে ভিজে বেড়াল হয়ে যেতে, দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে। বউকে দ্বীনদার বানাবে কি নিজেই দ্বীন হারিয়ে ফেলেছে। দাড়ি কেটে ফেলেছে, সিনেমাহলে মুভি দেখতে যাচ্ছে, ফেইসবুকে ছবি দিচ্ছে জড়াজড়ি করে। ভাই, অধিকাংশ পুরুষই তার স্ত্রীদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। আমরা ভুলেও এই কাজ করবোনা।
.
অনেকদিন আগের এক মুজাহিদ এক খারেজি মহিলাকে বিয়ে করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল মহিলাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ভালো করা। ঐ লোকের পরিণতি কী হয়েছিল জানো? অনুমান করার চেষ্টা করোতো!… ঐ লোক খারিজিদেরই সর্দার হয়ে গিয়েছিল। মুজাহিদ থেকে জাহান্নামের কুকুর খারিজিদের সর্দার! ভাই আমরা এই ভুল করবোনা। কোনো রিস্ক নেবোনা। বিয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই মেয়ের দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দেবো।.
.

চলবে, ইনশাআল্লাহ…

শেয়ার করুনঃ