পর্নোগ্রাফি যেভাবে জীবন  ধ্বংস করেঃ পামেলা পলের সাক্ষাৎকার

পর্নোগ্রাফি যেভাবে জীবন ধ্বংস করেঃ পামেলা পলের সাক্ষাৎকার

পামেলা পল একজন আমেরিকান লেখিকা । পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে তাঁর কন্ঠস্বর বরাবরই সোচ্চার । তিনি পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতা সম্পর্কে pornfield  নামে একটি বই লিখেন । এই বই সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত সুন্দর ভাবে  পর্নোগ্রাফির ভয়াবহ দিক সম্পর্কে আলোচনা করেন । আমাদের পাঠকদের জন্য  সেই সাক্ষাৎকারের কিছু চুম্বকাংশ অনুবাদ করা হল

প্রশ্নঃ আমেরিকান সমাজে পর্নোগ্রাফির প্রসারে কোন বিষয়টা আপনাকে সবচেয়ে বেশী বিস্মিত করেছে?

পামেলা পলঃ  সত্যি কথা বলতে কি এই বইটা লিখার পূর্বে আমি কখনোই মনে করিনি পর্নোগ্রাফি এরকম ভয়াবহ একটা ইস্যু । আমি জানতাম আমেরিকাতে পর্নোগ্রাফির প্রচুর ভোক্তা আছে , কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম পর্নোগ্রাফি এমন কোন বিষয় না যে এটা কারো জীবন শেষ করে দিতে পারে । আমার মনে যে প্রশ্নটা জেগেছিল সেটা হচ্ছে ,” এইযে আমাদের সমাজে (আমেরিকান সমাজে) যে বিপুল পরিমাণ পর্নোগ্রাফি দেখা হয় সেটার কোন ইফেক্ট আছে কিনা?

কাজেই   গবেষণা করা শুরু করলাম । কেঁচো খুড়তে যেয়ে সাপ বেরিয়ে এল । আমি এমন কতগুলো লোকের সন্ধাণ পেলাম যাদের জীবন পর্নোগ্রাফি সম্পূর্ণরূপে  ধ্বংস করে দিয়েছে । এমনকি এমন কিছু লোকের সন্ধান পেলাম যারা পর্নোগ্রাফিতে পুরোপুরি আসক্ত না , কিন্তু এই পর্নোগ্রাফির প্রভাবে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে , চাকুরী হারিয়ে ফেলেছে । এইসব লোকেরা  মাঝে মাঝে অনুধাবন করতে পারে যে তারা আসলে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত । কিন্তু তারা যে বিষয়টা কখনোই উপলব্ধি করতে পারেনা যে এটার পরিনাম কি ।

প্রশ্নঃ কোন স্পেসিফিক উদাহরণ দিতে পারেন ?

পামেলা পলঃ  একজন মহিলার সঙ্গে আমার প্রায় আধা ঘন্টার উপর ফোনালাপ হয়ে ছিল । উনি আমাকে বললেন, ‘আমি একসময় প্রচুর পর্ন মুভি দেখতাম । আমি এটাকে নিছক বিনোদন মনে করতাম । আমার হাসব্যান্ডও পর্নে আসক্ত ছিল । কিন্তু আমাদের দাম্পত্য জীবন ছিল খুবই হতাশাজনক । আমরা খুবই অসুখী ছিলাম”।

এই ভদ্র মহিলা পর্নোগ্রাফির বাহ্যিক জৌলুশে মুগ্ধ ছিল , কিন্তু যখন সে ব্যাপারটা খতিয়ে দেখলো তখন তার মোহ কেটে যেতে সময় লাগলোনা ।

আপনার আসল  প্রশ্নে ফিরে আসি । আপনি কয়টা উদাহরণ চান ? আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছি তারা সবাই পর্নোগ্রাফির ভয়াবহ পরিনতির শিকার ।

আমি প্রচন্ড বিস্মিত হয়েছি, যখন  লোকজন আমাকে বলতে শুরু করল যে পর্নোগ্রাফি তাদেরকে ব্যাপক বিনোদনের জোগান দেয় । কিন্তু একই সঙ্গে তারা  এটাও বললো  তাদের যৌন জীবনে তারা প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন । তারা তাদের ইরেকশান নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা, তাদের স্ত্রীরা তাদের নিয়ে ভয়াবহ অসুখী এবং তারা স্বাভাবিক যৌনকর্মে তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে । পর্নোগ্রাফি এইসব হতভাগা লোকদের এমনভাবে প্রোগ্রামড করে ফেলেছে যে অনলাইনে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে পর্ন মুভি দেখাতেই তারা আনন্দ পায় ।

প্রশ্নঃ  আপনি আপনার বইয়ের এক যায়গায় বলেছেন   অনেকেই পর্ন সিরিয়াসলি নেয় না । হালকা ভাবে নেয় , মজা মনে করে।   কিন্তু আপনার বইয়ে কিছু লোকের কথা উল্লেখ করেছেন   যারা এটা খুব সিরিয়াস বিষয় হিসেবে নেই । তো ,হঠাত হঠাত পর্নমুভি দেখা এই  মানুষগুলো কিভাবে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে?

পামেলা পলঃ  পর্নোগ্রাফি  কিভাবে মানুষের উপর প্রভাব ফেলে এটা নিয়ে আমি পুরো একটা চ্যাপ্টার লিখেছি আমার বইতে । আমার বইয়ে এ ব্যাপারে  বিস্তারিত আলোচনা আছে । প্রথমত পর্নোগ্রাফি মানুষের সুকুমার বৃত্তিগুলো ধ্বংস করতে থাকে । একবার পর্ন মুভি দেখলে তার মধ্যে বার বার এটা করার প্রবনতা জাগে ।  সফট পর্ন  দেখা একজন লোক কিছুদিনের মধ্যেই এটাতে আর কোন আগ্রহ খুঁজে খুঁজে পায় না । সে নতুন কিছু চায় । আরো বেশি   আগ্রাসন , আরো বেশি খোলামেলা । এভাবে কয়েক ধাপ পেরিয়ে  সে একসময় নিজেকে আবিষ্কার করে হার্ডকোর পর্ন মুভি, চাইল্ড পর্ন দেখা অবস্থায় ।

আশঙ্কার কথা হল , যারা মাঝে মাঝে  পর্ন মুভি দেখে তাদের মধ্যেও   ঠিক  একই  উপসর্গ দেখা যায় (একটু কম মাত্রার) যেগুলো পাওয়া যায় পর্নোগ্রাফিতে আসক্তেদের মধ্যে ।

প্রশ্নঃ কোন নির্দিষ্ট বয়সের বা নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষেরাই কি শুধু পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয় ?

পামেলা পলঃ একসময় আমি বিশ্বাস করতাম পর্নোগ্রাফিতে  শুধু তারাই আসক্ত হয় যারা অশিক্ষিত,

অসচেতন । এটা শুধুমাত্র অবিবাহিত মানুষদের জন্যই । আমি ভাবতাম , প্রায়  প্রত্যেক টিন এজারদের  এমন একটা সময় পার করতে হয় , যে সময় তারা প্রচুর পরিমাণ পর্ন মুভি দেখে । পর্নের ব্যাপ্তিটা অনেক ছোট ।  কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের সমাজের প্রায় সকল বয়সের এবং সকল শ্রেণীর মানুষ পর্নোগ্রাফিতে  আসক্ত হয়ে পড়ছে । টিন এজার বলুন, মধ্যবয়স্কদের কথা বলুন, বৃদ্ধদের কথা বলুন  । সবাই পর্ন মুভি দেখে ।

আমি এমন অনেক উচ্চশিক্ষিত ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েটেড লোকের কথা জানি , অনেক বিবাহিত, অবিবাহিত , বাগদান করা , ছোট ছোট বাচ্চা কাচ্চা আছে এমন লোকের কথা জানি যারা নিয়মিত পর্ন মুভি দেখেন ।  পর্নোগ্রাফি মানুষের বেডরুম , ড্রয়িং রুম থেকে শুরু করে স্কুল কলেজের ক্লাস রুমে , অফিস আদালতে, চার্চে সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে । অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি যারা নিজেদেরকে নিবেদিত প্রাণ  খৃষ্টান মনে করেন, তারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ।  পর্নোগ্রাফি চার্চেও পৌঁছে গেছে । অনেক  সন্যাসীও এতে ভয়াবহ রকমের আসক্ত ।

প্রশ্নঃ আপনার বই এবং আপনার কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ধার্মিক মানুষদের মধ্যে পর্ন মুভি দেখার প্রবনতাটা বেশ বেশি ! কিন্তু ব্যাপারটা একটু খাপছাড়া  হয়ে গেল না ?

পামেলা পলঃ   আসলে ধার্মিক  মানুষেরা এই ব্যাপারটাতে অনেক সৎ । তাদেরকে এই ব্যাপারে কোন প্রশ্ন করা হলে তারা প্রায় কোন কিছুই লুকোছাপা না করে সত্য কথাটা বলে দেন ।  সেকুল্যারদের মধ্যে এই জিনিসটার বেশ অভাব ।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান করার সময় যখন ধার্মিক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি পর্নোগ্রাফি নিয়ে ভোগান্তিতে আছেন কিনা? তখন তারা সত্য কথাটাই বলে দেন । একটা বিষয় এখানে মাথায় রাখবেন , পর্নোগ্রাফি নিয়ে ভোগান্তিতে থাকা মানেই এটা নয় যে তারা নিয়মিত পর্ন মুভি দেখেন । এর মানে এটাও যে তারা পর্নোগ্রাফি থেকে দূরে সরে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন এবং একারনেই  এটা নিয়ে বেশ  ভোগান্তিতে আছেন ।

আমি যেটা মনে করি সেকুল্যারদের চেয়ে ধার্মিক লোকেরাই এই ব্যাপারটা নিয়ে বেশি সচেতন এবং এটার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে বেশি তৎপর ।

প্রশ্নঃ   পর্নোগ্রাফির সমস্যাটা দূর করার জন্য সেকুল্যাররা  ধার্মিক লোকদের থেকে কি  শিক্ষা নিতে পারে ?

পামেলা পলঃ  সেকুল্যারদের  ধর্মভিত্তিক কমিউনিটিদের মত পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করতে হবে । আমরা সবাই বলি, অমুক সমাজের এত শতাংশ লোক পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত, এত শতাংশ লোক পর্নোগ্রাফির কারণে ভয়াবহ জীবন কাটাচ্ছে , কিন্তু সত্যিকারঅর্থেই পর্নোগ্রাফিকে ভয়াবহ একটি বিষয় হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করার কাজ খুব একটা  হয়নি । আমরা কয়জনের সঙ্গে পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি ? এই ব্যাপারটাতে ধর্ম ভিত্তিকি কমিউনিটি গুলো অনেক অনেক এগিয়ে আছে । তারা অনেক আগেই পর্নোগ্রাফিকে একটা সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে । এবং এটার বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে চলেছে । পর্নোগ্রাফির  বিরুদ্ধে  তাদের এই   ক্যাম্পেইন অনেক আগেই শুরু হয়েছে ।

প্রশ্নঃ  তো একজন মানুষ কখন বুঝতে পারবেন যে তিনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন?

পামেলা পলঃ  দেখেন, এই  বিষয়টা এক একজনের   ক্ষেত্রে এক একরকম হয় । ­­­­ খুব কম সংখ্যক  লোক  দ্রুত ব্যাপারটা ধরতে পারে । বেশীরভাগ লোক বছরের পর বছর ধরে পর্নমুভি

দেখে যায় কিন্তু বুঝতেই পারে না তারা এতে ভয়াবহ রকমের আসক্ত হয়ে পড়েছে । এবং মজার ব্যাপার হল, তারা কখনো স্বীকার করতে চায়না যে তারা  পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ।

আমি প্রায় ২ ডজন লোকের সঙ্গে কথা বলেছি যারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ।  তাদের যখন জিজ্ঞাসা করলাম আপনারা কতদিন ধরে পর্নমুভি দেখেন , তারা সবাই উত্তর দিতে লুকোছাপার আশ্রয় নিলেন । সবাই কিছুটা  সময় কমিয়ে উত্তর দিলেন  । একজনতো আমাকে বলেই বসলেন (যিনি প্রায় কয়েক বছর ধরে  প্রত্যেকদিন গভীর রাত পর্যন্ত পর্ন মুভিতে বুঁদ হয়ে থাকেন) আমি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত না !

 

তো কখন  বুঝবেন আপনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ? কয়েকটা বেসিক রুল  বলি

মনে করুন, কেউ একজন সফটপর্ন দেখা শুরু করল । কিছুদিন পর সে যদি  নিজেকে  আবিষ্কার করে  চাইল্ড পর্ন বা গে পর্ন দেখা অবস্থায় তাহলে বুঝতে হবে  বিপদঘন্টা বেজে গেছে , ঐ লোক পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছে ।

আর একটা রুল বলি , এটাকে অবশ্য জেনারালাইজড করলে হবে না , এটা কিছু কিছু মানুষের জন্য । অনেক লোক আছে পর্ন মুভি দেখা শুরু করার কিছু দিন পর  পতিতালয়ে যেতে শুরু করে । কেউ কেউ অনলাইনে পতিতাদের  সঙ্গে চ্যাট করে । তাইলেই তো এই দুইটা রুল দিয়েই মোটামুটি বুঝতে পারবেন একজন মানুষ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত কিনা ।

প্রশ্নঃ আপনি কি বিশ্বাস করেন আপনার বই পর্নোগ্রাফির  বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করবে?

পামেলা পলঃ আসলে মানুষের জানা দরকার পর্নোগ্রাফি শুধু নিছক বিনোদন নয় । এর সঙ্গে ভয়াবহ ক্ষতি

জড়িত  রয়েছে । মানুষজনের এমন লোকদের কথা গ্রহণ করা উচিত যারা একসময় পর্নে আসক্ত ছিল বা এটা নিয়ে পড়াশোনা করেছে ।  এমন একসময় ছিল যখন  চিকিৎসকরা রোগীদের প্রেস্ক্রাইব করত ধূমপান করার জন্য এবং মুভিতে সিগারেটকে বেশ হাইলাইট করে দেখানো হত । সময়টা ছিল এমন যে ‘পুরুষ’ হতে হলে আপনাকে ধূমপান করতেই হবে । কিন্তু যখন সবাই ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো জানতে পারলো, তখন থেকে ধূমপানের মাত্রা কমে যেতে থাকলো ।  এবং বর্তমানে এটাকে নেতিবাচক দিক হিসেবেই মেইনস্ট্রীম মিডিয়ায় উপস্থাপন করা হয় । আমি বলব পর্নোগ্রাফির ব্যাপারটাও সিগারেটের মতো । আমরা এটা নিয়ে যতবেশি  আলোচনা করব, এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানবো ,এটার বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে ততোবেশি সচেতনতা  সৃষ্টি হবে ।

(ঈষৎ সংক্ষেপিত এবং পরিমার্জিত)

রেফারেন্সঃ

http://www.beliefnet.com/news/2005/10/how-porn-destroys-lives.aspx

শেয়ার করুনঃ
আত্মোপলব্ধি

আত্মোপলব্ধি

আমাদের প্রজন্ম পর্নোগ্রাফি দ্বারা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত, আর এই আসক্তি খুব অল্প বয়স থেকেই শুরু হয়। পর্নোগ্রাফি যেসব সমস্যা তৈরি করে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, এটি বিনোদন পাবার জন্য অন্য মানুষকে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করতে শেখায়।

আমরা এই বিষয়ে গবেষণার পাশাপাশি ডেভিন নামের একজন কলেজ ছাত্রের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। পর্নোগ্রাফি কীভাবে তার জীবনকে আক্রান্ত করেছে, সে বিষয়ে আমরা তার সাথে কথা বলেছি এবং পর্নোগ্রাফি কীভাবে তার মানসিকতার পরিবর্তন করেছে, এ ব্যাপারে সে তার বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।

নিচের উক্তিগুলো ডেভিনের সাক্ষাৎকার থেকে নেয়া, সেই সাথে কিছু আলোচনা তুলে ধরা হলোঃ

“আমি যখন প্রথম পর্নোগ্রাফি দেখি তখন আমি ৭ম শ্রেণীর ছাত্র। আমি ইন্টারনেটে একটি পর্ন  ওয়েবসাইট এর বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। এটা অনেক জঘন্য ছিল। ৮ম শ্রেণীতে থাকাকালীন অবস্থায় আমি পর্নোগ্রাফিতে পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে পড়ি।”

এটা প্রমানিত যে,পর্নোগ্রাফি একটি ক্রমবর্ধমান আসক্তি। অসংখ্য জরিপে দেখা গিয়েছে, পর্নো গ্রাফি মানুষের মানসিকতাকে এমন করে দেয় যে, সে অন্য মানুষকে “মানুষ” হিসেবে মর্যাদা দিতে ভুলে যায় এবং অন্যান্যদের সাথে তার সম্পর্কের উপরও খারাপ প্রভাব পড়ে। সে দেহের আকার, আকৃতি ও দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখে মানুষকে বিচার করতে থাকে। সে অবচেতন মনেই অন্যান্যদেরকে এমনকি নিজের ভালোবাসার মানুষকে শুধুই বিনোদনের বস্তু হিসেবে ভাবতে শুরু করে, সে এটা ভুলে যায় যে তাদেরও মানুষের মত চিন্তা, অনুভূতি, ব্যক্তিত্ব ও আবেগ আছে। এটা প্রকৃত ভালোবাসার বিপরীত। পর্নো গ্রাফি নারী-পুরুষকে শুধু যৌন মিলনের উপকরণ হিসেবে কল্পনা করতে শেখায়, যেটি প্রকৃত ভালোবাসাকে হত্যা করে।[১,২]

“আমি লক্ষ্য করলাম, পর্নোগ্রাফিতে আমি যেসব চরিত্র দেখতাম, তারা যেন আমার সাথেই অবস্থান করছে। ক্যাম্পাসে হাঁটার সময় যখন মেয়েদের দেখতাম, আমি শুধু তাদের দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো দেখতে পেতাম। বাস্তবিক পক্ষে, আমি না চাইলেও আমার চোখ এই বিষয়গুলোই দেখত। আমি অবচেতন মনে মেয়েদেরকে তাদের দৈহিক আকৃতি দেখে বিচার করতাম। পর্নোগ্রাফি আমাকে মেয়েদের ব্যাপারে এসব চিন্তা ছাড়া ভালো কোন কিছু চিন্তা করতে বাধা দিয়েছে।”

পর্ন  ভিডিওতে যেসব মানুষদের দেখা যায় তাদেরও একটা বাস্তব জীবন আছে। একজন  সাবেক  পর্নো  অভিনেত্রী  এক সাক্ষাৎকারে পর্নোগ্রাফি সম্পর্কে বলেছিলেন, “পুরুষরা বারবার আপনার মুখে আঘাত করছে আপনাকে উত্তেজিত করার জন্য এবং এভাবে চলছেই। পর্নোগ্রাফিতে আপনাকে একটি পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়-অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এখানকার মানুষগুলো মাদক সেবন করে কারণ তারা এধরনের জীবনকে ভুলে থাকতে চায়।”

এই কথাগুলো শুনেও কি আপনার পর্নোগ্রাফিকে যৌন উত্তেজক মনে হচ্ছে?

অবশ্যই না। প্রকৃতপক্ষে, পর্ন  ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের কাছে যৌনতার সংজ্ঞা এই রকমই।

২০০৫ সালে, ৪০০ জন লোকের উপর জরিপে দেখা যায়, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তিরা অন্যদের চেয়ে বেশি একাকীত্ব বোধ করে।[৩]

পর্নোগ্রাফিতে সুন্দর ও আকর্ষণীয় পরিবেশে দুজন মানুষের মধ্যে অপার্থিব যৌন আনন্দের দৃশ্য তৈরি করা হয়-যেটা বাস্তবিক পক্ষে সম্ভব নয়। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তিরা বাস্তব জীবনে এ ধরনের অপার্থিব যৌন আনন্দ প্রত্যাশা করে, ফলে তারা অসন্তুষ্টিতে ভোগে।

“পর্নোগ্রাফি চরম একাকীত্ব সৃষ্টির একটি মাধ্যম। আমি যখন একাকীত্ব বোধ করতাম তখন পর্ন  দেখতাম এবং এটা আমার একাকীত্ব কমাতে পারত না বরং বৃদ্ধি করত। কখনো একঘেয়ে লাগলে, হতাশ বা নিজের প্রতি রাগান্বিত হলেও আমি পর্নোগ্রাফিতে ডুবে থাকতাম।”[৪,৫]

মূল লিখাটি- https://fightthenewdrug.org/an-interview-with-a-porn-addict/

রেফারেন্সঃ

[১] http://bit.ly/2n3OHtd

[২] http://bit.ly/2DoqNys

[৩] http://bit.ly/2EZ8X5B

[৪] http://bit.ly/2DnE9ew

[৫] http://bit.ly/2DulYaT

শেয়ার করুনঃ
পর্নঃজীবনের স্বাদ নষ্টকারী

পর্নঃজীবনের স্বাদ নষ্টকারী

পর্নোগ্রাফি একটি সামাজিক মহামারি ব্যাধি। শিশু, তরুণ, ও প্রাপ্তবয়স্ক কেউ এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, ইন্টারনেট এর মাধ্যমে অপ-সংস্কৃতির অবাধ প্রবেশ এর প্রধান কারণ।

পর্নোগ্রাফির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা আমাদের উদ্দেশ্য। মানুষ পর্নমুভির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জেনে সচেতন হবে এ আশায় ব্যক্তিগতভাবে পর্নমুভি দেখার ক্ষতিকর ফলাফল ভোগ করেছেন এমন অনেকেই  তাদের কাহিনী আমাদের সাথে নির্দ্বিধায় শেয়ার করেছেন।

তেমনি একটি সত্য কাহিনী টাইসন নামের(নাম পরিবর্তন করা হয়েছে)একজনের বাস্তব জীবন থেকে নেয়া। যেটি তার অতীতের ড্রাগস ও পর্নমুভি আসক্তির সাথে সংগ্রামের । টাইসনের গল্পটি আমরা বিরল ও অদ্ভুত ঘটনা বলতে পারতাম। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা সারা বিশ্বর শিশু, তরুণ, ও প্রাপ্তবয়স্ক থেকে যে হাজার হাজার মেইল এবং সরাসরি পত্র পেয়েছি তার বেশীরভাগে দেখা যায়, পর্নমুভি আসক্তির অভিজ্ঞতা সবক্ষেত্রে অনুরূপ।

…… আমি এককালে  ড্রাগস আসক্ত ছিলাম ।সেই আসক্তি কাটিয়ে উঠেছি অনেক দিন হল । ড্রাগসের সরাসরি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। আমি বেঁচে আছি এজন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।

যদি আপনি আমাকে পাঁচ বছর আগে জিজ্ঞেস করতেন, আমি পর্ন মুভিকে কখনোই আসক্তি ও ড্রাগস হিসেবে বিবেচনা করতাম না। সত্যি কথা বলতে, আমি আপনার কথা হেসে উডিয়ে দিতাম। কিন্তু  আমি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি   পর্ন মুভি, ড্রাগসের মতোই ক্ষতিকর

আমি ভাবতাম পর্নোগ্রাফি  জীবনের একটা স্বাভাবিক অংশ ।  আমি মনে করতাম পর্ন মুভি ক্ষতিকর নয়। পর্নমুভি আমাকে  তো আমাকে বলছে না যাও কাউকে  খুন করে আসো বা   কারো ক্ষতি কর ।

কিন্তু একসময়  আমি একটি কঠিন সত্য আবিষ্কার করলাম  পর্ন মুভি আমার স্বাভাবিক জীবন যাত্রার ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে আমি রক্ত-মাংসের মানুষ ভেবে কোন  নারীর দিকে তাকাতে পারতাম না, তাকে শুধু কেনা-বেচার বস্তু ও কামনার আগুন উস্কে দেওয়ার সামগ্রী হিসেবে দেখতাম। আমি নিজের উপর আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিলাম না এবং এ ধরনের চিন্তাকে আমি যত বেশি প্রশ্রয় দিতাম তত বেশি পর্ন মুভির প্রতি ক্ষুধা বেড়ে যেত।

কিন্তু, ততক্ষণ আমি এটা থামানোর চেষ্টা করিনি, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি পর্ন মুভি আসক্তিকে  সত্যিকারভাবে ড্রাগস আসক্তির অনুরূপ হিসেবে দেখিনি। কোন এক বিকেলে,  যৌন আবেদনময়ী পোশাকে এক আকর্ষণীয় নারীকে দেখে আমি কামাতুর হয়ে গেলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি নারীর শরীর  পেতে চাইলাম।  এই অনুভূতি থেকে মুক্তি পেতে কিছু পর্নমুভি দেখতে চাইলাম। আমি ইন্টারনেটে আমার প্রিয় পর্ন সাইটে লগ অন করার জন্য তাড়াতাড়ি কম্পিউটারের কাছে  এ ছুটে গেলাম। আমি কোন কিছু পরোয়া করছিলাম না, আমি যে কোন উপায়ে শুধু পর্ন মুভি অথবা সেক্স চেয়েছিলাম। যখন আমার অবস্থা স্বাভাবিক হল ঠিক ঐ মুহূর্তে আমার মনে হল আরে  আমি একসময় ড্রাগ নিতে দেরি হলে যেরকম অস্থির হয়ে যেতাম , শরীরের প্রচন্ড চাপ অনুভব করতাম পর্ন মুভির ক্ষেত্রেও তো সেরকমটা হচ্ছে ।   আমি বুঝতে পারলাম যে আমি নিজের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি, এবং পর্ন মুভির  আসক্তি আমাকে শেষ করে ফেলেছে।

দুর্ভাগ্যবশত, এই চোখ-খুলে দেওয়া অভিজ্ঞতাটা অনেক দেরিতে হল। ড্রাগস আসক্তির চেয়ে পর্ন মুভি আসক্তি নির্মূল করতে আমার আরও অনেক বেশি বছর লেগেছিল। মনে করে দেখুন পূর্বে আমি বলেছিলাম যে আমার পর্ন  দেখা কাউকে আঘাত করছে কিনা, হায়! আমি কতই না ভুল ছিলাম ? আমার পর্ন  আসক্তি আমার স্ত্রী ও সন্তানের প্রায় অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। এই দুঃসহ অভিজ্ঞতা পাড়ি দেওয়ার সময় আমার অনেক বার মনে হয়েছে আত্মহত্যা করে ফেলি। কারন আমার মনে হত সম্ভবত আমি আর কখনো সাভাবিক জীবন ও সুস্থ সম্পর্কে ফিরতে পারবনা।

অনেকেই মনে করেন পর্ন মুভি শুধু  মজা, সেক্স, ও স্রেফ বিনোদনের জন্য । কিন্তু  এটা মোটেও ঠিক না । প্রায় সবাই জানে যে, ড্রাগস নেওয়া আপনার জন্য ভাল নয়, কিন্ত তারা কি জানে পর্ন মুভি আসক্তি ঠিক একই ভাবে আসক্তিপূর্ণ ও প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক বরবাদ করে দেয়? নিজে জেনেছি যে, ড্রাগস আসক্তির চেয়ে   পর্ন  আসক্তি থেকে রিকভার করা অধিকতর কঠিন। যারা আনন্দময় জীবন ও সম্পর্ক চায়, তাদের উচিত যে কোন মূল্য পর্ন মুভি থেকে দূরে থাকা। যদি আপনি ইতোমধ্যে এতে জড়িয়ে পড়েন তবে দ্রুত বেরিয়ে পড়ুন এবং সাহায্য নিন। এটা আপনাকে কখনো আনন্দ দেবেনা, বরং আরও বেশি ক্ষতি করবে। পর্ন মুভির আসক্তি থেকে  মুক্তি পাবার পর আমি  নতুন করে বাঁচতে শিখেছি , নারীদেরকে সম্মান করতে শিখেছি । জীবনটা আমার কাছে এখন অনেক বেশি মধুর মনে হয় ।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

মূল লিখাটি এই সাইট থেকে সংগৃহীত- https://fightthenewdrug.org/blog/

পড়ুন-

মাদকের রাজ্যে- https://bit.ly/2N4ONzA

নীল রঙের অন্ধকার (প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2NAWPjh
নীল রঙের অন্ধকার (দ্বিতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2xg34yS
নীল রঙের অন্ধকার (তৃতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2x6jBFY
নীল রঙের অন্ধকার (চতুর্থ কিস্তি): https://bit.ly/2x7BEvA
নীল রঙের অন্ধকার (পঞ্চম কিস্তি): https://bit.ly/2x7WuuS
নীল রঙের অন্ধকার (ষষ্ঠ কিস্তি): https://bit.ly/2xf97TY
নীল রঙের অন্ধকার (সপ্তম কিস্তি): https://bit.ly/2p3UUFS
নীল রঙের অন্ধকার (অষ্টম কিস্তি): https://bit.ly/2xf8VUK
নীল রঙের অন্ধকার (নবম কিস্তি): https://bit.ly/2QquLgS
শেয়ার করুনঃ
নরক

নরক

পর্ণের দুনিয়াটাকে অনেক আকর্ষণীয় মনে হয় তাই না? কিন্তু ভিতরের কাহিনী কিন্তু একদম উল্টো। বিকৃত রুচির মানুষের চাহিদা মেটাতে গিয়ে কত মেয়েকে যে নির্মম অত্যাচারের শিকার হতে হয় আর কত মেয়ের চাপা কান্না যে বাতাসে হারিয়ে যায় সে খবর কি আমাদের কানে আসে? এই আর্টিকেলটাতে কিছু পরিসংখ্যান আর তথ্যের সাহায্যে পর্ণ অভিনেতা আর অভিনেত্রীদের ভয়াবহ জীবন তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

“ছেলেরা আপনার মুখে ঘুষি মারতে থাকবে, বলতে গেলে আপনাকে ছিড়ে ফেলবে।আপনার মনে হবে আপনার প্রাণ বেরিয়ে আসছে আর এটা থেমে থাকে না।আপনাকে এখানে একটা ভোগ্য বস্তু হিসেবে দেখানো হবে, মানুষ হিসেবে নয়।মানুষ যখন সমাজে নিজের স্থান খুজে পায় না তখনি সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে”। – সাবেক পর্ণ অভিনেত্রী

পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির একটি সেকেণ্ডারি নেচিবাচক প্রভাব হল  চুড়ান্ত পর্যায়ে   মাদকাসক্তি। একজন পর্ণ অভিনেত্রীর  স্বীকারোক্তি “আমরা যেসব মাদক ব্যবহার করি তা হল এক্সটেসি,কোকেইন,মারিজুয়ানা(গাজা),জানাক্স,ভালিউম,ভিসোডিন আর এলকোহল”

২০১২ সালে ১৭৭ জন পর্ণ অভিনেত্রীদের উপরে করা একটা জরিপে দেখা গেছে   জীবনে একবার হলেও ৭৯%  পর্ণ অভিনেত্রী  marijuana  ব্যবহার করেছেন , hallucinogens  ব্যবহার করেছেন ৩৯% , ecstasy  ব্যবহার করেছেন ৫০% , cocaine  ব্যবহার করেছেন ৪৪% , methamphetamine ব্যবহার করেছেন ২৭% , tranquilizers ব্যবহার করেছেন ২৬% , heroine ১০% ।

জানুয়ারি ২৮,২০০৮ এ এক পুরুষ পর্ণঅভিনেতা তার ব্লগে লিখেনঃ

“মাদক আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে খুব বড় একটি সমস্যা।কেউ যদি আপনাকে অন্য কিছু বলে তবে সে মিথ্যা বলছে।শুধু এই মাদকের জন্য অগণিত মেয়ে নিজেদের বেচে থাকার ইচ্ছা উদ্যম সব হারিয়ে ফেলেছে ।এটা চিন্তা করলেই  আমি খুবই কষ্ট পাই আর তাদের এই অধঃপতন খুবই বেদনাদায়ক,অন্তত আমার কাছে।এটা মানতেই হবে যে, বেশিরভাগ মাদকাসক্ত প্রফেশনাল সহায়তা ছাড়া তাদের অভিশপ্ত জীবন থেকে বের হয়ে আসতে পারেন না।আমি শুটিং সেট থেকে শুরু করে পার্টি এমনকি গাড়িতেও ড্রাগের যথেচ্ছ ব্যবহার দেখেছি।আনুমানিক ৯০%

জনবল(পারফরমার,ড্রাইভার,এজেন্ট,মালিক ইত্যাদি) মারিজুয়ানা(গাজা) তে আসক্ত।সম্প্রতি স্টেজে আমার সাথে কর্মরত মেয়েটি আচমকা অজ্ঞান হয়ে যায়(সে অক্সিকোন্টিনে আসক্ত ছিল)।আরেকটি মেয়ে GHB ওভারডোজ হয়ে সেটেই লুটিয়ে পড়ে(GHB-পার্টি ড্রাগ যেটা এলকোহলের সাথে সহজে মিশে না)।প্রেস্টিজিয়াস  পুরস্কার পেয়েও ইতিহাস আছে এমন মেয়েদের যারা এতই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিল যে তারা সেটা আনতে যেতে পারে নি।কারণ তারা প্রায় ৫০ পাউন্ড ওজন হারিয়ে নিজের চেহারা গঠন সব ধুলোয় মিশিয়ে ফেলে।প্রশ্ন হল এখানে মাদক এত সহজলভ্য কেন??প্রথমত এখানে মুলত ১৮-২১ বছরের মেয়েরা কাজ করে যাদের অনেকেই অশিক্ষিত নয়তো অল্প শিক্ষিত।অনেকেই আসে যারা বলতে গেলে কপর্দকশূন্য অথবা পিজার দোকানে সস্তা কাজ করে।

এখানে এসে তারা মাসে ১০ হাজার ডলার আয় করে যার বিনিময়ে মাসে তাএর ৫ ঘন্টা করে ১০-১২ দিন কাজ করতে হয়।মাদকের দালালরা হাঙরের মত তাদের শিকার করে।এই মেয়েদের হাতে থাকে অবসর সময় আর প্রচুর কাঁচা টাকা।দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে মাদক ব্যবসায়ীদের বাজিমাত।

২০১২ সালে ১৭৭ জন পর্ণ অভিনেত্রীদের উপরে করা একটা জরিপে দেখা গেছে   জীবনে একবার হলেও ৭৯%  পর্ণ অভিনেত্রী  marijuana  ব্যবহার করেছেন , hallucinogens  ব্যবহার করেছেন ৩৯% , ecstasy  ব্যবহার করেছেন ৫০% , cocaine  ব্যবহার করেছেন ৪৪% , methamphetamine ব্যবহার করেছেন ২৭% , tranquilizers ব্যবহার করেছেন ২৬% , heroine ১০% ।

মাদকের ছড়াছড়ির সাথে সাথে নির্যাতনের বিষয়টিও ব্যাপক

আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে।একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে

১০০% স্ট্রিপার শারীরিক নির্যাতন অথবা গালাগালির শিকার হন।

৯১% রিপোর্টে দেখা গেছে কাস্টমাররা মৌখিক ভাবে তাদের

অপদস্ত করে, সাথে সাথে প্রায় সবাই শারীরিক নির্যাতনের সম্মুখীন হয়।

স্ট্রিপারদের গায়ে হাত দেয়া নিষিদ্ধ হলেও রিপোর্টে দেখা যায়

কাস্টমাররা তাদের হাতে(৮৮%), স্তনে(৭১%),পশ্চাৎদেশে(৯১%)

স্পর্শ করে।আক্রমণের ঘটনাও কম নয়।চুল টানা

(২৭%),চিমটি(৫৪%),চড় মারা(৫৮%) এমনকি কামড়ে

দেয়ার(৩৬%) মত ঘটনাও ঘটে।এই আক্রমণগুলো স্ট্রিপক্লাবের ভিতর বডিগার্ড আর স্টাফদের সামনেই ঘটে।

ইদানিং পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি জোর দিচ্ছে চড় থাপ্পড়, অমানবিক নির্যাতন আর থুথু ছিটানো রাফ আর পেইনফুল সেক্সের প্রতি। একটা সিনে পুরুষ অভিনেতা অভিনেত্রী কে ধরে টয়লেটের কমোডে মুখ ঢুকিয়ে চেপে ধরে। এই ইন্ডাস্ট্রিতে এটাই নাকি ক্লাইম্যাক্স। ৮৮% ভাগ ফিল্ম শারীরিক ও মানসিক ভয়াবহ নির্যাতনে ভরপুর।

আমাদের জানামতে ২০০৩ থেকে ২০১৪ সনের মধ্যেই সান ফেরনান্দ ভ্যালি , ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ১৫০০ যৌন কর্মীর ২২৮ জনই মৃত্যুবরণ করেছে এইডস , আত্মহত্যা , মাদক সেবনের মাধ্যমে । এদের অনেকেই হয়েছে হত্যার শিকার আবার অনেকে বরণ করেছে অকাল মৃত্যু । পৃথিবীর কোন ইন্ডাস্ট্রি , এমনকি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি যা কিনা পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির চেয়েও ১০ গুণ বড় – এমন পরিসংখ্যান নেই । যেখানে একজন আমেরিকানের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭৮.৬ বছর সেখানে একজন যৌনকর্মীর প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৩৬.২ বছর ।

পর্ণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলোর খুব  গা ঘিনঘিনে  বিষয় হল যৌন রোগ  । লস অ্যাঞ্জেলস এর সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ২০-২৪ বছর বয়সীদের তুলনায় যৌনকর্মীদের ক্লামিডিয়া ও গনেরিয়া সংক্রমণ সম্ভবনা ১০ গুণ বেশি । তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে এই রোগগুলো সংক্রমণ সম্ভবনা যৌনকর্মীদের মাঝে কল্পনাতীত ভাবে বেশি । ডাক্তার শেরন মিশেল – সাবেক পর্ণ অভিনেত্রী ও AIM (Adult Industry Medical Healthcare Foundation) এর  ফাউন্ডারের সঙ্গে  এক সাক্ষাতকারে যৌন রোগের প্রাদুর্ভাবের কথা নিশ্চিত করেছেন । তিনি আরও উল্লেখ করেছেন “৬৬% যৌনকর্মী হারপিস এ ভোগেন , ১২-২৮% এর রয়েছে যৌন রোগ , ৭% এর রয়েছে HIV” ।

কোন যৌন রোগ আছে কিনা তার পরীক্ষা পর্ণ শিল্প আইনের আওতাভুক্ত নয় । কর্মীদের তাদের নিজ খরচে পরীক্ষা করাতে হয় । পর্ণ সেট এ একাধিক যৌন সঙ্গীর সাথে মেলামেশার দরুন পরীক্ষালব্ধ ফলাফল হয় অনিশ্চিত – যার ফলে পর্ণ শিল্পে যৌন রোগের প্রাদুর্ভাব আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে । পর্ণ স্টারদের অনেক কিছু বলার আছে পর্ণ ভোক্তাদের কাছে এই যৌনরোগগুলোর ব্যাপারে ।.

তো বুঝলেন তো , ল্যাপটপে বা মোবাইলের স্ক্রীনের এইপাশে বসে পর্ণমুভির জগতটাকে  যতই আকর্ষণীয় দেখাক না কেন , পর্দার ওপাশে  লুকিয়ে আছে কতটা   বর্বরতা  আর  নিষ্ঠুরতা ?

এখানে স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন এসে  যায় , পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা যদি  সত্যিই এতটা খারাপ হয় , সেখানে যদি নারীদেরকে এভাবেই নির্যাতন করা হয়  তা হলে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি  বন্ধ করে দেওয়া হয়না কেন ? পর্ণ ওয়েবসাইটগুলো তো ব্লক করে দিলেই কেল্লাফতে । আর মানবাধিকার রক্ষায় সদা জাগ্রত , নারী স্বাধীনতার অগ্রদূত   আমেরিকা, ফ্রান্স এরা চুপ করে কেন ? সুশীল সমাজ , মুক্তমনারা কেন এগুলোর বিরুদ্ধে তেমন কোন কথা বলে না ?

–      কারণ  টাকা । জী টাকা ।

আপনাকে  পর্ণ মুভির বাজার সম্পর্কে একটা হালকা পাতলা ধারণা দিলেই ইনশা আল্লাহ্‌ বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা ।

“Online pornography is the first consistently successful e-commerce product.”

–      Donna Rice Hughes  ( ceo of enough is enough,  working for ensuring  the internet safety of children and families)

পৃথিবীতে আনুমানিক ৪২ লক্ষ পর্ণ ওয়েবসাইট আছে যা মোট ওয়েবসাইটের ১২% । পৃথিবীর প্রায় ৭২ লক্ষ মানুষ এই ওয়েবসাইটগুলোর মাসিক পরিদর্শক । প্রত্যেক দিনের অনুসন্ধান আবেদনের (search request) চার ভাগের এক ভাগই থাকে পর্ণ বিষয়াবলীর উপর – যার পরিমাণ দাড়াই ৬৮ লক্ষ । যেখানে প্রায় ৪০ লক্ষ আমেরিকানই পর্ণ ওয়েবসাইটের নিয়মিত পরিদর্শক । U.S.A প্রাপ্তবয়স্ক চলচিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ১ বছরে প্রায় ৪০০০-১১০০০ চলচিত্র নির্মাণ করে – এবং এর মাধ্যমে আয় করে আনুমানিক ৯-১৩ লক্ষ কোটি মোটা অঙ্কের টাকা ।

২০০৬ সালে sex-related entertainment business’ থেকে শুধুমাত্র আমেরিকার ১৩ বিলিয়ন ডলার কামিয়েছে ।

-Fishbein, president of the Adult Video News Media network

এমনকি  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি হলিউডের চেয়েও বেশী লাভজনক ।  প্রতিবছর গড়ে  ১৩০০০ পর্ণ মুভি তৈরি করা হয়  অন্যদিকে প্রতিবছর হলিউডে মাত্র ৫০৭ টি মুভি তৈরি করা হয় । পর্ণ মুভি থেকে মুনাফা আসে ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি আর হলিউডের মুভিগুলো থেকে  ৮.৮ বিলিয়ন ডলার । (Bridges and Wosnitzer, 2007).

এখানে আর একটা ব্যাপারও মাথায় রাখা জরুরী । পর্ণ মুভি তৈরি করার সময় খুব মোটা অংকের বাজেটের প্রয়োজন পড়ে না , কিন্তু হলিউডের মুভি গুলোর বাজেট হয় খুব বড়  অংকের । তারমানে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি খুব অল্প টাকা বিনিয়োগ করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশ বড়সড় টাকা হাতিয়ে নেয়

পর্ণ মুভির ব্যবসা নিয়ে কথা বলতে গেলে ঘুরে ফিরেই  আমেরিকার নাম আসবে ।  আমেরিকা হল সে দেশ পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির খনি । এখানেই সবচেয়ে বেশী পর্ণ মুভি  তৈরি করা হয় ।   এই আমেরিকার  Californiaতে  বিশ্বের ৮৫% এডাল্ট কন্টেন্ট তৈরি হয়।বেশিরভাগ নারী প্রতিভা(!) এজেন্সি এই এলাকার আশে পাশেই অবস্থিত আর অনেক নারী মডেল এখানে আসেন পর্ণ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে।পুরুষ মডেলদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা, এমনকি ছোট বড় সব পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি এই “California” তেই  অবস্থান করছে।পৃথিবীতে যতগুলো পর্ণ ওয়েবসাইট আছে তার শতকরা ৮৯ ভাগের মালিক আমেরিকানরা ।

তাহলে এবার বলুনতো দাদাবাবু , আমেরিকার কি দরকার পড়ছে পর্ণমুভির ইন্ডাস্ট্রী গুলো বন্ধ করে দেওয়া ?  অল্প পুঁজিতে পর্ণমুভি বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতানো বাদ দিয়ে  সে কেন  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রী বন্ধ করবে ? সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে  বোকা ছাড়া আর কে  জবাই করতে চায়, বলুন?

তাইলে,  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রীতে ড্রাগসের ব্যবহার, নারী নির্যাতন  …… … আরো কি কি জানি ?

আমেরিকার মত উদার গনতান্ত্রিক দেশ , নারী স্বাধীণতায় বিশ্বাসী দেশ এগুলো মেনে নিবে ?

আরে ভাই সহজ ব্যাপারটা বোঝেন না কেন ,  টাকার  আর তেলের গন্ধ পেলে পশ্চিমা দেশগুলোর হুশ থাকেনা ।   আর নারী  নির্যাতন ? তাদের ভাষায় তো  শুধু  মুসলিমরাই নারী  নির্যাতন  করে- তারা নারীদেরকে পর্দার আড়ালে আবদ্ধ করে রাখে , তাদেরকে ঘরে বন্দী  করে রাখে , সম্পত্তিতে সমানধিকার দেয় না ব্লা ব্লা ব্লা ……… ।

 

বোঝা গেছে  আমেরিকা কি চীজ ?

#হিপোক্রিট

শেয়ার করুনঃ
‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয়  পর্ব)

‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব)

 

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

একেবারেই একাডেমিক ধাঁচের লিখা এটি । রসকষহীন । ধৈর্য ধরে পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইলো পাঠকদের নিকট ।

অনেকেই একটা  ভুল ধারণা নিয়ে থাকেন  আমি তো শুধু পর্ণমুভি দেখছি ,ওইগুলো করছি না । কারো কোন   ক্ষতি করছিনা । পর্ণ দেখা  দোষের তো কিছু না । এই ভুল ধারণাটা ভেঙ্গে দেবার জন্য এই লিখাটাই  যথেষ্ট ইনশা আল্লাহ্‌ ।

প্রাপ্তবয়স্ক ও বাচ্চাদের ওপর পর্নোগ্রাফির প্রভাব-ডঃ ভিক্টর বি. ক্লাইন

একজন ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে আমি দীর্ঘকাল ধরে ট্রিটমেন্ট করে আসছি সেক্স অফেন্ডার, সেক্স অ্যাডিক্ট ও যৌন রোগধারী ব্যাক্তিদের যাদের সংখ্যা প্রায় ৩০০ এর মত।তাদের সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে অপ্রত্যাশিত ও অদম্য যৌন আচরণ, child molestation, exhibitionism, voyeurism, sadomasochism, fetishism and rape.

নিঃসন্দেহে বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে এদের একমাত্র প্রেরণাদায়ক শক্তি পর্ণ,দু চারটে ব্যাতিক্রম বাদে।এদের প্রাইমারি স্টেজে একটা সিন্ড্রোম কাজ করে যাকে আমি বলি ফোর ফ্যাক্টর সিনড্রোম।মানে প্রথমে আসক্তি, তারপর তীব্রতা বৃদ্ধি, এরপর ঘটে সংবেদনশীলতার অভাব আর শেষটায় এসে বর্বর আচরণ।

 

এক্ষেত্রে পুরোটাই আস্তে আস্তে ঘটে।প্রথমে ব্যাক্তি পর্ণের লোভ সামলাতে না পেরে তার যে ক্যাটাগরি পছন্দ সেই ক্যাটাগরির পর্ণে নিমজ্জিত হয়।পর্যায়ক্রমে তার পরিমাণ বাড়তে থাকে।এই  ভয়ংকর চোরাবালি একসময় তাকে নেশাগ্রস্ত করে।অবশেষে বিবেবকে শূন্যে ভাসিয়ে ও ফলাফলের কথা না ভেবে জীবনের অন্যতম ভুল করে বসে যার জন্য পরবর্তীতে মানসিকভাবে পস্তাতে হয়।কাউকে কাউকে পর্ণ মুহূর্তের মধ্যে গরম করে আবার মুহূর্তের মধ্যেই স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসে।কিন্তু কারো কারো ভিতর ক্যান্সারের মত এঁটে যায় সারাজীবন।মানসিক থেরাপির শরণাপন্ন হতে হয় তখন।

 

যৌন অপরাধের সাথে পর্নোগ্রাফির ঘনিষ্ঠতা –ররি রিড

 

পর্ণের প্রতি অতিরিক্ত মাদকতা মানুষের বৈধ যৌন আচরণে বিকৃত পরিবর্তন আনে ঠিক যেভাবে মানুষের জীবনকে তিলে তিলে ক্ষয় করে অ্যালকোহল।অনেকে হয়তো স্বাভাবিক যৌন আচরণের ওপর পর্ণের প্রভাবটা মেনে নিবে না।তাদেরকে যদি একবার আমার চেয়ারে বসিয়ে শোনাতে পারতাম পর্ণাসক্তদের সঙ্গীদের তিক্ত ও তীব্র অভিজ্ঞতার কথা যা আমাকে হরহামেশাই শুনতে হয়, তাহলে বোধয় তাদের ধারণা পাল্টে যেত।এদের বাধ্য করা হয় অসুস্থ যৌন আচরণে লিপ্ত হতে।মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার এরা।কিন্তু এসব ঘটনা কেবল চার দেয়ালের মাঝেই আটকা থাকে।বিচারের জন্য কোর্টরুম পর্যন্ত আর পৌঁছায় না।যারা এই ধরণের অস্বাভাবিক ও জোরপূর্বক যৌন আচরণে তাদের সঙ্গীদের নিমজ্জিত করে তারা এটাকে খুব স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়।অনেক সময় অচেনা কারো দ্বারা ধর্ষিত হওয়ার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে এসব অভিজ্ঞতা।

ভিক্টিম ধর্ষণের কারণ হিসেবে নিজেকে দোষারোপ করে না কারণ এখানে নিশ্চিতভাবে তার কোন দোষ নেই।কিন্তু যেসব বৈবাহিক সম্পর্কে সেক্সুয়াল ইন্টিমেসির নামে একপাক্ষিক বিনোদন আর লাম্পট্য চলে সেসব ক্ষেত্রে অনেক সময় অভিযোগকারী নিজেকে দায়ী করতে থাকে।মনে করে যে তাদের সঙ্গীর এই বাড়াবাড়িই বোধয় ঠিক।হয়তো এমনই হওয়া উচিৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক।সেক্স সম্বন্ধে নিজেদের ধারণাকে তখন রক্ষণশীল বা সেকেলে ধাঁচের ভাবতে শুরু করে।যখন সঙ্গীর ওপর অন্ধভাবে ভরসা করা শুরু করে তখন তারা ভাবে যে আমি হয়তো ওর চোখে যথেষ্ট সেক্সি হতে পারছি না,তাই ও পর্ণ দেখে।কাজেই এইটা আমার দোষ।একবার তো এক মহিলা আমাকে বলেই ফেলেছিলো যে অচেনা কারো হাতে একবার  নির্যাতিত হওয়া আর ১০ বছর ধরে পর্ণাসক্ত স্বামীর বেহাল্লাপনায় জড়িত থাকার মধ্যে বেছে নিতে বললে আমি প্রথমটাকেই বেছে নিবো।এইবার বুঝুন তাহলে ক্ষতিটা কোন পর্যায়ে নেমে এসেছে!

পর্নোগ্রাফির সাথে ধর্ষণের যোগসূত্র-ডঃ জুডিথ রিসম্যান  

F.B.I এর সিরিয়াল রেইপ প্রোফাইলার জন ডুগলাস তার বই “Journey Into Darkness” (1997) এ লিখেছেন, সিরিয়াল রেইপ কিলারদের আস্তানা তল্লাশি করে পাওয়া যায় পর্ণের ভাণ্ডার হয় স্টোর করা না হয় হোমমেইড।”The Evil That Men Do” (1998) বইতে রয় হেজেলউড বলেছেন,একবার এক সেক্স কিলারের সন্ধান পাই যে কিনা মেয়েদের বিভিন্ন পজিশনে বেঁধে রাখত ও টর্চার করত যা সে কোন এক পর্ণ ম্যাগাজিনে দেখেছিলো।আরেক রিপোর্টে এসেছে যে কিলারদের মধ্যে ৮১% তাদের অপরাধের জন্য প্রাথমিক মদতদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পর্ণকে।পর্ণের ভোক্তা বাড়ার সাথে সাথে দিন দিন এসব অপরাধের সংখ্যাও বাড়ছে।সরকারের কোন সোচ্চার পদক্ষেপ নেই এ খাতে।অর্ধ শতক ধরে তামাকের ব্যবসা একসময় আমেরিকা মাত করেছিল আর আজ সে জায়গা নিয়েছে পর্ণ।

# ৬০% পুরুষ এ মত পোষণ করেছেন যে, যদি ধরা পড়ার সম্ভাবনা না থাকতো তাহলে তারা হয়তো কোন নারীকে দিয়ে জোরপূর্বক কিছু করাতেন যা তার পছন্দ হতো না বা পারলে ধর্ষণই করতেন।

-Briere, J. &Malamuth, N. (1983). Self-reported likelihood of sexually aggressive behavior: Attitudinal versus sexual explanations. Journal of Research in Personality, 17,315-323.

# অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বেশ ঢিলেঢালাভাবে পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট আইন মোতায়েন করা হয়।ফলস্বরূপ, ধর্ষণের হার বাড়ে ২৮৪%।কিন্তু একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে এ ব্যাপারে কঠোর আইন প্রয়োগ করে দেখা যায়, ধর্ষণের হার বেড়েছে মাত্র ২৩%।

আবার, হাওয়াইতে প্রথমে দুর্বল আইন প্রয়োগ করা হয়, এরপর তা মজবুত করা হয় এবং তারপর আবার পূর্বের অবস্থায় ফেরত নেয়া হয়।ধর্ষণের ফলাফলও আসে অনুরূপ।প্রথমে বাড়ে, এরপর কমে তারপর আবার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।
-Court, J. (1984). Sex and violence a ripple effect. In Malamuth, N &Donnerstein, E (Eds), Pornography and sexual aggression. San Diego, Academic Press.

# একদল পুরুষকে একটা ভিডিও দেখানো হল যেটাতে একজন নারী সেক্সুয়াল ভায়োলেন্সের মাধ্যমে উত্তেজিত ও কামুকী হয়ে ওঠে।আরেক দলকেও একই ধাঁচের কিছু একটা দেখানো হয় তবে তাতে সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স থাকে না।এইবার দুই দলকেই দেখানো হল পর্ণ যাতে রয়েছে ধর্ষণ।এরপর প্রথম দলের অধিকাংশ জানালো, তাদের চোখে পর্ণের মহিলাটির যেন ভোগান্তি কম আর তৃপ্তিই বেশি।কাজেই মহিলারা ধর্ষণ উপভোগ করে আর এমনই তাদের মতামত।
-Check, J. &Malamuth, N. (1985). An empirical assessment of some feminist hypotheses about rape. International Journal of Women’s Studies, 8, 414-423.

# এইবার মহিলাদের ব্যাপারটা দেখা যাক।অনেকে যারা বাচ্চাকাল থেকেই পর্ণের দুনিয়ায় ঢুকেছে, তাদের কাছে ধর্ষণের ভয়াবহতা হালকা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং তারা যেসব সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসিতে নিমজ্জিত হয় সেগুলোর মাঝে ধর্ষণও থাকে।

– Corne, S., Briere, J. &Esses, L. (1992). Women’s attitudes and fantasies about rape as a function of early exposure to pornography. Journal of Interpersonal Violence, Vol 7 No 4, pp 454-461.

 

#অনিবার্য_যত_ক্ষয়

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

পড়তে পারেন –

‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x5OdHU
অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব)  https://bit.ly/2O7Pgxf

রেফারেন্স-

http://www.antipornography.org/sex_crimes.html

শেয়ার করুনঃ