তারকা বিভ্রম আর দ্বৈতচারিতা

তারকা বিভ্রম আর দ্বৈতচারিতা

আজকাল চারদিকে তারকার ছড়াছড়ি। এখন চাইলেই খুব সহজে যে কেউ তারকা বনে যেতে পারে। রূপালী পর্দার তারকা, ক্রীড়াতারকা, রিয়েলিটি শো তারকা, সঙ্গীত তারকা। কেননা মানুষের স্বেচ্ছাচারিতা, গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো, হুজুগ আর অন্ধ অনুকরন আজ ব্যবসার আসল মূলধন। আর এসব নিপতিত বৈশিষ্ঠ্য কেবল এটাই জানান দেয় , মানুষের চিন্তা-চেতনা আর বিবেকবোধ লোপ পেয়েছে আর তারা তাদের চিন্তাশীলতা আর মননকে বন্ধক দিয়েছে মিডিয়ার কাছে।
.
ছোট্ট একটা উদাহরন দেই, যা আমি প্রায় সময়ই দেই। সমকামিতা: আজ থেকে এক দশক আগেও পশ্চিমা কিছু কুকুর ব্যতীত অধিকাংশ মানুষের কাছেই তা ছিলো ঘৃন্য এক কাজ। অথচ মিডিয়ার জঘন্য মিথ্যাচারিতা আর প্রতারনার ধারাবাহিক ফলস্বরূপ আজ অধিকাংশ মানুষই এই ধরনের আচরন যা পশুদের মধ্যে নেই তাকে মানবাধিকার বলে শোরগোল ফেলে দিচ্ছে। অর্থ্যাৎ পশুবৃত্তিকেও ছাড়িয়ে গেছে মানবাধিকারের সংজ্ঞা।
.
আরো সহজ করে দেই। টারজান এক জনপ্রিয় টিভি চরিত্র। যে জঙ্গলের মাঝখানে বসবাস করে অথচ তার মুখমন্ডল অসম্ভব রকমের মসৃণ। এবার ভাবুন কোথায় বন্ধক রেখেছেন আপনার চিন্তাশক্তিকে? অবসাদগ্রস্থতা বলে একটা ব্যাপার আছে; আপনাকে এটা গ্রাস করেনি তো? জেগে জেগে ঘুমানো ব্যক্তিকে জাগানো কি যায়!
.
আরো বলি, শুনুন। মুসলিম সেই ব্যক্তি যে ইসলাম পালন করে। অর্থ্যাৎ যে ব্যক্তি নিজের স্বাধীন ইচ্ছাকে আত্মসমর্পন আর সঁপে দিয়েছে বিশ্বপ্রতিপালকের কাছে নিষ্ঠা আর বাধ্যবাধকতায়; শান্তি অর্জনের নিমিত্তে। এর বিপরীতার্থক কোন শব্দ হলো সন্ত্রাসবাদ। অথচ এই বিপরীত বৈশিষ্ট্যমন্ডিত দুইটি বিষয়কে সমার্থক বানানোর মতো অসম্ভব কাজটুকুও মিডিয়া করে ফেললো; বন্ধকী মস্তিষ্কের কল্যানে। এটাকে ইংরেজীতে বলে Oxymoron; অর্থ্যাৎ বিপরীতার্থক বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ধাঁধাঁ। যেমন-স্হল বৈমানিক [Ground Pilot ]। সত্যিই হাস্যকর।
.
আজ তরুণরা “Assassin’s Creed” গেমসে মত্ত থাকলে ও জানে না “Islamic Creed” সম্পর্কে। তারা “Call of Duty” খেললেও সাড়া দেয় না “Call of Duty”- সলাতে। তারা ট্রয়ের কাল্পনিক ক্ষয়িঞ্চু চরিত্র একিলিস [Achilles] কে চিনলেও চিনে না সত্যিকারের তারকা মাসজিদে আল-আকসা বিজয়ী সালাহদীন আইয়ুবীকে। তারা টোয়াইলাইট [Twilight] দ্বারা মোহগ্রস্থ থাকলে ও Towards Light তাদের পদযুগল এগোয় না। তারা আভ্যাটারে [Avatar] এ মন্ত্রমুগ্ধ; পরকালে বিশ্বাস তাদের কাছে সেকেলে। প্রবৃত্তির ডাকে আর টানে তারা সাড়া দেয় Nike এর স্লোগান এর মতো “Just do it” অথচ ফজরের সলাতে তারাই “Never did it”। খুব বেশী pacy life, খুব বেশী rush, খুব বেশী events আর happening তাদের জীবন। অথচ বড় বেশী অন্তঃশূণ্য তাদের অন্তরাত্মা; ঢুকরে কাঁদে সঙ্গোপনে। তারপরও তারা pretend করে iron-man হওয়ার; তাদের thyroid ইনজেকশানে বাড়ানো মাংসপেশীর প্রদর্শনীতে, Hardy’s এর নতুন cool t-shirt এ, Levi’s এর ছেড়া জিন্সে। আত্ম-প্রতারণা আর আত্ম-বিদ্রুপ কার সাথে হচ্ছে?
.
আর ক্রীড়াসক্তির কথা কি বলবো? লা লিগা মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথতো দ্বীনদার ভাইদেরও ছেড়ে কথা বলে না। টেনিসে ফেদেরার-নাদাল, ক্রিকেটে শচীন-লারা, ফর্মুলা ওয়ানে শুমাখার পেরিয়ে নতুন কেউ, স্প্রিন্টে বোল্ট, NBA তে জর্ডান কিংবা গলফে উডসদের নিয়ে বড় বেশী মত্ত। বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দল নিয়ে বাড়াবাড়ি তো আর কম হয় না। এসকল তারকাদের অধিকাংশেরই চারিত্রিক দোষে দুষ্ট আর তাদের হামবড়া ভাবের কথা নাই বললাম। কেবল বিনোদিত হওয়ার জন্যই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের খরচ করা হচ্ছে। অথচ কেবল আফ্রিকার দিকে তাকাইলে আমাদের আমুদে ভাব কেটে যাওয়ার কথা। এ সকল খেলোয়াড়রা যতটা না তাদের ক্রীড়াশৈলীর জন্য তার চেয়ে বেশী এনডোর্সমেন্ট, বিপনন, পন্যের দূত কিংবা নারীঘটিত কারনে সংবাদশিরোনাম হন। আর তা গিলার জন্য রয়েছে; একপাল উৎসুক ভেঁড়ার পালসদৃশ তরুণগোষ্ঠী।
.
সঙ্গীত-তারকাদের দুর্দশার কথা না বলে কেবল যদি তাদের মধ্যে আত্মহত্যাকারীদের তালিকা করা হয় তা অনেক দীর্ঘ হবে। এটা কেবল সঙ্গীততারকা নয় রূপালীপর্দার তথাকথিত তারকারাও এই মিছিলে পিছিয়ে নেই। সঙ্গীতের নামে কপটতা, অপরের দুঃখের ফিরিস্তি, আত্ম-গরিমা আর হতাশার বিকিকিনি কেবল সাময়িক মোহ তৈরী করে; যা জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ভুলিয়ে রাখে। আমরা এমন এক Big Brother Society তে বসবাস করি যেখানে অন্যের জীবনের দুর্দশা আনন্দ হিসেবে বিকানো হয়; রিয়েলটি শো নামক ধোঁকায়।
.
এসব তারকাদেরকে আর তাদের গুরুদের আপাতঃ দৃষ্টিতে দেখলে মনে হয় তাদের জীবনের সবকিছুই তারা নিয়ন্ত্রণ করছে [as though they are dictating their terms of life]। তারা তাকদীরের উপর প্রবল হওয়ার প্রচেষ্টা করে। বস্তুতঃ তাদেরকে দেয়া হয়েছে অবকাশ আর তাদের সীমালঙ্গনকে তাদের কাছে করা হয়েছে সুশোভিত। আর তাদের সংকীর্ণ জীবনাচরণের কথা নাই বললাম। তাই তাদেরকে দেখে ধোঁকায় নিমজ্জিত হওয়া বোকামি আর মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়।
.
আর হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা যাকে ভালবাসবে কিয়ামাহ্’র দিন তাদের সাথে উত্থিত হবে। তাই আমি কাকে ভালবাসছি তা দেখতে হবে। মুসলিম তরুণদের এই ভালবাসার সবচেয়ে বেশী হকদার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবীগণ। অথচ আজ তরুণসমাজ আদর্শ শূণ্যতায় ভুগছে।
.
আর এই অনর্থক মোহগ্রস্থতাকে যারা জীবনের উপজীব্য ভাবে তাদের জন্য এই সতর্কবাণী:

“তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? [সুরা মুমিনুন:১১৫]”
.

Post Courtesy : Sayyid Mahmud Gaznabi
.
লিখাটি সম্ভবত লেখক ৮ বছর আগে লিখেছেন… উপকারী মনে হওয়ায় রি-পোস্ট করা হলো।

শেয়ার করুনঃ
সহশিক্ষা ও যৌনশিক্ষা : আগুন নেভাতে কেরোসিন ব্যবহার

সহশিক্ষা ও যৌনশিক্ষা : আগুন নেভাতে কেরোসিন ব্যবহার

জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে এসেছে, “আমেরিকায় প্রতি ৩ জনের ১ জন নারী জীবনে একবার হলেও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। আর ১৯.৩% নারী জীবনে একবার হলেও ধর্ষিতা হয়।”
“আমেরিকায় প্রতি ৭৩ সেকেন্ডে একজন নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়। আর প্রতি ৯ মিনিটে একজন শিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়। আর যৌন হয়রানিকারী প্রতি হাজারে গ্রেপ্তার হয় মাত্র ৫ জন।”
“প্রতি ৫ জনের ১ জন আমেরিকান নারী জীবনে একবার হলেও ধর্ষিত হয়।”
“শীর্ষ ধর্ষক দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডার মত নারীবাদের প্রচারকারী দেশগুলো।”
২০১৩ সালে প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক রিপোর্টে বলা হয়, “আমেরিকার ৪৮% নারীর প্রথম সন্তান হয় জারজ তথা হারামজাদা।”
.
যেই দেশগুলোতে সহশিক্ষা ও যৌন শিক্ষা স্বাভাবিক বিষয়। যেই দেশগুলোর অনুসরণে তোমরা এই উদ্ভট ইসলাম বিরোধী জিনিস এদেশে আমদানি করছো তারা কি এথেকে কোনো সুফল পেয়েছে? নাকি এগুলোই হয়েছে তাদের ধ্বংসের কারণ! তৈরি হয়েছে মানবতা বিবর্জিত পশু সভ্যতা।
.
অবৈধ প্রেম-ভালোবাসা, ফ্রি মিক্সিং, লিভ-টুগেদার, বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড কালচার, ১৮-এর আগে বিয়ে হারাম, নারীবাদ এগুলো যখন ছিল না তখন আমাদের সমাজও পবিত্রই ছিল। আর এখন অবস্থা দেখুন।.. মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হয়েও ব্যভিচার ও ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে।
.
অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হল যে সকল কারণে ধর্ষণের হার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে ত্বগুত ও শায়ত্বনি মিডিয়া সেসকল কারণকেই ধর্ষণ প্রতিকারের উপায় হিসেবে প্রচার করছে।
.
শিক্ষকের দ্বারা ছাত্রী ধর্ষণ, বয়ফ্রেন্ড এর দ্বারা গার্লফ্রেন্ড ধর্ষণ, বন্ধুর দ্বারা বান্ধবী ধর্ষণ যেখানে নিত্তনৈমিত্তিক বিষয়। “২০১৭-১৮ সালে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের করা এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের ৭৭ শতাংশ পর্নোগ্রাফি দেখে থাকে। আরেকটি গবেষণায় দেখেছিলাম, অনেক ক্ষেত্রে সাড়ে ১৬ বছর বয়সেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রথম যৌনমিলনের অভিজ্ঞতা হয়।”
.
সামাজিক নজরদারির দুর্বলতা ধর্ষক তৈরি করছে আর এই পরিস্থিতিতে কিশোর-কিশোরীদেরকে একসাথে একই কক্ষে বসিয়ে নারী পুরুষের গোপন বিষয়াদি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা কি খুব ইতিবাচক ফলাফল দেবে? (পাশাপাশি, নারী-পুরুষ পরস্পরের সম্মতিতে যৌন মিলন করলে তা দোষের কিছু নয়, গর্ভপাতের প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতি সহ ইত্যাদি দ্বীন বিরোধী প্রচারণা তো আছেই)। হয় এগুলো পাশ্চাত্যের পশু সমাজের মত এদেশকেও হারামজাদায় (জারজে) পরিপূর্ণ করে ফেলবে।
“কুকুরের মুখ থেকে মানব শিশুর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার”
অথবা এই ধরনের নিউজ এর সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
.
এসব শেখালে নাকি ধর্ষণ ও বিকৃত যৌনাচার কমবে। এই শায়ত্বনগুলো পরিকল্পিত ভাবেই এসব আজগুবি কথা বলছে। তারা চায় মুসলিম সন্তানদের যৌনতার সাগরে ভাসিয়ে দিতে। মূলত আধুনিক সময়ে যৌনতা পুঁজিবাদীদের প্রধান একটি হাতিয়ার। এর মাধ্যমে তারা যেমন কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেয়। তেমনিভাবে একটি জাতির মূল স্প্রিডকে যৌনতার জালে আটকে ফেলে। তখন সেই জাতি মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে। তারা তখন পুঁজিবাদীদের অন্যায় ও জুলুমগুলোকে অনুধাবন করতে পারে না। হারিয়ে ফেলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার চিন্তাশক্তি।
.
তারা কি আসলেই আমাদের ভালো চায়? নাকি এই জাতিকে নির্লজ্জ-বেহায়া তে রুপান্তর করতে চায়! যেমনঃ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্র বলেছে, “আমার অন্যান্য স্কুলের যেসব বন্ধু আছে তারা এইসব শব্দ শুনলে অনেক লজ্জা পায়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে আর এসব হয় না।”
.
অষ্টম শ্রেণীর একজন ছাত্রী বলেছে, “প্রথম প্রথম আমি নিজেও এইসব ব্যাপারে অনেক সংকীর্ণ ছিলাম। যেসব বিষয় আমি আমার মা কিংবা বন্ধুদেরকে বলতে পারতাম না, পরামর্শ চাইতে পারতাম না, এখন অবলীলায় তা পারি।”
‘জেমস ক্লাস করবার পর আমরা অনেক বেশী ফ্রি হয়ে গেছি’, বলেছে সপ্তম শ্রেণীর আরেক ছাত্রী।
.
আরেক ছাত্রী বলেছে, “ছেলেদের দেখে লজ্জা পেতাম। কিন্তু সিক্সে যখন এই জেমস ক্লাসটা শুরু করিছি তখন আমরা এগুলোর বিষয়ে অনেক কিছু জেনেছি আর আমাদের জড়তাটা কেটে গিয়েছে।”
.
এক কলেজ ছাত্রী বলেছে, “যদি আর ২-৩ বছর আগে জিজ্ঞেস করা হতো আমি হয়তোবা আস্তে করে সরে যেতাম। কারণ এটা আমার কাছে খুবই লজ্জার বা লুকানোর জিনিস। বাট এখন আমি কলেজে পড়ছি, জানছি অনেক কিছু”
.
অথচ নাবী (ﷺ) বলেছেন, পূর্ববর্তী নাবীগণের যে কথাটি মানুষের নিকট পৌঁছেছে তা হলোঃ ‘‘তোমার লজ্জা-শরম না থাকলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারো। (যখন তুমি নির্লজ্জ হবে তখন যাচ্ছে তাই করতে পারবে।)’’ [সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৪৮৩
সুনান আবূ দাউদ, হাদিস নং ৪৭৯৭]
অর্থাৎ নির্লজ্জতা বা লজ্জাহীনতা অন্যায় ও অশ্লীলতার দরজা খুলে দেয়।
.
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ। আর ঈমানের অবস্থান হল জান্নাতে। আর নির্লজ্জতা, অশ্লীলতা হল অত্যাচার (জুলুম), আর অত্যাচার থাকবে জাহান্নামে। [জামি’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২০০৯
সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪১৮৪ | সহিহ]
.
বর্তমানে মানুষ শায়ত্বন আর জীন শায়ত্বনের সবচেয়ে বড় মিশন/কাজ হলো মানুষের মধ্যে থেকে লজ্জাকে উঠিয়ে নেওয়া। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে থেকে। কারণ একটি জাতির নারীদের থেকে তাদের হায়া (লজ্জা) কেড়ে নাও, সেই জাতি অটোমেটিক ধ্বংস হয়ে যাবে।
.
আমরা বলছি না কিশোর-তরুণদের যৌন শিক্ষার প্রয়োজন নেই। অবশ্যই দরকার। সন্তানদের বয়স অনুপাতে যতটুকু দরকার ততটুকু শিক্ষা দিতে হবে। কিন্তু সেই শিক্ষা প্রদানেরও তো অবশ্যই কিছু নিয়ম থাকবে। যেসব বিষয় পারিবারিক পরিমণ্ডলে অভিভাবকদের কাছ থেকে শেখার কথা সেগুলো নারী-পুরুষ একসঙ্গে বসে শিখবে কেন! সন্তানদেরকে কিভাবে যৌন শিক্ষা দিতে হবে এই নিয়ে অভিভাবকদের জন্য বিশেষায়িত কোর্সের আয়োজন করা যায়। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিখলেও এটি আলাদা আলাদা ক্লাসে নারী শিক্ষকরা ছাত্রীদেরকে এবং পুরুষ শিক্ষকরা ছাত্রদেরকে শেখাতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো মুসলিম শিক্ষার্থীদের দ্বীন বিরোধী কোন হারাম শিক্ষা দেওয়া যাবে না। আর সহশিক্ষা যে ইসলামবিরোধী, এটির ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে আমাদের সম্মানিত আলিমরা বরাবরই বলে আসছেন। যেকোনো তাকওয়াবান আলিমের থেকেই এটি জানতে পারবেন।
.
Ⓒ Al-Muflihun
শেয়ার করুনঃ
বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (শেষ পর্ব)

বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (শেষ পর্ব)

এরপর আসেন, বলিউডের অন্যতম বর্ষিয়ান অভিনেতা অনুপম খের। এই লোকটা বিশাল একটা হিপোক্রিট আর ধুরন্ধর! পুরোনো তবে ছোট্ট ঘটনা বলি।
.
রিতা কয়রাল কলকাতা ড্রামা জগতের পরিচিত মুখ। এই অনুপম খেরের স্ত্রী (কিরণ খের) কলকাতার একটি মুভিতে কাজ করে। তার স্ত্রীর ডাবিং করে দেয় এই রিতা কয়রাল। কিন্তু, এই কথা রিতাকে লুকিয়ে রাখতে বলা হয়। ফলশ্রুতিতে, ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডে ডাবিং এ নাম চলে আসে কিরণ খেরে’র। পরিচালকও অনুপম খেরে’র ভয়ে সত্য বলেনি। কারণ সে ছিল ওই মুভির প্রযোজক। যাইহোক, রিতা কয়রাল মিস করল ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড!
.
তো একদিন অনুপম খের রিতাকে ফোন দিল। রিতা ভাবল তাকে তার অ্যাওয়ার্ডটা দেওয়ার জন্যই বুঝি সে ফোন করেছে। অনুপম খের জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি ডাবিং এর টাকা-টা পুরো পেয়েছ?” রিতা বলল, “হ্যা, পেয়েছি।“
.
সে বলল, “আমি তোমাকে আরো বেশি টাকা দিতে চাই। তবে শর্ত একটাই, তুমাকে বলতে হবে যে, এই মুভির ডাবিং তুমি করনি“। কিন্তু যখন রিতা এটা বলতে অস্বীকার করল, তখন এই অনুপম খের-ই বলে উঠল, “তুমি মোম্বাইয়ে কখনো ঢুকতে পারবে না এবং কলকাতা ইন্ডাস্ট্রিতে তুমি কীভাবে কাজ কর সেটাও আমি দেখে নিব!“ রীতিমত ওই মহিলাকে ধমকে দিল। তবে আইরনি হল, এই অনুপম খের-ই সুশান্ত এর মৃত্যু নিয়ে শোক পালন করেছে, ভিডিও বার্তা দিয়েছে অথচ সে-ই একজনের জীবন শেষ করার হুমকি দিয়েছে!
.
এছাড়া, মুসলিমদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিজেপি সরকার NRC এবং CAA নামে যে আইন চালু করেছে , তার বিরোধিতা করায় শাহিনবাগের ছাত্রদের সে সন্ত্রাসী বলেছে। সহিংস বলেছে!
.
এই হচ্ছে এদের হিপোক্রিসি! এই হচ্ছে এদের বাকস্বাধীনতা আর নারী উন্নয়নের এক নিকৃষ্ট নমুনা! এরা সারাজীবন বাকস্বাধীনতা আর লিবারেলিজমের (উদারনীতির) জিগির তুলে, হিউম্যানিজমের ফেনা তুলে মুখে। কিন্তু, বাস্তব জীবনে তারা এর ঠিক বিপরীত! হাজারো নীতি-দর্শনের বুলি কপচানো এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডরা দিনশেষে নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছুই দেখে না। বাকস্বাধীনতার নামে নিজের স্বার্থ ঠিকই হাসিল করবে, ইসলামকে আক্রমণ করার মাধ্যমে ঠিকই খ্যাতি অর্জন করবে, জাতে উঠবে, ফলোয়ার বাড়াবে কিন্তু অন্যের বেলায় কচু দেখাবে, তাদেরকে কনফ্রন্ট করবে!
.
তবে সবচে’ মজার বিষয় হল, বাহ্যিকভাবে মনে হয় এরা অনেক খুশি এদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে! কিন্তু বাস্তবতা কী তা-ই?
.
হৃত্তিক রোশন তার স্ত্রীকে যখন ডিভোর্স দিতে চায় তখন তার স্ত্রী ডিভোর্স এলিমুনি হিসেবে ৪০০ কোটি রুপি চেয়ে বসে! পরবর্তীতে এই সওদা হয় ২৫০ কোটি রুপিতে!

সালমান খানের বড় ভাই, আরবাজ খান ডিভোর্স এলিমুনি হিসেবে তার স্ত্রীকে দেয় ১৫ কোটি রুপি এবং তাদের বিয়ের বয়স তখন ছিল ১৭ বছর!

আমির খানও তার স্ত্রীর সাথে সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেনি এবং ডিভোর্সের সময় ৫০ কোটি রুপি পে করতে হয় তার স্ত্রীকে।

একইভাবে ‘বলিউডের নবাব’-খ্যত সাইফ আলী খানকে ডিভোর্স এলিমুনি হিসেবে গুণতে হয় ৫ কোটি রুপি!

করিশমা কাপুর তার স্বামীর সাথে ১১ বছর কাটানোর পর ডিভোর্স দেয় এবং ১৪ কোটি রুপির বন্ড হাতিয়ে নেয় তার এক্স স্বামীর কাছ থেকে!

ভারতের ‘গ্রেইট পয়েট(!)’ জাভেদ খানের অভিনেতা ছেলে ফারহান খানও পারেনি ১৬ বছরের বৈবাহিক জীবন টিকিয়ে রাখতে! তাকে তার স্ত্রীকে ‘জুহু’তে ৭০ কোটি রপির একটি বাংলো দিয়ে দিতে হয়!

বলিউডের সাকসেসফুল ডিরেক্টর আদিত্য চোপড়াকে তার ফরমার ওয়াইফকে দিতে হয় ৫০ কোটি রুপি ডিভোর্সের কারণে!

সঞ্জয় দত্ত বলিউডে ২ টা জিনিসের জন্য বিখ্যাত। এক. তার ড্রাগ এডিকশন। দুই. তার বিয়ের সংখ্যা।

বলা হয়ে থাকে সে নাকি বিয়ে করতে কখনো টায়ার্ড হয়না! তবে তার অসংখ্য স্ত্রীর মধ্যে থেকে তার তৃতীয় স্ত্রী তাকে কাঁদিয়ে ছাড়ে ডিভোর্সের সময়। তার এই স্ত্রীকে দিয়ে দিতে হয় তার নিজস্ব বাংলো এবং দামী দামী ৩টি গাড়ি!
.
এভাবে অসংখ্য বিখ্যাত বলি-সেলেবদের কেইস উল্লেখ করা যাবে যারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংসার করলেও নিজেদের সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেনি! কারণ? টাকা পয়সা? না, অবশ্যই না।
.
দেখুন তাদের কী অবস্থা! আমি জানি এই যে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে এগুলো তাদের কাছে কিছুই না এবং এদের ব্যপারে কেউ বলতে পারে যে, এগুলো কেবল তাদের কন্ট্রভার্সি। কিন্তু, চিন্তা করে দেখুন, টাকার বিনিময়ে এরা নারী ভোগকে কী পরিমাণ শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে! টাকা আছে বলে একটার পর একটা বিয়ে করছে। একজনকে টাকা দিচ্ছে আরেকজনকে বিয়ে করছে! ক্ষমতাবলে নারীদের শোষন করছে, কাজ দেওয়ার নাম করে তাদের ইজ্জতহানী করছে। এটা কী নারীকে অবজেক্টিফাই করেনা? নারীর মর্যাদাহানী করেনা? এটাই কী তবে নারীবাদ? অথচ এরাই নাকি বলে আমরা মুসলিমরা নারীদেরকে সেক্স অবজেক্ট হিসেবে বিবেচনা করি! আমরা নাকি সন্ত্রাসী! বেকডেইট! ছিহ! আমরা এদের থেকে সভ্যতা শিক্ষা করার দাবি করি! আমরা এদেরকে অনুসরণ করি।
.
এই যে ফ্যাক্ট আপনাদের সামনে তুলে ধরা হল, এর চাইতে কয়েক হাজার গুণ নেগেটিভ জিনিস লুকায়িত থেকে যায়, আমাদের সামনে আসে না। এই ইন্ডাস্ট্রিতে ট্যালেন্টের কদর নেই, আছে বাবা-মায়ের ফেইমের কদর। এই ডিপ্রেশনে পড়েই কত আউটসাইডার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সুইসাইডের পথ বেঁছে নেয়। তাই, বলাই যায় এই অসুস্থ মস্তিষ্কের লোকগুলো আসলে নিজেদের জীবনে সুখী নয়। অথচ আমরা এদের থেকে সুখ-শান্তির ফর্মুলা গ্রহণ করি! সংস্কৃতি আর বিনোদনের উপায় ধার করি! আমাদের ঘরের মা-বোনেরা এদের সিরিয়াল দেখে, আমাদের যুবক-যুবতীরা এদের মুভি দেখে! দেখে ইনফ্লয়েন্সড হয়, পরিবার ও সমাজে অশান্তি বয়ে নিয়ে আসে!
.
এগুলো আসলে এদের মিথ্যা ছলনা। এদের প্রতিটা বিষয় অভিনয়। আর এদের অভিনয়ের উপর আমরা কাঁদি, হাসি! অথচ এরা সুখী হওয়ার ভান করে । কিন্তু, দিনশেষে আত্মহত্যা করে মারা যায়!
.
তাই বলিউড থেকে বেরিয়ে আসুন। বলিউডকে বয়কট করুন। তাদের অভিনেতা-অভিনেত্রী, গায়ক-গায়িকা সবাইকে। এটাই হচ্ছে সময় নিজেকে সামলে নেওয়ার, নিজেকে, নিজের পরিবার ও সমাজকে। নিজের চিন্তা-চেতনা, আদর্শ আর সংস্কৃতিকে বলিউড, হলিউডের গোলামির জিঞ্জির থেকে মুক্ত করে নিন, ধ্বংস করে দিন তাদের চক্রান্তকে। হস্তমৈথুন, পর্নোগ্রাফি থেকে বেরিয়ে আসতে অবশ্যই আপনাকে বলিউড থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, কারণ এগুলো আপনাকে সুড়সুড়ি প্রদান করবে। এগুলোর আইটেম সং-এর নগ্ন নায়িকা আর ইন্টিমেইট সিন আপনাকে ঘায়েল করে ফেলবে। তাই হিফাযাত করুন নিজের যৌবনকে, নিজের ঈমানকে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।
.

(শেষ)
.
পড়ুন আগের পর্বগুলো:

প্রথম পর্ব- https://www.lostmodesty.com/darkbolly1/
দ্বিতীয় পর্ব- https://www.lostmodesty.com/darkbolly2/
.
লেখক: Mashud Ur Rahman
.
পোস্ট লিংক- https://tinyurl.com/ylbnwdvh

#SaveFoundation_প্রবন্ধলিখন_প্রতিযোগিতা_২০২০

শেয়ার করুনঃ
বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (দ্বিতীয় পর্ব)

বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (দ্বিতীয় পর্ব)

কারান জোহর। দ্যা গ্রেইট ডিরেক্টর অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা! এই লোকটা একটা সমকামী এবং বলিউডে সমকামীতার এনসাইন-বেয়ারার। ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশনের পর্দায় এই কথা সে অকপটে স্বীকার করে। এছাড়া, সে স্টারকিড ছাড়া অন্য কাউকে তার মুভিতে খুব কম নেয়। এজন্য তাকে স্বজনপ্রীতির জন্য অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়। তবে যথেষ্ট ব্যতিক্রম ঘটেছে সিদ্ধার্থ মলহোত্রার ক্ষেত্রে। সিদ্ধার্থ মলহোত্রা কোনো স্টারকিড নয়, একজন আউটসাইডার। কিন্তু, তাকে সিনেমায় নেবার করার কারণ হল সে কারান জোহরের ‘বয়ফ্রেন্ড’ এবং সহকারী ছিল যা একটি ওপেন সিক্রেট! তাহলে বুঝুন, যুব সমাজের যারা এদের মুভি দেখে তারা কেনো সমকামী সাপোর্টার হয়! শামির মোন্তাজিদ আর সাকিবরা কি এমনি এমনিই সমকামীদের সাপোর্ট করে জাতে উঠতে চায়?
.
এছাড়া, বেশ কয়েকদিন আগে ‘পদ্মাবতী’ নামে একটি মুভি রিলিজ হয়েছে, মুসলিম শাসক আলাউদ্দিন খিলজি ও কাল্পনিক চরিত্র পদ্মাবতীকে নিয়ে। ছবিতে সুলতান এবং তাঁর সেনাপতি মালিক কাফুরকে সমকামী দেখানো হয়েছে। মূলত সুলতানকে দেখানো হয়েছে মাদকাসক্ত এবং উভকামী যৌনতাতাড়িত জালিম, অত্যাচারী রূপে। অর্থাৎ মানবীয় মন্দ গুণের এমন কোনো কিছুই বাদ রাখা হয় নি যাতে সুলতানকে ঘৃণিতভাবে উপস্থাপনের বাকি রাখে। অথচ সুলতান নিজে এবং তাঁর সেনাপতি ছিলেন সত্যিকার মুসলিম। মুসলিমদের বিরূদ্ধে বিষোদ্গার করাই ছিল এই মুভির লক্ষ্য।
.
এছাড়া বলিউডে এখন পর্যন্ত এমন কিছু মুভি রিলিজ হয়েছে যেগুলো Homosexuality তথা সমকামীতাকে সাপোর্ট করার জন্য বানানো হয়েছে! সঙ্গত কারণেই আমি এগুলোর নাম বলছি না। তবে যারা বলি-মুভি দেখে বা দেখেছে তারা সহজেই বিষয়গুলো বুঝে যাবে।
.
রিসেন্টলি সাহিল চোধুরী নামে এক ভারতীয় ইউটিবার, যে ২০১৪ সাল থেকে মডেলিং করছিল এবং ২০১৮ এর দিকে সে মডেলিং ছেড়ে দেয়; সে বলছে, “আমি প্রায় প্রতিটি প্রোডাকশনের জন্য অডিশন দিয়েছি। বিভিন্ন ওয়েব সিরিজের জন্যও অডিশন দিয়েছি। কিন্তু আমি এখানে অনেক খারাপ জিনিস দেখেছি। মডেলিং করা অবস্থায়ই আমি সেখানকার যে পরিস্থিতি দেখেছি ফলে (ফিল্মে আসার) আগেই আমার ইচ্ছা সব উবে যায়।“
.
সে আরও বলে, “এখানকার সকলেই ড্রাগ এডিক্টেড। (মেয়ে) মডেলদেরকে তারা যা-তা করার জন্য বলে! শুধু আসো এবং সেক্স করো!” সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ কথা যা সে বলেছে তা হল, “আমি পিতা-মাতাদেরকে বলব আপনাদের সন্তানদেরকে দয়া করে মডেলিং-এ পাঠাবেন না। মডেলিং-এ কোনো ক্যারিয়ার নেই। কারণ, এখানে যত ডিজাইনার আছে সবগুলোই সমকামী। সব সুন্দর ছেলেদের সাথে তারা সমকাম করতে চায়! আমি চাই আপনারা আপনাদের সন্তানদেরকে ফোন দিয়ে খবর নিন যে, তারা ভালো আছে কিনা। কেননা এখানে সেক্সুয়াল হ্যারাসম্যান্ট খুবই সাধারণ বিষয়। এজন্যই ইন্দার কুমার, কুশাল পাঞ্জাবী এবং আনান্দী’রাসহ অনেক মডেলরা (মডেলিং অবস্থায়ই তথা ফিল্মে আসার আগেই) আত্মহত্যা করে ফেলে।“
.
বেশ কয়েকদিন আগে ভারতের মিডিয়া একটা বিষয় নিয়ে খুব হালচাল শুরু হয় সেটি হচ্ছে ‘me too movement’ যেখানে মডেল কিংবা যে বা যারাই বলিউডে বিভিন্ন স্টারদের দ্বারা হ্যারাসম্যান্টের স্বীকার হয়েছে তারা অকপটে মিডিয়ার সামনে ওইসব লোকদের নাম বলে দিয়েছে ও হ্যারাসম্যান্টের ঘটনা উল্লেখ করে দিয়েছে। সেখানে নাম উঠে এসেছে বড় বড় তারকাদের। যেমনঃ শাহরুখ খান, সাজিদ খান, মিউজিক কোম্পানি ‘টি-সিরিজ’ এর মালিক ভুশন কুমারের নাম পর্যন্ত!
.
তো আমি শুধু একটি ঘটনা উল্লেখ করে শেষ করছি। তা হল, মারিনা কুয়ার নামের এক সংগীত শিল্পীকে কাজ দেওয়ার বাহানা করে সাজিদ খান (মুভি ডিরেক্টর) ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। একইভাবে চেষ্টা করে এই ভুশন কুমার এবং এই কথা যখন মারিনা কুয়ার পাবলিকলি me too movement-এ বলে তখন সাজিদ আর ভুশনের দেখে যাওয়া আর অপমানিত হওয়া ছাড়া আর করার কিছু ছিল না! কারণ তা ছিল সত্য ঘটনা। এরকম হাজারো অভিনেতা-অভিনেত্রী, গায়ক-গায়িকাদের এরা শোষণ করে কাজ দেওয়ার নামে এবং এই সিন কেবল বলিউড নয় বরং বাংলাদেশেও হয়ে থাকে। তবে আপনারা এই ঘটনা মাথায় রাখবেন, কারণ, সামনে আমরা ছোট্ট করে এটা নিয়ে আলোচনা করব।
.
যাইহোক, নেপোটিজম নিয়ে যখন বলি-পাড়ায় ঝড় উঠেছে, তখন এদের মিউজিক ইন্ড্রাস্টির লোকেরাও চুপ বসে নেই। হঠাৎ করে TOI এর একটি আর্টিকেলে দেখি ‘মাইকে আযান নিয়ে কটাক্ষকারী’ সংগীত শিল্পী সনু নিগম তাদের বলিউডের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির নেপোটিজমের বিরুদ্ধে বলছে। বেচারা! অনেক বছর যাবত সে গান পায় না।
.
সে বলছে, “আজ একজন অভিনেতা মারা গিয়েছে। কাল হয়ত কোনো মিউজিক কম্পোজার, গায়ক বা লিরিসিস্টের ব্যপারেও আপনারা এমন শুনতে পারেন। কেননা আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে মুভি থেকেও বড় মাফিয়ারা আছে।“ …সে আরো বলে, “মাত্র ২ জন লোক এই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি চালায়। তাদের হাতেই সবকিছু!” … সে আরো বলে, “আমি নতুন মিউজিশিয়ানদের চোখে , কন্ঠে ফ্রাস্ট্রেশন দেখেছি।“
.
তো আসুন, মারিনা কুয়ারের ছোট্ট গল্প শেষ করি। উপরের কথাগুলো বলায় সনু নিগমের উপর ভড়কে যায় ভুশন কুমার। ফলে সনু নিগমের বিরুদ্ধে সে অন্যদের ভড়কে দেয়। কাউন্টারপার্ট হিসেবে, সনু নিগম বলছে, “মারিনা কুয়ার কেন তোর (ভুশন) বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করে দিল আমি জানি না তবে মারিনা কুয়ার রিলেটেড একটি ভিডিও এখনো আমার কাছে পড়ে আছে। আমি এই ভিডিও আমার ইউটিউব চ্যানেলে ছেড়ে দিব।“
.
এই হচ্ছে এদের বাস্তবতা। শেয়ালের ধূর্ততা নিয়ে এরা Women empowerment এর কথা বলে তাদের ভোগ করার জন্য। আজ এরা একটা আরেকটার সাথে কুকুরের মত কামড়াকামড়ি করছে। কিন্তু আমরা এসব দেখেও না দেখার ভান করছি!
.
এভাবেই, এই বলিউড মানুষের মাঝে ইসলামফোবিয়া, পর্নোগ্রাফি আর সমকামীতাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ যারা সার্ভাইভ করে বলি-পাড়ায় ঢুকছে তারাও পরবর্তীতে অন্যদের সাথে এরূপ আচরণ করছে। এর ফলে পুরো বলিউড জোড়ে বিকৃত চিন্তার সেক্সিস্টদের উদ্ভব হচ্ছে এবং বলিউডে এমন কন্টেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে যা মানুষকে বিকৃতিকে সাধারন এবং সহজাত বলে মেনে নিতে বাধ্য করছে ও অবচেতন মনে এই বিষয়গুলোকে মানুষ বরণ করে নিচ্ছে।
.
চলবে ইনশা আল্লাহ…
.
পড়ুন প্রথম পর্ব- https://www.lostmodesty.com/darkbolly1/
.
লেখক: Mashud Ur Rahman
.
#SaveFoundation_প্রবন্ধলিখন_প্রতিযোগিতা_২০২০

শেয়ার করুনঃ
বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (প্রথম পর্ব)

বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (প্রথম পর্ব)

ভারতের তিনটি ব্যবসা খুব জোরেশোরে চলে ওয়ার্ল্ডওয়াইড।
১/ বলিউড;
২/ ক্রিকেট;
৩/ টুরিস্ট ব্যবসা।
.
আজকের আমাদের আলোচনার বিষয় হল বলিউড। আজ আলোচনা হবে কীভাবে এটি আমাদের মাঝে পর্নোগ্রাফি, সমকামীতা, অযাচার আর নানা ধরণের মতবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং আলোচনা হবে এদের ইনসাইডারদের বিকৃতি নিয়ে।
.
বলিউডের একটি মুভি বা একটি আইটেম সং-ই একেকটা পর্নোগ্রাফির সমান। মানসিক বিকৃতি আর অবাধ ওয়েস্টার্ন কালচারের সমাবেশ এই বলিউডকে করেছে রঙিন, পৌছে দিয়েছে অনন্যতায়। স্ক্রিপটেড অ্যাওয়ার্ড শো, শত শত কোটি টাকার ব্যবসা, ইসলামফোবিয়া, সেক্যুলারিজম, সেক্সিজম, প্লেজিয়ারিজম, সারিয়ালিজম, লিবারেলিজম, হিউম্যানিজম, ম্যাটার‍্যালিজমের পসরা সাজিয়ে নিয়ে গঠিত এই বলিউড শোবিজের নামে প্রতিটি স্তরের মানুষের মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে সব ধরণের বিকৃতি। এই গড্ডালিকায় গাঁ ভাসানো মানুষেরা জানে না বা জানতে চায় না এর ‘বিহাইন্ড দ্যা সিন’ কারসাজি। এর অদেখা জগত সম্পর্কে তারা মোটেও ওয়াকিবহাল নন। কারণ এটা তাদের কাছে কেবল বিনোদনের একটি অংশ মাত্র।
.
এই বলিউড আমাদের যুবক-যুবতীর মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, নিজের শৈশব জীবনের নস্টালজিয়া হচ্ছে বন্ধু-বান্ধবের সাথে বিড়ি টানা, গালাগালি করে কথা বলা, পর্ন দেখা, মাদকাসক্ত হওয়া, রাফ চলাফেরা করা, প্রেম করা ইত্যাদি। এগুলো তাদের পুশ করা এজেন্ডা।
.
যেকোন জায়গায় কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ণ করার একটা মৌলিক দিক হল, সেই জায়গায় কিছু মানুষকে যারা খ্যাতির জন্য নিজের আদর্শকে বিলিয়ে দিয়ে সমাজে নোংরামি আর বিকৃতি আমদানি করতে পারে, তাদেরকে টাকা পয়সা দিয়ে সেই এজেন্ডার প্রচারক বানিয়ে দেওয়া। পরবর্তিতে এই প্রচারকদের মাধ্যমে এজেন্ডা বাস্তবায়ণ হয়ে গেলে সেখানে এই এজেন্ডার ফ্রি ফলোয়ার তৈরি হয়ে যায়। এদের টাকা দেওয়া লাগে না। ওই যে, যাদেরকে টাকা দিয়ে এজেন্ডার প্রচারক বানানো হয়েছিল তাদের আদর্শকে একদল লোক সত্য বলে ধরে নেয়।
.
এই যে সমকামী এজেন্ডা, এর টেকনিকাল ইমপ্লিমেন্ট এইটাই। আগে সমকামীতার প্রচারকরা মানুষের মননে-মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, সমকামীরা সমাজে নির্যাতিত, অবহেলিত! এখন এদের জন্য সিম্পেথি দেখিয়ে মানুষকে সমকামীতার সমর্থক বানানো হচ্ছে, সমকামীতাকে গ্লরিফাই ও সেলিব্রেইট (প্রাইড মান্থ এর একটি দিক) করা হচ্ছে যেন এটি খুব ভালো জিনিস এবং এটি বর্তমানে চলমান একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় নেক্সট জেনারেশনের লোকদের টাকা দিতে হচ্ছে না। বরং তারা একে মানবিকতার একটি অংশ বা দিক মনে করেই এদের সমর্থন করে যাচ্ছে!
.
এই একই ট্যাকটিক বলিউড ভারত উপমাহাদেশে খেলেছে। বলিউড আমাদের উপমহাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে পর্নোগ্রাফি, সমকামীতা, লিভ-ইন বা লিভ-টুগেদারের (এই ইস্যুগুলো নিয়ে লিটারেলি তারা মুভি তৈরি করেছে) মত অসামাজিক ও নোংরা সংস্কৃতির বিষবাষ্প। এরা নিজেদের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বলে কিন্তু কন্টেন্টের নামে এরা আমদানি করেছে বিজাতীয় ও ইসলাম বিরোধী সংস্কৃতি, লিগালাইজ করছে অবাধ যৌনাচার! কিন্তু আমরা না বুঝেই বলিউড বন্দনায় মেতে উঠেছি!
.
রিসেন্টলি সুশান্ত সিং মারা যাওয়ায় বলি পাড়ায় রীতিমত ঝড় উঠেছে। নেপোটিজম এবং সেক্সিজম নিয়ে বেশ কথাবার্তা হচ্ছে। মিটিওরিক স্টারডম পাওয়া এই অভিনেতা কেনই বা আত্মহত্যা করল? নিছক প্রেম ভালোবাসা? আমার বিশ্বাস হয়না। তার নিজের যেমন টাকা পয়সা আর খ্যাতি-যশ ছিল, চাইলেই সে সহজে অন্য যে কারো সাথে রিলেশনে যেতে পারত।
.
তবে আমি আপনাদেরকে কিছু ফ্যাক্ট দিতে চাই যেগুলো ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এই অভিনেতার মৃত্যুর কন্সিকিউয়েন্সে।
.
সুশান্তের মারা যাওয়ার আগে তার সম্পর্ক ছিল রিয়া চক্রবর্তী নামের আরেক অভিনেত্রীর সাথে। কিন্তু সেই অভিনেত্রীর একটি স্কেপটিকাল রিলেশন আছে ষাটোর্ধ বলি-বিখ্যাত ডিরেক্টর মহেশ ভাটের সাথে যেই লোকটি মুভির নামে অসংখ্য পর্নোগ্রাফিক ফিল্ম উপহার দিয়েছে তার দর্শকদেরকে। সে সুশান্তের মৃত্যুর কিছুদিন পুর্বে বলেছে যে, সুশান্ত ছেলেটা পাগল হয়ে যাচ্ছে এবং সে নাকি খুব শীঘ্রই সুইসাইড করবে এবং আসলেই কিছুদিন পর সে সুইসাইড করে। তবে সুশান্তের ফরেনসিক রিপোর্টে, বেডশিটে কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া যায়নি কেবল অপরিচিত কারো বাম হাতের ফিঙ্গার প্রিন্ট ছাড়া। তাই একে অনেকেই সুইসাইড না বলে হত্যা বলতে চাচ্ছেন!
.
সে যাইহোক, এত লম্বা প্যাঁচাল কেন পাড়লাম? উদ্দেশ্য হল এই মহেশ ভাট। এই লোকটা তার নিজের বড় মেয়েকে কিস করেছে ও নিজের এই মেয়েকেই বিয়ে করতে চাচ্ছিল এবং সে এটা মিডিয়ার সামনে স্বীকারও করেছে! কতটা পার্ভাট হলে কেউ নিজের মেয়েকে কিস করে ও বিয়ে করতে চায়?
.
চলবে ইনশা আল্লাহ …
.
টীকাঃ
.
১] ইসলামফোবিয়াঃ ইসলামবিদ্বেষ। ইসলামের বিভিন্ন বিধান নিয়ে কটুক্তি করা।
.
২] সেক্যুলারিজমঃ ধর্মনিরেপেক্ষতাবাদ। ধর্ম আর রাষ্ট্র-রাজনীতিকে আলাদা মনে করা। এর মূল কারণ ছিল, ইউরোপে খ্রিষ্টান চার্চের মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতন যা থেকে বাঁচতে এই মতবাদের উৎপত্তি হয়। এর মূল ধারনা হল ধর্মের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ ইসলামি শরিয়াহ’র উদ্দেশ্য হল আল্লাহ’র জমিনে আল্লাহ’র আইন বাস্তবায়ন করা।
.
৩] প্লেজিয়ারিজমঃ লেখা চুরি। অন্যের সাহিত্যকর্ম বা রচনা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া।
.
৪] লিবারেলিজমঃ উদারনৈতিকতা। সহজভাষায় বললে, সবকিছুতে তারা উদারতা খোঁজে। ইসলামের নানা বিধান নিয়ে তাদের সমস্যা, কারণ তাদের মতে এগুলোতে উদারতা নেই।
.
৫] হিউম্যানিজমঃ মানবতাবাদ। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ এই টাইপের বিশ্বাসী। তারা ধর্মের উপরে মানবতাকে স্থান দেয়। অথচ, এই মানবতার নেই কোনো গাইডলাইন, নেই কোনো মূলনীতি। যেমনঃ ধরুন ‘ক’ ব্যক্তি ‘খ’ কে হত্যা করল। এটা মানবতাবিরোধি। এতে ‘খ’-এর পরিবারের অনেক ক্ষতি হল। তাই, তারা সরকারকে ‘ক’-এর হত্যার দাবি জানালো এবং সরকারি নিয়মানুযায়ী তাঁকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হল। এখন ‘ক’-কে হত্যা করা কী মানবতাবিরোধী নয়? আর হত্যা না করা হলে তা-কি ‘খ’ এবং তার পরিবারের প্রতি না-ইনসাফি নয়? মানবতাবিরোধী নয়? তাই মানবতার সঙ্গার্থ একেক প্রেক্ষাপটে একেকজনের কাছে একেকরকম। তাই, এই মানবতা বিশালভাবে ডিফায়েন্ট এবং ইনডিফিনিট! তাই, এটা নিয়ে জানতে Iftekhar Sifat ভাইয়ের এই লেখাটি পড়তে পারেন [https://bit.ly/2YCJN9C]।
.
৬] ম্যাটারিয়ালিজমঃ বস্তুবাদ। জীবনের সুখ-শান্তি, সাফল্য বস্তু’র মাঝেই যেমন, গাড়ি, বাড়ি, নারী, টাকাপয়সা ইত্যাদিতে নিহিত আছে বলে মনে করা।

.
লেখক: Mashud Ur Rahman
.
#SaveFoundation_প্রবন্ধলিখন_প্রতিযোগিতা_২০২০

শেয়ার করুনঃ