বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (প্রথম পর্ব)

বলিউড: মিথ, বাস্তবতা এবং ছলনা (প্রথম পর্ব)

ভারতের তিনটি ব্যবসা খুব জোরেশোরে চলে ওয়ার্ল্ডওয়াইড।
১/ বলিউড;
২/ ক্রিকেট;
৩/ টুরিস্ট ব্যবসা।
.
আজকের আমাদের আলোচনার বিষয় হল বলিউড। আজ আলোচনা হবে কীভাবে এটি আমাদের মাঝে পর্নোগ্রাফি, সমকামীতা, অযাচার আর নানা ধরণের মতবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং আলোচনা হবে এদের ইনসাইডারদের বিকৃতি নিয়ে।
.
বলিউডের একটি মুভি বা একটি আইটেম সং-ই একেকটা পর্নোগ্রাফির সমান। মানসিক বিকৃতি আর অবাধ ওয়েস্টার্ন কালচারের সমাবেশ এই বলিউডকে করেছে রঙিন, পৌছে দিয়েছে অনন্যতায়। স্ক্রিপটেড অ্যাওয়ার্ড শো, শত শত কোটি টাকার ব্যবসা, ইসলামফোবিয়া, সেক্যুলারিজম, সেক্সিজম, প্লেজিয়ারিজম, সারিয়ালিজম, লিবারেলিজম, হিউম্যানিজম, ম্যাটার‍্যালিজমের পসরা সাজিয়ে নিয়ে গঠিত এই বলিউড শোবিজের নামে প্রতিটি স্তরের মানুষের মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে সব ধরণের বিকৃতি। এই গড্ডালিকায় গাঁ ভাসানো মানুষেরা জানে না বা জানতে চায় না এর ‘বিহাইন্ড দ্যা সিন’ কারসাজি। এর অদেখা জগত সম্পর্কে তারা মোটেও ওয়াকিবহাল নন। কারণ এটা তাদের কাছে কেবল বিনোদনের একটি অংশ মাত্র।
.
এই বলিউড আমাদের যুবক-যুবতীর মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, নিজের শৈশব জীবনের নস্টালজিয়া হচ্ছে বন্ধু-বান্ধবের সাথে বিড়ি টানা, গালাগালি করে কথা বলা, পর্ন দেখা, মাদকাসক্ত হওয়া, রাফ চলাফেরা করা, প্রেম করা ইত্যাদি। এগুলো তাদের পুশ করা এজেন্ডা।
.
যেকোন জায়গায় কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ণ করার একটা মৌলিক দিক হল, সেই জায়গায় কিছু মানুষকে যারা খ্যাতির জন্য নিজের আদর্শকে বিলিয়ে দিয়ে সমাজে নোংরামি আর বিকৃতি আমদানি করতে পারে, তাদেরকে টাকা পয়সা দিয়ে সেই এজেন্ডার প্রচারক বানিয়ে দেওয়া। পরবর্তিতে এই প্রচারকদের মাধ্যমে এজেন্ডা বাস্তবায়ণ হয়ে গেলে সেখানে এই এজেন্ডার ফ্রি ফলোয়ার তৈরি হয়ে যায়। এদের টাকা দেওয়া লাগে না। ওই যে, যাদেরকে টাকা দিয়ে এজেন্ডার প্রচারক বানানো হয়েছিল তাদের আদর্শকে একদল লোক সত্য বলে ধরে নেয়।
.
এই যে সমকামী এজেন্ডা, এর টেকনিকাল ইমপ্লিমেন্ট এইটাই। আগে সমকামীতার প্রচারকরা মানুষের মননে-মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, সমকামীরা সমাজে নির্যাতিত, অবহেলিত! এখন এদের জন্য সিম্পেথি দেখিয়ে মানুষকে সমকামীতার সমর্থক বানানো হচ্ছে, সমকামীতাকে গ্লরিফাই ও সেলিব্রেইট (প্রাইড মান্থ এর একটি দিক) করা হচ্ছে যেন এটি খুব ভালো জিনিস এবং এটি বর্তমানে চলমান একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় নেক্সট জেনারেশনের লোকদের টাকা দিতে হচ্ছে না। বরং তারা একে মানবিকতার একটি অংশ বা দিক মনে করেই এদের সমর্থন করে যাচ্ছে!
.
এই একই ট্যাকটিক বলিউড ভারত উপমাহাদেশে খেলেছে। বলিউড আমাদের উপমহাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে পর্নোগ্রাফি, সমকামীতা, লিভ-ইন বা লিভ-টুগেদারের (এই ইস্যুগুলো নিয়ে লিটারেলি তারা মুভি তৈরি করেছে) মত অসামাজিক ও নোংরা সংস্কৃতির বিষবাষ্প। এরা নিজেদের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বলে কিন্তু কন্টেন্টের নামে এরা আমদানি করেছে বিজাতীয় ও ইসলাম বিরোধী সংস্কৃতি, লিগালাইজ করছে অবাধ যৌনাচার! কিন্তু আমরা না বুঝেই বলিউড বন্দনায় মেতে উঠেছি!
.
রিসেন্টলি সুশান্ত সিং মারা যাওয়ায় বলি পাড়ায় রীতিমত ঝড় উঠেছে। নেপোটিজম এবং সেক্সিজম নিয়ে বেশ কথাবার্তা হচ্ছে। মিটিওরিক স্টারডম পাওয়া এই অভিনেতা কেনই বা আত্মহত্যা করল? নিছক প্রেম ভালোবাসা? আমার বিশ্বাস হয়না। তার নিজের যেমন টাকা পয়সা আর খ্যাতি-যশ ছিল, চাইলেই সে সহজে অন্য যে কারো সাথে রিলেশনে যেতে পারত।
.
তবে আমি আপনাদেরকে কিছু ফ্যাক্ট দিতে চাই যেগুলো ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এই অভিনেতার মৃত্যুর কন্সিকিউয়েন্সে।
.
সুশান্তের মারা যাওয়ার আগে তার সম্পর্ক ছিল রিয়া চক্রবর্তী নামের আরেক অভিনেত্রীর সাথে। কিন্তু সেই অভিনেত্রীর একটি স্কেপটিকাল রিলেশন আছে ষাটোর্ধ বলি-বিখ্যাত ডিরেক্টর মহেশ ভাটের সাথে যেই লোকটি মুভির নামে অসংখ্য পর্নোগ্রাফিক ফিল্ম উপহার দিয়েছে তার দর্শকদেরকে। সে সুশান্তের মৃত্যুর কিছুদিন পুর্বে বলেছে যে, সুশান্ত ছেলেটা পাগল হয়ে যাচ্ছে এবং সে নাকি খুব শীঘ্রই সুইসাইড করবে এবং আসলেই কিছুদিন পর সে সুইসাইড করে। তবে সুশান্তের ফরেনসিক রিপোর্টে, বেডশিটে কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া যায়নি কেবল অপরিচিত কারো বাম হাতের ফিঙ্গার প্রিন্ট ছাড়া। তাই একে অনেকেই সুইসাইড না বলে হত্যা বলতে চাচ্ছেন!
.
সে যাইহোক, এত লম্বা প্যাঁচাল কেন পাড়লাম? উদ্দেশ্য হল এই মহেশ ভাট। এই লোকটা তার নিজের বড় মেয়েকে কিস করেছে ও নিজের এই মেয়েকেই বিয়ে করতে চাচ্ছিল এবং সে এটা মিডিয়ার সামনে স্বীকারও করেছে! কতটা পার্ভাট হলে কেউ নিজের মেয়েকে কিস করে ও বিয়ে করতে চায়?
.
চলবে ইনশা আল্লাহ …
.
টীকাঃ
.
১] ইসলামফোবিয়াঃ ইসলামবিদ্বেষ। ইসলামের বিভিন্ন বিধান নিয়ে কটুক্তি করা।
.
২] সেক্যুলারিজমঃ ধর্মনিরেপেক্ষতাবাদ। ধর্ম আর রাষ্ট্র-রাজনীতিকে আলাদা মনে করা। এর মূল কারণ ছিল, ইউরোপে খ্রিষ্টান চার্চের মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতন যা থেকে বাঁচতে এই মতবাদের উৎপত্তি হয়। এর মূল ধারনা হল ধর্মের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ ইসলামি শরিয়াহ’র উদ্দেশ্য হল আল্লাহ’র জমিনে আল্লাহ’র আইন বাস্তবায়ন করা।
.
৩] প্লেজিয়ারিজমঃ লেখা চুরি। অন্যের সাহিত্যকর্ম বা রচনা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া।
.
৪] লিবারেলিজমঃ উদারনৈতিকতা। সহজভাষায় বললে, সবকিছুতে তারা উদারতা খোঁজে। ইসলামের নানা বিধান নিয়ে তাদের সমস্যা, কারণ তাদের মতে এগুলোতে উদারতা নেই।
.
৫] হিউম্যানিজমঃ মানবতাবাদ। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ এই টাইপের বিশ্বাসী। তারা ধর্মের উপরে মানবতাকে স্থান দেয়। অথচ, এই মানবতার নেই কোনো গাইডলাইন, নেই কোনো মূলনীতি। যেমনঃ ধরুন ‘ক’ ব্যক্তি ‘খ’ কে হত্যা করল। এটা মানবতাবিরোধি। এতে ‘খ’-এর পরিবারের অনেক ক্ষতি হল। তাই, তারা সরকারকে ‘ক’-এর হত্যার দাবি জানালো এবং সরকারি নিয়মানুযায়ী তাঁকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হল। এখন ‘ক’-কে হত্যা করা কী মানবতাবিরোধী নয়? আর হত্যা না করা হলে তা-কি ‘খ’ এবং তার পরিবারের প্রতি না-ইনসাফি নয়? মানবতাবিরোধী নয়? তাই মানবতার সঙ্গার্থ একেক প্রেক্ষাপটে একেকজনের কাছে একেকরকম। তাই, এই মানবতা বিশালভাবে ডিফায়েন্ট এবং ইনডিফিনিট! তাই, এটা নিয়ে জানতে Iftekhar Sifat ভাইয়ের এই লেখাটি পড়তে পারেন [https://bit.ly/2YCJN9C]।
.
৬] ম্যাটারিয়ালিজমঃ বস্তুবাদ। জীবনের সুখ-শান্তি, সাফল্য বস্তু’র মাঝেই যেমন, গাড়ি, বাড়ি, নারী, টাকাপয়সা ইত্যাদিতে নিহিত আছে বলে মনে করা।

.
লেখক: Mashud Ur Rahman
.
#SaveFoundation_প্রবন্ধলিখন_প্রতিযোগিতা_২০২০

শেয়ার করুনঃ
আমরাই তোমাদের সমাজ…

আমরাই তোমাদের সমাজ…

আমরা স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি তে ছেলেমেয়েদের একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পড়াশোনা করাবো, সম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে কথা। আমরা তাদেরকে শারীরিক শিক্ষা বই এর মাধ্যমে শিখিয়ে দেবো কিভাবে বয়ঃসন্ধির প্রভাবে ছেলেমেয়েদের মাঝে শারীরিক মানসিক চাহিদা তৈরি হয়। এই শূন্যতা, চাহিদা সঠিক উপায়ে পূরণ করার পদ্ধতি কি বা নিয়ন্ত্রণের উপায় কি তা আমরা কখনো তাদেরকে শেখাবো না, সেই সব বিষয় সহজলভ্য করবো না। বরং আমরা এও শিখিয়ে দেবো চারপাশের বিবাহের উদাহরণ দেখিয়ে যে, লাখ টাকার চাকরি ছাড়া আর বয়স ৩০ পেরিয়ে মাথা টাক হবার আগ পর্যন্ত সমাজে বিয়ের কথা বলা জঘন্য পাপ, হারাম।
.
আমরা তাদেরকে প্রথমালু, একাত্তর সহ সকল টিভি মিডিয়া পত্রিকা দিয়ে শেখাবো বাল্যবিবাহ অনেক বড় পাপ, আর শরীরের প্রেম অনেক মহৎ একটি গুণ সেটা যেই বয়সেই হোক না কেনো, ক্লোজ আপ এর অনেক বড় বড় নারী পুরুষের কাছে আসা ব্যানার টানিয়ে শেখাবো কিভাবে কাছে আসার গুণ অর্জন করতে হয়, লিটনের ফ্ল্যাটে যেতে হয়। আমরা তাদেরকে সমাজের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, লেখক ঔপন্যাসিকদের মন ভুলানো প্রেমের গল্প দিয়ে শিখিয়ে দেবো একটু আধটু বিয়ের বাইরে প্রেম ছাড়া জীবন টা অর্থহীন, পানসা, বিবাহের পর পরকিয়ার টেস্ট না নিলে কি আর জীবন এ টুইস্ট থাকে! আমরা তাদের হাতে কম বয়সে মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ তুলে দিয়ে অবাধে ইন্টারনেট দিয়ে শেখাবো কিভাবে পর্ণ মুভিতে আসক্ত হতে হয়, জীবনটাকে শুধু এঞ্জয় করতে নারী পুরুষের সম্পর্কটা শুধু যৌনতা দিয়ে চিন্তা করতে হয় (ফ্রয়েড বাবুদের ফিলোসফি তো রেডি ই রেখেছি ইন্টালেকচুয়াল আর্গুমেন্ট হিসেবে)।
.
আমরা তাদেরকে সারাজীবন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নামক অন্ধের কারখানায় শিখাবো কিভাবে বেশি টাকা আয় করে সমাজে সফল হতে হয়, একটা চকচকে চামড়ার ফার্মের মুরগি নামক ঘিলুবিহীন মাংসপিন্ড বা ভুড়িওয়ালা টাকার মেশিন বিয়ে করে সমাজে ইর্শ্বনীয় হতে হয়, সুখ পেতে হয়। আমরা তাদেরকে নীতি নৈতিকতার স্ট্যান্ডার্ড শিখাবো যুগের সাথে বয়ে চলা ট্রেন্ড থেকে। যেখানে ছেলে ধর্ষণ করলে বাবা বলবে, “এই বয়সে ছেলেপেলে একটু আধটু করেই, আমিও আকাম করি, আমার কি যৌবন নাই?” জাফর ইকবালদের কলাম দিয়ে শেখাবো স্টুডেন্ট লাইফে প্রেম করতে হয়, তাছাড়া পড়াশোনায় মন বসানো কঠিন। নাটক, মুভি, গান দিয়ে শেখাবো সময় কাটানোর সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতেই পারে না। নায়ক নায়িকা সেলিব্রেটিদের লাইফ দেখিয়ে শেখাবো কেনো আমাদের জীবন টা অপূর্ণ তাদের মত হতে না পেরে।
.
আমরা তাদের শেখাবো কিভাবে টকশোর বিজ্ঞানীরা এতো জ্ঞানী হলো, আর মডেলদের দেহ বিক্রি করা পেশাকে ফ্যান্টাসি আইডল হিসেবে কেনো প্রতিষ্ঠা করবো। তাদেরকে খুব সূক্ষ্মভাবে শেখাবো তোমার শরীরের অনেক চাহিদা আছে, জীবনে চাহিদা পূরণ না করতে পারা লুজারদের বৈশিষ্ট্য, যেহেতু বৈধ পথে এইসব চাহিদা মেটানো কঠিন তাই তোমরা অবৈধ পথ কে লিগালাইয করা শেখো মনে মনে। বিচার ব্যবস্থা দেখিয়ে শেখাবো সমাজে দাপট, টাকা, আর রাজনৈতিক ব্যানার থাকলে তুমি যা খুশি তাই করতে পারো। এবার তুমি খুন করো, ধর্ষণ করো, ঘুষ খাও, সুদ খাও, যা খুশি তাই করো তোমাকে কেউ কিছু বলবে না, কোন শাস্তি নেই তোমার। আমরা তাদেরকে ধর্ম শিখতে দেবো না, পরকাল বিশ্বাস মজবুত করতে দেবো না, স্রষ্টা, ধর্ম, নিয়ম কানুন সব কেবল হুজুরদের মধ্যযুগীয় স্মৃতিরক্ষার রীতি হিসেবে শিখিয়ে আসবো। দিন শেষে তাদেরকে এমন এক আজব পশুরুপী মানুষ হতে শেখাবো যেখানে জীবনের কোন উদ্দেশ্য নেই, কোন চিরন্তন গন্তব্য নেই, নেই কোন নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড বা আদর্শ যে অনুযায়ী সে চলবে। আমরা তাদেরকে শেখাবো, আরে এই যুগে এটা মানা যায় নাকি, ওটা ছাড়া যায় নাকি এমন অজুহাতে সকল পূণ্য কে এড়িয়ে চলতে আর পাপ কে আপন করে নিতে।
.
এতোসব কিছু শেখানোর পর যখন সে টিকতে না পেরে প্রেমের ফসল হিসেবে এবরশন এর অভিজ্ঞতা নিয়ে হাজির হয় তখন আমরা চোখ বন্ধ করে এড়িয়ে যাবো, যখন ধর্ষণ করবে তখন “পুরুষ তুমি মানুষ হও” দিয়ে কলাম ছাপাবো, নারী তুমি বন্ধুর পার্টিতে যেতেই পারো, একটু মাখামাখি করতেই পারো, তাই বলে অমতে ***! তবে তোমার ইচ্ছায় হলে সেটাকে আমরা নারী স্বাধীনতা বলতাম, প্রেমের বহিঃপ্রকাশ বলতাম! যখন সে খুন করবে, সুদ, মদ, ঘুষ খাবে সেগুলোকে আমরা ব্যক্তিস্বাধীনতা বলবো, একটু আকটু হয় বলে সমাজের সকলকে এই ক্যাটাগরীতে দেখিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলবো। সামান্য পাওয়া না পাওয়া নিয়ে সুইসাইড করলে, জীবনের অর্থ না পেয়ে হতাশ হয়ে গেলে সুখন ভাইদের দিয়ে মোটিভেশনাল স্পিচ দেয়াবো, “কিভাবে এই দুনিয়ায় সফল হতে হয়?” তবে পরকালের ব্যাপারটা সব সময় পাশ কাটিয়ে, ঘৃণা দেখিয়ে চলে যাবো। তোমাদের নীতি নৈতিকতা বলতে যখন কিছুই থাকবে না তখন টিভি পত্রিকায় টকশো কলামে বড় বড় আর্টিকেল ছেপে দেখাবো, ডিবেট করে প্রমাণ করবো এর পিছনে মনোবিজ্ঞানের অমুক জীন দায়ী। তবুও আমরা কখনো আমাদের দ্বীমুখী নীতি স্বীকার করবো না, নিজেদের ভণ্ডামি ছাড়তে চাইবো না আমরা যে কতটা অন্ধ গোঁড়া তা মানতে চাইবো না। যত যাই হোক, চূড়ান্ত সমাধান যে আসলে একটাই- “ইসলাম” সেটা কখনই প্রয়োগ ঘটাতে চাইবো না, তা নাহলে আমাদের মুখোশ যে খুলে যাবে। হ্যা আমরা এমনই, আমরাই তোমাদের সমাজ…
.
Post Courtesy: Mahfuj Alamin

শেয়ার করুনঃ
মরণখেলা

মরণখেলা

শুনলাম আমাদের ভার্সিটির আমাদের ডিপার্টমেন্টের এক মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। টুকটাক অনুসন্ধানে জানা গেছে প্রেমিকের সাথে দ্বন্দ্ব, মনমালিন্য টাইপ কোন ইস্যু কে কেন্দ্র করে এই ঘটনার অবতারণা। ভার্সিটি স্টুডেন্টরা বরাবরের মত মুখস্ত আন্দোলন পদ্ধতিতে রাস্তায় গিয়ে মানববন্ধন করছে দোষীর শাস্তি চেয়ে।
.
কিছুদিন আগে ভারতেও এক ভেটোরেনারি মহিলা চিকিৎসককে এক ট্রাক ড্রাইভার ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মেরে ফেলে। সেই একই ধাঁচের আন্দোলন, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, একাত্মতা প্রকাশ, শাস্তি চেয়ে পোস্ট, টুইট এই তো!
.
এই ধরণের আবেগ, ক্ষোভ, ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ, শাস্তির জন্য আন্দোলন আপাত দৃষ্টিতে প্রচলিত সীমার মধ্যে থেকে ভালো প্রতিবাদ মনে হলেও এগুলো আদৌ কোন সমাধান না। কেনো না, কী সমাধান আসলেই প্রকৃত সমাধান, সামগ্রিক সমাধান হতে পারতো সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন মনে করেনা আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই। কারণ যখন ই আপনি সামগ্রিক সমাধানে যাবেন, ধর্ষণ রোধে আসল সমাধান নিয়ে আসবেন তখন এই আন্দোলনকারীরাই সেই সমাধানের বিভিন্ন ধাপে অপরাধের সাথে নিজেদের জড়িত হিসেবে খুঁজে পাবে। তাই চাচা আপন প্রাণ বাঁচা হিসেবে আপাত আবেগ, ক্ষোভ, আন্দোলন, মোমবাতি পার্টিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে দেয়া হোক তাদের। তার চেয়ে বরং একটা কাল্পনিক গল্প বলি এই প্রসঙ্গে, যা কাল্পনিক হলেও অবাস্তব নয়-
.
অমুকের ধর্ষণের বিচারের দাবিতে একত্রিত হয়েছে রায়হান ও মিথিলা। ওরা একই ভার্সিটির আলাদা দুই ডিপার্টমেন্টের ছাত্রছাত্রী। রায়হান এর তেজদ্দীপ্ত কন্ঠে “বিচার বিচার বিচার চাই, ধর্ষকের ফাসি ছাড়া কোন কথা নাই” টাইপ স্লোগানে উপস্থিত শত শত শিক্ষার্থী তালে তাল মিলিয়ে স্লোগান দিচ্ছে। নারীর ইজ্জত এর উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এমন প্রতিবাদমুখর মনোভাব দেখে মিথিলার ভালো লেগে গেলো রায়হান কে। রায়হানও স্লোগান এর ফাঁকে ফাঁকে মিথিলার সাথে পরিচিত হয়ে নিলো। এভাবে কয়েকদিন আন্দোলন চললো, আসামীকে ধরে জেলে দেয়া হলো। এরপর বরাবরের মত বিচার হলো কি হলো না সেই চিন্তা না করে সবাই যার‍যার ক্ষোভে পানি ঢেলে আপাত এই সমাধানে খুশি হয়ে যার যার পড়াশোনায় ফিরে গেলো। কিছুদিন পর আসামী টাকাপয়সা দিয়ে আইন এর ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বের হয়ে গেলো টুপ করে, কেউ কিছু জানলও না!
.
ওদিকে রায়হান, মিথিলা একে অপরের সাথে সময় দেয়া শুরু করলো। ধীরে ধীরে তা প্রেমের পরিণয়ে গিয়ে ঠেকলো। অবশেষে রায়হান মিথিলার প্রেমে এতটাই ডুবে গেলো যে তাকে ছাড়া তার আর কিছুই ভালো লাগেনা। এভাবে চলতে চলতে মিথিলার ফ্যামিলি তাকে অন্য এক প্রতিষ্ঠিত বি সি এস ক্যাডার এর সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেললো। মিথিলাও ভবিষ্যতের ভালো আর মা বাবার কথা চিন্তা করে রায়হানকে না জানিয়েই এংগেজমেন্ট করে ফেললো। ওদিকে রায়হান কোন না কোন মাধ্যমে জেনেই ফেললো!
.
পাগলের মত হয়ে সে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলো মিথিলাকে একটাবারের জন্য কাছে ডেকে সকল আবেগের সহিত জিজ্ঞেস করবে কেনো সে তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেললো! বাট কি আর করা, মিথিলাকে সামনে পেয়ে তার মাথা গেলো বিগড়ে, তাকে ইগ্নোর করা, বিয়ের ব্যাপারে না জানানো, মেকি ভালোবাসার স্বপ্ন দেখানো মিথিলাকে সে একলা সুখী দেখতে চাইলোনা, নিজের ধ্বংসের বিপরীতে। রাগে, ক্ষোভে সে মিথিলাকে সেখানেই জোর করে যৌনতায় বাধ্য করে, খুন করে পালিয়ে গেলো!
.
আবারো সেই একই সার্কেলে ছেলেমেয়ে একাকার হয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে নেমে গেলো!

গল্পটা যেমন তেমন, বাট আমাদের সমাজের বাস্তবতা এটাই। আমরা ধর্ষণ চাইনা কিন্তু প্রতিনিয়ত ধর্ষণ হোক, এমন ই এক সমাজব্যবস্থা তৈরি করে চলেছি। নারী পুরুষকে শিক্ষা, কর্ম, বাজার সব জায়গায় একত্রিত করার ব্যবস্থার মাধ্যমে, ধর্মের দিকে বুড়ো আংগুল দিয়ে প্রেম ভালোবাসার নামে ব্যভিচারের রাস্তা সহজ করে, ক্যারিয়ারের নামে বিয়ের রাস্তা কঠিন করে, পর্দাকে সেকেলে বিধান মনে করে আইটেম সং পর্ণগ্রাফির বিশাল মার্কেট তৈরি করে, চোখের হিফাযতের কোন গুরুত্ব না রেখে, ধর্ষকের ইসলামি ব্যবস্থায় কঠিন শাস্তি এবং বিচারব্যবস্থার বিচারহীনতা আর অসচ্ছতার সুযোগ রেখে আমরা সামগ্রিকভাবে ধর্ষণ প্রিয়, অনৈতিক যৌনতার এক সমাজ তৈরি করে রেখেছি৷
.
আর এতসব শয়তানি করার পর ধর্ষণ হলে আমরা সুশীল সেজে রাস্তায় গিয়ে প্রতিবাদ করার মাধ্যমে নিজেকে মানবতাবাদী, নারীবাদী হবার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীময় খেলায় মেতে উঠে নিজেদের পচে যাওয়া আত্মাকে সুসজ্জিত প্রমাণ করতে চাই!
.
ব্যাপারটা হলো, মাদকবিরোধী কন্সার্ট করছে মাদকখোরেরা, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন করছে ধর্ষকেরা, পটেনশিয়াল ধর্ষকেরা! এমন অবস্থায় এইসব আন্দোলন দেখে খুশি হবো, আফসোস করবো, হাসবো না কাঁদবো তা ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি!
.
Post Courtesy: Mahfuj Alamin

শেয়ার করুনঃ
রুদ্ধদ্বার

রুদ্ধদ্বার

ট্রেনে আসছিলাম। কিছু টিকিট বিহীন যাত্রী থাকে। সিট না পেলে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করে। আখাউড়া থেকে সম্ভবত এরকমই এক মেয়ে ভ্রমণ করলো। সিট না পেয়ে আমাদের সিট সংলগ্ন পথে দাঁড়ালো। হাবভাবে বোঝা গেল, আন্তরিক, কথা বলতে আগ্রহী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আরেক পুরুষ যাত্রী উঠলো টিকিট বিহীন। মেয়েটার পাশেই দাঁড়ালো। ট্রেনে এমনিতেই অনেক ভীড়। আখাউড়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত অবৈধ যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকে। ছুটির দিনগুলার আগে-পরে এদের দৌরাত্ম্যে বৈধ যাত্রীদের উঠানামাই কষ্টকর হয়ে পড়ে।

যাত্রী দুজন পরস্পর আলাপ শুরু করলো। মাঝে আমাদের সাথেও বলছে। কিছু পর ছেলেটা ফেবু আইডি চাইলো। মেয়েটাও কঠিন এক নাম বলে দিলো। সাথে রিকু পাঠানো যায় না, মেসেজ দিতে হবে ইত্যাদি। আমরাও টিকিট বিহীন যাত্রী মাড়িয়ে বহু কষ্টে নরসিংদী নেমে পড়লাম।

………..

শ্বশুরবাড়িতে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। একটা মেয়ে খুন হয়েছে ঈদের রাতে। নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এমনকি খুনের পর তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
.
শুনলাম, মেয়েটা পরকীয়ার বলি। পরিচয় সম্ভবত মাজারে। এরপর মন দেয়া-নেয়া। পরে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়, মেয়েটা নাকি রাজি হয় নি। ছেলেটা বিবাহিত। ১ম স্ত্রীর সাথে তালাকের পর ২য় স্ত্রীর ঘরে সন্তান আছে। বখাটে ধরনের। মূলত ধর্ষণের জন্যই বিয়ের কথা বলে ঈদের দিন নিয়ে আসে।

………..

পুরো রামাদান জুড়েই এমন নিউজ দেখেছি কদিন পরপর। ধর্ষণ, গণ ধর্ষণের পর হত্যা। পাশাপাশি আরেক ধরনের নিউজও চোখে পড়ে, ‘বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান! অধিকাংশ সময় দেখা যায়, প্রেমিক পালিয়ে গেছে! কোন ক্ষেত্রে ঐ প্রেমিকের স্ত্রী-সন্তানও আছে। আবার পালিয়ে আসা মেয়েও স্বামী-সন্তান ছেড়ে আসছে। আবার দেখলাম, উভয়ে একাধিক সন্তানের জনক-জননী স্বামী, স্ত্রী, সন্তান রেখে পালিয়ে গেছে!

…………

দুটো জিনিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পাশাপাশি কঠিনও করে দেয়া হয়েছে। প্রথমটা বিয়ে। এটা আইন করে বন্ধ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ১৮র আগে মেয়েদের বিয়ে দেয়া যাবে না। ১৮র পূর্বে ‘বাল্যবিয়ের’ নামে বন্ধ করে দেয়া বিয়েগুলোর খবর পত্রিকায় ফলাও করে প্রচার করা হয়। ইউএনও’র আর কোন কাজ থাক বা না থাক, বিয়ে বন্ধ করা তার প্রধান কাজ। এবং এটা বিরাট সফলতা হিসেবেও দেখা হয়।
.
দ্বিতীয়ত বন্ধ করা হয়েছে সকাল বেলার দ্বীনি শিক্ষা। এটা আইন না করলেও, সকালের সাধারণ শিক্ষা বা স্কুলগুলাকে এমন নিয়মে আনা হয়েছে, সকালের মাকতাবের শিক্ষাটা অলিখিত বে-আইনের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে গেছে। সকালের মাকতাবে শুধু কায়দা-কুরআন পড়ানো হত না। এখানে সুরে সুরে বিভিন্ন মাসআলা, তাজউইদ বা উচ্চারণের সাথে নৈতিকতা শিক্ষা দেয়া হতো। সুরগুলা বাচ্চাদের অন্তরে গেঁথে যেতো। বড় হলেও এগুলা অন্তরে সুরের সাথে বাজতো। আমাদের এখনও বাজে। শিশুকালের এই নৈতিকতা তাকে বড় কালেও অনেক অন্যায় হতে বিরত রাখতো। সে নারীকে সম্মানের সাথে দেখতো। চোখ তুলে তাকাতো না। ধর্ষণ তো তার জন্য মরে যাওয়ার শামিল।
.
এবং একটা জিনিস খুলে দেয়া হয়েছে। অশ্লীলতা। অশ্লীলতার দরজা প্রায় সর্ব দিক দিয়ে খুলে দেয়া হয়েছে। এটা বন্ধুত্বের নামে, এটা সহশিক্ষার নামে, এটা আধুনিকায়নের নামে, এটা নারীর ক্ষমতায়নের নামে, এটা নারী-পুরুষের সমান অধিকারের নামে।

…………

পুরুষের স্বভাব হল, সে সুযোগে নারীকে পেতে চাইবে। সে যখন বিবাহিত হয়, তখন সুযোগ পেলে ভিন্ন নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্কই তার উদ্দেশ্য। অপরদিকে নারীর স্বভাব হল, সে এক পুরুষকেই এককভাবে চাইবে। সেটা স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়েও হোক।

………..

নারী-পুরুষের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নারীর বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। পুরুষের দ্বীনি শিক্ষা বন্ধ করা হয়েছে।
.
নারীকে সমাজে, লোকালয়ে ব্যাপক করা হয়েছে। তারা পুরুষের সাথে অবাধে মিশছে। পুরুষের স্বভাব চাইছে তাকে শারীরিকভাবে পেতে। নারীর বয়স বৈধ পন্থায় তাকে পাওয়া রুদ্ধ করেছে। নারী-পুরুষের দ্বীনি শিক্ষা নাই। তারা অবৈধভাবেই মেলামেশা করছে। এবার নারীর স্বভাব চাইছে, ঐ পুরুষকে এককভাবে পেতে। নৈতিকতাহীন পুরুষের আশপাশে নতুন নতুন অল্পবয়স্কা, সমবয়স্কা নারী। সে অবৈধভাবেই যখন নিত্যনতুন নারী সঙ্গ পাচ্ছে, কেন পুরনো এক নারীর সাথে চিরকালের জন্য আবদ্ধ হবে? অথবা সে বৈধভাবে আগে থেকেই এক নারীর সাথে আবদ্ধ। সম্প্রতি যৌন চাহিদায় মেলামেশা করা নতুন নারীকে সে কিভাবে স্থান দিবে?
.
এসব থেকে টানাপোড়েন এবং শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিকটিম আমাদের নারীরাই। প্রতিদিনই তারা কোথাও না কোথাও খুন হচ্ছে, ধর্ষণ হচ্ছে, গণধর্ষণ হচ্ছে এমনকি খুনের পরও ধর্ষণ হচ্ছে নতুবা আগুন ঢেলে দেয়া হচ্ছে। নৃশংসভাবে তাদের মারা হচ্ছে।

……….

পরিত্রাণের জন্য সর্বপ্রথম একটা চালু জিনিস বন্ধ করতে হবে। অশ্লীলতা। সেটা যে নামেই হোক। উপরে নামগুলা বর্ণনা করা হয়েছে।
.
এবং দুটো বন্ধ জিনিস খুলে দিতে হবে। একটা বিয়ে। বিয়ে অবাধ করতে হবে। বিয়ে অবাধ করলে নারী নিরাপদ হবে। আরেকটা, সকাল বেলার দ্বীনি শিক্ষা। এটা বাধ্যতামূলক করে দিতে হবে। একটা বাচ্চার অন্তরে যখন আল্লাহর ভয়, ভালবাসা প্রবেশ করিয়ে দেয়া হবে, তার থেকে বাকি সবাই নিরাপদ হয়ে যাবে, ইনশা-আল্লহ! বড় হয়ে তার সামনে উলঙ্গ নারী পড়ে থাকলেও সে চোখ তুলে তাকাবে না। ধর্ষণ দূরে থাক!
.
Written by: Nijam Uddin

শেয়ার করুনঃ
সত্য বলতে লজ্জা নেই

সত্য বলতে লজ্জা নেই

পুরুষ যেন নারীর প্রতি আকর্ষিত হয়, এভাবেই নারীকে সৃজন করা হয়েছে। নারীদেহের গড়নের প্রতি পুরুষের দুর্বলতা আছে। পুরুষের গড়নের প্রতিও নারীর দুর্বলতা আছে, এটা সিস্টেম। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক যে আপনাকে একটা মেয়ে আঁকতে দিলে আপনি শরীরের বাকি অংশের চেয়ে কোমর সরু করে আঁকবেন। বয়ঃসন্ধিকালে নারীর ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোন বেরিয়ে পুরো দেহে নানান জায়গায় প্রভাব ফেলা শুরু করে। ফলে কন্ঠস্বর চিকন হয়, ত্বকের নিচে চর্বিস্তর জমে শরীর নরম-মোলায়েম হয়, ত্বক মসৃণ হয়, স্তন-নিতম্ব-উরুতে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়ে ‘নারীসুলভ’ আকার (Feminine Contour) চলে আসে। এবং এই উঁচুনিচু জিওগ্রাফি পুরুষকে আকর্ষণ করে, তাদের কাছে ভালো লাগে।গবেষকরা বলেছেন, চেহারার সৌন্দর্যের চেয়ে পুরুষ বেশি গুরুত্ব দেয় ফিগারকে। বিশেষ করে ‘বালুঘড়ি’র মত গড়ন (hourglass figures)। এবং এই অনুভূতি হতে পুরুষের মগজ সময় নেয় সেকেন্ডেরও কম সময়। মানে সেকেন্ডের কম সময়ে [ড] একজন পুরুষ একটা মেয়ের ফিগার দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, মেয়েটি আকর্ষণীয় কি না। তাদের মতে, মেয়েদের নিতম্ব ও কোমরের অনুপাত (waist-to-hip ratio) ০.৭ হলে সেটা হল সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিগার। এবং এই অনুপাত নারীর সুস্থতা ও উর্বরতার জন্যও ভাল। বিভিন্ন কালচারে এই অনুপাত ০.৬-০.৮ এর মধ্যে [1]

 

                                                                                    বালুঘড়ি
New Zealand-এর Victoria University of Wellington –এর অধীন School of Biological Sciences এর নৃতাত্ত্বিক Dr Barnaby Dixson এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয় Archives of Sexual Behaviour -এর 2011তে ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় (শিরোনাম: Eye-tracking of men’s preferences for waist-to-hip ratio and breast size of women.) [2]। একই নারীর ছবিতে বুক, কোমর ও নিতম্বের মাপকে বাড়িয়ে কমিয়ে ভলান্টিয়ারদের দেখানো হয়। ইনফ্রারেড ক্যামেরার দ্বারা তাদের চোখ কোথায় কতবার আটকাচ্ছে দেখা হয় (numbers of visual fixations), কতক্ষণ কোথায় আটকে আছে তা দেখা হয় (dwell times), প্রথমবারেই কোথায় আটকাচ্ছে (initial fixations) তাও দেখা হয়। তারা পেলেন, সব পুরুষের চোখ প্রথমেই নারীর যে অঙ্গে আটকায় তা হল বুক আর কোমর। সবচেয়ে বেশি সময় আটকে থাকেও এই দুই জায়গায়। তবে বার বার তাকিয়েছে এবং বেশিক্ষণ ধরে তাকিয়েছে বুকের দিকে, কোমর-হিপের মাপ যাই হোক। আর মার্কিং করার সময় বেশি আকর্ষণীয় হিসেবে মার্ক দিয়েছে চিকন কোমর ও ‘বালুঘড়ি’ শেপের ফিগারকে, স্তনের মাপ যাই হোক। ডেইলিমেইল [3] ও টেলিগ্রাফ পত্রিকায়ও এসেছে গবেষণাটি [4]। তাহলে বুঝা গেল, পুরুষের সব আকর্ষণের কেন্দ্র তিনটা জায়গা [ঢ]। বয়সন্ধিকালে ইস্ট্রোজেন হরমোনের কারণে যে নারীসুলভ প্যাটার্নে চর্বি জমে (Female distribution of fat) তার ফলেই তৈরি হয় এই নারীসুলভ গড়ন। কেউ যদি অধিকাংশ পুরুষের দৃষ্টির উদ্দীপক হতে না চায়, অলক্ষ্যে থাকতে চায় তাহলে এমন পোশাক পরিধান করতে হবে যাতে এই টিপিক্যাল ‘বালিঘড়ি’ শেপ অস্পষ্ট হয়ে যায়, নারীদেহের উঁচুনিচু যেন বুঝা না যায়। এবার ৭ জন মেয়েকে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। তাদের ওজন না কমিয়ে কেবল কোমরের চর্বি কেটে নিতম্বে লাগিয়ে দেয়া হয়, সুন্দর শেপ দেয়ার জন্য। এবার এই মেয়েগুলোর সার্জারির আগের ছবি আর সার্জারির পরের ছবি দেখানো হয় বছর পঁচিশেক বয়েসের ১৪ টা ছেলেকে। তাদের ব্রেইন স্ক্যান করে পাওয়া গেল কী জানেন? আমাদের ব্রেইনে ‘Reward Center’ নামে একটা কেন্দ্র আছে। দেখে নেন, ১ নং জায়গাটার নাম VTA (Ventral Tegmental Area), ২ নং জায়গাটার নাম (nucleus accumbens) , আর ৩ নং জায়গাটা হল ফ্রন্টাল কর্টেক্স যা আমাদের ব্যক্তিত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। এই তীর চিহ্নিত রাস্তার নাম ‘Dopamin Pathway’। এই জায়গাগুলোতে যে নার্ভকোষ থাকে তারা ‘ডোপামিন’ নামক নিউরোহরমোন ক্ষরণ করে ৩ নং জায়গায় উত্তেজনা তৈরি করে।

 

                                                                           রিওয়ার্ড সেন্টার
আর ২ নং জায়গাটা আসক্তি সৃষ্টির জায়গা (highly sensitive to rewards and is the seat of addictive behavior)। আমাদের মগজ সব ধরনের আনন্দের অনুভূতি এভাবে তৈরি করে, সেটা বেতন-বোনাস-লটারী জেতাই হোক, যৌনমিলন হোক, কিংবা হোক নান্নার কাচ্চি, অথবা নেশাদ্রব্য [5]। তবে ড্রাগ এ এলাকায় ডোপামিনের বন্যা বইয়ে দেয়, ফলে এত আনন্দ হয় যেটা আসক্ত লোক আবার পেতে চায়। এভাবে নেশা বা আসক্তি হয় [6]। এই ১৪ টা ছেলের ব্রেইন স্ক্যান করে পাওয়া গেল, সার্জারি করার পরের ছবি দেখে (এবং কোমর নিতম্বের অনুপাত ০.৭ এর কাছাকাছি) ওদের এই এলাকাগুলো উত্তেজিত হচ্ছে। [ণ] সুতরাং, পর্নোগ্রাফি একটা নেশা। (প্রমাণিত) আমেরিকার Georgia রাজ্যে Gwinnett College-এর Neuroscientist Steven M. Platek সাহেবের এই গবেষণা প্রকাশিত হয় PLoS One জার্নালে 5 ফেব্রুয়ারি, 2010 সংখ্যায় Optimal waist-to-hip ratios in women activate neural reward centers in men শিরোনামে [7]। তিনি Livescience ম্যাগাজিনকে বলেন, পর্নোআসক্তি এবং আসক্ত লোকের পর্নো ছাড়া যে erectile dysfunction (উত্থানরহিত) হয় তার একটা ক্লু হতে পারে এই গবেষণাটি [8]। আমরা দেখলাম, নারীর ফিগার দেখাটা নেশার মত, স্রেফ দেখাটাই [ড+ণ]। সেক্স উত্তেজিত করবে Reward Center-কে এটা তো খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু স্রেফ দেখাটাও একজন পুরুষে ড্রাগের মত অনুভূতি তৈরি করছে, বিষয়টা একটূ লোমহর্ষক না? এবং কারো ফিগার মূল্যায়ন হয়ে এই অনুভূতি তৈরি হতে সময় নিচ্ছে সেকেন্ডেরও কম সময়, এমন না যে একটানা তাকিয়ে দেখার পর এমন হচ্ছে। এবার এর সাথে আপনি মিলিয়ে নিন [ট] University of Arizona-র প্রফেসর Mary P. Koss- এর কথাটা, ধর্ষণ ব্যাপারটা অনেকটা মাত্রা-নির্ভর (Dose). [9] তাহলে আমাদের এই ফিটিং ফ্যাশন, স্বচ্ছ ওড়না, ফিতাওয়ালা বোরকা, উরুর অবয়ব প্রকাশ করে দেয়া লেগিংস কী এক ফোঁটাও দায়ী নয়? একটুও দায়ী নয়? এখন আপনিই হিসেব করুন, আপনি কতজনের কত নম্বর ডোজ হয়েছেন? আপনি কতজনের নেশাদ্রব্য হয়েছেন এ যাবত? আপনার Optimal waist-to-hip ratio কত অগণিত পুরুষের neural reward center-কে ডোপামিনে ভাসিয়েছে? ভিকটিমের পোশাক হয়ত সরাসরি দায়ী নয়, তবে আর যে হাজার হাজার নারী ধর্ষকটার সামনে দিয়ে হেঁটেছে বেসামালভাবে, তাদের ফিটিং স্বচ্ছ পোশাকের দায়, প্রকাশমান দেহাবয়বের দায় তো এড়ানো যাবে না। গবেষণাগুলোর ইঙ্গিত তো তাই বলছে, না কি?

নয়নের আলো

আমরা এই পর্যায়ে একটু জেনে নেব, আমরা কীভাবে দেখি। যেমন ধরেন, একটা লাল আপেল। ঘরটা অন্ধকার, আপেলের উপর কোন আলো পড়ছে না, তাই অন্ধকার ঘরে আপনি আপেলটা দেখতে পাচ্ছেন না। এবার লাইট জ্বালালেন। ঝলমল করে উঠল ঘর। আলোর কিছুটা আপেলের উপরও পড়ল। আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন, সাদা আলো আসলে সাদা না, ৭ রঙা আলোর মিশেল।

 

                                                                                  সাত রঙ
বেনীআসহকলা- বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। এই ৭ রঙ মিলেমিশে হয় সাদা রঙের আলো। এই লাল আপেলে যখন আলোটা পড়ল, আপেলটা সবগুলো রঙকে শুষে নিল, শুধু লাল আলোটাকে ফিরিয়ে দিল, প্রতিফলন করে দিল। এই ফিরিয়ে দেয়া লাল আলোটুকু আপনার চোখের মণির ভিতর দিয়ে চলে গেল চোখের পিছনে। সেখানে কিছু স্পেশাল কোষ আছে যারা আলো পড়লে বিদ্যুত তৈরি করে। লাল আলো গিয়ে ওদেরকে উত্তেজিত করল, তারা বিদ্যুত তৈরি করে মাথার পিছনে পাঠাল। আর আপনার আপেলাকারের লাল কিছু একটা দেখার অনুভূতি হল। বিঃদ্রঃ কালো কিন্তু কোন আলো না, কোন রঙের আলো না থাকলে কালো দেখা যায়। কালো জিনিস সব রঙকে শুষে নেয়। তাই কালো দেখায়।

                                                                   লাল কীভাবে দেখি
চোখের পিছনে যে জায়গায় আলো গিয়ে পড়ে, সেখানে একটা বিন্দু আছে যেখানে স্পেশাল কোষগুলো ঘনভাবে থাকে। জায়গাটার নাম ‘ফোভিয়া সেন্ট্রালিস’। যখন কোন বস্তুর আলো গিয়ে এখানে পড়ে তখন সেটা স্পষ্ট দেখা যায়। মানে বস্তুটা ফোকাস হয়।

 

                                                                         ফোভিয়া সেন্ট্রালিস
আপনি আপেলটা দেখছেন, আপেলের পাশে জগ-গ্লাস-অন্যান্য জিনিসও আপনি দেখছেন, কিন্তু আপেলটাকে বাকিগুলোর চেয়ে একটু বেশি দেখছেন। মানে আপেলের আলোগুলো গিয়ে জায়গামত পড়েছে, ঐ বিন্দুতে। ব্যাপারটা এমন—

 

                                                                      ফোকাস ননফোকাস
আর সামনে তাকালে আপনি পাশের অনেককিছুও দেখেন কিন্তু। ফোকাস ছাড়া বাকি যতদূর মাথা স্থির রেখে আপনার নজরে আসে, পুরোটাকে বলে দৃষ্টিক্ষেত্র বা Visual Field. এই ফিল্ডে যা থাকবে, সব আপনার নজরে আছে, ফিল্ডের বাইরে আমরা দেখি না।

                                                                                ভিজুয়াল ফিল্ড
সাধারণত কোন একটা জিনিস ফোকাস করলে আমরা আরেকটা ফোকাসে যাই যখন আমাদের ভিজুয়াল ফিল্ডে কোন কিছু আমাদের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে। যেমন ফিল্ডের মধ্যে কোনকিছু নড়ে উঠল [ত] বা উজ্জ্বল হয়ে উঠল [থ], তখন আমরা আগের ফোকাস চেঞ্জ করে ঐ আন্দোলিত বা উজ্জ্বল বস্তুকে ফোকাস করি। নিজে নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন।

উদ্দীপকের সমাধান ১:

রাস্তায় যে হাজারো পুরুষ ঘুরে বেড়ায়, তাদের প্রত্যেকের ইউনিক মনোজগতকে জানা এমনকি অনুমান করাও অসম্ভব। আলোচনার আগে আমি আপনাদের স্মরণ করার অনুরোধ করছি ‘সিম্বোলিজম’ অধ্যায়টা। কত কিছু আমাদের যৌন-উদ্দীপনার কেন্দ্র হতে পারে। প্রয়োজনে আরেকবার পড়ে নেয়া যেতে পারে। একটা মেয়ের শরীরের প্রতিটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আলাদাভাবে ও সামষ্টিকভাবে সিম্বলিক হতে পারে। আপনার কলিগ বা সহপাঠীদের মাঝে এমন কেউ আছে কি না যে আপনার হাতের সৌন্দর্য নিয়ে ফ্যান্টাসিতে আছে, তা আপনি আসলেই জানেন না। কেউ চুল নিয়ে, কেউ চোখ নিয়ে, বা কেউ পুরো আপনাকেই নিয়েই অন্ধকুঠূরিতে কোন পর্যায়ে আছে, তা জানার কোন উপায়ই নেই। তাই আপনি যদি যেকোন মানসিকতার পুরুষের কাছে উদ্দীপক না হতে চান তাহলে সর্বপ্রথম [ঢ] পুরুষের আকর্ষণের কেন্দ্রীয় তিন অংশ আপনাকে ঢেকে ফেলতে হবে, ‘বালিঘড়ি’ শেপকে ও waist-to-hip ratio-কে অস্পষ্ট করে দিতে হবে। এমন একটা পোষাক গায়ে চড়াতে হবে যাতে কোন উঁচুনিচু বুঝা না যায়। কুরআন আমাদের তা-ই জানাচ্ছে:
হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সূরা আল আহযাব: ৫৯)
বিশ্বাসী নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি কে নত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যা সাধারণতঃ প্রকাশ তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের মাথার কাপড় দ্বারা বক্ষস্থল আবৃত রাখে। এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগন, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা আন নূরঃ ৩১)
এখন আপনি কেমন আবরণ দ্বারা নিজেকে আবৃত করবেন। আচ্ছাদন কেমন হলে তা আপনাকে উদ্দীপকের ভূমিকা নেয়া থেকে সুরক্ষা দেবে। এখন আমরা যে আলোচনায় যাচ্ছি, এর সাথে ফিকহের কোন সম্পর্ক নেই। এই আলোচনা গ্রহণ বা বর্জন আপনার নিজের ইচ্ছে। ইসলাম আমাদের নিচের সিদ্ধান্তের অনেক কিছুরই অনুমোদন দেয়, নিষেধ করে না। আমরা আমাদের এতক্ষণের বৈজ্ঞানিক আলোচনার রেশ ধরে যে ফলাফলে পৌঁছবো সেগুলোর সবই অননুমোদিত তা কিন্তু নয়। আমরা আমাদের আলোচনা যেখানে আমাদের নিয়ে যায় সেখানে চলে যাব।
১. বোরকা অনুজ্জ্বল রঙের হবে। কালো বেস্ট। কারণ কালো রঙ আলোর পুরোটুকু শুষে নেয়। তাই কালো বস্তু থেকে দর্শকের চোখে আলো আসে না। নজর কাড়ে না। কালো না হলেও কালো জাতীয় (নেভী ব্লু, ধূসর)। মোটকথা ম্যাদামারা রঙের হওয়া চাই। উজ্জ্বল রঙ হলুদ-লাল-নীল-গোলাপী রঙ ভিজুয়াল ফিল্ডে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। এমন রঙের বোরকা ‘বোরকার উদ্দেশ্য’ পূরণ করে না। [ত]
২. প্রচলিত বোরকার কাপড় একটা আছে সিল্কের মত চকচকে। কালো হলেও চকচকে জিনিস আলো প্রতিফলন করে। তাই, ভিজুয়াল ফিল্ডে যেকোন চকচকে বস্তু নজর কাড়ে। এমন কাপড়ের বোরকায়ও উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। [ত]
৩. একটা কাপড়ের নাম বিএমডব্লিউ, হালে বেশ জনপ্রিয়। এই কাপড়ের সমস্যা হল বেশি আন্দোলিত হয়। ভিজুয়াল ফিল্ডে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি নড়াচড়ার দিকে দৃষ্টি চলে যায়। ফলে উদ্দীপকতা কমাতে বা নিজেকে দৃষ্টির অলক্ষ্যে রাখতে এজাতীয় বোরকাও অনুপযোগী। [থ]
৪. বোরকার উদ্দেশ্য হল, আপনার নিচের সুন্দর পোশাক, যেটা আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণে- সেটা ঢাকা। যাতে আপনি কারো দৃষ্টি আকর্ষক না হন। যেহেতু কে আপনাকে দেখে কি ভাবছে, কী ডোজ নিচ্ছে, কী কল্পনা করছে আপনি জানেন না। ডিজাইনওয়ালা আর নানান ফ্যাশনেবল বোরকা তো সেই সৌন্দর্য্যবর্ধকই হয়ে গেল। তাহলে শুধু শুধু ডবল পোশাক পরে কী লাভ হল? কেউ যদি আপনাকে বলে- বাহ এই বোরকায় তো তোমাকে দারুণ মানিয়েছে। বা, চমৎকার লাগছে তোমাকে। তাহলে সেই বোরকা পরা অনর্থক। কারণ আপনি তো সুন্দর লাগার জন্য বোরকা পরছেন না, বরং সৌন্দর্য্য ঢাকার জন্যই সেটা পরার কথা।
৫. অর্ধসচ্ছ শিফন/জর্জেট জাতীয় কাপড়ের বোরকা পরার চেয়ে না পরাই তো ভাল। শুধু শুধু গরমে দুই স্তর সিনথেটিক কাপড় পরার কী দরকার। পর্দার উদ্দেশ্যও পুরা হল না, আবার গরমে কষ্টও হল। আর মানুষের স্বভাব হল কৌতূহল। যা স্পষ্ট দেখা যায়, তার চেয়ে যা আবছা দেখা যায়, তার প্রতি কৌতূহল বেশি কাজ করে। ফলে অর্ধস্বচ্ছ বোরকা আপনাকে আরও বেশি নজর আহ্বানকারী করে তুলবে।
৬. বোরকার কোমরের কাছে ফিতা যদি বেঁধে নেন, তবে বোরকা পরার উদ্দেশ্য ব্যাহত হল। বোরকার উদ্দেশ্য ছিল আপনার দেহকাঠামোকে অস্পষ্ট করে দেয়া। ফিতা বেঁধে কোমরের মাপকে প্রকাশ করে সেই গড়নকে আপনি স্পষ্ট করে দিলেন।
৭. হাল আমলের বোরকার ফ্যাশন হল ঘের অনেক বেশি রাখে গাউনের মত। সেদিন এক ফেসবুক পেইজ যারা দাবি করে যে তারা শারঈ বোরকা বিক্রি করেন। দেখলাম লিখেছে, “ঘের অনেক বেশি…You will feel like a princess”। মানে হল, রাজকন্যারা যেমন গাউন পরে সেরকম। বেশ, নিজেকে নিজে রাজকন্যা মনে হলে তো সমস্যা নেই। কিন্তু রাস্তার লোকে রাজকন্যা মনে করে চেয়ে থাকলে তো সমস্যা। পর্দার উদ্দেশ্য পুরা হল না। আর অতিরিক্ত কাপড় থাকলে তা হাঁটার সময় আন্দোলিত হবে বেশি [থ], ফলে ফোকাস টানবে বেশি।
৮. আর একটা ফেব্রিক সম্পর্কে বলে আমাদের এই আলোচনা শেষ করব, যেটা এখন ব্যাপক জনপ্রিয়। লন কাপড় পরতে আরামদায়ক হলেও শরীরের সাথে লেপ্টে থাকে বেশি। ফলে বাইরে থেকে শরীরের অবয়ব স্পষ্ট ফুটে ওঠে। যদিও আপনার পোশাকটা ফিটিং না, বা স্বচ্ছ না। আপনি ভাবছেন সব তো ঢাকাই, আসলে কাপড় লেপ্টে থেকে সব অবয়ব বুঝিয়ে দিচ্ছে।
আবু ইয়াযীদ মুযানী রাহ. বলেন, হযরত ওমর রা. মহিলাদেরকে কাবাতী (মিসরে প্রস্ত্ততকৃত এক ধরনের সাদা কাপড়) পরতে নিষেধ করতেন। লোকেরা বলল, এই কাপড়ে তো ত্বক দেখা যায় না। তিনি বললেন, ত্বক দেখা না গেলেও দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুটে ওঠে।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৫২৮৮
তাহলে কেমন বোরকা পরলে উদ্দীপক হিসেবে আমার ভূমিকা মিনিমাম হবে?
১. নিকাবসহ কালো বা কালো জাতীয় রঙের
২. সুতি ধরনের কাপড় যা অতিরিক্ত দুলবে না, লেপ্টে থাকবে না। বরং কিছুটা ফুলে থাকবে, বডি শেপকে অস্পষ্ট করে দেবে। কাপড় সুতি হলে সিনথেটিক এসব কাপড়ের চেয়ে আরামও পাবেন বেশি। আরেকটা ব্যাপার আছে। সুতি কাপড় ইস্ত্রি নষ্ট হয়ে পরিপাটিভাব থাকে না, ফলে আপনার দিকে কেউ লক্ষ্যই করবে না, চোখ পড়লেও অনীহাভরে সরিয়ে নেবে। বোরকা পরার মূল উদ্দেশ্য সবচেয়ে সুন্দরভাবে পূরণ হবে।

রেফারেন্স

[1] চীনে ও তানজানিয়ায় ০.৬, ইন্ডিয়ান ও ককেশীয় আমেরিকানদের ০.৭ ও ক্যামেরুনে ০.৮ পাওয়া গেছে। Dixson, A.F. (2012) Primate Sexuality: Comparative Studies of the Prosimians, Monkeys, Apes and Human Beings (Second Edition). Oxford: Oxford University Press. এর বরাতে https://www.psychologytoday.com/us/blog/how-we-do-it/201507/waists-hips-and-the-sexy-hourglass-shape
[5] Harvard Mental Health Letter, How addiction hijacks the brain https://www.health.harvard.edu/newsletter_article/how-addiction-hijacks-the-brain
[6] The Brain on Drugs: From Reward to Addiction, Nora D.Volkow ও Marisela Morales, National Institute on Drug Abuse, National Institutes of Health, Bethesda, MD 20892, USA প্রকাশিত হয় জার্নাল Cell (Volume 162, Issue 4, 13 August 2015, Pages 712-725) https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0092867415009629
[7] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/20140088 https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC2918777/ (Curvaceous female bodies activate neural reward centers in men)
শেয়ার করুনঃ