সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি ও নাস্তিকদের মিথ্যাচার (প্রথম পর্ব)

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি ও নাস্তিকদের মিথ্যাচার (প্রথম পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

সত্যের একটা বৈশিষ্ট্য হল যে সত্য সবসময় উৎকৃষ্ট ও সঠিক বিষয়ের পক্ষেই থাকে , সত্য কখনোই কোন ভুল ও নিকৃষ্টের পক্ষ নেয় না। এইজন্যই মূলত যারা সমাজে নিকৃষ্ট কর্মকান্ডের প্রচার করতে যায় তখন তারা মূলত মিথ্যার আশ্ৰয়ই নেয়। ইতিহাস তারই সাক্ষী |

তাই স্বাভাবিকভাবেই সমকামী ও নাস্তিকরা তাদের হীন স্বাৰ্থ চরিতার্থ করার জন্য অনেক মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে মুক্তমনার প্রতিষ্ঠাতা নাস্তিক ব্লগার অভিজিত রায় তার সমকামিতা একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান বইয়ে বিজ্ঞান নিয়ে অনেক মিথ্যাচার করেছেন । এই বইয়ে তিনি সমকামিতা সম্পর্কিত পুরনো কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণার কথা উল্লেখ করেছেন যা কিনা পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা ভুল প্রমাণ করেছেন। আমি এখানে সমকামীদের প্রচারিত প্রধান কিছু ভ্রান্ত বৈজ্ঞানিক দাবির কথা তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ |

ভ্রান্ত দাবি-০১: “একজন মানুষ সমকামী হয়ে জন্মাতে পারে”

সমকামীরা তাদের হীন দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য কয়েকজন বিজ্ঞানীর ভুল রিসার্চের আশ্রয় নিয়েছিল এবং এখনো নিচ্ছে। যেমন নাস্তিকদের ব্লগ মুক্তমনার প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত রায় তার সমকামিতা একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান বইয়ে বিজ্ঞান নিয়ে উল্টা-পাল্টা ও ভুল কথা বলেছেন। জন্মগতভাবে সমকামী হবার সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে অভিজিত রায় বলেছেন–

” আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে Dean Hamer এর সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে ডিন হ্যামার তার গবেষণায় আমাদের ক্রোমোজোমের যে অংশটি (Xq28) সমকামিতা ত্বরান্বিত করে তা শনাক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন” । [১]

তিনি শুরুতেই মিথ্যা বলেছেন। কারণ Dean Hamer এর এই ভুল গবেষণা সাম্প্রতিক না । এটা প্রায় ২১ বছরের পুরনো গবেষণা উনি কি উনার বই কপি-পেস্ট করে লিখেছেন নাকি? সাম্প্রতিক গবেষণা বলে আসলে তিনি পাঠককে আকর্ষণই করতে চেয়েছেন।

কেউ জন্মগতভাবে সমকামী হতে পারে না:

জন্মগতভাবে সমকামী হওয়া যায়- এই দাবির পক্ষে যার গবেষণাকে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে পেশ করার চেষ্টা করা হয় তিনি হলেন Dr. Dean Hamer  |

১৯৯৩ সালে বিখ্যাত সায়েন্টিফিক ম্যাগাজিন’Science Dr. Dean Hamer এর সমকামীতা নিয়ে স্টাডির বিষয়ে এক আর্টিকেল  প্রকাশ করে । সে আর্টিকেলে বলা হয় যে সমকামীতা বৈশিষ্ট্যের জন্য হয়তো কোন জিন দায়ী হতে পারে। ব্যাস,  সমকামীরা তো খুশিতে পাগল হয়ে গেল এই স্টাডি পড়ে।আর সমকামীদের পক্ষের মিডিয়া মাধ্যমগুলো এটা প্রমোট করা শুরু করল।

প্রথমে শুরু করলো  National Public Radio, এরপর Newsweek আরো রঙচং মেখে ‘Gay Gene’’  শিরোনামে  লিখা  প্রকাশ করল,এরপর দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরো রংচং লাগিয়ে খবরটা ছড়িয়ে দিল । অসৎ মিডিয়ার মত খারাপ জিনিস কমই আছে | Dr. Dean Hamer সাহেবকে মিডিয়া’Gay gene এর জনক বানিয়ে ফেলেছিল এরা । আসলে Dr. Dean Hamer এর গবেষণাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অবশ্য পরে Dr. Dean Hamer এই বলে তার অবস্থান পরিস্কার করেছেন—–

” আমরা (গবেষণার) বংশবিবরণ থেকে যে simple Mendelian inheritence পাব বলে ভেবেছিলাম তা পাইনি। আসলে, আমরা একটাও সিঙ্গেল ফ্যামিলিতে হোমোসেক্সুয়ালিটি সুস্পষ্টভাবে কখনোও পাইনি যা কিনা মেন্ডেল তার peaplant এর গবেষণায় পেয়েছিলেন” | [২]

Dr. Dean Hamer এর গবেষণাকে অনেক বিজ্ঞানী ভুল প্রমাণ করেছেন।আমি কয়েকটা সফল রিসার্চের কথা বলছি—

১) মানবজাতি জেনেটিক্সের ফিল্ডে এক বিরাট বড় অর্জন করে যখন তারা”The Human Genome প্রজেক্ট কমপ্লিট করে|এই প্রজেক্ট শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালে এবং শেষ হয় ২০০৩ সালে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে মানুষের জেনেটিক কোডের সিকুয়েন্সগুলোকে ম্যাপিং করার উদ্দেশ্যে এটি তৈরী করা হয় | [৩]  কিন্তু এই প্রজেক্ট দিয়ে তথাকথিত “Gay gene কে আইডেন্টিফাই করা সম্ভব হয়নি।

২) X ও Y হল মানুষের সেক্স ক্রোমোসোম | X ক্রোমোসোম ১৫৩ মিলিয়ন base pairs এবং ১১৬৮টি জিন ধারণ করে I X ক্রোমোসোমের থেকে ছোট ক্রোমোসোম Y তে আছে ৫০ মিলিয়ন base pairs এবং ২৫১টি জিন | এই ক্রোমোসোমগুলোকে নিয়ে গবেষণা করেছে Baylor University,The Max Planck University The Sanger Institue, Washington University fift:RiffTRUCTE & 25 of TI-55 & 3 & WICW; foil.5 WBi Gay gene এর অস্তিত্ব X ক্রোমোসোমেও পায়নি, Y ক্রোমোসোমেও পায়নি। [৪]

৩) Gay gene এর স্রষ্টা বলা হয় যাকে সেই Dean Hamer ‘Gay gene’  এর কথা অস্বীকার করেছেন ।  Scientific American Magazine তাকে যখন জিজ্ঞেস করে যে সমকামীতা কি বায়োলজিতে solely rooted? তখন তিনি বলেছিলেন—

“Absolutely not.From twin studies, we already know that half or more of the variability in sexual orientation is not inherited.Our studies try to pinpoint the genetic factors … not negate the psychosocial factors.” [৫]

৪) Dr. George Rice নামের আরেকজন বিজ্ঞানী পরবতীতে ডিন হ্যামারের মত একই গবেষণা করেছিল।কিন্তু Dr. George এই গবেষণা থেকে কোন পজিটিভ ফলাফল লাভ করতে পারেননি। Dr. George Rice তার গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে বলেন—

” আমাদের গবেষণার তথ্য উপাত্ত এমন কোন জীনের উপস্থিতিকে সমর্থন করে না যা কিনা Xq28 পজিশন দ্বারা sexual orientation কে শক্তিশালীভাবে প্রভাবিত করতে পারে|” [৬]

৫) Dr. Neil Whitehead বায়োকেমেস্ট্রির পি এইচ ডি প্রাপ্ত একজন অধ্যাপক। উনি এই বিষয় নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন যা বিজ্ঞান মহলে সমাদৃত হয়েছে। উনি জন্মগতভাবে সমকামী হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন,

“সমকামিতা জন্মগত নয়, জিনেটিক দ্বারা নির্ধারিতও নয় এবং সমকামিতা অপরিবর্তনশীলও নয়। ”  [৭]

এছাড়া সমকামীরা Drs. J Michael Bailey, Richard C. Pillard এর পুরোনো Twin Studies রিসার্চকেও দাবি প্রমানে ব্যবহার করে । অথচ এই  স্টাডি উল্টো আরো প্রমাণ করে যে সমকামিতা জন্মগত নয়। আসলে শুধু জীন দ্বারা মানুষের যৌনতার ভূৎপত্তি নির্ধারত হয় না। কেউ জন্মগতভাবে Heterosexual ও না আবার কেউ জন্মগতভাবে Homosexualও না|বরং মানুষ যৌন আচরণ করতে শিখে পরিবেশ থেকে, বায়োলজিরও ভূমিকা আছে এইক্ষেত্রে |” [৭]

[পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশা আল্লাহ্‌ । তবে এই কথা সত্য যে সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন কিভাবে নির্ধারিত হয় তা নিয়ে এখনোবিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেননি। তারা মনে করেন যে জেনিটিক্যাল এবং এনভাইরনমেন্টাল ফ্যাক্টর উভয়ই এইক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে I Epigenetics এর দ্বারা এখন সমকামিতার ব্যাখ্যাটা আমার পছন্দের সময়ের অভাবে এটা নিয়ে আলোচনা করতে পারলাম না|এতটুকু বলা যায় যে,Epigenetics এ এনভাইরনমেন্টাল ফ্যাক্টরগুলোর কথা আসবে। আমি মনে করি কেউ জন্মগত সমকামী হলেও আগুমেন্টটা সমকামিতার পক্ষে যায় নাকারণ অনেকে ফিজিক্যাল সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার নিয়ে

জন্মাতে পারে ফিজিক্যাল সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার নিয়ে কারো জন্ম হতে পারলে সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডার নিয়েও অনেকের জন্ম হতে পারে ডিসঅর্ডারকে ডিসঅর্ডার হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়াটাই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে]



লিখেছেন-  Farhad Hossain

লেখক Faridpur Medical College এ অধ্যয়নরত

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

#stand_aggainst_Lgbt_propaganda
#মিথ্যায়_বসত

রেফারেন্স-

১) www.narth.org/docs/istheregene.html

২) Hamer and copeland page-104

৩) How it works, issue 49

৪) www.trueorigin.org/gaygene01.asp

৫) New Evidence of a gay gene by Anastasia Touefexis, Time, November 13, 1995, vol. 146, issue 20,p.95

95

৬) George Rice, et al., “Male Homosexuality: Absence of Linkage to Microsatellite Markers at Xq28,” Science, Vol. 284, p. 667.

৭) Neil and Briar Whitehead,My Genes Made me Do it!,page 9

শেয়ার করুনঃ
সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি ও নাস্তিকদের মিথ্যাচার (প্রথম পর্ব)

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি ও নাস্তিকদের মিথ্যাচার (দ্বিতীয় পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি-২:   সমকামীদের ব্রেন বিষমকামীদের ব্রেন থেকে আলাদা

অভিজিত রায় তার ‘সমকামিতা: একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান’  বইয়ে আরেকটি ভুল গবেষণার কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি Dr. Simon LeVay এর একটা গবেষণার কথা বলেছেন যা কিনা পরবতীতে বিজ্ঞানী মহল প্রত্যাখ্যান করেছে |  Dr. Simon LeVay তার এক রিসার্চে বলেছেন যে বিষমকামী পুরুষের হাইপোথ্যালামাসের Cluster cell INAH-3 এর সাথে সমকামীদের হাইপোথ্যালামাসের Cluster cell INAH-3 এর পার্থক্য আছে আর তাই সমকামিতা জন্মগতভাবে লাভ করা সম্ভব। [১]

অথচ তার গবেষণা ছিল দুর্বল। তিনি যে সমকামীদের নিয়ে গবেষণা করেছিলেন তারা আবার এইডসের কারণে মৃত্যুবরণ করেছিল। তাই তার গবেষণার সাবজেক্টগুলোর শুদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। Dr. A. Dean Byrd , LeVay এর গবেষণার সমালোচনা করে বলেন–

” প্রফেসর Breedlove তারা গবেষণার সারাংশে বলেছেন যে, ব্রেন স্থির অঙ্গ নয়। এটি পরিবর্তিত হয় এবং ব্যবহারের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ায়তার রিসার্চ অনুযায়ী এটা বিশেষত যেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঘটে। তাই যখন কেউ একটা বিশেষ কাজ বার বার করতে থাকে তখন নির্দিষ্ট একটা নিউরাল পথ শক্তিশালী হয়।যেহেতু ব্রেন একটা ফিজিক্যাল অঙ্গ তাই যখন এই নিউরাল পথগুলো শক্তিশালী হয় তখন এটি ব্রেনের রসায়নে প্রতিফলিত হয় । যে বার বার বাস্কেটবল খেলে তার মস্তিষ্ক এর সাথে রকেট সাইন্স নিয়ে পড়াশুনা করা ব্যক্তির মস্তিষ্কের পার্থক্য থাকবে। তেমনিভাবে, একজন সমকামী ব্যক্তির ব্যবহারও তার মস্তিষ্কের গঠন পরিবর্তন করে দেয়। তাই LeVay এর মত স্টাডি যদি গ্রহণযোগ্যও হয় তাহলেও দেখা যাবে যে এই স্টাডি যা বলছে ব্রেন সম্পর্কে, তা বিজ্ঞান আগে থেকেই জানে” । [২]

অর্থাৎ LeVay এর স্টাডি নতুন কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি। অবশ্য ২০০১ সালে LeVay তার গবেষণার ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেছেন–

” আমি যা পাই নি তা বলার প্রয়োজনবোধ করছি।আমি প্রমাণ করিনি যে, সমকামিতা জেনেটিক এবং আমি সমকামিতার জেনেটিক কোন কারণ বের করিনি । আমি প্রমাণ করিনি যে,  সমকামীরা জন্মগতভাবেই এইরকম যা মানুষ আমার কাজের ভুল ব্যাখ্যা করে বলে,  না আমি ব্রেনে কোন সমকামী কেন্দ্রে আবিষ্কার করেছি” । [৩]

অভিজিত রায়ের মত মানুষেরাই এভাবেই বিজ্ঞানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আসছে। কি আর করার সমকামী নাস্তিকদের মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোন উপায় তো নেই, সত্য যে তাদের পক্ষ নিবে না!

রেফারেন্সঃ

[১] Simon LeVay, The Sexual Brain (Cambridge, Mass.: The MITPress, 1993), p. xii.

[২] Dr. A. Dean Byrd and Stony Olsen, “Homosexuality: Innate and Immutable?” Regent University Law Review, Vol. 14, pp. 516-517. (Original footnotes omitted.)

[৩]  D. Nimmons, “Sex and the brain,” Discover (March 1994), 64-71.

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি -৩:  Animals Do It, So It’s Natural, Right?

সমকামীরা প্রায়ই এই দাবি করে যে “পশুরা যেহেতু সমকামী হতে পারে সেহেতু এটা ন্যাচারাল আর তাই মানুষের পক্ষেও সমকামিতা স্বাভাবিক!”

প্রথমত আমাদের এটা জানতে হবে যে, পশুদের মাঝে কোন সমকামিতার প্রবৃত্তি (Homosexual Instinct) নেই। Antonio Pardo, Professor of Bioethics at the University of Navarre, Spain  পশুদের সমকামী হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে বলেন

“সঠিকভাবে বলতে গেলে, পশুদের মাঝে সমকামিতার কোন অস্তিত্ব নেই। বংশবৃদ্ধি করার প্রবৃত্তি থেকে পশুরা সবসময় বিপরীত লিংগের প্রতি আকৃষ্ট হয় ।  তাই একটা পশু কখনোই সমকামী হতে পারে না” [১]

আসলে সমকামীদের এই দাবিটা খুবই হাস্যকর ও অযৌক্তিক ।  সমকামীদের এই দাবি করার আগে বোঝা উচিৎ ছিল যে Human Nature আর Animal Nature এক না। Animal Nature এর সাথে Human Nature এর তুলনা করে তারা প্রমাণ করল যে তারা বিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ । পশুদের মাঝে হোমোসেক্সুয়াল বিহেভিয়ার দেখে তারা ভেবেছে যে “মানুষ এই কাজ করলে কি সমস্যা?”

সমস্যা আছে ৷

প্রথমত,  তাদের এই তুলনা করাই ঠিক হয় নায় ।  আচ্ছা সমকামীদের জিজ্ঞেস করছি,  পশুদের মাঝে “filicide” ও “cannibalism” নামক বিহেভিয়ার দেখা যায় ।  flicide হয় যখন একজন পশু তার সন্তানকে খেয়ে ফেলে আর cannibalism হয় যখন কোন পশু তাদের নিজ প্রজাতির কোন সদস্যকে খেয়ে ফেলে । উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিড়ালদের মাঝে flicide বৈশিষ্ট্যটি দেখা যায় Sarah Hartwell বিষয়টি এইভাবে ব্যাখ্যা করেছেন—-

” বেশিরভাগ স্ত্রী বিড়াল তাদের বাচ্চাদের ক্ষতি না করার জন্য নিজেদেরকে “play mode” ও “hunt mode” এ নিয়ে যেতে পারে। পুরুষ বিড়ালে “hunt mode” বন্ধ করার প্রক্রিয়াটা অসম্পূর্ণ এবং যখন তারা খেলার মাধ্যমে উত্তেজিত হয়ে যায় তখন তাদের শিকার করার প্রবৃত্তিটা জেগে উঠে এবং তারা তাদের বাচ্চাদের মেরেও ফেলতে পারে” [২]

মূলত বিড়ালের ছানাদের আচরণের কারণে পুরুষ বিড়াল তাদেরকে শিকার ভেবে ভুল করে এবং এর ফলে পুরুষ বিড়ালের শিকার করার প্রবৃত্তি জেগে  উঠে ।

আর cannibalism এর বিষয়টি Iran Nature and Wildlife Magazine এইভাবে ব্যাখ্যা করেছে —

“Cannibal is an animal which feeds on others of its own species…….. Around 140 different species show cannibalistic tendencies under various conditions.” [ ৩]

পশুদের  বিভিন্ন  প্রজাতিকে এই দুইটা কাজ করতে করতে দেখা যায় তো এখন কি এই কাজ করা আমাদের জন্যও স্বাভাবিক হবে ? নরখাদকদের তাহলে মানুষ খাওয়ার বৈধতা দিয়ে দিন সমকামী + নাস্তিকরা হয়তো ভবিষৎ এ বলবে, ” জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার নিমিত্তে আমাদের বেশি বেশি মানুষ খাওয়া উচিৎকারণ প্রাণীরা এই কাজ করে !  ” Black Widow মাকড়সা যেমন শারীরিক সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে পুরুষ মাকড়সাকে খেয়ে ফেলে তেমনি সমকামী নাস্তিকরাও হয়তো নিজেদের শয্যাসংগীকেও খাওয়ার দাবি জানাবে !

এইসব দাবি যেমন হাস্যকর লাগছে সমকামিতা বৈধ করার দাবিটিও এইরকম ।  আর কে নাকি সমকামিতাকে বৈধতা দেয়ার পার্থনোজেনেসিসকে টেনে এনেছে ।  সে পার্থনোজেনেসিসের কথা টেনে এনে যে কত বড় বোকামি করেছে তা নিশ্চয় এখন বুঝতে পেরেছেন । সমকামী + নাস্তিক ভায়াদের বুঝা উচিৎ Human Sex ও  Animal Sex  এক জিনিস না । Ethologist Cesar Ades, Human Sex ও  Animal Sex   এর পার্থক্য গুলো বোঝাতে গিয়ে বলেছেন –

“Human beings have sex one way, while animals have it another. Human sex is a question of preference where one chooses the most attractive person to have pleasure. This is not true with animals. For them, it is a question of mating and reproduction. There is no physical or psychological pleasure…… The smell is decisive : when a female is n heat, she emits a scent, known as pheromone. This scent attracts the attention of the male, and makes him want to mate. This is sexual intercourse between animals. It is the law of nature. “[৩]

“মানুষ যৌন সঙ্গম করে একভাবে আর পশুরা করে আরেকভাবে মানুষের সঙ্গম হয় পছন্দের ভিত্তিতে যেখানে একজন সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিকে পছন্দ করে সঙ্গম করার জন্য। এটা পশুদের ক্ষেত্রে সত্য নয়। তাদের জন্য সঙ্গম করার লক্ষ্য হল বংশবৃদ্ধি করা। শারীরিক বা মানসিক সুখ অর্জন করা তাদের সঙ্গমের লক্ষ্য নয়। ” [৪]

Cesar Ades এর দারুণ ব্যাখ্যার পর আর এই বিষয়ে আর কিছু বলার প্রয়োজনবোধ করছি না ।

এখন আসি পশুদের Homosexual behaviour এর বিষয়ে । আগেই বলেছি যে পশুদের সমকামিতার প্রবৃত্তি নেই। পশুদের মাঝে Homosexual behaviour দেখা যায় সেটা “filicide” ও “cannibalism এর মতই এবনরমাল। কারণ পশুরা অনেক সময় যৌন সঙ্গী নির্ধারণ করতে গিয়ে ভুল করে।

কারণ পশুরা আমাদের মত বুদ্ধিমান প্রাণী না এরা যৌন সঙ্গী নির্ধারণ করতে স্বাদ, গন্ধ স্পর্শ ও শব্দ ব্যবহার করে আমাদের মত বুদ্ধি ব্যবহার করে না । উদাহরণ হিসেবে কুকুরের কথা বলা যায় । কোন male dog যদি কোন estrus female dog এর সাথে সঙ্গম করে আসে তাহলে সে male dog অন্য  male  dog কে আকর্ষণ করে , কারণ estrus female dog  এর সাথে সঙ্গম করার ফলে male dog , estrus female dog এর scent  বহন করে যা অন্যান্য male dog দের বিভ্রান্ত করে । কুকুর নিজেরা কিন্তু সমকামী না, তাদের যৌন সংগী নির্ধারণ করার দুর্বলতার কারণেই তারা একই লিংগের কুকুরের দ্বারা আকৃষ্ট হয় যা এবনরমাল বিহেভিয়ার হিসেবেই গণ্য হয়।

কুকুরের ঘটনাটা এইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে …

“Not surprisingly, the smell of a female dog in heat can instigate a frenzy of mounting behaviors. Even other females who are not in heat will mount those who are Males will mount males who have just been with estrus females if they still bear their scent…. And males who catch wind of the estrus odor may mount the first thing (or unlucky person) they come into contact with.” [৫]

তাই পশুদের এইরকম আচরণ দেখে পশুকে সমকামী বলে ভারডিক্ট দেয়া হল চরম পর্যায়ের বোকামি৷

আরো ব্যাখ্যা দিতে পারি । কিন্তু যা দিয়েছি ,তাই যথেষ্ট মনে হয়েছে । আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন । না  বুঝতে পারলে কোটেশনগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

সবশেষে সমকামী ও নাস্তিকদের একটা কথা বলব —

“Irrational Animal Behavior is No Blueprint For Rational Man.”

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

#stand_aggainst_Lgbt_propaganda#মিথ্যায়_বসত

প্রথম পর্ব পড়ুন এখানে – http://lostmodesty.blogspot.com/2016/09/blog-post_29.html

লিখেছেন-  Farhad Hossain

লেখক Faridpur Medical College এ অধ্যয়নরত

তথ্যসূত্রঃ

[1]Sarah Hartwell, Cats that kill kittens

[2]cannibalism in animals (Our emphasis)

[3]]”Cachorro Gay?”

[4]Ibid. (Our emphasis.) |5|Frans B. M. de Waal, “Bonobo Sex and Society,” Scientific American, Mar. 1995, pp. 82-88

[6]Antonio Pardo, “Aspectos mZdicos de la homosexualidad,”Nuestro Tiempo, Jul.-Aug. 1995,pp. 82-89

শেয়ার করুনঃ
“পাঠক, সাবধান!  ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!”

“পাঠক, সাবধান! ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!”

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

“পাঠক, সাবধান!
ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!”
.
অপ্রত্যাশিতভাবে অনির্ধারিত কালের জন্য ছুটি পাওয়া গেছে। নানা কারনে নজরদারী নেই, জবাবদিহিতা নেই। চিন্তাহীন এবং আনন্দময় একটা সময়। আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগের কথা। সকাল ন’টার মতো বাজছে। রোদ মাথায় নিয়ে হাকডাক করতে করতে ওয়ার্কাররা বাসার সামনের আন্ডার-কন্সট্রাকশান বিল্ডিং-এর ছাদ ঢালাই –এর কাজ করছে। নাস্তা শেষে এক তলার সামনের বারান্দাতে গল্পের বই নিয়ে বসলেও পুরোটা মনোযোগ বইয়ের দিকে নেই। পড়া ফেলে মাঝে মাঝেই এদিক ওদিক তাকাচ্ছি। পাহাড়ী এলাকায় বাসা। কিংবা বলা যায় পাহাড় কেটে বানানো আবাসিক এলাকা। বারান্দার ডান দিক ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের খন্ডিত ছিটেফোঁটা।
.
বিক্ষিপ্ত ভাবে এদিক ওদিক তাকাবার সময় খেয়াল হল বারান্দার পাশে পাহাড়ের খন্ডিত ছিটেফোটার অংশে দাড়ানো কেউ একজন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বই থেকে পুরোপুরি মাথা না উঠিয়ে আড়চোখে তাকালাম। সমবয়েসী একটা ছেলে। জীর্ন-মলিন পোশাক। সম্ভবত পাতা কুড়োতে এই দিকে আসা। মনে হল আমার চাইতে হাতে ধরা বইয়ের প্রতিই দর্শনার্থীর মনোযোগ বেশি। আড়চোখে ছেলেটাকে বার দুয়েক দেখে নিয়ে কায়দা করে বইটাকে ঘুরিয়ে ধরলাম যাতে ছেলেটা পুরো প্রচ্ছদটা দেখতে পায়। মনে মনে এক গাল হেসে নিলাম। স্বাভাবিক। কেনার সময়ই বইটার প্রচ্ছদে চোখ আটকে গিয়েছিল। বইটার গল্প নিয়ে আমি সন্দিহান ছিলাম। তবুও বলা যায় প্রচ্ছদের আকর্ষনেই অন্যান্য বইগুলোকে ফেলে এ বইটাকে বেছে নেওয়া। মনে মনে বারকয়েক নিজের পিঠ চাপড়ে দিলাম। কাজ ফেলে সমবয়েসী একটা ছেলে আমার বইয়ের প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে থাকা নিঃসন্দেহে আমার সিদ্ধান্তের যথার্থতার অকাট্য প্রমান।
.
বইটা ছিল সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় কিশোর হরর সিরিযের। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে এক্স-ফাইলস, গুসবাম্পস, রসওয়েল সহ হরর/থ্রিলার/সায়েন্স ফিকশান জাতীয় বিভিন ওয়েস্টার্ন টিভি সিরিয ও সিনেমার জনপ্রিয়তার সময়ে শুরু হয়েছিল “কিশোর হরর” সিরিযের। সেবা প্রকাশনীর নিয়মিত পাঠকদের কাছে, বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া “তিন গোয়েন্দা” পাঠকদের কাছে খুব দ্রুতই জনপ্রিয় ওঠে কিশোর হরর সিরিয। হরর সিরিযের জনপ্রিয়তার প্রভাবে কিছুদিন তিন গোয়েন্দা সিরিয থেকেও “কিশোর চিলার” নামে কিছু বই প্রকাশ করা হয়। আমার হাতে ধরা বইটার নাম ছিল বৃক্ষমানব। প্রচ্ছদে ছিল সবুজ রঙের বিকৃত বিকট এক মুখের ছবি। ৯৭ এ প্রকাশিত “বৃক্ষমানব” ছিল সেবা-র কিশোর হরর সিরিযের প্রথম দিকের বই এবং আমাদের (আমার ও আপুর জয়েন্ট ভেনচার) কেনা কিশোর হরর সিরিযের প্রথম বই। লেখকের নাম, টিপু কিবরিয়া।
.
.
২.
সেবার কিশোর হরর সিরিয আর সিরিযের লেখকের নাম নানা কারন প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। বই পড়ার নেশা দীর্ঘদিন ভোগালেও ইংরেজি গল্প আর টিভি-শোর মধ্যম মানের নকল পড়ার চাইতে সোর্স ম্যাটেরিয়াল পড়াটাই বেশি লজিকাল মনে হত। এছাড়া স্কুলের দিনগুলোতে সম্পূর্ণ অবসর সময়টা বইয়ের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সময়ের সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে বইয়ের জন্য বরাদ্দটা কমতে থাকে। টিপু কিবরিয়ার বিস্মৃতপ্রায় নামটা মনে করিয়ে দেয় ২০১৪ এর জুন থেকে অগাস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত বেশ কিছু নিউয রিপোর্ট। প্রায় দু’মাস ধরে প্রকাশিত এসব রিপোর্টের সারসংক্ষেপ পাঠকের জন্য এখানে তুলে ধরছি।
.
আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির ভয়ঙ্কর একটি চক্র বাংলাদেশে বসেই দীর্ঘ নয় বছর পথশিশুদের ব্যবহার করে পর্নো ভিডিও তৈরি করে আসছিল। আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২০১৪ এর ১০ জুন ইন্টারপোলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশু পর্ণোগ্রাফি তৈরির দায়ে সিআইডি গ্রেফতার করে টি আই এম ফখরুজ্জামান ও তার দুই সহযোগীকে। সিআইডির পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানান, এ চক্র আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ছেলেশিশুদের দিয়ে পর্নো ছবি তৈরি করতো। এ চক্রের মূল হোতা টি আই এম ফখরুজ্জামান টিপু কিবরিয়া নামে অধিক পরিচিত। তার বাইরের পরিচয় তিনি দেশের একটি খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থার কিশোর থ্রিলার ও হরর সিরিজের লেখক। এছাড়া তার বেশ কিছু শিশুতোষ গল্প উপন্যাসের বইও রয়েছে। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে এখন তার অন্ধকার জগতের পরিচয়ই সামনে চলে এসেছে।
.
১৯৯১ সাল থেকে ১০ বছর টিপু সেবা প্রকাশনীর কিশোর পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে ফ্রি-ল্যান্স আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। গড়ে তোলেন একটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটিও। রাজধানীর মুগদায় তার একটি স্টুডিও রয়েছে। এ সময় তার তোলা ছেলে পথশিশুদের স্থির ছবি ইন্টারনেটে বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটারম ফ্লিকারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করতেন। এই ছবি দেখে সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির পর্নো ছবির ব্যবসায়ীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নগ্ন ছবি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে টাকারও প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রস্তাবে রাজি হয় টিপু। ফুঁসলিয়ে ও টাকার বিনিময়ে পথশিশুদের সংগ্রহ করে নগ্ন ছবি তুলে পাঠাতে শুরু করেন।
.
কিছু ছবি পাঠানোর পরই পর্নো ছবি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়া হয় তাকে। শুরু হয় এই পর্নো ছবি (ভিডিও) তৈরির কাজ। সময়টা ২০০৫ সাল। নুরুল আমিন ওরফে নুরু মিয়া, নুরুল ইসলাম, সাহারুলসহ কয়েকজনের মাধ্যমে বস্তিসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ছিন্নমূল ছেলে শিশুদের সংগ্রহ করেন টিপু। মুগদার মানিকনগরের ওয়াসা রোডের ৫৭/এল/২ নম্বর বাড়ির নিচতলায় দুই রুমের বাসা ভাড়া নিয়ে জমে ওঠে ফ্রি-ল্যান্স ফটোগ্রাফির আড়ালে পথশিশুদের দিয়ে পর্নো ছবি নির্মাণ ও ইন্টারনেটে বিদেশে পাঠানোর রমরমা ব্যবসা। নয় বছরে কমপক্ষে ৫০০ শিশুর পর্ণোগ্রাফিক ভিডিও তৈরি করে টিপু ও তার সহযোগীরা। ৮-১৩ বছরের এসব পথশিশুদের ৩০০-৪০০ টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এ কাজে ব্যবহার করা হতো।
.
টিপু এবং তার ওই সহযোগীরা শিশুদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হতেন। আর বেশির ভাগই এসব ভিডিও করতেন টিপু নিজেই। একপর্যায়ে এই জঘন্য অপরাধ টিপুর নেশা ও পেশায় পরিণত হয়ে যায়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে টিপু বলেছেন, তিনি পর্নো ছবি তৈরি করে জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের তিন ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। এঁদের একেকজনের কাছ থেকে প্রতি মাসে তিনি ৫০ হাজার করে দেড় লাখ টাকা পেতেন। তবে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি জানিয়েছে, টিপু কিবরিয়া তাঁর তৈরি পর্নো ছবি ১৩টি দেশের ১৩ জন নাগরিকের কাছে পাঠাতেন। এসব দেশের মধ্যে আছে কানাডা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, মধ্য ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। তদন্তে আরো জানা গেছে বেশির ভাগ ছবি ও ভিডিও পাঠানো হতো জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে। এরপর সেখানকার ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব পর্নো ছবি বিক্রি করতো। প্রতিটি সিডির জন্য ৩শ’ থেকে ৫শ’ ডলার পেতেন টিপু। এই টাকা অনলাইন ব্যাংকিং ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে টিপুর কাছে পাঠানো হতো।
.
টিপুর মাধ্যমে শিশু পর্নো ছবি বিক্রির দুই হোতা বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে জার্মানির এক পর্নো ছবি বিক্রেতা বাংলাদেশে এসেছিলেন। আর ২০১২ সালে আসেন সুইজারল্যান্ডের আরেক পর্নো বিক্রেতা। তারা ওঠেন ঢাকার আবাসিক হোটেলে। সে সময় টিপু তাদের কাছে ছেলে শিশু পাঠান। তারা ওই শিশুদের নিয়ে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হন। এজন্য টিপু এবং তার সহযোগীরা পেয়েছেন ৮ হাজার ডলার।

.

ইন্টারপোলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ ও ১১ জুন খিলগাঁও, মুগদা এবং গোড়ানে অভিযান চালিয়ে টিপু কিবরিয়া এবং তার তিন সহযোগী নুরুল আমিন, নুরুল ইসলাম ও সাহারুলকে গ্রেফতার করে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম টিম। স্টুডিওতে আপত্তিকর অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ১৩ বছরের এক শিশুর সাথে টিপুর সহযোগী নুরুল ইসলানকে। টিপুর খিলগাঁওয়ের তারাবাগের ১৫১/২/৪২ নম্বর বাড়ির বাসা ও স্টুডিও থেকে শতাধিক পর্নো সিডি, আপত্তিকর শতাধিক স্থির ছবি, ৭০টি লুব্রিকেটিং জেল, ৪৮ পিস আন্ডারওয়ার, স্টিল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক, সিপিইউ, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
.
http://bit.ly/2atUZJi
http://bit.ly/2aQzPe9
http://bit.ly/2atZg5N
http://bit.ly/2aPjZjN
http://bit.ly/2aPjTsf
http://bit.ly/2aPkiuM
http://bit.ly/2auZpmn
http://bit.ly/2atZFVN
.
টিপু কিবরিয়ার ফ্লিকার লিঙ্ক – http://bit.ly/2b1ZXiu
টিপু কিবরিয়ার ব্লগ (সামওয়্যার ইন ব্লগ) লিঙ্ক – http://bit.ly/2aHYxuv
.
উপরের তথ্যগুলো ভয়ঙ্কর। তবে বাস্তব অবস্থা এর চেয়ে লক্ষগুন বেশি ভয়ঙ্কর। টিপু কিবরিয়ারা একটা বিশাল নেটওয়ার্কের ছোট একটা অংশ মাত্র। বিশ্বব্যাপী চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি ও পেডোফাইল নেটওয়ার্কের ব্যাপ্তি, ক্ষমতা ও অবিশ্বাস্য অসুস্থ অমানুষিক নৃশংসতার প্রকৃত চিত্র এতোটাই ভয়াবহ যে প্রথম প্রথম এটা বিশ্বাস করাটা একজন ব্যাক্তির জন্য কঠিন হয়ে যায়। আর একবার এ অসুস্থতা ও বিকৃতির বাস্তবতা, মাত্রা, প্রসার, ও নাগাল সম্পর্কে একবার জানার পর এ ভয়াবহতাকে মাথা থেকে দূর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের চারপাশের বিকৃত অসুস্থ পৃথিবীটার এ এমন এক বাস্তবতা যা সম্পর্কে জানাটাই একজন মানুষের মনকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এ এমন এক অন্ধকার জগত যাতে মূহুর্তের জন্য উকি দেওয়া একজন মানুষকে আমৃত্যু তাড়া করে বেড়াতে পারে।
.
টিপু কিবরিয়ার লেখা কিশোর হরর সিরিযের বইগুলোর ব্যাক কাভারে সবসময় দুটা লাইন দেয়া থাকতো – “পাঠক, সাবধান! ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!” এ লাইনদুটো কিশোর হরর সিরিযের ট্যাগলাইনের মতো ছিল। সেবার বইগুলোর পাতায় উঠে আসা অন্ধকারের কল্পিত গল্পগুলোর জন্য লাইনদুটোকে অতিশয়োক্তি মনে হলেও, যে অন্ধকারে বাস্তবর জগতের চিত্র তুলে ধরতে যাচ্ছি তার জন্য এ লাইনদুটোকে কোনক্রমেই অত্যুক্তি বলা যায় না। তাই টিপু কিবরিয়াকে দিয়ে যে গল্পের শুরু সে গল্পের গভীরে ঢোকার আগে টিপুর ভাষাতেই সতর্ক করছি–
.
“পাঠক, সাবধান!
ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!”
.
.
৩.
টিপু কিবরিয়াকে যদি ম্যানুফ্যাকচারার হিসেবে চিন্তা করেন তবে তার বানানো শিশু পর্ণোগ্রাফির মূল ডিস্ট্রিবিউটার এবং ব্যবহারকারীরা হল পশ্চিমা বিশেষ করে ইউরোপিয়ানরা। শুধুমাত্র চোখের ক্ষুধা মেটানোয় তৃপ্ত না হয়ে টিপুর এ ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের মধ্যে কেউ কেউ বাংলাদেশে ঘুরে গেছে। কিছু ডলারের বিনিময়ে টিপু কিবরিয়া তার ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের জন্য তৃপ্তির ব্যবস্থা করেছে। দুঃখজনক সত্য হল, পেডোফিলিয়া নেটওয়ার্ক ও চাইল্ড পর্ণোগ্রাফির বিশ্বব্যাপী ধারা এটাই। ঠিক যেভাবে নাইকি-র মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো কম খরচে তাদের পোশাকের চাহিদা মেটানোর জন্য ম্যানুফাকচারিং এর কাজটা “তৃতীয় বিশ্বের” দেশগুলোর কাছে আউটসোর্স করে, ঠিক তেমনিভাবে পশ্চিমারা বিকৃতকামীরা শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি এবং শিশুকামের জন্য শিশু সংগ্রহের কাজটা আউটসোর্স করে। টিপু কিবরিয়ার মতো এরকম এ ইন্ডাস্ট্রির আরো অনেক ম্যানুফ্যাকচারার ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। তিনটি উদাহরন তুলে ধরছি-
.
.
রিচার্ড হাকল – ১৯৮৬ তে ব্রিটেনে জন্মানো হাকল তার “নেশা ও পেশার” বাস্তবায়নের জন্য বেছে নেয় দক্ষিন পূর্ব এশিয়াকে। লাওস, ক্যাম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইন্ডিয়াতে পদচারনা থাকলেও হাকল তার মূল বেইস হিসেবে বেছে নেয় মালয়শিয়াকে। কুয়ালামপুরের আশেপাশে বিভিন্ন দারিদ্র দারিদ্রকবলিত অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর মাঝে সক্রিয় খ্রিষ্টান মিশনারীদের সাথে সম্পর্কের কারনে সহজেই হাকল মালয়শিয়াতে নিজের জন্য জায়গা করে নেয়। কখনো ফ্রি-ল্যান্সিং ফটোগ্রাফার, কখনো ডকুমেন্টারি পরিচালক, কখনো ইংরেজী শিক্ষক, আর কখনো নিছক খ্রিষ্টান মিশনারী হিসেবে মালয়শিয়া সহ দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের কাছাকাছি পৌছুতে সক্ষম হয় হাকল।
.
২০০৬ থেকে শুরু করে প্রায় ৮ বছরের বেশি সময় ধরে দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দরিদ্র শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন চালায় হাকল। তার নির্যাতনের শিকার হয় ৬ মাস থেকে ১৩ বছর বয়সী দুইশ’র বেশি শিশু। গ্রেফতারের সময় তার ল্যাপটপে পাওয়া যায় বিশ হাজারের বেশি পর্ণোগ্রাফিক ছবি। শিশু ধর্ষনের ভিডি এবং ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিক্রি করতো হাকল। ছবি ও ভিডিওর সাথে যোগ করতো বিভিন্ন মন্তব্য, ক্যাপশান। এরকম একটি ওয়েবপোষ্টে হাকল লেখে –
“পশ্চিমা মধ্যবিত্ত ঘরের শিশুদের চাইতে দরিদ্রদের শিশুদের পটানো অনেক, অনেক বেশি সহজ।“
.
তিন বছর বয়েসী একটি মেয়ে শিশুকে ধর্ষনরত অবস্থা ছবির নিচে গর্বিত হাকলের মন্তব্য ছিল – “আমি টেক্কা পেয়ে গেছি! আমার কাছে এখন একটা ৩ বছরের বাচ্চা আছে যে কুকুরের মতো আমার আনুগত্য করে। আর এ নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো কেউ এখানে নেই!”
.
অন্যান্য শিশুকামীদের জন্য পরামর্শ এবং বিভিন্ন গাইডলাইন সম্বলিত “Paedophiles And Poverty: Child Lover Guide”” নামে একটি বইও লিখেছিল রিচার্ড হাকল। হাকলের স্বপ্ন ছিল দক্ষিন এশীয় গরীব কোন মেয়েকে বিয়ে করে একটি অনাথ আশ্রম খোলা যাতে করে নিয়মিত নতুন দরিদ্র শিশুদের সাপ্লাই পাওয়া যায় কোন ঝামেলা ছাড়াই। ২০১৪ সালে রিচার্ড হাকলকে গ্রেফতার করা হয়।
.
http://bit.ly/2ahsaVd
http://bit.ly/2azfNjo
http://bit.ly/2aMBJeb
http://bit.ly/2auZWEM
http://bit.ly/2aAOeXx
.
.
ফ্রেডি পিটস – হাকলের জন্মের আগেই হাকলের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেছিল ফ্রেডি পিটস। সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ১৯৯১ পর্যন্ত প্রায় ১৭ বছর, গোয়াতে গুরুকুল নামে একটি অনাথ আশ্রম পরিচালনা করে ফ্রেডি। হাকলের মতো ফ্রেডিও ছিল ক্যাথলিক চার্চের সাথে যুক্ত। এলাকায় মানুষ তাকে চিনতো লায়ন ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, নির্বিবাদী সমাজসেবক ‘ফাদার ফ্রেডি’ হিসেবে। টিপু কিবরিয়া এবং রিচার্ড হাকলের মতোই ফাদার ফ্রেডির আয়ের উৎস ছিল পেডোফিলিয়া এবং চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি। তার সাথে সম্পর্ক ছিল ব্রিটেন, হল্যান্ড, অ্যামেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের শিশুকামী সংগঠনের। ফাদার ফ্রেডি তার আশ্রমের শিশুদের ইউরোপিয়ান টুরিস্ট, বিশেষ করে সমকামী ইউরোপিয়ান পুরুষদের কাছে ভাড়া দিতেন। শিশুদের ধর্ষনের বিভিন্ন অবস্থার ছবি তুলে ইউরোপীয়ান ক্রেতাদের কাছে বিক্রিও করতো ফ্রেডি। নিজেও অংশগ্রহন করতো ধর্ষনে। বিশেষ “ক্লায়েন্টদের” মনমতো শিশু সংগ্রহ করে তাদের ইউরোপে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হতো ফ্রেডির “গুরুকুল” থেকে। এভাবে প্রায় দুই দশক ধরে ফাদার ফ্রেডি গোয়াতে গড়ে তোলে এক বিশাল ইন্ডাস্ট্রি।
.
ফ্রেডির এসব কার্যকলাপের সাথে বিভিন্ন বিদেশী ব্যাক্তি এবং আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত এমন প্রমান থাকা সত্ত্বেও গোয়ার রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র সরকার সর্বাত্বক চেষ্টা করে এ বিষয়গুলো চাপা দেয়ার। এমনকি প্রথম পর্যায়ে চেষ্টা করা হয়েছিল দুর্বল মামলা দিয়ে ফ্রেডিকে খালাস দেয়ার। খোদ রাজ্যের এটর্নী জেনারেল এবং ট্রায়াল জাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে ফ্রেডির বিরুদ্ধে পাওয়া প্রমান ও নথিপত্র ধ্বংস করার চেষ্টার।
.
উচু মহলের এসব কূটকৌশলের সামনে রুখে দাড়ায় কিছু শিশু অধিকার সংস্থার এবং কর্মী। তাদের একজন শিলা বারসি। রাজ্য সরকার, মন্ত্রী, বিচারবিভাগ এবং মিডিয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে ফ্রেডি পিটসের মামলার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন শিলা। গ্রেফতারকালীন রেইডে ফাদার ফ্রেডির ফ্ল্যাটে পাওয়া যায় ড্রাগস, পেইন কিলার, এবং সিরিঞ্জের এক বিশাল কালেকশান। ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় ২৩০৫ টি পর্ণোগ্রাফিক ছবি। মামলার কারনে শিলা বাধ্য প্রতিটি ছবি খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে। ফাদার ফ্রেডির ফ্ল্যাটে পাওয়া ২৩০৫ টি ছবিতে যে অন্ধকার অমানুষিক পৈশাচিকতার জগতকে তিনি দেখেছিলেন তার ভয়াবহ স্মৃতি আমৃত্যু তাকে তাড়া করে বেড়াবে বলেই শিলার বিশ্বাস।
.
ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শিলা বলেন –
“সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছবিটি ছিলে আড়াই বছর বয়েসী একটি মেয়ের। মেয়েটিকে ছোট ছোট হাত আর পা গুলো ধরে তাকে চ্যাংদোলা করে অনেকটা হ্যামকের মতো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল…একটা বিশালদেহী লোক…লোকটাকে…লোকটার শরীরের আংশিক দেখা যাচ্ছিল…বাচ্চাটাকে ধর্ষন করছিল। বাচ্চাটার কুঁচকানো চেহারায় ফুটে ছিল প্রচন্ড ব্যাথা আর শকের ছাপ। ছবি দেখেও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল বাচ্চাটা সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করছিল। “
.
ছবিগুলো দেখার পর শিলা সিদ্ধান্ত নেন যেকোন মূল্যে ফ্রেডির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার। ১৯৯২ সালে ফ্রেডি পিটসের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়, এবং ৯৬ এর মার্চে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাভগ্রত অবস্থায় ২০০- সালে ফ্রেডি পিটস মারা যায়।
.
http://bit.ly/2aQxJuW
http://ind.pn/2atVuD3
http://bit.ly/2atZDgG
http://bit.ly/2aN0QxZ
.
.
পিটার স্কালি – পিটার স্কালির গল্পের মতো এতো বিকৃত, নৃশংস, এতোটা বিশুদ্ধ পৈশাচিকতার কাহিনী খুব সম্ভবত আমাদের এ বিকৃতির যুগেও খুব বেশি খুজে পাওয়া যাবে না। স্কালি অস্ট্রেলিয়ান। নিজ দেশে ব্যাবসায়িক ফ্রডের পর নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে চলে আসে ফিলিপাইনে। কিছুদিন রিয়েল এস্টেট ব্যবসার চেষ্টার পর মনোযোগ দেয় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি বানানোয়। বেইস হিসেবে বেছে নেয় দারিদ্র কবলিত মিন্দানাওকে। গড়ে তোলে এক চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি সাম্রাজ্য।
.
টিপু কিবরিয়া, হাকল আর ফাদার ফ্রেডির মতো স্কালিও নিজেই ছিল, অভিনেতা, স্ক্রিপ্ট রাইটার ও পরিচালক। তবে বাকিরা শুধুমাত্র শিশুকামের গন্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, স্কালির বিকৃতিকে নিজে যায় আরেকটি পর্যায়ে। সে শিশুকামের সাথে মিশ্রণ ঘটায় টর্চারের। স্ক্লাইরর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভিডিওতে ধর্ষনের পাশাপাশি মারাত্বক পর্যায়ের টর্চার করা হয়, ১৮ মাস বয়েসী একটি মেয়েশিশুকে। ১২ ও ৯ বছরের দুটি মেয়েকে বাধ্য করা হয় ধর্ষন ও নির্যাতনে অংশগ্রহন করতে। যখন ভিডিও বন্ধ থাকতো তখন বন্দী এ মেয়ে দুটিকে স্কালি তার বাসায় বিবস্ত্র অবস্থায় কুকুরের চেইন পড়িয়ে রাখতো এবং তাদের বাধ্য করতো বাসার আঙ্গিনাতে নিজেদের কবর খুড়তে। পরবর্তীতে এদের একজনকে স্কালি হত্যা করে, এবং নিজের রান্নাঘরের টাইলসের নিচে মেয়েটির লাশ লুকিয়ে রাখে। মেয়েটিকে হত্যা করার ভিডিও স্কালি ধারন করে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভিডিওটি বিক্রি করা হয়।
.
স্ক্লালির ভিডিওগুলো দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপিয়ান পেডোফাইল এবং চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি নেটওয়ার্কে। রাতারাতি স্কালি এবং তার সাইট পরিণত হয় “সেলেব্রিটি কাল্ট-হিরোতে”। শুরুতে তার ভিডিওগুলোর জন্য Pay-Per View Streaming অফার করলেও, চাহিদা ওবং জনপ্রিয়তা বাড়ার ফলে এক পর্যায়ে স্কালি লাইভ স্ট্রিমিং করা শুরু করে। ২০১৫ এর ফেব্রুয়াত্রিতে স্ক্লালি ও তার সহযোগী দুই ফিলিপিনী তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী অস্ট্রেলিয়ান ও ফিলিপিনো পুলিশের ধারনা বিভিন্ন সময়ে পিটার কমপক্ষে ৮ জন শিশুর উপর যৌন ও শারীরিক নির্যাতন চালানোর ভিডিও ধারন করেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যাটা আরো বেশি হতে পারে।
.
http://bit.ly/2ax6AuF
http://bit.ly/2ahqlHI
http://bit.ly/2aPkydq
http://bit.ly/2aMByzz
http://bit.ly/2azf9Co
.
.
.
৪.
টিপু কিবরিয়া, রিচার্ড হাকল, ফ্রেডি পিটস, পিটার স্কালি। ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে, তাদের অপরাধ এবং বিকৃতির মধ্যে বেশ কিছু যোগসূত্র বিদ্যমান। এরা সবাই শিকারের জন্য বেছে নিয়েছিল দারিদ্রপীড়িত এশিয়ান শিশুদের। এদের মূল অডিয়েন্স এবং ক্লায়েন্ট বেইস ছিল পশ্চিমা, বিশেষ করে ইউরোপিয়ান। আর এরা চারজনই চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি এবং গ্লোবাল পেডোফিলিয়া নেটওয়ার্কের সাপ্লাই চেইনের খুব ক্ষুদ্র একটা অংশ। খুব অল্প পুজিতে, এবং অল্প সময় এরা সক্ষম হয়েছিল বিশাল গ্লোবাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কিংবা এধরনের নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হতে। এ দৃষ্টিকোন থেকে এ চারজনকে সফল উদ্যোক্তাও বলা যায়।
.
এ চার জন ধরা পড়েছে এটা মনে করে আমরা আত্বতৃপ্তি ভোগ করতেই পারি, কিন্তু বাস্তবতা হল একটা বিশাল মার্কেট, একটা বিপুল চাহিদা ছিল বলে, আছে বলেই এতো সহজে এ লোকগুলো তারা যা করেছে তা করতে সক্ষম হয়েছিল। আমাদের কাছে এ লোকগুলোর কাজ, তাদের বিকৃতি, তাদের পৈশাচিকতা যতোই অচিন্তনীয় মনে হোক না কেন বাস্তবতা হল পিটার স্কালি কিংবা টিপু কিবরিয়ারা এ অন্ধকার জগতের গডফাদার না, তারা বড়জোড় রাস্তার মোড়ের মাদকবিক্রেতা। একজন গ্রেফতার হলে তার জায়গায় আরেকজন আসবে।
.
২০১৪ তে রিচার্ড হাকলের গ্রেফতারের পর ২০১৫, সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হয় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা শিশুকামী ও শিশুনির্যাতনকারী নেটওয়ার্কের হোতা ৭ ব্রিটিশ । ভয়ঙ্কর অসুস্থতায় মেতে ওঠা এই লোকেরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিশুদের উপর তাদের পৈশাচিক নির্যাতনে লাইভ স্ট্রিমিং বা সরাসরি সম্প্রচার করতো। বিশেষ অফার হিসেবে তারা লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে অন্যান্য শিশুকামীদের সুযোগ দিতো ঠিক কিভাবে শিশুদেরকে নির্যাতন ও ধর্ষন করা হবে তার ইন্সট্রাকশান দেবার। এভাবে তারা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের সহ-মুক্তচিন্তকদের আনন্দের ব্যবস্থা করতেন। ব্রিটেন জুড়ে এরকম আরো অনেক সক্রিয় নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের প্রমান মিলেছে।
http://bit.ly/26aoSXO
.
ফ্রেডি পিটসের গ্রেফতারের পরও গোয়ার শিশুকাম ভিত্তিক টুরিস্ট ইন্ডাস্ট্রির প্রসার থেমে থাকেনি। ফাদার ফ্রেডির শূন্যস্থান পুরন করেছে অন্য আরো অনেক ফ্রেডি। তেহেলকা.কমের ২০০৪ এর একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ১০,০০০ পেডোফাইল গোয়া থেকে ঘুড়ে যায়। গোয়ায় অবস্থানকালীন সময়ে প্রতিটি পেডোফাইল গড়ে আটজন শিশুর উপর যৌন নির্যাতন চালায়।
http://bit.ly/2aPkH0u
http://bit.ly/2aQxpfC
.
২০১৫ তে অস্ট্রেলিয়াতে গ্রেফতার হয় ম্যাথিউ গ্র্যাহ্যাম। ২২ বছর বয়েসী ন্যানোটেকনোলজির ছাত্র ম্যাথিউ নিজের বাসা থেকে গড়ে তোলে এক অনলাইন চাইল্ড পর্ণগ্রাফি এবং পেডোফিলিয়া সাম্রাজ্য। ম্যাথিউ নিজে কখনো সরাসরি যৌন নির্যাতনে অংশগ্রহন না করলেও সক্রিয় পেডোফাইলদের জন্য সে অসংখ্যা সাইট এবং ফোরাম হোস্ট করত। বিশেষভাবে শিশুদের উপর ধর্ষনের সাথেসাথে চরম মাত্রার শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও প্রমোট করা ছিল ম্যাথিউর স্পেশালিটি। ম্যাথিউর নেটয়ার্কের সাথে সম্পর্ক ছিল আরেক অস্ট্রেলিয়ান পিটার স্কালির।
http://bit.ly/2aSy25e
.
১৫-তেই গ্রেফতার হয় আরেক অস্ট্রেলিয়ান শ্যানন ম্যাককুল। সরকারী কর্মচারী শ্যানন কাজ করত সরকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিলেইড চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে। এ সেন্টারের বিভিন্ন শিশুরা ছিল শ্যাননের ভিকটিম, এবং তাদের অধিকাংশ ছিল ৩-৪ বছর কিংবা বয়সী কিংবা তার চেয়েও ছোট। শ্যানন যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণের ভিডিও নিজের সাইট ও ফোরামের মাধ্যমে আপলোড ও বিক্রি করতো। খুব কম সময়েই শ্যাননের সাইট ও ফোরাম কুখ্যাতি অর্জন করে।
.
http://bit.ly/2ax9gbW
http://bit.ly/2aSBdtP
http://ab.co/1UpMm3Q
.
এভাবে প্রতিটি শূন্যস্থানই কেউ না কেউ পূরন করে নিয়েছে। টিপু কিবরিয়ার রেখে যাওয়া স্থানও যে অন্য কেউ দখল করে নেয় নি এটা মনে করাটা বোকামি। আমরা জানতে পারছি না হয়তো, কিন্তু যতোক্ষন পর্যন্ত চাহিদা থাকবে ততোক্ষন যোগান আসবেই। সহজ সমীকরণ। ইকোনমিক্স ১০১। ২০০৬ এ প্রকাশিত ওয়ালস্ট্রীট জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী চাইল্ড পর্ণোগ্রাফিতে প্রতিবছর লেনদেন হয় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটা ২০০৬ এর তথ্য। গত দশ বছরে মার্কেটে এসেছে হাকল, স্কালি, শ্যানন, গ্র্যাহামের মতো আরো অনেক “উদ্যাোক্তা”, বেড়েছে মার্কেটের আকার। ২০১১ সালের একটি রিসার্চ অনুযায়ী ২০০৮ থেকে ২০১১, এ তিনবছরে অনলাইনে চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি সংক্রান্ত ইমেজ এবং ভিডিও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭৭৪%।
http://on.wsj.com/2aAOh5I
http://bit.ly/2aPkxpT
.
ইন্ডেক্সড ইন্টারনেট বা সাধারনভাবে ইন্টারনেট বলতে আমরা যা বুঝি তার তুলনায় ডিপওয়েব প্রায় ৫০০ গুন বড়। এ ডিপওয়েবের ৮০% বেশি ভিযিট হয় শিশুকাম, শিশু পর্ণোগ্রাফি এবং শিশুদের উপর টর্চারের ভিডিও ইমেজের খোজে।
http://bit.ly/2aQyq7p
.
.
বিষয়টার ব্যাপকতা একবার চিন্তা করুন। এ বিকৃতির প্রসারের মাত্রাটা অনুধাবনের চেষ্টা করুন। পৃথিবীতে আর কখনো এধরনের বিকৃতি দেখা যায় নি এটা বলাটা ভুল হবে। পম্পেই, বা গ্রীসের কামবিকৃতির কথা আমরা জানি, আমরা জানি সডোম আর গমোরাহর ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায় কওমে লূতের কথা। কিন্তু বর্তমানে আমর যা দেখছি এ মাত্রার বিকৃতি ও তার বিশ্বায়ন, এ মাত্রার ব্যবসায়ন, এ ব্যাপ্তি মানব ইতিহাসের আগে কখনো দেখা গেছে বলে আমার জানা নেই। কেন এতো মানুষ এতে আগ্রহী হচ্ছে? কেন জ্যামিতিক হারে এ ইন্ডাস্ট্রি প্রসারিত হচ্ছে? কেন এতোটা মৌলিক পর্যায়ে মানুষের অবিশ্বাস্য বিকৃতি ঘটছে এ হারে? কেন মানুষের ফিতরাতের বিকৃতি ঘটছে? আর কেনই এরকম পৈশাচিক ঘটনার পরও এধরনের ইন্ডাস্ট্রি শুধু টিকেই থাকছে না বরং আরো বড় হচ্ছে? শ্যানন-স্কালি-টিপু কিরিয়াদের এ নেটওয়ার্কের গডফাদার কারা? কোন খুঁটির জোরে তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে?
.
একে কি শুধুমাত্র বিচ্ছিন কোন ঘটনা, কিংবা অসুস্থতা বলে দায় এড়ানো সম্ভব? সমস্যাটা কি চিরাচরিত কাল থেকেই ছিল এবং বর্তমান আধুনিক সভ্যতার যুগে এসে এর প্রসার বৃদ্ধি পেয়েছে? নাকি এর পেছনে ভূমিকা রয়েছে মিডিয়া ও পপুলার কালচারের? বিষয়টি কি মৌলিক ভাবে মানুষের যৌনতার মাঝে বিরাজমান কোন বিকৃতির সাথে যুক্ত? নাকি এ বিকৃতি আধুনিক পশ্চিমা দর্শনের যৌনচিন্তা এবং আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার মৌলিক অংশ?

[ইন শা আল্লাহ চলবে]
লিখেছেন :Asif Adnan

শেয়ার করুনঃ
সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি ও নাস্তিকদের মিথ্যাচার (প্রথম পর্ব)

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি ও নাস্তিকদের মিথ্যাচার (তৃতীয় পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি-৪ ” জনসংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ হল সমকামী ”

সমকামিরা প্রচার চালিয়েছিল যে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ সমকামী , তাই এটা স্বাভাবিক ! এই মিথ্যাচারের উৎস হল কুখ্যাত একজন Sex Researcher , Alfred Kinsey এর একটা রিসার্চ [১]

Kinsey ১৯৪৮ ও ১৯৫৩ সালে তার এই রিসার্চটা প্রকাশ করেছিল এবং সেই রিসার্চের ভিত্তিতেই সমকামীরা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু এই রিসার্চটার সমালোচনা খুব বেশি হয়েছে কারণ এই ধরনের রিসার্চের জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা উচিত তা তিনি ভালভাবে পূরণ করতে পারেন নি [২]  তাই তার এই রিসার্চটাও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

বর্তমানের কিছু রিসার্চ থেকে আমরা জানতে পারি যে exclusive সমকামীদের (o attractions, behavior,

ও self identification এর দিক দিয়ে সমকামী) সংখ্যা খুবই কম ।  একটা গ্রহণযোগ্য রিসার্চে দেখা গিয়েছে যে exclusive সমকামীদের মধ্যে পুরুষ হল মাত্র ০.৬% এবং নারী হল ০.২% ! [৩]

আমেরিকার মত দেশে যেখানে সমকামীদের সংখ্যা খুব বেশি বলে ধারণা করা হয় সেখানেও জরিপ চালিয়ে দেখা গিয়েছে যে সমকামীদের সংখ্যা খুবই কম। আমেরিকায় Sexual Practice এর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য স্টাডি Kosoi National Health and Social Life Survey (NHSLS) NHSLS  এর স্টাডিতে দেখা গিয়েছে যে মোট জনসংখ্যার মাত্র  ২.৮% পুরুষ এবং ১.৪% নারী হল সমকামী । [৪]

নিম্নে NHSLS এর স্টাডির ফলাফল চিত্রের সাহায্যে দেখানো হল—

সমকামীদের সংখ্যা বেশি তাই এটা স্বাভাবিক ও বৈধ আচরণ — সমকামীরা সাধারণ মানুষদের এই কথা বুঝানোর জন্যই এই মিথ্যাচার করেছিল। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি।

তথ্যসূত্র:

১)For two book-length critiques of Kinsey’s research and his ethics—or lack thereof—see Judith A. Reisman and Edward W. Eichel, Kinsey, Sex and Fraud: The Indoctrination of a People (Lafayette, La.: Huntington House, 1990); and Judith A. Reisman, Kinsey: Crimes & Consequences: The Red Queen and the Grand Scheme (Arlington, Va.; Institute for Media Education, 1998).

২) Edward O. Laumann, John H. Gagnon, Robert T. Michael, and Stuart Michaels, The Social Organization of Sexuality: Sexual Practices in the United States (Chicago: University of Chicago Press, 1994), p. 35. See also Robert T. Michael, John H. Gagnon, Ed-ward O. Laumann, and Gina Kolata, Sex in America: A Definitive Survey (Boston: Little, Brown and Co.,

1994), pp. 17-19.

৩)Laumann, et al., The Social Organization of Sexuality, p. 312.

8)Lawrence v. Texas, Docket No. 02-102 (U.S. Supreme Court), briefof amici curiae Human Rights Campaign etal., 16 January 2003, p. 16 (footnote 42).

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি-৫ : ” সমকামীরা Heterosexual হতে পারে না। ”

সমকামীদের আরেক বিভ্রান্তি হল যে সমকামিতা হল অপরিবর্তনীয়! এটা একটা ভুল ধারণা। সমকামীরা যেমন বিষমকামী হতে পারে, তেমনি বিকৃত মনের অধিকারী বিষমকামীরাও সমকামী হতে পারে। কিন্তু এখানে একটা বড় বিষয় বিষমকামীদের তুলনায় সমকামীরাই নিজেদের বেশি পরিবর্তন করে। নিচের ফিগারটি দেখলে এটা বুঝতে পারবেন–

Figure-1:Showing natural movement between sexual orientations

এই ফিগারে দেখা যাচ্ছে যে টিনএজার সমকামীদের প্রায় অর্ধেকই বিষমকামী হয়ে যায় পরবর্তীতে অর্থাৎ ৪% টিনএজার সমকামীদের প্রায় ২% বিষমকামী হয়। অপরদিকে ৯৬% বিষমকামী টিনএজারদের মধ্যে মাত্র ২% পরবতীতে সমকামী হয়। [১]

Figure-2:Movement of male adults between homosexuality and heterosexuality over a lifetime. Most movement is towards heterosexuality. Within each vertical column light grey labelled blocks indicate the previous orientation’

ফিগার-২ এ পুরুষদের সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন দেখানো হয়েছে, (SSA=Same Sex Attraction)

Figure-3:Movement of female adults between lesbianism and heterosexuality. Most movement is towards heterosexuality’

ফিগার-৩ এ নারীদের সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশনের পরিবর্তন দেখানো হয়েছে । (SSA=Same Sex Attraction)

ফিগার-২ ও ফিগার-৩ দেখে যে সিদ্ধান্তগুলো নেয়া যায়—

১) বেশিরভাগ পরিবর্তন হল Heterosexuality এর দিকে ।

২) যারা Heterosexuality তে পরিবর্তিত হচ্ছে তাদের সংখ্যা  Bisexual 8 exclusive SSA (SSA=Same Sex Attraction) এর সংখ্যার সমষ্টির  থেকেও বেশি!

এই জরিপগুলো দেখলে সহজেই বুঝা যায়, সমকামিতা কোন স্থির অবস্থা নয় বরং এটা পরিবর্তনশীল ।  অপরদিকে বিষমকামীদের নগণ্য পরিবর্তন দেখে বলা যায় যে,  বিষকামিতা হল স্থির অবস্থা ।  এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে,  সমকামিতা হল একটা অস্বাভাবিক অবস্থা কারণ অস্থিরতা হল অস্বাভাবিক অবস্থার একটা বৈশিষ্ট্য

তথ্যসূত্র:

[১] Bell AP, Weinberg MS, Hammersmith SK. 1981. Sexual Preference: Its Development In Men and Women. Bloomington, Indiana: Indiana University Press

[২] Kinnish KK, Strassberg DS, Turner CW. 2005. Sex differences in the flexibility of sexual orientation: a multidimensional retrospective assessment. Archives of Sexual Behavior 34:175-83

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

লিখেছেন-  Farhad Hossain

লেখক Faridpur Medical College এ অধ্যয়নরত

পড়ুন প্রথম দুটি পর্ব –

১) প্রথম পর্ব – http://bit.ly/2fiqYCV২) দ্বিতীয় পর্ব – http://bit.ly/2f7f8bK

#stand_against_Lgbt_propaganda

#মিথ্যায়_বসত

শেয়ার করুনঃ
সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি ও নাস্তিকদের মিথ্যাচার ( শেষ পর্ব)

সমকামীদের ভ্রান্ত দাবি ও নাস্তিকদের মিথ্যাচার ( শেষ পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

Homosexuality & Heterosexuality এর মধ্যে পার্থক্যঃ

Homosexuality উভয়ের পেছনেই জিনেটিক প্রভাব নেই। আসলে জীন আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে না বরং জীন আমাদের একটা অবস্থার জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হয় [১]। তেমনি জীন আমাদের সঙ্গম করার জন্য প্রস্তুত করে কিন্তু আমরা কিভাবে সঙ্গম করব সেটা জীন নির্ধারণ করতে পারে না, সেটা নির্ধারিত হয় ব্যক্তির দ্বারা ।  অর্থাৎ  Homosexuality  হল ‘matter of choice’

কিন্তু Heterosexuality এর পেছনে বায়োলজিক্যাল ও Environmental প্রভাব আছে ।  মানুষের জন্য Heterosexual হওয়া হল স্বাভাবিক ।  কারণ Heterosexuality  এর সাথে মানুষের Survival instinct  ও reproductive instinct এর সম্পর্ক আছে ।  মানুষের জন্য Survival instinct  ও  reproductive instinct গুরুত্বপূর্ণ । কারণ এই দুটা ছাড়া মানুষের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। অথচ Homosexuality এর সাথে  এই দুই instinct  এর কোন সম্পর্কই নেই !

সমকামীরা সঙ্গম করার পর অসুস্থতাছাড়া অন্য কোন ফলাফল পায় কি? না পায় না। অর্থাৎ তারা ইনপুট করে ঠিকই কিন্তু কোন আউটপুট পায় না! এর কারণ হল যে তারা ভুল বায়োলজিক্যাল তথ্য ইনপুট করছে মানব শরীরে অথচ Heterosexual রা সঠিক বায়োলজিক্যাল তথ্য ইনপুট করছে বলে তারা বায়োলজিক্যাল আউটপুটও পাচ্ছে।

এখানে একটা জিনিস লক্ষ্যণীয় যে সমকামীদের অস্তিত্ব Heterosexualদের অস্তিত্বের উপর নির্ভরশীল কিন্তু Heterosexualদের অস্তিত্ব সমকামীদের উপর নির্ভরশীল নয় কারণ সমকামীদের বংশবৃদ্ধি করার কোন ক্ষমতাই নেই, এইজন্য Homosexuality হল একটা ভঙ্গুর অবস্থা অথচ Heterosexuality হল একটা শক্ত অবস্থা । এ কারণে পৃথিবীর সব সমকামীদের যদি আপনি একটা দ্বীপে অবস্থান করতে দেন তাহলে এরা এমনিতে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

এছাড়া অন্যান্য রিসার্চের দ্বারা Homosexuality ও Heterosexuality এর মধ্যে যেসব পার্থক্যগুলো জানা যায়–

১) UCLA এর রিসার্চাররা তাদের একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, সমকামীদের যৌন সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না।তাদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে প্রায় ৫১% সমকামী পুরুষদের Relationship Status হল সিঙ্গেল, অথচ বিষমকামী পুরুষদের ক্ষেত্রে পরিমাণটা হল মাত্র ১৫%! [২]

২) সমকামীরা বিষমকামীদের তুলনায় দ্বিগুণ যেন সমস্যার মুখোমুখি হয় । [৩]

৩)সমকামীরা যদি কারো সাথে সম্পর্কও করে তবুও সেই সম্পর্ক বেশিদিন টিকে না। ৬০% সমকামী পুরুষদের সম্পর্ক ১ বছরেরও কম টিকে এবং বেশিরভাগ সমকামী নারীদের সম্পর্ক ৩ বছরেরও কম টিকে| [৪]

এছাড়াও Homosexuality এর আরো সমস্যা আছ। fo Heterosexuality এর সমস্যা এতটাই কম যে সেটাকে অগ্রাহ্য করা যায় ।

এইজন্যই আমাদের শরীর তৈরী মূলত Heterosexuality এর জন্য । Dr. Neil Whitehead এই সম্পর্কে বলেন–

” যদি DNA তে কিছু প্রোগাম হতে যায় তাহলে আপনি ধরে নিতে পারেন যে সেটা Heterosexuality হবে”। [৫]

তথ্যসূত্র:

[১] My genes made me do it! by Dr Neil Whitehead

[২] Charles Strohm, et al., “Couple Relationships among Lesbians, Gay Men, and Heterosexuals in

California: A Social Demographic Perspective,” Pa-per presented at the annual meeting of the American Sociological Association, Montreal Convention Center, Montreal, Quebec, Canada, (Aug 10, 2006): 18. Accessed at: http://www.allacademic.com/metaplo.1912 index.html

[৩] Laumann EO, Paik A, Rosen RC. 1999. Sexual dysfunction in the United States: Prevalence and predictors. JAMA 281:537–44

[8] West DJ. 1977. Homosexuality Reexamined. London: Duckworth

[৫] My genes made me do it! by Dr Neil Whitehead page-79

সমকামিতা সৃষ্টির কারণ:

সমকামিতা যেহেতু জন্মগত নয় তারমানে হল সমকামিতা সৃষ্টি হয় সমাজের ও পরিপার্থিক অবস্থা দ্বারা আমি এখানে কিছু সমকামিতার কারণ সংক্রান্ত গবেষণার কথা উল্লেখ করব —

১) বিকৃত নগরায়ন সমকামিতা বিস্তারে বিকৃত নগরায়নের ভূমিকা আছে। নগরায়নে যদি বিকৃত অশ্লীল উপাদানের প্রভাব বেশি থাকে তাহলে সে নগরায়ন সমকামী সৃষ্টি করে। Laumann এর এক স্টাডি থেকে এই বিষয়টা প্রমাণিত হয়েছে। নিম্নে Laumann স্টাডির ফলাফল দেখানো হল–

Figure-1: Laumann Study”

এই রিসার্চ থেকে দেখা যায় যে , বড় শহরের পরিবেশ সমকামিতা সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা পালন করে গ্রাম্য পরিবেশের তুলনায়। পশ্চিমা দেশগুলোর বড় শহরগুলোর পরিবেশ খুবই অশ্লীল ও নোংরা।এজন্য সেখানে সমকামিতার মত বিকৃত যৌন আচরণ দেখা যায়ও বেশি।

অর্থাৎ সমকামিতা বিস্তারে পরিবেশ একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।

২)পারিবারিক অবস্থাঃ বেশিরভাগ সমকামীদের পরিবারিক ইতিহাস ঘেটে দেখলে দেখা যায় যে তাদের সাথে হয় বাবা নাহলে মায়ের সাথে সম্পর্কে খারাপ অথবা তাদের মাতা-পিতার দাম্পত্য জীবন খারাপ।

শৈশবকাল, সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ শৈশবকালেই একজন শিশু অন্যকে অনুকরণ করতে শেখে । তাই কোন ছেলের   যদি তার  বাবার সঙ্গে ছোটবেলায় খারাপ সম্পর্ক থাকে তখন সেই ছেলের মধ্যে পুরুষত্ব দুর্বলভাবে সৃষ্টি হয় ।  তেমনি যদি ছোটবেলায় কোন মেয়ের , তার মায়ের  সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়ে থাকে তখনও সেই মেয়ের মাঝে নারীসুলভ স্বভাব দুর্বলভাবে গঠিত হয়। আর এর ফলে ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই  ‘gender non-conformity নামক  সমস্যার সৃষ্টি  হয় ।  “childhood gender non-conformity”  একজন ব্যক্তিকে সমকামী করতে   গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।” [৩,৪]

৩)কৈশোরের যৌন কার্যক্রম:

কৈশোরের যৌন কার্যক্রমের উপর যৌবনের যেন কার্যক্রম অনেকাংশ নির্ভর করে ।  Van Wyk and Geist এর রিসার্চে দেখা যায় যে, বেশিরভাগ লেসবিয়ানরা পূর্বে নারীদের দ্বারা হস্তমৈথুন করেছে । তেমনি পুরুষদের ক্ষেত্রেও এই কথাটা প্রযোজ্য। [৫]

অর্থাৎ কৈশোরের হোমোসেক্সুয়াল বিহেভিয়ারের কারণে অনেকে ভবিষৎ এ বিপরীত লিংগের দ্বারা আকৃষ্ট হয় না এবং উত্তেজিত হয় না।

বিষয়টা আরো পরিষ্কার করে বুঝা যায় Porn Addict দের দেখলে । এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, পর্ণ এডিক্টরা বাস্তব জীবনের যৌনসংগী দ্বারা উত্তেজিত কম হয় কিংবা উত্তেজিত হতে সমস্যা হয় [৬] । এর কারণ হল আমাদের ব্রেন আমাদের ব্রেনের Adaption ক্ষমতা প্রবল যখন একজন Porn Addict ,পর্ণ দেখে উত্তেজিত হয় তখন সে মূলত নিজেকে Graphic/Virtual Data দিয়ে উত্তেজিত করে আর ব্রেনও এটা এডাপ্ট করে নেয়। তাই যখন ব্রেন Real Data পায় তখন সেটা ঠিকভাবে Analyses  করতে পারে না । ফলে ব্যক্তি তার সঙ্গী দ্বারা প্রবলভাবে উত্তেজিতও হতে পারে না। সমকামীদের ব্যাপারটাও কিছুটাও এইরকম শৈশব ও কৈশোরে তাদের বিকৃত যৌন আচরণের সাথে ব্রেন নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয় ফলে পরবর্তীতে সে বিপরীত লিংগের দ্বারা উত্তেজিত হতে পারে না।

৪) যৌন নির্যাতন:- যৌন নির্যাতন সমকামিতা সৃষ্টির একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ ।

রিসার্চার Finkelhor তার এক গবেষণায় পেয়েছেন যে, যেসব অল্পবয়সী পুরুষ তাদের থেকে বয়সে বড় পুরুষদের দ্বারা যৌনভাবে নির্যাতিত হয়েছে তাদের সমকামী হবার হবার সম্ভাবনা চারগুণ বেশি [৭] । আরেক রিসার্চে দুই-তৃতীয়াংশ লেসবিয়ান বলেছে যে, তারা পুরুষদের দ্বারা যৌনভাবে নির্যাতিত হয়েছিল বার বছর বয়সের পর, বিষমকামীদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ হল ২৮%” [৮]  ।

শিশু যৌন নির্যাতনের এক রিপোর্টে  ১২%-৩৭% সমকামী বলেছে যে তাদের এই নির্যাতনের অভিজ্ঞতা আছে [৯]

একনজরে সমকামিতা সৃষ্টির কারণ:- একটা স্টাডিতে [১০] সমকামিতা সৃষ্টির পরিবেশগত সব কারণগুলোকে Path Analysis এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে, নিম্নে সেগুলো দেখানো হল–

ফিগার-১  পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য।

ফিগার -২ নারীদের জন্য প্রযোজ্য ।

তথ্যসূত্রঃ

[১]  Laumann EO, Gagnon JH, Michael RT, Michaels S. 1994. The Social Organization of Sexuality. Chicago: University of Chicago Press

[২]Bell Ap, Weinberg MS, Hammersmith SK. 1981. Sexual Preference: Its Development In Men and Women (Bloomington, Indiana: Indiana university press )

[৩] Bem dj. 1996. Exotic becomes erotic: a developmental theory of sexual orientation. Psychological Review 103, 320–335

[8] drummond Kd, Bradley SJ, peterson-Badali M., Zucker K.J. 2008. A follow-up study of girls with gender identity disorder. Developmental Psychology 44, 34–45.

[৫] van Wyk pH, geist CS. 1984, psychosocial development of heterosexual, bisexual and homosexual behavior. Archives of Sexual Behavior 13, 505–544

[৬ ]www.covementeyes.com

[৭] finkelhor d. 1981. The sexual abuse of boys. victimology 6, 76–84.

[৮] gundlach rBI, reiss Bf 1967. Birth order and sex of siblings in a sample of lesbians and non lesbians. Psychological Reports 20, 61–63

[৯]  purcell dW, patterson Jd, Spikes pS. 2008. Childhood sexual abuse experienced by gay and bisexual men: understanding the disparities and interventions to help eliminate them. In Unequal Opportunity. Health Disparities Affecting Gay and Bisexual Men in the United States, rj Wolitski, r Stall, and rovaldiserri, eds. (new York; oxford university press), pp. 72–96.

[১০] Bell et al., 175-page questionnaire

উপসংহার:

পুরো লেখাটা যদি আপনি ভাল করে পড়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় এখন বুঝতে পারছেন যে সমকামিতা একটা বিকৃত যৌন আচরণ অভিজিত রায়ের মত কিছু মিথুক একে বৈধতা দেয়ার জন্য মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে।

সমকামিতা যাতে সমাজে স্থান না পায় সেজন্য আমাদের সবার উচিত এর প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করা এবং একে প্রতিরোধ করা ।

(শেষ)

১) প্রথম পর্ব – http://bit.ly/2fiqYCV ২) দ্বিতীয় পর্ব – http://bit.ly/2f7f8bK ৩) তৃতীয়

পর্ব – http://bit.ly/2eAKeKx

#stand_against_Lgbt_propaganda#মিথ্যায়_বসত

লিখেছেন-  Farhad Hossain

লেখক Faridpur Medical College এ অধ্যয়নরত

শেয়ার করুনঃ